ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – 2024
বিষয়: উচ্চতর আরবি (ঐচ্ছিক) তৃতীয় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯)
[আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা (قواعد اللغة العربية والترجمة والمقالة)]
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০
ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2024-এর উচ্চতর আরবি ৩য় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯ – আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের শতভাগ পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির উচ্চমান বজায় রেখে ইলমুন নাহু ও সরফের সুসংহত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, প্রামাণ্য ছক, কুরআনী নজির, সাহিত্যরসসমৃদ্ধ প্রাঞ্জল অনুবাদ এবং আন্তর্জাতিক ও ঐতিহ্যবাহী বিষয়ের ওপর উচ্চমানের আরবি প্রবন্ধ সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।
কন্টেন্ট তালিকা / প্রশ্নসূচি
- ১. ما معنى النحو؟ ثم بين نشأة علم النحو وتطوره مفصلا [ইলমুন নাহুর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ]
- ২. كم قسما للكلمة؟ بين كل قسم مع بيان وجوه التسمية [কালিমার প্রকারভেদ ও আলামত]
- ৩. عرف الاسم المعرب، وما حكمه؟ وكم قسما له؟ [মু’রাব, মাবনী ও গাইরে মুনসারিফ]
- ৪. متى يقدم الفاعل على المفعول وجوبا ومتى يقدم المفعول على الفاعل وجوبا؟ [ফায়েল ও মাফউলের তাকদীম ও তাখীর]
- ৫. عرف المبتداء والخبر، ثم بين المواضع التى تكون فيها النكرة مبتداء ممثلا [মুবতাদা-খবর ও নাকারাহ মুবতাদা]
- ৬. عرف المفعول، وكم قسما له؟ بين بالأمثلة [মাফউলের ৫টি প্রকারের বিশদ বিশ্লেষণ]
- ৭. ما الحال؟ وما حكم الحال وذى الحال؟ ومتى يجب تقديم الحال على ذى الحال؟ [হাল ও জুলহাল]
- ৮. ما الأفعال الناقصة؟ وكم هى؟ وما عملها؟ لم سميت الأفعال الناقصة ناقصة؟ [আফ’আলে নাকাসাহ]
- ৯. عرف ترخيم المنادى، متى يرخم المنادى؟ بين حكم آخر المنادى المرخم ممثلا [তারখীমে মুনাদা]
- ১০. ما المستثنى؟ وكم قسما له؟ اذكر إعراب كل قسم ممثلا [ইসতিসনা ও মুসতাসনার এরাব]
- ১১. ما الأسماء المجرورة؟ وكم هى؟ اذكر بالأمثلة [মাজরূরাত ও ইজাফাত]
- ১২. ما اسم الفاعل؟ وكيف يبنى؟ وما شروط عمله؟ بين ممثلا [ইসমে ফায়েল ও তার আমল]
- ১৩. ما الصفة المشبهة؟ وكيف تبنى؟ وما عملها؟ بين بالأمثلة [সিফাতে মুশাব্বাহাহ ও তার ওজন]
- ১৪. عرف الفعل اللازم والمتعدي مع ذكر أقسام المتعدي بالامثلة [ফে’লে লাযিম ও মুতাআদ্দি]
- ১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর – সালাহুদ্দীন আইয়ূবী / মানুষ সমাজবদ্ধ জীব]
- ১৬. ترجم العبارات الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর – হস্তীবাহিনীর ঘটনা / আল-আমিন]
- ১৭. اكتب مقالة عربية من إحدى الموضوعات التالية [আরবি প্রবন্ধ: ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় / আরবি ভাষার গুরুত্ব / জুলাই বিপ্লব ২০২৪ / পদ্মা সেতু]
প্রশ্নোত্তর ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. ما معنى النحو؟ ثم بين نشأة علم النحو وتطوره مفصلا [ইলমুন নাহুর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ]
ভূমিকা ও ইলমুন নাহুর গুরুত্ব
আরবি ভাষা হলো পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ভাষা। বিশুদ্ধভাবে আরবি ভাষা পড়া, লেখা এবং বোঝার জন্য যে শাস্ত্রটি সর্বাধিক মৌলিক ও অপরিহার্য, তা হলো ‘ইলমুন নাহু’ (علم النحو – আরবি বাক্যতত্ত্ব বা ব্যাকরণ)। ইসলামি বিশ্বে একটি বিখ্যাত প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে: «النَّحْوُ فِي الْكَلَامِ كَالْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ» অর্থাৎ—”খাবারের মধ্যে লবণের যে অপরিহার্য স্থান, ভাষার মধ্যে ব্যাকরণ বা নাহুর ঠিক সেই মর্যাদা।” নাহুর জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের অর্থ বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
- আভিধানিক অর্থ: ‘নাহু’ (نحو) শব্দটি আরবি ভাষার একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ শব্দ। আভিধানিক অর্থে এর একাধিক অর্থ রয়েছে—(১) আল-ক্বাসদ (القصد): সংকল্প বা ইচ্ছা করা; (২) আল-মিসল (المثل): সদৃশ বা দৃষ্টান্ত হওয়া; (৩) আল-জিহাহ (الجهة): দিক বা অভিমুখ; (৪) আল-মিকদার (المقدار): পরিমাণ ইত্যাদি।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: প্রখ্যাত বৈয়াকরণদের মতে, ইলমুন নাহুর পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো:
«عِلْمٌ بِأُصُولٍ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالُ أَوَاخِرِ الْكَلِمِ الثَّلَاثِ (الِاسْمِ وَالْفِعْلِ وَالْحَرْفِ) إِعْرَابًا وَبِنَاءً، وَكَيْفِيَّةُ تَرْكِيبِ بَعْضِهَا مَعَ بَعْضٍ لِإِفَادَةِ مَعْنًى تَامٍّ»
(অর্থাৎ—নাহু হলো এমন কিছু মৌলিক নীতিমালার সুসংহত জ্ঞান, যার সাহায্যে কালিমার তিনটি প্রকারের—ইসম, ফেল ও হরফ—শেষাক্ষরের অবস্থা অর্থাৎ তা মু’রাব না মাবনী তা জানা যায়; এবং পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশের জন্য একটি শব্দকে অপর শব্দের সাথে কীভাবে সংযুক্ত ও বিন্যস্ত করতে হয় তা নির্ণয় করা যায়)।
ইলমুন নাহুর বিষয়বস্তু (موضوع) ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য (غرض)
- মাওজু বা আলোচ্য বিষয়: ইলমুন নাহুর মূল বিষয়বস্তু হলো ‘কালিমা’ (الكلمة – একক শব্দ) এবং ‘কালাম’ (الكلام – সুসংহত বাক্য), বিশেষত এদের পারস্পরিক গঠন এবং শেষাক্ষরের পরিবর্তন বা স্থিরতা।
- গারাজ বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: আরবি বাক্য পাঠ, লিখন ও উচ্চারণে যে কোনো প্রকার মৌখিক ও বাক্যিক ভুল-ত্রুটি (لحن) থেকে নিজেকে রক্ষা করা; এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বাণীকে নির্ভুলভাবে উপলব্ধি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
ইলমুন নাহুর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ঐতিহাসিক পরিক্রমা
| ঐতিহাসিক স্তর | প্রধান ব্যক্তিত্ব | ঐতিহাসিক ঘটনা ও অবদান |
|---|---|---|
| ১. সূচনা ও নামকরণ | হযরত আলী (রা.) ও আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (মৃ. ৬৯ হি.) | অনারবদের মাঝে ইসলাম প্রসারের ফলে কুরআনের তিলাওয়াতে মারাত্মক বিকৃতি দেখে হযরত আলী (রা.) একটি কাগজে লেখেন: «الْكَلَامُ كُلُّهُ ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ: اسْمٌ، وَفِعْلٌ، وَحَرْفٌ… انْحُ هَذَا النَّحْوَ يَا أَبَا الْأَسْوَدِ» (অর্থাৎ—হে আবুল আসওয়াদ! এই পথ ও রীতির অনুসরণ করো)। আলী (রা.)-এর এই নির্দেশসূচক শব্দ ‘উনহু’ থেকেই শাস্ত্রটির নাম হয় ‘নাহু’। |
| ২. বসরার বৈয়াকরণ ধারা (مدرسة البصرة) | আল-খলীল ইবনে আহমদ ও ইমাম সিবাওয়াইহি (মৃ. ১৮০ হি.) | সিবাওয়াইহি রচনা করেন বিশ্ববিখ্যাত ‘আল-কিতাব’ (الكتاب), যা আরবি ব্যাকরণের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংবিধান। |
| ৩. কুফার বৈয়াকরণ ধারা (مدرسة الكوفة) | ইমাম আল-কিসাঈ (মৃ. ১৮৯ হি.) ও আল-ফাররা | বসরার কঠোর যুক্তিবাদী নিয়মের বিপরীতে তাঁরা আরব্য বেদুইনদের ব্যবহারিক ভাষাকে প্রামাণ্য ধরে দ্বিতীয় প্রভাবশালী ব্যাকরণ ধারা প্রতিষ্ঠা করেন। |
| ৪. পরবর্তী সংকলন ও সংস্কার | ইবনে জিন্নি, আল-জামাখশারী (মুফাচ্ছাল প্রণেতা) ও ইবনে মালিক (আলফিয়া প্রণেতা) | সহজে ব্যাকরণ আয়ত্ত করার জন্য হাজার লাইনের কাব্য ‘আলফিয়া ইবনে মালিক’ ও ‘কাফিয়া’ রচিত হয়। |
উপসংহার
ইলমুন নাহু কোনো স্থবির নিয়মাবলী নয়; এটি আরবি ভাষার আত্মা ও কুরআনের সুরক্ষাকবচ। ফাযিল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নাহুর ব্যুৎপত্তি অর্জন করা এক অপরিহার্য অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব।
২. كم قسما للكلمة؟ بين كل قسم مع بيان وجوه التسمية [কালিমার প্রকারভেদ, নামকরণের কারণ ও আলামত]
ভূমিকা ও কালিমার পরিচয়
আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানবমুখ নিঃসৃত প্রতিটি অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা শব্দকে ‘কালিমা’ (الكلمة – একক শব্দ) বলা হয়। বাক্য গঠনের প্রথম ও মৌলিক একক হলো কালিমা। সমস্ত আরবি ভাষার সুবিশাল শব্দভাণ্ডারকে ব্যাকরণবিদগণ অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে তিনটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত করেছেন।
কালিমার সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
- সংজ্ঞা: কালিমা হলো—«قَوْلٌ مُفْرَدٌ مَوْضُوعٌ لِمَعْنًى مُفْرَدٍ» অর্থাৎ—একটি একক অর্থ প্রকাশের জন্য মানবপ্রস্তুত একক অর্থপূর্ণ পদ।
- প্রকারভেদ: কালিমা প্রধানত তিন প্রকার—(১) ইসম (الاسم – বিশেষ্য), (২) ফেল (الفعل – ক্রিয়া), এবং (৩) হরফ (الحرف – অব্যয়)।
কালিমার তিন প্রকারের নামকরণ ও তাদের বিশিষ্ট আলামতসমূহ
| প্রকার | নামকরণের কারণ (وجوه التسمية) | প্রধান আলামত বা বৈশিষ্ট্য (العلامات) | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১. ইসম (الاسم) | ‘উসলু’ (উচ্চতা) অথবা ‘সিমা’ (চিহ্ন) ধাতু থেকে নির্গত; কেননা ইসম অন্য দুই প্রকারের ওপর মর্যাদা ও ব্যবহারে শীর্ষস্থান অধিকার করে। | শুরুতে ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত হওয়া, তানভীন গ্রহণ করা, পূর্বে হরফে জার আসা, মুদাফ হওয়া, এবং মুসনাদ ইলাইহি হওয়া। | كِتَابٌ (কিতাবুন), زَيْدٌ (যায়েদুন), الْقَلَمُ (আল-ক্বালামু)। |
| ২. ফেল (الفعل) | এর অর্থ কর্ম বা ক্রিয়া; কারণ এটি এমন অর্থ প্রকাশ করে যার সাথে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ তিনটি কালের যে কোনো একটি কাল সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকে। | পূর্বে ‘ক্বাদ’ (قد), ‘সীন’ (س), ‘সাওফা’ (سوف) বসা, জযমকারী বা নসবকারী হরফ আসা, এবং সর্বনাম ‘তায়ে তা’নীস সাকিনাহ’ (تْ) গ্রহণ করা। | كَتَبَ (সে লিখেছে), يَكْتُبُ (সে লিখছে/লিখবে), اِكْتُبْ (তুমি লেখো)। |
| ৩. হরফ (الحرف) | ‘তারফ’ বা প্রান্ত থেকে নির্গত; কারণ এটি বাক্যের মূল অঙ্গ নয়, বরং এক প্রান্ত বা মাধ্যম হিসেবে অন্য শব্দের সংযোগ ঘটায়। | ইসম বা ফেলের কোনো আলামত বা চিহ্ন গ্রহণ না করা; এবং অন্য শব্দের সাথে যুক্ত না হলে নিজে নিজে কোনো স্বাধীন পূর্ণ অর্থ প্রকাশে অক্ষম হওয়া। | مِنْ (হতে), فِي (মধ্যে), عَلَى (ওপর), إِلَى (দিকে)। |
কালাম (الكلام)-এর সংজ্ঞা ও শর্তসমূহ
সাহিত্য ও ব্যাকরণশাস্ত্রে ‘কালাম’ হলো পূর্ণাঙ্গ বাক্য। ইমাম ইবনে মালিক বলেন: «كَلَامُنَا لَفْظٌ مُفِيدٌ كَاسْتَقِمْ»। কালাম হওয়ার জন্য চারটি মৌলিক শর্ত পূরণ হতে হবে:
- লাফজ (اللفظ): মানুষের মুখ নিঃসৃত ধ্বনি বা শব্দ হতে হবে।
- মুরাক্কাব (المركب): কমপক্ষে দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত যৌগিক রূপ হতে হবে (যেমন: মুবতাদা-খবর বা ফেল-ফায়েল)।
- মুফিদ (المفيد): এমন পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করতে হবে যাতে শ্রোতার মনে আর কোনো কিছু জানার ব্যাকুলতা বা অপেক্ষা অবশিষ্ট না থাকে।
- মওজু বিল ওয়াজ’য়ি (بالوضع): আরবি ভাষার ব্যাকরণিক রীতি ও শব্দবিন্যাস অনুসারে গঠিত হতে হবে।
উপসংহার
কালিমা ও কালামের এই সুষম বিভাজন প্রমাণ করে যে আরবি ভাষা কত নিখুঁত গাণিতিক ও কাঠামোগত শৃঙ্খলার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৩. عرف الاسم المعرب، وما حكمه؟ وكم قسما له؟ بين كل قسم مفصلا وممثلا [মু’রাব, মাবনী ও গাইরে মুনসারিফের ৯টি কারণ]
ভূমিকা ও পরিচিতি
আরবি ভাষায় বাক্যের বিভিন্ন স্থানে আমেল (عامل – প্রভাবক)-এর পরিবর্তনের কারণে শব্দের শেষাক্ষরের যে ব্যাকরণিক রূপান্তর ঘটে, তাকে কেন্দ্র করে শব্দকে ‘মু’রাব’ (المعرب) এবং ‘মাবনী’ (المبني)—এই দুই প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে মু’রাব বিশেষ্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত শাখা হলো ‘গাইরে মুনসারিফ’ (غير المنصرف – অর্ধ-পরিবর্তনশীল শব্দ)।
ইসম মু’রাব ও মাবনীর সংজ্ঞা ও পার্থক্য
- ইসম মু’রাব: যে বিশেষ্যের শেষাক্ষরের এরাব (যম্মা, ফাতহা, কাসরা ইত্যাদি) বিভিন্ন আমেল প্রবেশের কারণে পরিবর্তিত হয় (যেমন: جَاءَ زَيْدٌ، رَأَيْتُ زَيْدًا، مَرَرْتُ بِزَيْدٍ)। এর হুকুম হলো এটি বিভিন্ন অবস্থায় রফা, নসব ও জার গ্রহণ করে।
- মাবনী: যে শব্দের শেষাক্ষর আমেলের পরিবর্তনের পরও সর্বদা একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকে (যেমন: ইসমুল ইশারা ‘هَذَا’, জমির ‘هُوَ’ ইত্যাদি)।
গাইরে মুনসারিফ (غير المنصرف)-এর বিশদ আলোচনা
- সংজ্ঞা: যে মু’রাব বিশেষ্য তার শেষাক্ষরে কখনো ‘তানভীন’ (দু যম্মা, দু ফাতহা, দু কাসরা) গ্রহণ করে না এবং যার মাজরুর (জের) অবস্থায় ‘কাসরা’র পরিবর্তে ‘ফাতহা’ (যবর) হয়, তাকে গাইরে মুনসারিফ বা ‘মামনু’ মিনাস সারফ’ (الممنوع من الصرف) বলা হয়।
- মান’উস সারফ-এর ৯টি কারণ (أسباب منع الصرف التسعة): কোনো শব্দে এই ৯টি কারণের মধ্যে যেকোনো দুটি কারণ পাওয়া গেলে, অথবা এমন একটি কারণ যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত (কায়েম মাকাম) হয়, তবে শব্দটি গাইরে মুনসারিফ হয়।
আসবাবে মান’উস সরফ-এর ৯টি কারণের প্রামাণ্য ছক
| কারণের নাম | অর্থ ও শর্তাবলী | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. আদল (العدل) | শব্দটি তার মূল রূপান্তর থেকে পরিবর্তিত হয়ে অন্য ওজনে রূপ নেওয়া। | عُمَرُ (উমারু – মূল: عامر), زُفَرُ (যুফারু)। |
| ২. ওয়াসফ (الوصف) | শব্দটি জন্মগতভাবে গুণবাচক বিশেষণ হওয়া। | أَحْمَرُ (লাল), سَكْرَانُ (মাতাল)। |
| ৩. তা’নীস (التأنيث) | স্ত্রীবাচক হওয়া (শব্দগত, অর্থগত বা আলিফে তা’নীস দ্বারা)। | فَاطِمَةُ (ফাতিমাতু), زَيْنَبُ (যায়নাবু), حُبْلَى (হুবলা)। |
| ৪. মা’রেফাহ বা আলাম (المعرفة) | কোনো ব্যক্তি, শহর বা স্থানের নির্দিষ্ট নাম (Proper Noun) হওয়া। | إِبْرَاهِيمُ (ইবরাহিমু), مَكَّةُ (মাক্কাতু)। |
| ৫. উজমা (العجمة) | অনারব ভাষা থেকে আরবিতে গৃহীত নাম (তিন অক্ষরের অধিক বিশিষ্ট)। | يُوسُفُ (ইউসুফু), فِرْعَوْنُ (ফিরআওনু)। |
| ৬. জামা’ (الجمع) | সিগায়ে মুনতাহাল জুমূ’ (مُنْتَهَى الْجُمُوعِ)-এর ওজনে গঠিত হওয়া (একাই দুটি কারণের সমান)। | مَسَاجِدُ (মাসাজিদু – مفاعل), مَصَابِيحُ (মাসাবিহু – مفاعيل)। |
| ৭. তারকীব (التركيب) | দুটি শব্দ মিলে কোনো হরফ ছাড়া একটি যৌগিক নাম গঠিত হওয়া। | بَعْلَبَكُّ (বা’লাবাক্কু), حَضْرَمَوْتُ (হাদরামাউতু)। |
| ৮. যিয়াদাতুল আলিফ ওয়ান নূন | শব্দের শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন যুক্ত হওয়া। | عُثْمَانُ (উসমানু), رَمَضَانُ (রমাদান)। |
| ৯. ওজনে ফেল (وزن الفعل) | শব্দটি এমন ওজনে হওয়া যা ক্রিয়াপদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত। | أَحْمَدُ (আহমাদু – افعل), يَزِيدُ (ইয়াযীদু – يفعل)। |
উপসংহার
গাইরে মুনসারিফ শব্দ পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত ও বিশুদ্ধ আরবি রচনার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এই নিয়ম সঠিকভাবে আয়ত্ত করলে আরবি ব্যাকরণের সিংহভাগ জটিলতা দূর হয়ে যায়।
৪. متى يقدم الفاعل على المفعول وجوبا ومتى يقدم المفعول على الفاعل وجوبا؟ [ফায়েল ও মাফউলের তাকদীম ও তাখীর সংক্রান্ত ওয়াজিব সুরতসমূহ]
ভূমিকা ও বাক্যের স্বাভাবিক নিয়ম
আরবি জুমলায়ে ফেলিয়্যাহ (ক্রিয়াপ্রধান বাক্য)-এর স্বাভাবিক ও সাধারণ নিয়ম হলো: প্রথমে ক্রিয়া (الفعل), এরপর কর্তা (الفاعل), এবং সবশেষে কর্ম (المفعول به) আসবে (যেমন: ضَرَبَ زَيْدٌ عَمْرًا – যায়েদ আমরকে প্রহার করল)। তবে অর্থের সুস্পষ্টতা, বিভ্রান্তি নিরসন এবং আলঙ্কারিক গুরুত্বের কারণে কখনো কখনো এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে—কখনো ফায়েলকে মাফউলের পূর্বে আনা ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক) হয়, আবার কখনো মাফউলকে ফায়েলের পূর্বে আনা ওয়াজিব হয়। নিচে এর প্রামাণ্য নিয়মাবলী বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ফায়েলকে মাফউলের পূর্বে আনা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ (وجوب تقديم الفاعل)
- ভ্রান্তি বা অস্পষ্টতার আশঙ্কা থাকলে (خَوْفُ اللَّبْسِ):
যদি ফায়েল ও মাফউল উভয়ের শেষাক্ষরে এরাব প্রকাশে অক্ষম হয় (যেমন উভয়টি ইসমুল মাকসুর হয়) এবং উভয়ের মাঝে কোনো অর্থগত ক্লু বা লক্ষণ না থাকে যার দ্বারা কর্তা ও কর্ম চেনা যায়, তবে বাধ্যতামূলকভাবে প্রথম পদটিকে ফায়েল এবং দ্বিতীয় পদটিকে মাফউল ধরতে হবে। যেমন: «ضَرَبَ مُوسَى عِيسَى» (মুসা ঈসাকে প্রহার করল)। এখানে মুসা ফায়েল হওয়া ওয়াজিব, কারণ তা না হলে কে প্রহারকারী আর কে প্রহৃত তা চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ত।
- ফায়েলটি যখন মুত্তাসিল জমির (সংযুক্ত সর্বনাম) হয়:
যদি ফায়েলটি ক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত জমির হয় এবং মাফউলটি প্রকাশ্য ইসম হয়, তখন ফায়েলকে পূর্বে আনা ওয়াজিব। যেমন: «ضَرَبْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে প্রহার করেছি)। এখানে ‘তু’ (تُ) সর্বনামটি ফেলের সাথে সংলগ্ন থাকা ওয়াজিব।
- মাফউলটি যখন ‘ইল্লা’ বা ‘ইন্নামা’ দ্বারা সীমাবদ্ধ (হাসর) করা হয়:
যদি মাফউলের ওপর حصر (সীমাবদ্ধকরণ) করা হয়, তবে ফায়েল পূর্বে আসবে। যেমন: «إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ» (বিপরীত ক্ষেত্রে মাফউল পূর্বে এসেছে) অথবা «مَا ضَرَبَ زَيْدٌ إِلَّا عَمْرًا» (যায়েদ কেবল আমরকেই প্রহার করেছে)।
২. মাফউলকে ফায়েলের পূর্বে আনা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ (وجوب تقديم المفعول)
- ফায়েলের সাথে এমন জমির যুক্ত থাকা যা মাফউলের দিকে প্রত্যাবর্তন করে:
আরবি ব্যাকরণের শাশ্বত নিয়ম হলো সর্বনাম (জমির) সর্বদা পূর্ববর্তী শব্দের দিকে ফেরে, পরবর্তী শব্দের দিকে ফিরতে পারে না (لفظاً ورتبةً)। তাই ফায়েলে মাফউলের জমির থাকলে মাফউলকে আগে আনতে হবে। যেমন: পবিত্র কুরআনের বাণী—«وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ» (আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহীমকে তাঁর প্রতিপালক পরীক্ষা করেছিলেন)। এখানে ‘রব্বুহু’-এর ‘হু’ সর্বনামটি ইবরাহীমের দিকে ফিরেছে; তাই মাফউল ইবরাহীমকে পূর্বে আনা ওয়াজিব হয়েছে।
- মাফউলটি যখন মুত্তাসিল জমির হয় এবং ফায়েলটি প্রকাশ্য বিশেষ্য হয়:
যেমন: «ضَرَبَنِي زَيْدٌ» (যায়েদ আমাকে প্রহার করল)। এখানে ‘নী’ মাফউলটি ফেলের সাথে সংযুক্ত জমির হওয়ায় তা প্রকাশ্য ফায়েল যায়েদের পূর্বে আসা ওয়াজিব।
