শরহু মা’য়ানিল আছার ৪র্থ পত্র (Sharhu Ma’anil Athar 4th Paper) – 611104, হাদীস – কামিল ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৮০ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস প্রথম পর্ব পরীক্ষা, ২০২৪

বিষয়: শরহু মা’য়ানিল আছার (Sharhu Ma’anil Athar) — ৪র্থ পত্র [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]

বিষয় কোড: ৬১১১০৪ | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০

الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) – [দ্রষ্টব্য : (أ) অংশ হতে চারটি ও (ب) অংশ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

কামিল (মাস্টার্স) হাদীস প্রথম পর্ব পরীক্ষা ২০২৪-এর ‘শরহু মা’য়ানিল আছার’ (Sharhu Ma’anil Athar – বিষয় কোড: ৬১১১০৪) বিষয়ের মূল প্রশ্নপত্র, বিশুদ্ধ তরজমা ও ভাবার্থ, বিস্তারিত তাহকীক ও পরীক্ষার্থীবান্ধব পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফিকহুল হাদীসের অতুলনীয় মাস্টারপিস হিসেবে ইমাম আবু জাফর আত-তহাবী (রহ.) সংকলিত এ কিতাবে প্রতিটি বিধানের পক্ষে বিপরীতমুখী হাদীসের সমন্বয় ও সুদৃঢ় কিয়াসী দালায়েল তুলে ধরা হয়েছে।

পরীক্ষা নির্দেশিকা ও প্রশ্নের বিন্যাস:
১. ‘ক’ বিভাগ (مجموعة – أ): মোট ৭টি ব্যবহারিক হাদীস ভিত্তিক প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নে হাদীসের অনুবাদ, শাব্দিক তাহকীক ও সংশ্লিষ্ট উপ-প্রশ্নের (أ، ب، ج، د، هـ) পূর্ণাঙ্গ সমাধান করতে হবে। যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। (নম্বর: ২০ × ৪ = ৮০)
২. ‘খ’ বিভাগ (مجموعة – ب): ইমাম তহাবী (রহ.)-এর জীবনকর্ম, সংকলন পদ্ধতি ও কিতাবের মর্যাদা বিষয়ক ২টি তাত্ত্বিক প্রশ্ন থেকে যেকোনো ১টির উত্তর দিতে হবে। (নম্বর: ২০ × ১ = ২০)

١- عن ابن عمر (رضـ) قال كان الاذان على عهد النبى صلى الله عليه وسلم مرتين مرتين والاقامة مرة مرة غير انه اذا قال قد قامت الصلوة قالها مرتين فعرفنا انها الاقامة فيتوضأ احدنا ثم يخرج

[১. হযরত ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র যুগে আযানের বাক্যসমূহ ছিল দু-দু’বার করে এবং ইকামতের বাক্যসমূহ ছিল একবার একবার করে; তবে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ বলা হতো দু’বার। ফলে আমরা বুঝতে পারতাম ইকামত শুরু হয়ে গেছে, তখন আমাদের কেউ অজু করত এবং নামাজের জন্য বের হতো। (ক) আযান ও ইকামতের বাক্যসংখ্যার বিষয়ে ফকীহগণের মতানৈক্য বিশ্লেষণ কর; (খ) আযান ও ইকামতের সুন্নাতসমূহ বর্ণনা কর; (গ) মুয়াযযিন কীভাবে আযান প্রদান করবে? (ঘ) আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েয কি-না? (ঙ) তাতসবীব (التثويب)-এর অর্থ কী এবং আযানের পর নামাজের জন্য তাতসবীব করা জায়েয কি?]

হাদীসের বিশদ সরল ভাবার্থ:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আযানের প্রতিটি বাক্য দুই বার করে এবং ইকামতের বাক্যগুলো একবার একবার করে পাঠ করা হতো। তবে ব্যতিক্রম ছিল যে, যখন মুয়াযযিন ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ বলতেন, তখন তা দুই বার বলতেন। এর মাধ্যমে আমরা অবগত হতাম যে ইকামত দেওয়া হচ্ছে, ফলে আমরা দ্রুত অজু সমাপ্ত করে জামাআতের উদ্দেশ্যে বের হতাম।

শাব্দিক তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الْأَذَان أ – ذ – ن نصر / تفعيل مصدر ঘোষণা করা, নামাযের সুনির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত বাক্যে আহ্বান
الْإِقَامَة ق – و – م إفعال مصدر প্রতিষ্ঠা করা, জামাআত দাঁড় করানোর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা
مَرَّتَيْنِ م – ر – ر – اسم مثنى، منصوب بالياء দ্বিবার, দুই দুই বার করে পাঠ করা
فَيَتَوَضَّأُ و – ض – أ تفعل فعل مضارع অজু সম্পাদন করত, পবিত্রতা অর্জন করত
التَّثْوِيب ث – و – ب تفعيل مصدر পুনরাহ্বান, আযানের পর নামাযের জন্য পুনঃঘোষণা দেওয়া

উপ-প্রশ্নসমূহের প্রামাণ্য তাহকীক ও ফিকহী সমাধান:

(أ) ما الاختلاف فى عدد كلمات الاذان والاقامة؟ بين –

[(ক) আযান ও ইকামতের বাক্যসংখ্যার বিষয়ে ফকীহগণের মতানৈক্য বিশ্লেষণ কর]

ইমাম তহাবী (রহ.) বিশদ হাদীস বিশ্লেষণ করে ফকীহদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন:
১. হানাফী মাযহাব (ইমাম তহাবীর সমর্থিত মত): হযরত আবু মাহযূরা ও আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত—আযানের বাক্য মোট ১৫টি (তাকবীর শুরুতে ৪ বার, الشهادتان ৪ বার, الحيعلتان ৪ বার, তাকবীর ২ বার ও কালেমা ১ বার) এবং তারজী’ ছাড়া। আর ইকামতের বাক্য মোট ১৭টি (আযানের মতো সব বাক্য দু-দু’বার এবং ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ দু’বার যোগ হয়ে ১৭টি)।
২. শাফেঈ মাযহাব: আযানের শুরুতে তারজী’ (الترجيع) সহ বাক্য ১৯টি এবং ইকামত একক বাক্য বিশিষ্ট (إفراد الإقامة) মোট ১১টি বাক্য।
৩. মালিকী মাযহাব: আযানের শুরুতে তাকবীর দু’বার (মোট ১৭ বাক্য তারজী’সহ) এবং ইকামত ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ একবারসহ মোট ১০ বাক্য।

(ب) بين سنن الاذان والاقامة –

[(খ) আযান ও ইকামতের সুন্নাতসমূহ বর্ণনা কর]

১. ওজু অবস্থায় পবিত্র হয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো।
২. আযান ধীরস্থিরে তারতীলসহ পাঠ করা এবং ইকামত কিছুটা দ্রুততার সাথে হাদ্বার (حدر) পদ্ধতিতে পাঠ করা।
৩. ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ বলার সময় ডান দিকে এবং ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় বাম দিকে মুখ ফিরানো।
৪. কানের ছিদ্রে তর্জনী আঙুল রাখা।
৫. আযান শেষে দরূদ ও আযানের মাসনূন দু’আ পাঠ করা।

(ج) كيف يصنع المؤذن فى اذانه؟ بين موضحا –

[(গ) মুয়াযযিন কীভাবে আযান প্রদান করবে তা স্পষ্ট কর]

মুয়াযযিন কিবলামুখী হয়ে উচ্চস্থানে বা মাইকের সামনে দাঁড়াবে। দুই কানের ছিদ্রে তর্জনী স্থাপন করে সুমধুর ও উদাত্ত কণ্ঠে আযান দিবে। কোনো তাড়াহুড়ো করবে না; প্রতি দুই তাকবীরের পর থামবে। বুক কিবলা থেকে না ফিরিয়ে কেবল মুখমণ্ডল ডানে ও বায়ে ঘোরাবে।

(د) هل يجوز للمؤذن ان يأخذ اجرة على الاذان؟

[(ঘ) মুয়াযযিনের জন্য আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েয কি-না?]

