কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস প্রথম পর্ব পরীক্ষা, ২০২৩
হাদীস বিভাগ (তৃতীয় পত্র)
বিষয়: সুনানু ইবনে মাজাহ [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: ৬১১১০৩ | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-]
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ হতে যেকোনো চারটি এবং (খ) বিভাগ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বাম পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]
مجموعة (أ) – ক বিভাগ : হাদীস অংশ (মান: ২০ × ৪ = ৮০)
١- حدثنا يعقوب بن حميد بن كاسب ثنا عبد العزيز الدراوردى عن ثور بن زيد الديلى عن ابى الغيث مولى ابن مطيع عن ابى هريرة رضى الله عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال الساعى على الارملة والمسكين كالمجاهد فى سبيل الله وكالذى يقوم الليل ويصوم النهار.
[১. ইয়াকুব ইবনে হুমাইদ ইবনে কাসিব … হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন— “বিধবা নারী এবং নিঃস্ব-দরিদ্রদের ভরণপোষণ ও সাহায্যে প্রচেষ্টা পরিচালনাকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য; এবং সে সেই ব্যক্তির সমতুল্য যে রাতে একাধারে নফল সালাত আদায় করে এবং দিনে বিরতিহীন রোযা পালন করে।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| السَّاعِي | প্রচেষ্টা পরিচালনাকারী | س – ع – ي | اسم فاعل معرف باللام | مبتدأ مرفوع بضمة مقدرة على الياء |
| الأَرْمَلَةِ | বিধবা নিঃসহায় নারী | ر – م – ل | اسم مفرد مؤنث مجرور بـ على | اسم مجرور متعلق بالساعي |
| كَالْمُجَاهِدِ | মুজাহিদের মতো / সমতুল্য | ج – ه – د (مفاعلة) | اسم فاعل مجرور بالكاف | جار ومجرور شبه جملة خبر المبتدأ |
| يَقُومُ | সে দণ্ডায়মান হয় / সালাত পড়ে | ق – و – م (نصر) | واحد مذكر غائب (مضارع) | صلة الموصول لا محل لها من الإعراب |
| يَصُومُ | সে রোযা পালন করে | ص – و – م (نصر) | واحد مذكر غائب (مضارع) | معطوف على يقوم |
(أ) ما المراد بقوله عليه السلام: “الساعى على الارملة والمسكين كالمجاهد الخ”؟
হাদীসের সুমহান তাৎপর্য ও সামাজিক অঙ্গীকার: আলোচ্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সমাজকল্যাণমূলক মানবিক কাজকে ইসলামের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত—জিহাদ এবং দীর্ঘ নফল তাহাজ্জুদ ও সিয়ামের সমকক্ষ ঘোষণা করেছেন। ‘আস-সাঈ’ বলতে কেবল আর্থিক অনুদান দেওয়া নয়; বরং বিধবা ও নিঃস্ব মানুষের সার্বিক দেখভাল, তাদের অধিকার আদায়, সমাজে তাদের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের জীবনসংগ্রামে পাশে দাঁড়ানোর অক্লান্ত প্রচেষ্টাকে বোঝায়। বিধবা নারী ও এতিম-মিসকীনরা সমাজে সবচেয়ে অরক্ষিত ও অসহায় শ্রেণী। একজন মুমিন যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ঘাম ঝরায়, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে জিহাদের ময়দানের শহীদ বা গাজীর সমতুল্য সাওয়াব দান করেন। এটি প্রমাণ করে যে ইসলামে সামাজিক দায়িত্ব পালন নফল ইবাদতের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগণ্য।
(ب) ماذا فعل الاسلام لرفع ضرر المساكين ولمنافعهم؟
দরিদ্র ও মিসকীনদের কল্যাণে ইসলামের যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ: ইসলাম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় সুসংহত বিধান প্রণয়ন করেছে:
১. যাকাত ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ: ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদে দরিদ্রের অধিকারকে ‘ফরয’ করা হয়েছে, যাতে সম্পদ কেবল বিত্তবানদের মধ্যে আবর্তিত না হয়।
২. সাদাকাতুল ফিতর ও কাফফারা: ঈদের আনন্দে মিসকীনদের অংশীদার করতে ফিতরা এবং রোযা বা কসম ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে খাদ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৩. নফল সদকা ও ওয়াকফ: দান-সদকাহ, খাবার খাওয়ানো এবং স্থায়ী ওয়াকফ ব্যবস্থার মাধ্যমে দরিদ্রদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের স্থায়ী সমাধান প্রদান।
৪. বায়তুলমালের সামাজিক নিরাপত্তা: মুসলিম রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কোশাগার থেকে নিঃস্ব, অক্ষম ও অমুসলিম জিম্মিদের জন্যও নিয়মিত সার্বজনীন ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
(ج) ما معنى الجهاد لغة وشرعا؟ وكم قسما له؟ بين مفصلا.
জিহাদের শাব্দিক ও পারিভাষিক স্বরূপ এবং এর প্রকারভেদ: ‘জিহাদ’ (الجهاد) শব্দের আভিধানিক অর্থ চরম পরিশ্রম ও শক্তি প্রয়োগ করা। শরীয়তের পরিভাষায় দ্বীন প্রতিষ্ঠা, সত্যের বিজয় ও অন্যায়ের প্রতিরোধে জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোকে জিহাদ বলে। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) জিহাদকে চারটি প্রধান স্তরে এবং তেরটি শাখায় বিভক্ত করেছেন:
১. জিহাদুন নফস (جهاد النفس): নিজের কুপ্রবৃত্তি, লোভ ও পাপের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
২. জিহাদুশ শায়তান (جهاد الشيطان): শয়তানের কুমন্ত্রণা ও সন্দেহের বিরুদ্ধে ঈমানী দৃঢ়তা বজায় রাখা।
৩. জিহাদুল কুফফার ওয়াল মুনাফিকীন (جهاد الكفار والمنافقين): বাতিলের বিরুদ্ধে হাত, জবান, অর্থ ও লেখনীর মাধ্যমে সংগ্রাম করা।
৪. জিহাদু আরবাবিজ জুলমি ওয়াল বিদআহ (جهاد أرباب الظلم والبدع): সমাজের অত্যাচারী ও বিদআতীদের বিরুদ্ধে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ (আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার) কায়েম করা।
(د) ما معنى قيام الليل؟ وما فضائله؟ بين.
কিয়ামুল লাইল-এর পরিচয় ও ফযীলত: ‘কিয়ামুল লাইল’ (قيام الليل) বলতে রাতের একাংশে নিদ্রা ত্যাগ করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সালাত, কুরআন তেলাওয়াত, যিকির ও দোয়ায় রত থাকাকে বোঝায়। এর প্রধান রূপ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা কিয়ামুল লাইল পালনকারীদের সম্পর্কে বলেন: “تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ” (তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “ফরয সালাতের পর সর্বশ্রেষ্ঠ সালাত হলো রাতের সালাত।” রাতের নিভৃতে বান্দার প্রার্থনা সরাসরি আল্লাহর আরশে গৃহীত হয় এবং এটি পাপ মোচন ও চেহারায় নূর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
(هـ) اكتب نبذة من حياة ابى هريرة رضى الله عنه.
হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর পবিত্র জীবনী: তাঁর নাম আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী (রা.)। তিনি সপ্তম হিজরীতে খায়বার যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সার্বক্ষণিক ছায়ার মতো লেগে থাকতেন এবং মসজিদে নববীর ‘সুফফাহ’ চত্বরে চরম দারিদ্র্যের মাঝেও ইলমে হাদীস অন্বেষণে নিবেদিত থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্মৃতিশক্তির জন্য বরকতের দোয়া করেছিলেন, যার ফলে তিনি যা শুনতেন তা কখনো বিস্মৃত হতেন না। তিনি মোট ৫,৩৭৪টি হাদীস বর্ণনা করে মুহাদ্দিসীন সাহাবীগণের মধ্যে সর্বশীর্ষ স্থান অধিকার করেছেন। ৫৮ হিজরীতে ৭৮ বছর বয়সে মদীনা মুনাওয়ারায় এই মহান সাহাবী ওফাত লাভ করেন।
٢- حدثنا سويد بن سعيد ثنا مالك بن انس عن نافع عن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يبيع بعضكم على بيع بعض. عن ابى هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال لا يبيع الرجل على بيع اخيه ولا يسوم على سوم اخيه.
