অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি (Economics and Islamic Economics) – 201106, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৬৮ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

ফাযিল (স্নাতক) সম্মান প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০৬
সময়— ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান— ৮০

[দ্রষ্টব্য : ডান পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রত্যেক বিভাগ থেকে চারটি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]


ক বিভাগ – রচনামূলক প্রশ্ন

মান— ১৫ × ৪ = ৬০ (যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও)


১। অর্থনীতি বলতে কী বুঝায়? অর্থনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তু বর্ণনা কর। ৫+১০=১৫

[What do you mean by Economics? Discuss the scope and subject-matter of Economics.]

উত্তর:

ভূমিকা: মানুষের দৈনন্দিন অস্তিত্ব রক্ষা, বৈষয়িক সমৃদ্ধি অর্জন এবং সমাজের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিজ্ঞানই হলো অর্থনীতি। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক পুঁজিবাদী ও ইসলামি অর্থব্যবস্থা পর্যন্ত অর্থনীতির ধারণা যুগে যুগে সম্প্রসারিত হয়েছে।

১. অর্থনীতি বলতে কী বুঝায় (Definition of Economics):

অর্থনীতি শব্দটি ইংরেজি ‘Economics’ শব্দের প্রতিশব্দ, যা গ্রিক শব্দ ‘Oikonomia’ (গৃহস্থালি পরিচালনা) থেকে উদ্ভূত। আধুনিক অর্থে মানুষের অসীম অভাব এবং সীমিত সম্পদের মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখে সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি ও সামাজিক কল্যাণ অর্জনের বিজ্ঞানই হলো অর্থনীতি।

  • অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith, 1776): “অর্থনীতি হলো এমন এক বিজ্ঞান যা জাতিসমূহের সম্পদের প্রকৃতি ও কারণ অনুসন্ধান করে।”
  • আলফ্রেড মার্শাল (Alfred Marshall, 1890): “অর্থনীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে; এটি একদিকে সম্পদের অধ্যয়ন এবং অপরদিকে মানবকল্যাণের অধ্যয়ন।”
  • লায়নল রবিন্স (Lionel Robbins, 1932): “অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের মধ্যকার সম্পর্কযুক্ত মানবীয় আচরণ বিশ্লেষণ করে।” এটিই আধুনিক অর্থনীতিতে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা।

২. অর্থনীতির পরিধি ও বিষয়বস্তু (Scope and Subject-matter of Economics):

অর্থনীতির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। এর প্রধান বিষয়বস্তু নিম্নে আলোচিত হলো:

  1. অভাব ও দুষ্প্রাপ্যতা: মানুষের অভাবের কোনো শেষ নেই, অথচ অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। সম্পদের এই দুষ্প্রাপ্যতাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
  2. নির্বাচন ও অগ্রাধিকার: সীমিত সম্পদ দিয়ে কোন অভাবটি আগে পূরণ করা হবে এবং কোনটি পরে—সেই নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অর্থনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয়।
  3. মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ:
    • কী উৎপাদন করা হবে (What to produce)?
    • কীভাবে উৎপাদন করা হবে (How to produce)?
    • কার জন্য উৎপাদন করা হবে (For whom to produce)?
  4. উৎপাদন (Production): প্রকৃতির প্রদত্ত বস্তুর রূপান্তর ঘটিয়ে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করা এবং উৎপাদনের চার উপকরণ—ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠনের সমন্বয়।
  5. বিনিময় ও বাজার ব্যবস্থা (Exchange and Market): পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয়, অর্থের ভূমিকা, ব্যাংকিং এবং চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে ভারসাম্য দাম নির্ধারণ।
  6. বণ্টন (Distribution): উৎপাদিত মোট জাতীয় আয় কীভাবে উৎপাদনের উপাদানগুলোর মধ্যে খাজনা, মজুরি, সুদ/মুনাফা ও মুনাফা হিসেবে বণ্টিত হয় তার বিশ্লেষণ।
  7. ভোগ (Consumption): মানুষের অভাব মেটানোর জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করা এবং ভোক্তার আচরণ বিশ্লেষণ (যেমন: প্রান্তিক উপযোগ বিধি)।
  8. সরকারি অর্থব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: সরকারের রাজস্ব আয়, জাতীয় বাজেট প্রণয়ন, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনা।

উপসংহার: মোটকথা, ব্যক্তিগত পারিবারিক বাজেট থেকে শুরু করে জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের প্রতিটি স্তরই অর্থনীতির সুবিশাল পরিধির অন্তর্ভুক্ত।


২। চাহিদা ও যোগান কী? চাহিদা ও যোগানের সনাতন তত্ত্বটি বর্ণনা কর। ৫+১০=১৫

[What is demand and supply? Discuss the conventional theory of demand and supply.]

উত্তর:

ভূমিকা: মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা ব্যাখ্যার জন্য চাহিদা ও জোগান হলো দুটি প্রধানতম মৌলিক স্তম্ভ। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড মার্শালের মতে, কাঁচির দুটি ব্লেড যেমন কোনো কাপড় কাটার জন্য যৌথভাবে প্রয়োজন, তেমনি বাজারে ভারসাম্য দাম নির্ধারণের জন্য চাহিদা ও জোগান যুগপৎ কাজ করে।

১. চাহিদা ও জোগানের সংজ্ঞা:

  • চাহিদা (Demand): সাধারণ অর্থে কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে চাহিদা বলে। কিন্তু অর্থনীতিতে কেবল আকাঙ্ক্ষা থাকলেই চাহিদা হয় না। কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, তা ক্রয়ের প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য এবং সেই অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছা—এই তিনটি শর্তের সমন্বয় ঘটলে তাকে চাহিদা বলে।
  • যোগান (Supply): একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট দামে বিক্রেতা বা উৎপাদক কোনো পণ্যের যে পরিমাণ বাজারে বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে যোগান বলে। (মজুত ও জোগানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত অংশই হলো যোগান)।

