ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – ২০১৮
বিষয়: উচ্চতর আরবি (ঐচ্ছিক) প্রথম পত্র (বিষয় কোড: ৪০৭)
[আরবি গদ্য (النثر العربي)]
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০১৮-এর উচ্চতর আরবি ১ম পত্র (বিষয় কোড: ৪০৭ – আরবি গদ্য) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির ২০ নম্বরের রচনামূলক ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উচ্চমান বজায় রেখে ভূমিকা, মূল আরবি পাঠ, প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর, শাব্দিক ও ব্যাকরণিক তাহকিক, আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ এবং শিক্ষণীয় দিকসমূহ সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।
কন্টেন্ট তালিকা / প্রশ্নসূচি
- ১. অনুবাদ ও সাহিত্যিক পাঠ বিশ্লেষণ: ترجم ثلاث قطعات من الآتية
- ২. আরবিতে ব্যাখ্যা: اشرح قطعة بالعربية
- ৩ (الف). اكتب نبذة من حياة مصطفى لطفي المنفلوطى ومساهمته في الادب العربي [মুস্তফা লুৎফী আল-মানফালূতী]
- ৩ (ب). اكتب خصائص خطبة على بن ابى طالب رضى الله عنه بالايضاح [হযরত আলী (রা)-এর ভাষণের বৈশিষ্ট্য]
- ৩ (ج). ماذا تفهم بكليلة ودمنة؟ تحدث عن الخلفية التاريخية لتأليف هذا الكتاب [কালিলা ওয়া দিমনা]
- ৩ (د). عرف المقامة لغة واصطلاحا، ثم تحدث عن نشأتها وتطورها عبر العصور [মাকামাত সাহিত্যের ক্রমবিকাশ]
- ৪. সংক্ষিপ্ত ও শৈল্পিক প্রশ্নমালা: الخطبة، العقد الفريد، ابو الفرج الاصفهاني، نجيب الكيلانى، الحكم والأمثال، القصة القصيرة
- ৫ (الف). اكتب نبذة عن حياة طه حسين مع ذكر مساهمته فى الادب العربي الحديث [ড. তাহা হুসাইন]
- ৫ (ب). تحدث عن الحقوق الانسانية التى ذكرها رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطبة حجة الوداع [বিদায় হজের ভাষণে মানবাধিকার]
- ৫ (ج). اكتب نبذة عن حياة ابن المقفع ودوره في الادب العربي [আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা]
- ৫ (د). بين خصائص الادب العربي في العصر العباسي [আব্বাসীয় যুগের আরবি সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য]
প্রশ্নোত্তর ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. অনুবাদ ও সাহিত্যিক পাঠ বিশ্লেষণ: ترجم ثلاث قطعات من الآتية
(الف) خطبة حجة الوداع [বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণাংশ: মাস গণনা ও জাহেলী প্রথা বিলোপ]
«أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ، فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَيُحَرِّمُوا مَا أَحَلَّ اللَّهُ، وَإِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ، وَإِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ وَوَاحِدٌ فَرْدٌ…»
[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“হে মানবমন্ডলী! নিশ্চয়ই ‘নাসী’ (পবিত্র মাসকে যুদ্ধ বা সুবিধার জন্য পেছানো বা এগিয়ে নেওয়ার কুপ্রথা) হলো কুফরির চরম বৃদ্ধি; যার মাধ্যমে কাফিররা পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হয়। তারা এক বছর একে হালাল গণ্য করে এবং অন্য বছর হারাম ঘোষণা করে, যাতে তারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত নিষিদ্ধ মাসের সংখ্যার সামঞ্জস্য রক্ষা করতে পারে। ফলে তারা আল্লাহর হারামকৃত মাসকে হালাল করে এবং হালালকৃত মাসকে হারাম বানায়। নিশ্চয়ই মহাকাল আজ ঠিক সেই আদি অবস্থানে প্রত্যাবর্তন করেছে, যেদিন আল্লাহ তা’আলা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছিলেন। আল্লাহর বিধানে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই মাসের সংখ্যা বারোটি। এর মধ্যে চারটি মাস অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ (আশহুরে হুরুম); যার তিনটি ধারাবাহিক—যুলকাদা, যুলহিজ্জা ও মুহাররম এবং একটি একক—মুদার গোত্রের রজব মাস, যা জুমাদাল উখরা ও শাবানের মধ্যবর্তী।”
সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট ও প্রামাণ্য বিশ্লেষণ:
প্রাক-ইসলামি আরবে কুরাইশ ও বেদুইনরা নিজেদের বৈষয়িক স্বার্থ, লুটতরাজ ও যুদ্ধের সুবিধার জন্য নিষিদ্ধ মাসগুলোর পবিত্রতা ভঙ্গ করত। কোনো নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করতে চাইলে তারা ঘোষণা করত যে, এ বছর অমুক মাস হালাল এবং তার পরিবর্তে অন্য সাধারণ মাসকে হারাম গণ্য করা হলো। এই অনৈতিক চক্রবৃদ্ধি ও স্বেচ্ছাচারিতাকে আরবিতে ‘নাসী’ (النَّسِيءُ) বলা হতো। রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের মহাসম্মেলনে এই প্রথার মূলোৎপাটন করে বিশ্ববাসীকে চন্দ্রবর্ষের প্রাকৃতিক ও ঐশী দিনপঞ্জির পূর্ণাঙ্গ শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনেন।
| আরবি শব্দ | শব্দার্থ | তাহকিক ও ব্যাকরণিক রূপ |
|---|---|---|
| النَّسِيءُ | মাস পেছানো / কালক্ষেপণ | مصدر، ওজন فَعِيلٌ، অর্থ বিলম্বিত করা। |
| لِيُوَاطِئُوا | যাতে তারা সংখ্যা মেলাতে পারে | فعل مضارع منصوب بـ أن مضمرة، باب مفاعلة، মূলধাতু (و ط أ) |
| اسْتَدَارَ | ঘুরে আদি অবস্থায় ফিরে এসেছে | فعل ماض، باب استفعال، মূলধাতু (د و ر) |
| مُتَوَالِيَاتٌ | ধারাবাহিক / একের পর এক | اسم فاعل، جمع مؤنث سالم، باب تفاعل |
(ب) في ظلال القرآن [শহীদ সাইয়্যেদ কুতুব: কুরআনের ছায়াতলে জীবনযাপনের পরম সৌভাগ্য]
«الْحَيَاةُ فِي ظِلالِ الْقُرْآنِ نِعْمَةٌ، نِعْمَةٌ لا يَعْرِفُهَا إِلا مَنْ ذَاقَهَا، نِعْمَةٌ تَرْفَعُ الْعُمْرَ وَتُبَارِكُهُ وَتُزَكِّيهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ. لَقَدْ مَنَّ عَلَيَّ بِالْحَيَاةِ فِي ظِلالِ الْقُرْآنِ فَتْرَةً مِنَ الزَّمَانِ، ذُقْتُ فِيهَا مِنْ نِعْمَتِهِ مَا لَمْ أَذُقْ قَطُّ فِي حَيَاتِي، ذُقْتُ فِيهَا هَذِهِ النِّعْمَةَ الَّتِي تَرْفَعُ الْعُمْرَ وَتُبَارِكُهُ وَتُزَكِّيهِ، لَقَدْ عِشْتُ أَسْمَعُ اللَّهَ سُبْحَانَهُ يَتَحَدَّثُ إِلَيَّ بِهَذَا الْقُرْآنِ…»
[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“কুরআনের সুশীতল ছায়াতলে জীবনযাপন এক পরম নিয়ামত; এমন এক মহামূল্যবান নিয়ামত যার প্রকৃত স্বাদ কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারে যারা ব্যক্তিগতভাবে তা আস্বাদন করেছে। এটি এমন এক নিয়ামত যা মানবজীবনকে মহীয়ান করে, বরকতময় করে এবং আত্মিক পরিশুদ্ধি দান করে। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। তিনি আমার ওপর অপার অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন কুরআনের ছায়াতলে জীবনের একটি নির্দিষ্ট কালখণ্ড অতিবাহিত করার তাওফিক দান করে। সেখানে আমি তাঁর এমন এক অপ্রতিরোধ্য নিয়ামতের স্বাদ পেয়েছি, যা ইতিপূর্বে সমগ্র জীবনে কখনো আস্বাদন করিনি। আমি এমন এক জীবন্ত অনুভূতি নিয়ে কাটিয়েছি যেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা স্বয়ং এই কুরআনের মাধ্যমে সরাসরি আমার সাথেই কথোপকথন করছেন!”
সাহিত্যিক সৌন্দর্য ও আত্মিক গভীরতা:
শহীদ সাইয়েদ কুতুব (১৯০৬-১৯৬৬ খ্রি.) তাঁর কালজয়ী তাফসির গ্রন্থ ‘ফি যিলালিল কুরআন’-এর ভূমিকায় এই অবিস্মরণীয় পঙক্তিগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। চরম অত্যাচারী নাসের সরকারের অন্ধকার কারাগারের প্রকোষ্ঠে বসে শারীরিক নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি কুরআনকে নিছক কোনো নির্জীব অক্ষরের সমষ্টি হিসেবে দেখেননি; বরং কুরআনকে দেখেছেন মানুষের অন্তরাত্মার মুক্তিদাতা জীবন্ত সংবিধান হিসেবে। তাঁর বাক্যশৈলীতে আরবি সাহিত্যের ক্লাসিক্যাল অলঙ্কারশাস্ত্র এবং আধুনিক ভাবগাম্ভীর্যের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।
(ج) كليلة ودمنة [কালিলা ওয়া দিমনা: ক্রখের আবেদ ও মেহমানের খেজুরের শিক্ষণীয় উপাখ্যান]
«قَالَ الْفَيْلَسُوفُ : زَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ بِأَرْضِ الْكَرْخِ نَاسِكٌ عَابِدٌ مُجْتَهِدٌ، فَنَزَلَ بِهِ ضَيْفٌ ذَاتَ يَوْمٍ، فَدَعَا النَّاسِكُ لِضَيْفِهِ بِتَمْرٍ لِيَطْرِفَهُ بِهِ، فَأَكَلا مِنْهُ جَمِيعًا، ثُمَّ قَالَ الضَّيْفُ : مَا أَحْلَى هَذَا التَّمْرَ وَأَطْيَبَهُ! فَلَيْسَ هُوَ فِي بِلادِي الَّتِي أَسْكُنُهَا وَلَيْتَهُ كَانَ فِيهَا! ثُمَّ قَالَ : أَرَى أَنْ تُسَاعِدَنِي عَلَى أَنْ آخُذَ مِنْهُ مَا أَغْرِسُهُ فِي أَرْضِنَا؟ فَإِنِّي لَسْتُ عَارِفًا بِثِمَارِ أَرْضِكُمْ هَذِهِ وَلا بِمَوَاضِعِهَا…»
[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“দার্শনিক বায়দাবা বললেন: প্রবাদ রয়েছে যে, কারখ ভূখণ্ডে এক কঠোর সাধক ও আবেদ ব্যক্তি বসবাস করতেন। একদিন তাঁর আশ্রমে এক মেহমানের আগমন ঘটল। সেই সাধক মেহমানকে আপ্যায়ন ও অভ্যর্থনা জানাতে সুস্বাদু খেজুর পরিবেশন করলেন এবং উভয়ে মিলে তা আহার করলেন। অতঃপর মেহমান তৃপ্ত হয়ে বললেন: এই খেজুর কতই না মধুর ও অতুলনীয় সুস্বাদু! যে দেশে আমি বাস করি সেখানে এমন ফল জন্মে না; আহা, যদি আমাদের দেশেও তা থাকত! মেহমান আরও বললেন: আপনি কি আমাকে এমন কিছু বীজ বা চারা দিয়ে সাহায্য করবেন যা নিয়ে আমি আমাদের দেশের মাটিতে রোপণ করতে পারি? কারণ আপনাদের দেশের ফলের জাত ও তার রোপণ পদ্ধতি সম্পর্কে আমি একেবারেই অনভিজ্ঞ।”
নীতিশিক্ষামূলক তাৎপর্য:
বিখ্যাত সাহিত্যিক আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা কর্তৃক সংস্কৃত ‘পঞ্চতন্ত্র’ থেকে অনূদিত ‘কালিলা ওয়া দিমনা’ গ্রন্থের এই উপাখ্যানটি মানুষের অপরিণামদর্শী লোভ ও অন্যের গুণ অন্ধভাবে অনুকরণের পরিণাম নির্দেশ করে। সাধক পরবর্তীতে মেহমানকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, প্রতিটি ভূখণ্ডের নিজস্ব আবহাওয়া ও উপযোগী ফসল থাকে। নিজের পরিবেশ ও যোগ্যতাকে অস্বীকার করে অন্যের স্বভাব অন্ধভাবে ধার করতে গেলে ব্যক্তি নিজের অস্তিত্বই বিপন্ন করে ফেলে।
(د) مقامات بديع الزمان الهمذاني [মাকামাতুল কূফিয়্যাহ: আল-হারিস ইবনে হাম্মামের বিদ্যার্জনের ব্যাকুলতা]
«حَكَى الْحَارِثُ بْنُ هَمَّامٍ قَالَ : كَلِفْتُ مُذْ مِيطَتْ عَنِّي التَّمَائِمُ، وَنِيطَتْ بِي الْعَمَائِمُ، بِأَنْ أَغْشَى مَعَانَ الأَدَبِ، وَأُنْضِيَ إِلَيْهِ رِكَابَ الطَّلَبِ، لأَعْلَقَ مِنْهُ بِمَا يَكُونُ لِي زِينَةً بَيْنَ الأَنَامِ، وَمُزْنَةً عِنْدَ الأُوَامِ…»
[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“আল-হারিস ইবনে হাম্মাম বর্ণনা করে বলেন: শৈশবে যখন আমার গলার তাবিজ ও কবচ খুলে ফেলা হলো এবং যৌবনে মস্তকে পাগড়ি বাঁধা হলো, তখন থেকেই আমি সাহিত্য ও জ্ঞানের মজলিসে গমনাগমন করতে এবং বিদ্যার্জনের পথে বাহনকে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত করে অবিরাম ছুটে চলতে গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়ি। আমার লক্ষ্য ছিল সাহিত্যের এমন অমূল্য সম্পদ আহরণ করা, যা মানবসমাজে আমার জন্য হবে এক অনুপম অলঙ্কার এবং জ্ঞানপিপাসার চরম মুহূর্তে শান্তির বারিধারাস্বরূপ মেঘমালা।”
সাহিত্যিক ও আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ:
আরবি ‘মাকামাত’ সাহিত্যের প্রবর্তক বদিউযযামান আল-হামাদানী (৯৬৮-১০০৮ খ্রি.)-এর এটি একটি মাস্টারপিস রচনা। এখানে ‘সাজ’ (السجع – অন্ত্যমিলযুক্ত ছন্দোময় গদ্য) এবং ‘তিবাক’ (الطباق – বিপরীতার্থক শব্দের বিন্যাস)-এর চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শিত হয়েছে। শৈশবের প্রতীক হিসেবে ‘মীতাত আন্বিত তামায়িম’ (তাবিজ খুলে দেওয়া) এবং যৌবনের সূচনায় ‘নীতাত বিয়াল আমায়িম’ (পাগড়ি পরিধান করা) ব্যবহারের মাধ্যমে হামাদানী ক্লাসিক্যাল আরবি বাচনভঙ্গিকে শিল্পের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে গেছেন।
২. আরবিতে ব্যাখ্যা: اشرح قطعة بالعربية
(الف) «إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ حَقًّا»
الشرح والتحليل:
هذه الجملة النبوية الكريمة المباركة مقتبسة من خطبة حجة الوداع التاريخية التي ألقاها النبي الأكرم محمد صلى الله عليه وسلم في صعيد عرفات. يؤسس هذا النص الشريف مبدأ العدالة الاجتماعية والمساواة الإنسانية والتوازن الحقوقي الدقيق في بناء الأسرة المسلمة.
في العصر الجاهلي قبل بعثة الإسلام، كانت المرأة كائناً مظلوماً مسلوب الحقوق والإرادة، تُورث كالمتاع، وتُحرم من الميراث، بل وكان بعض القبائل يمارسون جريمة وأد البنات خشية الفقر أو العار. فلما جاء الإسلام دين الرحمة والعدل، رفع مكانة المرأة إلى أسمى المراتب وقرر كرامتها الإنسانية المستقلة. ومعنى الحديث الشريف أن العلاقة الزوجية ليست علاقة استعباد أو تسلط استبدادي من جانب الرجل، بل هي ميثاق غليظ وشراكة قائمة على الحقوق والواجبات المتبادلة. فللرجل على زوجته حقوق الطاعة بالمعروف وحفظ ماله وعرضه ورعاية بيته، وفي المقابل يجب على الزوج توفير النفقة الكافية، والكسوة، والسكن الكريم، وحسن العشرة والمحبة؛ مصداقاً لقوله تعالى: ﴿وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ﴾ [البقرة: ٢٢٨].
(ب) «هُنَالِكَ شَعَرْتُ أَنَّ قَلْبِي قَدْ فَارَقَ مَوْضِعَهُ إِلَى حَيْثُ لا أَعْلَمُ لَهُ مَكَانًا»
الشرح والتحليل:
هذه العبارة الأدبية الرائعة صاغها الكاتب والأديب المصري العبقري مصطفى لطفي المنفلوطي في إحدى قصصه الوجدانية الإنسانية المؤثرة في كتابه الشهير “النظرات”. يصور الكاتب هنا لحظة الصدمة النفسية العنيفة والانهيار العاطفي المفاجئ عندما يفقد الإنسان عزيزاً أو يواجه مأساة غير متوقعة.
استخدم المنفلوطي في هذا التعبير المجازي أرقى أساليب الاستعارة المكنية، حيث جسد القلب كطائر مذعور خفق خفقاناً شديداً حتى غادر قفص الصدر باحثاً عن ملجأ في المجهول. إن هذا التعبير يبرز مدرسة المنفلوطي البيانية التي تتميز بعذوبة الألفاظ، ورقة المشاعر، والقدرة الفائقة على تصوير خلجات النفس البشرية بأسلوب ناصع البياض يخلو من التعقيد اللفظي والصنعة المتكلفة، مما يجعله ينفذ مباشرة إلى أعماق وجدان القارئ.
(ج) «الْمُكْثَارُ كَحَاطِبِ اللَّيْلِ»
الشرح والتحليل:
هذا مثل عربي قديم بليغ وسائر في تراث الحكمة العربية، يُضرب في ذم الإفراط في الكلام وكثرة الثرثرة دون تفكر أو روية. والمكثار صيغة مبالغة من كثرة القول والحديث، أما “حاطب الليل” فهو الرجل الذي يخرج في ظلمة الليل البهيم ليجمع الحطب من الغابة.
وجه الشبه البلاغي في هذا المثل الحكيم هو أن الذي يحتطب ليلاً في غياب الضوء لا يميز بين عود خشب نافع، أو جذع شجرة يابس لا نفع فيه، أو أفعى سامة وعقرب قاتل قد تلدغه وتهلكه في الحال. وكذلك الإنسان الثرثار الذي يطلق لسانه في المجالس بكل ما يخطر على باله دون وزن للكلام؛ فإنه يخلط الصواب بالخطأ، والحق بالباطل، والغيبة بالبهتان، وربما نطق بكلمة واحدة من سخط الله تهوي به في المهالك. وفي هذا حث على حفظ اللسان، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ».
৩ (الف). اكتب نبذة من حياة مصطفى لطفي المنفلوطى ومساهمته في الادب العربي [মুস্তফা লুৎফী আল-মানফালূতী]
ভূমিকা:
মুস্তফা লুৎফী আল-মানফালূতী (১৮৭৬-১৯২৪ খ্রি.) আধুনিক আরবি সাহিত্যের পুনর্জাগরণ (আন্-নাহদাহ)-এর যুগে আরবি গদ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার ও প্রবাদপ্রতিম প্রবন্ধকার। কৃত্রিম অলঙ্কার ও সেকেলে ভাবালুতার খোলস ভেঙে আরবি গদ্যকে আধুনিক মানবিক ভাবপ্রকাশের প্রাঞ্জল ও গতিশীল বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী।
জন্ম, বংশ ও শিক্ষা জীবন:
মানফালূতী ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে মিসরের উচ্চাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মানফালূত শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন সম্মানিত বিচারক ও শরিফ বংশের ব্যক্তি। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী তিনি মাত্র এগারো বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি কায়রোর বিখ্যাত জামিয়া আল-আজহারে দীর্ঘ দশ বছর অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি ঐতিহ্যবাহী ইসলামি ধর্মতত্ত্ব, হাদিস ও সাহিত্যের পাশাপাশি বিখ্যাত সংস্কারক ইমাম মুহাম্মদ আবদুহ-এর সান্নিধ্য লাভ করে আধুনিক সংস্কারবাদী চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হন।
সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও অবদান:
মানফালূতীর গদ্যশৈলী আরবি সাহিত্যে ‘উসলূব আল-মানফালূতী’ নামে পরিচিত। তিনি আরবি ভাষাকে ব্যাকরণিক জটিলতা ও কৃত্রিম ছন্দ থেকে মুক্ত করে হৃদয়ের সরাসরি ভাষায় রূপ দেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত মৌলিক গ্রন্থ হলো ‘আন-নাযারাআত’ (النظرات – ৩ খণ্ড), যা সমকালীন সমাজ সংস্কার, নৈতিক অবক্ষয় ও মানবিক বেদনার জীবন্ত দলিল। ফরাসি ভাষা না জানা সত্ত্বেও তিনি ফরাসি উপন্যাসগুলোর অনুবাদ শুনে সেগুলোকে আরবি ক্লাসিক্যাল অলঙ্করণে অপূর্ব ভাবানুবাদ করেন; যার মধ্যে ‘আল-আবারাত’ (العبرات – অশ্রুমালা), আল-ফাদিলাহ (পবিত্রতা) এবং আশ-শা’ইরু (সিরানো দ্য বেরজেরাক) কালজয়ী মর্যাদা লাভ করেছে।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন ও আধুনিক আরবি গদ্যে প্রভাব:
মানফালূতীর রচনা কেবল আবেগপ্রবণ ভাবালুতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সামাজিক অন্যায়, সামাজিক বৈষম্য, ভণ্ডামি ও নৈতিক স্খলনের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ সংস্কারকামী প্রতিবাদ। তাঁর গদ্যে একদিকে যেমন ধ্রুপদী আরবি ভাষার বিশুদ্ধ প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) শতভাগ অক্ষুণ্ণ ছিল, অন্যদিকে তা আধুনিক যুগের সাধারণ পাঠকের অন্তরকে গভীরভাবে স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তী প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিকগণ তাঁর সরল অথচ সুরময় গদ্যরীতি দ্বারা বিপুলভাবে প্রভাবিত হন। সমকালীন আরবি ভাষার বিশুদ্ধতা ও লালিত্য রক্ষায় তাঁর সাহিত্যকর্ম কালজয়ী মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
৩ (ব). اكتب خصائص خطبة على بن ابى طالب رضى الله عنه بالايضاح [হযরত আলী (রা)-এর ভাষণের বৈশিষ্ট্য]
ভূমিকা:
আমিরুল মুমিনীন খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) ছিলেন আরবি বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের শীর্ষ পুরুষ। সাহাবীদের যুগে এবং সমগ্র আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পর আলীর বাগ্মিতাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করা হয়। তাঁর ভাষণ, চিঠি ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তিগুলো পরবর্তীতে শরিফ আর-রাযী কর্তৃক ‘নাহজুল বালাগা’ (نهج البلاغة – বাগ্মিতার রাজপথ) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
ভাষণের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ১. কুরআনি সুর ও গভীর তাওহীদি চেতনা: হযরত আলী (রা.)-এর প্রতিটি ভাষণ শুরু হতো আল্লাহর সৃষ্টিরহস্য, অসীম ক্ষমতা, তাওহীদের বিশুদ্ধ দর্শন এবং পরকালের জবাবদিহিতার মর্মস্পর্শী বর্ণনার মাধ্যমে।
- ২. প্রাঞ্জলতা ও আলঙ্কারিক পূর্ণতা (الفصاحة والبلاغة): তাঁর বাক্যগুলো ছিল অত্যন্ত সুসংহত, জোরালো এবং সংক্ষিপ্ত অথচ অসীম অর্থপূর্ণ (ইজায)। তিনি স্বাভাবিকভাবেই এমন ছন্দময় অন্ত্যমিল (সাজ) ব্যবহার করতেন যা কোনো কৃত্রিমতা সৃষ্টি করত না।
- ৩. রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ন্যায়ের অনুশাসন: খিলাফতের ক্রান্তিলগ্নে সিফফিন, উটের যুদ্ধ এবং খারেজীদের বিদ্রোহের সময় প্রদত্ত ভাষণগুলোতে তাঁর দৃঢ় রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, রাষ্ট্রীয় বাইতুল মালের আমানতদারিতা এবং ন্যায়বিচারের আপসহীন রূপ ফুটে উঠেছে।
- ৪. বৈরাগ্য ও জাগতিক তুচ্ছতা (الزهد والتحذير من الدنيا): নশ্বর পৃথিবীর প্রতারণা থেকে মানুষকে সতর্ক করা এবং মৃত্যু ও কবরের বাস্তবতাকে জীবন্ত ছবির মতো ফুটিয়ে তোলায় তাঁর ভাষণের কোনো তুলনা ছিল না।
ভাষাশৈলী ও সাহিত্যের ইতিহাসে প্রভাব:
হযরত আলী (রা.)-এর প্রতিটি উক্তি ও ভাষণে আরবি ভাষার শব্দচয়ন, রূপক (ইস্তিয়ারা) এবং উপমার এমন নিখুঁত শৈল্পিক প্রয়োগ ঘটেছে যা পরবর্তীকালের কবি, বাগ্মী ও সাহিত্যিকদের কাছে আদর্শ মডেল হয়ে ওঠে। ইবনে আবিল হাদিদ তাঁর ‘শারহু নাহজিল বালাগা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আলীর বাচনভঙ্গি ছিল মানুষের স্বাভাবিক ভাষার চেয়ে ঊর্ধ্বে অথচ স্রষ্টার ঐশী বাণীর পরেই যার অনন্য স্থান (فوق كلام المخلوق ودون كلام الخالق)। বিশেষ করে মিসরের গভর্নর মালিক আল-আশতারের প্রতি লিখিত তাঁর ঐতিহাসিক প্রশাসনিক নির্দেশনা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইনসাফ ও সুশাসনের ইতিহাসে এক শাশ্বত পথপ্রদর্শক।
৩ (ج). ماذا تفهم بكليلة ودمنة؟ تحدث عن الخلفية التاريخية لتأليف هذا الكتاب [কালিলা ওয়া দিমনা]
ভূমিকা ও পরিচয়:
‘কালিলা ওয়া দিমনা’ (كليلة ودمنة) হলো বিশ্বসাহিত্যের সর্বাধিক প্রভাবশালী নীতিশিক্ষামূলক রূপক গল্পগ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি মূলত পশুপাখির রূপক চরিত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপরিচালনা, কূটনীতি, সমাজবিজ্ঞান এবং মানবচরিত্রের গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এক কালজয়ী আকর গ্রন্থ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রচনার ইতিবৃত্ত:
গ্রন্থটির মূল উৎস প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক বিষ্ণুশর্মা (মতান্তরে পণ্ডিত বায়দাবা) কর্তৃক সংস্কৃত ভাষায় রচিত ‘পঞ্চতন্ত্র’। ভারতীয় রাজা দেবেন্দ্র (দবশলীম)-এর অত্যাচারী ও খামখেয়ালী শাসনকে সঠিক পথে আনয়নের জন্য দার্শনিক বায়দাবা অত্যন্ত চতুরতার সাথে পশুপাখির কাহিনীর মাধ্যমে রাজধর্ম ও ন্যায়নীতির পাঠ শেখাতে এই গ্রন্থটি রচনা করেন।
আরবিতে রূপান্তর ও আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা:
ষষ্ঠ শতাব্দীতে পারস্যের সাসানীয় সম্রাট নওশেরওয়ার নির্দেশে রাজকবি বরজোয়ে এটি পাহলভি (প্রাচীন ফারসি) ভাষায় অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে আব্বাসীয় যুগের শুরুতে প্রখ্যাত পণ্ডিত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা (৭১৭-৭৫৬ খ্রি.) পাহলভি থেকে একে বিশুদ্ধ আরবি গদ্যে রূপান্তর করেন। ইবনুল মুকাফফা কেবল অনুবাদ করেননি, বরং এর শুরুতে বহু নতুন ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অধ্যায় সংযোজন করে একে আরবি সাহিত্যের অবিসংবাদিত মাস্টারপিসে রূপদান করেন।
গঠনশৈলী, সাহিত্যিক গুরুত্ব ও বিশ্বসাহিত্যে প্রভাব:
‘কালিলা ওয়া দিমনা’ গ্রন্থটি মূলত দুটি চতুর শিয়াল—’কালিলা’ ও ‘দিমনা’-এর কথোপকথন এবং সিংহ রাজার দরবারের জটিল ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। গল্পের ছলে এখানে মন্ত্রীদের কূটকৌশল, রাজার দায়িত্বশীলতা, বিচারকের সততা এবং বন্ধু নির্বাচনের গুরুত্ব প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আরবি সাহিত্যে রূপক প্রতীকী গদ্য (الأدب الرمزي) ও উপদেশমূলক কথাসাহিত্যের প্রথম সার্থক ভিত্তি স্থাপন করে এই কালজয়ী গ্রন্থ। এটি পরবর্তীকালে লাতিন, হিব্রু, স্প্যানিশসহ বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে বৈশ্বিক রূপকথা ও নীতিসাহিত্যকে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
গ্রন্থের নৈতিক শিক্ষা ও সাহিত্যের মর্যাদা:
‘কালিলা ওয়া দিমনা’ কেবল প্রাচীন গল্প নয়, বরং তা মানবজীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব, আনুগত্য, বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রজ্ঞার এক শাশ্বত পাঠশালা। এটি রাজদরবারের মন্ত্রী ও প্রশাসকদের জন্য কূটনীতির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ম্যানুয়াল হিসেবে সমাদৃত। গ্রন্থটির প্রতিটি পরিচ্ছেদ একটি দার্শনিক নৈতিক প্রবাদ দিয়ে সমাপ্ত হয়, যা পাঠকের অন্তরে ন্যায়নীতি ও সততার গভীর ছাপ ফেলে যায়।
৩ (د). عرف المقامة لغة واصطلاحا، ثم تحدث عن نشأتها وتطورها عبر العصور [মাকামাত সাহিত্যের ক্রমবিকাশ]
শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:
– শাব্দিক অর্থ: ‘আল-মাকামাহ’ (المقامة) শব্দটি আরবি ‘ক্বিয়াম’ (القيام – দাঁড়ানো) ধাতু থেকে উদ্ভূত। আভিধানিক অর্থে মাকামাহ হলো কোনো ব্যক্তির অবস্থানস্থল, মজলিস বা যে সভায় দাঁড়িয়ে কথা বলা হয়।
– পারিভাষিক সংজ্ঞা: আরবি সাহিত্য পরিভাষায়, ‘মাকামাহ’ হলো এমন এক বিশেষ ধরনের ছন্দোময় গদ্যকাব্য (নাটকীয় ক্ষুদ্র কথাসাহিত্য), যেখানে অন্ত্যমিলযুক্ত ছন্দ (সাজ), বহুবিধ বিরল শব্দের অলঙ্কার এবং আলঙ্কারিক চাতুর্যের সাহায্যে একজন কাল্পনিক চালবাজ নায়ক ও একজন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে কোনো রসাত্মক, শিক্ষণীয় বা নৈতিক ঘটনা পরিবেশন করা হয়।
উৎপত্তি ও বিবর্তন:
| স্তর ও যুগ | প্রধান ব্যক্তিত্ব | সাহিত্যিক অবদান ও বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| উদ্ভাবন পর্ব (চতুর্থ হিজরি) | বদিউযযামান আল-হামাদানী (মৃ. ৩৯৮ হি.) | তিনি মাকামাত সাহিত্যের জনক। তাঁর নায়ক ‘আবু ফাতহ আল-ইসকান্দারানী’ ও বর্ণনাকারী ‘ঈসা ইবনে হিশাম’-এর মাধ্যমে ৪০০টি মাকামাহ রচনা করেন (যার ৫২টি সংরক্ষিত)। |
| পরিপূর্ণতা ও বিকাশ (পঞ্চম হিজরি) | আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম আল-হারীরী (মৃ. ৫১৬ হি.) | তিনি হামাদানীর ধারাকে সর্বোচ্চ আলঙ্কারিক শিখরে নিয়ে যান। তাঁর সংকলনে ৫০টি মাকামাহ রয়েছে, যার নায়ক ‘আবু জায়েদ আস-সারুজী’ এবং বর্ণনাকারী ‘আল-হারিস ইবনে হাম্মাম’। |
| পরবর্তী বিস্তার ও রূপান্তর | জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী ও আধুনিক যুগ | মামলুক যুগে সুয়ূতী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বিষয়ে মাকামাহ লেখেন। আধুনিক যুগে নাসিফ আল-ইয়াজিযী ‘মাজমাউল বাহরাইন’ লিখে এই ধারা পুনরুজ্জীবিত করেন। |
গঠনপ্রকৃতি ও আরবি ভাষা শিক্ষায় অবদান:
মাকামাত সাহিত্যের প্রতিটি পর্বে একটি সুনির্দিষ্ট নাটকীয় কাঠামো অনুসরণ করা হয়: বর্ণনাকারী এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণ করেন, সেখানে এক জনাকীর্ণ স্থানে এক চতুর বাগ্মী ব্যক্তির সাক্ষাৎ পান যিনি চমৎকার বাগ্মিতা ও কবিতার ছলে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে অর্থ সংগ্রহ করেন এবং শেষে বর্ণনাকারী বুঝতে পারেন ইনিই সেই নির্দিষ্ট ধূর্ত নায়ক। মাকামাতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ অভিধান, বিরল আরবি শব্দমালা (গারায়েব), ব্যাকরণিক ধাঁধা এবং ছন্দময় অন্ত্যমিল (সাজ)-এর অলঙ্করণ ব্যবহার করা হতো। এটি কেবল সাহিত্যের রসাস্বাদন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষার গভীর ব্যুৎপত্তি ও অলঙ্কারশাস্ত্রে দক্ষ করে তোলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পাঠ্য হিসেবে হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৪. সংক্ষিপ্ত ও শৈল্পিক প্রশ্নমালা: الخطبة، العقد الفريد، ابو الفرج الاصفهاني، نجيب الكيلانى، الحكم والأمثال، القصة القصيرة
(الف) عرف الخطبة ثم تحدث عن انواعها بالايضاح [খুতবা বা ভাষণের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ]:
খুতবা হলো কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ, ধর্মীয় শিক্ষা বা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে শ্রোতামণ্ডলীর সামনে দাঁড়িয়ে প্রদত্ত যুক্তিপূর্ণ, আবেগঘন ও প্রভাবশালী ভাষণ। ইসলামে খুতবাকে ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। খুতবা প্রধানত চার প্রকার: ১. ধর্মীয় খুতবা (জুমুআ, ঈদ ও হজের খুতবা), ২. রাজনৈতিক ও যুদ্ধকালীন খুতবা, ৩. সামাজিক ও পারিবারিক খুতবা (বিবাহ ও সমঝোতা), এবং ৪. বিচারিক খুতবা।
(ب) تحدث عن الكتاب “العقد الفريد” بالتفصيل [আল-ইকদুল ফারিদ গ্রন্থ পরিচিতি]:
আন্দালুসের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ইবনে আবদে রাব্বিহি (৮৬০-৯৪০ খ্রি.) রচিত ‘আল-ইকদুল ফারিদ’ (অনুপম কণ্ঠহার) আরবি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান বিশ্বকোষতুল্য আকর গ্রন্থ। গ্রন্থটি ২৫টি রত্ন বা অধ্যায়ে বিভক্ত, যার মধ্যম অধ্যায়টি হলো মূল মুক্তা (ওয়াসিতাহ)। এতে প্রাচীন আরবের ইতিহাস, কবিতা, রাজনীতি, যুদ্ধবিগ্রহ, প্রবাদ এবং রাজদরবারের শিষ্টাচার বিস্তারিতভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।
(ج) اكتب نبذة من حياة ابى الفرج الاصفهاني ومساهمته في الادب العربي [আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানী]:
আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানী (৮৯৭-৯৬৭ খ্রি.) ছিলেন আব্বাসীয় যুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ইতিহাসবিদ ও সঙ্গীত গবেষক। তাঁর কালজয়ী অমর সৃষ্টি হলো ‘কিতাবুল আগানী’ (كتاب الأغاني – ২৪ খণ্ড)। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি প্রাক-ইসলামি যুগ থেকে আব্বাসীয় যুগ পর্যন্ত সকল প্রধান কবি, গীতিকার, সুরকার এবং তাঁদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এই গ্রন্থে সংকলন করেন। ইবনে খালদুন একে ‘আরবি সাহিত্যের দেওয়ান’ বলে অভিহিত করেছেন।
(د) تحدث عن دور نجيب الكيلانى في تطوير الرواية العربية [ড. নাজিব আল-কিলানী]:
ড. নাজিব আল-কিলানী (১৯৩১-১৯৯৫ খ্রি.) ছিলেন আধুনিক আরবি সাহিত্যে ইসলামি ভাবধারার উপন্যাসের রূপকার। পেশায় চিকিৎসক এই লেখক বিশ্বাস করতেন শিল্প হবে নৈতিকতার সেবক। তিনি ‘উমার ইয়াযহারু ফি আল-কুদস’, ‘নুরুল্লাহ’, ‘আদরাও আর-রাসাস’ সহ অর্ধশতাধিক বিশ্বখ্যাত উপন্যাস রচনা করে দেখিয়েছেন যে সমাজ বিপ্লব ও মুক্তিসংগ্রামের কথা ইসলামি আদর্শ অক্ষুণ্ণ রেখেই শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
(هـ) ما معنى الحكم والأمثال؟ بين بالايضاح [হিকমত ও আমসালের পরিচয়]:
– হিকমত (حكمة): কোনো অভিজ্ঞ জ্ঞানী ব্যক্তির গভীর জীবনদর্শন ও প্রজ্ঞার সারসংক্ষেপ, যা মানুষকে সততা ও ন্যায়ের পথ দেখায়। এতে কোনো অতীত কাহিনীর প্রয়োজন হয় না (যেমন: رَأْسُ الْحِكْمَةِ مَخَافَةُ اللَّهِ)।
– মিসাল/আমসাল (أمثال): এমন সংক্ষিপ্ত রূপক বাক্য, যা কোনো ঐতিহাসিক নির্দিষ্ট ঘটনা বা প্রেক্ষাপটে প্রথম বলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একই রকম পরিস্থিতিতে প্রবাদ হিসেবে সর্বদা ব্যবহৃত হয় (যেমন: جَزَاءُ سِنِمَّارَ)।
(و) اكتب ثلاثة من الامثال العربية مع شرحها [তিনটি আরবি প্রবাদ ও ব্যাখ্যা]:
১. رُبَّ رَمْيَةٍ مِنْ غَيْرِ رَامٍ (কত নিখুঁত তীরই না নিক্ষিপ্ত হয় কোনো শিকারি ছাড়া) — কোনো অদক্ষ ব্যক্তির আকস্মিক অভাবনীয় সাফল্যে ব্যবহৃত হয়।
২. يَدَاكَ أَوْكَتَا وَفُوكَ نَفَخَ (তোমার নিজ হাতই মুখ বেঁধেছে এবং তোমার মুখই ফুঁ দিয়েছে) — নিজের ভুলের কারণে বিপদে পড়লে বলা হয়।
৩. إِنَّكَ لا تَجْنِي مِنَ الشَّوْكِ الْعِنَبَ (নিশ্চয়ই তুমি কাঁটাগাছ থেকে কখনো আঙুর ফল পাবে না) — অসৎ কর্মের দ্বারা সৎ ফল আশা করা বৃথা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
(ز) تحدث عن القصة القصيرة وخصائصها بالايضاح [ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য]:
ছোটগল্প আধুনিক আরবি গদ্যসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. ঘটনার ঐক্য (وحدة الحدث) — একটিমাত্র মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়; ২. চরিত্রের সীমাবদ্ধতা — দীর্ঘ উপন্যাসের মতো বহু চরিত্র থাকে না; ৩. সংক্ষিপ্ততা ও তীব্রতা — অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা বর্জন করে তীব্র অনুভূতির সঞ্চার করে; ৪. চমকপ্রদ সমাপ্তি (النهاية المفاجئة)।
৫ (الف). اكتب نبذة عن حياة طه حسين مع ذكر مساهمته فى الادب العربي الحديث [ড. তাহা হুসাইন]
ভূমিকা:
ড. তাহা হুসাইন (১৮৮৯-১৯৭৩ খ্রি.) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর আধুনিক আরবি সাহিত্যের অবিসংবাদিত দিকপাল, গবেষক ও সাহিত্যসমালোচক। আরবি সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁকে সর্বসম্মতভাবে ‘আমীদ আল-আদাব আল-আরাবী’ (عميد الأدب العربي – আরবি সাহিত্যের কর্ণধার) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
সংগ্রামী জীবন ও শিক্ষা:
তিনি ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে মিসরের মাগাগা অঞ্চলের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র তিন বছর বয়সে অপচিকিৎসায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা তাঁর অদম্য জ্ঞানতৃষ্ণাকে রুদ্ধ করতে পারেনি। তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন, আল-আজহারে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে নবপ্রতিষ্ঠিত কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বপ্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ফ্রান্সের প্যারিসের বিখ্যাত সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
সাহিত্যকর্ম ও অবদান:
তাহা হুসাইন ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, অনুবাদক, ইতিহাসবিদ ও আধুনিক সাহিত্য সমালোচক। তাঁর বিশ্বখ্যাত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস হলো ‘আল-আইয়্যাম’ (الأيام – ৩ খণ্ড), যা পৃথিবীর বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘আলা হামিশিস সিরাহ’, ‘দুআউল কারওয়ান’, ‘হাফিজ ওয়া শাওকী’ এবং বিতর্কিত গবেষণা গ্রন্থ ‘ফিল আদাব আল-জাহেলী’। তিনি মিসরের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঘোষণা করেছিলেন: “শিক্ষা হলো বাতাসের মতো এবং পানির মতো সবার জন্য উন্মুক্ত অধিকার।”
সমালোচনা দর্শন ও বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যায়ন:
তাহা হুসাইন আরবি সমালোচনা সাহিত্যকে গতানুগতিক স্তুতিবাক্য থেকে মুক্ত করে আধুনিক কার্তেসীয় সন্দেহবাদ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দাঁড় করান। যদিও তাঁর কিছু গবেষণা সে সময় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু তা আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে মুক্তচিন্তা ও আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি ইউনেস্কো ও আরবি ভাষা একাডেমির সক্রিয় সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরবি ভাষার মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর সৃষ্টিশীল রচনা ও সাহিত্যদর্শনের জন্য তিনি আরব বিশ্বের ঘরে ঘরে ‘শিক্ষার আলোকবর্তিকা’ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
৫ (ব). تحدث عن الحقوق الانسانية التى ذكرها رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطبة حجة الوداع [বিদায় হজের ভাষণে মানবাধিকার]
ভূমিকা:
দশম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে জাবালে রাহমাতের পাদদেশে দাঁড়িয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেছিলেন, তা ছিল মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সার্বজনীন মানবাধিকার সনদ (Universal Charter of Human Rights)। জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৪৮ সালে ঘোষিত মানবাধিকার সনদের চৌদ্দশত বছর পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সা.) মানবজাতির মৌলিক অধিকারগুলো সুসংহত করেছিলেন।
ভাষণে ঘোষিত প্রধান প্রধান মানবাধিকার:
- ১. জীবনের নিরাপত্তা ও রক্তের মর্যাদা (حق الحياة): মহানবী (সা.) ঘোষণা করেন—“তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের ইজ্জত-সম্মান আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই পবিত্র শহরের মতোই সম্মানিত ও অলঙ্ঘনীয়।” এর মাধ্যমে অন্যায় হত্যাকাণ্ড ও রক্তের প্রতিশোধের চিরসমাপ্তি ঘটে।
- ২. বর্ণবৈষম্যের বিলুপ্তি ও মানবীয় সাম্য: তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন—“সকল মানুষ আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে তৈরি। কোনো অনারবের ওপর আরবের এবং কোনো আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র ভিত্তি হলো তাকওয়া।”
- ৩. নারীর অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠা: নারীদের মর্যাদার ব্যাপারে তিনি বিশ্ববাসীকে নির্দেশ দেন—“তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তাদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে এবং তোমাদের ওপরও তাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে।”
- ৪. অর্থনৈতিক শোষণ ও সুদের বিলুপ্তি: ধনতান্ত্রিক শোষণ বন্ধে তিনি সকল প্রকার জাহেলী সুদ (রিবা) নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং সর্বপ্রথম নিজ চাচা আব্বাস (রা.)-এর সমস্ত সুদের দাবি বাতিল করেন।
- ৫. দাস ও অধীনস্থদের মর্যাদা: শ্রমিক ও দাসদের ব্যাপারে নির্দেশ দেন—“তোমরা যা আহার করবে তাদেরও তা খাওয়াবে, তোমরা যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরাবে।”
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সাথে তুলনা:
বিদায় হজের ভাষণ কেবল ধর্মীয় উপদেশ ছিল না, বরং তা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। আধুনিক গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক আইনে যেসব মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়—যেমন জীবনের অধিকার, ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুরক্ষা, নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুবিচার এবং আইনের দৃষ্টিতে নিখুঁত সমতা—তার প্রতিটিই রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ভাষণে সুদৃঢ় নৈতিক ভিত্তি দান করেছিলেন। জাহেলিয়াতের শত বছরের বংশীয় অহমিকা ও যুদ্ধোন্মাদনাকে চিরতরে বিলুপ্ত করে তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও মানবজাতিকে এক অখণ্ড ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। ফলে এই ভাষণটি বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে চিরন্তন মানবাধিকারের শ্রেষ্ঠ স্মারক হিসেবে স্বীকৃত।
৫ (ج). اكتب نبذة عن حياة ابن المقفع ودوره في الادب العربي [আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা]
ভূমিকা:
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা (৭১৭-৭৫৬ খ্রি.) ছিলেন আব্বাসীয় যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গদ্যশিল্পী, বহুভাষাবিদ ও পণ্ডিত। আরবি শৈল্পিক গদ্য (النثر الفني)-এর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপনে তাঁর অবদানকে প্রারম্ভিক মাইলফলক বিবেচনা করা হয়।
জীবন ও বংশপরিচয়:
ইবনুল মুকাফফার আদি নাম ছিল ‘রূযবাহ ইবনে দাদূয়া’। তিনি পারস্যের এক সম্ভ্রান্ত জরথুস্ত্রীয় (মাজুসি) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রাজকীয় কর কর্মকর্তা ছিলেন। পরবর্তীতে আব্বাসীয় আমলে বিশিষ্ট সাহাবী কিরমানের গভর্নর ঈসা ইবনে আলীর হাতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আব্দুল্লাহ’ এবং উপনাম ‘আবু মুহাম্মদ’ রাখেন। চরম বাগ্মী ও ধীশক্তির অধিকারী হওয়ায় তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
সাহিত্যকর্ম ও অবদান:
ইবনুল মুকাফফাই প্রথম পাহলভি, ফারসি ও ভারতীয় জ্ঞানভাণ্ডারকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল আরবি ভাষায় রূপান্তর করেন। তাঁর সর্বাধিক পরিচিত গ্রন্থসমূহ:
১. কালিলা ওয়া দিমনা (كليلة ودمنة): সংস্কৃত থেকে পাহলভি হয়ে আরবিতে রূপান্তর।
২. আল-আদাবুল কাবীর (الأدب الكبير): রাষ্ট্রনায়ক, রাজা ও আমলাদের জন্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক শিষ্টাচারের নির্দেশিকা।
৩. আল-আদাবুস্ সাগীর (الأدب الصغير): ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধি, চরিত্র গঠন ও নীতিশিক্ষার গাইডবুক।
৪. রিসালাতুস সাহাবাহ (رسالة الصحابة): খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরকে সামরিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর লিখিত কালজয়ী স্মারকপত্র।
গদ্যশৈলীর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও সাহিত্যের প্রভাব:
ইবনুল মুকাফফার গদ্যশৈলী ছিল কৃত্রিম অলঙ্কারমুক্ত, প্রাঞ্জল ও অত্যন্ত অর্থবহ। তিনি বিশ্বাস করতেন সাহিত্যের ভাষা হবে এমন যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারবে অথচ বিদ্বান ব্যক্তিরা তার গভীরতা দেখে মুগ্ধ হবে (سهل ممتنع)। তিনি ‘কিতাবুত তাজ’ ও ‘কালিলা ওয়া দিমনা’র মাধ্যমে আরবি গদ্যে যুক্তি, দর্শন ও রাষ্ট্রতত্ত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। যদিও তাঁর অকালমৃত্যু ঘটে মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে, কিন্তু তাঁর উদ্ভাবিত মার্জিত গদ্যধারা আল-জাহিজ, আবু হাইয়ান আত-তাওহীদী এবং পরবর্তীকালের সকল আরবি গদ্যশিল্পীর জন্য অফুরন্ত প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
৫ (দ). بين خصائص الادب العربي في العصر العباسي [আব্বাসীয় যুগের আরবি সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য]
ভূমিকা:
আব্বাসীয় যুগ (১৩২-৬৫৬ হিজরি / ৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) হলো আরবি সাহিত্য, জ্ঞানবিজ্ঞান ও সভ্যতার স্বর্ণযুগ (Golden Age of Arabic Literature)। এই যুগে আরব সভ্যতার সাথে পারস্য, গ্রিক, রোমান ও ভারতীয় সভ্যতার মেলবন্ধন ঘটে, যার ফলে সাহিত্যে এক বৈপ্লবিক রূপান্তর সাধিত হয়।
আব্বাসীয় আরবি সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ১. অনুবাদ আন্দোলন ও দর্শনচর্চার প্রভাব: খলিফা আল-মনসুর, হারুনুর রশীদ ও আল-মামুনের ‘বাইতুল হিকমাহ’-এর মাধ্যমে গ্রিক দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্র আরবিতে অনূদিত হয়। এর ফলে সাহিত্যে যুক্তিবাদী চিন্তাধারা ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক দর্শনের অনুপ্রবেশ ঘটে।
- ২. জটিল অলঙ্কার ও মহাকাব্যিক গদ্যশৈলী (الصنعة البديعية): মরুভূমির সহজ-সরল গদ্যের পরিবর্তে ছন্দোময় গদ্য (সাজ), জিনাস, তিবাক এবং ইস্তিয়ারা সহযোগে অলঙ্কারবহুল ‘মাকামাত’ সাহিত্য ও ‘তারাসসুল’ (চিঠিপত্র শিল্প)-এর ব্যাপক বিকাশ ঘটে।
- ৩. কবিতার বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য ও ‘মুহদাসীন’ কবিদের আবির্ভাব: জাহেলী যুগের গতানুগতিক উটের পিঠে মরুযাত্রার বর্ণনার পরিবর্তে রাজপ্রাসাদ, সুশোভিত বাগান, সুরার মজলিস, প্রেম এবং সুফিবাদের কবিতা রচিত হয়। বাশশার ইবনে বুরদ, আবু নুওয়াস, আবু তাম্মাম, বুহতুরী ও আল-মুতানাব্বীর মতো যুগান্তকারী কবিদের উত্থান হয়।
- ৪. বিশ্বকোষ ও শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সংকলন: আল-জাহিজের ‘কিতাবুল হায়ওয়ান’ ও ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন’, ইবনুল কুতাইবার ‘উয়ূনুল আখবার’, আবুল ফারাজের ‘কিতাবুল আগানী’-এর মতো সুবিশাল সাহিত্য আকর গ্রন্থ এই যুগেই সংকলিত হয়।
সাহিত্যিক রূপান্তর ও বৈশ্বিক প্রভাব:
আব্বাসীয় যুগে আরবি ভাষা কেবল সাহিত্যের ভাষা নয়, বরং বৈশ্বিক বিজ্ঞান, চিকিৎসা, দর্শন ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ভাষায় পরিণত হয়। বাগদাদের ‘বাইতুল হিকমাহ’ (দারুল হিকমাহ)-এর মাধ্যমে প্রাচীন গ্রিক, পারসিক ও ভারতীয় দর্শন আরবিতে অনূদিত হওয়ায় গদ্য ও পদ্যে গভীর দার্শনিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটে। মুতানাব্বী, আবুল আলা আল-মা’য়াররী, আল-জাহিজ ও ইবনুল মুকাফফার মতো কালজয়ী সাহিত্যিকদের আবির্ভাব ঘটে এই যুগে। এ সময় সাহিত্যের প্রধান প্রধান রূপ—যেমন কাসিদা, মাকামাত, প্রেমগীতি (গজল) এবং রসাত্মক নীতিসাহিত্য—তাদের পূর্ণাঙ্গ ক্লাসিক্যাল রূপ লাভ করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ১ম পত্রের (বিষয় কোড ৪০৭) মূল পাঠ্যসূচি কী?
৪০৭ কোডের উচ্চতর আরবি ১ম পত্র মূলত ‘আরবি গদ্য’ (النثر العربي)-এর ওপর নির্ধারিত। এতে পবিত্র কুরআনের নির্বাচিত তাফসির, হাদিস ও নববী ভাষণ, মাকামাত সাহিত্য, কালিলা ওয়া দিমনা এবং আধুনিক আরবি উপন্যাস ও প্রবন্ধ সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ পাঠ ও অ্যাকাডেমিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২. ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে অনুবাদ ও ব্যাখ্যার জন্য কোন অংশগুলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
২০১৮ সালের পরীক্ষায় বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণের নিষিদ্ধ মাস গণনা সংক্রান্ত অংশ, শহীদ সাইয়েদ কুতুবের ‘ফি যিলালিল কুরআন’-এর ভূমিকা, কালিলা ওয়া দিমনা এবং হামাদানীর মাকামাতুল কূফিয়্যাহ অংশ থেকে ভাবার্থ ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এসেছিল।
৩. আরবি গদ্যাংশের অনুবাদে পূর্ণ নম্বর অর্জনের কৌশল কী?
আরবি গদ্যাংশের অনুবাদে সর্বোচ্চ নম্বর পেতে প্রথমে মূল আরবি থেকে প্রাঞ্জল ও শুদ্ধ ভাবার্থ বাংলায় লিখতে হয় এবং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর তাহকিক (ওজন, বাহাস, বাবি ও মূলধাতু) একটি ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হয়।
৪. ফাযিল ৩য় বর্ষে মাকামাত সাহিত্য থেকে কী ধরণের প্রশ্ন বেশি আসে?
মাকামাত সাহিত্যের সংজ্ঞা, এর উদ্ভাবক বদিউযযামান আল-হামাদানী ও আল-হারীরীর সাহিত্যকর্মের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য, এবং মাকামাত রচনার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়মিত বড় প্রশ্ন আসে।
৫. উচ্চতর আরবি ১ম পত্রে আধুনিক সাহিত্যের কোন লেখকদের গুরুত্ব বেশি?
আধুনিক আরবি সাহিত্যের ক্ষেত্রে ড. তাহা হুসাইন, মুস্তফা লুৎফী আল-মানফালূতী, ড. নাজিব আল-কিলানী এবং আহমদ শাওকীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পরীক্ষায় আরবিতে ব্যাখ্যার (اشرح بالعربية) ক্ষেত্রে কীভাবে উত্তর লেখা উচিত?
আরবিতে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রথমে উদ্ধৃতির উৎস ও বক্তার পরিচয় দিতে হয়, এরপর প্রাসঙ্গিক আয়াত বা হাদিসের আলোকে উদ্ধৃতিটির মর্মার্থ বিশুদ্ধ ও সাবলীল আরবি বাক্যশৈলীতে অন্তত এক পৃষ্ঠা ব্যাখ্যা করতে হয়।