মুতাআক্বিদমীন ফকীহগণের মতে সালাত, আযান ও কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে উজরতের চুক্তি নাজায়েয ছিল। কিন্তু মুতাআখখিরীন হানাফী ফকীহগণ দ্বীনের শাআয়ের সংরক্ষণ ও মুয়াযযিনদের জীবিকা সুরক্ষায় জরুরতের ভিত্তিতে আযান ও ইমামতির জন্য পারিশ্রমিক বা ভাতা গ্রহণকে সম্পূর্ণ সর্বসম্মতিক্রমে ‘জায়িয’ ও মুস্তাহসান ফতোয়া দিয়েছেন।

(هـ) ما معنى التثويب؟ وهل يجوز التثويب للصلوة بعد الاذان؟

[(ঙ) তাতসবীব (التثويب)-এর অর্থ কী এবং আযানের পর নামাজের জন্য তাতসবীব করা জায়েয কি?]

আভিধানিক অর্থ পুনঃঘোষণা দেওয়া। ফিকহী পরিভাষায় ফজরের আযানে ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ বৃদ্ধি করাকে তাতসবীব বলে, যা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। এছাড়া পরবর্তী ফকীহদের মতে গাফেল মুসল্লিদের জামাআতে উপস্থিতির জন্য আযান ও ইকামতের মাঝে প্রয়োজনবোধে সম্মানজনক শব্দে (যেমন: আস-সালাহ ইয়া ইবাদাল্লাহ) নামাজে আহ্বান জানানো মুস্তাহসান।

٢- عن عائشة (رضـ) قالت كن نساء من المؤمنات يصلين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم صلوة الصبح متلفعات بمروطهن ثم يرجعن الى اهلهن وما يعرفهن احد –
عن رافع بن خديج قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اسفروا بالفجر فكلما اسفرتم فهو اعظم للاجر او قال لاجوركم

[২. হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুমিন নারীরা তাদের চাদর দিয়ে সর্বাঙ্গ আবৃত করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করতেন, অতপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন, অথচ অন্ধকারের তীব্রতার কারণে কেউ তাদের চিনতে পারত না। হযরত রাফে’ ইবনে খাদীজ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: ফজরের নামাজ ফর্সা করে আদায় কর; কেননা তোমরা যত বেশি ফর্সা করে নামাজ পড়বে, তত বেশি সওয়াব লাভ করবে। (ক) ফজরের নামাজ কি গালসে (অন্ধকারে) পড়া উত্তম নাকি ইসফারে (উজ্জ্বল আলোতে)? (খ) মসজিদে জামাআতে নারীদের সালাতের বিধান আলোচনা কর; (গ) নামাযের মাকরূহ ওয়াক্তসমূহ উল্লেখ কর; (ঘ) গালস ও ইসফার-এর অর্থ কী? (ঙ) সূর্যোদয়ের সময় ফজরের নামাজ বাতিল হওয়া সংক্রান্ত ওলামাদের মতপার্থক্য দলিলসহ বর্ণনা কর।]

হাদীসদ্বয়ের বিশদ সরল ভাবার্থ:
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, ঈমানদার মহিলারা নিজেদের উলের চাদর জড়িয়ে প্রত্যুষে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ফজরের নামাজে শরিক হতেন। নামাজ শেষে যখন তারা ঘরে ফিরতেন, তখন চারদিকে অন্ধকারের দরুন চেনার উপায় থাকত না।
অপরদিকে হযরত রাফে’ ইবনে খাদীজ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) পরিষ্কার ভাষায় ইরশাদ করেছেন: “তোমরা ফজরের নামাজ ফর্সা (আলোকিত) অবস্থায় আদায় কর; কারণ তোমরা যত বেশি ফর্সা করে আদায় করবে, তোমাদের প্রতিদান তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।”

শাব্দিক তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
مُتَلَفِّعَات ل – ف – ع – اسم فاعل، جمع مؤنث سالم উলের চাদর বা ওড়না দিয়ে সর্বাঙ্গ নিবিড়ভাবে আবৃতকারিণী
بِمُرُوطِهِنَّ م – ر – ط – اسم مجرور بالباء، جمع مِرْط পশমী বা সূতি চাদরসমূহ
أَسْفِرُوا س – ف – ر إفعال فعل أمر ফর্সা কর, প্রভাতের আলো চারদিকে বিস্তৃত কর
الْغَلَس غ – ل – س – اسم ثلاثي مجرد রাতের আঁধার ও ভোরের প্রথম আলোর মিশ্রিত অন্ধকার
الْإِسْفَار س – ف – ر إفعال مصدر সুপ্রভাত প্রকাশ পাওয়া, আলোকিত হওয়া

উপ-প্রশ্নসমূহের প্রামাণ্য সমাধান:

(أ) صلوة الفجر افضل فى الغلس ام فى الاسفار؟ بين –

[(ক) ফজরের নামাজ কি গালসে (অন্ধকারে) পড়া উত্তম নাকি ইসফারে (উজ্জ্বল আলোতে)?]

ইমাম আবু জাফর তহাবী (রহ.) উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে হানাফী মাযহাবের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছেন:
১. হানাফী মাযহাব: পুরুষদের জন্য ফজরের নামাজ ‘ইসফার’ অর্থাৎ উত্তমরূপে চতুর্দিক ফর্সা ও আলোকিত করে আদায় করা মুস্তাহাব। দলীল: হযরত রাফে’ ইবনে খাদীজের সরাসরি কাওলী হাদীস—”اسفروا بالفجر فانه اعظم للاجر”। আর হযরত আয়েশা (রা.)-এর হাদীসটি ছিল ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের আমল কিংবা মহিলাদের জামাআতে দ্রুত প্রস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। তহাবী (রহ.) প্রমাণ করেছেন যে, কাওলী হাদীস ফে’লী হাদীসের ওপর অগ্রাধিকার পায়।
২. ইমাম শাফেঈ, মালিক ও আহমদ (রহ.): তাঁদের মতে গালসে (অন্ধকারে) নামাজ শুরু করা আফযাল।

(ب) بين حكم صلاة النساء مع الجماعة فى المساجد –

[(খ) মসজিদে জামাআতে নারীদের সালাত আদায়ের শারঈ বিধান বর্ণনা কর]

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ফেতনার আশঙ্কা না থাকায় নারীদের শর্তসাপেক্ষে মসজিদে আসার অনুমতি ছিল। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের যুগে পরিবেশের পরিবর্তন ঘটায় হযরত আয়েশা (রা.) স্বয়ং মন্তব্য করেন: “রাসূল (সা.) নারীদের বর্তমান অবস্থা দেখলে বনী ইসরাঈলের নারীদের মতো তাদেরকেও মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন।” ফলে হানাফী ফকীহগণের চূড়ান্ত ফতোয়া হলো—বর্তমানে ফেতনা ও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় যুবতী ও সাধারণ নারীদের মসজিদে গিয়ে জামাআতে সালাত আদায় করা মাকরূহে তাহরীমী; তাদের জন্য নিজ গৃহকোণে সালাত আদায় করাই সর্বোত্তম।

(ج) اذكر الأوقات المكروهة للصلاة –

[(গ) নামাযের মাকরূহ ওয়াক্তসমূহ দলীলসহ উল্লেখ কর]

মূলত ৩টি সময়ে যেকোনো নামায ও সিজদা আদায় করা হারাম/মাকরূহে তাহরীমী:
১. সূর্যোদয়ের সময়—যতক্ষণ না তা এক বা দুই বর্শা পরিমাণ উঁচুতে ওঠে (১০-১৫ মিনিট)।
২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়—সূর্য যখন মাথার ঠিক উপরে খাড়া থাকে (ইসতিওয়া)।
৩. সূর্যাস্তের সময়—সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পর থেকে সম্পূর্ণ অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত (তবে ওই দিনের আসর নামায কাজা হয়ে গেলে তা আদায় করা যাবে)।
এছাড়া ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর মাগরিব পর্যন্ত নফল নামায পড়া মাকরূহ।

(د) ما معنى الغلس والاسفار؟

[(ঘ) গালস ও ইসফার শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী?]