[২. সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ … হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— “তোমাদের কেউ যেন অন্যের বেচাকেনার ওপর বেচাকেনা না করে।” অপর সনদে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন— “কোনো ব্যক্তি যেন তার মুসলিম ভাইয়ের বিক্রয়ের ওপর বিক্রয় না করে এবং তার ভাইয়ের দরদামের ওপর দরদাম না করে।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| لَا يَبِيعُ | সে যেন বিক্রয় না করে | ب – ي – ع (ضرب) | واحد مذكر غائب (مضارع مجزوم/منفي) | فعل مضارع نهي بلفظ النفي |
| لَا يَسُومُ | সে যেন দরদাম না করে | س – و – م (نصر) | واحد مذكر غائب (مضارع) | معطوف على لا يبيع مجزوم |
| سَوْمِ | দরদাম / মূল্য নির্ধারণ | س – و – م | مصدر مفرد مذكر مجرور | اسم مجرور بـ على متعلق بيسوم |
| أَخِيهِ | তার ভাই | أ – خ – و | اسم من الأسماء الخمسة مجرور | مضاف إليه مجرور بالياء |
| بَعْضٌ | কেউ একজন | ب – ع – ض | اسم مفرد مذكر مرفوع | فاعل للفعل لا يبيع |
(أ) ما هى حكمة النهى ان يستام الرجل على سوم اخيه؟ بين.
অন্যের দরদামের ওপর দরদাম করার নিষেধাজ্ঞার হেকমত: যখন একজন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কোনো পণ্যের দাম মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে যায় এবং উভয়ে সম্মতির কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন তৃতীয় কোনো ব্যক্তির এসে অধিক দাম হাঁকানোকে ‘সাওম আলা সাওমি আখীহী’ বলে। ইসলাম এটিকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছে। এর প্রধান হেকমত হলো: ১. পারস্পরিক শত্রুতা প্রতিরোধ: এ জাতীয় অনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে মুসলিমদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, ক্রোধ ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। ২. ব্যবসায়িক শোষণ বন্ধ করা: বিক্রেতা অতিরিক্ত লাভের লোভে পূর্বের সৎ ক্রেতার চুক্তি ভঙ্গ করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ৩. সামাজিক শান্তি ও সততা রক্ষা: বাজার ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি না করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা।
(ب) بيع الغرر ما هو؟ فصل المقام كى يتضح المرام.
বায়য়ে গারার (প্রতারণামূলক বেচাকেনা)-এর স্বরূপ ও বিধান: ‘বায়য়ে গারার’ (بيع الغرر) হলো এমন বেচাকেনা যার পরিণতি অজ্ঞাত, যাতে পণ্যের গুণাগুণ, অস্তিত্ব বা হস্তান্তরযোগ্যতা অনিশ্চিত থাকে এবং যার ফলে এক পক্ষ অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। যেমন—বাতাসের পাখি বিক্রয় করা, নদী বা সাগরের মুক্ত মাছ ধরা পড়ার পূর্বেই বিক্রয় করা, গর্ভস্থ পশুর বাচ্চা বিক্রয় করা, বা এমন পলাতক দাস বা চুরিকৃত পণ্য বিক্রয় করা যা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে বায়য়ে গারারকে নিষিদ্ধ করেছেন (“نَهَى رَسُولُ اللَّهِ عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ”)। তবে পণ্যের এমন সামান্য অস্পষ্টতা যা সাধারণ ব্যবহারে এড়িয়ে চলা যায় না (যেমন তরমুজের ভেতরের রঙ বা মাটির নিচের আলু), তা বায়য়ে গারারের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং বৈধ।
(ج) متى لا يجوز بيع بعض على بيع بعض؟ بين.
অন্যের বেচাকেনার ওপর বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী: ফকীহগণের বিশ্লেষণে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র রয়েছে: যখন ক্রেতা ও বিক্রেতা পণ্যের মূল্য ও হস্তান্তরের বিষয়ে পূর্ণ একমত হয়ে চুক্তি সম্পন্ন করেছে কিন্তু খিয়ারে মজলিস বা খিয়ারে শর্ত অবশিষ্ট রয়েছে, তখন তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ক্রেতাকে প্রলুব্ধ করে বলে—”তুমি এ চুক্তি বাতিল কর, আমি তোমাকে এই পণ্য আরও কম দামে দেব” অথবা বিক্রেতাকে বলে—”তুমি চুক্তি বাতিল কর, আমি তোমাকে আরও বেশি মূল্য দেব।” এই পরিস্থিতিতে অন্যের বিক্রয়ের ওপর বিক্রয় করা সর্বসম্মতভাবে হারাম। তবে যদি পণ্য উন্মুক্ত নিলামে (বায়য়ে মুযায়াদাহ) থাকে এবং এখনো কারো সাথে চূড়ান্ত সম্মতি না হয়, তবে উচ্চমূল্য হাঁকানো সম্পূর্ণ বৈধ।
(د) عرف الربوا والبيع – وما الفرق بينهما؟ بين.
রিবা (সুদ) ও বাঈ (ব্যবসা)-এর সংজ্ঞা ও পার্থক্য:
১. বাঈ (البيع): পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বৈধ মালের বিনিময়ে অপর মালের সুনির্দিষ্ট মালিকানা হস্তান্তরকে বেচাকেনা বলে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ” (আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন)। এতে লাভ ও ক্ষতি উভয়ের ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে এবং তা বাস্তব শ্রম ও মূলধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
২. রিবা (الربا): আর্থিক ঋণের চুক্তিতে কোনো শরয়ী বিনিময় বা ঝুঁকি ছাড়াই কেবল সময়ের বিনিময়ে মূলধনের ওপর ধার্যকৃত অতিরিক্ত অর্থকে রিবা বা সুদ বলে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: “وَحَرَّمَ الرِّبَا” (আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন)। সুদে ঋণদাতা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দরিদ্রের অভাবকে শোষণ করে নিশ্চিত মুনাফা ভোগ করে, যা জুলুম ও হারাম।
(هـ) اكتب نبذة من حياة ابن عمر رضى الله عنه.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলীফার পুত্র এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অন্ধ অনুসারী এক মহান সাহাবী। বাল্যকালেই পিতার সাথে মদীনায় হিজরত করেন। বদর ও উহুদে বয়সের কারণে অংশ নিতে পারেননি, তবে খন্দকের যুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী সকল গাযওয়ায় বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সুন্নাহর অনুসরণে এত নিখুঁত ছিলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে পথে হেঁটেছেন, যে গাছের নিচে বিশ্রাম নিয়েছেন, তিনিও হুবহু সেভাবে চলতেন। তিনি ফিতনা ও গৃহযুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ দূরে অবস্থান করতেন এবং খেলাফতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের দ্বিতীয় (বর্ণিত হাদীস ২,৬৩০টি)। ৭৩ হিজরীতে ৮৪ বছর বয়সে মক্কায় ওফাত লাভ করেন।
٣- حدثنا هشام بن عمار ثنا سفيان عن الزهرى عن حميد بن عبد الرحمن ومحمد بن النعمان بن بشير اخبراه عن النعمان بن بشير ان اباه نحله غلاما وانه جاء الى النبى صلى الله عليه وسلم يشهده فقال اكل ولدك نحلته قال لا قال فاردده. وعن ابن عمر عن النبى صلى الله عليه وسلم قال العائد فى هبته كالكلب يعود فى قيئه.
[৩. হিশাম ইবনে আম্মার … হযরত নু’মান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা (বাশীর বিন সা’দ) তাঁকে একটি দাস উপহার (হেবা) হিসেবে প্রদান করলেন। অতঃপর তাঁর পিতা নবী করীম (সা.)-এর দরবারে আসলেন যেন রাসুলুল্লাহকে এ দানের ওপর সাক্ষী রাখেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: “তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে অনুরূপ দান করেছ?” তিনি আরজ করলেন: না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: “তবে তা ফেরত নাও (দান বাতিল কর)।” অপর বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন— “নিজের প্রদত্ত দান বা হেবা ফেরত গ্রহণকারী ব্যক্তি সেই কুকুরের সমতুল্য, যে বমি করে নিজেই পুনরায় তা ভক্ষণ করে।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| نَحَلَهُ | তাকে উপহার দিল | ن – ح – ل (فتح) | واحد مذكر غائب (ماض) | فعل ماض والهاء مفعول به أول |
| غُلَامًا | একজন দাস বা বালক | غ – ل – م | اسم مفرد مذكر منصوب | مفعول به ثان للفعل نحله |
| فَارْدُدْهُ | তুমি তা ফিরিয়ে নাও | ر – د – د (نصر) | واحد مذكر حاضر (أمر) | فعل أمر مبني على السكون مقول القول |
| الْعَائِدُ | প্রত্যাবর্তনকারী / যে ফেরত নেয় | ع – و – د | اسم فاعل مفرد مرفوع | مبتدأ مرفوع بالضمة الظاهرة |
| قَيْئِهِ | তার বমি / উদ্গীরণ | ق – ي – أ | مصدر مفرد مذكر مجرور | اسم مجرور بالإضافة بكسرة |
(أ) الحديثان متعارضان فكيف التوفيق بينهما؟
উভয় হাদীসের বাহ্যিক বৈপরীত্য ও তার চমৎকার সমন্বয়: আপাতদৃষ্টিতে প্রথম হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাশীর (রা.)-কে প্রদত্ত দান ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিলেন, আর দ্বিতীয় হাদীসে দান ফেরত নেওয়াকে বমি খাওয়ার মতো নিকৃষ্ট ঘোষণা করলেন। মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ এর সুন্দর সমন্বয় করেছেন:
১. পিতা ও সন্তানের বিশেষ সম্পর্ক: দ্বিতীয় হাদীসের সাধারণ নিষেধাজ্ঞাটি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—যেখানে কোনো বৈধ কারণ ছাড়া উপহার ফেরত নেওয়া মাকরূহে তাহরীমী। কিন্তু প্রথম হাদীসটি পিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পিতা যদি ইনসাফ বজায় রাখতে বা সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে কোনো সন্তানকে দেওয়া হেবা ফিরিয়ে নেয়, তবে তা জায়েয; কারণ রাসুলুল্লাহ স্বয়ং ইরশাদ করেছেন: “أَنْتَ وَمَالُكَ لِأَبِيكَ” (তুমি এবং তোমার সম্পদ সবই তোমার পিতার)।
২. অন্য বর্ণনায় এসেছে: “কোনো ব্যক্তির জন্য দান করে তা ফেরত নেওয়া হালাল নয়, কেবল পিতার ক্ষেত্রে ব্যতীত—যিনি নিজ সন্তানকে কিছু দান করেছিলেন।” সুতরাং পিতা ছাড়া সাধারণের জন্য হেবা প্রত্যাহার নিষিদ্ধ।
(ب) ما معنى الهبة لغة وشرعا؟ وما حكمها؟
হেবা-এর সংজ্ঞা ও বিধান: ‘হেবা’ (الهبة) শব্দের আভিধানিক অর্থ কোনো প্রতিদান ছাড়া কাউকে কিছু প্রদান করা। শরীয়তের পরিভাষায় কোনো রূপ আর্থিক বিনিময় ছাড়া জীবিতাবস্থায় স্বেচ্ছায় কোনো নির্দিষ্ট মালের তাৎক্ষণিক মালিকানা অন্য কাউকে হস্তান্তর করাকে হেবা (উপহার) বলে। হেবা করা ইসলামে একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় মুস্তাহাব ও সাওয়াবের কাজ, যা পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। তবে হেবা কার্যকর হওয়ার জন্য প্রস্তাব ও গ্রহণের (ঈجاب ও কবুল) পর পণ্যের পূর্ণ দখল (ক্ববযা) বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক।
(ج) ما الاختلاف بين الائمة فى رجوع الهبة؟ بين ما لها وما عليها.
হেবা ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে ইমামগণের মাযহাব:
১. ইমাম শাফেয়ী, মালেক ও আহমাদ (রহ.): তাঁদের মতে কোনো অবস্থাতেই হেবা ফেরত নেওয়া জায়েয নেই; কেবল পিতা তার সন্তানকে দেওয়া হেবা ফেরত নিতে পারেন। তাঁদের প্রধান দলীল হলো কুকুরের বমির হাদীস।
২. ইমাম আবু হানীফা (রহ.): আহনাফের মতে যেকোনো সাধারণ উপহারগ্রহীতা থেকে হেবা ফেরত নেওয়া জায়েয হলেও তা চরম মাকরূহ। তবে সাতটি প্রতিবন্ধক (মাওয়ানে রুজু) থাকলে আর কখনোই ফেরত নেওয়া যাবে না: (ক) রক্তসম্পর্কের মাহরাম আত্মীয়কে দান করলে, (খ) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দান, (গ) পণ্যের কোনো বিনিময় (ইওয়াদ) লাভ করলে, (ঘ) পণ্য গ্রহীতার হাত থেকে স্থানান্তরিত বা বিক্রি হয়ে গেলে, (ঙ) পণ্যের বৃদ্ধি ঘটলে, (চ) পণ্য বিনষ্ট হলে, এবং (ছ) কোনো এক পক্ষ মৃত্যুবরণ করলে।
(د) ما حكم التسوية فى العطية بين الاولاد؟ بين بالادلة.
সন্তানদের মাঝে দানে সমতা রক্ষার বিধান: সন্তানদের দান-উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার জন্য সমতা বজায় রাখা আবশ্যক। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.)-এর মতে সন্তানদের মধ্যে দান সমান করা ‘ওয়াজিব’ এবং বিনা কারণে কোনো এক সন্তানকে বেশি দেওয়া হারাম; কারণ রাসুলুল্লাহ বাশীর (রা.)-এর এমন দানকে “জুলুম” ও “অন্যায়” আখ্যায়িত করে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন: “اتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ” (আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ বজায় রাখ)। আর জুমহুর ফকীহগণের মতে সমতা রাখা মুস্তাহাব। তবে কোনো সন্তান যদি পঙ্গু, অন্ধ বা দ্বীনী ইলমে নিবেদিত হওয়ার কারণে অধিক সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়, তবে তাকে অতিরিক্ত দেওয়া বৈধ।
(هـ) ما الفرق بين الهبة والصدقة؟ اكتب موضحا.
হেবা ও সদকার মধ্যকার পার্থক্য:
১. উদ্দেশ্য: সদকা প্রদান করা হয় একান্তভাবে আখেরাতের সাওয়াব ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দরিদ্র ব্যক্তির অভাব মোচনে। পক্ষান্তরে হেবা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে যেকোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেওয়া হয়।
২. ফেরত নেওয়ার সুযোগ: সদকা একবার প্রদান করার পর তা সর্বসম্মতভাবে আর কখনোই ফেরত নেওয়া যায় না। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে হেবা ফেরত নেওয়ার অবকাশ কোনো কোনো মাযহাবে রয়েছে।
৩. রাসুলুল্লাহ ও তাঁর বংশধরের জন্য বিধান: রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আহলে বাইতের জন্য সদকা গ্রহণ করা চিরতরে হারাম ছিল, কিন্তু হাদিয়া বা হেবা গ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে হালাল ও পছন্দনীয় ছিল।
٤- عن زيد بن خالد الجهنى رضى الله عنه عن النبى (صـ) قال سئل عن ضالة الابل فغضب واحمرت وجنتاه فقال ما لك ولها معها الحذاء والسقاء ترد الماء وتاكل الشجر حتى يلقاها ربها – وسئل عن ضالة الغنم فقال خذها فانما هى لك او لاخيك او للذئب – وسئل عن اللقطة فقال اعرف عفاصها ووكاءها وعرفها سنة فان اعترفت والا فاخلطها بمالك.
[৪. হযরত যায়দ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.)-কে পথভ্রষ্ট বা হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং তাঁর উভয় গাল রক্তিম হয়ে উঠল। তিনি বললেন: “উটের সাথে তোমার কী প্রয়োজন? তার সাথে তো তার খুর রয়েছে এবং তার উদরে রয়েছে পানির মশক; সে নিজেই পানিতে গমন করে পান করতে পারে এবং গাছের পাতা ভক্ষণ করতে পারে, যতক্ষণ না তার প্রকৃত মালিক তার সন্ধান পায়।” অতঃপর তাঁকে হারানো বকরী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো; তিনি বললেন: “তা ধরে নাও; কেননা তা হয় তোমার জন্য, নয় তোমার ভাইয়ের জন্য, অন্যথায় তা নেকড়ে বাঘের পেটে যাবে।” অতঃপর তাঁকে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু (লুকতাহ) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো; তিনি বললেন: “তুমি তার পাত্র বা থলি এবং তার বাঁধার রশি চিনে রাখ এবং এক বছর পর্যন্ত তা ঘোষণা প্রচার কর। যদি তার মালিক এসে পরিচয় দিয়ে দাবি করে তবে তাকে ফেরত দাও; অন্যথায় তা তোমার নিজের সম্পদের সাথে মিশিয়ে নাও (ব্যবহার কর)।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| ضَالَّةِ | হারানো বা পথভ্রষ্ট পশু | ض – ل – ل | اسم فاعل مفرد مؤنث مجرور | اسم مجرور بـ عن متعلق بسئل |
| الْحِذَاءُ | পায়ের শক্ত খুর / জুতা | ح – ذ – و | اسم مفرد مذكر مرفوع | مبتدأ مؤخر مرفوع بالضمة |
| السِّقَاءُ | পানির মশক / জলাধার | س – ق – ي | اسم مفرد مذكر مرفوع | معطوف على الحذاء |
| عِفَاصَهَا | তার পাত্র বা থলি | ع – ف – ص | اسم مفرد منصوب مضاف | مفعول به للفعل اعرف |
| وِكَاءَهَا | মুখ বাঁধার রশি বা সুতা | و – ك – ي | اسم مفرد منصوب مضاف | معطوف على عفاصها منصوب |
(أ) عرف اللقطة واللقيط والضالة مع بيان فرقها واحكامها مفصلا.