- ফায়েলটি যখন ‘ইল্লা’ বা ‘ইন্নামা’ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়:
যেমন পবিত্র কুরআনের সেই অমর আয়াত: «إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ» (নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে)। এখানে খোদাভীতি কেবল আলেমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করায় মাফউল ‘আল্লাহ’কে ফায়েল ‘উলামা’-এর পূর্বে আনা ওয়াজিব হয়েছে।
উপসংহার
ফায়েল ও মাফউলের এই অবস্থান পরিবর্তন কেবল ব্যাকরণিক শৃঙ্খলাই রক্ষা করে না, বরং কুরআনের অর্থ ও আলঙ্কারিক সৌন্দর্যের চরম রহস্য উন্মোচন করে।
৫. عرف المبتداء والخبر، ثم بين المواضع التى تكون فيها النكرة مبتداء ممثلا [মুবতাদা-খবর এবং নাকারাহ মুবতাদা হওয়ার শর্তাবলী]
ভূমিকা ও জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর পরিচয়
আরবি জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ (বিশেষ্যপ্রধান বাক্য)-এর মূল ভিত্তি হলো দুটি পদ: ‘মুবতাদা’ (المبتدأ – উদ্দেশ্য) এবং ‘খবর’ (الخبر – বিধেয়)। সাধারণ নিয়ম অনুসারে মুবতাদা সর্বদা ‘মা’রেফাহ’ (المعرفة – নির্দিষ্ট) হয় এবং খবর সাধারণ ‘নাকারাহ’ (النكرة – অনির্দিষ্ট) হয় (যেমন: «اللَّهُ رَبُّنَا» – আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা; «الْعِلْمُ نُورٌ» – জ্ঞান হলো আলো)। কিন্তু কিছু বিশেষ ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যও (নাকারাহ) মুবতাদা হতে পারে, এবং কিছু ক্ষেত্রে খবরকে মুবতাদার পূর্বে আনা ওয়াজিব হয়।
মুবতাদা ও খবরের সংজ্ঞা
- মুবতাদা: যে মারফু বিশেষ্য বাক্য সূচনা করে এবং যা কোনো শাব্দিক আমেল (যেমন ফেল বা হরফে মুসাব্বাহা) থেকে মুক্ত থাকে (مُجَرَّدٌ عَنِ الْعَوَامِلِ اللَّفْظِيَّةِ)।
- খবর: যে মারফু পদ মুবতাদার সাথে মিলিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন করে এবং বক্তব্যকে সম্পূর্ণ করে।
নাকারা বিশেষ্য মুবতাদা হওয়ার বৈধ ক্ষেত্রসমূহ (মুসাওউগাতে ইবতিদা বিন নাকারাহ)
ইমাম ইবনে মালিক বলেন: «وَلَا يَجُوزُ الِابْتِدَاءُ بِالنَّكِرَهْ * مَا لَمْ تُفِدْ كَعِنْدَ زَيْدٍ نَمِرَهْ» অর্থাৎ—অর্থপূর্ণ ফায়দা প্রদান না করলে নাকারাহ দ্বারা বাক্য শুরু করা যায় না। তবে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে নাকারাহ মুবতাদা হতে পারে:
| শর্ত বা ক্ষেত্র | ব্যাখ্যা ও কারণ | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. নাকারাহ বিশেষিত (মাওসূফ) হলে | নাকারার পর কোনো সিফাত যুক্ত হলে তার সাধারণত্ব কমে নির্দিষ্টতার নিকটবর্তী হয়। | «وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ» (সূরা বাকারা: ২২১)। |
| ২. নাকারাহ ইজাফাতযুক্ত হলে | অপর একটি নাকারার দিকে মুদাফ হলে বিশেষায়িত হয়। | «خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ» (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ ফরজ করেছেন)। |
| ৩. পূর্বে নাফি (নাবোধক) আসলে | নাবোধক হরফের পর নাকারাহ আসলে তা সার্বজনীন অর্থ (আম) প্রকাশ করে। | «مَا أَحَدٌ فِي الدَّارِ» (ঘরে কেউ নেই)। |
| ৪. পূর্বে ইস্তেবহাম (প্রশ্নবোধক) আসলে | প্রশ্নবোধক হরফের পর নাকারাহ সার্বজনীন অর্থ দেয়। | «هَلْ رَجُلٌ فِيكُمْ؟» (তোমাদের মাঝে কি কোনো পুরুষ আছে?)। |
| ৫. খবর যখন যার-মাজরুর বা জরফ হয়ে পূর্বে আসে | খবর মুকাদ্দাম হলে নাকারাহ মুবতাদায়ে মুআখখার হতে পারে। | «فِي الدَّارِ رَجُلٌ» (ঘরের মধ্যে একজন লোক আছে)। |
| ৬. দুআ বা বদদুয়ার ক্ষেত্রে | প্রার্থনা বা অভিশাপ প্রকাশের ক্ষেত্রে নাকারাহ মুবতাদা হয়। | «سَلَامٌ عَلَى إِلْ يَاسِينَ», «وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ»। |
খবরকে মুবতাদার পূর্বে আনা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ (وجوب تقديم الخبر)
- খবর যখন প্রশ্নবোধক শব্দের মতো অগ্রবর্তী হওয়ার হকদার হয়: যেমন: «أَيْنَ الْمَفَرُّ؟» (পলায়নস্থল কোথায়?)। ‘আইনা’ প্রশ্নবোধক শব্দ হওয়ায় তা পূর্বে আনা ওয়াজিব।
- মুবতাদার সাথে এমন জমির থাকলে যা খবরের দিকে ফিরে: যেমন: «فِي الدَّارِ صَاحِبُهَا» (ঘরের ভেতরে রয়েছে তার মালিক)।
- মুবতাদা যখন খাটি নাকারাহ হয় এবং খবর জরফ বা যার-মাজরুর হয়: যেমন: «عِنْدِي مَالٌ» (আমার নিকট অর্থ আছে)।
উপসংহার
মুবতাদা ও খবরের এই নিয়মাবলী বাক্যের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আরবি ভাষার অর্থের গভীরতাকে বহু স্তরে প্রস্ফুটিত করে।
৬. عرف المفعول، وكم قسما له؟ بين بالأمثلة [মাফউলের সংজ্ঞা ও এর ৫টি প্রকারের বিশদ বিশ্লেষণ]
ভূমিকা ও মানসুবাতের গুরুত্ব
আরবি ব্যাকরণে যে সকল বিশেষ্য নসব (যবরযুক্ত অবস্থা) গ্রহণ করে, তাদের সম্মিলিতভাবে ‘আল-মানসুবাত’ (المنصوبات) বলা হয়। বাক্যতত্ত্বে ক্রিয়ার প্রভাব ও ঘটনার স্থান, কাল, ধরন এবং আনুষঙ্গিক অবস্থা বর্ণনার জন্য মানসুবাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ফাযিল পরীক্ষার সিলেবাসভুক্ত মাফউলের ৫টি প্রকার, হাল ও ইসতিসনার প্রামাণ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. মাফউল (المفعول)-এর সংজ্ঞা ও এর ৫টি প্রকার (المفاعيل الخمسة)
মাফউল হলো এমন মানসুব বিশেষ্য, যার ওপর কর্তার ক্রিয়া সম্পাদিত হয় অথবা যার কারণে ক্রিয়া ঘটে। মাফউল সর্বমোট পাঁচ প্রকার:
| মাফউলের প্রকার | সংজ্ঞা ও পরিচয় | কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. মফুলুন বিহি (المفعول به) | যার ওপর সরাসরি কর্তার ক্রিয়া পতিত হয়। | «خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ» (আল্লাহ আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন)। |
| ২. মফুলুন মুতলাক (المفعول المطلق) | ক্রিয়ার মূলধাতু (মাসদার) যা ক্রিয়ার গুরুত্ব, সংখ্যা বা ধরন বর্ণনায় আসে। | «وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا» (আল্লাহ মুসার সাথে সুস্পষ্টভাবে কথা বলেছিলেন)। |
| ৩. মফুলুন ফীহি (المفعول فيه) | জরফে জামান (সময়) বা জরফে মাকান (স্থান) যাতে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়। | «سَافَرْتُ لَيْلًا» (আমি রাতে সফর করেছি), «جَلَسْتُ أَمَامَكَ»। |
| ৪. মফুলুন লাহু (المفعول له) | যে উদ্দেশ্য বা কারণের জন্য ক্রিয়াটি সম্পাদিত হয়। | «وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ» (দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তানদের হত্যা করো না)। |
| ৫. মফুলুন মা’আহু (المفعول معه) | ‘ওয়াও মাইয়াত’ (সাথে অর্থবোধক)-এর পর যে বিশেষ্যের সাথে একত্রে কাজ সংঘটিত হয়। | «سِرْتُ وَالنِّيلَ» (আমি নীল নদের তীর ধরে হাঁটলাম)। |
২. আল-হাল ও যুলহাল (الحال وذو الحال)
- সংজ্ঞা: যে মানসুব নাকারাহ বিশেষ্য ফেল বা ফায়েল অথবা মাফউলের ক্রিয়া সম্পাদনের সময়কালীন মানসিক বা শারীরিক অবস্থা (হায়আত) বর্ণনা করে, তাকে ‘হাল’ (الحال) বলে; আর যার অবস্থা বর্ণনা করা হয় তাকে ‘জুলহাল’ (ذو الحال) বলে। যেমন: «جَاءَ زَيْدٌ رَاكِبًا» (যায়েদ আরোহী অবস্থায় আসল)। এখানে ‘রাকিবান’ হলো হাল এবং ‘যায়েদ’ হলো জুলহাল।
- হুকুম: হাল সর্বদা ‘নাকারাহ’ (অনির্দিষ্ট) এবং ‘মানসুব’ হয়; আর জুলহাল সর্বদা ‘মা’রেফাহ’ (নির্দিষ্ট) হয়।
- হালকে জুলহালের পূর্বে আনা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত: (১) হাল যখন প্রশ্নবোধক শব্দ হয় (যেমন: «كَيْفَ جَاءَ زَيْدٌ؟»); (২) জুলহাল যখন মাওসূফবিহীন নাকারাহ হয় (যেমন: «فِيهَا قَائِمًا رَجُلٌ»)।
৩. আল-ইসতিসনা (الاستثناء)
কোনো বাক্য থেকে ‘ইল্লা’ (إِلَّا) বা এর সমার্থক কোনো আদাত (যেমন غير، سوى، خلا، عدا، حاشا)-এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে পূর্ববর্তী সাধারণ হুকুম থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ইসতিসনা বলা হয়। যাকে বাদ দেওয়া হয় তাকে ‘মুসতাসনা’ এবং যা থেকে বাদ দেওয়া হয় তাকে ‘মুসতাসনা মিনহু’ বলে (যেমন: «فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا إِبْلِيسَ»)।
উপসংহার
মাফউল, হাল ও ইসতিসনা আরবি গদ্য ও পদ্যের সৌন্দর্য ও ভাবপ্রকাশের নিখুঁত মাধ্যম।
৭. ما الحال؟ وما حكم الحال وذى الحال؟ ومتى يجب تقديم الحال على ذى الحال؟ [হাল ও জুলহালের সংজ্ঞা, হুকুম ও তাকদীমের শর্ত]
ভূমিকা ও মানসুবাতের গুরুত্ব
আরবি ব্যাকরণে যে সকল বিশেষ্য নসব (যবরযুক্ত অবস্থা) গ্রহণ করে, তাদের সম্মিলিতভাবে ‘আল-মানসুবাত’ (المنصوبات) বলা হয়। বাক্যতত্ত্বে ক্রিয়ার প্রভাব ও ঘটনার স্থান, কাল, ধরন এবং আনুষঙ্গিক অবস্থা বর্ণনার জন্য মানসুবাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ফাযিল পরীক্ষার সিলেবাসভুক্ত মাফউলের ৫টি প্রকার, হাল ও ইসতিসনার প্রামাণ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. মাফউল (المفعول)-এর সংজ্ঞা ও এর ৫টি প্রকার (المفاعيل الخمسة)
মাফউল হলো এমন মানসুব বিশেষ্য, যার ওপর কর্তার ক্রিয়া সম্পাদিত হয় অথবা যার কারণে ক্রিয়া ঘটে। মাফউল সর্বমোট পাঁচ প্রকার:
| মাফউলের প্রকার | সংজ্ঞা ও পরিচয় | কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. মফুলুন বিহি (المفعول به) | যার ওপর সরাসরি কর্তার ক্রিয়া পতিত হয়। | «خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ» (আল্লাহ আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন)। |