‘গালস’ (الغلس) হলো সুবহে সাদিকের পর রাতের শেষ ভাগের অবশিষ্ট অন্ধকার যা দিগন্তে বিস্তৃত থাকে। আর ‘ইসফার’ (الاسفار) হলো ভোরের আলো স্পষ্ট প্রস্ফুটিত হওয়া, যখন দশ গজ দূর থেকে কোনো মানুষের চেহারা সুস্পষ্টভাবে চেনা যায়।

(هـ) ما الاختلاف بين العلماء فى بطلان صلوة الصبح عند الطلوع؟ بين بالادلة –

[(ঙ) সূর্যোদয়ের সময় ফজরের নামাজ বাতিল হওয়া সংক্রান্ত ওলামাদের মতপার্থক্য দলিলসহ বর্ণনা কর]

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, কেউ যদি ফজরের সালাতরত অবস্থায় সূর্য উদিত হয়ে যায়, তবে তার সালাত নিশ্চিতভাবে ফাসিদ ও বাতিল হয়ে যাবে; সূর্য পূর্ণ উদিত হওয়ার পর ওই সালাত পুনরায় কাজা করতে হবে। কেননা ওয়াক্তের সমাপ্তি সালাতকে বাতিল করে এবং নিষিদ্ধ সময়ে সালাতের সমাপ্তি ঘটেছে। পক্ষান্তরে, ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মতে এক রাকাত পাওয়া গেলে সালাত সহীহ হবে, তবে হানাফী দলীল অত্যন্ত অকাট্য।

٣- عن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وعلى اله وسلم قال لا يبيع الرجل على بيع اخيه ولا يخطب على خطبة اخيه

[৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের বেচাকেনার ওপর বেচাকেনা না করে এবং কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর বিবাহের প্রস্তাব না পাঠায়। (ক) নিকাহ-এর পরিচয়, রুকন ও শর্তসমূহ আলোচনা কর; (খ) নফল ইবাদতে নিমগ্ন থাকার চেয়ে বিবাহে প্রবৃত্ত হওয়া উত্তম কি-না? ফকীহদের মতামত তুলে ধর; (গ) মহর-এর অর্থ কী এবং এর পরিমাণ কত? বিস্তারিত লিখ; (ঘ) স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকারসমূহ আলোচনা কর; (ঙ) খিতবাহ (الخِطبة) ও খুতবাহ (الخُطبة)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?]

হাদীসের বিশদ সরল ভাবার্থ:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সা.) কঠোরভাবে নিষেধ করে ইরশাদ করেছেন: “কোনো মুমিন যেন তার অপর মুমিন ভাইয়ের ক্রয়ের ওপর হস্তক্ষেপ করে নিজে ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি না করে এবং কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর নিজের বিয়ের প্রস্তাব না পাঠায় (যতক্ষণ না পূর্বের প্রস্তাবকারী বিবাহ সম্পন্ন করে বা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে)।”

শাব্দিক তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
لَا يَبِيعُ ب – ي – ع – فعل مضارع منفي، في معنى النهي যেন বিক্রয় না করে, চুক্তি না চাপায়
لَا يَخْطُبُ خ – ط – ب – فعل مضارع نفي للنهي যেন বিয়ের প্রস্তাব না দেয়
النِّكَاح ن – ك – ح – مصدر سماعي একত্রিত হওয়া, মিলনোদ্দেশ্যে শরয়ী বিবাহ বন্ধন
الْخِطْبَة خ – ط – ب – اسم بكسر الخاء বিয়ের পয়গাম বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা
الْخُطْبَة خ – ط – ب – اسم بضم الخاء ধর্মীয় ভাষণ, উপদেশমূলক বক্তব্য

উপ-প্রশ্নসমূহের প্রামাণ্য সমাধান:

(أ) عرف النكاح مع بيان اركانه وشروطه –

[(ক) নিকাহ-এর পরিচয় দাও এবং এর রুকন ও শর্তাবলী আলোচনা কর]

– পারিভাষিক সংজ্ঞা: শরীয়তসম্মতভাবে একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে আজীবন বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সন্তান উৎপাদনের অধিকার সৃষ্টির জন্য যে পবিত্র ইজাব ও ক্ববুল সংঘটিত হয়, তাকে নিকাহ বলে।
– রুকন: হানাফী মাযহাব মতে নিকাহের একমাত্র রুকন হলো ইজাব (প্রস্তাব) ও ক্ববুল (গ্রহণ)।
– শর্তাবলী: ১. বর ও কনের বিবাহযোগ্য হওয়া এবং তাদের মাঝে স্থায়ী বা অস্থায়ী হুরমাত না থাকা; ২. কমপক্ষে দু’জন সুস্থ মস্তিষ্কপ্রাপ্ত বালেগ মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন মুসলিম নারী সাক্ষীর সরাসরি উপস্থিতি ও তাদের বাক্যদ্বয় শ্রবণ করা; ৩. পক্ষদ্বয়ের সন্তুষ্টি।

(ب) الاشتغال بالنكاح افضل ام العبادات؟ بين اقوال الفقهاء فيه –

[(খ) বিবাহে লিপ্ত হওয়া উত্তম নাকি নফল ইবাদতে নিমগ্ন থাকা উত্তম? ফকীহদের মতামত লিখ]

জমহুর হানাফী ফকীহ ও অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনের মতে, একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য নফল ইবাদতে একাকী মশগুল থাকার চেয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বহুলাংশে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। দলীল: বিবাহ হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মহান সুন্নাত, চরিত্রের পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের ঢাল এবং মুসলিম উম্মাহর সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যম। হাদিসে এসেছে: “যে ব্যক্তি বিয়ে করল সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করল।” ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর একটি মতে বিবাহ মুবাহ এবং নফল ইবাদত উত্তম বলা হলেও হানাফী মাযহাবে দাম্পত্য জীবন পরিচালনাই শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে স্বীকৃত।

(ج) ما معنى المهر؟ وما مقداره؟ بين مفصلا –

[(গ) মহরের অর্থ কী এবং এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ কত? বিস্তারিত লিখ]

মহর হলো সেই ওয়াজিব আর্থিক দেনমোহর, যা স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি সম্মান ও ইস্তেমতা’র অধিকারের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করতে বাধ্য থাকে।
– সর্বনিম্ন পরিমাণ: হানাফী মাযহাব মতে মহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো ১০ দিরহাম (শরয়ী দিরহাম অনুযায়ী প্রায় ৩০.৬১৮ গ্রাম খাঁটি রূপা বা তার সমমূল্য)। এর কম মহর নির্ধারণ করা জায়েয নেই। শাফেঈ ও হাম্বলী মতে সর্বনিম্ন কোনো সীমা নেই।
– সর্বোচ্চ পরিমাণ: ইসলামে মহরের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে অপচয় বা লোকদেখানো বিপুল মহর ধার্য করা অনুচিত; সামর্থ্যের মধ্যে সহজ মহর নির্ধারণ করা মুস্তাহাব।