২. চাহিদা ও জোগানের সনাতন তত্ত্ব (Classical Theory of Equilibrium):

তত্ত্বের মূল বক্তব্য: অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে বাজারে কোনো দ্রব্যের দাম ক্রেতার চাহিদা এবং বিক্রেতার জোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে এমন এক বিন্দুতে নির্ধারিত হয়, যেখানে দ্রব্যের মোট চাহিদা ও মোট জোগান পরস্পর সমান হয়। এই বিন্দুকে ভারসাম্য বিন্দু (Equilibrium Point) বলে।

সূচির সাহায্যে ভারসাম্য বিশ্লেষণ:

প্রতি একক দাম (টাকা) চাহিদার পরিমাণ (একক) যোগানের পরিমাণ (একক) বাজার পরিস্থিতি দামের ওপর প্রভাব
১০ ৫০ ১০ অতিরিক্ত চাহিদা (ঘাটতি) দাম বাড়ার প্রবণতা
২০ ৪০ ২০ চাহিদা > জোগান দাম বাড়বে
৩০ ৩০ ৩০ ভারসাম্য অবস্থা (চাহিদা = জোগান) স্থিতিশীল ভারসাম্য দাম
৪০ ২০ ৪০ জোগান > চাহিদা দাম কমার প্রবণতা
৫০ ১০ ৫০ অতিরিক্ত জোগান (উদ্বৃত্ত) দাম কমবে

রেখাচিত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা:

যদি ভূমি অক্ষে দ্রব্যের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে দাম নির্দেশ করা হয়, তবে চাহিদা রেখা (DD) বাম দিক থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হয় (কারণ দাম বাড়লে চাহিদা কমে) এবং জোগান রেখা (SS) বাম দিক থেকে ডান দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় (কারণ দাম বাড়লে জোগান বাড়ে)। এই দুটি রেখা যে বিন্দুতে (E বিন্দু) পরস্পরকে ছেদ করে, সেখানেই ভারসাম্য নির্ধারিত হয়। সূচি অনুযায়ী ৩০ টাকা দামে চাহিদা ও জোগান উভয়ই ৩০ একক। দাম যদি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ বা ৫০ টাকা হয়, তবে বাজারে অতিরিক্ত জোগান দেখা দেবে এবং বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতায় দাম পুনরায় ৩০ টাকায় নেমে আসবে। আবার দাম কমে ১০ বা ২০ টাকা হলে ক্রেতাদের তীব্র প্রতিযোগিতায় দাম বেড়ে আবার ৩০ টাকায় ফিরে আসবে।

উপসংহার: সনাতন এই স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে অদৃশ্য হস্তের (Invisible Hand) মতো চাহিদা ও জোগানের সমন্বয়ে বাজারে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।


৩। উৎপাদন কাকে বলে? উৎপাদনের উপকরণসমূহের বর্ণনা দাও। ৫+১০=১৫

[What is production? Describe the factors of production.]

উত্তর:

ভূমিকা: মানুষের বস্তুগত অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কাঁচামাল ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রক্রিয়াজাতকরণ করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাই হলো উৎপাদন। আধুনিক অর্থনীতির চাকা উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হয়।

১. উৎপাদনের সংজ্ঞা (Definition of Production):

মানুষ কোনো মৌলিক বস্তুকে নতুন করে সৃষ্টি করতে পারে না; কারণ সৃষ্টি করার একমাত্র ক্ষমতা মহান আল্লাহর। তবে মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদের আকার, আকৃতি ও স্থান পরিবর্তন করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী নতুন উপযোগ (Utility) সৃষ্টি করতে পারে। অর্থনীতিতে দ্রব্যের রূপ বা স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের অভাব মোচনের জন্য এই নতুন উপযোগ সৃষ্টি করাকেই উৎপাদন বলা হয়।

২. উৎপাদনের উপকরণসমূহ (Factors of Production):

যেকোনো পণ্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য মূলত চারটি মৌলিক উপকরণ অপরিহার্য:

  1. ১. ভূমি (Land):

    সাধারণ অর্থে ভূমি বলতে কেবল ভূপৃষ্ঠ বা মাটিকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে প্রকৃতিপ্রদত্ত যাবতীয় উপহার—যেমন মাটি, মাটির উর্বরতা, নদী, সমুদ্র, খনিজ সম্পদ, বায়ুমণ্ডল, বৃষ্টিপাত, সূর্যের আলো এবং বনজ সম্পদ—সবকিছুই ভূমির অন্তর্ভুক্ত। ভূমির জোগান সীমাবদ্ধ এবং এর উৎপাদন ব্যয় শূন্য। ভূমির মালিকের প্রাপ্ত পারিশ্রমিককে খাজনা (Rent) বলে।

  2. ২. শ্রম (Labour):

    উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত মানুষের শারীরিক ও মানসিক যাবতীয় কর্মপ্রচেষ্টাকে শ্রম বলা হয়, যা কেবল আনন্দের জন্য নয় বরং অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। শ্রম একটি জীবন্ত ও ক্ষণস্থায়ী উপাদান এবং এটি শ্রমিক থেকে অবিভাজ্য। শ্রমের বিনিময়ে শ্রমিক যে পারিশ্রমিক পায় তাকে মজুরি (Wage) বলে।

  3. ৩. মূলধন (Capital):

