তাজবীদুল কুরআনিল কারীম (Tajweedul Quran) – 201102, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৬৭ মিনিট পড়ার সময়
৫ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০০২
اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه
[তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহু ওয়া তারজামাতু মা’আনিহী]
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০২
الزمن—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة—٨٠ [পূর্ণমান—৮০]

الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة
[দ্রষ্টব্য : বাম পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) [ক অংশ]

الدرجات—٣٠ [মান—৩০]


১- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية: [নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ১০ × ২ = ২০)

(أ) عرف علم التجويد- وما غرضه وموضوعه ونشأته وتطوره؟ بين بالإيضاح-

[ইলমুত তাজভিদ এর সংজ্ঞা দাও। এর উদ্দেশ্য, আলোচ্য বিষয়, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিশদভাবে আলোচনা কর।] (মান ১০)

১. ইলমুত তাজভীদের সংজ্ঞা (تعريف علم التجويد):
(ক) শাব্দিক অর্থ: ‘তাজবীদ’ (التجويد) শব্দটি বাবে তাফঈল-এর মাসদার। এর মূলধাতু ج-و-د (জাওদাহ), যার আভিধানিক অর্থ সুন্দর করা, সুবিন্যস্ত করা, উত্তমরূপে সম্পন্ন করা (التحسين والإتقان)।
(খ) পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাজবীদ শাস্ত্রের ইমামদের মতে: «هُوَ إِعْطَاءُ كُلِّ حَرْفٍ حَقَّهُ مِنْ مَخْرَجِهِ وَمُسْتَحَقَّهُ مِنْ صِفَاتِهِ اللَّازِمَةِ وَالْعَارِضَةِ مِنْ غَيْرِ تَكَلُّفٍ وَلَا تَعَسُّفٍ.»
অর্থাৎ প্রতিটি আরবি হরফকে তার নির্দিষ্ট মাখরাজ থেকে উচ্চারণ করা এবং তার আবশ্যকীয় ও আগন্তুক সিফাতসমূহ (গুণাবলি) কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা শৈথিল্য ছাড়াই যথাযথভাবে প্রদান করার নামই হলো ‘ইলমুত তাজবীদ’।

২. তাজভীদের উদ্দেশ্য ও আলোচ্য বিষয় (غرضه وموضوعه):

  • উদ্দেশ্য (الغرض والغاية): তাজভীদের মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতকালে মুখ ও জিহ্বাকে যাবতীয় স্পষ্ট ও প্রচ্ছন্ন ভুলত্রুটি (লাহনে জলী ও খফী) থেকে রক্ষা করা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেছেন হুবহু সেই পদ্ধতিতে তিলাওয়াত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের পরম সৌভাগ্য অর্জন করা।
  • আলোচ্য বিষয় (الموضوع): ইলমুত তাজভীদের আলোচ্য বিষয় হলো «الْكَلِمَاتُ الْقُرْآنِيَّةُ مِنْ حَيْثُ إِعْطَاءُ حُرُوفِهَا حَقَّهَا وَمُسْتَحَقَّهَا» অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি ও তার অন্তর্গত আরবি হরফসমূহ, যেন হরফগুলোর মাখরাজ ও সিফাত যথাযথভাবে আদায় হয়।

৩. তাজভীদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (نشأته وتطوره):

  • নবুওয়াত ও সাহাবা যুগ (মৌখিক চর্চা): নবুওয়াতের যুগে তাজবীদ কোনো গ্রন্থবদ্ধ বিদ্যা ছিল না, বরং তা ছিল একটি স্বভাবজাত ও মৌখিক তিলাওয়াত রীতি। জিবরীল (আ.) নবী করীম ﷺ-কে যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সাহাবায়ে কেরাম তা শুনে শুনে হুবহু অনুকরণ করতেন।
  • তাবেয়ী যুগ ও শাস্ত্রীয় ভিত্তি: প্রথম হিজরী শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যখন ইসলাম অনারব (আজমী) দেশসমূহে বিস্তার লাভ করে, তখন সাধারণ মানুষের মুখে তিলাওয়াতে বিকৃতি (লাহন) দেখা দেয়। এই বিকৃতি রোধে সর্বপ্রথম আবুল আসওয়াদ দুয়ালী হরকত (নুকতা) উদ্ভাবন করেন এবং পরবর্তীতে খলিল ইবনে আহমদ আল-ফুরাহীদী হরকতের আধুনিক রূপ দেন।
  • গ্রন্থাকারে সংকলন: তৃতীয় হিজরী শতাব্দীতে ইমাম মূসা ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-খাকানী (মৃ. ৩২৫ হি.) সর্বপ্রথম তাজবীদের ওপর তাঁর বিখ্যাত ৫১ চরণের কাব্যগ্রন্থ ‘আল-কাসীদাতুল খাকানিয়্যাহ’ রচনা করেন। পরবর্তীতে মক্কী ইবনে আবি তালেব (মৃ. ৪৩৭ হি.) রচনা করেন ‘আর-রিআয়া লি-তাজবীদিল কিরাআহ’। এর পর ইমাম আবু আমর আদ-দানী এবং পরবর্তীতে অষ্টম শতাব্দীতে ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) (মৃ. ৮৩৩ হি.) তাঁর কালজয়ী ‘মুকাদ্দিমাতুল জাযারিয়্যাহ’ রচনার মাধ্যমে তাজবীদ শাস্ত্রকে পূর্ণতা দান করেন।

(ب) اكتب أهمية تلاوة القرآن الكريم بالتجويد مستدلاً من القرآن والسنة-

[কুরআন ও হাদিসের দলিল উল্লেখপূর্বক তাজভিদ সহকারে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব লিখ।] (মান ১০)

ভূমিকা:
পবিত্র কুরআন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য নাযিলকৃত আল্লাহর প্রত্যক্ষ বাণী। এই কালামের প্রতিটি হরফ ও শব্দের বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও তিলাওয়াত রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এক মহান ধর্মীয় দায়িত্ব। তাজবীদহীন তিলাওয়াতে শব্দের অর্থ বিকৃত হয়ে মারাত্মক গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১. কুরআনুল কারীমের আলোকে গুরুত্ব ও দলিল:

  1. আল্লাহর প্রত্যক্ষ নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং সমগ্র উম্মতকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন: «وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا» (এবং আপনি কুরআন তিলাওয়াত করুন তারতীলের সাথে ধীরস্থির ও বিশুদ্ধভাবে – সূরা মুযযাম্মিল: ৪)। হযরত আলী (রা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: «التَّرْتِيلُ هُوَ تَجْوِيدُ الْحُرُوفِ وَمَعْرِفَةُ الْوُقُوفِ» অর্থাৎ তারতীল হলো হরফসমূহকে তাজবীদ সহকারে আদায় করা এবং ওয়াকফের নিয়মাবলি জানা।
  2. হক আদায় করে তিলাওয়াতের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা বলেন: «الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ» (যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তা তিলাওয়াত করে যেমন তিলাওয়াত করা উচিত; তারাই এর প্রতি প্রকৃত ঈমান রাখে – সূরা বাকারা: ১২১)।

২. হাদীস শরীফের আলোকে গুরুত্ব ও দলিল:

  1. আরবদের উচ্চারণে তিলাওয়াতের তাগিদ: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: «اقْرَءُوا الْقُرْآنَ بِلُحُونِ الْعَرَبِ وَأَصْوَاتِهَا» (তোমরা কুরআন পাঠ কর আরবদের বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি ও স্বরে – শুআবুল ঈমান, বায়হাকী)।
  2. কণ্ঠস্বরকে সুশোভিত করা: নবী করীম ﷺ বলেন: «زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ» (তোমরা তোমাদের সুন্দর কণ্ঠস্বর দ্বারা কুরআনকে সুশোভিত কর – সুনানে আবু দাউদ)। আর বিশুদ্ধ তাজবীদ ব্যতীত কণ্ঠের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় না।
  3. কুরআন তিলাওয়াতকারীর উচ্চ মর্যাদা: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ» (যে ব্যক্তি দক্ষতার সাথে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে, সে সম্মানিত পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে – সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।

৩. তাজবীদের শরয়ী হুকুম (উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য):
ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) তাঁর ‘জাযারিয়্যাহ’ গ্রন্থে ঘোষণা করেছেন:
«وَالأَخْذُ بِالتَّجْوِيدِ حَتْمٌ لاَزِمُ … مَنْ لَمْ يُجَوِّدِ الْقُرْآنَ آثِمُ»
«لِأَنَّهُ بِهِ الإِلَهُ أَنْزَلاَ … وَهَكَذَا مِنْهُ إِلَيْنَا وَصَلاَ»

অর্থাৎ তাজবীদ সহকারে কুরআন পাঠ করা অপরিহার্য দায়িত্ব। যে ব্যক্তি সাধ্য থাকা সত্ত্বেও তাজবীদ ছাড়া অশুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করে সে গুনাহগার হবে; কারণ আল্লাহ তাআলা তাজবীদ সহকারেই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং এভাবেই তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে।


(ج) عرف المخرج- ثم اكتب مخارج الحروف العربية موضحًا-

[মাখরাজ এর পরিচয় দাও। অতঃপর আরবি হরফের মাখরাজসমূহ বিশদভাবে লিখ।] (মান ১০)

১. মাখরাজের সংজ্ঞা (تعريف المخرج):
‘মাখরাজ’ (المخرج) শব্দটি আরবি خرج (বের হওয়া) ধাতু থেকে নিষ্পন্ন ইসমে যারফ বা স্থানবাচক বিশেষ্য, যার আভিধানিক অর্থ নির্গমন স্থান বা বের হওয়ার জায়গা (محل الخروج)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাজবীদ শাস্ত্রের পরিভাষায়: «هُوَ مَحَلُّ خُرُوجِ الْحَرْفِ وَتَمَيُّزِهِ عَنْ غَيْرِهِ» অর্থাৎ মুখের যে সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে আরবি হরফ উচ্চারিত হয় এবং যার মাধ্যমে একটি হরফ অপর হরফ থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক হয়ে যায়, তাকে ‘মাখরাজ’ বলে।

২. মাখরাজের সংখ্যা ও বিবরণ:
জমহুর তাজবীদবিদ ও ইমাম খলিল ইবনে আহমদ ও ইবনুল জাযারীর মতে আরবি হরফের প্রধান মাখরাজ ৫টি এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিশেষ মাখরাজ মোট ১৭টি। নিচে প্রধান ৫টি মৌলিক অঙ্গের অধীনে ১৭টি মাখরাজের বিশদ বিবরণ দেওয়া হলো:

  1. আল-জাওফ (الجوف – মুখের ভেতরের খালি জায়গা): এখান থেকে ১টি বিশেষ মাখরাজে ৩টি মাদ্দের হরফ উচ্চারিত হয়: আলিফ সাকিন ডানে যবর, ওয়াও সাকিন ডানে পেশ, এবং ইয়া সাকিন ডানে যের (ا، و، ي)।
  2. আল-হলক্ব (الحلق – কণ্ঠনালী): এখান থেকে ৩টি বিশেষ মাখরাজে ৬টি হরুফে হলক্বী উচ্চারিত হয়:
    • কণ্ঠনালীর নিম্নভাগ (أقصى الحلق) থেকে: হামযা ও হা (ء، هـ)।
    • কণ্ঠনালীর মধ্যভাগ (وسط الحلق) থেকে: আইন ও হা (ع، ح)।
    • কণ্ঠনালীর উপরিভাগ (أدنى الحلق) থেকে: গাইন ও খা (غ، خ)।
  3. আল-লিসান (اللسان – জিহ্বা): জিহ্বা থেকে ১০টি বিশেষ মাখরাজে ১৮টি হরফ উচ্চারিত হয়:
    • জিহ্বার গোড়া তার বরাবর ওপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: ক্বাফ (ق)।
    • জিহ্বার গোড়ার সামান্য সম্মুখভাগ ওপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: কাফ (ك)।
    • জিহ্বার মধ্যভাগ ওপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: জীম, শীন ও ইয়া (ج، ش، ي)।
    • জিহ্বার গোড়ার পাশের কিনারা ওপরের মাড়ির দাঁতের গোড়ার সাথে লাগিয়ে: দোয়াদ (ض)।
    • জিহ্বার অগ্রভাগের কিনারা ওপরের দাঁতের মাড়ির সাথে লাগিয়ে: লাম (ل)।
    • জিহ্বার অগ্রভাগ তার ঠিক বরাবর ওপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: নূন (ن)।
    • জিহ্বার অগ্রভাগের পিঠ ওপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: রা (ر)।
    • জিহ্বার আগা ওপরের সামনের দুই দাঁতের (ছানায়া উলয়ার) গোড়ার সাথে লাগিয়ে: তা, দাল ও তোয়া (ت، د، ط)।
    • জিহ্বার আগা নিচের সামনের দুই দাঁতের ভেতরের কিনারার সাথে লাগিয়ে: যা, সীন ও সোয়াদ (ز، س، ص)।
    • জিহ্বার আগা ওপরের সামনের দুই দাঁতের আগার সাথে লাগিয়ে: ছা, যাল ও জোয়া (ث، ذ، ظ)।
  4. আশ-শাফাতান (الشفتان – দুই ঠোঁট): এখান থেকে ২টি বিশেষ মাখরাজে ৪টি হরফ উচ্চারিত হয়:
    • নিচের ঠোঁটের ভেতরের অংশ ওপরের সামনের দুই দাঁতের আগার সাথে লাগিয়ে: ফা (ف)।
    • উভয় ঠোঁট মিলিয়ে: বা (ب – ভেজা অংশ), মীম (م – শুকনা অংশ) এবং দুই ঠোঁট গোল করে ওয়াও (و)।
  5. আল-খায়শূম (الخيشوم – নাকের বাঁশি): এখান থেকে ১টি বিশেষ মাখরাজে গুন্নাহ্ (الغنة) উচ্চারিত হয় (যেমন নূন ও মীমের ওয়াজিব গুন্নাহ্ ও ইখফা)।