(د) تحدث عن حقوق الزوجين –

[(ঘ) দাম্পত্য জীবনে স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকারসমূহ আলোচনা কর]

১. স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার: যথোপযুক্ত মহর আদায়, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের সুব্যবস্থা, স্নেহ ও সম্মান প্রদর্শন এবং শারঈ শিক্ষাদানের পরিবেশ রক্ষা।
২. স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার: শরীয়তসম্মত বিষয়ে আনুগত্য, স্বামীর গৃহ ও সম্পদের হেফাজত, অনুমতি ছাড়া অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং স্বামীর বংশমর্যাদা রক্ষা করা।

(هـ) ما الفرق بين الخطبة والخطبة؟ بين –

[(ঙ) খিতবাহ (প্রস্তাব) ও খুতবাহ (ভাষণ)-এর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট কর]

– ‘খিতবাহ’ (الخِطْبَة – খা বর্ণে যের): অর্থ নারীর অভিভাবকের কাছে বিবাহের পয়গাম বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো।
– ‘খুতবাহ’ (الخُطْبَة – খা বর্ণে পেশ): অর্থ সমাবেশ বা জুমার নামাজের পূর্বে প্রদত্ত ধর্মীয় ভাষণ বা বক্তব্য।

٤- عن عبد الله بن مسعود قال كنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وعلى اله وسلم وليس معنا نساء فقلنا يا رسول الله الا نستخصى فنهانا عن ذلك ورخص لنا ان ننكح المرأة بالثوب الى اجل ثم قرأ هذه الآية يايها الذين امنوا لا تحرموا طيبات ما احل الله لكم ولا تعتدوا ان الله لا يحب المعتدين –
عن على (رضـ) ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن متعة النساء يوم خيبر وعن لحوم الحمر الأهلية

[৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে জিহাদে যেতাম অথচ আমাদের সাথে নারীরা ছিল না। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি খাসি (অণ্ডকোষ কেটে যৌনক্ষমতাহীন) হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করলেন এবং একটি কাপড়ের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিবাহ করার সাময়িক অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: “হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা হারাম করো না…”। হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়বার বিজয়ের দিন নারীদের সাথে মুত’আ বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণ চিরতরে হারাম ঘোষণা করেছেন। (ক) নিকাহে মুত’আ ও নিকাহে মুয়াক্কাতের পার্থক্য বিস্তারিত লিখ; (খ) গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়ার হুকুম কী? (গ) খাসী বা নপুংসক করার অর্থ ও শারঈ হুকুম কী? (ঘ) পরিবার পরিকল্পনা বা জন্মনিয়ন্ত্রণের শারঈ বিধান বিশ্লেষণ কর; (ঙ) খায়বার যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়েছিল? সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিখ।]

হাদীসদ্বয়ের বিশদ সরল ভাবার্থ:
হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, সুদীর্ঘ সামরিক অভিযানে আমরা তীব্র যৌন তাড়না অনুভব করে নবীজীর দরবারে আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য খাসি হওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি তা কঠোরভাবে নিষেধ করেন। এরপর তিনি কাপড়ের বিনিময়ে সাময়িক নিকাহের ছাড় দেন, যা পরে রহিত হয়ে যায়।
হযরত আলী (রা.) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়বারের ঐতিহাসিক দিবসে মুত’আ বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণকে চূড়ান্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।

শাব্দিক তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
نَسْتَخْصِي خ – ص – ي استفعال فعل مضارع আমরা খাসি হয়ে যাই, অণ্ডকোষ ছেদন করি
مُتْعَة م – ت – ع – مصدر، اسم সাময়িক উপভোগের উদ্দেশ্যে চুক্তিভিত্তিক মিলন
الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّة ح – م – ر – مضاف ومضاف إليه গৃহপালিত গাধা বা খচ্চর প্রজাতি
ضَبْطُ التَّوْلِيد و – ل – د – مركب إضافي পরিবার পরিকল্পনা, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
خَيْبَر خ – ي – ب – ر – اسم علم، غير منصرف মদিনার উত্তরে অবস্থিত ইহুদিদের সুরক্ষিত দুর্গ এলাকা

উপ-প্রশ্নসমূহের প্রামাণ্য সমাধান:

(أ) ما الفرق بين نكاح المتعة والنكاح المؤقت؟ بين بالتفصيل –

[(ক) নিকাহে মুত’আ ও নিকাহে মুয়াক্কাতের মধ্যকার পার্থক্য বিস্তারিত লিখ]

ইমাম তহাবী (রহ.) স্পষ্ট করেছেন:
১. নিকাহে মুত’আ (نكاح المتعة): যে বিবাহে কোনো সাক্ষী থাকে না এবং স্পষ্ট ‘মুত’আ’ শব্দ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভোগ করার চুক্তি করা হয় (যেমন: আমি তোমার সাথে এক মাসের জন্য মুত’আ করলাম)। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত ইজমা অনুযায়ী এটি ক্বিয়ামত পর্যন্ত সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল।
২. নিকাহে মুয়াক্কাত (النكاح المؤقت): যে বিবাহে সাধারণ নিকাহের শব্দ ও সাক্ষীর উপস্থিতি থাকে, কিন্তু কথার মধ্যে মেয়াদের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় (যেমন: তোমাকে এক বছরের জন্য বিয়ে করলাম)। হানাফী ফকীহগণের মতে রূপগত কিছুটা পার্থক্য থাকলেও হুকুমের দিক থেকে নিকাহে মুয়াক্কাতও মুত’আর মতোই সম্পূর্ণ বাতিল ও ফাসিদ।

(ب) ما حكم اكل لحوم الحمر الاهلية؟

[(খ) গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়ার শারঈ হুকুম কী?]

খায়বারের যুদ্ধের দিন থেকে গৃহপালিত গাধা (الحمر الاهلية) ও খচ্চরের গোশত খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে ‘হারামে কাতঈ’ (কাটছাঁট হারাম)। তবে বুনো নীলগাই বা বুনো জেব্রা (حمار الوحش) ভক্ষণ করা সম্পূর্ণ হালাল।

(ج) ما معنى الخصاء وما حكمه فى الشرع؟

[(গ) খাসিকরণ (الخصاء)-এর অর্থ কী এবং শরীয়তে এর হুকুম কী?]

মানবদেহের প্রজনন অঙ্গ নষ্ট বা কর্তন করে খাসি করা সম্পূর্ণ হারাম এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধনের অন্তর্ভুক্ত। তবে পশু মোটাতাজাকরণ ও গোশতের স্বাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবাদি পশুকে খাসি করা অধিকাংশ ফকীহের মতে শর্তসাপেক্ষে জায়েয।

(د) ما حكم ضبط التوليد؟ فصل المسئلة حق التفصيل –

[(ঘ) পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণের শারঈ বিধান বিস্তারিত বিশ্লেষণ কর]

ইসলামে সন্তান জন্মদানকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যহানি, চরম অসুস্থতা বা স্তন্যদানের অসুবিধা থাকলে সাময়িকভাবে জন্মবিরতিকরণ (যেমন প্রাচীনকালের ‘আজল’ বা আধুনিক নিরাপদ প্রতিরোধক ব্যবস্থা) গ্রহণ করা জায়েয। কিন্তু দারিদ্রে্যর ভয়ে অথবা স্থায়ীভাবে প্রজনন ক্ষমতা বিনষ্টকারী কোনো পদ্ধতি (যেমন বন্ধ্যাকরণ বা লাইগেশন) গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম।

(هـ) متى وقعت غزوة خيبر؟ بين الواقعة بالاختصار –

[(ঙ) খায়বার যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল এবং এর পটভূমি সংক্ষেপে আলোচনা কর]

খায়বার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সপ্তম হিজরীর মহররম মাসে। মদিনার বিশ্বাসঘাতক ইহুদি গোত্রগুলো খায়বারের দুর্ভেদ্য দুর্গে আশ্রয় নিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) ১৪০০ সাহাবী নিয়ে খায়বার আক্রমণ করেন। হযরত আলী (রা.)-এর অসীম বীরত্বে কামূস দুর্গ জয় হয় এবং খায়বার মুসলমানদের অধীনে আসে।

٥- عن ابى سعيد الخدرى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الدرهم بالدرهم لا زيادة والدينار بالدينار ولا تشفوا بعضها على بعض ولا تبيعوا غيبا منها بناجز

[৫. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম সমান সমান হতে হবে, কোনো অতিরিক্ত চলবে না; দীনারের বিনিময়ে দীনারও সমান সমান হতে হবে। তোমরা একের ওপর অন্যকে আধিক্য দিও না এবং তাদের মধ্যকার বাকির কোনো পণ্যের সাথে নগদের লেনদেন করো না। (ক) রিবা (সুদ)-এর পরিচয় দাও এবং এর সাথে সাধারণ বেচাকেনার পার্থক্য কী? (খ) স্বর্ণের বিনিময়ে রূপা এবং রূপার বিনিময়ে স্বর্ণ বাকিতে বিক্রি করা জায়েয কি? এ বিষয়ে মতানৈক্য লিখ; (গ) ব্যাংক হতে সুদে ঋণ গ্রহণ করা জায়েয কি? (ঘ) সুদ হারাম হওয়ার পেছনে হিকমত ও দার্শনিক তাৎপর্য কী? (ঙ) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর জীবনী সংক্ষেপে তুলে ধর।]

হাদীসের বিশদ সরল ভাবার্থ:
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন যে, বিশ্বনবী (সা.) ইরশাদ করেন: “রূপার দিরহামের বিনিময়ে রূপার দিরহাম সমান সমান হতে হবে, কোনো বেশকম করা যাবে না। স্বর্ণের দীনারের বিনিময়ে স্বর্ণের দীনারও সমান সমান হতে হবে, একটিকে অপরটির চেয়ে বেশি করা যাবে না। আর এদের কোনোটির বাকির সাথে নগদের বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করবে না।”

শাব্দিক তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الرِّبَا ر – ب – و – اسم مقصور، مصدر বৃদ্ধি পাওয়া, শরীয়তের বিধানে বিনিময়হীন অতিরিক্ত অর্থ
لَا تُشِفُّوا ش – ف – ف إفعال فعل نهي তোমরা এককে অন্যের ওপর প্রাধান্য বা অতিরিক্ত দিও না
غَيْبًا غ – ي – ب – اسم، حال أو مفعول অনুপস্থিত, বাকি বা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য মাল
بِنَاجِزٍ ن – ج – ز – اسم فاعل مجرور بالباء নগদ, মজুত বিদ্যমান মাল যা সাথে সাথে হস্তান্তরিত হয়
الدِّينَار د – ن – ر – اسم معرب (রোমান শব্দ) স্বর্ণমুদ্রা (এক মিসকাল স্বর্ণের সমতুল্য মুদ্রা)

উপ-প্রশ্নসমূহের প্রামাণ্য সমাধান:

(أ) عرف الربا مع بيان الفرق بينه وبين البيع –

[(ক) রিবা-এর সংজ্ঞা দাও এবং রিবা ও সাধারণ বেচাকেনার মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধর]

– সংজ্ঞা: ইসলামী শরীয়তে সমজাতীয় ওজন বা পরিমাপযোগ্য পণ্যের চুক্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক প্রতিদান ছাড়া যে অতিরিক্ত অংশ এক পক্ষ গ্রহণ করে, তাকে রিবা (সুদ) বলে।
– পার্থক্য: ১. বেচাকেনায় পণ্য ও মূল্যের সরাসরি পারস্পরিক বিনিময় ঘটে এবং এতে উভয় পক্ষের লাভ ও লোকসানের ঝুঁকি থাকে; কিন্তু সুদে কেবল পুঁজির মালিক নিশ্চিত মুনাফা নেয় এবং গ্রহীতা শোষিত হয়। ২. আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে দ্ব্যর্থহীনভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।

(ب) هل يجوز بيع الذهب بالدرهم والدرهم بالذهب نسيئة؟ وما الاختلاف فيه؟

[(খ) স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য বাকিতে বিক্রয় করা জায়েয কি? এ বিষয়ে মতপার্থক্য আলোচনা কর]

স্বর্ণ ও রূপা হলো মুদ্রার মূল উপাদান (اثمان)। একই জাতি না হলেও উভয়ের কার্যকারণ হলো ‘ছামানিয়্যাত’ (মূল্যমান)। ফকীহগণের সর্বসম্মত মতানুযায়ী—স্বর্ণ ও রূপার পারস্পরিক লেনদেনে হাতবদল মজলিসেই নগদ (يداً بيد) হতে হবে। বাকিতে স্বর্ণের বিনিময়ে রূপা বা রূপার বিনিময়ে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণ হারাম এবং তা ‘রিবা আন-নাসীআহ’ (রিবায়ে নাসীআ)-এর অন্তর্ভুক্ত।

(ج) هل يجوز الاستقراض من البنك بالربا؟ بين –

[(গ) প্রচলিত ব্যাংক থেকে সুদের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করা জায়েয কি? বিশ্লেষণ কর]

ব্যাংক থেকে সুদের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করা স্পষ্ট হারাম। সুদ দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই কবিরা গুনাহ। তবে জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো চরম বাধ্যবাধকতা (জরুরত) ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা গৃহনির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রচলিত সুদী ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কোনোক্রমেই জায়েয নেই।

(د) ما هى الحكمة فى تحريم الربا؟ فصل –

[(ঘ) ইসলামে সুদ হারাম ঘোষণার অন্তর্নিহিত হিকমত ও সামাজিক ক্ষতিসমূহ বর্ণনা কর]

১. সুদ মানবসমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং ধনীদের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত করে।
২. এটি মানুষের মধ্যে পরোপকার, বদান্যতা ও করযে হাসানার পবিত্র চেতনা ধ্বংস করে দেয়।
৩. সুদখোর ব্যক্তি বিনা পরিশ্রমে অন্যের উপার্জিত সম্পদ আত্মসাৎ করে অলস শ্রেণি তৈরি করে।

(هـ) اكتب نبذة عن حياة ابى سعيد الخدرى رضى الله عنه –

[(ঙ) প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ]

তাঁর মূল নাম সা’দ ইবনে মালিক ইবনে সিনান আল-আনসারী আল-খাযরাজী (রা.)। তিনি অন্যতম প্রধান মুকছিরীন (সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী) সাহাবী ছিলেন। খন্দকের যুদ্ধসহ তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ১২টি প্রধান জিহাদে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১,১cwটি। তিনি ৭৪ হিজরীতে মদিনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাক্বীতে সমাহিত হন।

٦- عن ابى هريرة (رضـ) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال الظهر يركب بنفقته اذا كان مرهونا ولبن الدر يشرب بنفقته اذا كان مرهونا – وفى رواية ان رسول الله (صـ) اشترى من يهودى طعاما الى اجل ورهنه درعا له من حديد

[৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন: বন্ধকী চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহণ করা যাবে তার খাদ্য ব্যয়ের বিনিময়ে এবং দুগ্ধবতী পশুর দুধ পান করা যাবে তার খাদ্য ব্যয়ের বিনিময়ে। অপর বর্ণনায় এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ইহুদির নিকট হতে নির্দিষ্ট মেয়াদে খাদ্যশস্য ক্রয় করেন এবং তার নিকট নিজের লোহার লৌহবর্ম বন্ধক রাখেন। (ক) আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে রেহান (বন্ধক)-এর সংজ্ঞা দাও এবং এর হুকুম কী? (খ) মুক্বীম অবস্থায় বন্ধক রাখা জায়েয কি? অথচ কুরআনে সফরের শর্ত উল্লেখ রয়েছে; (গ) রেহানের রুকন ও শর্তাবলী আলোচনা কর; (ঘ) উল্লেখিত ইহুদির নাম কী ছিল এবং তার পেশা কী ছিল? (ঙ) বন্ধক বৈধ হওয়ার শারঈ দলীলসমূহ লিখ।]

হাদীসের বিশদ সরল ভাবার্থ:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) নবীজী (সা.) হতে বর্ণনা করেন: বন্ধক রাখা বাহন পশুর পিঠে আরোহণ করা যাবে তার ঘাস-দানাপানির খরচের সমপরিমাণ এবং বন্ধক রাখা দুগ্ধবতী পশুর দুধ পান করা যাবে তার ভরণপোষণের খরচের বিনিময়ে। বর্ণনান্তরে প্রমাণিত, রাসূলে পাক (সা.) স্বয়ং এক ইহুদির কাছ থেকে পরিবার পরিজনের জন্য খাদ্য ক্রয় করে নিজের লৌহবর্মটি জামানত হিসেবে বন্ধক রেখেছিলেন।

শাব্দিক তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الرَّهْن ر – هـ – ن – مصدر، اسم جنس আটকে রাখা, ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তাস্বরূপ রক্ষিত জামানত
مَرْهُونًا ر – هـ – ن – اسم مفعول، منصوب على الحالية যা বন্ধক রাখা হয়েছে, জামানতকৃত বস্তু
لَبَنُ الدَّرِّ د – ر – ر – مضاف ومضاف إليه প্রচুর প্রবাহমান দুগ্ধ, দুগ্ধবতী পশুর দুধ
دِرْع د – ر – ع – اسم مؤنث مجازي লৌহবর্ম, যুদ্ধের সময় আত্মরক্ষার্থে পরিধেয় ধাতব পোশাক
الْحَضَر ح – ض – ر – مصدر، ضد السفر মুক্বীম অবস্থা, নিজ দেশে বা এলাকায় অবস্থানকাল

উপ-প্রশ্নসমূহের প্রামাণ্য সমাধান:

(أ) ما معنى الرهن لغة وشرعا؟ وما حكمه؟

[(ক) রেহান বা বন্ধকের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী এবং এর শারঈ হুকুম কী?]

– শাব্দিক অর্থ: আটকে রাখা (الحبس) ও স্থায়ী রাখা (الدوام والثبوت)।
– পারিভাষিক অর্থ: পাওনাদারের প্রাপ্য হক বা ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ দেনাদারের কোনো মাল আটকে রাখাকে রেহান বলে, যেন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ওই বস্তু বিক্রয় করে ঋণ উসুল করা যায়।
– হুকুম: বন্ধক রাখা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা একটি মুবাহ ও জায়েয লেনদেন।

(ب) هل يجوز الرهن فى الحضر؟ وقد قال الله تعالى “وان كنتم على سفر ولم تجدوا كاتبا فرهان مقبوضة” –

[(খ) মুক্বীম (বাড়িতে অবস্থানরত) অবস্থায় বন্ধক রাখা জায়েয কি? কুরআনের আয়াতের আলোকে বিশ্লেষণ কর]

কুরআনে বলা হয়েছে—”আর তোমরা যদি সফরে থাক এবং লেখক না পাও, তবে বন্ধক হস্তগত করা হোক।” ইমাম তহাবী (রহ.) স্পষ্ট প্রমাণ করেছেন যে, আয়াতে সফরের উল্লেখ কোনো শর্ত (শর্তে মাশরাত) নয়, বরং তৎকালীন আরবে সফরেই সাধারণত লেখক পাওয়া যেত না বলে বাস্তব অবস্থার বিবরণ দেওয়া হয়েছে (خرج مخرج الغالب)। এর চূড়ান্ত প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় মুক্বীম অবস্থায় স্বয়ং ইহুদির নিকট নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। সুতরাং সফরে ও আবাসে সর্বাবস্থায় বন্ধক রাখা বৈধ।

(ج) اذكر اركان الرهن وشرائطه مفصلا –

[(গ) বন্ধক শুদ্ধ হওয়ার রুকন ও আবশ্যকীয় শর্তসমূহ বর্ণনা কর]

– রুকন: ইজাব (বন্ধকদাতার প্রস্তাব), ক্ববুল (গ্রহীতার স্বীকৃতি) এবং ক্বাবজা (বস্তুটি বন্ধকগ্রহীতার কব্জায় সোপর্দ করা)।
– শর্তাবলী: ১. বন্ধকী বস্তু মাল ও মূল্যবান হওয়া; ২. বস্তুটির হস্তান্তরযোগ্য হওয়া (অজ্ঞাত বা অবাস্তব বস্তু না হওয়া); ৩. ঋণটি শরীয়তসম্মতভাবে সাব্যস্ত হওয়া; ৪. বন্ধকদাতা ও গ্রহীতা বিবেকবান ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।

(د) ما اسم اليهود؟ وما كان شغله؟

[(ঘ) হাদীসে উল্লেখিত ইহুদির নাম কী ছিল এবং তার পেশা কী ছিল?]

হাদীস ও ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য ভাষ্য অনুযায়ী উক্ত ইহুদির নাম ছিল ‘আবুশ শাহম আল-জাফরী’ (أبو الشحم الظفري) এবং সে ছিল মদিনার একজন পেশাদার শস্য ও খাদ্য ব্যবসায়ী এবং মহাজন।

(هـ) ما الدليل على جواز الرهن؟

[(ঙ) কুরআন ও হাদীসের আলোকে বন্ধক জায়েয হওয়ার দলীলসমূহ পেশ কর]

১. পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াত: فَرِهَانٌ مَّقْبُوضَةٌ।
২. সহীহ হাদীস—নবীজী (সা.)-এর বর্ম আবুশ শাহম ইহুদির নিকট ৩০ সা’ যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল এবং ওই অবস্থায়ই তিনি ওফাত লাভ করেন।
৩. মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত ইজমা।

٧- حدثنا يونس قال اخبرنا ابن وهب قال اخبرنى ابن جريج ان ابا الزبير اخبره انه سمع جابر بن عبد الله (رضـ) يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الشفعة فى كل شرك بارض او ربع او حائط لا يصلح ان يبيع حتى يعرض على شريكه يأخذ او يدع

[৭. আমাদের নিকট ইউনুস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওহাব, তিনি বলেন আমাকে খবর দিয়েছেন ইবনে জুরাইজ, আবু যুবায়ের তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—জমি, বসতবাড়ি কিংবা বাগানের যেকোনো অংশীদারি সম্পত্তিতেই শুফ’আহ প্রযোজ্য। অংশীদারকে না জানিয়ে বিক্রি করা কোনো ব্যক্তির জন্য জায়েয নয়; সে যেন প্রথমে অংশীদারের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেয়, যাতে সে তা ক্রয় করতে পারে কিংবা ছেড়ে দিতে পারে। (ক) আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে শুফ’আহ-এর সংজ্ঞা দাও; (খ) শুফ’আহ শব্দের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে ভাষাবিদদের মত লিখ; (গ) শুফ’আহর প্রকারভেদ কয়টি ও কী কী? এদের শারঈ হুকুম আলোচনা কর; (ঘ) শুফ’আহর অধিকার কীভাবে বাতিল বা রহিত হয়? (ঙ) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ।]