লুকতাহ, লাক্বীত ও দ্বাল্লাহ-এর পরিচয় ও পার্থক্য:
১. লুকতাহ (اللقطة): কোনো ব্যক্তির হারানো বা পড়ে থাকা অর্থকড়ি বা জড়বস্তু যা কোনো ব্যক্তি কুড়িয়ে পায়, তাকে লুকতাহ বলে। এর হুকুম হলো এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দিয়ে মালিকের সন্ধান করতে হবে।
২. লাক্বীত (اللقيط): মানুষের কোনো ফেলে দেওয়া বা অভিভাবকহীন কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক বা ছোট শিশুকে ‘লাক্বীত’ বলে। একে কুড়িয়ে নিয়ে বাঁচানো উম্মাহর ওপর ‘ফরযে কিফায়া’ এবং এর ভরণপোষণ রাষ্ট্রীয় বায়তুলমালের দায়িত্ব।
৩. দ্বাল্লাহ (الضالة): পথভ্রষ্ট বা হারানো গবাদিপশু। যদি তা নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয় (যেমন উট, ঘোড়া), তবে তা ধরা জায়েয নেই। আর দুর্বল পশু হলে (যেমন বকরী) তা হিংস্র পশুর হাত থেকে রক্ষা করতে নিজের জিম্মায় নেওয়া ওয়াজিব।
(ب) ما معنى العفاص والوكاء؟ ثم بين الفرق بين العفاص والصمام موضحا.
ইফাস, উইকা ও সিমাম-এর শাব্দিক ও ব্যবহারিক পরিচয়: ‘আল-ইফাস’ (العِفَاص) হলো সেই চামড়া, কাপড় বা ধাতব পাত্র যাতে কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ বা মূল্যবান বস্তু সংরক্ষিত থাকে। আর ‘আল-উইকা’ (الوِكَاء) হলো সেই রশি বা সুতা যা দিয়ে থলি বা পাত্রের মুখটি শক্ত করে বাঁধা হয়। অন্যদিকে ‘আস-সিমাম’ (الصِّمَام) হলো কোনো বোতল, ঘটি বা তরল পাত্রের মুখের ছিপি বা কর্ক। কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর এই বাহ্যিক নিদর্শনগুলো নিখুঁতভাবে মনে রাখা ওয়াজিব, যাতে প্রকৃত মালিক এসে সঠিক বর্ণনা দিতে পারে।
(ج) بين اقوال العلماء فى الاستمتاع باللقطة.
এক বছর ঘোষণার পর কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু ব্যবহারের হুকুম: এক বছর ধরে জনসমক্ষে যথাযথ ঘোষণা প্রচারের পরও যদি কোনো দাবিদার বা মালিক না আসে, তবে ওলামায়ে কেরামের অভিমত:
১. আহনাফের অভিমত: কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি যদি নিজে দরিদ্র ও অভাবী হয়, তবে সে তা নিজের প্রয়োজনে ভোগ করতে পারবে। কিন্তু সে যদি ধনী হয়, তবে সে তা নিজের জন্য ভোগ করতে পারবে না; বরং মূল মালিকের পক্ষ থেকে সাওয়াবের নিয়তে কোনো গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিতে হবে। আর যদি পরবর্তীতে মালিক আসে, তবে মালিক চাইলে সদকার সাওয়াব গ্রহণ করতে পারে অথবা তার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
২. শাফেয়ী ও হাম্বলী অভিমত: এক বছর পূর্ণ হলে প্রাপক ধনী হোক বা গরীব, সে ক্ষতিপূরণের জিম্মাদারী মেনে নিয়ে তা নিজের মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারে। পরবর্তীতে মালিক আসলে সমমূল্য ফেরত দেওয়া আবশ্যক।
(د) كم مدة تجب لاعلام اللقطة؟ وما هو حكم اخذ اللقطة؟ وما هو الخلاف فيه؟
ঘোষণার মেয়াদকাল ও কুড়িয়ে নেওয়ার হুকুম: হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য মূল্যের লুকতাহ হলে পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত হাট-বাজার, মসজিদের ফটক ও জনসমাগমস্থলে ঘোষণা প্রচার করা ওয়াজিব। সামান্য মূল্যের তুচ্ছ বস্তু হলে (যেমন এক টুকরো রুটি বা একটি লাঠি) অল্প কিছুদিন বা মালিকের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা পর্যন্ত ঘোষণা দেওয়াই যথেষ্ট। রাস্তায় পড়ে থাকা বস্তু তুলে নেওয়া সম্পর্কে ফকীহদের দুটি মত: যদি তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে তা তুলে সংরক্ষণ করা ‘ওয়াজিব’ বা সুন্নাত। আর যদি বিনষ্ট হওয়ার ভয় না থাকে এবং নিজের মধ্যে আমানতদারী রক্ষার সংশয় থাকে, তবে তা ফেলে রাখাই উত্তম।
(هـ) ما حكم لقطة الحرم المكى؟ وما هى اقوال العلماء فيه؟ بين بالتفصيل.
মক্কা হারাম শরীফের কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর বিশেষ বিধান: পবিত্র মক্কার হারাম শরীফের লুকতাহ অন্যান্য সাধারণ স্থানের মতো নয়; এর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কতা আরোপ করে বলেছেন: “ولا تَحِلُّ لُقَطَتُهَا إِلا لِمُنْشِدٍ” (হারাম শরীফের কোনো পড়ে থাকা বস্তু উঠিয়ে নেওয়া হালাল নয়, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে চিরকাল তার ঘোষণা জারি রাখবে)। জুমহুর ফকীহগণের মতে মক্কার হারামের বস্তু কখনো এক বছর পর নিজের জন্য ব্যবহার করা হালাল হবে না; বরং অনন্তকাল ধরে তার ঘোষণা দিতে হবে অথবা কোনো স্থায়ী আমানত প্রতিষ্ঠানে জমা রাখতে হবে।
٥- عن ابى اسيد مالك بن ربيعة قال بينما نحن عند النبى صلى الله عليه وسلم اذ جاءه رجل من بنى سلمة فقال يا رسول الله ابقى من بر ابوى شئ ابرهما به من بعد موتهما قال نعم الصلوة عليهما والاستغفار لهما وايفاء بعهودهما من بعد موتهما واكرام صديقهما وصلة الرحم التى لا توصل الا بهما.
[৫. হযরত আবু উসাইদ মালিক ইবনে রাবীআহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একদা নবী করীম (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় বনু সালিমা গোত্রের এক ব্যক্তি এসে নিবেদন করল: হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা-মাতার ইন্তেকালের পর তাঁদের প্রতি সদাচরণের এমন কোনো দায়িত্ব কি আমার ওপর অবশিষ্ট আছে, যা দ্বারা আমি তাঁদের মৃত্যুর পরও তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে পারি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: “হ্যাঁ, তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করা, তাঁদের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের কৃত অঙ্গীকার ও অসিয়ত পূরণ করা, তাঁদের বন্ধুবান্ধবদের প্রতি সম্মান ও সমাদর প্রদর্শন করা এবং এমন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা যা তাঁদের উভয়ের মাধ্যম ছাড়া যুক্ত হয় না।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| أَبَوَيَّ | আমার পিতা-মাতা | أ – ب – و | تثنية مضاف إلى ياء المتكلم | مضاف إليه مجرور بالياء المحذوفة للإدغام |
| أَبَرُّهُمَا | আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করব | ب – ر – ر (ضرب) | واحد متكلم (مضارع) | صلة الموصول বা جملة نعتية |
| إِيفَاءُ | পরিপূর্ণ আদায় বা পূরণ করা | و – ف – ي (إفعال) | مصدر مفرد مرفوع | معطوف على الصلاة مرفوع بالضمة |
| لَا تُوصَلُ | সম্পর্ক যুক্ত রাখা যায় না | و – ص – ل (ضرب) | واحد مؤنث غائب (مضارع مجهول) | جملة صلة الموصول لـ “التي” |
| بِعُهُودِهِمَا | তাঁদের অঙ্গীকার ও অসিয়তসমূহ | ع – ه – د | جمع تكسير مجرور بالباء | مضاف إليه للمصدر إيفاء |
(أ) بين حقوق الوالدين على الاولاد بعد موتهما بضوء القران والحديث.
পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাঁদের প্রতি সন্তানের অবশ্যকরণীয় দায়িত্বসমূহ: পিতা-মাতা দুনিয়া ত্যাগ করলেও তাঁদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কুরআন ও হাদীসের আলোকে সন্তানের পাঁচটি প্রধান কর্তব্য রয়েছে:
১. মাগফিরাত ও রহমতের দোয়া: পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ শিখিয়ে দিয়েছেন: “رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا” (হে আমার রব! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছিলেন)।
২. ঈসালে সাওয়াব ও সাদাকায়ে জারিয়া: পিতা-মাতার নামে দান-সদকাহ করা, নলকূপ স্থাপন, মসজিদ নির্মাণ এবং কুরআন তেলাওয়াত করে সাওয়াব পৌঁছানো।
৩. অসিয়ত ও ঋণ পরিশোধ: তাঁদের কোনো অপূর্ণ শরয়ী অসিয়ত বা ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা।
৪. পিতা-মাতার বন্ধুদের সমাদর: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখা হলো শ্রেষ্ঠ বিরর বা সদাচরণ।”
৫. বংশীয় আত্মীয়তা রক্ষা: চাচা, ফুফু, মামা, খালা প্রমুখ আত্মীয়দের হক যথাযথ আদায় করা।
(ب) اوضح قول الرسول صلى الله عليه وسلم: “وصلة الرحم التى لا توصل الا بهما”.
“এমন আত্মীয়তা রক্ষা করা যা তাঁদের মাধ্যম ছাড়া যুক্ত হয় না”-এর তাৎপর্য: মানুষের এমন বহু রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় থাকে যারা মূলত পিতা ও মাতার মাধ্যমেই আত্মীয়তার বাঁধনে আবদ্ধ। যেমন পিতার দিক থেকে চাচা, ফুফু এবং তাঁদের সন্তানগণ; আর মাতার দিক থেকে মামা, খালা এবং তাঁদের সন্তানগণ। পিতা-মাতার ওফাতের পর অনেকেই এই আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসার দাবি হলো তাঁদের এই আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক আগের চেয়েও নিবিড় রাখা। তাঁদের সাহায্য করা মূলত পিতা-মাতার রুহকেই সন্তুষ্ট ও সম্মানিত করার শামিল।
(ج) ما حكم الصلة مع الابوين الكافرين؟ بين.
অমুসলিম পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের শরয়ী বিধান: পিতা-মাতা কাফের বা অমুসলিম হলেও দুনিয়াবী জীবনে তাঁদের সাথে উত্তম ব্যবহার, সেবাযত্ন এবং আর্থিক সাহায্য প্রদান করা সন্তানের ওপর ফরয। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শিরক করতে বাধ্য করে যার কোনো জ্ঞান তোমার নেই, তবে তাদের আনুগত্য করবে না; তবে পার্থিব জীবনে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর (وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا)।” হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর অমুসলিম মা মদীনায় আসলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে মায়ের সাথে উত্তম সম্পর্ক রাখার নির্দেশ দেন। তবে শিরক বা পাপ কাজের নির্দেশে তাঁদের আনুগত্য করা যাবে না এবং মৃত্যুর পর তাঁদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা নিষিদ্ধ।
(د) ما المراد بقوله صلى الله عليه وسلم “الصلوة عليهما”؟
“তাঁদের জন্য সালাত আদায় করা”-এর সঠিক মর্মার্থ: হাদীসে উল্লেখিত ‘আস-সালাতু আলাইহিমা’ (الصلوة عليهما) শব্দের অর্থ সাধারণ পাঁচ ওয়াক্তের নামাজের মতো নামাজ নয়। কারণ এক ব্যক্তির নামাজ অন্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করা যায় না। এখানে আরবি ভাষার মূল ধাতুগত অর্থে ‘সালাত’ ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো—তাঁদের জন্য আন্তরিক দোয়া, আল্লাহর নিকট রহমত ও শান্তি প্রার্থনা এবং তাঁদের জন্য জানাযার সালাত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা। ওলামায়ে কেরামের মতে এর অর্থ পিতা-মাতার জন্য রবের দরবারে সার্বক্ষণিক ক্ষমা ও মাগফিরাতের ফরিয়াদ জানানো।
(هـ) تحقيق الكلمات : أبوى – ابرهما – الاستغفار – لا توصل
তাহক্বীক্ব:
১. أَبَوَيَّ: أَبَوَانِ-এর হালতে জাররী (মজরুর রূপ), ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের সাথে যুক্ত হয়ে নুনি তাছনিয়াহ বিলুপ্ত হয়েছে। অর্থ—আমার পিতামাতা।
২. أَبَرُّ: বাবে যারাবা থেকে ওয়াহিদ মুতাকাল্লিম, মুযারে মারুফ। মূলধাতু (ب – ر – ر), অর্থ—আমি তাঁদের সাথে সদাচরণ করব।
৩. الاسْتِغْفَارُ: বাবে ইসতিফ’আল থেকে মাসদার। মূলধাতু (غ – ف – ر), অর্থ—ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৪. لَا تُوصَلُ: বাবে যারাবা থেকে মুযারে মানফী মাজহুল, ওয়াহিদ মুয়ান্নাস গায়েব। মূলধাতু (و – ص – ل), অর্থ—সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না।
٦- عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث دعوات يستجاب لهن لا شك فيهن دعوة المظلوم ودعوة المسافر ودعوة الوالد لولده.
[৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— “তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার দরবারে সরাসরি কবুল হয়ে যায়, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই: অত্যাচারিত বা মজলুমের বদদোয়া বা দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| يُسْتَجَابُ | কবুল বা মঞ্জুর করা হয় | ج – و – ب (استفعال) | واحد مذكر غائب (مضارع مجهول) | جملة فعلية في محل رفع صفة لـ “دعوات” |
| الْمَظْلُومِ | যার ওপর অবিচার করা হয়েছে | ظ – ل – م | اسم مفعول مفرد مجرور بالإضافة | مضاف إليه مجرور بالكسرة |
| الْمُسَافِرِ | সফরকারী ব্যক্তি | س – ف – ر (مفاعلة) | اسم فاعل مفرد مجرور | مضاف إليه لكلمة دعوة |
| الْوَالِدِ | পিতা বা জন্মদাতা | و – ل – د | اسم فاعل مفرد مذكر مجرور | مضاف إليه لكلمة دعوة |
| لَا شَكَّ | কোনো সন্দেহ নেই | ش – ك – ك | اسم لا النافية للجنس مبني على الفتح | جملة اعتراضية مؤكدة |
(أ) ما معنى الدعاء لغة واصطلاحا؟ وما ادابه؟ بين مفصلا.
দোয়ার সংজ্ঞা ও শিষ্টাচার: ‘দোয়া’ (الدعاء) শব্দের আভিধানিক অর্থ আহ্বান করা, প্রার্থনা করা, সাহায্য চাওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় একান্ত বিনম্র ও মুখাপেক্ষী চিত্তে মহান আল্লাহর দরবারে কল্যাণ প্রার্থনা করা এবং অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার নাম দোয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ” (দোয়াই হলো মূল ইবাদত)। দোয়ার প্রধান আদবসমূহ:
১. পূর্ণ হালাল খাদ্য ও উপার্জনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা।
২. আল্লাহর হামদ-সানা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ শরীফ পাঠ করে দোয়া শুরু ও শেষ করা।
৩. কিবলামুখী হয়ে বিনয়ের সাথে দুই হাত বক্ষ বরাবর উত্তোলন করা।
৪. অন্তরে পূর্ণ দৃঢ়তা ও কবুলিয়্যাতের দৃঢ় বিশ্বাস রাখা; দ্বিধাগ্রস্ত না হওয়া।
৫. কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি করে বারবার দোয়া করা (কমপক্ষে তিনবার)।
(ب) من هم مستجاب الدعوة وما سبب استجابة دعائهم؟ بين.
মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যাদের দোয়া নিশ্চিত কবুল হয়) এবং তার কারণ: হাদীসে বর্ণিত এই তিন শ্রেণীর দোয়ার বিশেষ মর্যাদার কারণ নিম্নরূপ:
১. মজলুমের দোয়া: মজলুম ব্যক্তি যখন অত্যাচারের শিকার হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়ে, তখন তার অন্তর ভেঙে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “মজলুমের ফরিয়াদ এবং আল্লাহর আরশের মাঝে কোনো পর্দা থাকে না; আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—আমার ইজ্জতের কসম! কিছুটা বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব।”
২. মুসাফিরের দোয়া: সফরে মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ও স্বজনদের থেকে দূরে নিঃসঙ্গ, ক্লান্ত ও অসহায় থাকে। এই মানসিক বিনম্রতা আল্লাহর রহমতকে আকৃষ্ট করে।
৩. পিতার দোয়া: সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালোবাসা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ। যখন পিতা প্রাণ খুলে সন্তানের জন্য হাত তোলেন, তাতে নিখাদ ইখলাস থাকায় তা অবিলম্বে আরশে পৌঁছে যায়।
(ج) اذكر اوقات المستحبة للدعاء عند الله تعالى.