(د) اذكر أحكام النون الساكنة والتنوين ممثلاً-

[নূন সাকিন ও তানভীনের বিধানসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।] (মান ১০)

১. নূন সাকিন ও তানভীনের পরিচয়:
নূন সাকিন (النون الساكنة): হরকতবিহীন জযমযুক্ত নূন (نْ), যা উচ্চারণ ও লেখায় সর্বাবস্থায় স্থির থাকে।
তানভীন (التنوين): দুই যবর, দুই যের বা দুই পেশকে তানভীন বলে। এটি মূলত শব্দের শেষে উচ্চারিত অতিরিক্ত একটি নূন সাকিন যা উচ্চারণে আসে কিন্তু লেখায় আসে না।

২. নূন সাকিন ও তানভীনের চারটি মৌলিক বিধান (الأحكام الأربعة):
নূন সাকিন বা তানভীনের পরে আগত আরবি হরফের ওপর ভিত্তি করে এদের মোট ৪টি বিধান রয়েছে:

  1. ইযহার (الإظهار – স্পষ্ট করে পড়া):
    সংজ্ঞা: নূন সাকিন বা তানভীনকে গুন্নাহ ছাড়া তার মূল মাখরাজ থেকে স্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট উচ্চারণ করাকে ইযহার বলে।
    হরফ সংখ্যা: ৬টি (হরুফে হলক্বী: ء، هـ، ع، ح، غ، خ)।
    উদাহরণ: «مَنْ آمَنَ» (হামযা), «مِنْ هَادٍ» (হা), «أَنْعَمْتَ» (আইন), «عَلِيمٌ حَكِيمٌ» (হা), «مِنْ غِلٍّ» (গাইন), «مِنْ خَوْفٍ» (খা)।
  2. ইদগাম (الإدغام – মিলিয়ে পড়া):
    সংজ্ঞা: নূন সাকিন বা তানভীনকে পরবর্তী হরফের সাথে এমনভাবে মিলিয়ে পড়া যাতে পরবর্তী হরফটি তাশদীদযুক্ত হরফে পরিণত হয়।
    হরফ সংখ্যা: ৬টি, যা ‘ইয়ারমালূন’ (يَرْمَلُونَ – ي، ر، م، ل، و، ن) শব্দে সংকলিত।
    প্রকারভেদ:

    • (ক) ইদগামে বাগুন্নাহ (গুন্নাহসহ ইদগাম): হরফ ৪টি (ي، ن، م، و – ‘ইয়ানমূ’)। যেমন: «مَن يَقُولُ», «مِن مَّالٍ», «مِن وَالٍ», «مِن نِّعْمَةٍ»।
    • (খ) ইদগামে বেলাগুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া ইদগাম): হরফ ২টি (ل، ر)। যেমন: «مِن لَّدُنْهُ», «مِّن رَّبِّهِمْ»।
  3. ইক্বলাব (الإقلاب – রূপান্তর করে পড়া):
    সংজ্ঞা: নূন সাকিন বা তানভীনের পর বা (ب) আসলে সেই নূন সাকিন বা তানভীনকে একটি গোপন মীম (م)-এ রূপান্তর করে গুন্নাহ ও ইখফার সাথে আদায় করাকে ইক্বলাব বলে।
    হরফ সংখ্যা: ১টি, তা হলো বা (ب)।
    উদাহরণ: «مِن بَعْدِ» (উচ্চারণ হবে: মিম বা’দি), «عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ», «أَنۢبِئْهُم»।
  4. ইখফা (الإخفاء – গোপন করে পড়া):
    সংজ্ঞা: নূন সাকিন বা তানভীনকে ইযহার ও ইদগামের মধ্যবর্তী অবস্থায় নাকের বাঁশিতে নিয়ে গুন্নাহর সাথে কিছুটা অস্পষ্ট ও গোপন করে পড়াকে ইখফা বলে।
    হরফ সংখ্যা: ১৫টি (ت، ث، ج، د، ذ، ز، س، ش، ص، ض، ط، ظ، ف، ق، ك)।
    উদাহরণ: «مِن تَحْتِهَا», «مِن قَبْلُ», «كُنتُمْ», «عَذَابًا شَدِيدًا», «إِنسَانٌ»।

২- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية بالاختصار: [সংক্ষেপে নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ৫ × ২ = ১০)

(أ) عرف الوقف واكتب علاماته- [الوقف এর পরিচয় দাও। এর আলামতসমূহ লিপিবদ্ধ কর।] (মান ৫)

১. ওয়াকফের সংজ্ঞা (تعريف الوقف):
‘ওয়াকফ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ থামা, বিরত থাকা বা বিরতি দেওয়া। তাজবীদের পরিভাষায়—পরবর্তী শব্দ থেকে পাঠ শুরু করার উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক নিয়মে নিঃশ্বাস ত্যাগ করে কোনো শব্দের শেষে ক্ষণিকের জন্য শব্দ থামিয়ে দেওয়াকে ‘ওয়াকফ’ বলে।

২. ওয়াকফের প্রধান পারিভাষিক আলামতসমূহ (علامات الوقف):

  1. م (ওয়াকফে লাযিম): এখানে থামা আবশ্যক; না থামলে মারাত্মক অর্থ বিকৃতির আশঙ্কা থাকে।
  2. ط (ওয়াকফে মুতলাক): এখানে ওয়াকফ করা উত্তম ও উত্তম পূর্ণতা নির্দেশক।
  3. ج (ওয়াকফে জায়েজ): এখানে থামা এবং মিলিয়ে পড়া উভয়টিই সমানভাবে বৈধ।
  4. ز (ওয়াকফে মুজাওওয়ায): এখানে মিলিয়ে পড়া উত্তম, তবে থামাও জায়েজ।
  5. ص (ওয়াকফে মুরাখখাস): দীর্ঘ আয়াতে শ্বাস ফুরিয়ে গেলে এখানে থামার অনুমতি রয়েছে।
  6. لا (ওয়াকফে মামনূ’): এখানে থামা নিষেধ; থামলে পূর্ববর্তী শব্দ থেকে মিলিয়ে পড়তে হয়।
  7. ∴ ∴ (মুআনাকা বা মুরাকাবা): পাশাপাশি দুটি স্থানে তিনটি করে নুকতা থাকে; এর যেকোনো একটিতে থামলে অন্যটিতে না থেমে মিলিয়ে পড়তে হয়।
  8. قلی: ওয়াকফ করা উত্তম। صلی: মিলিয়ে পড়া উত্তম।

(ب) اكتب أنواع صفات الحروف بالإيجاز- [صفات الحروف এর প্রকারসমূহ সংক্ষেপে লিখ।] (মান ৫)

১. সিফাতের পরিচয়: হরফ উচ্চারণের সময় মাখরাজে যে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, তাকে সিফাত (صفات) বলে। সিফাত মোট ১৭টি, যা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:

(ক) সিফাতে লাযিমাহ বা যাতিয়াহ (আবশ্যকীয় সিফাত – ১০টি বিপরীতমুখী):
এগুলো হরফের মূল অস্তিত্বের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং জোড়ায় জোড়ায় বিপরীতমুখী:

  1. হামস (ফিসফিসানি / বাতাস জারি রাখা – ১০টি: فحثه شخص سكت) ↔ এর বিপরীত জহর (বাতাস বন্ধ রাখা – ১৯টি)।
  2. শিদ্দাহ (কঠোরতা / আওয়াজ বন্ধ থাকা – ৮টি: أجد قط بكت) ↔ এর বিপরীত রিখাওয়াহ (নরমতা); আর এ দুয়ের মাঝে বাইনিয়্যাহ (মধ্যম – ৫টি: لن عمر)।
  3. ইস্তিলা (জিহ্বার গোড়া ওপরে তালুতে উঠা – ৭টি: خص ضغط قظ) ↔ এর বিপরীত ইস্তিফাল (জিহ্বা নিচে নামা – ২২টি)।
  4. ইত্ববাক্ব (জিহ্বা তালুর সাথে চেপে বসা – ৪টি: ص، ض، ط، ظ) ↔ এর বিপরীত ইনফিতাহ (উন্মুক্ত থাকা – ২৫টি)।
  5. ইযলাক্ব (উচ্চারণে দ্রুততা ও সহজতা – ৬টি: فر من لب) ↔ এর বিপরীত ইসমাত (ধীরস্থির উচ্চারণ – ২৩টি)।

(খ) সিফাতে গায়রে মুতাদ্বাদ্দাহ (বিপরীতহীন একক সিফাত – ৭টি):
১. সাফীর (শীষধ্বনি: ص، ز، س), ২. কলকলাহ (প্রতিধ্বনি: قطب جد), ৩. লীন (নমনীয়তা: و، ي), ৪. ইনহিরাফ (বিচ্যুতি: ل، ر), ৫. তাকরীর (জিহ্বার কম্পন: ر), ৬. তাফাশশী (মুখগহ্বরে বাতাস ছড়িয়ে পড়া: ش), এবং ৭. ইসতিত্বালাত (দীর্ঘায়িত হওয়া: ض)।


(ج) اكتب أحكام اللحن ممثلاً- [লাহান এর হুকুমসমূহ উদাহরণসহ লিখ।] (মান ৫)

১. লাহানের পরিচয়: কুরআন তিলাওয়াতে তাজবীদের নিয়ম লঙ্ঘন করে যে কোনো ভুল বা বিচ্যুতি ঘটাকে ‘লাহন’ (اللحن) বলে। লাহন প্রধানত দুই প্রকার:

  1. লাহনে জলী (اللحن الجلي – প্রকাশ্য ও মারাত্মক ভুল):
    সংজ্ঞা: এমন স্পষ্ট ভুল যা সাধারণ আরবি জানা ব্যক্তিও সহজে ধরতে পারে এবং যার কারণে শব্দের গঠন বা অর্থ মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যায়।
    উদাহরণ:

    • এক হরফের স্থলে অন্য হরফ পড়া: যেমন ‘عَسَى’ (আশা করা)-এর জায়গায় ‘عَصَى’ (অবাধ্য হওয়া) পড়া, কিংবা ‘الْحَمْدُ’-এর স্থলে ‘الْهَمْدُ’ পড়া।
    • হরকতের পরিবর্তন করা: যেমন ‘أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ’ (আপনি অনুগ্রহ করেছেন)-এর ‘তা’ যবরের জায়গায় পেশ দিয়ে ‘أَنْعَمْتُ’ (আমি অনুগ্রহ করেছি) পড়া।

    শরয়ী বিধান: লাহনে জলী করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। নামাজে এমন ভুল হলে নামাজ ভেঙে যায়।

  2. লাহনে খফী (اللحن الخفي – সূক্ষ্ম ও প্রচ্ছন্ন ভুল):
    সংজ্ঞা: এমন সূক্ষ্ম ভুল যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না, কেবল অভিজ্ঞ ক্বারী ও তাজবীদবিদরাই ধরতে পারেন। এতে শব্দের অর্থ বিকৃত হয় না কিন্তু তিলাওয়াতের সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
    উদাহরণ: গুন্নাহ বা ইখফা ছেড়ে দেওয়া, মাদ্দের পরিমাণের কম-বেশি করা, কিংবা হরফের সিফাতে তাফখীম ও তারক্বীক্ব যথাযথভাবে আদায় না করা।
    শরয়ী বিধান: লাহনে খফী করা মাকরূহ। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার তা করা অনুচিত।

(د) تحدث عن أحكام الراء موضحًا- [الراء -এর বিধানসমূহ বিশদভাবে আলোচনা কর।] (মান ৫)

আরবি বর্ণ ‘রা’ (ر)-এর উচ্চারণে তাজবীদ শাস্ত্রে প্রধানত দুটি অবস্থা রয়েছে: তাফখীম বা পুর (মোটা করে পড়া) এবং তারক্বীক্ব বা বারীক্ব (পাতলা করে পড়া)।

  1. ‘রা’ তাফখীম বা মোটা হওয়ার নিয়মাবলি (حالات التفخيم):
    • ‘রা’ বর্ণে যবর বা পেশ থাকলে: যেমন— «رَبَّنَا», «رُسُلُنَا»।
    • ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্ববর্তী হরফে যবর বা পেশ থাকলে: যেমন— «قَرْيَة», «قُرْآن»।
    • ‘রা’ সাকিনের পূর্বে আরজি বা অস্থায়ী যের থাকলে (যেমন হামযায়ে ওয়াসল): «ارْجِعِي», «امْرْتَابُوا»।
    • ‘রা’ সাকিনের পূর্বে মূল যের থাকা সত্ত্বেও রা-এর ঠিক পরেই একই শব্দে হরুফে মুস্তা’লিয়া (মোটা হরফ) থাকলে: যেমন— «قِرْطَاس», «مِرْصَاد», «فِرْقَة»।
  2. ‘রা’ তারক্বীক্ব বা পাতলা হওয়ার নিয়মাবলি (حالات الترقيق):
    • ‘রা’ বর্ণে যের থাকলে: যেমন— «رِجَال», «كَرِيم»।
    • ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্বের হরফে মূল ও স্থায়ী যের থাকলে (এবং পরে কোনো মোটা হরফ না থাকলে): যেমন— «فِرْعَوْن», «مِرْيَة»।
    • ওয়াকফের কারণে ‘রা’ সাকিন হলে এবং তার পূর্বে ইয়া সাকিন (يْ) থাকলে: যেমন— «خَيْر», «قَدِير», «بَصِير»।
    • ওয়াকফের কারণে ‘রা’ সাকিন হলে এবং তার পূর্বে কোনো সাধারণ সাকিনযুক্ত হরফ এবং তার পূর্বের অক্ষরে যের থাকলে: যেমন— «حِجْر», «سِحْر»।

مجموعة (ب) [খ অংশ: হিফযুল কুরআন]

الدرجات—২০ = ১০ × ২ [মান: ২০]


৩- اكتب من حفظك اثنين من السور التالية: [নিম্নের সূরাগুলো থেকে যে কোনো দুটি সূরা মুখস্থ লিখ :]

(أ) سورة العلق (كاملة مع الشكل التام)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴿١﴾ خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ ﴿٢﴾ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ﴿٣﴾ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ﴿٤﴾ عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ﴿٥﴾ كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَىٰ ﴿٦﴾ أَن رَّآهُ اسْتَغْنَىٰ ﴿٧﴾ إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ الرُّجْعَىٰ ﴿٨﴾ أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَىٰ ﴿٩﴾ عَبْدًا إِذَا صَلَّىٰ ﴿١٠﴾ أَرَأَيْتَ إِن كَانَ عَلَى الْهُدَىٰ ﴿١١﴾ أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَىٰ ﴿١٢﴾ أَرَأَيْتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ﴿١٣﴾ أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ اللَّهَ يَرَىٰ ﴿١٤﴾ كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِ ﴿١٥﴾ نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ ﴿١٦﴾ فَلْيَدْعُ نَادِيَهُ ﴿١٧﴾ سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ ﴿١٨﴾ كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِب ۩ ﴿١٩﴾

সরল বঙ্গার্থ: পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক পরম মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। কখনই নয়, মানুষ অবশ্যই সীমা লঙ্ঘন করে, কারণ সে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে। নিশ্চয় আপনার প্রতিপালকের দিকেই প্রত্যাবর্তন। আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে এক বান্দাকে যখন সে সালাত আদায় করে? আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি সে সৎপথে থাকে অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয়? আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি সে সত্য প্রত্যাখ্যান করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়? সে কি জানে না যে আল্লাহ সবকিছু দেখছেন? কখনই নয়, সে যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাকে কপালের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াব—মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠ কেশগুচ্ছ! অতএব সে তার পারিষদদের ডাকুক, আমিও অচিরেই জাহান্নামের প্রহরীদের (যাবানিয়া) ডাকব। কখনই তার আনুগত্য করবেন না; বরং সিজদা করুন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন।


(ب) سورة الانفطار (كاملة مع الشكل التام)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِذَا السَّمَاءُ انفَطَرَتْ ﴿١﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انتَثَرَتْ ﴿٢﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿٣﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿٤﴾ عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ﴿٥﴾ يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ ﴿٦﴾ الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ ﴿٧﴾ فِي أَيِّ صُورَةٍ مَّا شَاءَ رَكَّبَكَ ﴿٨﴾ كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِالدِّينِ ﴿٩﴾ وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ﴿١٠﴾ كِرَامًا كَاتِبِينَ ﴿١١﴾ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿١٢﴾ إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ ﴿١٣﴾ وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ ﴿١٤﴾ يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ ﴿١٥﴾ وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَائِبِينَ ﴿١٦﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ﴿١٧﴾ ثُمَّ مَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ﴿١٨﴾ يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِّنَفْسٍ شَيْئًا ۖ وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِّلَّهِ ﴿١٩﴾

সরল বঙ্গার্থ: যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, যখন নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়বে, যখন সমুদ্রসমূহকে উদ্বেলিত করা হবে, এবং যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে—তখন প্রত্যেকে জানতে পারবে সে কী আগে পাঠিয়েছে এবং কী পেছনে রেখে গেছে। হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, সুঠাম করেছেন এবং সুষম করেছেন; যে আকৃতিতে চেয়েছেন তোমাকে গঠন করেছেন। কখনই নয়, বরং তোমরা শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার কর। অথচ নিশ্চয় তোমাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত রয়েছে—মর্যাদাবান লেখকবৃন্দ, তারা জানে তোমরা যা কর। নিশ্চয় সৎকর্মপরায়ণরা থাকবে পরম শান্তিময় জান্নাতে, আর দুরাচারীরা থাকবে জাহান্নামে। বিচার দিবসে তারা তাতে প্রবেশ করবে এবং তারা কখনো তা থেকে বের হতে পারবে না। আর কিসে আপনাকে জানাবে বিচার দিবস কী? আবার বলি, কিসে আপনাকে জানাবে বিচার দিবস কী? যেদিন এক ব্যক্তি অপরের জন্য কোনো উপকারের ক্ষমতা রাখবে না; আর সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে একমাত্র আল্লাহর।


(ج) سورة الضحى (كاملة مع الشكل التام)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَالضُّحَىٰ ﴿١﴾ وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ ﴿٢﴾ مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ﴿٣﴾ وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَىٰ ﴿٤﴾ وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ ﴿٥﴾ أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَىٰ ﴿٦﴾ وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَىٰ ﴿٧﴾ وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَىٰ ﴿٨﴾ فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ﴿٩﴾ وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ ﴿١٠﴾ وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ﴿١١﴾

সরল বঙ্গার্থ: শপথ পূর্বাহ্নের রৌদ্রজ্জ্বল আলোর, এবং শপথ নিঝুম রাতের যখন তা নিস্তব্ধ হয়। আপনার প্রতিপালক আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি। আর নিশ্চয় আপনার জন্য পরবর্তী জীবন পূর্ববর্তী জীবনের চেয়ে অনেক বেশি কল্যাণকর। আর অচিরেই আপনার প্রতিপালক আপনাকে এত প্রাচুর্য দান করবেন যে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। তিনি কি আপনাকে এতিম অবস্থায় পাননি, অতঃপর আশ্রয় দান করেননি? তিনি আপনাকে পথপ্রদর্শনের সন্ধানী পেয়ে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। এবং তিনি আপনাকে অভাবগ্রস্ত পেয়ে স্বাবলম্বী করেছেন। অতএব আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না, সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দেবেন না, এবং আপনার প্রতিপালকের নেয়ামতসমূহ প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতার সাথে প্রচার করুন।


(د) سورة الليل (كاملة مع الشكل التام)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ ﴿١﴾ وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّىٰ ﴿٢﴾ وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنثَىٰ ﴿٣﴾ إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّىٰ ﴿٤﴾ فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَاتَّقَىٰ ﴿٥﴾ وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَىٰ ﴿٦﴾ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٧﴾ وَأَمَّا مَن بَخِلَ وَاسْتَغْنَىٰ ﴿٨﴾ وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَىٰ ﴿٩﴾ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَىٰ ﴿١٠﴾ وَمَا يُغْنِي عَنْهُ مَالُهُ إِذَا تَرَدَّىٰ ﴿١١﴾ إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ ﴿١٢﴾ وَإِنَّ لَنَا لَلْآخِرَةَ وَالْأُولَىٰ ﴿١٣﴾ فَأَنذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظَّىٰ ﴿١٤﴾ لَا يَصْلَاهَا إِلَّا الْأَشْقَى ﴿١٥﴾ الَّذِي كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ﴿١٦﴾ وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى ﴿١٧﴾ الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّىٰ ﴿١٨﴾ وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَىٰ ﴿١٩﴾ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلَىٰ ﴿٢٠﴾ وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ ﴿٢١﴾

সরল বঙ্গার্থ: শপথ রাতের যখন তা আচ্ছাদিত করে, এবং শপথ দিনের যখন তা সমুজ্জ্বল হয়, এবং শপথ তাঁর যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় তোমাদের কর্মপ্রয়াস বিচিত্র ধরনের। অতএব যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সর্বোত্তম সত্যকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি অচিরেই তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কৃপণতা করে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে, আমি অচিরেই তার জন্য কঠিন পরিণতির পথ সুগম করে দেব। এবং তার ধনসম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না যখন সে ধ্বংসগহ্বরে পতিত হবে। নিশ্চয় সঠিক পথ প্রদর্শন আমারই দায়িত্ব, এবং নিশ্চয় পরকাল ও ইহকাল আমারই মালিকানাধীন। অতএব আমি তোমাদেরকে লেলিহান অগ্নিশিখা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি। এতে চরম দুর্ভাগা ব্যতীত কেউ দগ্ধ হবে না, যে সত্যকে মিথ্যা বলেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকী ব্যক্তিকে, যে পরিশুদ্ধির উদ্দেশ্যে স্বীয় ধনসম্পদ দান করে। এবং তার ওপর কারও এমন কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে; বরং কেবল তার মহান সুউচ্চ প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনায় সে দান করে। আর অচিরেই সে পরম পরিতুষ্টি লাভ করবে।


مجموعة (ج) [গ অংশ: তরজমা ও তাফসীর]

الدرجات—১৫ × ২ = ৩০ [মান: ৩০]


৪- ترجم اثنين من النصوص القرآنية وأجب عن الأسئلة الملحقة بهما: [যে কোনো দুটি কুরআনীয় পাঠ্যের অর্থ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

(أ) النص الأول: سورة العصر

মূল পাঠ্য:
«وَالْعَصْرِ ﴿١﴾ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ ﴿٢﴾ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴿٣﴾»

সরল বঙ্গার্থ (মান ৭):
১. শপথ সময়ের (মহাকালের),
২. নিশ্চয় সমগ্র মানবজাতি অবশ্যই চরম ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত,
৩. তারা ব্যতীত—যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।

(১) فسر قوله تعالى: “ان الانسان لفي خسر” [আয়াতটির তাফসীর:] (মান ৪)
ইমাম ইবনে কাসীর ও ফখরুদ্দীন রাযী (রহ.)-এর মতে: এই আয়াতে ‘আল-ইনসান’ (الْإِنسَانَ) শব্দের শুরুতে ‘আলিফ-লাম’ (ال) জিনস বা সমগ্র মানবজাতির সর্বজনীনতাকে বোঝাতে এসেছে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি মানুষ তার পার্থিব মূলধন বা জীবনকালের প্রতিটি সেকেন্ডে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষের আয়ু বরফের মতো, যা প্রতি মুহূর্তে গলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ যদি এই সীমিত সময়কে আখিরাতের স্থায়ী পুঁজি হিসেবে ঈমান ও আমলে রূপান্তর করতে না পারে, তবে সে পার্থিব প্রাচুর্য সত্ত্বেও চূড়ান্তভাবে দেউলিয়া ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) যথার্থই বলেছেন: “মানুষের চিন্তাভাবনার জন্য যদি কুরআনে কেবল এই একটি সূরাই নাযিল হতো, তবে তা-ই সমগ্র মানবজাতির হিদায়েতের জন্য যথেষ্ট হতো।”

(২) حقق كلمات الآتية: [শব্দগুলোর তাহকীক:] (মান ৪)

  1. خُسْرٍ: اسم مصدر বা اسم ثلاثي مجرد; অর্থ: ক্ষতি, লোকসান, ধ্বংস; বাবে কারুমা ইয়াকরুমু; جنس: صحيح سالم।
  2. عَمِلُوا: صيغة: جمع مذكر غائب; بحث: فعل ماض معروف; باب: سَمِعَ يَسْمَعُ; مادة: ع – م – ل; অর্থ: তারা আমলে সালেহ বা সৎকাজ করেছে; جنس: صحيح سالم।
  3. تَوَاصَوْا: صيغة: جمع مذكر غائب; بحث: فعل ماض معروف; باب: التَّفَاعُل (تَوَاصَى يَتَوَاصَى); مادة: و – ص – ي; অর্থ: তারা পরস্পরকে উপদেশ ও নসীহত করেছে; جنس: معتل لفيف مفروق।
  4. الْحَقِّ: اسم ثلاثي مجرد / مصدر; অর্থ: সত্য, ন্যায়, সুবিচার, ইসলাম; مادة: ح – ق – ق; جنس: صحيح مضاعف ثلاثي।

(ب) النص الثاني: سورة القدر

মূল পাঠ্য:
«إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ﴿١﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ﴿٢﴾ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿٣﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ ﴿٤﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿٥﴾»

সরল বঙ্গার্থ (মান ৭):
১. নিশ্চয় আমি এটি (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল ক্বদরে (মহিমান্বিত রজনীতে)।
২. আর কিসে আপনাকে জানাবে লাইলাতুল ক্বদর কী?
৩. লাইলাতুল ক্বদর এক হাজার মাসের চেয়েও অধিক শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাময়।
৪. সে রাতে ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরীল আ.) তাঁদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে সকল কল্যাণময় কাজের নির্দেশ নিয়ে অবতীর্ণ হন।
৫. শান্তিময় এই রাত, যা ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

(১) فسر قوله تعالى: “تنزل الملائكة والروح فيها باذن ربهم من كل امر” [আয়াতটির তাফসীর:] (মান ৪)
ইমাম কুরতুবী ও সুয়ূতী (রহ.) বলেন: ‘تَنَزَّلُ’ মূলত ‘تَتَنَزَّلُ’, অর্থাৎ এ রাতে ঝাঁকে ঝাঁকে ফেরেশতা আসমান থেকে জমিনে অবতরণ করতে থাকেন। ‘الرُّوحُ’ দ্বারা প্রধান ফেরেশতা জিবরীল (আ.)-কে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে (عطف الخاص على العام)। তাঁরা আল্লাহর অনুমতিক্রমে প্রতিটি কল্যাণময় তকদীর, বরকত ও মাগফিরাতের ফায়সালা নিয়ে আসেন। যে কোনো মুমিন বান্দা ইবাদতে মশগুল থাকে, ফেরেশতারা তার ওপর সালাম ও শান্তি বর্ষণ করেন।

(২) تحدث عن أهمية ليلة القدر بالإيجاز [লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব:] (মান ৪)
লাইলাতুল ক্বদর উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। এর গুরুত্ব অপরিসীম:
১. এ রাতে লাওহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে (বাইতুল ইযযাহ) পূর্ণাঙ্গ কুরআন এককালীন অবতীর্ণ হয়েছে।
২. এ রাতের ইবাদত এক হাজার মাস (৮৩ বছর ৪ মাস) অবিচ্ছিন্ন ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব ও মর্যাদাপূর্ণ।
৩. হাদীসে এসেছে: যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় ক্বদরের রাতে কিয়ামুল লাইল করবে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সকল সগীরা গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে (বুখারী ও মুসলিম)।


(ج) النص الثالث: سورة الليل

মূল পাঠ্য:
«وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ ﴿١﴾ وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّىٰ ﴿٢﴾ وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنثَىٰ ﴿٣﴾ إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّىٰ ﴿٤﴾ فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَاتَّقَىٰ ﴿٥﴾ وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَىٰ ﴿٦﴾ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٧﴾»

সরল বঙ্গার্থ (মান ৭):
১. শপথ রাতের যখন তা (দিবসের আলোকে) ঢেকে ফেলে,
২. শপথ দিনের যখন তা আলোকময় হয়ে প্রকাশিত হয়,
৩. এবং শপথ তাঁর যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন,
৪. নিশ্চয় তোমাদের প্রচেষ্টা ও কর্মপ্রয়াস বিচিত্র ধরনের,
৫. অতঃপর যে ব্যক্তি দান করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে,
৬. এবং সর্বোত্তম সত্যকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে,
৭. আমি অচিরেই তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব।

(১) اكتب مميزات الليل والنهار [রাত ও দিনের বৈশিষ্ট্যাবলি:] (মান ৪)
আল্লাহ তাআলা রাত ও দিনকে মানুষের পার্থিব ও আধ্যাত্মিক প্রয়োজনে সুষম ভারসাম্যপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন:
১. রাতের বৈশিষ্ট্য: রাত হলো নিস্তব্ধতা, বিশ্রামের আবরণ ও প্রশান্তির সময় («وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا»)। এটি মুমিন বান্দাদের জন্য নির্জনে তাহাজ্জুদ ও রোনাজারির মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সর্বোত্তম মুহূর্ত।
২. দিনের বৈশিষ্ট্য: দিন হলো জ্যোতির্ময়, কর্মমুখর ও জীবনযাত্রার সময় («وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا»)। মানুষ সূর্যের আলোয় বৈধ জীবিকা অন্বেষণ করে এবং সামাজিক ও বৈষয়িক কর্ম সম্পাদন করে। উভয়ের এই পর্যায়ক্রমিক আগমন-প্রস্থান আল্লাহর পরম কুদরতের নিদর্শন।

(২) حلل الكلمات الآتية: [শব্দগুলোর রূপতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:] (মান ৪)

  1. يَغْشَىٰ: مضارع معروف، واحد مذكر غائب; باب: ضَرَبَ يَضْرِبُ বা فَعِلَ يَفْعَلُ; مادة: غ – ش – ي; অর্থ: ঢেকে ফেলে, আচ্ছাদিত করে; جنس: معتل ناقص يائي।
  2. تَجَلَّىٰ: ماض معروف، واحد مذكر غائب; باب: التَّفَعُّل; مادة: ج – ل – و (جلو); অর্থ: প্রকাশিত হলো, সমুজ্জ্বল হলো; جنس: معتل ناقص واوي।
  3. لَشَتَّىٰ: اللام لام التوكيد; ‘شتى’ جمع شتيت; অর্থ: বিভিন্নমুখী, বিচিত্র প্রকারের; مادة: ش – ت – ت; جنس: صحيح مضاعف ثلاثي।
  4. اتَّقَىٰ: ماض معروف، واحد مذكر غائب; باب: الِافْتِعَال (মূলত اِوْتَقَى); مادة: و – ق – ي; অর্থ: ভয় করল, তাকওয়া অবলম্বন করল; جنس: معتل لفيف مفروق।

(د) النص الرابع: سورة الكافرون

মূল পাঠ্য:
«قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ ﴿٦﴾»

সরল বঙ্গার্থ (মান ৭):
১. বলুন: হে কাফেররা!
২. আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের তোমরা পূজা কর,
৩. এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি,
৪. আর আমি তাদের পূজক নই যাদের পূজা তোমরা করেছ,
৫. এবং তোমরাও তাঁর উপাসনাকারী নও যাঁর উপাসনা আমি করি,
৬. তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন।

(১) تحدث عن خلفية نزول هذه السورة [সূরাটির নাযিলের প্রেক্ষাপট:] (মান ৪)
ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন: কুরাইশ কাফেরদের কতিপয় নেতা—ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা, আস ইবনে ওয়ায়েল, উমাইয়া ইবনে খালাফ এবং আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে একটি আপস প্রস্তাব নিয়ে এলো। তারা বলল: “হে মুহাম্মদ! এসো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাই—আমরা এক বছর তোমার মাবুদের ইবাদত করব, আর তুমি এক বছর আমাদের দেবদেবী (লাত ও উযযা)-এর পূজা করবে। এতে যার ধর্ম সত্য হবে আমরা উভয়েই তার সুফল পাব।” কাফেরদের এই শিরকপূর্ণ আপস প্রস্তাবকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করে তাওহীদের অটল ঘোষণা হিসেবে আল্লাহ তাআলা এই সূরা নাযিল করেন।

(২) فسر الآية: “لكم دينكم ولى دين” [আয়াতটির তাফসীর:] (মান ৪)
ইমাম বুখারী ও ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন: এই আয়াতের অর্থ হলো তাওহীদ ও শিরকের মধ্যে কোনো ধরণের আপস হতে পারে না। «لَكُمْ دِينُكُمْ» অর্থ: তোমাদের শিরক, কুফর ও পথভ্রষ্টতার প্রতিফল তোমরা ভোগ করবে এবং এর জন্য তোমরাই দায়ী থাকবে। আর «وَلِيَ دِينِ» অর্থ: আমার তাওহীদ, ইসলাম ও একনিষ্ঠ ইবাদত আমার জন্য, যার পরম প্রতিদান আল্লাহ আমাকে দান করবেন। এটি কোনো কুফরের অনুমোদন নয়, বরং কুফর ও বাতিলের সাথে চিরতরে সম্পর্কচ্ছেদের এক ঐতিহাসিক চূড়ান্ত ঘোষণা (البراءة من الشرك)।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. তাজবীদুল কুরআন কোর্সের মূল লক্ষ্য কী?

ইসলামিক অ্যারাবিক ইউনিভার্সিটির অধীনে ফাজিল ১ম বর্ষের এই কোর্সের উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরআনকে বিশুদ্ধ মাখরাজ ও সিফাতসহ তিলাওয়াত করা, নির্বাচিত সূরা মুখস্থ রাখা এবং অর্থ ও তাফসীর অনুধাবন করা।

২. লাহনে জলী ও লাহনে খফীর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

লাহনে জলী হলো হরফ বা হরকত পরিবর্তনজনিত প্রকাশ্য ভুল যা অর্থ বিকৃত করে এবং তা করা সম্পূর্ণ হারাম। পক্ষান্তরে লাহনে খফী হলো গুন্নাহ বা মাদ্দ না করার মতো সূক্ষ্ম ভুল যা মাকরূহ।

৩. নূন সাকিন ও তানভীনের বিধান কয়টি ও কী কী?

নূন সাকিন ও তানভীনের প্রধান বিধান ৪টি: ইযহার (স্পষ্ট করা), ইদগাম (মিলিয়ে পড়া), ইক্বলাব (মীমে রূপান্তর করা) এবং ইখফা (নাকের বাঁশিতে গোপন করে পড়া)।

৪. আরবি বর্ণ ‘রা’ (ر) কখন তাফখীম বা মোটা করে পড়তে হয়?

‘রা’ হরফে যবর বা পেশ থাকলে, কিংবা ‘রা’ সাকিনের পূর্বের হরফে যবর বা পেশ থাকলে এবং অস্থায়ী যেরের পর ‘রা’ সাকিন হলে তা মোটা (তাফখীম) করে পড়তে হয়।

৫. সূরা আল-আসরের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কী?

সময়ের শপথ করে ঘোষণা করা হয়েছে যে মানবজাতি ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত; কেবল তারাই সফল যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।

৬. সূরা কাফিরূন নাযিলের মূল কারণ কী ছিল?

মক্কার কুরাইশ নেতাদের এক বছর প্রতিমা পূজা এবং এক বছর আল্লাহর ইবাদত করার যৌথ আপস প্রস্তাবকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করে তাওহীদের অটল ঘোষণা দিতে এই সূরা নাযিল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *