পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০২৮
اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
قواعد اللغة العربية-1
[আরবি ব্যাকরণ-১]
বিষয় কোড: ২০৪১০৭
الوقت—٤ ساعات | الدرجة الكاملة—٨٠
[সময়—৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান—৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجات— ٤ × ١٥ = ٦٠)
١- عَرِّفِ النَّحْوَ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا ثُمَّ بَيِّنْ تَارِيخَ نَشْأَةِ عِلْمِ النَّحْوِ وَوَجْهَ التَّسْمِيَةِ بِهِ-
[১. ইলমুন নাহু-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এ শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস এবং ‘নাহু’ নামকরণের কারণ বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
১. আভিধানিক অর্থ (النحو لغة): ‘নাহু’ (النحو) আরবি শব্দ। এর বহুবিধ আভিধানিক অর্থ রয়েছে। যেমন: (১) القصد (সংকল্প বা ইচ্ছা করা), (২) المثل (সাদৃশ্য বা অনুরূপ), (৩) الجهة (দিক বা অভিমুখ), (৪) المقدار (পরিমাণ)। আরবি শায়ের কবি বলেন: «قصدت نحوك» অর্থাৎ আমি তোমার অভিমুখী হয়েছি।
২. পারিভাষিক সংজ্ঞা (النحو اصطلاحًا): ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায়, ইলমুন নাহু এমন কিছু নিয়মনীতির সমষ্টি, যার সাহায্যে আরবি বাক্যে ব্যবহৃত শব্দসমূহের শেষ অক্ষরের অবস্থা (ই’রাব ও বেনা—পেশ, যবর, যের ও সাকিন) জানা যায় এবং একটি শব্দের সাথে অপর শব্দ মিলিয়ে বাক্য গঠনের বিশুদ্ধ পদ্ধতি অবগত হওয়া যায়। আল্লামা ইবনে মালিক (রহ.) বলেন: «علم بأصول يُعرف بها أحوال الكلم العربية مفردة ومركبة من حيث الإعراب والبناء»।
৩. ইলমুন নাহুর উৎপত্তি ও ইতিহাস (تاريخ نشأة علم النحو): ইসলামের প্রাথমিক যুগে সাহাবা ও তাবেয়ীগণের যুগে আরবরা স্বভাবগতভাবেই বিশুদ্ধ আরবি বলত। কিন্তু ইসলামের দ্রুত ভৌগোলিক প্রসারের ফলে পারস্য, রোম, সিরিয়া ও মিসরের অনারব (আজমী) মুসলিমরা ব্যাপকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে। ফলে অনারবদের সংমিশ্রণে বিশুদ্ধ আরবি উচ্চারণে ত্রুটি ও ব্যাকরণিক ভুল (لحن / লাহ্ন) দেখা দেয়। এমনকি কুরআনের আয়াত ভুল পড়ার মতো মারাত্মক সংকট তৈরি হয়।
এমতাবস্থায় আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই বিকৃতি রোধকল্পে প্রখ্যাত ভাষাবিদ হযরত আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (রহ.)-কে মৌলিক কিছু নীতিমালা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী হযরত আলী (রা.)-এর দিকনির্দেশনায় ইসম, ফেল ও হরফের প্রাথমিক রূপরেখা প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে ইমাম খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদী এবং তাঁর সুযোগ্য ছাত্র ইমাম সীবওয়াইহ (রহ.) বিখ্যাত ‘আল-কিতাব’ রচনার মাধ্যমে ইলমুন নাহুকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক শাস্ত্রে রূপ দেন।
৪. ‘নাহু’ নামকরণের কারণ (وجه التسمية): বর্ণিত আছে যে, হযরত আলী (রা.) যখন আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালীকে ব্যাকরণের খসড়া নির্দেশিকা লিখে দিয়ে বললেন: «انْحُ هَذَا النَّحْوَ» — “তুমি এই পদ্ধতি বা রীতি অনুসরণ করো।” হযরত আলী (রা.)-এর এই ঐতিহাসিক উক্তির বরকতেই এ শাস্ত্রের নাম ‘ইলমুন নাহু’ হিসেবে সুপ্রসিদ্ধি লাভ করে।
٢- مَا الْمُرَادُ بِالْمَدَارِسِ النَّحْوِيَّةِ؟ وَمَا هِيَ أَبْرَزُ الْفُرُوقَاتِ بَيْنَ مَدْرَسَتَيِ الْبَصْرَةِ وَالْكُوفَةِ فِي النَّحْوِ؟ بَيِّنْ مُوَضِّحًا-
[২. আরবি ব্যাকরণের মাজহাব বা ধারা (মাদারিসুন নাহবিয়্যাহ) বলতে কী বোঝায়? বসরা ও কুফা ব্যাকরণ ধারার মধ্যকার প্রধান প্রধান পার্থক্যসমূহ সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করো।]
১. মাদারিসুন নাহবিয়্যাহর পরিচয়: হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে ইরাকের দুটি প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক নগরী বসরা ও কুফাকে কেন্দ্র করে আরবি ব্যাকরণের গবেষণা ও নিয়মনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুটি স্বতন্ত্র ধারা বা স্কুলের উৎপত্তি হয়। ব্যাকরণিক নিয়মনীতি প্রণয়ন, প্রমাণের উৎস এবং কিয়াস ও সিমা’ ব্যবহারের তারতম্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই ধারাগুলোকেই ‘আল-মাদারিসুন নাহবিয়্যাহ’ বলা হয়।
২. বসরা ও কুফা ধারার প্রধান পার্থক্যসমূহ:
| তুলনার ক্ষেত্র | বসরা ধারা (مدرسة البصرة) | কুফা ধারা (مدرسة الكوفة) |
|---|---|---|
| ১. মূল দৃষ্টিভঙ্গি | যুক্তিভিত্তিক ও বিশুদ্ধতাবাদী (عقلية قياسية)। তারা কঠোর নিয়মের অনুসারী ছিলেন। | বর্ণনাভিত্তিক ও প্রয়োগবাদী (سماعية نقلية)। তারা প্রচলিত প্রয়োগকে বেশি প্রাধান্য দিতেন। |
| ২. দলীল গ্রহণের মানদণ্ড | মরুভূমির খাঁটি বেদুইন আরবি ছাড়া অন্য কোনো এলাকার আরবি তারা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতেন না। | শহুরে বা কিছুটা মিশ্র হলেও যেকোনো আরবি কবির একটিমাত্র ব্যতিক্রমী শায়ের পেলেই তাকে সূত্র মানতেন। |
| ৩. কিয়াসের শর্ত | কঠোর কিয়াসের পক্ষপাতী; কোনো ব্যতিক্রমী রূপ দেখলে তাকে ‘শায’ (شاذ) বা অপ্রমাণিত বলতেন। | কিয়াসের চেয়ে সিমা’কে গুরুত্ব দিতেন এবং ব্যতিক্রমী প্রয়োগের ভিত্তিতেও নতুন নতুন কায়েদা তৈরি করতেন। |
| ৪. পরিভাষাগত পার্থক্য | সিফাতকে ‘ন’আত’ (نعت), বদলকে ‘বদল’ বলতেন। | সিফাতকে ‘ন’আত’ ছাড়াও ‘সিফাত’ এবং বদলকে ‘তরজমা’ (ترجمة) বলতেন। |
| ৫. প্রধান ইমাম ও বিদ্বান | খলিল ইবনে আহমদ, সীবওয়াইহ, আল-মুবাররাদ, আল-আখফাশ। | আল-কিসাঈ, আল-ফাররা, সা’লাব, ইবনুস সিক্কীত। |
٣- كَمْ قِسْمًا لِلْأَسْمَاءِ الْمَبْنِيَّةِ؟ وَمَا هِيَ؟ اذْكُرْ أَقْسَامَ الضَّمِيرِ مُفَصَّلًا-
[৩. আসমায়ে মাবনিয়্যাহ কত প্রকার ও কী কী? সর্বনামের (যমীর) শ্রেণিবিভাগ বিস্তারিত উদাহরণসহ আলোচনা করো।]
১. আসমায়ে মাবনিয়্যাহর প্রকারভেদ: যে সকল ইসমের শেষ অক্ষরের অবস্থা কোনো আমেলের কারণে পরিবর্তিত হয় না বরং সর্বাবস্থায় অপরিবর্তিত থাকে, তাকে ইসমুল মাবনী বলে। মাবনী ইসম প্রধানত ৮ প্রকার:
- যমীর বা সর্বনাম (الضمائر): যেমন: أَنَا، هُوَ، نَحْنُ।
- ইসমে ইশারা (أسماء الإشارة): যেমন: هَذَا، هَذِهِ، ذَلِكَ।
- ইসমে মাওসুল (الأسماء الموصولة): যেমন: الَّذِي، الَّتِي، الَّذِينَ।
- ইসমে ফে’ল (أسماء الأفعال): যেমন: هَيْهَاتَ، صَهْ، آمِينَ।
- আসমাউল আসওয়াত (أسماء الأصوات): যেমন: غَاقِ (কাকের শব্দ), أُفٍّ।
- যরূফে মাবনিয়্যাহ (الظروف المبنية): যেমন: حَيْثُ، إِذْ، إِذَا، أَمْسِ، قَطُّ।
- ইসমে কিনায়াহ (أسماء الكنايات): যেমন: كَمْ، كَذَا، كَيْتَ وَذَيْتَ।
- মুরাক্কাবে বানায়ী বা সংখ্যা (المركب البنائي): যেমন: أَحَدَ عَشَرَ থেকে তিস’আতা আশারা (১১-১৯)।
২. যমীরের বিশদ শ্রেণিবিভাগ (أقسام الضمير): যমীর বা সর্বনাম মূলত দুই ভাগে বিভক্ত: বারিজ (بارز – যা লিখিত ও দৃশ্যমান) এবং মুসতাতীর (مستتر – যা উহ্য থাকে)। বারিজ যমীর পুনরায় দুই ভাগে বিভক্ত:
- ১. যমীরে মুত্তাসিল (الضمير المتصل): যা স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হতে পারে না, শব্দের সাথে লেগে থাকে। এটি ৩ প্রকার:
- মারফূ’ মুত্তাসিল: যেমন—كَتَبْتُ، كَتَبْنَا (তু, না হলো ফায়েল)।
- মানসূব মুত্তাসিল: যেমন—ضَرَبَنِي، ضَرَبَكَ (নী, কা হলো মাফ’উল)।
- মাজরুর মুত্তাসিল: যেমন—كِتَابِي، فِيهِ (ইয়া, হু হলো মুদাফ ইলাইহ বা মাজরুর)।
- ২. যমীরে মুনফাসিল (الضمير المنفصل): যা স্বাধীনভাবে একা উচ্চারিত হতে পারে। এটি ২ প্রকার:
- মারফূ’ মুনফাসিল (১২টি): هُوَ، هُمَا، هُمْ، هِيَ، هُمَا، هُنَّ، أَنْتَ، أَنْتُمَا، أَنْتُمْ، أَنْتِ، أَنْتُمَا، أَنْتُنَّ، أَنَا، نَحْنُ।
- মানসূব মুনফাসিল (১২টি): إِيَّاهُ، إِيَّاهُمَا، إِيَّاهُمْ… إِيَّايَ، إِيَّانَا (যেমন: إياك نعبد)।
٤- مَا الْأَسْمَاءُ الْمَرْفُوعَةُ؟ وَمَا هِيَ؟ اذْكُرْ كُلَّ قِسْمٍ بِالأَمْثِلَةِ-
[৪. আসমায়ে মারফূ’আহ কাকে বলে? মারফূ’আত কতটি ও কী কী? উদাহরণসহ প্রতিটি প্রকার বিস্তারিত লিখ।]
সংজ্ঞা: যে সকল ইসমে মূলগতভাবে রফ’ বা পেশ (الضمة) হওয়া আবশ্যকীয়, সেগুলোকে ‘আসমায়ে মারফূ’আহ’ বা মারফূ’আত বলা হয়।
মারফূ’আতের প্রকারভেদ: জমহুর নাহুবিদগণের মতে মারফূ’আত মোট ৮টি:
- ফায়েল (الفاعل): যার দ্বারা কোনো কাজ সম্পন্ন হয়। যেমন: قَامَ زَيْدٌ (এখানে যায়েদ ফায়েল হিসেবে মারফূ’)।
- নায়েবে ফায়েল (نائب الفاعل): মাযহুল বা কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার পরবর্তী পদ। যেমন: ضُرِبَ عَمْرٌو।
- মুবতাদা (المبتدأ): জুমলা ইসমিয়ার প্রারম্ভিক বিশেষ্য। যেমন: اللهُ رَبُّنَا (আল্লাহু মুবতাদা)।
- খবর (الخبر): মুবতাদা সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্য। যেমন: زَيْدٌ عَالِمٌ (আলিমুন হলো খবর)।
- ইন্না ও তার সমজাতীয় হরফের খবর (خبر إنّ وأخواتها): যেমন: إِنَّ اللهَ غَفُورٌ (গফূরুন ইন্নার খবর)।
- কানা ও তার সমজাতীয় ক্রিয়ার ইসম (اسم كان وأخواتها): যেমন: كَانَ اللهُ عَلِيمًا (আল্লাহু কানার ইসম)।
- ‘মা’ ও ‘লা’ মুশাব্বাহাতা বি-লাইসা-এর ইসম (اسم ما ولا المشبهتين بليس): যেমন: مَا زَيْدٌ قَائِمًا।
- তাওয়াবে’ লিল-মারফূ’ (توابع المرفوع): মারফূ’ পদের অনুগামী পদ (সিফাত, আতফ, তা’কীদ ও বদল)। যেমন: جَاءَ زَيْدٌ الْعَالِمُ (আল-আলিমু হলো সিফাত হিসেবে মারফূ’)।
٥- عَرِّفِ الْفَاعِلَ وَنَائِبَ الْفَاعِلِ ثُمَّ بَيِّنْ إِعْرَابَهُمَا وَأَحْكَامَهُمَا مِنْ حَيْثُ التَّذْكِيرِ وَالتَّأْنِيثِ وَالإِفْرَادِ وَالتَّثْنِيَةِ وَالْجَمْعِ مُمَثَّلًا وَمُوَضِّحًا-
[৫. ফায়েল ও নায়েবে ফায়েলের সংজ্ঞা দাও। এদের ই’রাব এবং লিঙ্গ ও বচনভেদে এদের প্রয়োগের বিধিনিষেধ উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করো।]
১. সংজ্ঞা:
- ফায়েল (الفاعل): এমন মারফূ’ ইসম, যার পূর্বে মারূফ (কর্তৃবাচ্য) ক্রিয়া থাকে এবং কাজটি সেই ইসম দ্বারা সংঘটিত হয়। যেমন: كَتَبَ التِّلْمِيذُ الرِّسَالَةَ।
- নায়েবে ফায়েল (نائب الفاعل): মাযহুল (কর্মবাচ্য) ক্রিয়ার কারণে যখন ফায়েলকে বিলুপ্ত করে মাফ’উলকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়, তাকে নায়েবে ফায়েল বলে। যেমন: كُتِبَتِ الرِّسَالَةُ।
২. ই’রাব: ফায়েল ও নায়েবে ফায়েল উভয়েই সর্বদা মারফূ’ (مرفوع) হয় (পেশ, আলিফ বা ওয়াও দ্বারা)।
৩. লিঙ্গ ও বচনের বিধানসমূহ (أحكام الفاعل):
- বচনের বিধান (الإفراد والتثنية والجمع): ফায়েল একবচন, দ্বিবচন বা বহুবচন যাই হোক না কেন, বাক্যের শুরুতে ক্রিয়াপদ (ফেল) সর্বদাই একবচন (مفرد) থাকবে। যেমন:
- একবচন: نَجَحَ الطَّالِبُ
- দ্বিবচন: نَجَحَ الطَّالِبَانِ (نجحা বলা যাবে না)
- বহুবচন: نَجَحَ الطُّلَّابُ (نجحوا বলা যাবে না)
- লিঙ্গের বিধান (التذكير والتأنيث):
- ওয়াজিব স্ত্রীলিঙ্গ: যদি ফায়েল প্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث حقيقي) হয় এবং ফেলের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে, তবে ফেলে তা’নীসের চিহ্ন আনা ওয়াজিব। যেমন: قَامَتْ هِنْدٌ।
- জায়েজ স্ত্রীলিঙ্গ: যদি ফায়েল অপ্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث مجازي) হয় অথবা ফেল ও ফায়েলের মাঝে অন্য শব্দ ব্যবধান সৃষ্টি করে, তবে ফেলে তা’নীসের চিহ্ন আনা বা না আনা উভয়ই জায়েজ। যেমন: طَلَعَتِ الشَّمْسُ অথবা طَلَعَ الشَّمْسُ।
٦- مَا الْحَالُ؟ وَمَا إِعْرَابُهُ؟ وَمَا الشُّرُوطُ الْوَاجِبُ تَوَفُّرُهَا فِي الْحَالِ؟ اذْكُرْ أَحْكَامَ الْحَالِ إِذَا كَانَ جُمْلَةً اسْمِيَّةً أَوْ فِعْلِيَّةً-
[৬. হাল কাকে বলে? এর ই’রাব এবং হাল হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় শর্তাবলি কী কী? জুমলা ইসমিয়া বা জুমলা ফে’লিয়া হাল হিসেবে আসার বিধান ব্যাখ্যা করো।]
১. হালের সংজ্ঞা ও ই’রাব: এমন মানসূব ইসম, যা ক্রিয়া সম্পাদনের সময় ফায়েল (কর্তা) বা মাফ’উল (কর্ম)-এর তাৎক্ষণিক অবস্থা বা হালত প্রকাশ করে, তাকে ‘হাল’ (الحال) বলে। যার অবস্থা বর্ণনা করা হয় তাকে ‘যুল হাল’ (ذو الحال) বলে। হালের ই’রাব সর্বদা মানসূব (منصوب)। যেমন: جَاءَ زَيْدٌ رَاكِبًا (যায়েদ আরোহী অবস্থায় আসল)।
২. হালের মূল শর্তাবলি:
- হাল সর্বদা অনির্দিষ্ট বা নাকেরা (نكرة) হতে হবে।
- যুল-হাল সর্বদা নির্দিষ্ট বা মারেফা (معرفة) হতে হবে।
- হাল সাধারণত মুশতাক্ব (مشتق) বা ইসমুল ফায়েল/মাফ’উল থেকে গঠিত হয়।
৩. জুমলা (বাক্য) হাল হিসেবে ব্যবহারের নিয়ম: হাল কোনো একক শব্দ না হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যও (জুমলা) হতে পারে:
- জুমলা ইসমিয়া হাল হলে: বাক্যটিকে যুল-হালের সাথে যুক্ত করতে একটি ‘ওয়াও হালিয়া’ (واو الحال) এবং যমীর আবশ্যক। যেমন: جَاءَ زَيْدٌ وَهُوَ يَبْتَسِمُ (যায়েদ হাসিমুখ অবস্থায় আসল)।
- জুমলা ফে’লিয়া হাল হলে:
- যদি ফে’লে মুজারে মুসবাত হয়, তবে কেবল যমীর দ্বারাই যুক্ত হয়, সাধারণত ওয়াও আসে না। যেমন: جَاءَ عَلِيٌّ يَضْحَكُ (আলী হাসতে হাসতে আসল)।
- যদি ফে’লে মাজি হয়, তবে তার পূর্বে ‘ক্বাদ’ (قد) এবং ‘ওয়াও’ যুক্ত করা আবশ্যক। যেমন: جَاءَ سَعِيدٌ وَقَدْ غَابَتِ الشَّمْسُ।
٧- مَا الإِضَافَةُ؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهَا؟ عَرِّفْ كُلَّ قِسْمٍ بِالأَمْثِلَةِ-
[৭. ইজাফত কাকে বলে? এটি কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা ও উদাহরণ বিস্তারিত লিখ।]
১. ইজাফতের সংজ্ঞা: দুটি বিশেষ্যের মধ্যে এমন অর্থগত বা শব্দগত সম্পর্ক স্থাপন করা, যার ফলে দ্বিতীয় বিশেষ্যটির কারণে প্রথম বিশেষ্যটি মারুফা বা নির্দিষ্ট রূপ লাভ করে এবং দ্বিতীয় বিশেষ্যটি স্থায়ীভাবে মাজরুর (যেরযুক্ত) হয়, তাকে ‘ইজাফত’ (الإضافة) বলে। প্রথম পদকে মুদাফ (مضاف) এবং দ্বিতীয় পদকে মুদাফ ইলাইহ (مضاف إليه) বলে। যেমন: كِتَابُ زَيْدٍ (যায়েদের কিতাব)।
২. ইজাফতের প্রকারভেদ: ইজাফত প্রধানত দুই প্রকার:
- ইজাফতে মানাবিয়্যাহ বা হাক্বিক্বিয়্যাহ (الإضافة المعنوية): যে ইজাফতের মাধ্যমে মুদাফ সরাসরি মুদাফ ইলাইহ থেকে তা’রীফ (নির্দিষ্টতা) অথবা তাখসীস (বিশেষত্ব) লাভ করে। এতে তিনটি হরফে জরের অর্থ উহ্য থাকে:
- লাম (اللام) অর্থে (মালিকানা): যেমন—غُلَامُ زَيْدٍ (যায়েদের গোলাম, অর্থাৎ غلام لزيد)।
- মিন (مِن) অর্থে (উপাদান): যেমন—خَاتَمُ فِضَّةٍ (রৌপ্যনির্মিত আংটি, অর্থাৎ خاتم من فضة)।
- ফী (في) অর্থে (স্থান/কাল): যেমন—صَلَاةُ اللَّيْلِ (রাতের নামাজ, অর্থাৎ صلاة في الليل)।
- ইজাফতে লাফযিয়্যাহ বা গাইরে হাক্বিক্বিয়্যাহ (الإضافة اللفظية): যখন মুদাফ কোনো সিফাতের শব্দ (ইসমুল ফায়েল, ইসমুল মাফ’উল বা সিফাতে মুশাব্বাহাহ) হয় এবং তা স্বীয় আমলকৃত শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়। এর উদ্দেশ্য কেবল উচ্চারণ সহজ ও হালকা করা। যেমন: ضَارِبُ زَيْدٍ (যায়েদকে প্রহারকারী), حَسَنُ الْوَجْهِ (সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট)।
٨- كَمْ حَرْفًا لِلْجَرِّ؟ بَيِّنْ أَسْمَاءَهَا بِالأَمْثِلَةِ-
[৮. হরফে জর কতটি? তাদের নাম ও অর্থপূর্ণ উদাহরণসহ বিশদ বিবরণ দাও।]
উত্তর: যে সকল অব্যয় কোনো ইসমের পূর্বে বসে উক্ত ইসমকে যের (جر) প্রদান করে, সেগুলোকে ‘হুরুফুল জর’ (حروف الجر) বলে। আল্লামা ইবনে মালিকের বিখ্যাত আলফিয়্যা অনুযায়ী হরফে জর মোট ১৭টি। প্রখ্যাত শায়ের মতে:
«هَاكَ حُرُوفَ الْجَرِّ وَهْيَ: مِنْ، إِلَى ۞ حَتَّى، خَلَا، حَاشَا، عَدَا، فِي، عَنْ، عَلَى ۞ مُذْ، مُنْذُ، رُبَّ، اللَّامُ، كَيْ، وَاوٌ، وَتَا ۞ وَالْكَافُ، وَالْبَاءُ، وَلَعَلَّ، وَمَتَى»
| হরফ | প্রধান অর্থ ও প্রয়োগ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ١. الْبَاءُ (بِـ) | সাহায্য/সংলগ্নতা (الإلصاق والاستعانة) | كَتَبْتُ بِالْقَلَمِ (কলম দ্বারা লিখলাম) |
| ٢. مِنْ | সূচনা বা শুরু (ابتداء الغاية) | سِرْتُ مِنَ الْبَصْرَةِ إِلَى الْكُوفَةِ |
| ٣. إِلَى | সমাপ্তি (انتهاء الغاية) | أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ |
| ٤. فِي | স্থান বা কাল পাত্রতা (الظرفية) | الْمَاءُ فِي الْكُوزِ (জগতে পানি আছে) |
| ٥. عَلَى | উপরিভাগে অবস্থান (الاستعلاء) | الْكِتَابُ عَلَى الْمَكْتَبِ (টেবিলের ওপর বই) |
| ٦. عَنْ | অতিক্রম বা দূরত্ব (المجاوزة) | رَمَيْتُ السَّهْمَ عَنِ الْقَوْسِ |
| ٧. اللَّامُ (لِـ) | মালিকানা বা কারণ (الملك والاختصاص) | الْحَمْدُ لِلَّهِ (যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর) |
| ٨. الْكَافُ (كَـ) | সাদৃশ্য প্রকাশ (التشبيه) | زَيْدٌ كَالْأَسَدِ (যায়েদ সিংহের ন্যায়) |
| ٩. حَتَّى | চরম সীমা (انتهاء الغاية) | سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ |
| ١٠. رُبَّ | স্বল্পতা বা আধিক্য (التقليل والتكثير) | رُبَّ أَخٍ لَمْ تَلِدْهُ أُمُّكَ (বহু এমন ভাই…) |
| ١١. مُذْ / مُنْذُ | সময়ের প্রারম্ভ (ابتداء الزمان) | مَا رَأَيْتُهُ مُنْذُ يَوْمَيْنِ |
| ١٢. وَاوُ الْقَسَمِ | কসম বা শপথ (القسم) | وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا |
| ١٣. تَاءُ الْقَسَمِ | আল্লাহর নামে শপথ (القسم بلفظ الجلالة) | تَاللهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُم |
| ١٤-١٦. خَلَا، عَدَا، حَاشَا | ব্যতিক্রম প্রকাশ (الاستثناء) | نَجَحَ الطُّلَّابُ خَلَا زَيْدٍ |
مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجات— ٤ × ٥ = ٢٠)
٩- اذْكُرْ مَوَاضِعَ تَقْدِيمِ الْخَبَرِ عَلَى الْمُبْتَدَأِ وُجُوبًا بِالأَمْثِلَةِ-
[৯. মুবতাদার পূর্বে খবরকে আবশ্যকীয়ভাবে (ওয়াজিবরূপে) আগে আনার স্থানসমূহ উদাহরণসহ লিখ।]
উত্তর: স্বাভাবিক নিয়মে মুবতাদা আগে এবং খবর পরে আসে। তবে নিম্নোক্ত ৪টি ক্ষেত্রে খবরকে মুবতাদার পূর্বে আনা ওয়াজিব:
- খবর যখন প্রশ্নবোধক শব্দ হয়: আসমাউল ইস্তিমফামের বাক্যের শুরুতে বসার অধিকার (صدر الكلام) রয়েছে। যেমন: أَيْنَ زَيْدٌ؟ (‘আইনা’ খবর মুকাদ্দাম)।
- মুবতাদাতে এমন যমীর থাকলে যা খবরের দিকে ফিরে: যেমন: فِي الدَّارِ صَاحِبُهَا (صاحبها-এর ‘হা’ জমির ‘ফিদ-দার’-এর দিকে ফিরেছে)।
- মুবতাদা অনির্দিষ্ট (নাকেরা) এবং খবর জার-মাজরুর হলে: যেমন: عِنْدِي كِتَابٌ، فِي الْمَسْجِدِ رَجُلٌ।
- খবরের মধ্যে অর্থকে সীমাবদ্ধ করা হলে (حصرا): যেমন: إِنَّمَا فِي الدَّارِ عَلِيٌّ।
١٠- مَا هِيَ الأَسْمَاءُ الْخَمْسَةُ؟ بَيِّنْ إِعْرَابَهَا مَعَ ذِكْرِ شُرُوطِهَا-
[১০. আসমায়ে খামসাহ কী কী? এদের ই’রাব এবং ই’রাব বিল-হরফ হওয়ার শর্তাবলি লিখ।]
১. আসমায়ে খামসাহর পরিচয়: আরবি ভাষার পাঁচটি বিশেষ ইসমকে ‘আসমায়ে খামসাহ’ বলা হয়। যথা: (১) أَبٌ (পিতা), (২) أَخٌ (ভাই), (৩) حَمٌ (শ্বশুর), (৪) فُـو (মুখ), (৫) ذُو (অধিকারী)।
২. এদের ই’রাব: এরা হরফের মাধ্যমে ই’রাব গ্রহণ করে:
- রফ’ অবস্থায় ওয়াও (و): যেমন—جَاءَ أَبُوكَ।
- নসব অবস্থায় আলিফ (ا): যেমন—رَأَيْتُ أَبَاكَ।
- জর অবস্থায় ইয়া (ي): যেমন—مَرَرْتُ بِأَبِيكَ।
৩. শর্তাবলি: এই বিশেষ ই’রাব পাওয়ার জন্য ৪টি শর্ত আবশ্যক: (১) একবচন (مفرد) হতে হবে, (২) মুকাব্বারা হতে হবে (তাসগীর নয়), (৩) ইজাফত হতে হবে এবং (৪) মুতাকাল্লিমের ‘ইয়া’ ছাড়া অন্য শব্দের দিকে ইজাফত হতে হবে (যেমন ‘আবী’ হলে হরকত বিল-হরফ হবে না)।
١١- مَا الْمَفْعُولُ الْمُطْلَقُ؟ اذْكُرْ أَنْوَاعَهُ مَعَ مِثَالٍ عَلَى كُلِّ نَوْعٍ-
[১১. মাফ’উলে মুতলাক্ব কাকে বলে? এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ লিখ।]
১. সংজ্ঞা: এমন মানসূব মাসদার, যা স্বীয় ফেলের অর্থের সমার্থক বা মূলধাতু থেকে গঠিত হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তাকে মাফ’উলে মুতলাক্ব বলে।
২. প্রকারভেদ: এটি প্রধানত ৩টি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়:
- তা’কীদ বা জোরদার করার জন্য (لتأكيد عامله): যেমন: ﴿وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَىٰ تَكْلِيمًا﴾।
- কাজের ধরন বা প্রকৃতি বর্ণনা করার জন্য (لبيان نوعه): যেমন: جَلَسْتُ جُلُوسَ الْعُلَمَاءِ (আমি আলেমদের বসার মতো বসলাম)।
- কাজের সংখ্যা প্রকাশের জন্য (لبيان عدده): যেমন: ضَرَبْتُ الْكَلْبَ ضَرْبَتَيْنِ (আমি কুকুরটিকে দুইবার প্রহার করলাম)।
١٢- عَرِّفِ التَّمْيِيزَ ثُمَّ بَيِّنْ أَنْوَاعَهُ مُمَثَّلًا-
[১২. তাময়ীযের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।]
১. সংজ্ঞা: এমন মানসূব নাকেরা ইসম, যা পূর্ববর্তী কোনো অস্পষ্ট শব্দ (যাত) বা বাক্যের (নিসবত) অস্পষ্টতা দূর করে অর্থ সুস্পষ্ট করে দেয়, তাকে ‘তাময়ীয’ (التمييز) বলে।
২. প্রকারভেদ: তাময়ীয প্রধানত ২ প্রকার:
- তাময়ীযে যাত বা মুফরাদ (تمييز المفرد / الذات): যা কোনো পরিমাপ, ওজন, ক্ষেত্রফল বা সংখ্যার অস্পষ্টতা দূর করে। যেমন: اشْتَرَيْتُ عِشْرِينَ كِتَابًا (এখানে ‘কিতাবান’ হলো বিশের অস্পষ্টতা দূরকারী তাময়ীয)।
- তাময়ীযে নিসবত বা জুমলা (تمييز النسبة / الجملة): যা সমগ্র বাক্যের সম্পর্কের মধ্যকার অস্পষ্টতা দূর করে। যেমন: ﴿وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا﴾ (বার্ধক্যে আমার মাথা শুভ্রতায় উদ্ভাসিত হয়েছে)।
١٣- مَا الاسْتِثْنَاءُ؟ وَمَا أَنْوَاعُهُ وَحُرُوفُهُ؟ بَيِّنْ بِالأَمْثِلَةِ-
[১৩. ইসতিসনা কাকে বলে? এর উপাদান ও প্রকারভেদ উদাহরণসহ স্পষ্ট করো।]
১. সংজ্ঞা ও উপাদান: الاستثناء হলো ‘ইল্লা’ (إلّا) বা তার সমজাতীয় হরফ দ্বারা কোনো ইসমকে পূর্ববর্তী বিধান থেকে খারিজ বা বাদ দেওয়া। এর ৩টি অংশ থাকে: মুসতাসনা মিনহু (مستثنى منه), আদাতুল ইসতিসনা (أداة الاستثناء), এবং মুসতাসনা (مستثنى)।
২. হরফসমূহ: إِلَّا، غَيْر، سِوَى، خَلَا، عَدَا، حَاشَا।
৩. প্রকারভেদ:
- তাম মুসবাত (تام موجب): মুসতাসনা মিনহু উল্লেখ থাকে এবং নেতিবাচক না হয়। এতে মুসতাসনা মানসূব হওয়া ওয়াজিব। যেমন: قَامَ الْقَوْمُ إِلَّا زَيْدًا।
- তাম মানফী (تام منفي): বাক্য নেতিবাচক এবং মুসতাসনা মিনহু আছে। এতে নসব বা বদল জায়েজ। যেমন: مَا قَامَ الْقَوْمُ إِلَّا زَيْدٌ / زَيْدًا।
- মুফাররাগ (مفرغ): মুসতাসনা মিনহু অনুপস্থিত থাকে; ফলে আমেল অনুযায়ী ই’রাব হয়। যেমন: مَا قَامَ إِلَّا زَيْدٌ (এখানে যায়েদ ফায়েল হিসেবে মারফূ’)।
١٤- مَا الْحُرُوفُ الْمُشَبَّهَةُ بِالْفِعْلِ؟ وَمَا عَمَلُهَا؟ بَيِّنْ بِالأَمْثِلَةِ-
[১৪. হুরুফে মুশাব্বাহাহ বিল-ফেল কয়টি ও কী কী? এদের আমল ও অর্থ উদাহরণসহ লিখ।]
উত্তর: ফে’লের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ৬টি হরফকে ‘হুরুফে মুশাব্বাহাহ বিল-ফেল’ বলা হয়। যথা: إِنَّ، أَنَّ، كَأَنَّ، لَكِنَّ، لَيْتَ، لَعَلَّ।
এদের আমল (عملها): এরা জুমলা ইসমিয়ার শুরুতে প্রবেশ করে মুবতাদাকে নসব (যবর) দিয়ে স্বীয় ইসম বানায় এবং খবরকে রফ’ (পেশ) দিয়ে স্বীয় খবর বানায়।
- إِنَّ / أَنَّ (নিশ্চয়তা): إِنَّ اللهَ عَلِيمٌ
- كَأَنَّ (সাদৃশ্য): كَأَنَّ الْعِلْمَ نُورٌ
- لَكِنَّ (সংশোধন): زَيْدٌ غَنِيٌّ لَكِنَّهُ بَخِيلٌ
- لَيْتَ (অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা): يَا لَيْتَ الشَّبَابَ يَعُودُ
- لَعَلَّ (সম্ভাবনা/প্রত্যাশা): لَعَلَّ الْفَرَجَ قَرِيبٌ
١٥- مَا الْمُرَادُ بِـ “كَانَ وَأَخَوَاتُهَا”؟ اذْكُرْ إِعْرَابَهَا-
[১৫. “কানা ও তার সমজাতীয় ক্রিয়া” বলতে কী বোঝায়? এদের আমল ও ই’রাব আলোচনা করো।]
উত্তর: এরা হলো ১৩টি অপূর্ণাঙ্গ ক্রিয়াপদ বা ‘আফ’আলে নাকিসাহ’ (الأفعال الناقصة)। যথা: كَانَ، أَصْبَحَ، أَضْحَى، ظَلَّ، أَمْسَى، بَاتَ، صَارَ، لَيْسَ، مَا زَالَ، مَا بَرِحَ، مَا فَتِئَ، مَا انْفَكَّ، مَا دَامَ।
আমল ও ই’রাব: এরা জুমলা ইসমিয়ার শুরুতে আসে। এরা মুবতাদাকে রফ’ (পেশ) দেয় এবং তাকে কানার ইসম (اسم كان) বলা হয়; এবং খবরকে নসব (যবর) দেয় যাকে কানার খবর (خبر كان) বলা হয়। যেমন: ﴿وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا﴾ (এখানে আল্লাহু মারফূ’ এবং গফূরান মানসূব)।
١٦- وَضِّحِ اسْتِخْدَامَ حُرُوفِ التَّحْضِيضِ وَحُرُوفِ الرَّدْعِ بِالأَمْثِلَةِ-
[১৬. হুরুফুত তাহদীদ (উৎসাহব্যঞ্জক অব্যয়) এবং হুরুফুর রাদ’ (ধমক বা নিবৃত্তিসূচক অব্যয়)-এর ব্যবহার উদাহরণসহ স্পষ্ট করো।]
১. হুরুফুত তাহদীদ (حروف التحضيض): কোনো কাজ করার জন্য তীব্র তাগিদ, উৎসাহ বা অনুরোধ বোঝাতে যে হরফগুলো ব্যবহৃত হয়। যথা: هَلَّا، أَلَّا، لَوْلَا، لَوْمَا। যেমন: ﴿لَوْلَا اسْتَغْفَرْتُمُ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾ (তোমরা কেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না?)।
২. হুরুফুর রাদ’ (حروف الردع): কাউকে কঠোরভাবে ধমক দিয়ে কোনো অন্যায় কাজ বা ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে বিরত রাখতে যে হরফ আসে। আরবিতে প্রধান রাদ’ অব্যয় হলো كَلَّا (কখনোই নয় / সাবধান!)। যেমন: ﴿كَلَّا سَيَعْلَمُونَ﴾ — “কখনোই নয়, তারা শীঘ্রই তা জানতে পারবে।”
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ-১ (২০৪১০৭) বিষয়ের পরীক্ষার নম্বর বণ্টন কেমন?
এ বিষয়ের পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং সময় ৪ ঘণ্টা। এতে দুটি বিভাগ থাকে: ক-বিভাগ থেকে ৪টি রচনামূলক ব্যাকরণ প্রশ্নের জন্য ৬০ নম্বর এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে।
২. বসরা ও কুফা ব্যাকরণ ধারার মূল বৈসাদৃশ্য কী?
বসরা ধারা ছিল যুক্তি ও কঠোর নিয়মতান্ত্রিক কিয়াসের অনুসারী; পক্ষান্তরে কুফা ধারা ছিল মানুষের প্রাত্যহিক ভাষা প্রয়োগ ও সিমা’কে বেশি গুরুত্ব প্রদানকারী উদার ধারা।
৩. আসমায়ে খামসাহর বিশেষ ই’রাব কী?
আসমায়ে খামসাহ (আবুন, আখুন ইত্যাদি) রফ’ অবস্থায় ওয়াও, নসব অবস্থায় আলিফ এবং যের অবস্থায় ইয়া দ্বারা ই’রাব গ্রহণ করে।
৪. কানার আমল ও ইন্নার আমলের মৌলিক পার্থক্য কী?
কানা মুবতাদাকে পেশ (মারফূ’) এবং খবরকে যবর (মানসূব) দেয়; অন্যদিকে ইন্না মুবতাদাকে যবর (মানসূব) এবং খবরকে পেশ (মারফূ’) প্রদান করে।
৫. মাফ’উলে মুতলাক্ব চেনার প্রধান উপায় কী?
বাক্যের মূল ক্রিয়াপদ বা ফেলের সমার্থক কোনো মাসদার যখন একই বাক্যে জোরদান, প্রকারভেদ বা সংখ্যা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে মাফ’উলে মুতলাক্ব বলে।
৬. আরবি ব্যাকরণ শেখার প্রধান উদ্দেশ্য কী?
পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও সঠিক অর্থ অনুধাবন করা এবং আরবি ভাষায় কথা বলা ও লেখার ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ভুল থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা।