দোয়া কবুলের বিশেষ ও বরকতময় মুহূর্তসমূহ:
১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (তাহাজ্জুদের সময়), যখন আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে এসে বান্দাকে ডাকতে থাকেন।
২. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়।
৩. জুমার দিনের শেষ প্রহর (আসর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী বিশেষ মুহূর্ত)।
৪. সালাতে সিজদারত অবস্থায়, কারণ সিজদায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়।
৫. রোযাদারের ইফতারের মুহূর্ত এবং কদরের রজনী ও আরাফাতের ময়দানে।
৬. আকাশ থেকে রহমতের বৃষ্টি বর্ষণের সময়।
(د) بين فضائل الدعاء بالايجاز.
সংক্ষেপে দোয়ার মাহাত্ম্য: দোয়া তাকদীর পরিবর্তন করতে পারে; রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই তাকদীরকে ফেরাতে পারে না।” দোয়া মুমিনের হাতিয়ার (سلاح المؤمن), দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান ও জমিনের জ্যোতি। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট দোয়া করে না, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন। বান্দার দোয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা হয় প্রার্থিত বিষয় দান করেন, অথবা তার সমপরিমাণ কোনো বালা-মুসিবত দূর করে দেন, অথবা পরকালের জন্য তা অমূল্য সম্পদ হিসেবে সঞ্চিত রাখেন।
(هـ) اشرح قوله عليه السلام “دعوة الوالد لولده”.
“সন্তানের জন্য পিতার দোয়া”-এর ব্যাখ্যা: পিতা-মাতা সন্তানের পার্থিব অস্তিত্বের মূল কারণ। সন্তানের প্রতি তাঁদের দোয়া যেমন বরকত ও সাফল্যের সোপান, তেমনি সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার বদদোয়াও ক্ষমার অযোগ্য অভিশাপ। কোনো সন্তান যদি পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয় এবং পিতা ব্যথিত অন্তরে বদদোয়া করে, তবে তা সন্তানের পার্থিব জীবন ও আখেরাতকে ধ্বংস করে দেয় (যেমন জুরাইজ রাহিবের ঘটনায় ঘটেছিল)। তাই প্রতিটি সন্তানের উচিত সর্বদা পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ও দোয়া অর্জনের চেষ্টা করা।
٧- عن ابى الاحوص عن عبد الله عن النبى (صـ) قال من رآنى فى المنام فقد رآنى فى اليقظة، فان الشيطان لا يتمثل على صورتى.
[৭. আবুল আহওয়াস … হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন— “যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থাতেই দেখল; কারণ শয়তান কখনোই আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| رَآنِي | সে আমাকে দেখল | ر – أ – ي (فتح) | واحد مذكر غائب (ماض) | فعل الشرط والياء مفعول به |
| الْمَنَامِ | নিদ্রা বা স্বপ্নের জগত | ن – و – م | اسم مكان / مصدر ميمي مجرور | اسم مجرور بـ في متعلق برآني |
| الْيَقَظَةِ | জাগ্রত অবস্থা | ي – ق – ظ | اسم مفرد مجرور | اسم مجرور متعلق بمحذوف جواب الشرط |
| لَا يَتَمَثَّلُ | সাদৃশ্য বা রূপ ধারণ করে না | م – ث – ل (تفعل) | واحد مذكر غائب (مضارع) | خبر إن مرفوع لتجرده عن الناصب |
| صُورَتِي | আমার আকৃতি বা অবয়ব | ص – و – ر | اسم مفرد مؤنث مضاف | مجرور بـ على متعلق بيتمثل |
(أ) ما معنى الرؤيا وكم قسما لها؟ بين.
স্বপ্নের পরিচয় ও প্রকারভেদ: ‘রূইয়া’ (الرؤيا) হলো নিদ্রিত অবস্থায় মানুষের অন্তর্দৃষ্টিতে মহান আল্লাহ কর্তৃক দৃশ্যমান আধ্যাত্মিক বা মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি। সহীহ হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী স্বপ্ন প্রধানত তিন প্রকার:
১. রূইয়ায়ে সাদিক্বাহ (الرؤيا الصادقة الصالحة): যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য সুসংবাদ বা সতর্কবার্তা। এটি নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ।
২. হুলমুশ শায়তান (حلم الشيطان): শয়তানের পক্ষ থেকে প্ররোচনা, মিথ্যা বিভীষিকা ও ভীতি প্রদর্শন, যার মাধ্যমে মানুষকে আতঙ্কিত করা হয়।
৩. হাদীসুন নাফস (حديث النفس): জাগ্রত অবস্থায় মানুষের প্রাত্যহিক চিন্তা, কল্পনা বা উদ্বেগের প্রতিফলন যা স্বপ্নে বিশৃঙ্খলভাবে ভেসে ওঠে।
(ب) اكتب ما تعلم عن حقيقة الشيطان وعن احواله ومشغولاته لتضليل العباد عن الصراط المستقيم.
শয়তানের স্বরূপ ও পথভ্রষ্ট করার কৌশল: শয়তান আগুনের তৈরি এক অবাধ্য জিন সম্প্রদায়ভুক্ত সত্তা, যে অহংকারবশত আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করে আল্লাহর অভিশপ্ত হয়েছিল। মানুষের প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে শয়তানের প্রধান মিশন হলো মানুষকে সিরাতে মুস্তাক্বীম থেকে বিচ্যুত করা। তার ধোঁকার প্রধান মাধ্যমগুলো হলো: ১. মানুষের অন্তরে শিরক, কুফর ও বিদআতের কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) দেওয়া। ২. গুনাহ ও পাপকর্মকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করে উপস্থাপন করা। ৩. পরিবারে বিভেদ ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাকের মাধ্যমে সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা। ৪. মানুষকে আল্লাহর যিকির ও সালাত থেকে গাফেল রাখা। তবে খাঁটি মুখলিস মুমিনদের ওপর শয়তানের কোনো প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা নেই।
(ج) ظاهر الحديث يدل على ان من رأى الرسول صلى الله عليه وسلم فى المنام كان كمن رآه فى اليقظة فيلزم منه ان رائيه فى المنام صحابي، فما رأيك فيه؟ بين.
স্বপ্নে রাসুলুল্লাহকে দর্শনকারী কি সাহাবী হতে পারবে? বাহ্যিক দৃষ্টিতে এ প্রশ্নের উদ্রেক হলেও উম্মতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর স্বপ্নে তাঁকে দর্শনকারী ব্যক্তি কখনোই ‘সাহাবী’ মর্যাদা লাভ করতে পারবে না। কারণ ইসলামী শরীয়তে ‘সাহাবী’ হওয়ার অকাট্য সংজ্ঞা হলো—জাগ্রত অবস্থায় স্বচক্ষে ঈমানের সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাত লাভ করা এবং ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করা। ঘুমের ঘোরে আত্মিক জগতের দর্শন কখনো জাগ্রত চাক্ষুষ সাক্ষাতের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। স্বপ্নে দেখার অর্থ হলো দর্শনটি সত্য এবং শয়তানের বিভ্রান্তিমুক্ত এক বরকতময় সুসংবাদ; কিন্তু এর দ্বারা কোনো সাহাবী হওয়ার শারঈ হুকুম বা নতুন দ্বীনী বিধান সাব্যস্ত হয় না।
(د) هل يمكن رؤية الله تعالى فى المنام؟ وهل يمكن وصف الله اذا رآه احد فى المنام؟ بين.