    মানুষের অতীত শ্রম ও আয়ের যে অংশ সরাসরি ভোগ না করে ভবিষ্যৎ অধিকতর উৎপাদনের কাজে পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়, তাকে মূলধন বলে। যেমন: কলকারখানার যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, ফ্যাক্টরি ভবন, পরিবহন যান ইত্যাদি। মূলধন হলো মানুষের তৈরি উৎপাদনের উপকরণ। মূলধনের বিনিয়োগকারী এর থেকে প্রাপ্ত অংশকে প্রচলিত অর্থনীতিতে সুদ এবং ইসলামি অর্থনীতিতে মুনাফা (Profit) বলে।

  4. ৪. সংগঠন (Organization):

    উৎপাদনের অপর তিনটি উপাদান—ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সুষ্ঠুভাবে একত্র করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা, ঝুঁকি গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক নির্দেশনা প্রদান করার প্রক্রিয়াকে সংগঠন বলে। যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন তাঁকে সংগঠক বা উদ্যোক্তা (Entrepreneur) বলা হয়। উদ্যোক্তার অর্জিত আয়ের উদ্বৃত্ত অংশকে মুনাফা (Profit) বলা হয়।

উপসংহার: উৎপাদনের এই চারটি উপাদানের দক্ষ ও নৈতিক সমন্বয়ের ওপরই যেকোনো দেশের জাতীয় উৎপাদন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্ভরশীল।


৪। বাজার কাকে বলে? একচেটিয়া বাজার ও পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর। ৫+১০=১৫

[What is Market? Discuss the characteristics of monopoly market and perfect competitive market.]

উত্তর:

ভূমিকা: সাধারণ মানুষের কাছে বাজার বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা হাটকে বোঝায়। কিন্তু আধুনিক অর্থনীতিতে বাজার কোনো স্থান নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয়।

১. বাজারের সংজ্ঞা (Definition of Market):

অর্থনীতিবিদ কুলনোর (Cournot) মতে: “অর্থনীতিতে বাজার বলতে কোনো বিশেষ স্থানকে বোঝায় না যেখানে জিনিসপত্র বেচাকেনা হয়; বরং এমন সমগ্র অঞ্চল বা মাধ্যমকে বোঝায় যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একই দ্রব্যের একটিমাত্র মূল্য সহজে প্রতিষ্ঠিত হয়।”

২. পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্য (Perfect Competitive Market):

যে বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা সমজাতীয় পণ্য একটি নির্দিষ্ট দামে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় করে, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা: বাজারে এত বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতা থাকে যে কোনো একক ক্রেতা বা বিক্রেতা দামের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। বিক্রেতা কেবল দাম গ্রহণকারী (Price Taker)।
  • সমজাতীয় পণ্য (Homogeneous Goods): বাজারে প্রতিটি ফার্মের উৎপাদিত পণ্য গুণগত মান ও চেহারায় হুবহু একরকম হয়।
  • অবাধ প্রবেশ ও প্রস্থান: যেকোনো ফার্ম ইচ্ছেমতো ব্যবসায় প্রবেশ করতে পারে এবং লোকসান হলে ব্যবসা ছেড়ে যেতে পারে।
  • বাজার সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান: ক্রেতা ও বিক্রেতা পণ্যের মান ও বাজার মূল্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকে।
  • চাহিদা রেখার পূর্ণ স্থিতিস্থাপকতা: ফার্মের গড় আয় (AR) এবং প্রান্তিক আয় (MR) সর্বদা সমান ও অনুভূমিক অক্ষের সমান্তরাল হয় (AR = MR = P)।

৩. একচেটিয়া বাজারের বৈশিষ্ট্য (Monopoly Market):

‘Mono’ অর্থ এক এবং ‘Poly’ অর্থ বিক্রেতা। যে বাজারে কোনো দ্রব্যের একজনমাত্র উৎপাদনকারী বা বিক্রেতা থাকে এবং বাজারে ওই দ্রব্যের কোনো নিকটতম বিকল্প দ্রব্য থাকে না, তাকে একচেটিয়া বাজার বলে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • একক বিক্রেতা ও অসংখ্য ক্রেতা: পুরো শিল্পে একজনমাত্র উৎপাদনকারী বা ফার্ম থাকে। ফলে বিক্রেতা একাই দাম নির্ধারণকারী (Price Maker)।
  • নিকট বিকল্প দ্রব্যের অনুপস্থিতি: একচেটিয়া কারবারির উৎপাদিত পণ্যের কোনো ক্লোজ সাবস্টিটিউট থাকে না (যেমন: সরকারি বিদ্যুৎ বা গ্যাস সরবরাহ)।
  • নতুন ফার্মের প্রবেশে কঠোর বাধা: সরকারি লাইসেন্স, বিপুল পুঁজির প্রয়োজন বা পেটেন্ট রাইটের কারণে অন্য কোনো ফার্ম এই ব্যবসায় প্রবেশ করতে পারে না।
  • সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন: কারবারি দাম বাড়িয়ে বা জোগান নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করে অস্বাভাবিক মুনাফা (Supernormal Profit) অর্জন করে।
  • নিম্নগামী চাহিদা রেখা: ফার্মের গড় আয় (AR) ও প্রান্তিক আয় (MR) রেখা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী হয় এবং MR সর্বদা AR-এর নিচে অবস্থান করে।

উপসংহার: সমাজকল্যাণের দৃষ্টিতে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার কাম্য হলেও বাস্তব বিশ্বে প্রায়ই একচেটিয়া বা অপূর্ণ প্রতিযোগিতার বাজার বেশি পরিলক্ষিত হয়।


৫। আধুনিক অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক বর্ণনা কর। ১৫

[Discuss a comparative study between Islamic economic system and modern economic system.]