হাদীসের বিশদ সরল ভাবার্থ:
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিধান জারি করেছেন যে: “যেকোনো অবিভক্ত জমি, ঘরবাড়ি কিংবা খেজুরবাগানের অংশীদারি সম্পত্তিতে অগ্রক্রয়াধিকার (শুফ’আহ) সাব্যস্ত হবে। কোনো অংশীদারের পক্ষে অন্য অংশীদারকে প্রস্তাব না দিয়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে তা বিক্রি করা বৈধ নয়; সে প্রথমে অংশীদারকে নেওয়ার অথবা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করবে।”

শাব্দিক তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الشُّفْعَة ش – ف – ع – اسم ثلاثي مجرد মিলিয়ে নেওয়া, স্থাবর সম্পত্তিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রয়ের অধিকার
شِرْك ش – ر – ك – اسم مصدر অংশীদারিত্ব, যৌথ বা অবিভক্ত মালিকানা
رَبْع ر – ب – ع – اسم مكان، مفرد বসতভিটা, বসবাসের বাড়িঘর বা মহল্লা
حَائِط ح – و – ط – اسم فاعل، بمعنى بستان প্রাচীরঘেরা বাগান, ফলের খামার
يَدَع و – د – ع – فعل مضارع مجزوم বর্জন করা, ছেড়ে দেওয়া বা ত্যাগ করা

উপ-প্রশ্নসমূহের প্রামাণ্য সমাধান:

(أ) ما معنى الشفعة لغة واصطلاحا؟

[(ক) শুফ’আহর আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয় দাও]

– শাব্দিক অর্থ: জোড়া লাগানো (ضم شيء إلى شيء) বা একককে জোড়ায় পরিণত করা।
– পারিভাষিক অর্থ: কোনো স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির পর পূর্বতন অংশীদার বা প্রতিবেশীর মূল ক্রেতার সমপরিমাণ মূল্য পরিশোধ করে বিক্রীত অংশ নিজের মালিকানায় বাধ্যতামূলকভাবে নিয়ে নেওয়ার আইনগত অধিকারকে শুফ’আহ (অগ্রক্রয়াধিকার) বলে।

(খ) শুফ’আহ শব্দের ব্যুৎপত্তি:

[(খ) শুফ’আহ শব্দের ভাষাতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি আলোচনা কর]

ভাষাবিদদের মতে এটি এসেছে ‘আশ-শাফউ’ (الشفْع) থেকে, যার অর্থ জোড় বা যুগ্ম। জাহেলী যুগে কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে প্রতিবেশী এসে বলত, “তুমি আমাকে এর সাথে জোড়া করে দাও এবং আমার নিকট বিক্রি কর।” ইসলাম এই অধিকারকে সুসংহত করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার উপায় হিসেবে বহাল রেখেছে।

(ج) كم قسما للشفعة؟ بين مع ذكر احكامها –

[(গ) শুফ’আহ কত প্রকার ও কী কী? এর শারঈ বিধানসমূহ বর্ণনা কর]

হানাফী মাযহাব মতে শুফ’আহ পাওয়ার হকদার মোট ৩ শ্রেণি (ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী):
১. শাফীয়ে শারীক (الشفيع الشريك): যে ব্যক্তি মূল বিক্রিত সম্পত্তির খোদ মালিকানায় অবিভক্ত অংশীদার। তার অধিকার সর্বাগ্রে।
২. শাফীয়ে খালীত (الشفيع الخليط): যে ব্যক্তি সম্পত্তির সুবিধাদিতে অংশীদার (যেমন চলাচলের অভিন্ন রাস্তা বা সেচের নালায় শরিক)।
৩. শাফীয়ে জার (الشفيع الجار الملاصق): সীমানার সাথে সীমানা লাগোয়া সংলগ্ন প্রতিবেশী। ইমাম তহাবী (রহ.) বহু হাদীস দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে প্রতিবেশীর জন্যও শুফ’আহ সাব্যস্ত (বিপরীতে ইমাম শাফেঈ শুধু শরীকের জন্য শুফ’আহ মানেন)।

(د) كيف يسقط حق الشفعة؟ بين بالايضاح –

[(ঘ) কোন কোন কারণে শুফ’আহর অধিকার রহিত বা বাতিল হয়ে যায়?]

১. বিক্রির সংবাদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ‘তালাবুল মুওয়াছাবাহ’ (طلب المواثبة) না করে ইচ্ছাকৃত নীরব থাকা।
২. বিক্রয় চুক্তিতে শাফী কর্তৃক মৌখিক বা লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করা বা অংশীদারের ক্রয়াদেশ বর্জন করা।
৩. শাফীর নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে ফেলা, যার কারণে সে প্রতিবেশী বা অংশীদার ছিল।
৪. শুফ’আহর দাবি কার্যকর হওয়ার আগেই শাফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া (হানাফী মাযহাব মতে উত্তরাধিকারীদের কাছে শুফ’আহর দাবি হস্তান্তরিত হয় না)।

(هـ) اكتب نبذة من ترجمة جابر بن عبد الله رضى الله عنه –

[(ঙ) বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ]

তিনি আনসারদের বনু সালামাহ গোত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহাবী ছিলেন। তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে হারাম (রা.) উহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। জাবির (রা.) বাইআতে আক্বাবায় উপস্থিত ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ১৯টি জিহাদে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মদিনার মসজিদে নববীতে হাদীস পাঠদানের সুবৃহৎ হালাকা পরিচালনা করতেন। ৭৪ হিজরীতে ৯৪ বছর বয়সে মদিনায় ওফাত লাভ করেন।

٨- اكتب نبذة عن حياة الامام ابى جعفر الطحاوى (رحـ) – ثم قارن بين شرح معانى الاثار وشرح مشكل الاثار

[৮. ইমাম আবু জাফর আত-তহাবী (রহ.)-এর জীবনকর্ম সংক্ষেপে আলোচনা কর এবং তাঁর অমর দুই গ্রন্থ ‘শরহু মা’য়ানিল আছার’ ও ‘শরহু মুশকিলিল আছার’-এর তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধর।]

১. ইমাম আবু জাফর আত-তহাবী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:
– নাম ও জন্ম: তাঁর নাম আহমদ, কুনিয়াত আবু জাফর, পিতার নাম মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-আযদী আল-মিসরী। তিনি মিশরের ‘তহা’ নামক পল্লীতে ২৩৯ হিজরীতে এক সম্ভ্রান্ত আলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মামা ছিলেন ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর প্রধান শাগরেদ প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযানী (রহ.)।
– শিক্ষা ও মাযহাব রূপান্তর: মামার নিকট শাফেঈ ফিকহ ও হাদীস অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি লক্ষ্য করেন তাঁর মামা মুযানী স্বয়ং বিভিন্ন ফতোয়ায় ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর কিয়াস ও দলীলের অনুসারী। তিনি গভীর গবেষণা করে হানাফী মাযহাবের দলীলের প্রামাণিক শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করে মিশরের তৎকালীন কাযী আহমদ ইবনে আবি ইমরান হানাফী এবং পরবর্তীতে সিরিয়া সফর করে কাযী আবু হাযিম (রহ.)-এর সাহচর্যে হানাফী ফিকহে অগাধ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
– মর্যাদা ও ওফাত: তিনি একাধারে হাদীসের হাফেয, রিজাল শাস্ত্রবিদ ও মুজতাহিদ ফিল মাযহাব ছিলেন। ৩২১ হিজরীতে এই মহান মনীষী মিশরের ফুসতাত শহরে ইন্তেকাল করেন।

২. ‘শরহু মা’য়ানিল আছার’ ও ‘শরহু মুশকিলিল আছার’-এর তুলনামূলক পর্যালোচনা:

তুলনার ক্ষেত্র শরহু মা’য়ানিল আছার (Sharh Ma’ani al-Athar) শরহু মুশকিলিল আছার (Sharh Mushkil al-Athar)
মূল বিষয়বস্তু ফিকহী বিধানাবলি ও আহকাম সংক্রান্ত হাদীসের বিশদ ব্যাখ্যা ও সমন্বয়। বাহ্যত পরস্পরবিরোধী বা বোধগম্যতাহীন কঠিন হাদীসের অর্থ ও সংশয় নিরসন।
অধ্যায় বিন্যাস ফিকাহ শাস্ত্রের ক্রমানুসারে (ত্বহারাত, সালাত, নিকাহ, বুয়ূ ইত্যাদি)। বিষয়ভিত্তিক ও জটিল হাদীস সম্বলিত অনুচ্ছেদভিত্তিক বিন্যাস।
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আহলে রায় ও আহলে হাদীসের বিতর্কে হানাফী মাযহাবের দলীলসমূহ সুদৃঢ় করা। মুলাহিদ ও ইসলামবিদ্বেষীদের হাদীস সংক্রান্ত সংশয় ও বৈপরীত্য দূর করা।
কিয়াসী বিশ্লেষণ হাদীস বর্ণনার পাশাপাশি কিয়াসের অকাট্য যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। শব্দার্থ, ভাষাতত্ত্ব ও দর্শনের মাধ্যমে জটিলতার জট খোলা হয়েছে।
কিতাবের মর্যাদা হানাফী ফিকহুল হাদীসের ভিত্তিপ্রস্তর ও অপরিহার্য আকর গ্রন্থ। মুশকিলাতুল হাদীস শাস্ত্রের বিশ্বকোষতুল্য রেফারেন্স কিতাব।

উভয় কিতাবই মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডারে ইমাম তহাবীর অমর কীর্তি। ‘শরহু মা’য়ানিল আছার’ ফিকহের ব্যবহারিক প্রমাণাদিকে সুসংহত করে এবং ‘মুশকিলুল আছার’ ইলমী জটিলতাকে অপনোদন করে সুন্নাহর শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করে।

٩- ما هى خصائص شرح معانى الاثار؟ اكتب مكانته بين كتب الحديث

[৯. ‘শরহু মা’য়ানিল আছার’ গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী? হাদীসগ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন কর।]

ভূমিকা:
মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম আবু জাফর তহাবী (রহ.) সংকলিত ‘শরহু মা’য়ানিল আছার’ হলো এমন একটি কালজয়ী কিতাব, যা একাধারে হাদীসের সনদ, মতন, রিজালশাস্ত্র এবং ফিকহী ইস্তিম্বাত ও কিয়াসের অপূর্ব সমন্বয়ে রচিত।

১. শরহু মা’য়ানিল আছার গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. পরস্পরবিরোধী হাদীসের সমন্বয় (الجمع بين الأحاديث): কোনো বিষয়ে আপাতদৃষ্টিতে বিরোধী হাদীস পাওয়া গেলে ইমাম তহাবী কেবল কোনো হাদীস বর্জন করেন না, বরং তার প্রেক্ষাপট, নাসিখ-মানসূখ নির্ণয় ও গভীর তাহকীক করে চমৎকার সমন্বয় পেশ করেন।
২. কিয়াসের চমৎকার প্রয়োগ (النظر والقياس): কেবল বর্ণনা উপস্থাপন নয়, বরং প্রত্যেক মাসআলায় শারঈ কারণ (ইল্লত) অনুসন্ধান করে কিয়াসের ভিত্তিতে যুক্তিসিদ্ধ সমাধান প্রতিষ্ঠা করেন।
৩. উচ্চমানের সনদ ও রিজাল শাস্ত্রের পর্যালোচনা: ইমাম তহাবী অধিকাংশ হাদীস তাঁর নিজের সানাদে উচ্চস্তরের সনদে সংকলন করেছেন এবং রাবীদের বিশ্বস্ততা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
৪. সাহাবা ও তাবেঈদের ফতোয়া উপস্থাপন: কেবল মারফূ হাদীস নয়, বরং সাহাবা ও তাবেঈনের আসার ব্যাপকভাবে উল্লেখ করে উম্মাহর অবিচ্ছিন্ন আমল ফুটিয়ে তুলেছেন।
৫. নিরপেক্ষ গবেষণা ও মাযহাবের প্রমাণাদি: যদিও তিনি হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন, তবুও তিনি অন্ধ অনুকরণের ঊর্ধ্বে উঠে দলীল ভিত্তিক যুক্তি পেশ করেছেন।

২. হাদীস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর ঐতিহাসিক মর্যাদা:
১. সিহাহ সিত্তাহর সমমর্যাদা: প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনে হাযম ও ইমাম আইনী (রহ.)-এর মতে, নির্ভুলতা ও প্রামাণিকতায় এটি আবু দাউদ ও নাসাঈর কাতারে অবস্থান করে।
২. ফিকহুল হাদীসের শ্রেষ্ঠ কিতাব: শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’ কিতাবে হাদীসের স্তরবিন্যাসে ইমাম তহাবীর কিতাবকে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন।
৩. মুজতাহিদদের অবলম্বন: পরবর্তী যুগের সকল ফকীহ ও মুহাদ্দিসের জন্য এটি একটি অবশ্য পাঠ্য আকর গ্রন্থ হিসেবে আজ অবধি সমাদৃত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. কামিল ১ম বর্ষ হাদীস ৪র্থ পত্রের নাম ও কোড কী?

কামিল ১ম বর্ষ হাদীস ৪র্থ পত্রের নাম হলো ‘শরহু মা’য়ানিল আছার’ (Sharhu Ma’anil Athar 4th Paper) এবং এর বিষয় কোড হলো ৬১১১০৪ (611104)।

২. শরহু মা’য়ানিল আছার গ্রন্থের মূল রচয়িতা কে?

এ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ইসলামের তৃতীয় শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তহাবী আল-মিসরী (রহ.)।

৩. এ কিতাবটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য কী?

ফিকহুল হাদীস আয়ত্ত করা, আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্যপূর্ণ হাদীসসমূহের তাতবীক্ব (সমন্বয়) পদ্ধতি শেখা এবং হানাফী মাযহাবের দলীলের প্রামাণিক ভিত্তি অনুধাবন করা।

৪. পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে?

হাদীসগুলোর বিশুদ্ধ বিশুদ্ধ তরজমা ও ভাবার্থ, শাব্দিক তাহকীক ও ফকীহদের তুলনামূলক ইখতিলাফ বিস্তারিত দলীলসহ পরীক্ষার খাতায় উপস্থাপন করা জরুরি।

৫. নিকাহে মুত’আ ও মুয়াক্কাতের আধুনিক বিধান কী?

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সহীহ হাদীসের আলোকে মুত’আ ও সাময়িক মেয়াদে যেকোনো বিবাহ কিয়ামত পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে হারাম ও বাতিল।

৬. শরহু মা’য়ানিল আছার কি কেবল হানাফী মাযহাবের কিতাব?

না, এটি সামগ্রিক হাদীস শাস্ত্রের একটি মাস্টারপিস গ্রন্থ, যেখানে সকল ইমামদের ফতোয়া ও দলীল নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করে সমন্বয় করা হয়েছে।