স্বপ্নে মহান আল্লাহর দর্শন লাভের সম্ভাবনা ও তার ব্যাখ্যা: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম গাজ্জালী এবং আহলুস সুন্নাহর গবেষকগণের মতে, স্বপ্নে মহান আল্লাহকে নূর বা অনুভূতিরূপে দর্শন করা সম্ভব; যেমনটি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষেত্রে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: “رَأَيْتُ رَبِّي فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ”। তবে এর সুস্পষ্ট আকিদাগত শর্ত হলো—মহান আল্লাহ কোনো দৈহিক আকৃতি, সীমাবদ্ধ অবয়ব, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো রূপ ধারণ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র ও মুক্ত (“لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ”)। কেউ যদি কোনো সুনির্দিষ্ট আকার-আকৃতিতে দেখে, তবে তা তার নিজের মনস্তাত্ত্বিক কল্পনা মাত্র; কখনোই আল্লাহর মূল সত্তার বর্ণনা নয়।
(هـ) ما المراد بقوله عليه السلام “من رآنى فى المنام فقد رآنى فى اليقظة”؟ وفى رواية “من رآنى فقد رأى الحق”؟
হাদীসের বাণীর গভীর অর্থ ও রেওয়ায়েতের সমন্বয়: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই ঘোষণার তাৎপর্য হলো: শয়তানকে আল্লাহ তাআলা মানুষের রূপ ধারণ করার শক্তি দিলেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুরত ও অবয়ব ধারণ করার ক্ষমতা দেননি। সুতরাং কেউ যদি রাসুলুল্লাহর প্রকৃত গুণাবলী ও শামায়িল অনুযায়ী তাঁকে স্বপ্নে দেখে, তবে সে প্রকৃতপক্ষে সত্যই দেখেছে; এটি কোনো শয়তানী বিভ্রান্তি নয়। সমকালীন সাহাবীদের জন্য এর অর্থ ছিল—যারা হিজরতের পূর্বে মক্কায় তাঁকে স্বপ্নে দেখেছিলেন তারা শীঘ্রই জাগ্রত অবস্থায় মদীনায় তাঁর সাক্ষাত পাবেন। আর পরবর্তী উম্মতের জন্য এর অর্থ—তারা কিয়ামতের ময়দানে নবীজীর বিশেষ সান্নিধ্য ও শাফায়াত লাভ করবে।
٨- عن سهل بن سعد الساعدى قال اتى النبى صلى الله عليه وسلم رجل فقال يا رسول الله دلنى على عمل اذا انا عملته احبنى الله واحبنى الناس فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ازهد فى الدنيا يحبك الله، وازهد فيما فى ايدى الناس يحبوك.
[৮. হযরত সাহল ইবনে সা’দ আস-সায়েদী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী করীম (সা.)-এর সমীপে উপস্থিত হয়ে আরজ করল—হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি আমলের পথনির্দেশ করুন, যা সম্পাদন করলে স্বয়ং আল্লাহ তাআলাও আমাকে ভালোবাসবেন এবং সাধারণ মানুষও আমাকে ভালোবাসবে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন: “তুমি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হও (দুনিয়াবিমুখতা অবলম্বন কর), তবে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন; আর মানুষের নিকট যে ধন-সম্পদ রয়েছে তার প্রতি অনাসক্ত হও ও লোভ পরিহার কর, তবে মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে।”]
তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):
| শব্দ | অর্থ | মূল ধাতু (Root/Madda) | শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) | ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role) |
|---|---|---|---|---|
| ازْهَدْ | তুমি অনাসক্ত হও / মোহমুক্ত হও | ز – ه – د (سمع/نصر) | واحد مذكر حاضر (أمر) | فعل أمر مبني على السكون (فعل الشرط) |
| يُحِبَّكَ | তিনি তোমাকে ভালোবাসবেন | ح – ب – ب (إفعال) | واحد مذكر غائب (مضارع مجزوم) | مضارع مجزوم في جواب الطلب |
| يُحِبُّوكَ | তারা তোমাকে ভালোবাসবে | ح – ب – ب (إفعال) | جمع مذكر غائب (مضارع مجزوم) | مجزوم بحذف النون في جواب الطلب |
| الدُّنْيَا | পার্থিব নশ্বর জগত | د – ن – و | اسم تفضيل مؤنث مجرور | اسم مجرور بـ في بكسرة مقدرة |
| دُلَّنِي | আমাকে পথনির্দেশ করুন | د – ل – ل (نصر) | واحد مذكر حاضر (أمر) | فعل أمر مبني على السكون والياء مفعول |
(أ) ما معنى الزهد وما هى اهميته فى حياة المسلم؟
যুহদ-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং গুরুত্ব: ‘যুহদ’ (الزُّهْد) শব্দের আভিধানিক অর্থ অনাগ্রহ, নির্লিপ্ততা, তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং বর্জন করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় দুনিয়ার নশ্বর চাকচিক্য ও ভোগের মোহ থেকে মুক্ত হয়ে আখেরাতের স্থায়ী কল্যাণ ও রবের সন্তুষ্টিতে অন্তরকে সমর্পণ করাকে যুহদ বলে। যুহদ অর্থ বৈরাগ্য বা দারিদ্র্য উদযাপন নয়; বরং ধন-সম্পদ হাতে থাকা সত্ত্বেও অন্তরে তার মোহ স্থান না দেওয়া। যুহদের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি অন্তরের প্রশান্তি দান করে, লোভ ও ঈর্ষা থেকে মুক্ত রাখে এবং মানুষের আত্মাকে রবের খাঁটি ভালোবাসায় সিক্ত করে।
(ب) ما الفرق بين الزهد والتقوى وما هى اصناف الزهد ودرجاته؟ بين.
যুহদ ও তাকওয়ার পার্থক্য এবং যুহদের স্তরসমূহ: ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) চমৎকার পার্থক্য করেছেন: তাকওয়া হলো যা আখেরাতে ক্ষতিকর ও হারাম তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা। আর যুহদ হলো যা আখেরাতে কোনো উপকারে আসবে না এমন অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় মুবাহ বস্তুও ত্যাগ করা। যুহদের তিনটি প্রধান স্তর রয়েছে:
১. হারাম থেকে যুহদ: যাবতীয় কবিরা ও সগীরা গুনাহ বর্জন করা (এটি প্রত্যেকের ওপর ফরয)।
২. সন্দেহযুক্ত বিষয় (শুবহাত) থেকে যুহদ: হালাল-হারামের সংশয়যুক্ত বস্তু ত্যাগ করা।
৩. অতিরিক্ত মোহাচ্ছন্ন মুবাহ থেকে যুহদ: বৈধ ভোগের প্রাচুর্য বর্জন করে অল্পে তুষ্টি অবলম্বন করা।
(ج) ما هى الاعمال التى تجعل الناس محبوبا عند الله وعند الناس؟
আল্লাহ ও বান্দার প্রিয়পাত্র হওয়ার উপায়: আলোচ্য হাদীসে এই চিরন্তন দুটি রহস্য উন্মোচিত হয়েছে: ১. আল্লাহর প্রিয় হওয়ার উপায় হলো দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগের চেয়ে আল্লাহর হুকুম ও সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সার্বক্ষণিক ইবাদতে নিমগ্ন থাকা। ২. মানুষের প্রিয় হওয়ার উপায় হলো মানুষের ধন-সম্পদ, প্রতিপত্তি ও পদের প্রতি কোনো প্রকার লোভ, নজর বা পরশ্রীকাতরতা পোষণ না করা। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই ব্যক্তিকে পছন্দ করে যে তাদের সম্পদের প্রতি লোভী নয়, বরং যে তাদের বিপদে সাহায্য করে এবং তাদের স্বস্তি দেয়।
(د) ما هى صفات الزاهدين فى نظر الشريعة الاسلامية؟
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রকৃত যাভেদের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. নিজের হাতে থাকা সম্পদের চেয়ে আল্লাহর কুদরতের ওপর অধিক ভরসা রাখা।
২. কোনো পার্থিব বিপদ বা ক্ষতি হলে হতাশ না হয়ে ছবর করা এবং প্রাপ্তিতে আত্মহারা না হওয়া।
৩. সত্যের ওপর অবিচল থেকে মানুষের প্রশংসা ও নিন্দা উভয়কে সমান মনে করা।
৪. রসনাবিলাস ও বিলাসিতা পরিহার করে সহজ-সরল জীবনযাপন করা।
৫. অন্তরে সর্বদা মৃত্যুর স্মরণ ও আখেরাতের জবাবদিহিতা জাগ্রত রাখা।
(هـ) اكتب نبذة من حياة سهل بن سعد الساعدى رضى الله عنه.
হযরত সাহল ইবনে সা’দ আস-সায়েদী (রা.)-এর জীবনী: তিনি মদীনার প্রখ্যাত আনসারী সাহাবী ছিলেন। কুনিয়াত ‘আবু আব্বাস’। তাঁর পূর্ব নাম ছিল ‘হাযন’ (কঠিন/রুক্ষ); রাসুলুল্লাহ (সা.) তা পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখেন ‘সাহল’ (সহজ/নম্র)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। তিনি ছিলেন মদীনার সর্বশেষ জীবিত সাহাবী। তিনি অত্যন্ত দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং ৯১ হিজরীতে প্রায় ১০০ বছর বয়সে মদীনা মুনাওয়ারায় ওফাত লাভ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১৮৮টি।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ : জীবনী ও গ্রন্থ পর্যালোচনা (মান: ২০ × ১ = ২০)
٩- اكتب نبذة من حياة الامام محمد بن يزيد بن ماجه القزوينى رحمة الله عليه.
