পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০২৫
اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ٢٠٢٠
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
اللغة العربية وآدابها [আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
الدراسات البنغلاديشية [বাংলাদেশ স্টাডিজ]
বিষয় কোড: ২০৪১০৪
الزمن—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة—٨٠ [পূর্ণমান—৮০]
[الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)]
[দ্রষ্টব্য : (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
কোর্স ও পরীক্ষা পরিচিতি
| বিশ্ববিদ্যালয় | ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (Islamic Arabic University – IAU) |
|---|---|
| ডিগ্রি ও বর্ষ | ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (Fazil BA Honours 1st Year) |
| বিভাগ | আরবি ভাষা ও সাহিত্য (Department of Arabic Language & Literature) |
| বিষয়ের নাম | বাংলাদেশ স্টাডিজ (الدراسات البنغلاديشية – Bangladesh Studies) |
| বিষয় কোড | ২০৪১০৪ (204104) |
| পরীক্ষার সন | ২০২০ (অনুষ্ঠিত ২০২১/২০২২) |
| সময় ও পূর্ণমান | ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০ নম্বর |
| নম্বর বণ্টন | مجموعة (أ) [বিভাগ ‘ক’]: ৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর | مجموعة (ب) [বিভাগ ‘খ’]: ৪ × ৫ = ২০ নম্বর |
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০-এর আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ (বিষয় কোড: ২০৪১০৪) কোর্সের সকল রচনামূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের প্রাতিষ্ঠানিক মানসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিচে উপস্থাপিত হলো।
مجموعة (أ) : বিভাগ ‘ক’ (রচনামূলক প্রশ্ন)
الدرجات: ٤ × ١٥ = ٦٠
[الملاحظة: أجب عن أربعة من الأسئلة التالية / নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
১- تحدث عن دور حركة اللغة فى استقلال بنغلاديش- [বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা কর।]
ভূমিকা: ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার নিছক কোনো আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তিপ্রস্তর এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সূতিকাগার। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানি কলোনিয়াল শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, তার বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম সুসংগঠিত সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী জাতীয় প্রতিরোধই ছিল বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারি।
১. দ্বিজাতিতত্ত্বের অসাড়তা প্রমাণ ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের বিকাশ: ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও দ্বিজাতিতত্ত্ব যে ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূগোলের বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারে না, তা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার অমোঘ উন্মেষ ঘটে।
২. ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের রাজনৈতিক জাগরণ: ভাষা আন্দোলন তৎকালীন সচেতন ছাত্রসমাজকে নির্ভীক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণার বিরুদ্ধে ছাত্রদের দৃপ্ত “No, No” উচ্চারণ এবং পরবর্তী সময়ে তমদ্দুন মজলিস ও সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে।
৩. রক্তদান ও আত্মমর্যাদাবোধের দীক্ষা: ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে মিছিল বের হলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন। এই তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করার চরম মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস লাভ করে, যা মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের মূল চালিকাশক্তি ছিল।
৪. পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনের মাইলফলকসমূহ:
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফাই ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের চরম ভরাডুবি ঘটে।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে স্বীকৃতি: রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও ১৯৬৬-এর ৬-দফা: ভাষা আন্দোলনের আত্মমর্যাদাবোধ বাঙালিকে আইয়ুব খানের শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলনে এবং ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচন: একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটায় এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ঐতিহাসিক নিরঙ্কুশ বিজয় উপহার দেয়।
৫. একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ: একুশের রক্তের শপথই ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতের পর নিরস্ত্র বাঙালিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রূপ দান করেছিল। একুশের অমর গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” রণক্ষেত্রের প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
উপসংহার: বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি রোপিত স্বাধিকারের বীজ একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বরের বিজয়ের মাধ্যমে মহীরুহে পরিণত হয়েছিল। তাই ভাষা আন্দোলনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ ও প্রধান ভিত্তিপ্রস্তর।
২- تحدث عن أهمية النقل البرى فى التنمية الاقتصادية لبنغلاديش- [বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সড়ক পরিবহনের গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ভূমিকা: আধুনিক যুগে যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং সুষম উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো তার যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীপথ ও রেলপথের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন বা স্থল যোগাযোগ ব্যবস্থা (Road Transport System) জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
১. পণ্য ও কৃষিজাত সামগ্রী বাজারজাতকরণ: বাংলাদেশ মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, হাঁস-মুরগি এবং দুগ্ধজাত পণ্য দ্রুততম সময়ে জেলা সদর ও রাজধানী ঢাকাসহ প্রধান প্রধান নগরকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র দ্রুত মাধ্যম হলো সড়ক পরিবহন। উন্নত সড়ক ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাচ্ছে।
২. শিল্প খাতের কাঁচামাল ও রফতানি পণ্যের দ্রুত সরবরাহ: তৈরি পোশাক (RMG), ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং ভারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য চট্রগ্রাম বা মোংলা সমুদ্রবন্দরে প্রেরণের প্রায় ৮০ শতাংশই সড়ক পরিবহনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক এবং পদ্মা সেতু দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করেছে।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন: সড়ক পরিবহন খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দিয়েছে। চালক, হেলপার, গ্যারেজ মেকানিক, গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রেতা থেকে শুরু করে মহাসড়কের পাশের হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ফিলিং স্টেশনসমূহে বিপুল সংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে, যা জাতীয় দারিদ্র্য বিমোচনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।
৪. আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়ন: অতীতে যমুনা ও পদ্মা নদীর কারণে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল রাজধানী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু এবং ঐতিহাসিক পদ্মা সেতু চালুর ফলে দেশের সমগ্র স্থল যোগাযোগ একীভূত হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে নতুন নতুন ইপিজেড ও শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হচ্ছে।
৫. অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ: সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নত হওয়ায় কক্সবাজার, সিলেট, কুয়াকাটা, সুন্দরবন ও পার্বত্য জেলাসমূহে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের যাতায়াত বহুগুণ বেড়েছে। ফলে হোটেল, মোটেল ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) বিকশিত হয়ে বিপুল রাজস্ব আয় হচ্ছে।
উপসংহার: সড়ক পরিবহন কেবল যান চলাচলের মাধ্যম নয়, বরং এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির শক্তিশালী অনুঘটক। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার এবং চার/ছয় লেনের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।
৩- اكتب مقالة حول “قضية مؤامرة اغورتلا وصديق البنغال”- [“আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক একটি প্রবন্ধ লিখ।]
ভূমিকা: ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক সামরিক জান্তা কর্তৃক বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করার এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসি দেওয়ার এক চরম ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। তবে বাঙালির অবিস্মরণীয় গণপ্রতিরোধের মুখে এই মামলা বুমেরাং হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমেই শেখ মুজিবুর রহমান লাভ করেন জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’।
১. মামলার প্রেক্ষাপট ও আনুষ্ঠানিক বিবরণ: ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা ঘোষণা করলে তা দাবানলের মতো পূর্ব বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে শঙ্কিত হয়ে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক বাঙালি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে। মামলার অফিশিয়াল নাম দেওয়া হয়েছিল “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য” (State vs. Sheikh Mujibur Rahman and others), যা ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে কুখ্যাত।
২. মামলার মূল অভিযোগ: পাকিস্তানি জান্তার অভিযোগ ছিল যে, আসামিরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে গোপন বৈঠক করে ভারতীয় সহায়তায় সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৯৬৮ সালের ১৮ই জানুয়ারি শেখ মুজিবকে মুক্তি দিয়ে জেলগেটেই পুনরায় গ্রেফতার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অত্যন্ত গোপনে বন্দি রাখা হয়।
৩. বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার ও জনরোষ: কুর্মিটোলা সেনানিবাসে কড়া সামরিক পাহারায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে এগিয়ে আসেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ আইনবিদ স্যার টমাস উইলিয়ামস এবং এদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। বিচার চলাকালীন সরকারের বানোয়াট সাক্ষ্য ও রাজসাক্ষীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের চিত্র ফাঁস হয়ে পড়লে বাংলার ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
৪. সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ড. শামসুজ্জোহার শাহাদাত: ১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় মামলার ১৭ নম্বর আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে হত্যা করে। ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই দুই শাহাদাতের ঘটনায় পূর্ব বাংলা বারুদের মতো জ্বলে ওঠে।
৫. ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান: সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। মাওলানা ভাসানী, ছাত্রসমাজ ও মেহনতি মানুষ রাজপথে নেমে এলে আইয়ুবের কারফিউ ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন।
৬. ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভ: ঐতিহাসিক বিজয়ের পরদিন, ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আয়োজিত লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল গণসংবর্ধনায় ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ (বাংলার বন্ধু) উপাধিতে ভূষিত করেন।
উপসংহার: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা আইয়ুব খানের রাজনৈতিক সমাধি রচনা করেছিল এবং বাঙালিকে প্রত্যক্ষ স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছিল। এর ফলে বঙ্গবন্ধু পরিণত হন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা ও মুক্তির প্রতীকে।
৪- تحدث عن خطبة ٧ مارس وأثرها على نضال بنغلاديش من أجل الاستقلال- [৭ই মার্চের ভাষণ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ। এটি ছিল কোনো লিখিত পান্ডুলিপি ছাড়া প্রদত্ত একটি কালজয়ী মহাকাব্য, যা ২০১৭ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়ে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (World Documentary Heritage) হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
১. ভাষণের ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭ আসন) লাভ করা সত্ত্বেও পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করেন। ১লা মার্চ ১৯৭১ সালে নির্ধারিত জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আকস্মিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হলে পূর্ব বাংলায় অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২. ভাষণের মূল বিষয়বস্তু ও দিকনির্দেশনা:
- বাঙালির ঐতিহাসিক বঞ্চনার চিত্র: বঙ্গবন্ধু গত ২৩ বছরের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস এবং গণতান্ত্রিক রায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর সামরিক জুলুমের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
- চার দফা পূর্বশর্ত: অবিলম্বে সামরিক আইন (Martial Law) প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত করা এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- প্রশাসনিক ও আর্থিক নির্দেশনা: খাজনা, ট্যাক্স বন্ধ রাখা, ব্যাংক ও অফিস পরিচালনার রূপরেখা দিয়ে কার্যত গোটা পূর্ব বাংলার বেসামরিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে তুলে নেন।
- সর্বাত্মক যুদ্ধের রণকৌশল: “তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।” — এই নির্দেশে গেরিলা যুদ্ধের সামরিক রণকৌশল সুনির্দিষ্ট করা হয়।
৩. স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব:
- স্বাধীনতার অঘোষিত বার্তা: ভাষণের চূড়ান্ত পর্বে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” ছিল স্বাধীনতার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা। এর মাধ্যমে সাড়ে সাত কোটি মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত আদেশ পেয়ে যায়।
- গেরিলা যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি: এই ভাষণের পর গ্রাম-মহল্লায় সংগ্রাম পরিষদ ও প্রতিরোধ কমিটি গড়ে ওঠে। সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্ররা বাঁশের লাঠি ও রাইফেল নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে।
- আন্তর্জাতিক সমর্থন ও নৈতিক বৈধতা: বঙ্গবন্ধু বিচ্ছিন্নতাবাদী বা বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত না হয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করেন।
উপসংহার: ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির মুক্তির চূড়ান্ত দিকদর্শন। এই ১৮ মিনিটের সম্মোহনী বাণীই ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বীর বাঙালিদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে অনন্ত প্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছিল।
৫- تحدث عن نشأة المدارس الإسلامية العالية (الحكومية) وتطورها فى بنغلاديش- [বাংলাদেশে আলিয়া মাদরাসার সূচনা ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।]
ভূমিকা: বাংলাদেশে ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারার এক সুদীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। ১৭৮০ সালে ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারতে সূচিত হওয়া এই ধারাটি বিবর্তনের নানা ধাপ পেরিয়ে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
১. সূচনা—কলকাতা আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা (১৭৮০ খ্রি.): ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে মুসলিম শাসনের অবসানের পর মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তৎকালীন মুসলিম গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাবির প্রেক্ষিতে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮০ সালের অক্টোবর মাসে সরকারি অর্থায়নে ‘কলকাতা আলিয়া মাদরাসা’ (Calcutta Madrasah) প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে আরবি, ফারসি, ইসলামী ফিকহ ও বিচারিক আইনের পাঠদান হলেও এটিই ছিল উপমহাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক আলিয়া শিক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা।
২. কারিকুলাম সংস্কার ও আধুনিকীকরণ (উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী):
- ১৮৭১ সালে লর্ড মেয়োর উদ্যোগে এবং ১৮৮২ সালের হান্টার কমিশনের সুপারিশে মাদরাসায় ইংরেজি ও আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৯১৪ সালে শামসুল ওলামা আবু নসর ওহীদ-এর নেতৃত্বে ‘নিউ স্কিম’ (New Scheme) মাদরাসা ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়, যার মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সাধারণ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়।
- ১৯২৭ সালে ‘ওল্ড স্কিম’ কারিকুলামকে ঢেলে সাজিয়ে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরবিন্যাস প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
৩. ১৯৪৭-এর দেশভাগ ও ঢাকায় আলিয়া মাদরাসার স্থানান্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর কলকাতা আলিয়া মাদরাসার লাইব্রেরির কিতাব ও সম্পদ নিয়ে মাদরাসাটি ঢাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং ‘ঢাকা আলিয়া মাদরাসা’ (সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়।
৪. পাকিস্তান আমল ও শিক্ষা কমিশনের সুপারিশসমূহ: ১৯৪৯ সালের মওলানা আকরাম খাঁ শিক্ষা কমিটি এবং ১৯৫৯ সালের শরীফ শিক্ষা কমিশন মাদরাসা শিক্ষাকে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে আধুনিকায়নের সুপারিশ করে। এ সময় সারাদেশে অসংখ্য বেসরকারি ফাজিল ও কামিল মাদরাসা গড়ে ওঠে।
৫. স্বাধীন বাংলাদেশে আলিয়া শিক্ষার ক্রমবিকাশ ও সংস্কার:
- মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন: ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
- সাধারণ শিক্ষার সমমান অর্জন: ১৯৯০-এর দশকে দাখিলকে এসএসসি (SSC) এবং আলিমকে এইচএসসি (HSC)-র সাধারণ সমমান প্রদান করা হয়।
- ফাজিল ও কামিল স্তরের আধুনিকায়ন: ২০০৬ সালে ফাজিলকে ডিগ্রি (পাস) এবং কামিলকে মাস্টার্স সমমান প্রদান করে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।
- ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (২০১৩ খ্রি.): মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ২০১৩ সালে রাজধানী ঢাকায় ‘ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়’ (IAU) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান/পাস) ও কামিল স্নাতকোত্তর কোর্সগুলো আন্তর্জাতিক মানে পরিচালিত হচ্ছে।
উপসংহার: বর্তমানে বাংলাদেশে আলিয়া মাদরাসাগুলো যুগোপযোগী ধর্মীয় জ্ঞানের সাথে সাথে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সমন্বয়ে সুনাগরিক গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে।
৬- بين برنامج النقاط-٦ لعام ١٩٦٦- واشرح تأثيرها على حركة الاستقلال فى بنغلاديش- [১৯৬৬ সালের ৬-দফা কর্মসূচির বর্ণনা কর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে এর প্রভাব ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা: ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের শোষিত-নিপীড়িত বাঙালি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক ঐতিহাসিক সনদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত এই কর্মসূচিকে যথাযথভাবেই ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ (Magna Carta) বলা হয়, যা স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ মোহনায় প্রবাহিত করেছিল।
১. ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ: ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু এই ঐতিহাসিক ৬-দফা পেশ করেন:
- দফা-১ (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি): ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকারের ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকারে আইনসভা গঠিত হবে।
- দফা-২ (কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা): কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল দুটি বিষয় থাকবে—দেশরক্ষা (Defence) ও পররাষ্ট্র নীতি (Foreign Affairs)। অবশিষ্ট সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্রসমূহের (প্রদেশগুলোর) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- দফা-৩ (মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা): সমগ্র দেশের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে; অথবা সমগ্র দেশের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন সুনির্দিষ্ট বিধান রাখতে হবে যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচার হতে না পারে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- দফা-৪ (রাজস্ব ও কর ধার্যের ক্ষমতা): সকল প্রকার ট্যাক্স, কর ও রাজস্ব ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। ধার্যকৃত করের নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা হবে।
- দফা-৫ (বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা): অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের বৈদেশিক বাণিজ্যের হিসাব আলাদাভাবে পরিচালনা করবে। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পূর্ণ মালিকানা থাকবে প্রদেশের এবং প্রাদেশিক সরকার স্বাধীনভাবে বিদেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি ও প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারবে।
- দফা-৬ (আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা): আঞ্চলিক সংহতি ও অভ্যন্তরীণ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে প্রদেশগুলোকে আধা-সামরিক বাহিনী (যেমন—প্যারা-মিলিটারি বা মিলিশিয়া) গঠনের পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা দিতে হবে।
২. স্বাধীনতা আন্দোলনে ৬-দফার সুদূরপ্রসারী প্রভাব:
- বাঙালির রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তি: ৬-দফা ঘোষণার ফলে বাঙালি মধ্যবিত্ত, ছাত্র, কৃষক ও শ্রমিক সমাজ তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার মূল কারণ ও মুক্তির সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজে পায়।
- স্বৈরাচারী আইয়ুবের পতন ও গণঅভ্যুত্থান: ৬-দফাকে নস্যাৎ করতে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে আগরতলা মামলা দায়ের করলে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে গণরায়: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল কার্যত ৬-দফার ওপর গণভোট। আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ৬-দফার পক্ষে রায় দিয়েছে।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ভিত্তি: পাকিস্তানি জান্তা ৬-দফা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। অতএব, ৬-দফার যৌক্তিক পরিণতিই ছিল ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ।
উপসংহার: ৬-দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা থেকে বের করে জাতীয় ঐক্যের শপথে বলীয়ান করেছিল। এটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বাস্তব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিপ্রস্তর।
مجموعة (ب) : বিভাগ ‘খ’ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)
الدرجات: ٤ × ٥ = ٢٠
[সংক্ষেপে নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও / أجب عن أربعة من الأسئلة التالية بالاختصار]
৭- تحدث عن مساهمة المرأة فى حرب تحرير بنغلاديش- [বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান আলোচনা কর।]
উত্তর: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের নারীদের আত্মত্যাগ ও অবদান ছিল অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল। পুরুষদের পাশাপাশি নারী সমাজও রণাঙ্গনে ও নেপথ্যে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
- সশস্ত্র প্রতিরোধ ও প্রত্যক্ষ লড়াই: বহু নারী সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেছেন। এদের মধ্যে ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবিকে তাঁদের অনন্য বীরত্বের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। শিরিন বানু মিতিল, কাঁকন বিবি প্রমুখ গেরিলা যোদ্ধার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
- চিকিৎসা সেবা ও সেবিকা হিসেবে অবদান: যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় ডা. সেতারা বেগম পরিচালিত ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’-এ অসংখ্য নারী নার্স ও স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত সেবা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়েছেন।
- তথ্য আদান-প্রদান ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা: নারীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রেশনের খাবার পৌঁছে দিতেন এবং পাকিস্তানি হানাদারদের অবস্থান সম্পর্কিত গুপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন।
- চরম আত্মত্যাগ ও সম্ভ্রম বিসর্জন: পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ মা-বোন পাশবিক নির্যাতন ও চরম সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তাঁদের এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু তাঁদের ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
নারীদের এই আত্মত্যাগ ছাড়া একাত্তরের মহান স্বাধীনতা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।
৮- اكتب أهمية الزراعة فى اقتصاد بنغلاديش- [বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব সম্পর্কে লিখ।]
উত্তর: বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী নদীমাতৃক কৃষিপ্রধান দেশ। জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত মৌলিক ও বহুমুখী:
- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির জোগান দেওয়ার মূল উৎস হলো এদেশের কৃষি খাত। চাল, গম, শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থান অধিকারী।
- জিডিপিতে অবদান: জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে (GDP) কৃষি খাতের প্রত্যক্ষ অবদান প্রায় ১১-১২ শতাংশ।
- ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশ শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের (ফসল, মৎস্য, গবাদিপশু ও বনজ সম্পদ) সাথে জড়িত।
- শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: পাটকল, টেক্সটাইল মিল, চিনি কল, চামড়াজাত শিল্প এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য (Agro-processing) শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কৃষি থেকেই সরবরাহ করা হয়।
- বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত চিংড়ি, প্রক্রিয়াজাত মাছ, চা, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কাঁচা শাকসবজি রফতানি করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
৯- ما هو المقصود بالسلطة التنفيذية والسلطة القضائية- [নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ বলতে কী বুঝায়?]
উত্তর: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা তিনটি প্রধান অঙ্গ বা বিভাগের ওপর প্রতিষ্ঠিত—আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ।
- ১. নির্বাহী বিভাগ (Executive Branch / السلطة التنفيذية): যে বিভাগ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের দৈনন্দিন শাসনকার্য পরিচালনা করে, দেশের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং আইনসভার পাস করা আইনসমূহ বাস্তবে কার্যকর করে, তাকে নির্বাহী বা শাসন বিভাগ বলে। বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগের শীর্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা, সচিবালয় এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই বিভাগের মূল চালিকাশক্তি।
- ২. বিচার বিভাগ (Judiciary / السلطة القضائية): রাষ্ট্রের যে বিভাগ আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করে, সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করে, তাকে বিচার বিভাগ বলে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত হলো ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ) এবং এর অধীনে বিভিন্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ অধস্তন আদালতসমূহ কাজ করে। সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
১০- عرف بعض الأنهار المشهورة فى بنغلاديش- [বাংলাদেশের কয়েকটি প্রসিদ্ধ নদীর পরিচয় দাও।]
উত্তর: বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম সক্রিয় বদ্বীপ রাষ্ট্র, যা শত শত নদী ও উপনদী দ্বারা জালের মতো পরিবেষ্টিত। নিচে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান কয়েকটি প্রসিদ্ধ নদীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:
- পদ্মা (Padma): ভারতের গঙ্গা নদী রাজশাহী জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ‘পদ্মা’ নাম ধারণ করেছে। গোয়ালন্দে এটি যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে এবং চাঁদপুরে মেঘনার সাথে যুক্ত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এটি দেশের অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘতম নদী।
- মেঘনা (Meghna): আসামের বরাক নদী সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পরবর্তীতে মিলিত হয়ে কালনী ও মেঘনা নাম ধারণ করে। এটি বাংলাদেশের গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী, যা বিপুল জলরাশি সাগরে নিয়ে যায়।
- যমুনা (Jamuna): তিব্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে জামালপুরের বাহাদুরাবাদের পর প্রধান প্রবাহটি ‘যমুনা’ নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দে পদ্মায় মিশেছে। এর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার মাইলফলক।
- কর্ণফুলী (Karnafuli): ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম শহরের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এর মোহনায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত এবং কাপ্তাইয়ে রয়েছে একমাত্র পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
১১- أذكر بعض الخطوات المتوقعة لمقاومة الفساد الإدارى فى بنغلاديش- [বাংলাদেশের প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনের সম্ভাব্য কয়েকটি পদক্ষেপ আলোচনা কর।]
উত্তর: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক দুর্নীতি দমন অপরিহার্য। দুর্নীতি দমনে কার্যকর সম্ভাব্য পদক্ষেপসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
- দুদক (ACC)-কে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও কার্যকর করা: দুর্নীতি দমন কমিশনকে (Anti-Corruption Commission) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ প্রদান করা।
- প্রশাসনে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন ও ই-গভর্ন্যান্স: সরকারি সেবাসমূহ (যেমন—ই-পাসপোর্ট, অনলাইন ভূমি রেজিস্ট্রি, ই-টেন্ডারিং বা ই-জিপি) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নাগরিকদের সরাসরি আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয় এবং স্বচ্ছতা বাড়ে।
- আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল: দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বিবেচনা না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা।
- তথ্য অধিকার আইনের (RTI) কার্যকর বাস্তবায়ন: সরকারি সব সিদ্ধান্ত, বাজেট বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের হিসাব জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা।
- ন্যায্য বেতন কাঠামো ও প্রণোদনা: বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্মানজনক বেতন-ভাতা প্রদান করা এবং সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত করা।
- নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা: প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সততা, নৈতিক শিক্ষা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি জোরদার করা।
১২- اكتب فقرة وجيزة حول “الكثافة السكانية فى بنغلاديش”- [“বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব” সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ লিখ।]
উত্তর: বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব (Population Density of Bangladesh):
জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে একটি দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার আয়তনে গড়ে কতজন লোক বাস করে তাকে বোঝায়। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল এবং ক্ষুদ্র ভৌগোলিক আয়তনবিশিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্বের দেশ (ক্ষুদ্র নগর-রাষ্ট্রসমূহ ব্যতিরেকে)। সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ১,১১9 জন। সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ঘনত্বের ফলে কৃষি জমি হ্রাস, বন উজাড়, তীব্র আবাসন সংকট, পরিবেশ দূষণ এবং বেকারত্বের মতো নানাবিধ আর্থ-সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় পরিবার পরিকল্পনা জোরদারকরণ, গ্রামীণ অর্থনীতির আধুনিকায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনসংখ্যাকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে ‘দক্ষ মানবসম্পদে’ (Human Capital) রূপান্তর করা জরুরি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ফাজিল ১ম বর্ষ বাংলাদেশ স্টাডিজ (২০৪১০৪) পরীক্ষা ২০২০-এর পূর্ণমান ও সময় কত ছিল?
উত্তর: পরীক্ষাটির পূর্ণমান ছিল ৮০ নম্বর এবং নির্ধারিত সময় ছিল ৪ ঘণ্টা।
প্রশ্ন ২: বাংলাদেশ স্টাডিজ প্রশ্নপত্রে রচনামূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের নম্বর বণ্টন কেমন?
উত্তর: বিভাগ ‘ক’ (রচনামূলক প্রশ্ন)-এ ৬টি প্রশ্নের মধ্যে ৪টির উত্তর দিতে হয় (৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর) এবং বিভাগ ‘খ’ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)-এ ৬টি প্রশ্নের মধ্যে ৪টির উত্তর দিতে হয় (৪ × ৫ = ২০ নম্বর)।
প্রশ্ন ৩: ৬-দফা কর্মসূচি কবে এবং কার দ্বারা ঘোষিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের সর্বদলীয় জাতীয় সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন ৪: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সরকারি নাম কী ছিল এবং এতে প্রধান আসামি কে ছিলেন?
উত্তর: মামলার অফিশিয়াল নাম ছিল “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য” এবং এতে ১ নম্বর প্রধান আসামি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রশ্ন ৫: ইউনেস্কো কবে ৭ই মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক বিশ্ব দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
উত্তর: ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
প্রশ্ন ৬: বাংলাদেশে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার আধুনিক পরিচালনাকারী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি?
উত্তর: ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (IAU) বাংলাদেশের সকল ফাজিল ও কামিল মাদরাসার কেন্দ্রীয় তদারক ও পরিচালনাকারী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