| ২. মফুলুন মুতলাক (المفعول المطلق) | ক্রিয়ার মূলধাতু (মাসদার) যা ক্রিয়ার গুরুত্ব, সংখ্যা বা ধরন বর্ণনায় আসে। | «وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا» (আল্লাহ মুসার সাথে সুস্পষ্টভাবে কথা বলেছিলেন)। |
| ৩. মফুলুন ফীহি (المفعول فيه) | জরফে জামান (সময়) বা জরফে মাকান (স্থান) যাতে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়। | «سَافَرْتُ لَيْلًا» (আমি রাতে সফর করেছি), «جَلَسْتُ أَمَامَكَ»। |
| ৪. মফুলুন লাহু (المفعول له) | যে উদ্দেশ্য বা কারণের জন্য ক্রিয়াটি সম্পাদিত হয়। | «وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ» (দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তানদের হত্যা করো না)। |
| ৫. মফুলুন মা’আহু (المفعول معه) | ‘ওয়াও মাইয়াত’ (সাথে অর্থবোধক)-এর পর যে বিশেষ্যের সাথে একত্রে কাজ সংঘটিত হয়। | «سِرْتُ وَالنِّيلَ» (আমি নীল নদের তীর ধরে হাঁটলাম)। |
২. আল-হাল ও যুলহাল (الحال وذو الحال)
- সংজ্ঞা: যে মানসুব নাকারাহ বিশেষ্য ফেল বা ফায়েল অথবা মাফউলের ক্রিয়া সম্পাদনের সময়কালীন মানসিক বা শারীরিক অবস্থা (হায়আত) বর্ণনা করে, তাকে ‘হাল’ (الحال) বলে; আর যার অবস্থা বর্ণনা করা হয় তাকে ‘জুলহাল’ (ذو الحال) বলে। যেমন: «جَاءَ زَيْدٌ رَاكِبًا» (যায়েদ আরোহী অবস্থায় আসল)। এখানে ‘রাকিবান’ হলো হাল এবং ‘যায়েদ’ হলো জুলহাল।
- হুকুম: হাল সর্বদা ‘নাকারাহ’ (অনির্দিষ্ট) এবং ‘মানসুব’ হয়; আর জুলহাল সর্বদা ‘মা’রেফাহ’ (নির্দিষ্ট) হয়।
- হালকে জুলহালের পূর্বে আনা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত: (১) হাল যখন প্রশ্নবোধক শব্দ হয় (যেমন: «كَيْفَ جَاءَ زَيْدٌ؟»); (২) জুলহাল যখন মাওসূফবিহীন নাকারাহ হয় (যেমন: «فِيهَا قَائِمًا رَجُلٌ»)।
৩. আল-ইসতিসনা (الاستثناء)
কোনো বাক্য থেকে ‘ইল্লা’ (إِلَّا) বা এর সমার্থক কোনো আদাত (যেমন غير، سوى، خلا، عدا، حاشا)-এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে পূর্ববর্তী সাধারণ হুকুম থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ইসতিসনা বলা হয়। যাকে বাদ দেওয়া হয় তাকে ‘মুসতাসনা’ এবং যা থেকে বাদ দেওয়া হয় তাকে ‘মুসতাসনা মিনহু’ বলে (যেমন: «فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا إِبْلِيسَ»)।
উপসংহার
মাফউল, হাল ও ইসতিসনা আরবি গদ্য ও পদ্যের সৌন্দর্য ও ভাবপ্রকাশের নিখুঁত মাধ্যম।
৮. ما الأفعال الناقصة؟ وكم هى؟ وما عملها؟ لم سميت الأفعال الناقصة ناقصة؟ [আফ’আলে নাকাসাহ: সংখ্যা, আমল ও নামকরণের কারণ]
ভূমিকা ও আফ’আলে নাকাসার পরিচয়
আরবি ব্যাকরণে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর শুরুতে প্রবেশ করে বাক্যের মূল কাঠামোকে রূপান্তরিতকারী বিশেষ একদল ক্রিয়াকে ‘আল-আফ’আলুন নাকাসাহ’ (الأفعال الناقصة – অসম্পূর্ণ ক্রিয়াসমূহ) বা ‘কা-না ও তার সহযোগী ক্রিয়াসমূহ’ (كان وأخواتها) বলা হয়। এগুলো শাব্দিক ও অর্থগত উভয় দিক থেকেই জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
আফ’আলে নাকাসার সংখ্যা ও তালিকা
সর্বসম্মত বৈয়াকরণদের মতে, আফ’আলে নাকাসাহ মোট ১৩টি। এগুলো প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত:
- বিনা শর্তে আমলকারী ক্রিয়া (৮টি):
- كَانَ (কানা): অতীতকালে সাব্যস্ত হওয়া (যেমন: كَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا)।
- أَصْبَحَ (আসবাহা): সকালের সময়ে উপনীত হওয়া।
- أَضْحَى (আদহা): দ্বিপ্রহরের সময়ে উপনীত হওয়া।
- ظَلَّ (জাল্লা): দিনের বেলা কোনো অবস্থায় অব্যাহত থাকা।
- أَمْسَى (আমসা): সন্ধ্যার সময়ে উপনীত হওয়া।
- بَاتَ (বাতা): রাতের বেলা কোনো অবস্থায় থাকা।
- صَارَ (সারা): এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়া (যেমন: صَارَ الطِّينُ خَزَفًا)।
- لَيْسَ (লাইসা): বর্তমান কালকে অস্বীকার বা নাবোধক করা (যেমন: لَيْسَ زَيْدٌ قَائِمًا)।
- পূর্বে নাফি বা নিষেধের শর্তে আমলকারী (৪টি):
- مَا زَالَ (মা যা-লা), مَا بَرِحَ (মা বারিহা), مَا فَتِئَ (মা ফাতিআ), مَا انْفَكَّ (মা-নফাক্কা): এই চারটি ক্রিয়ার অর্থই হলো কোনো অবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকা (যেমন: مَا زَالَ زَيْدٌ عَالِمًا – যায়েদ অবিরত আলেম রয়েছে)।
- পূর্বে ‘মায়ে মাসদারিয়্যাহ জারফিয়্যাহ’ শর্তে আমলকারী (১টি):
- مَا دَامَ (মা দা-মা): যতক্ষণ কোনো অবস্থা স্থায়ী থাকে (যেমন: وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا)।
আফ’আলে নাকাসার ব্যাকরণিক আমল (কাজের ধরন)
এই ক্রিয়াসমূহ জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর পূর্বে বসে মুবতাদাকে নিজের ‘ইসম’ (اسمها) বানিয়ে রফা (যম্মা) প্রদান করে এবং খবরকে নিজের ‘খবর’ (خبرها) বানিয়ে নসব (যবর) প্রদান করে। যেমন: «كَانَ زَيْدٌ قَائِمًا» (যায়েদ দণ্ডায়মান ছিল)। এখানে যায়েদ হলো কানার ইসম (মারফু) এবং ক্বাঈমান হলো কানার খবর (মানসুব)।
এদের ‘নাকিস’ বা অসম্পূর্ণ ক্রিয়া বলার ভাষাতাত্ত্বিক কারণ (لم سميت ناقصة؟)
সাধারণ বা পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়াকে ‘ফে’লে তাম’ (فعل تام) বলা হয়, যা কেবল ফায়েল (কর্তা) পেলেই একটি বাক্য সম্পূর্ণ করে ফেলে (যেমন: «قَامَ زَيْدٌ» – যায়েদ দাঁড়াল; এখানে কথা সম্পূর্ণ)। কিন্তু এই ক্রিয়াগুলোকে ‘নাকিস’ বা অসম্পূর্ণ বলার প্রধান দুটি কারণ রয়েছে:
- ১. কর্তার দ্বারা বাক্য অসম্পূর্ণ থাকা: এই ক্রিয়াসমূহ কেবল নিজের ইসম (ফায়েলের মতো পদ) গ্রহণ করে বাক্য সম্পূর্ণ করতে পারে না; যতক্ষণ না খবর উল্লেখ করা হয় ততক্ষণ কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ পায় না। যদি কেউ বলে—«كَانَ زَيْدٌ…» (যায়েদ ছিল…), তবে শ্রোতা অপূর্ণ থেকে যায়—যায়েদ কী ছিল? তাই পূর্ণতার জন্য খবরের মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে একে নাকিস বলা হয়।
- ২. ‘হাদাস’ বা মূল কাজের অর্থ শূন্য হওয়া: সাধারণ ক্রিয়ার মধ্যে দুটি উপাদান থাকে—’হাদাস’ (কাজ) এবং ‘জামান’ (কাল)। কিন্তু ‘কানা’ এবং এর সহযোগী ক্রিয়াগুলোর মধ্যে কেবল ‘কাল’ (সময়) থাকে, কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ থাকে না।
উপসংহার
আফ’আলে নাকাসাহ আরবি ভাষায় সময়, কাল ও রূপান্তরের ধারণাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রকাশ করার এক শক্তিশালী ব্যাকরণিক হাতিয়ার।
৯. عرف ترخيم المنادى، متى يرخم المنادى؟ بين حكم آخر المنادى المرخم ممثلا [তারখীমে মুনাদা: সংজ্ঞা, শর্ত ও শেষাক্ষরের এরাবের বিধান]
ভূমিকা ও তারখীমের পরিচয়
আরবি ব্যাকরণে সম্বোধন পদ বা মুনাদাকে উচ্চারণে সহজ, কোমল ও শ্রুতিমধুর করার জন্য তার শেষাক্ষর বিলুপ্ত করার যে বিশেষ ব্যাকরণিক নিয়ম রয়েছে, তাকে ‘তারখীমে মুনাদা’ (ترخيم المنادى – সম্বোধিত পদের সংক্ষেপণ) বলা হয়। আরবি ভাষায় ‘তারখীমের’ শাব্দিক অর্থ কোমল করা বা লঘুকরণ।
তারখীমের পারিভাষিক সংজ্ঞা ও শর্তাবলী
- সংজ্ঞা: «هُوَ حَذْفُ آخِرِ الْمُنَادَى تَخْفِيفًا فِي النِّدَاءِ» অর্থাৎ—সম্বোধনের সময় উচ্চারণের সুবিধার্থে মুনাদার শেষাক্ষরটি ফেলে দেওয়াকে তারখীম বলে।
- তারখীম হওয়ার শর্তাবলী: যে কোনো শব্দে তারখীম করা যায় না; নিচের দুটি প্রধান শর্তে তারখীম বৈধ হয়:
- শব্দটি যদি ‘তায়ে তা’নীস’ (স্ত্রীবাচক গোল তা ‘ة’) যুক্ত হয়, তবে তা ৩ বা ততোধিক অক্ষরের যে কোনো শব্দেই তারখীম বৈধ হবে (যেমন: فَاطِمَةُ থেকে يَا فَاطِمُ, شَاةٌ থেকে يَا شَا)।
- শব্দটিতে যদি তায়ে তা’নীস না থাকে, তবে দুটি অতিরিক্ত শর্ত পূরণ হতে হবে: (ক) শব্দটি অবশ্যই নির্দিষ্ট নাম (আলাম বা Proper Noun) হতে হবে; এবং (খ) শব্দটি তিন অক্ষরের বেশি (রুবায়ী বা তার ঊর্ধ্বে) বিশিষ্ট হতে হবে। যেমন: مَالِكُ থেকে يَا مَالِ; حَارِثُ থেকে يَا حَارِ। কিন্তু যায়েদ (زيد) বা আমর (عمرو)-এ তারখীম নিষিদ্ধ।
তারখীমের পর মুনাদার শেষাক্ষরের এরাবের বিধান (لغات الترخيم)
আরব ব্যাকরণবিদ ও ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, শেষাক্ষর ফেলে দেওয়ার পর অবশিষ্ট শেষাক্ষরে এরাব দেওয়ার দুটি শাস্ত্রীয় পদ্ধতি বা লুগাত প্রচলিত রয়েছে:
| লুগাতের নাম | নিয়ম ও প্রয়োগ | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. লুগাতে মান ইয়ানতাজির (لُغَةُ مَنْ يَنْتَظِرُ) | বিযুক্ত অক্ষরটির আগমন প্রত্যাশা করা হয়। ফলে অবশিষ্ট শেষ বর্ণটির আদি হরকত অপরিবর্তিত থাকে। যেমন ‘মালেক’-এর লামে কাসরা বহাল থাকবে। | «يَا مَالِ» (সূরা যুখরুফ: ৭৭ – জাহান্নামের দারোগাকে ডাক দেওয়া হয়েছে: وَنَادَوْا يَا مَالِ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ)। |
| ২. লুগাতে মান লা ইয়ানতাজির (لُغَةُ مَنْ لَا يَنْتَظِرُ) | বিযুক্ত অক্ষরটি আর ফিরবে না বলে বিবেচনা করা হয় এবং অবশিষ্ট অংশকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মুনাদা মনে করে তার শেষাক্ষরে নতুন করে ‘যম্মা’ দেওয়া হয়। | «يَا مَالُ» (মালেকু থেকে লামে যম্মা দিয়ে)। একইভাবে: «يَا حَارُ» (হারিসু থেকে)। |
উপসংহার
তারখীমে মুনাদা ব্যাকরণের এক অনন্য অলঙ্কার, যা আবেগময় ডাক ও মহাকাব্যে শব্দের ভাবগাম্ভীর্যকে চরম মাত্রায় উন্নীত করে।
১০. ما المستثنى؟ وكم قسما له؟ اذكر إعراب كل قسم ممثلا [ইসতিসনা: সংজ্ঞা, রুকনসমূহ ও এরাবের ৩টি সুরত]
ভূমিকা ও ইসতিসনার পরিচয়
আরবি ব্যাকরণশাস্ত্রে কোনো সাধারণ হুকুম বা বিধান থেকে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বাদ দেওয়ার বিশেষ প্রক্রিয়াকে ‘আল-ইসতিসনা’ (الاستثناء – ব্যতিক্রমকরণ) বলা হয়। এটি কালামের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী আলঙ্কারিক ও আইনি উপাদান।
ইসতিসনার রুকন ও উপাদানসমূহ
একটি পূর্ণাঙ্গ ইসতিসনা বাক্যে প্রধানত তিনটি অঙ্গ থাকে: (১) মুসতাসনা মিনহু (المستثنى منه): যে সাধারণ দল বা সমষ্টি থেকে বাদ দেওয়া হয়; (২) আদাতুল ইসতিসনা (أداة الاستثناء): ব্যতিক্রমকারী অব্যয় (যেমন: إِلَّا); (৩) মুসতাসনা (المستثنى): যাকে বাদ দেওয়া হলো। যেমন: «حَضَرَ الطُّلَّابُ إِلَّا زَيْدًا» (ছাত্ররা উপস্থিত হলো যায়েদ ছাড়া)।
আদাতুল ইসতিসনার শ্রেণিবিভাগ
ইসতিসনার অব্যয়সমূহ প্রধানত তিন প্রকার:
- ১. হরফ: إِلَّا (ইল্লা)—এটি ইসতিসনার মূল ভিত্তি।
- ২. ইসম: غَيْرُ (গায়রু), سِوَى (সিওয়া)—এদের পরবর্তী শব্দ সর্বদা মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাজরুর হয়।
- ৩. হরফ বা ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত: خَلَا (খালা), عَدَا (আদা), حَاشَا (হাশা)—এদের পর মানসুব ও মাজরুর উভয়টি বৈধ। পূর্বে ‘মা’ আসলে (যেমন: ما خلا) এরা নিশ্চিত ক্রিয়া হয় এবং পরবর্তী পদ মানসুব হয়।
‘ইল্লা’ দ্বারা মুসতাসনার এরাবের ৩টি মৌলিক সুরত
| সুরত বা ক্ষেত্র | শর্ত ও পরিচয় | এরাবের হুকুম | কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১. কালামে তাম মুজাব (كلام تام موجب) | বাক্যে মুসতাসনা মিনহু বিদ্যমান থাকে এবং বাক্যটি হ্যাঁ-বোধক হয়। | মুসতাসনাকে নসব দেওয়া ওয়াজিব। | «فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا إِبْلِيسَ» (সূরা হিজর: ৩০-৩১)। |
| ২. কালামে তাম মানফী (كلام تام منفي) | মুসতাসনা মিনহু আছে কিন্তু বাক্যটি নাফি বা নেতিবাচক হয়। | দুটি সুরত বৈধ: (ক) মুসতাসনা মিনহুর ‘বদল’ হিসেবে তার এরাব পাওয়া; অথবা (খ) ইসতিসনার ভিত্তিতে নসব হওয়া। | «مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِنْهُمْ» (সূরা নিসা: ৬৬ – বদল হিসেবে মারফু)। |
| ৩. কালামে মুফাররাগ বা নাকিস (مفرغ / ناقص) | মুসতাসনা মিনহু বিলুপ্ত থাকে এবং বাক্যটি নাফি হয়। | আমেল অনুসারে এরাব হবে (ইল্লাকে বাদ দিয়ে বাক্য বিবেচনা করা হয়)। | «وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ» (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪ – ‘রাসূলুন’ খবর হওয়ায় মারফু)। |
মুত্তাসিল ও মুনক্বাতি’ ইসতিসনার পার্থক্য
মুসতাসনা যদি মুসতাসনা মিনহুর সমজাতীয় হয়, তাকে ‘মুত্তাসিল’ বলে (যেমন মানুষের মধ্য থেকে মানুষ বাদ দেওয়া)। আর যদি ভিন্নজাতীয় হয়, তাকে ‘মুনক্বাতি” বলে (যেমন: «فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ… إِلَّا إِبْلِيسَ»—ইবলিস ফেরেশতাদের প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল না)।
উপসংহার
ইসতিসনার নিয়মাবলী ইসলামি ফিকহের মূলনীতি ও আইনের ধারা বিশ্লেষণে সর্বাধিক প্রামাণ্য হাতিয়ার।
১১. ما الأسماء المجرورة؟ وكم هى؟ اذكر بالأمثلة [মাজরূরাত: প্রকারভেদ ও ইজাফাতের ৩টি রূপ]
ভূমিকা ও মাজরূরাতের পরিচয়
আরবি ব্যাকরণে যে সকল বিশেষ্য পদের শেষাক্ষরে কাসরা (জের) বা এর স্থলাভিষিক্ত হরফ (যেমন ইয়া) প্রকাশ পায়, সেগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘আল-আসমাউল মাজরূরাহ’ (الأسماء المجرورة – জেরবিশিষ্ট বিশেষ্যসমূহ) বলা হয়। এরাব বা বাক্যতত্ত্বে এটি তৃতীয় মৌলিক স্তর।
মাজরূরাতের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
বৈয়াকরণদের পরিভাষায়: «الْمَجْرُورَاتُ هِيَ الْأَسْمَاءُ الَّتِي اقْتَضَى الْعَامِلُ فِيهَا الْكَسْرَةَ أَوْ مَا نَابَ عَنْهَا»। আরবি ভাষায় একটি বিশেষ্য কেবল দুটি প্রত্যক্ষ কারণে মাজরুর হতে পারে এবং একটি পরোক্ষ কারণে (তাবে’ হিসেবে) মাজরুর হয়:
১. হরফে জারের মাধ্যমে মাজরুর (المجرور بالحرف)
কোনো বিশেষ্যের পূর্বে ‘হরফে জার’ আসলে শব্দটি মাজরুর হয়। আরবি ভাষায় হরফে জার সর্বমোট ১৭টি। বিখ্যাত কবিতাংশ: «بَا، تَا، كَاف، لَام، وَاو، مُنْذُ، مُذْ، خَلَا * رُبَّ، حَاشَا، مِنْ، عَدَا، فِي، عَنْ، عَلَى * حَتَّى، إِلَى»।
- কুরআনী উদাহরণ: «سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى» (সূরা বনী ইসরাঈল: ১)। এখানে ‘বিআবদিহী’, ‘মিনাল মাসজিদি’, ‘ইলাল মাসজিদি’—হরফে জারের কারণে মাজরুর।
২. ইজাফাতের মাধ্যমে মাজরুর (المجرور بالإضافة)
দুটি বিশেষ্যের পারস্পরিক সম্বন্ধের ফলে দ্বিতীয় শব্দটি (المضاف إليه – মুদাফ ইলাইহি) সর্বদা মাজরুর হয়। এই ইজাফাত ৩টি অন্তর্নিহিত অর্থে ব্যবহৃত হয়:
| ইজাফাতের অর্থগত ধরন | অন্তর্নিহিত হরফ ও ব্যাখ্যা | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. লামিয়্যাহ (بمعنى اللام) | মালিকানা বা বিশেষ অধিকার নির্দেশ করে (সর্বাধিক প্রচলিত)। | «كِتَابُ زَيْدٍ» (যায়েদের কিতাব – মূলত: كِتَابٌ لِزَيْدٍ), «بَيْتُ اللَّهِ»। |
| ২. বয়ানিয়্যাহ বা মিনিয়্যাহ (بمعنى مِنْ) | মুদাফটি মুদাফ ইলাইহির উপাদান বা উপাদানজাত অংশ বোঝায়। | «خَاتَمُ فِضَّةٍ» (রৌপ্য আংটি – মূলত: خَاتَمٌ مِنْ فِضَّةٍ), «ثَوْبُ حَرِيرٍ»। |
| ৩. জরফিয়্যাহ (بمعنى فِي) | মুদাফ ইলাইহিটি কাজের স্থান বা সময় নির্দেশ করে। | «صَلَاةُ اللَّيْلِ» (রাতের নামাজ – মূলত: صَلَاةٌ فِي اللَّيْلِ), «مَكْرُ اللَّيْلِ»। |
৩. মাজরূরের অনুগামী হওয়ার কারণে মাজরুর (المجرور بالتبعية)
পূর্বে বর্ণিত কোনো মাজরুর বিশেষ্যের সিফাত (গুণ), আতফ, তাওকীদ বা বদল হলে তা-ও মাজরুর হয়। যেমন: «مَرَرْتُ بِرَجُلٍ عَالِمٍ»।
উপসংহার
মাজরূরাতের সঠিক প্রয়োগ আরবি ভাষার মাধুর্য ও বাক্যের অন্বয়কে বিশুদ্ধতা দান করে।
১২. ما اسم الفاعل؟ وكيف يبنى؟ وما شروط عمله؟ بين ممثلا [ইসমে ফায়েল: গঠন প্রণালী ও আমলের শর্তাবলী]
ভূমিকা ও ইসমে ফায়েলের পরিচয়
আরবি শব্দগঠন ও বাক্যতত্ত্বে ক্রিয়া সম্পাদনকারী ব্যক্তিকে নির্দেশ করার জন্য ধাতু থেকে যে বিশেষ্যটি নির্গত হয়, তাকে ‘ইসমুল ফায়েল’ (اسم الفاعل – কর্তৃবাচক বিশেষ্য) বলা হয়। এটি একাধারে বিশেষ্য পদের মতো গণ্য হয় এবং ক্রিয়াপদের মতো তার কর্মকে নসব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
ইসমে ফায়েলের সংজ্ঞা
বৈয়াকরণদের পরিভাষায়: «هُوَ اسْمٌ مُشْتَقٌّ مِنَ الْفِعْلِ الْمَبْنِيِّ لِلْمَعْلُومِ لِلدَّلَالَةِ عَلَى مَنْ قَامَ بِهِ الْفِعْلُ عَلَى وَجْهِ الْحُدُوثِ وَالتَّجَدُّدِ» অর্থাৎ—যা মারুফ (সক্রিয়) ক্রিয়া থেকে নির্গত হয়ে এমন সত্তাকে নির্দেশ করে যে অস্থায়ীভাবে কাজটি সম্পাদন করেছে।
ইসমে ফায়েল গঠনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (طريقة صياغته)
- সুলাসী মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট) ধাতু থেকে: সর্বদা ‘ফা-ইলুন’ (فَاعِلٌ) ওজনে গঠিত হয়।
- যেমন: كَتَبَ থেকে كَاتِبٌ (লেখক), نَصَرَ থেকে نَاصِرٌ (সাহায্যকারী), قَالَ থেকে قَائِلٌ।
- গায়রে সুলাসী (চার বা ততোধিক অক্ষরবিশিষ্ট মাযীদ ফীহ) ধাতু থেকে: গঠনপ্রণালী ৩টি ধাপে সম্পন্ন হয়:
- (১) প্রথমে ক্রিয়ার মুদারে মারুফের রূপ গ্রহণ করা (যেমন: يُكْرِمُ);
- (২) শুরুতে আলামতে মুদারের পরিবর্তে একটি পেশযুক্ত মীম (مُ) যুক্ত করা;
- (৩) শেষাক্ষরের পূর্বের অক্ষরে কাসরা (জের) দেওয়া।
- যেমন: أَكْرَمَ – يُكْرِمُ থেকে مُكْرِمٌ (সম্মানকারী); اسْتَغْفَرَ – يَسْتَغْفِرُ থেকে مُسْتَغْفِرٌ (ক্ষমা প্রার্থনাকারী)।
ইসমে ফায়েল ক্রিয়ার ন্যায় আমল করার শর্তাবলী (شروط عمله)
ইসমে ফায়েল তার নিজস্ব ক্রিয়ার মতো ফায়েলকে রফা এবং মাফউলকে নসব প্রদান করতে পারে। এর আমল করার দুটি প্রধান অবস্থা রয়েছে:
| অবস্থা | আমলের শর্ত ও নিয়ম | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. আলিফ-লাম (ال) যুক্ত হলে | কোনো শর্ত ছাড়াই সর্বাবস্থায় তার ক্রিয়ার মতো আমল করে (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ সর্বকালেই)। | «الْمُكْرِمُ زَيْدًا حَاضِرٌ» (যায়েদকে সম্মানকারী ব্যক্তি উপস্থিত)। এখানে ‘যায়দান’ মাফউলে বিহী হিসেবে মানসুব। |
| ২. আলিফ-লাম মুক্ত (নাকারাহ) হলে | দুটি শর্ত পূরণ হলে আমল করে: (১) অর্থ অবশ্যই বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালের হতে হবে (অতীতকালের হলে আমল করে না); এবং (২) পূর্বে মুবতাদা, মাওসূফ, নাফি, ইস্তেবহাম বা যুলহালের ওপর নির্ভর (ই’তিমাদ) করতে হবে। | «أَضَارِبٌ زَيْدٌ عَمْرًا؟» (যায়েদ কি আমরকে প্রহার করছে?)। «مَا قَاتِلٌ زَيْدٌ أَخَاهُ»। |
উপসংহার
ইসমে ফায়েল আরবি ভাষার শব্দসংক্ষেপণ ও প্রায়োগিক সৌন্দর্যের এক অনুপম ব্যাকরণিক কৌশল।
১৩. ما الصفة المشبهة؟ وكيف تبنى؟ وما عملها؟ بين بالأمثلة [সিফাতে মুশাব্বাহাহ: সংজ্ঞা, ওজনসমূহ ও আমল]
ভূমিকা ও সিফাতে মুশাব্বাহার পরিচিতি
আরবি ব্যাকরণে কোনো সত্তার স্থায়ী, সহজাত বা দীর্ঘস্থায়ী স্বভাবজাত গুণ নির্দেশ করার জন্য যে বিশেষ্য পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে ‘আস-সিফাতুল মুশাব্বাহাহ’ (الصفة المشبهة باسم الفاعل – ইসমে ফায়েলের সদৃশ গুণবাচক পদ) বলা হয়। এটি সাময়িক কোনো কাজ নয় বরং ব্যক্তির স্থায়ী প্রকৃতি প্রকাশ করে।