উত্তর:

ভূমিকা: আধুনিক বিশ্বে প্রধানত দুটি মানবপ্রসূত ধর্মনিরপেক্ষ অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে—পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। এর বিপরীতে কুরআন ও সুন্নাহর সার্বভৌম নির্দেশনার আলোকে গড়ে উঠেছে পূর্ণাঙ্গ ঐশী অর্থব্যবস্থা ‘ইসলামি অর্থনীতি’। এদের মধ্যে মৌলিক তুলনামূলক পার্থক্য নিম্নে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:

তুলনার বিষয় পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা (Capitalism) সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (Socialism) ইসলামি অর্থব্যবস্থা (Islamic Economics)
মূল দর্শন ও উৎস মানববুদ্ধিপ্রসূত, বস্তুবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ। অ্যাডাম স্মিথের নীতি। কার্ল মার্ক্সের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ ও সর্বহারার একনায়কতন্ত্র। আল্লাহর ওহী—পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসভিত্তিক ঐশী বিধান।
সম্পদের মালিকানা উৎপাদনের উপাদানের ওপর নিরঙ্কুশ ও অবাধ ব্যক্তিমালিকানা। ব্যক্তিমালিকানা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; যাবতীয় সম্পদের একমাত্র মালিক রাষ্ট্র। প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা; মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর পবিত্র আমানতদার ও প্রতিনিধি (খলিফা)। সীমিত ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত।
অর্থনৈতিক লক্ষ্য ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন ও ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ। রাষ্ট্রের মাধ্যমে সামগ্রিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও সমবণ্টন। ‘ফালাহ’ বা সার্বিক কল্যাণ—ইহকালীন সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরকালীন মুক্তি অর্জন।
সুদের বিধান সুদ হলো ব্যাংকিং ও অর্থনীতির প্রধানতম চালিকাশক্তি। রাষ্ট্রীয় পুঁজির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; ব্যক্তিসুদ নেই। সুদ (Riba) সম্পূর্ণরূপে হারাম ও অমার্জনীয় অপরাধ; লাভ-লোকসান অংশীদারিত্বভিত্তিক।
সামাজিক নিরাপত্তা দুর্বলদের জন্য সামান্য সামাজিক ভাতা; শোষণ তীব্র। রাষ্ট্রের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা, তবে ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ। যাকাত, ওশর, সাদাকাহ ও ওয়াকফের মাধ্যমে ধনী থেকে স্বতঃস্ফূর্ত বাধ্যতামূলক পুনর্বাসন।
নৈতিক মূল্যবোধ মূল্যবোধহীন (Value-neutral); লাভজনক হলে মদ বা অশ্লীলতাও বৈধ। ধর্মহীনতা ও রাষ্ট্রীয় কঠোরতা। হালাল-হারামের কঠোর সীমারেখা; প্রতারণা, ধোঁকাবাজি, মজুতদারি ও ক্ষতিকর পণ্য চিরতরে নিষিদ্ধ।

উপসংহার: পুঁজিবাদ ধনীকে আরও ধনী করে শোষণ সৃষ্টি করেছে এবং সমাজতন্ত্র ব্যক্তিস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। একমাত্র ইসলামি অর্থব্যবস্থাই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অপূর্ব ভারসাম্য বিধান করতে সক্ষম।


৬। ভোগ বলতে কী বুঝ? ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা কর। ৫+১০=১৫

[What do you mean by consumption? Discuss the views of Islamic Economics regarding consumption.]

উত্তর:

ভূমিকা: মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা ও কর্মশক্তি বজায় রাখার প্রধান উপায় হলো ভোগ। তবে আধুনিক ভোগবাদী সমাজের মতো ইসলাম ভোগকে কোনো লাগামহীন ইন্দ্রিয়সুখের মাধ্যম মনে করে না; বরং ভোগকে স্রষ্টার ইবাদত ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে।

১. ভোগ বলতে কী বুঝায় (Definition of Consumption):

সাধারণ অর্থে কোনো বস্তু খেয়ে শেষ করা বা ব্যবহার করাকে ভোগ বলে। কিন্তু অর্থনীতিতে কোনো বস্তুকে ধ্বংস করা ভোগ নয়; বরং মানুষের বিভিন্ন অভাব মেটানোর উদ্দেশ্যে কোনো দ্রব্য বা সেবার উপযোগ (Utility) ব্যবহার বা নিঃশেষ করাকেই ভোগ (Consumption) বলা হয়।

২. ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি:

ইসলামে ভোগ হলো একজন বিশ্বাসীর আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক অন্যতম পরীক্ষা। ইসলামি ভোগনীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো:

  1. তৈয়্যিবাত ও হালাল দ্রব্য ভোগ: ইসলাম কেবল হালাল ও পবিত্র জিনিস ভোগ করার নির্দেশ দেয়। আল্লাহ বলেন: “হে মানবজাতি! জমিনে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৬৮)। মদ, শূকর, রক্ত, হারাম উপায়ে উপার্জিত সম্পদ ইত্যাদি ভোগ করা সম্পূর্ণ হারাম।
  2. ইসরাফ ও অপচয় বর্জন: ইসলামে অপচয় ও অপব্যয়কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: “তোমরা আহার কর ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আল-আরাফ: ৩১)। অন্যত্র অপচয়কারীদের ‘শয়তানের ভাই’ বলা হয়েছে।
  3. মিতব্যয়িতা ও মধ্যপন্থা (তাক্বসীদের নীতি): মুমিনরা ভোগব্যয়ে কখনো চরম কৃপণতাও করে না, আবার অতিরিক্ত বিলাসিতায় মেতে ওঠে না; বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। আল্লাহ বলেন: “আর যারা ব্যয় করার সময় অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না, বরং উভয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করে।” (সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)।
  4. সুস্বাস্থ্যের নিয়তে ভোগ (ইবাদতের মাধ্যম): ইসলামে বেঁচে থাকার এবং আল্লাহর ইবাদত করার উপযোগী শক্তি অর্জনের জন্য খাবার ও পোশাক গ্রহণ করাও একটি সওয়াবের কাজ ও ইবাদত হিসেবে গণ্য।
  5. অন্যের প্রতি সহানুভূতি ও ইনফাক: ইসলামি ভোগতত্ত্বে একজন ভোক্তা কেবল নিজের পেট ভরার কথা ভাবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন: “সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যে নিজে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটায়।” (আল-আদাবুল মুফরাদ)।

