সুনানু ইবনে মাজাহ ৩য় পত্র (Sunan Ibn Majah 3rd Paper) – 611103, হাদীস – কামিল ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) প্রথম পর্ব পরীক্ষা ২০২৪
হাদীস বিভাগ (তৃতীয় পত্র)
বিষয়: সুনানু ইবনে মাজাহ [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: ৬১১১০৩ | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة-]
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ হতে যেকোনো চারটি এবং (খ) বিভাগ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মার্জিনের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

مجموعة (أ) – ক বিভাগ : হাদীস অংশ (মান: ২০ × ৪ = ৮০)

١- حدثنا ابو عبد الله قال ثنا محمد بن الصباح قال انا جرير عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ذروني ما تركتكم فإنما هلك من كان قبلكم بسؤالهم واختلافهم على أنبيائهم فإذا أمرتكم بشيء فخذوا منه ما استطعتم وإذا نهيتكم عن شيء فانتهوا –

[১. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুস সাব্বাহ থেকে, তিনি জারীর থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: আমি যতক্ষণ তোমাদের কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া থেকে নীরব থাকি, ততক্ষণ তোমরাও আমাকে ছেড়ে রাখ (অনাবশ্যক প্রশ্ন করো না)। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো তাদের নবীদের প্রতি অতিরিক্ত অনর্থক প্রশ্ন করা এবং তাঁদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ের নির্দেশ দিই, তখন তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী তা পালন কর। আর যখন কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাক।]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
ذَرُونِي و – ذ – ر فتح جمع مذكر حاضر، أمر حاضر আমাকে ছেড়ে রাখ / প্রশ্ন করো না
هَلَكَ ه – ل – ك ضرب واحد مذكر غائب ধ্বংস হয়েছিল / বিনাশ হয়েছিল
اسْتَطَعْتُمْ ط – و – ع استفعال جمع مذكر حاضر তোমরা সামর্থ্য রাখ / সাধ্য হয়
انْتَهُوا ن – ه – ي افتعال جمع مذكر حاضر، أمر حاضر তোমরা বিরত থাক / ক্ষান্ত হও

(أ) لم قدم المصنف (رح) باب اتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الكتاب؟

[(ক) গ্রন্থকার ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) কিতাবের শুরুতে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের অধ্যায় কেন নিয়ে আসলেন?]

অধিকাংশ সুনান গ্রন্থকার (যেমন আবু দাউদ, নাসাঈ) কিতাবের সূচনা করেছেন তাহারাত বা পবিত্রতার অধ্যায় দিয়ে। কিন্তু ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) এক অনন্য প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে কিতাবের শুরুতে ‘মুকাদ্দিমাহ’ বা ভূমিকা হিসেবে সুন্নাহর অপরিহার্যতা, বিদআতের অপনোদন এবং সহীহ হাদীস অনুসরণের গুরুত্ব বিষয়ক অধ্যায় স্থাপন করেছেন। এর কারণ হলো:

১. দ্বীনের বুনিয়াদ স্থাপন: সমগ্র শরীয়তের বিধিবিধান, সালাত, সিয়াম ও তাহারাত মূলত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুন্নাহর প্রামাণিকতা প্রতিষ্ঠিত না হলে কোনো ফিকহী বিধানের ভিত্তি থাকে না।
২. বিদআত ও ফেতনার প্রতিরোধ: তৃতীয় হিজরী শতকে মুতাজিলা, জাহমিয়া ও যুক্তিপূজারী বিভিন্ন বাতিল ফিরক্বা হাদীসের প্রামাণিকতা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল। ইমাম ইবনে মাজাহ কিতাবের শুরুতেই সুন্নাহর অকাট্য কর্তৃত্ব প্রমাণ করে বিদআতের মূলোৎপাটন করেছেন।

(ب) ما وجه تقييد المأمورات بالاستطاعة وعدم تقييد المنهيات بها؟

[(খ) আদেশ পালনের ক্ষেত্রে সাধ্যের শর্ত আরোপ করা হয়েছে, অথচ নিষেধের ক্ষেত্রে কোনো সাধ্যের শর্ত ছাড়াই কেন পূর্ণাঙ্গ বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হলো?]

ইসলামী ফিকহের এক মৌলিক নীতি হলো دَرْءُ الْمَفَاسِدِ مُقَدَّمٌ عَلَى جَلْبِ الْمَصَالِحِ (ক্ষতি দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আদেশের ক্ষেত্রে বলেছেন فَخُذُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ (সাধ্যানুযায়ী পালন কর), কারণ কোনো কর্ম সম্পাদন করা শারীরিক সামর্থ্য, আর্থিক সচ্ছলতা ও পারিপার্শ্বিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। যেমন দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে অক্ষম হলে বসে পড়া যায়, ধন না থাকলে হজ্জ বা যাকাত লাগে না। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে فَانْتَهُوا (সম্পূর্ণ বিরত থাক); কারণ নিষেধ বর্জন করা একটি নিষ্ক্রিয় বিষয় (তর্ক বা অননুষ্ঠান), যাতে কোনো অতিরিক্ত শ্রম বা সম্পদের প্রয়োজন হয় না। গুনাহ থেকে বিরত থাকতে কোনো শারীরিক শক্তির প্রয়োজন নেই, কেবল ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।

٢- سمعت العرباض بن سارية يقول قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم فوعظنا موعظة بليغة وجلت منها القلوب وذرفت منها العيون فقيل يا رسول الله وعظت موعظة مودع فاعهد الينا بعهد فقال عليكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن عبدا حبشيا وسترون من بعدي اختلافا شديدا فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ وإياكم والمحدثات فإن كل بدعة ضلالة –

[২. হযরত ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রা.) বলেন: একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়গ্রাহী নসীহত করলেন, যার প্রভাবে অন্তরসমূহ কেঁপে উঠল এবং চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো। নিবেদন করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! এ যেন বিদায়ী ব্যক্তির অন্তিম উপদেশ; সুতরাং আমাদের কিছু চূড়ান্ত ওসিয়ত করুন। তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং আমীরের নির্দেশ শ্রবণ ও আনুগত্যের ওসিয়ত করছি, যদিও তোমাদের ওপর কোনো হাবশী ক্রীতদাসকেও শাসক নিযুক্ত করা হয়। আর আমার পর অচিরেই তোমরা তীব্র মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের কর্তব্য হবে আমার সুন্নাত এবং পথপ্রাপ্ত হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। একে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর সাবধান! দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলী (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে; কেননা প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
وَجِلَتْ و – ج – ل وجل واحد مؤنث غائب ভীত-কম্পিত হলো
ذَرَفَتْ ذ – ر – ف ضرب واحد مؤنث غائب অশ্রু প্রবাহিত হলো
النَّوَاجِذ ن – ج – ذ – جمع (مفرد: ناجذة) মাড়ির দাঁতসমূহ
مُحْدَثَات ح – د – ث إفعال جمع مؤنث سالم দ্বীনের নবউদ্ভাবিত কাজ / বিদআত

(أ) ما حكم طاعة الأمير؟ بين بالتفصيل –

[(ক) আমীরের আনুগত্যের শারঈ বিধান বিস্তারিত বর্ণনা কর]

ইসলামী সমাজে রাষ্ট্রের আমীর বা নেতার আনুগত্য করা ফরয। আল্লাহ তাআলা সুরা আন-নিসায় ইরশাদ করেছেন: أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ। যদি নেতা হাবশী দাসও হয়, তবুও শান্তি, শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের ঐক্য রক্ষায় তার বৈষম্যহীন আনুগত্য করতে হবে। তবে আনুগত্যের একমাত্র শর্ত হলো নেতার নির্দেশ যেন আল্লাহর অবাধ্যতামূলক বা হারামের নির্দেশ না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করেছেন: لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ (আল্লাহর নাফরমানীতে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই)।

(ب) اشرح قوله عليه السلام: “عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ”

[(খ) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর”-এর ব্যাখ্যা কর]

‘নাওয়াজিয’ (النواجذ) বলা হয় মুখের ভেতরের সবচেয়ে শক্তিশালী মাড়ির দাঁতকে। মানুষ যখন কোনো বস্তুকে ছুটে যাওয়ার চরম আশঙ্কায় চূড়ান্ত শক্তি দিয়ে ধরে রাখতে চায়, তখন সে মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে এক অলঙ্কারপূর্ণ রূপক (ইসতিয়ারা) ব্যবহার করেছেন। শেষ যামানায় যখন ফেতনা, বিদআত ও বিভ্রান্তি চতুর্দিক থেকে সুন্নাহকে গ্রাস করতে উদ্যত হবে, তখন একজন মুমিন যেন সর্বশক্তি ও চরম অবিচলতার সাথে সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদীনের পথকে আঁকড়ে থাকে, সেই নির্দেশই এখানে দেওয়া হয়েছে।

٣- عن سعيد بن المسيب عن عمر بن الخطاب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الجالب مرزوق والمحتكر ملعون –

[৩. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি বাইরে থেকে পণ্য আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করে সে রিযিকপ্রাপ্ত (বরকতপ্রাপ্ত), আর যে ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে পণ্য মজুত করে রাখে (মজুতদার) সে অভিশপ্ত।]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الْجَالِب ج – ل – ب ضرب اسم فاعل পণ্য আমদানিকারক ও সরবরাহকারী
الْمُحْتَكِر ح – ك – ر افتعال اسم فاعل মজুতদার / সংকট সৃষ্টিকারী
مَرْزُوق ر – ز – ق نصر اسم مفعول রিযিকপ্রাপ্ত / বরকতপ্রাপ্ত
مَلْعُون ل – ع – ن فتح اسم مفعول অভিশপ্ত / রহমত থেকে বিতাড়িত

(أ) ما معنى الاحتكار لغة واصطلاحا؟ بين صور الاحتكار المنهي عنه –

[(ক) ইহতিকার (মজুতদারী)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? নিষিদ্ধ মজুতদারীর রূপসমূহ বর্ণনা কর।]

আভিধানিক অর্থ: ‘ইহতিকার’ (الاحتكار) শব্দের অর্থ হলো আটকে রাখা, আটকিয়ে সংকট তৈরি করা বা কুক্ষিগত করা।

পারিভাষিক অর্থ: সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বা পণ্য বাজার থেকে সস্তায় কিনে এই উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা, যেন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে চড়া দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা যায়।

নিষিদ্ধ মজুতদারীর শর্ত ও রূপ: ফকীহদের মতে তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকলে তা নিষিদ্ধ ইহতিকার হিসেবে গণ্য হয়: ১. পণ্যটি স্থানীয় বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য বা জীবনধারণের উপাদান হওয়া। ২. সাধারণ মানুষের মারাত্মক কষ্ট ও হাহাকার সৃষ্টি হওয়া। ৩. কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির কুৎসিত উদ্দেশ্য থাকা।

(ب) هل الاحتكار مخصوص في الاقوات ام لا؟

[(খ) মজুতদারী কি কেবল খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি সকল পণ্যে প্রযোজ্য?]

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মূল অভিমত অনুযায়ী ইহতিকার মূলত মানব ও পশুর খাদ্যদ্রব্যের সাথে খাস।

আধুনিক প্রেক্ষাপটে ফকীহদের অভিমত: ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর শক্তিশালী তাহকীক অনুযায়ী, যে কোনো পণ্য যার মজুতদারীর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং সাধারণ ক্রেতা ও জনজীবন মারাত্মক দুর্ভোগে নিপতিত হয়—তা খাদ্যপণ্য হোক, পরিধেয় বস্ত্র হোক বা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হোক—তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম মজুতদারী (ইহতিকার)-এর অন্তর্ভুক্ত। সমকালীন ইসলামিক ফিকহ একাডেমিও জনস্বার্থ রক্ষায় এই ব্যাপকতর সংজ্ঞাকেই ফতোয়ার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

তবে ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম মালেক এবং আধুনিক ফকীহগণের শক্তিশালী সিদ্ধান্ত হলো: যে কোনো পণ্য—তা খাদ্য হোক, ওষুধ হোক, পোশাক বা জ্বালানি হোক—যার কৃত্রিম সংকটে সাধারণ নাগরিকরা দুর্দশায় পতিত হয়, তার মজুতদারী করাই ইসলামে হারাম ও অভিশপ্ত কাজ।

٤- حدثنا علي بن محمد، ومحمد بن إسماعيل، قالا : ثنا وكيع ثنا إسرائيل، عن عبد الأعلى، عن بلال بن أبي موسى، عن أنس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “من سأل القضاء وكل إلى نفسه، ومن جبر عليه نزل إليه ملك فسدده” –

[৪. আলী ইবনে মুহাম্মদ ও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ওয়াকী থেকে, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি আব্দুল আ’লা থেকে, তিনি বিলাল ইবনে আবি মুসা থেকে এবং তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি নিজে চেয়ে বিচারকের পদ প্রার্থনা করে, তাকে তার নিজের দুর্বল মেধা ও শক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। আর যাকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য করে এই পদে বসানো হয়, আল্লাহ তাআলা আসমান থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ করেন যিনি তাকে সত্য ও ন্যায়ের ওপর সুদৃঢ় রাখেন।]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الْقَضَاء ق – ض – ي ضرب مصدر বিচারকার্য / মীমাংসা
وُكِلَ و – ك – ل ضرب ماضى مجهول সোপর্দ করা হলো / ছেড়ে দেওয়া হলো
جُبِرَ ج – ب – ر نصر ماضى مجهول বাধ্য করা হলো / অর্পণ করা হলো
سَدَّدَهُ س – د – د تفعيل واحد مذكر غائب তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করল

(أ) ما مسئولية القاضي وأوصافه في ضوء القرآن والسنة؟

[(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিচারকের দায়িত্ব ও গুণাবলী কী?]

ইসলামী শরীয়তে বিচারকের আসন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুবিশাল আমানত। কুরআনুল কারীমে সুরা সাদে ইরশাদ হয়েছে: يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ (হে দাউদ! আমি আপনাকে জমিনে প্রতিনিধি করেছি, অতএব মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে বিচার করুন এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না)। বিচারকের প্রধান গুণাবলী হলো: তিনি মুসলিম, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাজ্ঞ ফকীহ, ন্যায়পরায়ণ (আদিল) এবং চরম খোদাভীরু হবেন। ক্রোধাবস্থায়, ক্ষুধার্ত অবস্থায় বা মানসিক অস্থিরতায় ফয়সালা করা তাঁর জন্য নিষিদ্ধ। উভয় পক্ষকে সমানভাবে কথা বলার ও প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

(ج) ما عقوبة الإفتاء بغير علم ونتيجة قلة العدل في المجتمع؟

[(গ) ইলম ব্যতীত ফতোয়া বা বিচার করার শাস্তি এবং সমাজে সুবিচারের অভাবের পরিণতি কী?]