[৯. ইমাম ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনী (রহ.)-এর জীবনচরিত, ইলমী সাধনা ও মর্যাদার বিশদ বিবরণ:]
১. জন্ম ও বংশপরিচয়: সিহাহ সিত্তাহর ষষ্ঠতম ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আর-রাবাঈ আল-কাযভীনী (রহ.) ২০৯ হিজরীতে বর্তমান ইরানের ঐতিহাসিক কাযভীন (Qazvin) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ‘মাজাহ’ ছিল মূলত তাঁর সম্মানিত পিতার উপাধি।
২. ইলমী সফর ও জ্ঞানসাধনা: ইমাম ইবনে মাজাহ শৈশবেই কুরআনে কারীম হিফজ করেন এবং কাযভীনের আলেমদের থেকে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। ২২ বছর বয়সে তিনি ইলমে হাদীস অন্বেষণে সুদীর্ঘ দেশভ্রমণে বের হন। তিনি ইরাক (কুফা ও বসরা), হিজায (মক্কা ও মদীনা), শাম (সিরিয়া ও দামেশক), মিশর, এবং পারস্যের বহু শহর পরিভ্রমণ করে তৎকালীন শীর্ষ মুহাদ্দিসগণের সাথে সাক্ষাত করেন এবং সনদের বিচারসহ লক্ষাধিক হাদীস স্মৃতিতে ধারণ করেন।
৩. প্রখ্যাত উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দ: ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) বহু বরেণ্য মুহাদ্দিসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন—আলী ইবনে মুহাম্মদ আত-তানাফিসী, আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ, মুহাম্মদ ইবনে বাশশার (বুন্দার), হিশাম ইবনে আম্মার এবং জাব্বারাহ ইবনুল মুগাল্লিস। অন্যদিকে তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন বহু বিশ্বখ্যাত আলেম; যেমন আবুল হাসান আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনে কাত্তান (যাঁর সূত্রে সুনান গ্রন্থ সংরক্ষিত হয়েছে), সুলাইমান ইবনে ইয়াযীদ আল-ফালাকী এবং ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ।
৪. সাহিত্যকর্ম ও অবদান: ইমাম ইবনে মাজাহ কেবল সুনান গ্রন্থের জন্যই বিখ্যাত নন; তিনি কুরআনের এক সুবিশাল তাফসীর সংকলন করেছিলেন যা ‘তাফসীরে ইবনে মাজাহ’ নামে খ্যাত। এছাড়াও তিনি ইসলামী ইতিহাসের এক প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘তারীখে কাযভীন’ রচনা করেন।
৫. ইন্তেকাল: সারাজীবন ইলমে দ্বীনের সুরক্ষায় অতিবাহিত করে এই মহান ইমাম ২৭৩ হিজরীর ২২শে রমযান ৬৪ বছর বয়সে কাযভীন শহরেই ওফাত লাভ করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।
١٠- تحدث عن السنن لمحمد بن يزيد بن ماجة القزوينى مع ذكر ميزاته وخصائصه ومنهج المؤلف فيه ومنزلته بين كتب الحديث.
[১০. ‘সুনানু ইবনে মাজাহ’ গ্রন্থের বিশদ পর্যালোচনা: অনন্য বৈশিষ্ট্য, সংকলন পদ্ধতি, হাদীস সংখ্যা এবং হাদীসশাস্ত্রে এর অমর মর্যাদা:]
১. গ্রন্থের পরিচিতি ও রচনার উদ্দেশ্য: ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর অমর কীর্তি হলো ‘আস-সুনান’ (السنن)। এটি ইসলামী ফিকহের সুবিন্যস্ত অধ্যায় (তাহরাত থেকে কিতাবুয যুহদ) অনুযায়ী সংকলিত অন্যতম সুসংগঠিত হাদীসগ্রন্থ। ইমাম ইবনে মাজাহ সমকালীন ফকীহ ও ছাত্রদের জন্য একটি সহজবোধ্য এবং বিরল হাদীসের সমন্বিত সংকলন উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি প্রণয়ন করেন।
২. হাদীস ও অধ্যায় সংখ্যা: সুনানু ইবনে মাজাহ-তে মোট ৩২টি কিতাব (প্রধান অধ্যায়), ১,৫১৫টি অনুচ্ছেদ (বাব) এবং সর্বমোট ৪,৩৪১টি হাদীস সংকলিত রয়েছে।
৩. সুনানু ইবনে মাজাহর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ:
– অনুপম ফিকহী তারতীব: ইমাম ইবনে মাজাহর অধ্যায় বিন্যাস এত নিখুঁত ও সুন্দর যে হাদীসের পণ্ডিতগণ স্বীকার করেছেন অন্যান্য সুনান গ্রন্থের চেয়ে এর তারতীব অধিক আকর্ষণীয়।
– যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ (زوائد ابن ماجه): সিহাহ সিত্তাহর অপর পাঁচ গ্রন্থের (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী) বাইরে সুনানু ইবনে মাজাহ-তে প্রায় ১,৩৩৯টি অতিরিক্ত হাদীস (যাওয়ায়েদ) রয়েছে, যা এই কিতাবকে অনন্য এক সম্পদে পরিণত করেছে।
– সংক্ষিপ্ততা ও পুনরাবৃত্তিহীনতা: একই হাদীস বারবার একাধিক অধ্যায়ে পুনরাবৃত্তি করার প্রবণতা এতে খুব কম।
– কিতাবুয যুহদ: সুনান গ্রন্থগুলোর মধ্যে ইবনে মাজাহর কিতাবুয যুহদ আধ্যাত্মিকতা ও চরিত্র গঠনের জন্য সর্বাধিক সমৃদ্ধ।
৪. সিহাহ সিত্তাহর ষষ্ঠতম গ্রন্থ হিসেবে মর্যাদা: প্রাথমিক যুগে ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে কেউ মুয়াত্তা মালেক বা সুনানু দারেমীকে গণ্য করতেন। তবে হাফেজ আবুল ফজল ইবনে তাহের আল-মাকদিসী এবং হাফেজ আব্দুল গনী আল-মাকদিসী (রহ.) তাঁর ‘আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল’ গ্রন্থে সুনানু ইবনে মাজাহর বিপুল ফিকহী উপকারিতা এবং ১,৩৩৯টি অতিরিক্ত হাদীসের প্রাচুর্য বিবেচনা করে একে ‘সিহাহ সিত্তাহর ষষ্ঠ কিতাব’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন, যা পরবর্তীতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: সুনানু ইবনে মাজাহ ৩য় পত্রের বিষয় কোড কত এবং পূর্ণমান কত?
উত্তর: সুনানু ইবনে মাজাহ ৩য় পত্রের বিষয় কোড হলো ৬১১১০৩। পূর্ণমান ১০০ এবং পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা।
প্রশ্ন ২: বিধবা ও মিসকীনদের সাহায্যে প্রচেষ্টাকারীর মর্যাদা হাদীসে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন যে বিধবা ও মিসকীনদের সহায়তায় সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী এবং রাতে অবিরাম সালাতরত ও দিনে অবিরাম রোযাদারের সমতুল্য সাওয়াব লাভ করে।
প্রশ্ন ৩: ইসলামী ফিকহে অন্যের বেচাকেনা বা দরদামের ওপর দরদাম করার বিধান কী?
উত্তর: কোনো পণ্যের বেচাকেনা চূড়ান্ত হওয়ার মুখে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির এসে অধিক দাম হাঁকানো বা চুক্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা সর্বসম্মতভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন ৪: পিতা কি নিজ সন্তানকে প্রদত্ত হেবা ফেরত নিতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, সন্তানদের মধ্যে সুবিচার রক্ষা ও ইনসাফ কায়েমের প্রয়োজনে পিতা নিজ সন্তানকে দেওয়া হেবা ফেরত নিতে পারেন; যা রাসুলুল্লাহ (সা.) অনুমোদন করেছেন।
প্রশ্ন ৫: কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর (লুকতাহ) ঘোষণা কত দিন পর্যন্ত প্রচার করতে হয়?
উত্তর: উল্লেখযোগ্য মূল্যের সম্পদ হলে পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত জনসমক্ষে ঘোষণা প্রচার করতে হয়; মালিক না আসলে গরীবদের দান অথবা নিজের জিম্মায় গ্রহণ করা যায়।
প্রশ্ন ৬: সুনানু ইবনে মাজাহ গ্রন্থে অন্যান্য পাঁচ গ্রন্থের বাইরে কতটি অতিরিক্ত হাদীস রয়েছে?
উত্তর: সুনানু ইবনে মাজাহ গ্রন্থে সিহাহ সিত্তাহর অপর পাঁচ গ্রন্থের বাইরে প্রায় ১,৩৩৯টি অতিরিক্ত হাদীস (যাওয়ায়েদ) সংকলিত রয়েছে।