উপসংহার: ইসলামের ভোগতত্ত্ব আত্মিক পবিত্রতা, সামাজিক ভারসাম্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণের এক অনন্য সমন্বয় সাধন করে।


৭। ইসলামি ব্যাংক কী? ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি বর্ণনা কর। ৫+১০=১৫

[What is Islamic Bank? Discuss the functions of Islamic Bank.]

উত্তর:

ভূমিকা: আধুনিক যুগে শোষণমূলক সুদি ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে ইসলামি শরীয়াহ নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানই হলো ইসলামি ব্যাংক।

১. ইসলামি ব্যাংকের সংজ্ঞা:

ইসলামি ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, যার তহবিল সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও পরিচালন পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি শরীয়তের অনুশাসন মোতাবেক পরিচালিত হয় এবং যা সুদের লেনদেন চিরতরে বর্জন করে লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমানত গ্রহণ ও শরীয়াহসম্মত উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে।

২. ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি (Functions of Islamic Bank):

ইসলামি ব্যাংকের বহুমুখী কার্যাবলিকে প্রধানত তিনটি ধারায় বিভক্ত করা যায়:

(ক) তহবিল সংগ্রহ সংক্রান্ত কার্যাবলি (Deposit Operations):

  • আল-ওয়াদিয়াহ একাউন্ট (কারেন্ট একাউন্ট): শরীয়াহর আমানত নীতিতে পরিচালিত। গ্রাহক যেকোনো সময় অর্থ তুলতে পারে, ব্যাংক এতে কোনো মুনাফা দেয় না।
  • মুদারাবা একাউন্ট (সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানত): গ্রাহক মূলধন সরবরাহকারী (সাহেবুল মাল) এবং ব্যাংক বিনিয়োগকারী (মুদারিব)। ব্যাংক এই অর্থ হালাল ব্যবসায় খাটিয়ে অর্জিত নিট মুনাফা পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে গ্রাহকের সাথে ভাগ করে নেয়।

(খ) বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যাবলি (Investment Operations):

  • মুরাবাহা (ক্রয়-বিক্রয় বিনিয়োগ): ব্যাংক গ্রাহকের চাহিদামতো পণ্য ক্রয় করে নির্দিষ্ট লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে বাকিতে বিক্রি করে।
  • বাইয়ে মুয়াজ্জাল: বিলম্বিত মূল্যে কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে পণ্য বিক্রি।
  • ইজারা (Leasing): যন্ত্রপাতি, যানবাহন বা ভবন দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া প্রদান করা এবং মেয়াদের শেষে নামমাত্র মূল্যে মালিকানা হস্তান্তর (ইজারা বিল-বায়)।
  • মুশারাকা (যৌথ মূলধনী বিনিয়োগ): ব্যাংক ও গ্রাহক যৌথভাবে মূলধন সরবরাহ করে ব্যবসায় পরিচালনা করে এবং চুক্তির অনুপাতে লাভ ও মূলধনের অনুপাতে লোকসান ভাগ করে নেয়।
  • মুদারাবা বিনিয়োগ: ব্যাংক সম্পূর্ণ মূলধন দেয় এবং যোগ্য উদ্যোক্তা তার শ্রম ও মেধা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে।
  • বাই-সালাম ও ইসতিসনা: কৃষিপণ্য ও শিল্পজাত পণ্য তৈরির অগ্রিম অর্থায়ন পদ্ধতি।

(গ) সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি (Social Welfare Functions):

  • কর্জে হাসানা প্রদান: অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের আপদকালীন সময়ে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা প্রদান।
  • যাকাত তহবিল পরিচালনা: নিজস্ব আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ যাকাত আদায় এবং সংগৃহীত যাকাত নির্দিষ্ট আটটি খাতে দরিদ্রদের পুনর্বাসনে ব্যয় করা।
  • করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR): স্বাস্থ্য, আধুনিক দ্বীনি শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিতরণে অনুদান প্রদান।

উপসংহার: প্রচলিত ব্যাংকের মতো শুধু টাকার ব্যবসা নয়, বরং পণ্যের বাস্তব ক্রয়-বিক্রয় ও সামাজিক কল্যাণের মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংক অর্থনীতিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।


৮। তাকাফুল কী? প্রচলিত বিমা ও ইসলামি বিমার মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। ৫+১০=১৫

[What is Takaful? Discuss the difference between conventional insurance and Islamic insurance.]