ইলম ছাড়া বিচারের ভয়াবহ পরিণতি: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: বিচারক তিন শ্রেণীর; যার মধ্যে দুই শ্রেণী জাহান্নামে এবং এক শ্রেণী জান্নাতে যাবে। যে ব্যক্তি জেনে-শুনে অন্যায় বিচার করে সে জাহান্নামী, আর যে ব্যক্তি না জেনে অজ্ঞতার সাথে মানুষের মাঝে রায় দেয় সেও জাহান্নামে যাবে। কেবল যে সত্য জেনে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে সে জান্নাতী। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ (যে বিষয়ে তোমার সুস্পষ্ট জ্ঞান নেই তার পেছনে পড়ো না)।

সমাজে সুবিচারের অভাবের ফল: সমাজে ইনসাফ ও সুবিচার না থাকলে খুন-খারাবি, জুলুম ও অরাজকতা চরম আকার ধারণ করে। বলবানরা দুর্বলদের গ্রাস করে এবং সমাজে আল্লাহর আযাব ও গজব নেমে আসে। নবীজী (সা.) বনী ইসরাঈলের ধ্বংসের ইতিহাস বর্ণনা করে বলেছেন: যখন কোনো সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত তারা তাকে ছেড়ে দিত, আর দুর্বল লোক চুরি করলে হাত কেটে দিত; এই বৈষম্যের কারণেই তারা ধ্বংস হয়েছিল।

٥- عن ابن عباس (رض) وابن عمر يرفعان الحديث إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال : لا يحل للرجل ان يعطى العطية ثم يرجع فيها الا الوالد فيما يعطى ولده –

[৫. হযরত ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে مرفوع সূত্রে বর্ণনা করেন: কোনো ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় কাউকে কোনো দান বা উপহার দিয়ে তা পুনরায় ফেরত নেওয়া; কেবল পিতা তার সন্তানকে যা দান করে তা ব্যতীত।]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
لَا يَحِلُّ ح – ل – ل ضرب واحد مذكر غائب نفى বৈধ বা হালাল নয়
الْعَطِيَّة ع – ط – و – اسم مفرد (جمع: عطايا) দান / উপহার / অনুদান
يَرْجِعَ ر – ج – ع ضرب واحد مذكر غائب منصوب সে প্রত্যাহার করে / ফেরত নেয়
الْوَالِد و – ل – د ضرب اسم فاعل পিতা / জন্মদাতা

(ج) في كم صورة لا يجوز الرجوع عن الهبة عند الاحناف؟

[(গ) হানাফী মাযহাব অনুযায়ী কতটি অবস্থায় দান বা হিবা প্রত্যাহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?]

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী সাধারণ দান গ্রহীতার হস্তগত হওয়ার পর প্রত্যাহার করা মারাত্মক মাকরূহে তাহরীমী। রাসুলুল্লাহ (সা.) দান প্রত্যাহারকারীকে বমি করে তা পুনরায় চাটনাকারী কুকুরের সাথে তুলনা করেছেন (الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَقِيءُ ثُمَّ يَعُودُ فِي قَيْئِهِ)। তবে নিম্নলিখিত সাতটি বিশেষ ক্ষেত্রে দান কোনো অবস্থাতেই আদালতের মাধ্যমেও প্রত্যাহার করা বৈধ নয় (সংক্ষেপে ‘দামে খাযাকাহ’ নামে খ্যাত):

১. যিয়াদাত (الزيادة): দানকৃত বস্তুর সাথে এমন কিছু যুক্ত হয়ে দাম বা আকার বৃদ্ধি পাওয়া যা পৃথক করা যায় না (যেমন জমিতে দালান তৈরি বা কাপড়ে রঙ করা)।
২. মওতুল আহাদ (موت أحد المتعاقدين): দাতা বা গ্রহীতার কোনো একজনের ইন্তেকাল হলে।
৩. ইওয়াজ বা বিনিময় (العوض): দানের বিপরীতে গ্রহীতা কোনো বিনিময় বা গিফট প্রদান করলে এবং দাতা তা গ্রহণ করলে।
৪. খুরুজ আনিল মিলক (خروج الموهوب عن الملك): গ্রহীতা বস্তুটি অন্য কারো নিকট বিক্রি, দান বা ধ্বংস করে দিলে।
৫. মাহরাম আত্মীয়তা (القرابة المحرمية): রক্তসম্পর্কীয় নিষিদ্ধ বিবাহের আত্মীয়কে দান করলে (যেমন ভাই, বোন, সন্তান)।
৬. হালাকুত শাই (هلاك الموهوب): দানকৃত সম্পদ নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে গেলে।
৭. যাওজিয়াত (الزوجية): স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে একে অপরকে দান করলে।

পিতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বিধানের তাৎপর্য: হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পিতাকে সন্তানের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ফকীহগণের বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী, এর কারণ হলো সন্তান এবং সন্তানের যাবতীয় সম্পদ মূলত পিতারই অধিকারভুক্ত; যেমন অন্য প্রখ্যাত হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে—أَنْتَ وَمَالُكَ لِأَبِيكَ (তুমি এবং তোমার যাবতীয় ধনসম্পদ সবই তোমার পিতার)। তাই পিতা যদি সন্তানের সার্বিক কল্যাণে বা কোনো অনিবার্য পারিবারিক প্রয়োজনে পূর্বে সন্তানকে প্রদত্ত কোনো দান বা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ফেরত নেন, তবে তা কোনো অবস্থাতেই গর্হিত কাজ বা হীনম্মন্যতার আওতায় পড়ে না; বরং এটি পিতার সহজাত অভিভাবকত্ব ও অভিভাবকসুলভ বিশেষ অধিকার হিসেবে শরীয়তে স্বীকৃত।

٦- عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الدين يقضى من صاحبه يوم القيامة اذا مات الا من يدين في ثلاث خلال الرجل تضعف قوته فى سبيل الله فيسدين يتقوى به لعدو الله وعدوه ورجل يموت عنده مسلم لا يجد ما يكفنه ويواريه الا بدين ورجل خاف الله على نفسه العزبة فينكح خشية على دينه فان الله يقضى عن هؤلاء يوم القيامة –

[৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে কিয়ামতের দিন তার নেক আমল থেকে ঋণ পরিশোধ করানো হবে। তবে তিন ব্যক্তির ঋণ ব্যতীত: ১. যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে শক্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করে, ২. যে ব্যক্তির সামনে কোনো মুসলমান মারা যায় কিন্তু ঋণ করা ছাড়া তার কাফন-দাফনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না, এবং ৩. যে ব্যক্তি চরিত্র ও দ্বীন রক্ষার উদ্দেশ্যে অবিবাহিত থাকার গুনাহের ভয়ে বিবাহ করার জন্য ঋণ গ্রহণ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন এই তিন শ্রেণীর ব্যক্তির পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেবেন।]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الدَّيْن د – ي – ن ضرب اسم مفرد (جمع: ديون) ঋণ বা কর্জ
يُقْضَى ق – ض – ي ضرب واحد مذكر غائب مجهول পরিশোধ করা হবে
يُوَارِيهِ و – ر – ي مفاعلة واحد مذكر غائب مضارع তাকে দাফন করে / ঢেকে দেয়
الْعُزْبَة ع – ز – ب – مصدر অবিবাহিত অবস্থা

(أ) ما الحقوق المتعلقة بتركة الميت وكيف يقضى الدين يوم القيامة؟

[(ক) মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ এবং কিয়ামতের দিন ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি আলোচনা কর]

[(ক) মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তিতে সম্পৃক্ত চার হক এবং কিয়ামতের দিন ঋণ কীভাবে পরিশোধ করানো হবে?]

তারাকাহর চার হক: শরীয়তের নীতি অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পদে পর্যায়ক্রমে চারটি অধিকার প্রযুক্ত হয়: ১. কাফন-দাফন (তাজহীয ও তাকফীন), ২. সর্বাগ্রে বান্দার সকল দেনা-পাওনা ও ঋণ পরিশোধ, ৩. অবশিষ্ট সম্পদের অনধিক এক-তৃতীয়াংশ থেকে বৈধ অসিয়ত বাস্তবায়ন, এবং ৪. অবশিষ্ট সমস্ত মাল ওয়ারিশদের মাঝে কোরআনী বণ্টন অনুযায়ী ভাগ করা।

কিয়ামতের দিন ঋণ পরিশোধের প্রকৃতি: কিয়ামতের ময়দানে কোনো টাকা-পয়সা, দিরহাম বা দীনার থাকবে না। সহীহ হাদীসের বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে ঋণদাতার পাওনা মেটাতে ঋণী ব্যক্তির নেক আমল (নামায, রোযা, হজ্জের সওয়াব) কেটে পাওনাদারকে দিয়ে দেওয়া হবে। যদি ঋণী ব্যক্তির নেক আমল নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে পাওনাদারের পাপ ও গুনাহের বোঝা এনে ঋণী ব্যক্তির কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তবে যে ব্যক্তি দ্বীন রক্ষা, জিহাদ বা মানবিক কাফন-দাফনের মতো মহৎ উদ্দেশ্যে বাধ্য হয়ে ঋণ করেছিল এবং পরিশোধের আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দুনিয়ায় অপারগ ছিল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিয়ামতের দিন নিজ অনুগ্রহে পাওনাদারকে সন্তুষ্ট করে সেই ঋণ মাফ করিয়ে দেবেন।

٧- حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة حدثنا ابو معاوية عن الاعمش عن عطية عن ابي سعيد قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من جر ازاره من الخيلاء لم ينظر الله اليه يوم القيامة – قالت فلقيت ابن عمر بالبلاط فذكرت له حديث ابى سعيد عن النبى صلى الله عليه وسلم فقال واشار الى اذنيه سمعته اذناي ووعاه قلبي –

[৭. আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আবু মুআবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি অহংকারবশত নিজের পরনের কাপড় ঝুলিয়ে চলবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মদীনার আল-বালাত নামক স্থানে আমার সাথে ইবনে উমরের সাক্ষাত হলে আমি তাঁকে আবু সাঈদের হাদীসটি শোনালাম। তখন তিনি নিজের দুই কানের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: আমার দুই কান তা স্বয়ং রাসুলুল্লাহর মুখ থেকে শুনেছে এবং আমার অন্তর তা পুরোপুরি মুখস্থ ও সংরক্ষণ করেছে।]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
إِزَار أ – ز – ر – اسم مفرد (جمع: أُزُر) লুঙ্গি বা নিম্নাংশের পোশাক
الْبَلَاط ب – ل – ط – اسم علم মদীনার একটি পাকা চত্বর
أَشَارَ ش – و – ر إفعال واحد مذكر غائب ইঙ্গিত করল
وَعَاهُ و – ع – ي ضرب واحد مذكر غائب সংরক্ষণ করল / মুখস্থ রাখল

(أ) ما هو لباس التقوى وما هي مواضع العورة؟

[(ক) তাকওয়ার পোশাকের স্বরূপ এবং নারী ও পুরুষের সতরের সীমারেখা বর্ণনা কর]

কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে: يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ (হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছি এমন পোশাক যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং শোভা বর্ধন করে; আর তাকওয়ার পোশাকই হলো সর্বোৎকৃষ্ট)। পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত, আর নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে চেহারা, হাত ও পা ব্যতীত সর্বাঙ্গ আবৃত রাখা আবশ্যক। পুরুষের জন্য কাপড় টাখনুর ওপরে রাখা ওয়াজিব; টাখনুর নিচে কাপড় পরা অহংকারের স্পষ্ট নিদর্শন যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত।

(ب) اشرح قوله: “سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي”

[(খ) সাহাবীর উক্তি: “আমার দুই কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা ধারণ করেছে”-এর তাৎপর্য লিখ]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর এই উক্তিটি ইলমে হাদীসে সিমায়াত ও যব্তের (سمع وضبط) চূড়ান্ত প্রামাণ্য রূপ। তিনি নিজ কানে প্রত্যক্ষভাবে কোনো প্রকার মাধ্যম ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ থেকে বাণীটি শুনেছেন এবং কেবল শুনেই ক্ষান্ত হননি, বরং অন্তরের গভীর প্রজ্ঞা ও স্মৃতিশক্তির পূর্ণ একাগ্রতায় তা হেফাযত করেছেন। এটি রেওয়ায়েতের নির্ভুলতা ও সাহাবায়ে কেরামের দায়িত্বশীলতার এক অনন্য ঐতিহাসিক উপমা।

٨- حدثنا علي بن محمد ثنا وكيع عن الاعمش عن ذر بن عبد الله الهمداني عن يسيع الكندي عن النعمان بن بشير قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الدعاء هو العبادة ثم قرأ “وقال ربكم ادعونى استجب لكم” –

[৮. আলী ইবনে মুহাম্মদ ওয়াকী থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি যার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হামদানী থেকে, তিনি ইয়াসী আল-কিন্দী থেকে এবং তিনি নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: দোয়াই হলো প্রকৃত ইবাদত! অতঃপর তিনি কুরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: “তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত (দোয়া) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”]

শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):

শব্দরূপ (কালিমা) মূলধাতু (মাদ্দাহ) বাব (অধ্যায়) সিগাহ ও বাহাস বাংলা অর্থ
الدُّعَاء د – ع – و نصر مصدر ডাকা / প্রার্থনা করা
الْعِبَادَة ع – ب – د نصر مصدر দাসত্ব / পরম বিনয় প্রকাশ
ادْعُونِي د – ع – و نصر جمع مذكر حاضر، أمر حاضر তোমরা আমাকে ডাক
أَسْتَجِبْ ج – و – ب استفعال واحد متكلم مضارع مجزوم আমি সাড়া দেব / কবুল করব

(أ) ما فضل الدعاء وما شروط قبوله؟

[(ক) দোয়ার ফযিলত এবং দোয়া কবুল হওয়ার আবশ্যকীয় শর্তাবলী লিখ]

দোয়া হলো মুমিনের প্রধান অস্ত্র (سلاح المؤمن), দ্বীনের খুঁটি এবং আসমান ও জমিনের জ্যোতি। নবী করীম (সা.) বলেন: لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الدُّعَاءِ (আল্লাহর দরবারে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কোনো বস্তু নেই)। দোয়াকে ‘প্রকৃত ইবাদত’ বলা হয়েছে কারণ এর মধ্যে বান্দার চরম দাসত্ব, বিনয়, অভাবগ্রস্ততা এবং একমাত্র আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল নিখুঁতভাবে প্রকাশ পায়।

দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত: ১. হালাল খাদ্য ও পোশাক নিশ্চিত করা; হারাম ভক্ষণকারীর কোনো দোয়াই কবুল হয় না। ২. পরিপূর্ণ একনিষ্ঠতা ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দোয়া করা। ৩. তাড়াহুড়ো না করা (রাসুলুল্লাহ সা. বলেন: বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে যতক্ষণ না সে বলে—আমি এত দোয়া করলাম কিন্তু কবুল হলো না)। ৪. দোয়ার সময় আল্লাহর হামদ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরূদ শরীফ পাঠ করা।