সিফাতে মুশাব্বাহার সংজ্ঞা
আল্লামা ইবনে মালিক বলেন: «صِفَةٌ اسْتُحْسِنَ جَرُّ فَاعِلِهَا مَعْنًى بِهَا»। বৈয়াকরণদের সাধারণ পরিভাষায়: «هُوَ اسْمٌ مُشْتَقٌّ مِنْ فِعْلٍ ثُلَاثِيٍّ لَازِمٍ لِلدَّلَالَةِ عَلَى ثُبُوتِ الصِّفَةِ لِمَوْصُوفِهَا ثُبُوتًا مُسْتَمِرًّا لَا عَلَى التَّجَدُّدِ وَالْحُدُوثِ» অর্থাৎ—যা সুলাসী লাযিম ধাতু থেকে নির্গত হয়ে মাওসূফের জন্য গুণের চিরন্তন ও স্থায়ী স্থায়িত্ব প্রমাণ করে, সাময়িক নবায়ন বা ঘটনা নয়।
ইসমে ফায়েল ও সিফাতে মুশাব্বাহার মধ্যকার ৩টি মৌলিক পার্থক্য
- ১. স্থায়িত্ব বনাম সাময়িকতা: ইসমে ফায়েল কোনো কাজের অস্থায়ী বা সাময়িক সম্পাদন বোঝায় (যেমন: ضَارِبٌ – প্রহারকারী, যা যে কোনো সময় শেষ হয়ে যায়); কিন্তু সিফাতে মুশাব্বাহাহ স্থায়ী গুণ বোঝায় (যেমন: حَسَنٌ – সুন্দর, شُجَاعٌ – সাহসী; যা সহজে বিদূরিত হয় না)।
- ২. ক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা: ইসমে ফায়েল মুতাআদ্দি ও লাযিম উভয় প্রকার ধাতু থেকে গঠিত হয়; কিন্তু সিফাতে মুশাব্বাহাহ কেবল ‘ফে’লে লাযিম’ (অকর্মক ক্রিয়া) থেকেই গঠিত হয়।
- ৩. কালের সংযোগ: ইসমে ফায়েল বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালের অর্থের সাথে শর্তযুক্ত থাকে; কিন্তু সিফাতে মুশাব্বাহাহ কালমুক্তভাবে গুণটির নিরবচ্ছিন্ন স্থায়িত্ব নির্দেশ করে।
সিফাতে মুশাব্বাহার বহুল প্রচলিত ওজনসমূহ (الأوزان المشهورة)
| ওজন (وزن) | অর্থ ও ক্ষেত্র | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. أَفْعَلُ (স্ত্রী: فَعْلَاءُ) | রং, রূপ অথবা শারীরিক স্থায়ী খুঁত বা সৌন্দর্য প্রকাশে। | أَحْمَرُ (লাল – স্ত্রী: حَمْرَاءُ), أَعْمَى (অন্ধ – স্ত্রী: عَمْيَاءُ), أَكْحَلُ। |
| ২. فَعْلَانُ (স্ত্রী: فَعْلَى) | তৃষ্ণা, ক্ষুধা, শূন্যতা বা আবেগময় পরিপূর্ণতা বোঝাতে। | عَطْشَانُ (পিপাসার্ত – স্ত্রী: عَطْشَى), غَضْبَانُ (ক্রুদ্ধ), سَكْرَانُ। |
| ৩. فَعِيلٌ | স্থায়ী নৈতিক চরিত্র ও গভীর মানবিক মহত্ত্ব প্রকাশে। | كَرِيمٌ (মহৎ), شَرِيفٌ (সম্ভ্রান্ত), عَلِيمٌ (মহাজ্ঞানী)। |
| ৪. فَعَلٌ | সহজাত প্রকৃতি ও দেহাবয়ব বোঝাতে। | حَسَنٌ (সুন্দর), بَطَلٌ (বীরযোদ্ধা)। |
| ৫. فُعَالٌ ও فِعَالٌ | বীরত্ব ও স্বভাবের তেজস্বিতা প্রকাশে। | شُجَاعٌ (সাহসী), جُبَانٌ (কাপুরুষ)। |
সিফাতে মুশাব্বাহার ব্যাকরণিক আমল
সিফাতে মুশাব্বাহাহ তার পরবর্তী শব্দে ৩ ধরনের এরাব দিতে পারে: (১) রফা—ফায়েল হিসেবে (যেমন: «زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهُهُ»); (২) নসব—মুশাব্বাহ বিল মাফউল বা তাময়ীয হিসেবে (যেমন: «زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهًا»); (৩) জার—ইজাফাতের কারণে (যেমন: «زَيْدٌ حَسَنُ الْوَجْهِ»)।
উপসংহার
সিফাতে মুশাব্বাহাহ আরবি ভাষার বর্ণনামূলক প্রকাশভঙ্গিকে অভূতপূর্ব মাধুর্য ও স্থায়ী সৌন্দর্য দান করেছে।
১৪. عرف الفعل اللازم والمتعدي مع ذكر أقسام المتعدي بالامثلة [ফে’লে লাযিম ও মুতাআদ্দি: সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ]
ভূমিকা ও ক্রিয়ার কর্মগ্রাহিতা
আরবি ব্যাকরণে ক্রিয়া তার বক্তব্য পূর্ণ করার জন্য কর্ম বা মাফউলের মুখাপেক্ষী কি না, সে বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়াকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়: ‘ফে’লে লাযিম’ (الفعل اللازم – অকর্মক ক্রিয়া) এবং ‘ফে’লে মুতাআদ্দি’ (الفعل المتعدي – সকর্মক ক্রিয়া)।
সংজ্ঞা ও মৌলিক পার্থক্য
- ফে’লে লাযিম: যে ক্রিয়া কেবল তার ফায়েলকে (কর্তা) নিয়েই পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে এবং বক্তব্য সমাপ্তির জন্য কোনো মাফউলে বিহীর প্রয়োজন পড়ে না। যেমন: «قَامَ زَيْدٌ» (যায়েদ দাঁড়াল), «حَسُنَ الْوَلَدُ» (ছেলেটি ভালো হলো)।
- ফে’লে মুতাআদ্দি: যে ক্রিয়া শুধু কর্তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে না, বরং অর্থের পূর্ণতার জন্য মাফউলে বিহীর দিকে অতিক্রম করে। যেমন: «كَتَبَ زَيْدٌ رِسَالَةً» (যায়েদ একটি চিঠি লিখল)।
ফে’লে মুতাআদ্দির শ্রেণিবিভাগ
কর্ম বা মাফউলের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মুতাআদ্দি ক্রিয়া তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
- একটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى مفعول واحد): যেমন—«خَلَقَ اللَّهُ الْأَرْضَ» (আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন)।
- দুটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى مفعولين):
- যে দুটি মাফউল মূলত মুবতাদা ও খবর ছিল (আফ’আলুল কুলূব ও রুজহান): যেমন—ظَنَّ، عَلِمَ، رَأَى; যেমন: «ظَنَنْتُ زَيْدًا عَالِمًا» (আমি যায়েদকে আলেম ধারণা করেছিলাম)।
- যে দুটি মাফউল মূলত মুবতাদা-খবর ছিল না (আফ’আলুল আতা): যেমন—أَعْطَى، سَأَلَ، كَسَا; যেমন: «أَعْطَيْتُ الْفَقِيرَ دِرْهَمًا» (আমি দরিদ্রকে রৌপ্যমুদ্রা দিলাম)।
- তিনটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى ثلاثة مفاعيل): যেমন—أَعْلَمَ، أَرَى، نَبَّأَ، أَخْبَرَ; যেমন: «أَعْلَمَ اللَّهُ النَّاسَ الْعِلْمَ نَافِعًا» (আল্লাহ মানুষকে জানিয়ে দিলেন যে জ্ঞান উপকারী)।
লাযিম ক্রিয়াকে মুতাআদ্দি বানানোর পদ্ধতিসমূহ
একটি লাযিম (অকর্মক) ক্রিয়াকে নিচের তিনটি প্রধান উপায়ে মুতাআদ্দি (সকর্মক) বানানো যায়:
- ১. বাবে ইফ’আলে স্থানান্তর (হামযায়ে তা’দিয়াহ দ্বারা): যেমন: «خَرَجَ زَيْدٌ» (যায়েদ বের হলো) থেকে «أَخْرَجْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে বের করলাম)।
- ২. বাবে তাফ’ঈলে স্থানান্তর (আইন বর্ণকে তাশদীদ দিয়ে): যেমন: «فَرِحَ زَيْدٌ» (যায়েদ আনন্দিত হলো) থেকে «فَرَّحْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে আনন্দিত করলাম)।
- ৩. হরফে জার সহযোগে: যেমন: «ذَهَبَ زَيْدٌ بِالْمَالِ» (যায়েদ সম্পদ নিয়ে গেল)।
উপসংহার
লাযিম ও মুতাআদ্দির সঠিক জ্ঞান বাক্যের কর্মকারক এবং কুরআনের নির্দেশ ও প্রতিশ্রুতির গভীর ভাবার্থ অনুধাবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর: সালাহুদ্দীন আইয়ূবী / মানুষ সমাজবদ্ধ জীব]
মجموعه (ب) – অনুবাদ ও প্রায়োগিক অনুশীলন
ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের ‘খ’ বিভাগে আরবি থেকে বাংলায় রূপান্তর এবং বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে অনুবাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। নিচে ২০২৪ সালের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্রতিটি অনুচ্ছেদের প্রামাণ্য ও উচ্চমানসম্পন্ন অ্যাকাডেমিক সমাধান দেওয়া হলো:
১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর]
«مَاتَ صَلَاحُ الدِّينِ بَعْدَ مَا قَضَى مُهِمَّتَهُ إِلَى حَدٍّ بَعِيدٍ، وَانْجَلَى الْخَطَرُ الْقَرِيبُ الْعَاجِلُ كَانَ يُهَدِّدُ كِيَانَ الْإِسْلَامِ وَمَرْكَزَهُ، وَتَرَاجَعَ سُبُلُ الصَّلِيبِيِّينَ وَقَدْ تَعَلَّمُوا دُرُوسًا مُفِيدَةً وَدَرَسُوا جَوَانِبَ الضَّعْفِ وَالْقُوَّةِ فِي كِلْتَا الْجَبْهَتَيْنِ، رَجَعُوا لِيَسْتَعِدُّوا لِلصَّلِيبِيَّةِ الْجَدِيدَةِ فِي الْقَرْنِ التَّاسِعَ عَشَرَ الْمَسِيحِيِّ…»
বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
বীর সেনাপতি ও সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী তাঁর ওপর অর্পিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও মিশন বহুলাংশে সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ওফাত বরণ করেন। ফলে অতি সন্নিকটে বিরাজমান সেই চরম প্রত্যক্ষ বিপদ অপসারিত হলো, যা ইসলামের অস্তিত্ব ও এর কেন্দ্রীয় শাসনকাঠামোকে ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছিল। ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হলো; এবং তারা এই পরাজয় থেকে কিছু অত্যন্ত কার্যকরী শিক্ষা গ্রহণ করল। তারা উভয় পক্ষের দুর্বলতা ও শক্তির দিকগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করল। অতঃপর তারা নিজেদের ব্যর্থতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে পুনরায় প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করল, যাতে ঊনবিংশ শতাব্দীতে নতুন সাম্রাজ্যবাদী রূপে তাদের পরবর্তী নব্য ক্রুসেড বা উপনিবেশবাদী আগ্রাসন পরিচালনা করতে পারে।
[বিকল্প অনুচ্ছেদ (أو)]:
«إِنَّ الْإِنْسَانَ لَا يُمْكِنُهُ أَنْ يَقُومَ بِجَمِيعِ حَاجَاتِهِ الضَّرُورِيَّةِ بِمُفْرَدِهِ، بَلْ هُوَ مُحْتَاجٌ إِلَى مُسَاعَدَةِ غَيْرِهِ لَهُ. فَالْمَرْءُ قَلِيلٌ بِنَفْسِهِ، كَثِيرٌ بِإِخْوَانِهِ. وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنَّا إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعِيشَ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا وَهُوَ مُطْمَئِنُّ الْقَلْبِ، مَحْبُوبٌ بَيْنَ إِخْوَانِهِ، إِذَا أَصَابَهُ مَكْرُوهٌ أَعَانُوهُ، وَإِنْ مَرِضَ زَارُوهُ، وَإِذَا احْتَاجَ سَاعَدُوهُ، فَعَلَيْهِ أَنْ يَكُونَ كَرِيمَ الْأَخْلَاقِ، لَيِّنَ الْجَانِبِ، حَسَنَ الْمُعَامَلَةِ مَعَ النَّاسِ.»
বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
নিশ্চয়ই কোনো একক মানুষের পক্ষে তার প্রাত্যহিক জীবনের সমস্ত মৌলিক ও অপরিহার্য প্রয়োজন একাকী পূরণ করা কিছুতেই সম্ভব নয়; বরং সে সর্বদাই অন্য মানুষের সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। মানুষ ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও নগণ্য, কিন্তু তার সমাজ ও ভাইদের সহযোগিতায় সে অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাচুর্যময়। আমাদের মধ্যে যে কেউ যদি এই পার্থিব জগতে এমনভাবে বসবাস করতে চায় যে তার অন্তর থাকবে পরম শান্তিময় ও শঙ্কামুক্ত, সে তার ভাইদের মাঝে থাকবে অত্যন্ত প্রিয়ভাজন—যাতে তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসলে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, সে অসুস্থ হলে তারা তাকে দেখতে আসবে এবং কোনো প্রয়োজনে তারা পাশে দাঁড়াবে—তবে তার জন্য অবশ্যকর্তব্য হলো: তাকে হতে হবে পরম সচ্চরিত্রবান, বিনয়ী, কোমল স্বভাবের অধিকারী এবং মানুষের সাথে সদাচরণ ও উত্তম লেনদেনে অভ্যস্ত।
১৬. ترجم العبارات الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর]
মূল বাংলা টেক্সট:
“হস্তীবাহিনীর ঘটনা মুহাম্মাদ (স)-এর নবুয়তের পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল। ঘটনাটি সংক্ষেপে এরূপ: আবিসিনিয়ার রাজা আবরাহা ইয়েমেনে তার তৈরি গির্জার প্রতি অপমানের প্রতিশোধ নিতে আল্লাহর ঘর (কা’বা) ধ্বংস করতে চেয়েছিল। ঐ গির্জায় মালেক ইবনে কিনানা নামক জনৈক আরব প্রবেশ করে তার আসবাবপত্র নিয়ে তামাশা করেছিল। এতে আবরাহা ক্রুদ্ধ হয় এবং কা’বা ঘর ধ্বংস করার শপথ করে। এই উদ্দেশ্যে সে এক বিরাট সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করে যার আগে সে হাতির পাল চালায়।”
الترجمة إلى العربية الفصحى :
«وَقَعَتْ حَادِثَةُ أَصْحَابِ الْفِيلِ قَبْلَ بِعْثَةِ مُحَمَّدٍ ﷺ، وَخُلَاصَةُ الْحَادِثَةِ هِيَ: أَنَّ أَبْرَهَةَ مَلِكَ الْحَبَشَةِ فِي الْيَمَنِ أَرَادَ أَنْ يَهْدِمَ بَيْتَ اللَّهِ الْحَرَامَ (الْكَعْبَةَ الْمُشَرَّفَةَ) انْتِقَامًا لِلْإِهَانَةِ الَّتِي لَحِقَتْ بِالْكَنِيسَةِ الَّتِي بَنَاهَا بِصَنْعَاءَ؛ إِذْ دَخَلَ تِلْكَ الْكَنِيسَةَ رَجُلٌ عَرَبِيٌّ مِنْ بَنِي مَالِكِ بْنِ كِنَانَةَ فَلَطَّخَهَا وَاسْتَهْزَأَ بِهَا. فَغَضِبَ أَبْرَهَةُ غَضَبًا شَدِيدًا، وَأَقْسَمَ عَلَى هَدْمِ الْكَعْبَةِ، فَجَهَّزَ جَيْشًا عَرَمْرَمًا جَرَّارًا، وَقَدَّمَ أَمَامَهُ فِيلَةً ضَخْمَةً لِتَدْمِيرِ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ.»
[বিকল্প বাংলা অনুচ্ছেদ (অথবা)]:
“ইসলামের পূর্বে মক্কায় সকল মানুষ উত্তম চরিত্রের অধিকারী এক যুবকের কথা বলাবলি করত। তারা যুবকদের মধ্যে তাঁর মতো কাউকে দেখেনি। কারণ, তিনি তাঁর কথায় সত্যবাদী, কখনো মিথ্যা বলেন না। আর মানুষের সাথে লেনদেনেও তিনি বিশ্বস্ত। এজন্য তারা তাঁর নাম দিয়েছিল ‘সত্যবাদী, বিশ্বাসী’ (আল-আমিন)।”
الترجمة إلى العربية الفصحى :
«كَانَ النَّاسُ فِي مَكَّةَ قَبْلَ بَعْثَةِ الْإِسْلَامِ يَتَحَدَّثُونَ عَنْ فَتًى ذِي خُلُقٍ عَظِيمٍ، وَمَا رَأَوْا قَطُّ بَيْنَ شَبَابِهِمْ مِثْلَهُ فِي النُّبْلِ وَالْفَضِيلَةِ؛ لِأَنَّهُ كَانَ صَادِقًا فِي أَقْوَالِهِ لَا يَكْذِبُ أَبَدًا، وَأَمِينًا فِي مُعَامَلَاتِهِ مَعَ النَّاسِ لَا يَخُونُ قَطُّ، وَلِذَلِكَ لَقَّبُوهُ جَمِيعًا بِـ “الصَّادِقِ الْأَمِينِ”.»
১৬. ترجم العبارات الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর: হস্তীবাহিনীর ঘটনা / আল-আমিন]
মجموعه (ب) – অনুবাদ ও প্রায়োগিক অনুশীলন
ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের ‘খ’ বিভাগে আরবি থেকে বাংলায় রূপান্তর এবং বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে অনুবাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। নিচে ২০২৪ সালের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্রতিটি অনুচ্ছেদের প্রামাণ্য ও উচ্চমানসম্পন্ন অ্যাকাডেমিক সমাধান দেওয়া হলো:
১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর]
«مَاتَ صَلَاحُ الدِّينِ بَعْدَ مَا قَضَى مُهِمَّتَهُ إِلَى حَدٍّ بَعِيدٍ، وَانْجَلَى الْخَطَرُ الْقَرِيبُ الْعَاجِلُ كَانَ يُهَدِّدُ كِيَانَ الْإِسْلَامِ وَمَرْكَزَهُ، وَتَرَاجَعَ سُبُلُ الصَّلِيبِيِّينَ وَقَدْ تَعَلَّمُوا دُرُوسًا مُفِيدَةً وَدَرَسُوا جَوَانِبَ الضَّعْفِ وَالْقُوَّةِ فِي كِلْتَا الْجَبْهَتَيْنِ، رَجَعُوا لِيَسْتَعِدُّوا لِلصَّلِيبِيَّةِ الْجَدِيدَةِ فِي الْقَرْنِ التَّاسِعَ عَشَرَ الْمَسِيحِيِّ…»
বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
বীর সেনাপতি ও সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী তাঁর ওপর অর্পিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও মিশন বহুলাংশে সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ওফাত বরণ করেন। ফলে অতি সন্নিকটে বিরাজমান সেই চরম প্রত্যক্ষ বিপদ অপসারিত হলো, যা ইসলামের অস্তিত্ব ও এর কেন্দ্রীয় শাসনকাঠামোকে ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছিল। ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হলো; এবং তারা এই পরাজয় থেকে কিছু অত্যন্ত কার্যকরী শিক্ষা গ্রহণ করল। তারা উভয় পক্ষের দুর্বলতা ও শক্তির দিকগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করল। অতঃপর তারা নিজেদের ব্যর্থতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে পুনরায় প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করল, যাতে ঊনবিংশ শতাব্দীতে নতুন সাম্রাজ্যবাদী রূপে তাদের পরবর্তী নব্য ক্রুসেড বা উপনিবেশবাদী আগ্রাসন পরিচালনা করতে পারে।
[বিকল্প অনুচ্ছেদ (أو)]:
«إِنَّ الْإِنْسَانَ لَا يُمْكِنُهُ أَنْ يَقُومَ بِجَمِيعِ حَاجَاتِهِ الضَّرُورِيَّةِ بِمُفْرَدِهِ، بَلْ هُوَ مُحْتَاجٌ إِلَى مُسَاعَدَةِ غَيْرِهِ لَهُ. فَالْمَرْءُ قَلِيلٌ بِنَفْسِهِ، كَثِيرٌ بِإِخْوَانِهِ. وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنَّا إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعِيشَ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا وَهُوَ مُطْمَئِنُّ الْقَلْبِ، مَحْبُوبٌ بَيْنَ إِخْوَانِهِ، إِذَا أَصَابَهُ مَكْرُوهٌ أَعَانُوهُ، وَإِنْ مَرِضَ زَارُوهُ، وَإِذَا احْتَاجَ سَاعَدُوهُ، فَعَلَيْهِ أَنْ يَكُونَ كَرِيمَ الْأَخْلَاقِ، لَيِّنَ الْجَانِبِ، حَسَنَ الْمُعَامَلَةِ مَعَ النَّاسِ.»
বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
নিশ্চয়ই কোনো একক মানুষের পক্ষে তার প্রাত্যহিক জীবনের সমস্ত মৌলিক ও অপরিহার্য প্রয়োজন একাকী পূরণ করা কিছুতেই সম্ভব নয়; বরং সে সর্বদাই অন্য মানুষের সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। মানুষ ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও নগণ্য, কিন্তু তার সমাজ ও ভাইদের সহযোগিতায় সে অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাচুর্যময়। আমাদের মধ্যে যে কেউ যদি এই পার্থিব জগতে এমনভাবে বসবাস করতে চায় যে তার অন্তর থাকবে পরম শান্তিময় ও শঙ্কামুক্ত, সে তার ভাইদের মাঝে থাকবে অত্যন্ত প্রিয়ভাজন—যাতে তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসলে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, সে অসুস্থ হলে তারা তাকে দেখতে আসবে এবং কোনো প্রয়োজনে তারা পাশে দাঁড়াবে—তবে তার জন্য অবশ্যকর্তব্য হলো: তাকে হতে হবে পরম সচ্চরিত্রবান, বিনয়ী, কোমল স্বভাবের অধিকারী এবং মানুষের সাথে সদাচরণ ও উত্তম লেনদেনে অভ্যস্ত।
১৬. ترجم العبارات الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর]
মূল বাংলা টেক্সট:
“হস্তীবাহিনীর ঘটনা মুহাম্মাদ (স)-এর নবুয়তের পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল। ঘটনাটি সংক্ষেপে এরূপ: আবিসিনিয়ার রাজা আবরাহা ইয়েমেনে তার তৈরি গির্জার প্রতি অপমানের প্রতিশোধ নিতে আল্লাহর ঘর (কা’বা) ধ্বংস করতে চেয়েছিল। ঐ গির্জায় মালেক ইবনে কিনানা নামক জনৈক আরব প্রবেশ করে তার আসবাবপত্র নিয়ে তামাশা করেছিল। এতে আবরাহা ক্রুদ্ধ হয় এবং কা’বা ঘর ধ্বংস করার শপথ করে। এই উদ্দেশ্যে সে এক বিরাট সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করে যার আগে সে হাতির পাল চালায়।”
الترجمة إلى العربية الفصحى :
«وَقَعَتْ حَادِثَةُ أَصْحَابِ الْفِيلِ قَبْلَ بِعْثَةِ مُحَمَّدٍ ﷺ، وَخُلَاصَةُ الْحَادِثَةِ هِيَ: أَنَّ أَبْرَهَةَ مَلِكَ الْحَبَشَةِ فِي الْيَمَنِ أَرَادَ أَنْ يَهْدِمَ بَيْتَ اللَّهِ الْحَرَامَ (الْكَعْبَةَ الْمُشَرَّفَةَ) انْتِقَامًا لِلْإِهَانَةِ الَّتِي لَحِقَتْ بِالْكَنِيسَةِ الَّتِي بَنَاهَا بِصَنْعَاءَ؛ إِذْ دَخَلَ تِلْكَ الْكَنِيسَةَ رَجُلٌ عَرَبِيٌّ مِنْ بَنِي مَالِكِ بْنِ كِنَانَةَ فَلَطَّخَهَا وَاسْتَهْزَأَ بِهَا. فَغَضِبَ أَبْرَهَةُ غَضَبًا شَدِيدًا، وَأَقْسَمَ عَلَى هَدْمِ الْكَعْبَةِ، فَجَهَّزَ جَيْشًا عَرَمْرَمًا جَرَّارًا، وَقَدَّمَ أَمَامَهُ فِيلَةً ضَخْمَةً لِتَدْمِيرِ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ.»
[বিকল্প বাংলা অনুচ্ছেদ (অথবা)]:
“ইসলামের পূর্বে মক্কায় সকল মানুষ উত্তম চরিত্রের অধিকারী এক যুবকের কথা বলাবলি করত। তারা যুবকদের মধ্যে তাঁর মতো কাউকে দেখেনি। কারণ, তিনি তাঁর কথায় সত্যবাদী, কখনো মিথ্যা বলেন না। আর মানুষের সাথে লেনদেনেও তিনি বিশ্বস্ত। এজন্য তারা তাঁর নাম দিয়েছিল ‘সত্যবাদী, বিশ্বাসী’ (আল-আমিন)।”
الترجمة إلى العربية الفصحى :
«كَانَ النَّاسُ فِي مَكَّةَ قَبْلَ بَعْثَةِ الْإِسْلَامِ يَتَحَدَّثُونَ عَنْ فَتًى ذِي خُلُقٍ عَظِيمٍ، وَمَا رَأَوْا قَطُّ بَيْنَ شَبَابِهِمْ مِثْلَهُ فِي النُّبْلِ وَالْفَضِيلَةِ؛ لِأَنَّهُ كَانَ صَادِقًا فِي أَقْوَالِهِ لَا يَكْذِبُ أَبَدًا، وَأَمِينًا فِي مُعَامَلَاتِهِ مَعَ النَّاسِ لَا يَخُونُ قَطُّ، وَلِذَلِكَ لَقَّبُوهُ جَمِيعًا بِـ “الصَّادِقِ الْأَمِينِ”.»
১৭. اكتب مقالة عربية من إحدى الموضوعات التالية [বিশদ আরবি প্রবন্ধ: ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় / আরবি ভাষার গুরুত্ব / জুলাই বিপ্লব ২০২৪ / পদ্মা সেতু]
১৭. اكتب مقالة عربية من إحدى الموضوعات التالية [বিশদ আরবি প্রবন্ধ রচনা]
ফাযিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষায় নির্ধারিত সমকালীন ও ঐতিহ্যবাহী বিষয়ের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ, তথ্যবহুল ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় প্রবন্ধ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিচে ২০২৪ সালের প্রধান প্রবন্ধসমূহ সম্পূর্ণ অ্যাকাডেমিক মানে প্রস্তুত করে দেওয়া হলো:
(أ) مقالة بعنوان : «الْجَامِعَةُ الْإِسْلَامِيَّةُ الْعَرَبِيَّةُ فِي بَنْغَلَادِيش» [ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়]
المقدمة : تُعدُّ ‘الجامعةُ الإسلاميةُ العربيةُ’ (Islamic Arabic University) في بنغلاديش صرحاً أكاديمياً شامخاً، ونقطةَ تحولٍ تاريخيةٍ في مسيرة التعليم العالي الإسلامي والمدارسي في بلادنا. تأسست هذه الجامعة المركزية بفضل الله تعالى ثم بجهود مخلصة من علماء الأمة في عام 2013م بموجب قانون برلماني رسمي، لتكون المظلة الأكاديمية العليا لجميع المدارس الفاضلة والكاملة المنتشرة في ربوع بنغلاديش.
أهداف الجامعة ورسالتها السامية :
- تحديث التعليم الإسلامي : الجمع المتوازن بين الأصالة الإسلامية المستمدة من الكتاب والسنة وبين المعارف العصرية والعلوم الإنسانية والتقنية الحديثة.
- ترقية مناهج الفاضل والكامل : رفع مستوى الشهادات الدينية لتكون موازية تماماً للدرجات الجامعية المعترف بها عالمياً (الليسانس والماجستير).
- إتقان اللغة العربية : تخريج أجيال من العلماء والدعاة يتقنون اللغة العربية تحدثاً وكتابةً وبحثاً، ليكونوا سفراء للإسلام في المحافل الدولية.
- البحث العلمي الرصين : تشجيع البحوث والدراسات المقارنة في مجالات الشريعة، والاقتصاد الإسلامي، والفلسفة، والدعوة الإسلامية.
الخاتمة : إن الجامعة الإسلامية العربية تمثل الأمل المشرق للأمة في بنغلاديش؛ والواجب على الجميع دعم هذه المؤسسة الفتية لتتبوأ مكانتها الرائدة بين الجامعات الإسلامية الكبرى في العالم الإسلامي مثل الأزهر الشريف والجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة.
(ب) مقالة بعنوان : «أَهَمِّيَّةُ اللُّغَةِ الْعَرَبِيَّةِ بَيْنَ اللُّغَاتِ» [ভাষাসমূহের মাঝে আরবি ভাষার গুরুত্ব]
المقدمة : اللغة العربية ليست مجرد وسيلة للتخاطب القومي، بل هي سيدة اللغات، ووعاء الوحي الإلهي الخاتم، ورمز الهوية الحضارية للأمة الإسلامية جمعاء. اختارها الله سبحانه وتعالى من فوق سبع سماوات لتكون لغة كتابه المجيد كما قال تعالى: ﴿إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ﴾.
عوامل تميز اللغة العربية وأهميتها :
- لغة العبادة والشريعة : لا تصح صلاة مسلم في مشرق الأرض ومغربها إلا بتلاوة آياتها؛ فهي رابطة الأخوة الإيمانية التي تجمع بين مليارَي مسلم باختلاف ألوانهم وألسنتهم.
- السعة والثراء اللغوي والاشتقاقي : تتميز العربية بنظام الاشتقاق البديع وجذور الكلمات الغنية التي تولد آلاف المفردات والمترادفات الدقيقة، مما يجعلها أدق اللغات في التعبير عن خفايا النفس والعلوم.
- لغة الحضارة الإنسانية : قادت العربية ركب الحضارة العالمية في العصر الوسيط لأكثر من ثمانية قرون، وكانت لغة الطب والفلك والفلسفة والعلوم التجريبية التي انتقلت إلى أوروبا فأنارت نهضتها الحديثة.
- الاعتراف الدولي : العربية اليوم هي إحدى اللغات الرسمية الست المعتمدة في منظمة الأمم المتحدة، ويحتفل العالم بها في ‘اليوم العالمي للغة العربية’ في الثامن عشر من ديسمبر كل عام.
الخاتمة : إن تعلم اللغة العربية وإتقانها فرض كفاية على الأمة، ودليل محبة لله ولرسوله الكريم ﷺ. قال الخليفة الراشد عمر بن الخطاب رضي الله عنه: «تَعَلَّمُوا الْعَرَبِيَّةَ فَإِنَّهَا مِنْ دِينِكُمْ».
(ج) مقالة بعنوان : «ثَوْرَةُ يُولْيُو ٢٠٢٤ فِي بَنْغَلَادِيش» [বাংলাদেশে জুলাই ২০২৪-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান]
المقدمة : شهدت بنغلاديش في شهر يوليو عام 2024م ملحمة بطولية وثورة شعبية كبرى قادها الطلاب والشباب بمساندة الجماهير الشعبية، أدت إلى كسر قيود الظلم والاستبداد وفتح صفحة جديدة من الحرية والكرامة والعدالة الاجتماعية في تاريخ الوطن.
الأسباب والدوافع والأحداث :
- شرارة حركة إصلاح نظام الحصص (نظام الكوتا) : بدأت الحركة بمطالب طلابية عادلة وسلمية تطالب بالمساواة وتكافؤ الفرص في الوظائف الحكومية ونبذ المحسوبية.
- التضحيات الجسام والشهداء الأبرار : واجه النظام القمعي المتسلط تلك المطالب بالعنف الشديد، فسقط مئات الشهداء من الطلاب والمواطنين الشجعان (مثل الشهيد أبي سعيد والشهيد مير مغدو)، الذين رووا بدمائهم الزكية شجرة الحرية.
- الوحدة الوطنية والتضامن الشعبي : تحولت حركة الطلاب إلى انتفاضة شعبية عارمة شارك فيها العلماء والعمال والمعلمون وأولياء الأمور في ملحمة وحدة وطنية غير مسبوقة، تجلت فيها روح الأخوة والتكافل.
- سقوط الديكتاتورية وانتصار إرادة الشعب : اضطر رأس النظام الحاكم إلى الفرار في الخامس من أغسطس 2024م أمام أمواج الجماهير الزاحفة نحو العاصمة دكا، معلنةً زوال عهد الاستبداد والفساد.
الخاتمة : إن ثورة يوليو 2024م تُعلمنا أن إرادة الشعوب الحرة لا تُقهر، وأن التضحية في سبيل الحق والعدل هي الطريق الوحيد لبناء ‘بنغلاديش الجديدة’ الخالية من التمييز والظلم.
(د) مقالة بعنوان : «جِسْرُ بَادْمَا الْعِمْلَاق» [বাংলাদেশের গর্ব পদ্মা সেতু]
المقدمة : يُعد ‘جسر بادما’ (Padma Bridge) متعدد الاستخدامات أعظم إنجاز هندسي وتنموي في تاريخ بنغلاديش الحديث، ورمزاً حياً للعزيمة الوطنية والاعتماد على الذات في مواجهة التحديات الدولية والطبيعية الشاقة.
الأهمية الاقتصادية والاجتماعية للجسر :
- ربط الأقاليم : أنهى الجسر عزلة 21 مقاطعة في جنوب غرب البلاد وربطها مباشرة بالعاصمة دكا، مما قلل وقت السفر من ساعات وأيام شاقة عبر العبارات إلى دقائق معدودة وآمنة.
- النهضة الاقتصادية والتجارية : يساهم الجسر في رفع الناتج المحلي الإجمالي للبلاد بنسبة تزيد على 1.2% سنوياً، من خلال تسهيل حركة نقل البضائع والمنتجات الزراعية والصناعية وتنشيط ميناءي مونغلا وبايرا.
- الإعجاز الهندسي : تم تشييد الجسر فوق نهر بادما الهائج الذي يعد ثاني أسرع أنهار العالم جرياناً، باستخدام أعمق أساسات خازوقية فولاذية في تاريخ الهندسة العالمية.
الخاتمة : إن جسر بادما ليس مجرد كتل من الخرسانة والفولاذ، بل هو شريان الحياة الاقتصادية ودليل ساطع على قدرة شعب بنغلاديش على تحقيق المستحيل بسواعده المخلصة.
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের বিষয় কোড কত?
বিষয় কোড ৪০৯ এবং পূর্ণমান ১০০ নম্বর। সময় ৩ ঘণ্টা।
ইলমুন নাহুর প্রথম প্রবক্তা ও জনক কে?
হযরত আলী (রা.)-এর দিকনির্দেশনায় আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (মৃ. ৬৯ হি.) ইলমুন নাহু প্রথম সংকলন করেন।
গাইরে মুনসারিফ শব্দের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য কী?
গাইরে মুনসারিফ শব্দ কখনো তানভীন গ্রহণ করে না এবং মাজরুর অবস্থায় কাসরার পরিবর্তে ফাতহা গ্রহণ করে।
আফ’আলে নাকাসাহ মোট কয়টি ও এদের কাজ কী?
আফ’আলে নাকাসাহ মোট ১৩টি। এরা মুবতাদাকে নিজের ইসম বানিয়ে রফা দেয় এবং খবরকে নসব দেয়।
তারখীমে মুনাদা বলতে কী বোঝায়?
উচ্চারণের সহজতা ও শ্রুতিমধুরতার স্বার্থে মুনাদা বা সম্বোধন পদের শেষাক্ষর বিলুপ্ত করাকে তারখীমে মুনাদা বলে।
সুলাসী মুজাররাদ থেকে ইসমে ফায়েল কোন ওজনে গঠিত হয়?
সুলাসী মুজাররাদ থেকে সর্বদা ‘ফা-ইলুন’ (فَاعِلٌ) ওজনে গঠিত হয়।