উত্তর:

ভূমিকা: ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা, ঝুঁকি ও জীবনহানির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে প্রচলিত বাণিজ্যিক বিমায় সুদ, জুয়া ও চরম অনিশ্চয়তা বিদ্যমান থাকায় ইসলামে তা হারাম। এর শরীয়তসম্মত বিকল্প হলো ‘তাকাফুল’ বা ইসলামি বিমা।

১. তাকাফুলের সংজ্ঞা (Definition of Takaful):

‘তাকাফুল’ (التكافل) একটি আরবি শব্দ, যা ‘কাফালাহ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ করা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো বা যৌথ সুরক্ষা প্রদান করা। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়, তাকাফুল হলো এমন একটি পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা, যেখানে একদল অংশগ্রহণকারী কোনো অপ্রত্যাশিত বিপদ, দুর্ঘটনা বা মৃত্যুজনিত ক্ষতি মোকাবিলার জন্য পারস্পরিক সাহায্য ও সংহতির ভিত্তিতে একটি যৌথ তহবিলে স্বেচ্ছায় দান (তাবাররু) জমা করে এবং সেই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যকে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।

২. প্রচলিত বিমা ও ইসলামি বিমা (তাকাফুল)-এর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ:

পার্থক্যসূচক বিষয় প্রচলিত বাণিজ্যিক বিমা (Conventional Insurance) ইসলামি বিমা / তাকাফুল (Islamic Takaful)
চুক্তির প্রকৃতি একটি বাণিজ্যিক বিনিময় চুক্তি (মুআওয়াদাহ), যেখানে এক পক্ষ ঝুঁকি কেনে এবং অপর পক্ষ বিক্রি করে। পারস্পরিক সংহতি, সহযোগিতা এবং শর্তযুক্ত স্বেচ্ছাদান চুক্তি (তাবাররু)।
প্রিমিয়ামের মালিকানা গ্রাহকের জমাকৃত প্রিমিয়াম কোম্পানির নিজস্ব মুনাফা ও সম্পদে পরিণত হয়। প্রিমিয়াম কোনো কোম্পানির সম্পদ নয়; বরং তা গ্রাহকদের যৌথ অংশগ্রহণকারী তহবিলের আমানত।
সুদ, জুয়া ও অনিশ্চয়তা সুদ (রিবা), জুয়া (মাইসির) এবং চরম অনিশ্চয়তা (গারার) বিদ্যমান থাকায় শরীয়তে হারাম। সুদ, জুয়া ও গারারমুক্ত; সম্পূর্ণ শরীয়াহ বোর্ডের নজরদারিতে পরিচালিত।
তহবিল বিনিয়োগ সংগৃহীত অর্থ সুদি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও অনৈতিক যেকোনো লাভজনক খাতে খাটানো হয়। তহবিল কেবল মুদারাবা বা ওয়াকালাহ পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ হালাল ইসলামি শিল্পে বিনিয়োগ করা হয়।
উদ্বৃত্ত বণ্টন দাবি মেটানোর পর অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত (Surplus) কোম্পানির মালিক ও শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফা হিসেবে নিয়ে নেয়। দাবি পরিশোধ শেষে উদ্বৃত্ত তহবিল পুনরায় বিমা গ্রহীতাদের মাঝে বণ্টন করা হয় অথবা তহবিলে সংরক্ষিত থাকে।
শরীয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড কোনো শরীয়াহ বোর্ডের অস্তিত্ব নেই; সাধারণ বাণিজ্যিক আইনে পরিচালিত। প্রতিটি তাকাফুল কোম্পানিতে প্রখ্যাত ফকীহদের সমন্বয়ে গঠিত স্বাধীন শরীয়াহ বোর্ড বিদ্যমান থাকে।

উপসংহার: তাকাফুল কেবল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নয়, বরং এটি পবিত্র কুরআন নির্দেশিত “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা কর” (সূরা আল-মায়িদাহ: ২) নীতির এক বাস্তব ও আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।


খ বিভাগ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

মান— ৫ × ৪ = ২০ (যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও)


৯। ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর। ৫

[Discuss the difference between micro and macro Economics.]

উত্তর:

পার্থক্যসূচক বিষয় ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics)
উৎপত্তি ও অর্থ গ্রিক শব্দ ‘Mikros’ (ক্ষুদ্র) থেকে উদ্ভূত। অর্থনীতির ক্ষুদ্র বা ব্যক্তিগত একক আলোচনা করে। গ্রিক শব্দ ‘Makros’ (বৃহৎ) থেকে উদ্ভূত। অর্থনীতির সামগ্রিক বা জাতীয় রূপ নিয়ে আলোচনা করে।
আলোচনার পরিধি একটি নির্দিষ্ট পরিবার, ব্যক্তি, ভোক্তা, নির্দিষ্ট ফার্ম বা পণ্যের দাম নির্ধারণ নিয়ে কাজ করে। মোট জাতীয় আয় (GNP), সামগ্রিক কর্মসংস্থান, সাধারণ মূল্যস্তর ও জাতীয় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কাজ করে।
কেন্দ্রীয় চলক মূল্য প্রক্রিয়া (Price Mechanism) হলো এর কেন্দ্রীয় বিষয়। জাতীয় আয় ও কর্মসংস্থান (Income and Employment) এর প্রধান বিবেচ্য।
দৃষ্টান্ত একজন ব্যক্তির চালের চাহিদা বা একটি নির্দিষ্ট কারখানার উৎপাদন। দেশের সামগ্রিক খাদ্য চাহিদা বা সমগ্র দেশের বার্ষিক মোট উৎপাদন।

১০। নিরপেক্ষ রেখা কী? ৫

[What is Indifference Curve?]