(ب) ما هي أوقات استجابة الدعاء؟

[(খ) হাদীসের আলোকে দোয়া কবুল হওয়ার বরকতময় মুহূর্তসমূহ বর্ণনা কর]

শরীয়তের প্রামাণ্য নস অনুযায়ী এমন কিছু বিশেষ সময় রয়েছে যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না: ১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশের তাহাজ্জুদের সময় যখন আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের আহ্বান করেন। ২. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। ৩. ফরয সালাতের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ ও দরূদ পাঠের পর। ৪. জুমার দিনের আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী বিশেষ মুহূর্ত। ৫. সিজদারত অবস্থায়, কারণ বান্দা তখনই আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। ৬. ইফতারের মুহূর্তে এবং বৃষ্টির বর্ষণকালীন সময়ে।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ : তাত্ত্বিক ও ইতিহাস অংশ (মান: ২০ × ১ = ২০)

٩- بين نبذة عن حياة الامام ابن ماجه وخدماته في تدوين الحديث وضبطه بالإيجاز.

[৯. ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত এবং ইলমে হাদীস সংকলন ও সংরক্ষণে তাঁর ঐতিহাসিক খেদমত আলোচনা কর।]

ভূমিকা: সিহাহ সিত্তাহর অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্তম্ভ এবং হাদীস শাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমাম হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনি (রহ.)। হাদিসের চমৎকার অধ্যায় বিন্যাস (হুসনুত তারতীব), ফিকহী দৃষ্টিতে অনন্য তারাজিমুল আবওয়াব এবং সহীহ হাদীসের সুশৃঙ্খল পরিবেশনায় তাঁর খেদমত বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

নাম, বংশ ও জন্ম: তাঁর পূর্ণ নাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আর-রাবঈ আল-কাযভীনি। তাঁর কুননিয়াত ‘আবু আব্দুল্লাহ’। তিনি ২০৯ হিজরীতে (৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে) ইরানের অন্তর্গত তৎকালীন খোরাসানের বিখ্যাত ইলমী শহর ‘কাযভীন’-এ এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ‘মাজাহ’ মূলত তাঁর পিতা বা প্রপিতামহের ফারসি উপাধি ছিল।

জ্ঞানতৃষ্ণা ও সফরসমূহ: ইমাম ইবনে মাজাহ শৈশবেই নিজ শহরের ওলামায়ে কেরামের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা ও কুরআন হিফয সমাপ্ত করেন। এরপর হাদীসের অন্বেষণে তিনি সুবিস্তৃত মুসলিম বিশ্বে সফর করেন। তিনি খোরাসান, ইরাকের কুফা ও বসরা, রাজধানী বাগদাদ, সিরিয়ার দামেশ্ক, হিজাযের পবিত্র মক্কা ও মদীনা এবং মিশরের জ্ঞানকেন্দ্রসমূহ পরিভ্রমণ করেন। তিনি দীর্ঘকাল বিভিন্ন মুহাদ্দিসের দরবারে অবস্থান করে সনদ ও মত্নসহ হাদীস সংগ্রহ করেন।

উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দ: তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ আত-তানাফিসী, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, মুহাম্মদ ইবনুস সাব্বাহ, জাব্বারাহ ইবনুল মুগাল্লিস এবং হিশাম ইবনে আম্মার। তাঁর বিশিষ্ট ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল কাত্তান, সুলাইমান ইবনে ইয়াজিদ, আবু জাফর আত-তাহাবী এবং আলী ইবনে সাঈদ আল-আসকারী।

হাদীস সংকলন ও ضبط-এ অবদান: ইমাম ইবনে মাজাহ কেবল সুনানই লেখেননি, বরং হাদীসের আলোকে এক সুবিশাল ‘তাফসীরুল কুরআন’ এবং একটি সমৃদ্ধ ‘তারীখে কাযভীন’ রচনা করেছিলেন যা ইতিহাস গবেষকদের কাছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তাঁর সংকলিত ‘সুনানু ইবনে মাজাহ’ কিতাবের তারতীবে এমন মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন যে কোথাও কোনো হাদীসের অনাবশ্যক পুনরাবৃত্তি নেই। ইমাম যাহাবী (রহ.) তাঁকে “হাফেজুল কাবীর, ইমামুল মুহাদ্দিসীন ও প্রখ্যাত মুফাসসির” হিসেবে ভূষিত করেছেন।

ওফাত: ইলম ও সুন্নাহর এই মহান খাদেম ২৭৩ হিজরীর ২২শে রমযান সোমবার ৬৪ বছর বয়সে নিজ জন্মভূমি কাযভীনে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

١٠- اذكر خصائص سنن ابن ماجه مع بيان الرتبة له بين الصحاح الستة ومنزلته بين كتب السنن الاربعة – ثم بين منهج الامام ابن ماجه فى تأليف سننه –

[১০. সুনানু ইবনে মাজাহ গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ, সিহাহ সিত্তাহ ও সুনান চতুষ্টয়ের মাঝে এর মর্যাদা এবং ইমাম ইবনে মাজাহর সংকলন পদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা: ‘সুনানু ইবনে মাজাহ’ হলো ফিকহুল হাদীসের অন্যতম সেরা সংকলন। অধ্যায় বিন্যাস ও ফিকহী অধ্যায় উদ্ভাবনে প্রাচীন মুহাদ্দিসীনগণ একে অতুলনীয় বলে প্রশংসা করেছেন।

১. সুনানু ইবনে মাজাহর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
ক. অনবদ্য বিন্যাস (حسن الترتيب): অধ্যায়ের সাজসজ্জা এবং তারাজিমুল আবওয়াব এতটাই সুশৃঙ্খল যে সাধারণ গবেষকও মুহূর্তেই কাঙ্ক্ষিত হাদীস খুঁজে পায়।
খ. যাওয়াইদে ইবনে মাজাহ (الزوائد): সিহাহ সিত্তাহর অন্য পাঁচটি কিতাবে নেই এমন ১,৩২৯টি অতিরিক্ত সহীহ ও হাসান হাদীস এতে রয়েছে, যা ইসলামী বিধানে নতুন নতুন দলিলের দিগন্ত উন্মোচন করে।
গ. সংক্ষিপ্ততা ও পুনরাবৃত্তিহীনতা: অন্য সুনানের মতো একই হাদীস বারবার বিভিন্ন সনদে এনে গ্রন্থ ভারী করা হয়নি।

২. সিহাহ সিত্তায় অন্তর্ভুক্তির ইতিহাস ও মর্যাদা:
পঞ্চম হিজরী শতক পর্যন্ত সিহাহর কিতাব বলতে বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ—এই পাঁচটিকেই গণ্য করা হতো (আল-উসুলুল খামসাহ)। সর্বপ্রথম ইমাম আবুল ফযল মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসী (রহ.) তাঁর ‘আতরফ’ কিতাবে এবং পরবর্তীতে হাফেয আব্দুল গনী আল-মাকদিসী (রহ.) ‘আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল’ গ্রন্থে সুনানু ইবনে মাজাহর অসাধারণ উপযোগিতা লক্ষ্য করে একে ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে হাদীসের সনদের সামগ্রিক শক্তির বিচারে ইমাম ইবনে মাজাহর অবস্থান বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈর পরে ষষ্ঠ স্থানে।

৩. সংকলকের منهج ও পদ্ধতি:
ইমাম ইবনে মাজাহ এই গ্রন্থে ৪,৩৪১টি হাদীস সংকলন করেছেন। তিনি প্রথমে সহীহ ও হাসান হাদীস এনেছেন। তবে কখনো কখনো এমন দুর্বল সনদের হাদীসও তিনি উল্লেখ করেছেন যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিধানের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। মুহাদ্দিসগণের মতে তাঁর গ্রন্থের অধিকাংশ হাদীসই সহীহ ও হাসান, তবে কিছু যয়ীফ ও মুনকার হাদীসও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হাফেয ইবনে হাজার বলেন, এর ফিকহী বিন্যাস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. কামিল ১ম বর্ষ হাদীস ৩য় পত্রের কোড ও নাম কী?

কামিল ১ম বর্ষ হাদীস ৩য় পত্রের বিষয় নাম হলো ‘সুনানু ইবনে মাজাহ’ (Sunan Ibn Majah 3rd Paper) এবং এর বিষয় কোড হলো ৬১১১০৩ (611103)।

২. সুনানু ইবনে মাজাহ পরীক্ষার প্রশ্নকাঠামো কেমন?

মোট নম্বর ১০০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। ‘ক’ বিভাগ হতে ৮টি হাদীসের মধ্য থেকে ৪টি এবং ‘খ’ বিভাগ হতে ২টি তাত্ত্বিক প্রশ্নের মধ্য থেকে ১টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

৩. সিহাহ সিত্তার মধ্যে সুনানু ইবনে মাজাহ কততম গ্রন্থ?

মুহাদ্দিসীনদের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী এটি সিহাহ সিত্তার ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।

৪. যাওয়াইদে ইবনে মাজাহ বলতে কী বোঝায়?

বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ—এই পাঁচটি কিতাবে যে সকল হাদীস নেই, অথচ একমাত্র ইবনে মাজাহতে সংকলিত হয়েছে, সেগুলোকে যাওয়াইদে ইবনে মাজাহ বলা হয়।

৫. ইমাম ইবনে মাজাহ কিতাবের শুরুতে কোন অধ্যায় এনেছেন?

অন্যান্যদের মতো তাহারাত নয়, বরং ইমাম ইবনে মাজাহ কিতাবের শুরুতে সুন্নাহর অনুসরণ ও বিদআত বর্জনের প্রামাণ্য মুকাদ্দিমাহ স্থাপন করেছেন।

৬. কামিল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কৌশল কী?

হাদীসের শাব্দিক তাহক্বীক্ব উপস্থাপন করা, ফিকহী মাসআলার তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ইমাম ইবনে মাজাহর সংকলন পদ্ধতির গভীর পর্যালোচনা ফুটিয়ে তোলা।