উত্তর:

নিরপেক্ষ রেখার সংজ্ঞা (Indifference Curve):

নিরপেক্ষ রেখা হলো এমন একটি জ্যামিতিক রেখা, যার প্রতিটি বিন্দু দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ নির্দেশ করে, যেখানে ভোক্তা সমান পরিমাণ তৃপ্তি বা উপযোগ লাভ করে। যেহেতু প্রতিটি বিন্দুতে ভোক্তা সমপরিমাণ সন্তুষ্টি পায়, তাই সে কোনো একটি সংমিশ্রণকে অন্যটির চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে পারে না; অর্থাৎ সে এদের নির্বাচনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে। এজন্য একে নিরপেক্ষ রেখা বা সমপছন্দ রেখা বলে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  • নিরপেক্ষ রেখা সর্বদা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী হয়।
  • এটি মূল বিন্দুর দিকে উত্তল (Convex to the origin) হয়, কারণ প্রান্তিক বিকল্পায়ন হার (MRS) ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
  • দুটি নিরপেক্ষ রেখা কখনো পরস্পরকে ছেদ করতে পারে না।

১১। ভোক্তার উদ্বৃত্ত বলতে কী বুঝ? ৫

[What do you mean by consumer surplus?]

উত্তর:

ভোক্তার উদ্বৃত্তের সংজ্ঞা (Consumer’s Surplus):

অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শালের মতে, কোনো দ্রব্য ভোগ করা থেকে বঞ্চিত না হওয়ার আশঙ্কায় একজন ভোক্তা যে পরিমাণ দাম দিতে প্রস্তুত থাকে (Potential Price), এবং প্রকৃতপক্ষে বাজারে ওই দ্রব্যের জন্য সে যে প্রকৃত দাম পরিশোধ করে (Actual Price)—এই দুইয়ের মধ্যকার ব্যবধান বা পার্থক্যকে ভোক্তার উদ্বৃত্ত বলা হয়।

গাণিতিক সূত্র:
ভোক্তার উদ্বৃত্ত = সম্ভাব্য দাম (প্রস্তুতকৃত মূল্য) – প্রকৃত বাজার মূল্য
Consumer’s Surplus = Total Utility – (Price × Quantity)

উদাহরণ: তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি এক গ্লাস পানির জন্য ৫০ টাকা দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু বাজারে তা পেল মাত্র ১০ টাকায়। এখানে (৫০ – ১০) = ৪০ টাকাই হলো ভোক্তার উদ্বৃত্ত তৃপ্তি।


১২। অর্থ বলতে কী বুঝ? ৫

[What do you mean by Money?]

উত্তর:

অর্থের সংজ্ঞা (Definition of Money):

অর্থনীতিতে যে বস্তু বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক, ঋণের ভিত্তি এবং সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে সমাজের সকল নাগরিক ও রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ও গৃহীত হয়, তাকে অর্থ বা মুদ্রা (Money) বলা হয়।

অধ্যাপক ওয়াকারের বিখ্যাত উক্তি: “Money is what money does” অর্থাৎ যা অর্থের কাজ করে তা-ই অর্থ।

অর্থের প্রধান চারটি কাজ:

  1. বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম (Medium of Exchange)।
  2. মূল্যের সঠিক পরিমাপক (Measure of Value)।
  3. বিলম্বিত লেনদেন বা দেনা-পাওনা পরিশোধের মান (Standard of Deferred Payment)।
  4. ভবিষ্যতের জন্য মূল্যের ভাণ্ডার বা সঞ্চয়ের বাহন (Store of Value)।

১৩। শ্রম বিভাগ কী? ৫

[What is division of labour?]

উত্তর:

শ্রম বিভাগের সংজ্ঞা (Division of Labour):

একটি নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদনের সমগ্র প্রক্রিয়াকে একক ব্যক্তির দ্বারা সম্পন্ন না করে, উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ বা খণ্ডাংশে বিভক্ত করে দক্ষতার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন শ্রমিক বা দলের মাঝে বণ্টন করে দেওয়ার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে শ্রম বিভাগ (Division of Labour) বলে।

১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথ তাঁর বিখ্যাত বইয়ে ‘পিন তৈরির কারখানা’র উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন যে, একজন মানুষ একা দিনে ২০টি আলপিনও বানাতে পারে না, কিন্তু শ্রম বিভাগের মাধ্যমে ১৮টি ধাপে ১০ জন শ্রমিক মিলে দিনে ৪৮,০০০ পিন তৈরি করতে পারে।

উপকারিতা: শ্রমিকের কাজের দক্ষতা বাড়ে, সময় সাশ্রয় হয়, আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োগ সহজ হয় এবং সামগ্রিক উৎপাদন ও জাতীয় আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।


১৪। কর ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য কর। ৫

[Distinguish between Tax and Zakat.]

উত্তর:

পার্থক্যসূচক বিষয় কর (Tax) যাকাত (Zakat)
উৎস ও প্রকৃতি রাষ্ট্রীয় সরকার কর্তৃক জনগণের ওপর আরোপিত বাধ্যতামূলক জাগতিক রাজস্ব। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ইসলামের পাঁচটি মৌলিক রুকনের একটি ফরজ ইবাদত।
প্রদানের বাধ্যবাধকতা কেবলমাত্র আইন ও রাষ্ট্রীয় শাস্তির ভয়ে মানুষ কর প্রদান করে। আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাকওয়া ও আখিরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি থেকে স্বেচ্ছায় আদায় করা হয়।
হার ও নিসাব করের হার স্থির নয়; সরকার প্রয়োজনমাফিক যেকোনো সময় করের হার বাড়াতে বা কমাতে পারে। আল্লাহ ও রাসুল কর্তৃক এর হার (সাধারণত ২.৫%) এবং নিসাব কেয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তনীয়।
ব্যয়ের খাত প্রশাসন, সামরিক বাহিনী, রাস্তাঘাটসহ রাষ্ট্রের যেকোনো কাজে ব্যয় করা যায়। কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে নির্ধারিত ৮টি খাত ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যয় করা সম্পূর্ণ হারাম।
আত্মিক ফল কর প্রদানের সাথে কোনো আত্মিক পরিশুদ্ধি বা পরকালীন সওয়াবের সম্পর্ক নেই। যাকাত দাতার আত্মিক কৃপণতা দূর করে মাল ও আত্মাকে পবিত্র ও বরকতময় করে।

১৫। ইসলামে ব্যক্তি মালিকানা বলতে কী বুঝায়? ৫

[What is the sense of ownership in Islam?]

উত্তর:

ইসলামে ব্যক্তিমালিকানার ধারণা:

ইসলাম চরম পুঁজিবাদী অবাধ ব্যক্তিমালিকানাকেও সমর্থন করে না, আবার সমাজতান্ত্রিক ব্যক্তিমালিকানা হরণ নীতিকেও সমর্থন করে না; বরং একটি চমৎকার সুষম ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

মৌলিক নীতিমালা:

  • প্রকৃত মালিক আল্লাহ: আসমান ও জমিনের যাবতীয় কিছুর একমাত্র ও একচ্ছত্র সার্বভৌম মালিক মহান আল্লাহ তাআলা (সূরা আল-মায়িদাহ: ১২০)।
  • মানুষ আমানতদার ও খলিফা: মানুষ এই সম্পদের প্রকৃত মালিক নয়, বরং সে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে আমানতের দায়িত্ব পালন করে।
  • বৈধ উপায়ে উপার্জিত ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত: শরীয়তসম্মত হালাল উপায়ে (শ্রম, ব্যবসা, চাষাবাদ, উত্তরাধিকার) উপার্জিত সম্পদের ওপর ব্যক্তির নিজস্ব অধিকার ইসলাম পুরোপুরি স্বীকার করে। অন্যের সম্পদে অন্যায় অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ।
  • সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতা: ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদে সমাজের গরিবের অধিকার (যাকাত, ওশর) রয়েছে। মালিক ইচ্ছে করলেই সম্পদ পুড়িয়ে ফেলতে বা ক্ষতিকর কাজে অপচয় করতে পারে না।

১৬। মুদারাবা কী? ৫

[What is ‘Mudaraba’?]

উত্তর:

মুদারাবার পরিচয় (Definition of Mudaraba):

‘মুদারাবা’ (المضاربة) ইসলামি অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংকিংয়ের একটি অন্যতম মৌলিক অংশীদারিত্ব চুক্তি। এটি হলো এমন একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, যেখানে এক পক্ষ সম্পূর্ণ মূলধন সরবরাহ করে এবং অপর পক্ষ তার শ্রম, মেধা ও পেশাগত দক্ষতা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে।

  • সাহেবুল মাল (صاحب المال): মূলধন সরবরাহকারী আমানতদার বা বিনিয়োগকারী।
  • মুদারিব (المضارب): শ্রম ও মেধা দানকারী ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা।

লাভ ও লোকসানের নীতি: ব্যবসায় অর্জিত মুনাফা উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত চুক্তির শতকরা হারে (যেমন: ৬০:৪০ বা ৫০:৫০) বণ্টিত হয়। তবে ব্যবসায় যদি অনিচ্ছাকৃত লোকসান ঘটে, তবে আর্থিক সমস্ত লোকসান মূলধন সরবরাহকারী বহন করে এবং উদ্যোক্তার শ্রম ও সময় বৃথা যায়।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ফাযিল ১ম বর্ষের অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি পরীক্ষার বিষয় কোড কত?

উত্তর: অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ের অফিসিয়াল বিষয় কোড হলো ২০১১০৬ (201106)।

প্রশ্ন ২: ২০২৩ সালের পরীক্ষায় ক বিভাগ থেকে কয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়?

উত্তর: ক বিভাগ (রচনামূলক) থেকে ৮টি প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো ৪টি এবং খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত) থেকে ৮টির মধ্যে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

প্রশ্ন ৩: আধুনিক অর্থনীতির জনক কে এবং তাঁর বিখ্যাত বইয়ের নাম কী?

উত্তর: অর্থনীতির জনক হলেন অ্যাডাম স্মিথ এবং তাঁর বিখ্যাত কালজয়ী গ্রন্থের নাম ‘An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations’ (১৭৭৬)।

প্রশ্ন ৪: ইসলামি অর্থনীতিতে সুদের বিকল্প হিসেবে কোন ব্যবস্থা চালু রয়েছে?

উত্তর: নিশ্চিত সুদের বদলে ঝুঁকি ভাগাভাগিভিত্তিক মুদারাবা ও মুশারাকা (লাভ-লোকসান অংশীদারিত্ব) এবং বাস্তব ক্রয়-বিক্রয়ভিত্তিক মুরাবাহা ও তাকাফুল পদ্ধতি চালু রয়েছে।

প্রশ্ন ৫: তাকাফুল ব্যবস্থায় বিমা গ্রহীতার প্রিমিয়াম কীভাবে গণ্য হয়?

উত্তর: তাকাফুল ব্যবস্থায় প্রিমিয়াম কোনো কোম্পানির আয় নয়, বরং তা সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য ‘তাবাররু’ (স্বেচ্ছাদান তহবিল) হিসেবে পরিচালিত হয়।

প্রশ্ন ৬: এই প্রশ্ন সমাধানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: এতে ২০২৩ সালের অফিশিয়াল প্রশ্নপত্রের মোট ১৬টি রচনামূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের প্রতিটি পয়েন্ট, সূচি, পার্থক্য ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির শতভাগ পূর্ণাঙ্গ সমাধান লিপিবদ্ধ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *