আস সহীহু লিমুসলিম ২য় পত্র (Sahih Muslim 2nd Paper) – 611204, হাদীস – কামিল ২য় পর্ব পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৮৬ মিনিট পড়ার সময়
৩ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস দ্বিতীয় পর্ব পরীক্ষা, ২০২৪
চতুর্থ পত্র
বিষয়: আস সহীহু লিমুসলিম (দ্বিতীয় খণ্ড) [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: 611204 | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة –

مجموعة (أ) : المعاملات، الإيمان والنذور، والحدود والأقضية (الدرجة – ২০ x ৪ = ৮০)

(ترجم الأحاديث التالية مع التوضيح ثم أجب عن ثلاثة من الأسئلة الملحقة بها)

١- حدثنى زهير بن حرب ومحمد بن مثنى واللفظ لزهير قالا نا يحيى وهو القطان عن عبيد الله قال اخبرنى نافع عن ابن عمر (رض) قال كان اهل الجاهلية يتبايعون لحم الجزور الى حبل الحبلة ان تنتج الناقة ثم تحمل التى نتجت فنهاهم رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك – وفى رواية عن عبد الله عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه نهى عن بيع حبل الحبلة –

[১. জুহায়ের ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না রহ. আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (শব্দবিন্যাস জুহায়েরের), তাঁরা বলেন: আমাদের ইয়াহইয়া আল-কাত্তান রহ. উবাইদুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন নাফে’ রহ. আমাকে হযরত ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে খবর দিয়েছেন। তিনি বলেন: জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা ‘হাবালুল হাবালাহ’ (গর্ভস্থ বাচ্চার গর্ভধারণ) পর্যন্ত মেয়াদে জবাইকৃত উটের মাংস বাকি কেনাবেচা করত; অর্থাৎ বর্তমান উষ্ট্রীটি যে বাচ্চা প্রসব করবে, সেই বাচ্চা বড় হয়ে আবার যখন গর্ভধারণ করবে সেই মেয়াদ পর্যন্ত কেনাবেচা বাকি রাখা হতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এই কারবার করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সা. সরাসরি ‘বায়’উ হাবালিল হাবালাহ’ (অনাগত বাচ্চার গর্ভের বাচ্চার কেনাবেচা) নিষেধ করেছেন।]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
حَبَلِ গর্ভধারণ / পেটের বাচ্চা ح – ب – ل ইসম মুফরাদ, মাসদার হরফে জার ‘ইলা’-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
الْجَزُورِ জবাইকৃত উট ج – ز – ر ইসমু জিন্স, ওজনে ফা’ঊল মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর বিল-কাসরাহ
تُنْتَجَ বাচ্চা প্রসব করবে ن – ت – ج মুযারে মাজহূল, বাবে যারাবা আন নাসিবাহ-এর কারণে মানসূব বিল-ফাতহাহ
فَنَهَاهُمْ অতঃপর তিনি তাদের নিষেধ করলেন ن – ه – ي মাযী মা’রূফ, নাকেসে ইয়াঈ ফি’লে মাযী, হুম মাফ’উলে বিহী
يَتَبَايَعُونَ তারা পরস্পর কেনাবেচা করত ب – ي – ع মুযারে মা’রূফ, বাবে তাফা’উল কানা ক্রিয়ার খবর হিসেবে মাহাল্লান মানসূব

(أ) ما الفرق بين البيع الباطل والبيع الفاسد؟ بين مفصلا –

[(ক) বাতিল ক্রয়-বিক্রয় ও ফাসিদ ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে পার্থক্য কী? বিশদভাবে বর্ণনা করুন।]

১. বায়’য়ে বাতিল (স্বঘোষিত অকার্যকর চুক্তি): যে কেনাবেচায় চুক্তির মূল ভিত্তি বা রুকনের মধ্যেই শরীয়তবিরোধী কোনো ত্রুটি থাকে—যেমন অবিক্রয়যোগ্য বস্তু (মদ, শুকর, মৃত প্রাণী) বিক্রি করা, অথবা পাগল বা অবুঝ শিশুর ক্রয়বিক্রয়। বায়’য়ে বাতিল কোনোভাবেই কার্যকর হয় না এবং এর মাধ্যমে ক্রেতা কোনো মালের মালিকানা লাভ করতে পারে না।
২. বায়’য়ে ফাসিদ (ত্রুটিযুক্ত চুক্তি): যে কেনাবেচায় চুক্তির মূল ভিত্তি ও রুকন ঠিক থাকে কিন্তু কোনো বহিরাগত বা পার্শ্ববর্তী শর্তের কারণে শরয়ী ত্রুটি সৃষ্টি হয়—যেমন মূল্য বা হস্তান্তরের মেয়াদ অজ্ঞাত রাখা। বায়’য়ে ফাসিদের ক্ষেত্রে পণ্য হস্তান্তরিত হলে ক্রেতা খবিস বা দূষিত মালিকানা পায়, তবে ত্রুটি দূর করলে অথবা চুক্তি বাতিল করে পণ্য ফেরত দেওয়া ওয়াজিব।

(ب) ما المراد بالنهى عن بيع حبل الحبلة؟ وما الاختلاف فيه؟

[(খ) ‘বায়’উ হাবালিল হাবালাহ’ বা গর্ভস্থ ভ্রূণের সন্তান বিক্রি নিষিদ্ধকরণের তাৎপর্য কী? এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ কী?]

মুহাদ্দিস ও ফুকাহাগণের মতে এই কেনাবেচার দুটি অর্থ রয়েছে:
১. মেয়াদ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা: কোনো পণ্য বাকি বিক্রি করে তার মূল্য পরিশোধের মেয়াদ নির্ধারণ করা যে, গর্ভবতী উটের পেটের বাচ্চা প্রসবের পর সেই বাচ্চাটি বড় হয়ে আবার গর্ভধারণ করা পর্যন্ত। এটি চরম অজ্ঞতা ও অনিশ্চয়তাযুক্ত (মাজহূলুল আজল)।
২. পণ্য সংক্রান্ত ব্যাখ্যা: গর্ভস্থ বাচ্চার পেটে যে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বাচ্চা আসবে তাকে আগাম বিক্রি করা। এটি এমন এক অবিদ্যমান বস্তু (মা’দূম) যা অস্তিত্বে আসবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। উভয় সুরতেই এটি সর্বসম্মতভাবে হারাম ও বাতিল।

(ج) ما هو بيع الغرر؟ فصل المقام كى يتضح المرام –

[(গ) বায়’উল গারার (প্রতারণামূলক অনিশ্চিত বেচাকেনা) কাকে বলে? বিষয়টি স্পষ্টভাবে বিশদ আলোচনা করুন।]

‘গারার’ (الغرر) হলো এমন কোনো লেনদেন যার ফলাফল অজ্ঞাত ও ঝুঁকিপূর্ণ, যার লাভ-ক্ষতি নিশ্চিত নয় এবং যাতে মানুষের প্রতারিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। যেমন—বাতাসে উড়ন্ত পাখি বিক্রি করা, নদীর পানিতে থাকা মাছ বিক্রি করা, গাছে ফুল আসার পূর্বে ফল বিক্রি করা ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ সা. সমাজে অবিচার, শত্রুতা ও প্রতারণা বন্ধ করার জন্য সর্বপ্রকার গারারযুক্ত কেনাবেচা নিষিদ্ধ করেছেন।

(د) ما معنى الجزور؟ بين بيانا شافيا –

[(ঘ) ‘আল-জাযূর’ (الجزور) শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য কী? পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিন।]

‘জাযূর’ শব্দটি জাযর (جزر) মূলধাতু থেকে নির্গত, যার অর্থ জবাই করা বা কণ্ঠনালী কর্তন করা। আরবদের ব্যবহারে ‘আল-জাযূর’ বলতে বিশেষভাবে জবাই করার উপযোগী হৃষ্টপুষ্ট উটকে বোঝানো হয়—তা নর উট হোক বা মাদী উট। জাহেলী যুগে তারা আসর জমিয়ে জুয়া খেলে বা বাকি কিস্তিতে এমন উটের গোশত বণ্টন করত।

(هـ) كم قسما للبيع باعتبار الحكم؟ بين –

[(ঙ) শরয়ী হুকুমের দিক থেকে ক্রয়-বিক্রয় কত প্রকার? স্পষ্ট করুন।]

শরয়ী হুকুম ও কার্যকারিতার বিচারে ক্রয়বিক্রয় প্রধানত চার প্রকার:
১. বায়’য়ে নাফিয (অবিলম্বে কার্যকর): যা শর্তহীনভাবে সম্পন্ন হয় এবং তাৎক্ষণিক মালিকানা হস্তান্তরিত হয়।
২. বায়’য়ে মাওকূফ (স্থগিত): যা কোনো অভিভাবক বা মূল মালিকের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে (যেমন ফুজুলী ব্যক্তির বিক্রয়)।
৩. বায়’য়ে ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ): যা সংশোধনযোগ্য কিন্তু বহিরাগত শর্তে দূষিত।
৪. বায়’য়ে বাতিল (সম্পূর্ণ অকার্যকর): যা শরীয়তের দৃষ্টিতে আদতেই কোনো বিক্রয় হিসেবে গণ্য নয়।

٢- عن عطاء عن جابر بن عبد الله قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المحاقلة والمزابنة والمخابرة وعن بيع الثمر حتى يبدو صلاحه ولا يباع الا بالدينار والدرهم الا العرايا – وفى رواية قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المحاقلة والمزابنة والمعاومة والمخابرة وعن الثنيا ورخص فى العرايا –

[২. হযরত আতা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল-মুহাকালাহ, আল-মুযাবানাহ ও আল-মুখাবারাহ কারবার করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন; এবং ফল পরিপক্ব ও খাওয়ার উপযোগী হওয়ার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন; আর ফল কেবল দিনার ও দিরহামের (মুদ্রার) মাধ্যমেই বিক্রি হতে পারে, তবে ‘আরাইয়া’ (ক্ষুধার্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা) এর ব্যতিক্রম। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সা. আল-মুহাকালাহ, আল-মুযাবানাহ, আল-মু’আওয়ামাহ (বহু বছর আগাম বিক্রি), আল-মুখাবারাহ এবং আস-ছুনিয়া (অজ্ঞাত অংশ বাদ দিয়ে বিক্রি) নিষেধ করেছেন এবং আরাইয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি প্রদান করেছেন।]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
الْمُحَاقَلَةِ ক্ষেতের শস্যে শস্য বিক্রি ح – ق – ل মাসদার, বাবে মুফা’আলাহ হরফে জার ‘আন’-এর কারণে মাজরূর
الْمُزَابَنَةِ গাছের ফলের সাথে শুকনা ফল বিক্রি ز – ب – ن মাসদার, বাবে মুফা’আলাহ আল-মুহাকালাহ শব্দের ওপর মাতূফ হিসেবে মাজরূর
الْمُخَابَرَةِ ফসলের নির্দিষ্ট অংশের বর্গা চাষ خ – ب – ر মাসদার, বাবে মুফা’আলাহ মাতূফ হিসেবে মাজরূর বিল-কাসরাহ
صَلاَحُهُ তার পরিপক্বতা ও উপযোগিতা ص – ل – ح ইসম মুফরাদ, মাসদার ইয়াবদূ ক্রিয়ার ফা’য়িল হিসেবে মারফূ’
الْعَرَايَا আরাইয়া (গাছে ঝুলন্ত তাজা ফল) ع – ر – ي জমা মুকাসসার, মুয়ান্নাস ইসতিছনা হিসেবে মানসূব বিল-ফাতহাহ

(أ) ما معنى المحاقلة لغة وشرعا؟ بين حكمها –

[(ক) আল-মুহাকালাহ-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর শরয়ী হুকুম বর্ণনা করুন।]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘হাকল’ (الحقل) শব্দের অর্থ কৃষিক্ষেত। বাবে মুফা’আলাহ থেকে মুহাকালাহ।
২. পারিভাষিক অর্থ: ক্ষেতে দাঁড়িয়ে থাকা খাদ্যশস্যকে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে মাড়াইকৃত প্রস্তুত খাদ্যশস্যের বিনিময়ে বিক্রি করাকে মুহাকালাহ বলা হয়।
৩. হুকুম: এটি সর্বসম্মতভাবে নাজায়েজ ও হারাম। কারণ এতে একই জাতীয় খাদ্যশস্যের সমতা নিশ্চিত না থাকায় সুদের (রিবা আল-ফাদল) স্পষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

(ب) ما الاختلاف فى تفسير المخابرة؟ بين بالوضاحة –

[(খ) আল-মুখাবারাহ-এর ব্যাখ্যায় আলেমদের মতভেদ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন।]

মুখাবারাহ হলো জমির মালিক কোনো কৃষককে এই শর্তে জমি চাষ করতে দেওয়া যে, জমির নির্দিষ্ট কোনো অংশের (যেমন খালের পাড়ের বা নির্দিষ্ট আইলের) ফসল মালিক নিজে গ্রহণ করবে এবং বাকি ফসল কৃষক পাবে। এটি হারাম হওয়ার কারণ হলো, অনেক সময় নির্দিষ্ট সেই অংশে কোনো ফসলই উৎপন্ন হয় না, ফলে মালিক বা কৃষকের একজন মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়। তবে উৎপন্ন মোট ফসলের শতকরা হারে (যেমন অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ) চুক্তি করা জায়েজ।

(ج) ما الفرق بين المخابرة والمزارعة؟ اذكر اقوال الائمة فيها –

[(গ) মুখাবারাহ ও মুযারা’আহর মধ্যে পার্থক্য কী? এ বিষয়ে ইমামগণের অভিমত উল্লেখ করুন।]

১. পার্থক্য: মুযারা’আতে জমির মালিক বীজ সরবরাহ করে, আর মুখাবারাহতে কৃষক নিজ থেকে বীজ সরবরাহ করে থাকে (অথবা নির্দিষ্ট খণ্ডের ফসল শর্ত করা হয়)।
২. আইম্মায়ে কিরামের মতামত: ইমাম আবু হানিফা রহ. প্রাথমিক যুগে চাষাবাদের এই চুক্তিকে মাকরূহ মনে করলেও পরবর্তীতে তাঁর দুই প্রধান ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এবং ইমাম আহমাদ রহ. সামগ্রিক ফসলের আনুপাতিক হারে (অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ) মুযারা’আতকে সম্পূর্ণ জায়েজ ফতোয়া দিয়েছেন এবং মুসলিম উম্মাহর আমল এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত।

(د) ما معنى العرايا؟ وما الاختلاف فى بيع العرايا؟ بين بالوضاحة –

[(ঘ) আল-আরায়া (العرايا)-এর অর্থ কী? এবং বায়’উল আরায়ার ক্ষেত্রে ফুকাহাদের মতভেদ স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন।]

‘আরাইয়া’ হলো, কোনো দরিদ্র ব্যক্তির পরিবার যদি গাছে ঝুলন্ত তাজা খেজুর খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে কিন্তু তার কাছে নগদ টাকা না থাকে, তবে সে তার কাছে রক্ষিত শুকনো খেজুরের আনুমানিক পরিমাপের বিনিময়ে গাছে ঝুলন্ত তাজা খেজুর পাঁচ ওসাকের কম পরিমাণে ক্রয় করতে পারে। এটি রাসুলুল্লাহ সা.-এর একটি বিশেষ মানবিক ছাড় (রুখসাত)।

(هـ) ما الاختلاف فى بيع الثمر قبل بدو صلاحه وبعده؟

[(ঙ) ফল পাকার পূর্বে ও পাকার পরে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শরয়ী মতভেদ কী?]

ফল খাওয়ার উপযোগী ও পরিপক্ব (বদূয়্যু সালাহ) হওয়ার পূর্বে গাছে থাকা অবস্থায় ফল বিক্রি করা জায়েজ নয়, কারণ এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফল নষ্ট হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। তবে ফল বড় হওয়ার পর এবং পাকার আলামত প্রকাশ পাওয়ার পর গাছে থাকা অবস্থাতেই তা বিক্রি করা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ।

٣- عن نافع عن ابن عمر قال اعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر بشطر ما يخرج منها من ثمر او زرع – فكان يعطى ازواجه كل سنة مائة وسق ثمانين وسقا من تمر وعشرين وسقا من شعير فلما ولى عمر قسم خيبر، خير ازواج النبى صلى الله عليه وسلم ان يقطع لهن الارض والماء او يضمن لهن الاوساق كل عام فاختلفن فمنهن من اختار الارض والماء ومنهن من اختار الاوساق كل عام – فكانت عائشة وحفصة ممن اختار الارض والماء –

[৩. হযরত নাফে’ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বারের জমি ও বাগান ইহুদিদেরকে এই শর্তে চাষাবাদ ও পরিচর্যার জন্য প্রদান করেছিলেন যে, সেখান থেকে যে পরিমাণ ফল ও ফসল উৎপন্ন হবে তার অর্ধেক তারা পাবে। নবীজি সা. এই ফসল থেকে প্রতি বছর তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের একশত ওসাক (৮০ ওসাক খেজুর এবং ২০ ওসাক যব) প্রদান করতেন। অতঃপর হযরত উমর রা. যখন খলিফা হলেন এবং খায়বার বণ্টন করলেন, তখন তিনি নবীজির স্ত্রীদের স্বাধীনতা দিলেন যে—তাঁরা ইচ্ছা করলে নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট জমি ও সেচের পানির মালিকানা গ্রহণ করতে পারেন, অথবা প্রতি বছর নির্ধারিত ওসাক গ্রহণ অব্যাহত রাখতে পারেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জমি ও পানির অংশ বেছে নিলেন, আর কেউ কেউ বাৎসরিক ওসাক গ্রহণ বেছে নিলেন। হযরত আয়েশা ও হাফসা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা সরাসরি জমি ও পানির মালিকানা গ্রহণ করেছিলেন।]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
بِشَطْرِ অর্ধেক অংশ / অর্ধাংশ ش – ط – ر ইসম মুফরাদ, মুদাফ হরফে জার বা-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
خَيَّرَ তিনি স্বাধীনতা বা অধিকার দিলেন خ – ي – ر মাযী মা’রূফ, বাবে তাফঈল ফি’লে মাযী, উমরু এর ফা’য়িল
يَضْمَنَ তিনি দায়িত্ব বা নিশ্চয়তা দেবেন ض – م – ن মুযারে মা’রূফ, বাবে যারাবা আন নাসিবাহ-এর কারণে মানসূব বিল-ফাতহাহ
اخْتَارَتْ সে বেছে নিল / পছন্দ করল خ – ي – ر মাযী মা’রূফ, বাবে ইফতি’আল ফি’লে মাযী, আয়িশাতু ফা’য়িল
وَسْقٍ এক ওসাক (৬০ সা’) و – س – ق ইসমুল কায়ল, মুফরাদ মিয়া সংখ্যার তাময়ীয হিসেবে মাজরূর

(أ) ما معنى المساقاة لغة واصطلاحا؟ وما الاختلاف فى جوازها بين الائمة؟ اذكر مذاهبهم بالادلة –

[(ক) মুসাকাত-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? ইমামদের মাঝে এর বৈধতা নিয়ে মতভেদ কী? দলিলের আলোকে তাঁদের মাযহাব উল্লেখ করুন।]

১. সংজ্ঞা: ফলের বাগানের মালিক কোনো ব্যক্তিকে এই শর্তে বাগান পরিচর্যা, পানি সেচ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা যে, উৎপন্ন ফলের একটি সুনির্দিষ্ট আনুপাতিক অংশ (যেমন অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ) পরিচর্যাকারী পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে, তাকে শরীয়তের পরিভাষায় মুসাকাত বলা হয়।
২. আইম্মায়ে কিরামের অবস্থান: ইমাম মালেক, শাফিয়ী, আহমাদ এবং সাহিবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ রহ.) খায়বারের এই সহীহ হাদীসের ওপর ভিত্তি করে মুসাকাতকে সম্পূর্ণ জায়েজ সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম আবু হানিফা রহ. শুরুতে ভিন্নমত পোষণ করলেও পরবর্তীতে তাঁর ছাত্রদ্বয়ের ফতোয়া অনুযায়ী হানাফী মাযহাবেও এটি বৈধ ও কার্যকর।

(ب) ما الفرق بين المساقاة وكراء الارض؟ بين –

[(খ) মুসাকাত ও জমি ইজারার (কিরাউল আরদ) মধ্যে পার্থক্য কী? স্পষ্ট করুন।]

মুসাকাতের ক্ষেত্রে পরিচর্যাকারী পারিশ্রমিক হিসেবে কোনো নগদ অর্থ পায় না, বরং উৎপন্ন ফলের শতকরা অংশ পায়; ফলে বাগান নষ্ট হলে মালিক ও কর্মী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু জমি ইজারায় (কিরাউল আরদ) নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে জমি ভাড়া দেওয়া হয়, যেখানে জমির ফসল হোক বা না হোক ভাড়ার টাকা সুনির্দিষ্ট থাকে।

(ج) ما الاختلاف فيما يجوز المساقاة من الاشجار؟ بين –

[(গ) কোন্ কোন্ বৃক্ষের ক্ষেত্রে মুসাকাত জায়েজ এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ কী?]

১. ইমাম মালেক ও শাফিয়ী রহ.: কেবল খেজুর ও আঙ্গুর গাছে মুসাকাত জায়েজ, কারণ খায়বারে খেজুর গাছ ছিল।
২. ইমাম আবু ইউসুফ ও আহমাদ রহ.: সকল প্রকার ফলবান বৃক্ষ যাতে মানুষের নিয়মিত পানি সেচ ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয় (যেমন আম, জলপাই, কমলা ইত্যাদি), সেগুলোতে মুসাকাত চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বৈধ।

(د) ما معنى الوسق لغة واصطلاحا؟ وما هو مقداره ومقدار الصاع؟ بين مفصلا –

[(ঘ) ওয়াসাক্ব-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর পরিমাণ এবং সা’-এর পরিমাণ কত? বিশদ বর্ণনা করুন।]

১. ওসাক (الوسق): এক ওসাক হলো ৬০ সা’-এর সমান।
২. সা’ (الصاع): এক সা’ হলো ৪ মুদ্দের সমান (মুদ্দ হলো মাঝারি গড়নের মানুষের পূর্ণ দুই হাতের এক অঞ্জলি)। হানাফী হিসেবে এক ওসাক হলো ৪৮০ রতল খাদ্যশস্য, যা প্রায় ১৯৬ কিলোগ্রামের কাছাকাছি।

(هـ) اذكر نبذة من حياة سيدتنا عائشة رضى الله تعالى عنها مع بيان عدد روايتها –

[(ঙ) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা উল্লেখ করুন।]

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রা.-এর বিদুষী কন্যা এবং রাসুলুল্লাহ সা.-এর সর্বকনিষ্ঠা ও সর্বাধিক প্রিয়তমা স্ত্রী। তিনি ছিলেন সমগ্র মুসলিম জাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ মহিলা ফকীহ ও মুহাদ্দিস। সাহাবিরা কোনো জটিল মাসআলায় আটকে গেলে আয়েশা রা.-এর নিকট এসে সমাধান গ্রহণ করতেন। তিনি মোট ২,২১০টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৫৮ হিজরীর ১৭ই রমজান তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাক্বীতে তাঁকে দাফন করা হয়।

٤- حدثنا اسحاق بن ابراهيم قال انا جرير عن سليمان التيمى عن ضريب بن نقير القيسى عن زهدم عن ابى موسى الاشعرى قال اتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم نستحمله فقال ما عندى ما احملكم والله ما احملكم ثم بعث الينا رسول الله صلى الله عليه وسلم بثلاثة ذود بقع الذرى فقلنا انا اتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم نستحمله فحلف ان لا يحملنا فاتيناه فاخبرناه فقال انى لا احلف على يمين ارى غيرها خيرا منها الا اتيت الذى هو خير –

[৪. ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম রহ. আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, তিনি জারীর রহ. থেকে, তিনি সুলাইমান আত-তাইমী থেকে, তিনি যুহদুম রহ. থেকে এবং তিনি বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবু মুসা আল-আশ’আরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা একদল আশ’আরী লোক রাসুলুল্লাহ সা.-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাবুক যুদ্ধের জন্য সওয়ারী (উটের বাহন) প্রার্থনা করলাম। তখন নবীজি সা. বললেন: “আমার কাছে তোমাদের বহন করার মতো কোনো সওয়ারী নেই, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের সওয়ারী দিতে পারব না।” অতঃপর কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ সা. আমাদের নিকট তিনটি উৎকৃষ্ট শুভ্র কুঁজবিশিষ্ট উট পাঠিয়ে দিলেন। তখন আমরা পরস্পর বলতে লাগলাম: আমরা নবীজির কাছে সওয়ারী চেয়েছিলাম এবং তিনি শপথ করেছিলেন যে সওয়ারী দেবেন না; অথচ তিনি সওয়ারী পাঠালেন! আমরা পুনরায় নবীজির দরবারে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করলেন: “নিশ্চয়ই আমি যখন কোনো বিষয়ে শপথ করি এবং পরবর্তীতে তার চেয়ে উত্তম কোনো কল্যাণকর কাজ দেখতে পাই, তখন আমি সেই কল্যাণকর উত্তম কাজটিই সম্পাদন করি এবং পূর্বের শপথের কাফফারা আদায় করে নিই!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
نَسْتَحْمِلُهُ আমরা তাঁর নিকট বাহন চাইলাম ح – م – ل মুযারে মা’রূফ, বাবে ইসতিফ’আল জুমলায়ে হালিয়া হিসেবে মাহাল্লান মানসূব
ذَوْدٍ উটের ক্ষুদ্র কাফেলা ذ – و – د ইসমু জামা’, মুদাফ ইলাইহ সালাসাহ সংখ্যার তাময়ীয হিসেবে মাজরূর
بُقْعَ সাদা-কালো মিশ্রিত শুভ্র ب – ق – ع সিফাত, জমা মুকাসসার যাওদ শব্দের সিফাত হিসেবে মানসূব
الذُّرَى উটের কুঁজসমূহ / শীর্ষদেশ ذ – ر – و জমা মুকাসসার, মুদাফ ইলাইহ মাজরূর বিল-কাসরাহ তাকদীরান
أَحْلِفُ আমি শপথ করি ح – ل – ف মুযারে মা’রূফ, বাবে যারাবা লা নাফী সহ ফি’লে মুযারে মারফূ’

(أ) ما معنى الحلف واليمين لغة وشرعا؟ وكم قسما لليمين وما هى؟

[(ক) হলফ ও ইয়ামীন (শপথ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? শপথ কত প্রকার ও কী কী?]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘ইয়মীন’ (اليمين) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ডান হাত, শক্তি এবং শপথ।
২. পারিভাষিক অর্থ: মহান আল্লাহর নাম বা কোনো পবিত্র গুণের উল্লেখ করে কোনো কাজ করা বা না করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করাকে কসম বলা হয়।
৩. প্রকারভেদ: হানাফী মাযহাব মতে কসম তিন প্রকার:
– ইয়ামীনে গামূস (মিথ্যা কসম): অতীত বা বর্তমানের কোনো মিথ্যা বিষয়ে জেনে-শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নামে কসম খাওয়া। এটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ, এর কোনো কাফফারা নেই, খাঁটি তওবা ওয়াজিব।
– ইয়ামীনে লাগব (অনিচ্ছাকৃত কসম): মুখে অনিচ্ছাকৃতভাবে কসমের শব্দ এসে যাওয়া (যেমন ‘ওয়াল্লাহি’, ‘বাল্লাহে’) কিন্তু অন্তরে কসমের ইচ্ছা না থাকা। এতে কোনো গুনাহ বা কাফফারা নেই।
– ইয়ামীনে মুন’আকিদাহ (ভবিষ্যতের কসম): ভবিষ্যতে কোনো কাজ করা বা না করার দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে কসম খাওয়া। এই কসম ভঙ্গ করলে কাফফারা প্রদান করা ওয়াজিব।

(ب) هل يجوز الحلف بغير اسم الله؟ وقد قال الله تعالى “والتين والزيتون” –

[(খ) আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কোনো সৃষ্টির নামে শপথ করা কি জায়েজ? অথচ আল্লাহ তাআলা “তীন ও যাইতুনের শপথ” বলেছেন?]

১. বান্দার জন্য আল্লাহ তাআলার পবিত্র সত্তা ও গুণাবলি ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির নামে (যেমন পিতা-মাতা, সন্তান, কাবা ইত্যাদি) কসম খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম ও শিরকে আসগার। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন: “যে কসম খেতে চায় সে যেন আল্লাহর নামেই কসম খায় অথবা নীরব থাকে।”
২. পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা যে ডুমুর, যয়তুন, সূর্য, চন্দ্র বা যুগের শপথ করেছেন (ওয়াত তীন, ওয়াশ শামস ইত্যাদি), তা একমাত্র মহান স্রষ্টার সার্বভৌম অধিকার। তিনি তাঁর সৃষ্টির গুরুত্ব ও মহত্ত্ব প্রকাশে যেকোনো সৃষ্টির নামে কসম করতে পারেন, কিন্তু কোনো সৃষ্টি অন্য সৃষ্টির কসম খেতে পারে না।

(ج) ما الفرق بين اليمين والنذر؟ بين مفصلا –

[(গ) শপথ (ইয়ামীন) ও মান্নতের (নযর) মধ্যে পার্থক্য কী? বিশদভাবে তুলে ধরুন।]

কসম হলো কোনো কাজের ওপর জোর দেওয়ার জন্য আল্লাহর নাম ব্যবহার করা। পক্ষান্তরে নযর হলো কোনো নিয়ামত লাভ বা বিপদ মুক্তির শর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের ওপর কোনো অতিরিক্ত নফল ইবাদতকে (যেমন রোজা, নামাজ, সদকা) ওয়াজিব করে নেওয়া। নযর পূর্ণ করা ওয়াজিব, ভঙ্গ করলে কসমের কাফফারা দিতে হয়।

(د) ما الحكمة فى النهى عن الحلف بغير الله؟

[(ঘ) আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করা নিষেধ হওয়ার হেকমত কী?]

কসমের মধ্যে চরম শ্রদ্ধা, তাযীম ও সার্বভৌমত্বের স্বীকারোক্তি নিহিত থাকে। এই তাযীম ও সর্বোচ্চ ভক্তি কেবল একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার প্রাপ্য। কোনো সৃষ্টির নামে কসম করলে প্রকারান্তরে সেই সৃষ্টিকে আল্লাহর মর্যাদায় সমকক্ষ ভাবার শিরকী প্রবৃত্তি প্রকাশ পায়, যা তাওহীদের মূল চেতনার পরিপন্থী।

(هـ) ان كان الحلف بغير الله تعالى غير جائز فكيف حلف النبى (ص) بقوله افلح وابيه؟

[(ঙ) গাইরুল্লাহর নামে শপথ জায়েজ না হলে নবীজি সা. কীভাবে “তার পিতার শপথ সে সফল হয়েছে” বলে শপথ করেছিলেন?]

এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ সা. জনৈক ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছিলেন “আফলাহা ওয়া আবীহি” (তাঁর পিতার শপথ, সে সফলকাম হয়েছে)। মুহাদ্দিসগণ এর তিনটি চমৎকার উত্তর দিয়েছেন: ১. এটি ইসলামে গাইরুল্লাহর নামে কসম নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বের ঘটনা, পরবর্তীতে তা কঠোরভাবে রহিত করা হয়; ২. এটি আরবের স্বাভাবিক বাকরীতি ও অলংকারমূলক প্রকাশভঙ্গি মাত্র, কোনো আনুষ্ঠানিক কসমের উদ্দেশ্য ছিল না; ৩. এখানে কোনো তাযীম বা ইবাদত উদ্দেশ্য ছিল না।

٥- حدثنا قتيبة قال نا ليث ح قال وثنا محمد بن رمح قال انا الليث عن ابن شهاب عن عروة عن عائشة ان قريشا اهمهم شان المرأة المخزومية التى سرقت فقالوا من يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم – فقالوا ومن يجترئ عليه الا اسامة حب رسول الله صلى الله عليه وسلم فكلمه اسامة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتشفع فى حد من حدود الله ثم قام فاختطب فقال ايها الناس انما اهلك الذين قبلكم – انهم كانوا اذا سرق فيهم الشريف تركوه واذا سرق فيهم الضعيف اقاموا عليه الحد وايم الله لو ان فاطمة بنت محمد صلى الله عليه وسلم سرقت لقطعت يدها –

[৫. কুতায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ রহ. উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন। কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত বনু মাখযূম গোত্রের এক নারী চুরি করল। এই ঘটনা কুরাইশদের অত্যন্ত চিন্তিত ও মর্যাদাহানির শঙ্কায় ফেলে দিল। তারা বলাবলি করল: “এই নারীর শাস্তির বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে সুপারিশ করার মতো কার এমন সাহস আছে?” অবশেষে তারা বলল: “রাসুলুল্লাহ সা.-এর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন উসামা ইবনে যায়েদ রা. ছাড়া আর কারও এ সাহস নেই।” অতঃপর উসামা রা. নবীজির নিকট গিয়ে সুপারিশ করলেন। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সা.-এর চেহারা মোবারক ক্রোধে রক্তিম হয়ে উঠল এবং তিনি বললেন: “হে উসামা! তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত হদ ও দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ করছ?!” অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: “হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো এই কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যে—যখন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী বা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করত তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত; আর যখন কোনো দুর্বল-নিঃস্ব লোক চুরি করত তখন তারা তার ওপর শাস্তি কার্যকর করত! আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তবে আমি মুহাম্মাদ অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أَهَمَّهُمْ তাদের চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন করল ه – م – م মাযী মা’রূফ, বাবে ইফ’আল ফি’লে মাযী, হুম মাফ’উলে বিহী
يَجْتَرِىءُ সে দুঃসাহস দেখাবে ج – ر – أ মুযারে মা’রূফ, বাবে ইফতি’আল ফি’লে মুযারে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
أَتَشْفَعُ তুমি কি সুপারিশ করছ? ش – ف – ع মুযারে মা’রূফ, হামযা ইসতিফহাম ইনকার বা অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন
الشَّرِيْفُ সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ش – ر – ف সিফাত মুশাহহাবা, মুযাক্কার সারাফা ক্রিয়ার ফা’য়িল হিসেবে মারফূ’
لَقَطَعْتُ আমি অবশ্যই কেটে দিতাম ق – ط – ع মাযী মা’রূফ, বাবে ফাতাহা লামে জাযা সহ ফি’লে মাযী

(أ) ما معنى السرقة؟ وما حكمها؟ وما حدها فى الشريعة الإسلامية؟

[(ক) চুরির অর্থ কী? এর হুকুম কী? এবং ইসলামী শরীয়তে এর নির্ধারিত হদ (দণ্ডবিধি) কী?]

১. পরিচয়: কোনো বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কর্তৃক সুরক্ষিত স্থান (হির্‌য) থেকে গোপনে নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ অপরের মাল আত্মসাৎ করাকে শরীয়তের পরিভাষায় চুরি (সারিক্বাহ) বলা হয়।
২. বিধান: চুরি করা মারাত্মক কবিরা গুনাহ ও জঘন্য সামাজিক অপরাধ।
৩. হদ: চুরির অকাট্য প্রমাণ নিশ্চিত হলে পবিত্র কুরআনের সুরা মায়েদার ৩৮ নম্বর আয়াত অনুযায়ী চোরের ডান হাত কবজি পর্যন্ত কেটে ফেলা ওয়াজিব।

(ب) هل تجوز الشفاعة فى الحدود؟ بين موضحا –

[(খ) শরয়ী হদের ক্ষেত্রে সুপারিশ করা কি জায়েজ? সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন।]

কোনো অপরাধের মামলা রাষ্ট্রপ্রধান বা বিচারকের আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হওয়ার পূর্বে আপস-মীমাংসা বা ক্ষমা করা জায়েজ। কিন্তু যখন অপরাধের প্রমাণাদি বিচারকের এজলাসে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়ে যায়, তখন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, মন্ত্রী বা আত্মীয়ের পক্ষে আল্লাহর হদ রহিত করার সুপারিশ করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। রাসুলুল্লাহ সা. উসামা রা.-এর মতো প্রিয় পাত্রের ওপরও এই কারণে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

(ج) ما هو حد السارق لو لم يترك السرقة بعد قطع يده؟

[(গ) হাত কাটার পরও যদি চোর চুরি না ছাড়ে, তবে তার পরবর্তী শাস্তি কী?]

ফুকাহাদের মতে চোর প্রথমবার চুরি করলে তার ডান হাত কবজি পর্যন্ত কাটা হবে। দ্বিতীয়বার চুরি করলে তার বাম পা গোড়ালি পর্যন্ত কাটা হবে। তৃতীয়বার চুরি করলে হানাফী মাযহাব মতে আর অঙ্গহানি করা হবে না, বরং তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারারুদ্ধ রাখা হবে এবং কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে যতক্ষণ না সে তওবা করে।

(د) ما هى شرائط لوقوع حدود السرقة؟

[(ঘ) চুরির হদ কার্যকর হওয়ার শর্তাবলি কী কী?]

১. চোর প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া,
২. সম্পদটি সংরক্ষিত স্থান (যেমন তালাবদ্ধ ঘর, সিন্দুক) থেকে চুরি হওয়া,
৩. চুরিকৃত মালের মূল্য ন্যূনতম নিসাব পরিমাণ (হানাফী মতে ১০ দিরহাম সমমূল্যের) হওয়া,
৪. চুরিকৃত মালের মধ্যে চোরের কোনো মালিকানা বা অংশীদারি স্বত্ব না থাকা,
৫. দুর্ভিক্ষ বা ক্ষুধার তীব্রতায় বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে খাদ্য চুরি না করা (যেমন হযরত উমর রা. দুর্ভিক্ষের বছর হদ স্থগিত রেখেছিলেন)।

(هـ) متى كانت هذه الواقعة؟ وما اسم المرأة المخزومية؟

[(ঙ) এই ঘটনাটি কখন ঘটেছিল? এবং মাখযুমী গোত্রের সেই মহিলার নাম কী ছিল?]

এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনাটি ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের কিছুদিন পর সংঘটিত হয়েছিল। সেই মাখযূমী নারীর নাম ছিল ফাতিমা বিনতুল আসওয়াদ ইবনে আব্দুল আসাদ আল-মাখযূমিয়্যাহ। হাত কাটার শাস্তির পর সে খাঁটি তওবা করেছিল এবং পরবর্তীতে তার বিবাহ হয়েছিল।

٦- حدثنا يحيى بن يحيى التميمى اخبرنا هشيم عن منصور عن الحسن عن حطان بن عبد الله الرقاشى عن عبادة بن الصامت قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خذوا عنى خذوا عنى قد جعل الله لهن سبيلا البكر بالبكر جلد مائة ونفى سنة والثيب بالثيب جلد مائة والرجم –

[৬. ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আত-তামীমী রহ. আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, হুশাইম রহ. থেকে, তিনি মানসুর রহ. থেকে, তিনি হাসান বসরী রহ. থেকে, তিনি হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রিকাশী থেকে এবং তিনি বিশিষ্ট বদরী সাহাবি হযরত উবাদাহ ইবনুস সামিত রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমরা আমার কাছ থেকে বিধান গ্রহণ করো! তোমরা আমার কাছ থেকে বিধান গ্রহণ করো! আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারিণী নারীদের জন্য চূড়ান্ত পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন: অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিত নারী যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তাদের শাস্তি হলো একশত চাবুক এবং এক বছরের নির্বাসন। আর বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তাদের শাস্তি হলো একশত চাবুক এবং পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (রজম)।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
خُذُوا তোমরা গ্রহণ করো أ – خ – ذ আমরে হাযির মা’রূফ, জমা মুযাক্কার ফি’লে আমর, তাকীদের জন্য পুনরাবৃত্তি
سَبِيلاً নির্দিষ্ট পথ / স্থায়ী বিধান س – ب – ل ইসম মুফরাদ, মুযাক্কার জা’আলা ক্রিয়ার মাফ’উলে ছানী হিসেবে মানসূব
الْبِكْرُ অবিবাহিত যুবক / কুমার ب – ك – ر ইসম মুফরাদ, সিফাত মুবতাদা হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
الثَّيِّبُ বিবাহিত ব্যক্তি / সধবা ث – ي – ب সিফাত মুশাহহাবা, ওজনে ফাই’ইল মুবতাদা হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
الرَّجْمُ পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড ر – ج – م ইসমুল মাসদার, মুযাক্কার মাতূফ আলা জালদুন হিসেবে মারফূ’

(أ) ما معنى الزنا؟ وما حكم الزنا؟

[(ক) যিনার অর্থ কী? এবং যিনার শরয়ী হুকুম কী?]

কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ বিবেকবান পুরুষ ও নারীর মধ্যে কোনো বৈধ বিবাহ চুক্তি বা শরয়ী মালিকানা ছাড়া স্বেচ্ছায় লজ্জাস্থানের মিলন ঘটানোকে যিনা বলা হয়। ইসলামে যিনা শিরক ও হত্যার পর তৃতীয় সর্বাপেক্ষা মারাত্মক কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই এটি এক অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ” (সুরা বনী ইসরাঈল: ৩২)।

(ب) اكتب الآية الكريمة التى يثبت بها الرجم –

[(খ) রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) প্রমাণিত হওয়ার পবিত্র আয়াতটি উল্লেখ করুন।]

হযরত উমর রা. মিম্বরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে, পবিত্র কুরআনে রজমের আয়াত নাযিল হয়েছিল এবং আমরা তা তিলাওয়াত করেছি ও রাসুলুল্লাহ সা. রজম কার্যকর করেছেন। সেই আয়াতটির তিলাওয়াত রহিত (মানসূখুত তিলাওয়াত) হলেও তার বিধান অটুট রয়েছে (বাক্বিউল হুকম):
“الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا أَلْبَتَّةَ نَكَالاً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ”
(বয়স্ক বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী ব্যভিচার করলে তাদের উভয়কে অবশ্যই পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড দাও; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি)।

(ج) لم يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم خذوا عنى؟

[(গ) রাসুলুল্লাহ সা. কেন বলেছিলেন “আমার কাছ থেকে গ্রহণ করো, আমার কাছ থেকে গ্রহণ করো”?]

ইসলামের প্রাথমিক যুগে সুরা নিসার ১৫ নম্বর আয়াত অনুযায়ী ব্যভিচারিণী নারীকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঘরের মধ্যে বন্দি রাখার বিধান ছিল। সেই আয়াতেই আল্লাহ বলেছিলেন: “অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত।” রাসুলুল্লাহ সা. এই হাদিসের মাধ্যমে সুসংবাদ দিলেন যে, আল্লাহ যে বিকল্প স্থায়ী পথের ওয়াদা করেছিলেন তা ওহীর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে গেছে; তাই তিনি সাহাবিদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তাকীদ দিয়ে বারবার এই বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন।

(د) اشرح قوله عليه الصلوة والسلام “قد جعل الله لهن سبيلا البكر بالبكر” –

[(ঘ) রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের জন্য পথ নির্ধারণ করেছেন অবিবাহিতের সাথে অবিবাহিত…”-এর ব্যাখ্যা করুন।]

১. অবিবাহিত (বিকর): একশত চাবুক মারা কুরআনের সুরা নূরের ২ নম্বর আয়াত দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এক বছরের নির্বাসন (নাফই) ইমাম শাফিয়ী ও আহমাদের মতে হদ, তবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে এটি বিচারকের বিবেচনাধীন তাযীর।
২. বিবাহিত (ছাইয়্যিব): সহীহ সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরামের ইজমা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তির একমাত্র শাস্তি হলো রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড)। রাসুলুল্লাহ সা. মায়েয ইবনে মালিক ও গামেদিয়া মহিলার ওপর কেবল রজমই কার্যকর করেছিলেন, কোড়াদণ্ড ও রজম একত্রে দেননি।

(هـ) اكتب نبذة من حياة عبادة بن الصامت (رض) –

[(ঙ) হযরত উবাদাহ ইবনুস সামিত রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত লিখুন।]

হযরত উবাদাহ ইবনুস সামিত রা. ছিলেন আক্বাবার প্রথম ও দ্বিতীয় বাইয়াতে অংশগ্রহণকারী ১২ জন নকীবের অন্যতম। তিনি বদর, উহুদসহ সমস্ত ঐতিহাসিক যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুজাহিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যের নির্ভীক মুখপাত্র ও কুরআনের শিক্ষক। খলিফা উমর রা. তাঁকে ফিলিস্তিনের বিচারক ও শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। ৩৪ হিজরীতে তিনি ফিলিস্তিনের রামাল্লায় ইন্তেকাল করেন।

٧- حدثنى زهير بن حرب قال نا شبابة قال ثنى ورقاء عن ابى الزناد عن الاعرج عن ابى هريرة (رض) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال بينما امرأتان معهما ابناهما جاء الذئب فذهب بابن احداهما فقالت هذه لصاحبتها انما ذهب بابنك وقالت الاخرى انما ذهب بابنك فتحاكمتا الى داود عليه الصلوة والسلام فقضى به للكبرى فخرجتا على سليمان بن داود عليه الصلوة والسلام فاخبرتاه فقال ائتونى بالسكين اشقه بينكما فقالت الصغرى لا يرحمك الله هو ابنها فقضى به للصغرى – قال قال ابو هريرة (رض) والله ان سمعت بالسكين قط الا يومئذ ما كنا نقول الا المدية –

[৭. জুহায়ের ইবনে হারব রহ. হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “পূর্বযুগের দুই নারী তাদের দুই শিশুকে নিয়ে পথ চলছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে বাঘ এসে তাদের একজনের শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল। তখন বড় নারীটি তার সঙ্গিনীকে বলল: ‘নেকড়ে মূলত তোমার সন্তানকেই নিয়ে গেছে।’ আর ছোট নারীটি বলল: ‘না, বরং নেকড়ে তোমার সন্তানকেই নিয়ে গেছে।’ অতঃপর তারা উভয়ে বিচারের জন্য হযরত দাউদ আ.-এর আদালতে উপস্থিত হলো। হযরত দাউদ আ. শিশুটিকে বড় নারীর পক্ষে রায় দিয়ে দিলেন। এরপর তারা বের হয়ে দাউদ আ.-এর পুত্র হযরত সুলাইমান আ.-এর নিকট গেল এবং বিষয়টি খুলে বলল। সুলাইমান আ. কৌশল অবলম্বন করে বললেন: ‘আমার নিকট একটি বড় ছুরি নিয়ে এসো, আমি শিশুটিকে সমান দুই খণ্ডে বিভক্ত করে তোমাদের দুজনের মধ্যে আধা-আধি বণ্টন করে দেব!’ এ কথা শোনামাত্র ছোট নারীটি আর্তনাদ করে বলল: ‘আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন! এমন কাজ করবেন না, শিশুটি ওই বড় নারীরই সন্তান (তবুও সে বেঁচে থাকুক)!’ এই মাতৃত্বের অকৃত্রিম মমতা দেখেই সুলাইমান আ. বুঝতে পারলেন এবং রায় দিয়ে শিশুটিকে ছোট নারীর নিকট হস্তান্তর করলেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন: আল্লাহর শপথ! আমি এই হাদিসটি শোনার পূর্বে ছুরিকে ‘সিক্কীন’ বলতে শুনিনি, আমরা একে সর্বদা ‘মুদইয়াহ’ বলতাম।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
الذِّئْبُ নেকড়ে বাঘ ذ – أ – ب ইসমু জিন্স, মুযাক্কার জাআ ক্রিয়ার ফা’য়িল হিসেবে মারফূ’
فَتَحَاكَمَتَا তারা উভয়ে বিচারপ্রার্থী হলো ح – ك – م মাযী মা’রূফ, তাছনিয়া মুয়ান্নাস ফি’লে মাযী, বাবে তাফা’উল
السِّكِّينِ ছুরি / ধারালো অস্ত্র س – ك – ن ইসমুল আ’লাহ, ওজনে ফি’লীন হরফে জার বা-এর কারণে মাজরূর
أَشُقُّهُ আমি তাকে দ্বিখণ্ডিত করব ش – ق – ق মুযারে মা’রূফ, ওয়াহেদ মুতাকাল্লিম জাওয়াবে আমরের কারণে মাজযূম/মারফূ’
الْمُدْيَةَ ছুরি (আরবি উপভাষা) م – د – ي ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস নাকূলু ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব

(أ) هل المجتهد يخطئ ويصيب؟ وهل اجر على الخطاء فى الاجتهاد؟

[(ক) মুজতাহিদের কি ভুল ও সঠিক উভয়টি হতে পারে? এবং ইজতিহাদে ভুল হলেও কি কোনো সওয়াব রয়েছে?]

হ্যাঁ, মুজতাহিদ মানুষ বিধায় তাঁর ইজতিহাদে ভুল ও সঠিক উভয়টিই হতে পারে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন: “বিচারক বা মুজতাহিদ যখন পূর্ণ যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সাথে ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তখন তিনি দুটি সাওয়াব লাভ করেন; আর যখন তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃত ভুল ফয়সালা করেন, তখনো তিনি একটি সাওয়াব লাভ করেন।” তবে কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি বা বিচারিক যোগ্যতা ছাড়া মনগড়া ফয়সালা করলে সে জাহান্নামী হবে।

(ب) كم سنا لسيدنا سليمان عليه السلام حين نقض قضاء ابيه؟

[(খ) হযরত সুলাইমান আ. যখন তাঁর পিতার রায় পরিবর্তন করেন তখন তাঁর বয়স কত ছিল?]

তাফসীর ও ইতিহাসের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, সুলাইমান আ. যখন এই ঐতিহাসিক দূরদর্শী ফয়সালা পেশ করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র এগারো বা বারো বছর। আল্লাহ তাআলা বাল্যকালেই তাঁকে অতুলনীয় বিচারিক হিকমত ও প্রজ্ঞা দান করেছিলেন, যার প্রশংসা সুরা আম্বিয়ার ৭৯ নম্বর আয়াতে করা হয়েছে: “অতঃপর আমি সুলাইমানকে সেই বিষয়ের ফয়সালা অনুধাবন করিয়েছিলাম।”

(ج) ما الاختلاف فى الفاسق يصلح للقضاء ام لا؟

[(গ) ফাসিক ব্যক্তি বিচারক হওয়ার যোগ্য কি না এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ কী?]

১. ইমাম শাফিয়ী, মালেক ও আহমাদ রহ.: প্রকাশ্য ফাসেক বা পাপাচারী ব্যক্তির জন্য বিচারকের পদে অধিষ্ঠিত হওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং তার প্রদত্ত কোনো রায় আইনগতভাবে কার্যকর হবে না।
২. ইমাম আবু হানিফা রহ.: ফাসেক ব্যক্তির কাযী হওয়া মাকরূহে তাহরীমী; তবে রাষ্ট্রপ্রধান যদি তাকে বিচারক নিয়োগ করে এবং সে ন্যায়সংগত সঠিক শরয়ী ফয়সালা প্রদান করে, তবে বিশৃঙ্খলা রোধে তার সেই রায় কার্যকর হবে।

(د) ما هى الوجوه التى قضى بها داود بالابن للكبرى وقضى به سليمان للصغرى؟

[(ঘ) কোন্ যুক্তিতে দাউদ আ. সন্তানটিকে বড় মহিলার অনুকূলে এবং সুলাইমান আ. ছোট মহিলার অনুকূলে রায় দিয়েছিলেন?]

১. দাউদ আ.-এর দৃষ্টিকোণ: দাউদ আ. বাহ্যিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করেছিলেন। বড় নারীর কোলে তখন শিশুটি ছিল (ইয়াদুশ শুগল বা দখলিস্বত্ব) এবং ছোট নারী কোনো সুস্পষ্ট সাক্ষী হাজির করতে পারেনি বিধায় সাধারণ নিয়মে তিনি বড় নারীকে দিয়েছিলেন।
২. সুলাইমান আ.-এর মনস্তাত্ত্বিক কৌশল: সুলাইমান আ. জানতেন যে সৎ মা বা পরস্ত্রী অপরের সন্তানকে টুকরো হতে দেখলে আনন্দ বা উদাসীনতা প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু গর্ভধারিণী আসল মা নিজের জীবন দিয়ে হলেও সন্তানের প্রাণ রক্ষা করবে। ছোট নারীর সেই আত্মবিসর্জনের কান্না দেখেই সুলাইমান আ. আসল মাতৃত্বের অকাট্য প্রামাণিক সিদ্ধান্ত লাভ করেন।

(هـ) هل العزيمة والرخصة داخلتان فى القضاء؟ فصل –

[(ঙ) আযীমত ও রুখসাত কি বিচারিক রায়ের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে? বিস্তারিত আলোচনা করুন।]

বিচারক সর্বদা অকাট্য শরয়ী প্রমাণের (আযীমত) ওপর ভিত্তি করে বিচার করবেন। তবে অপরাধীর অনুশোচনা, অনিচ্ছাকৃত অপরাধ বা মানবিক বাস্তবতার ক্ষেত্রে যদি শরীয়তের ভেতরে কোনো ছাড় বা শিথিলতার (রুখসাত) সুযোগ থাকে, তবে বিচারক তা প্রয়োগ করতে পারেন। হযরত সুলাইমান আ.-এর কৌশল ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিচারিক বিজ্ঞানের এক অনন্য নিদর্শন।

مجموعة (ب) : المقالات التاريخية والمناهج العلمية (الدرجة – ২০ x ১ = ২০)

(أجب عن سؤال واحد مما يلى)

٨- ناقش منهج النبى صلى الله عليه وسلم فى تطبق الحدود مبينا مظاهر الرحمة والتدرج والعدل فى التطبيق – كما ورد فى احاديث مسلم –

[৮. সহীহ মুসলিমের হাদিসসমূহের আলোকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর হদ ও দণ্ডবিধি কার্যকরের সুমহান পদ্ধতি এবং এর মধ্যকার দয়া, পর্যায়ক্রমিকতা ও সুবিচারের দিকগুলো আলোচনা করুন।]

ভূমিকা:
ইসলামে দণ্ডবিধি বা হদ প্রবর্তন কোনো প্রতিশোধপরায়ণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং তা সমাজের সামগ্রিক শান্তি, অপরাধ নির্মূল এবং মানুষের জীবন, সম্পদ, বংশ ও সম্মান রক্ষার এক পরম ইনসাফপূর্ণ ঐশ্বরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সহীহ মুসলিমের কিতাবুল হুদূদের বিভিন্ন হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে বিচারিক নীতি ফুটে উঠেছে, তা একাধারে পরম মানবিক দয়া, প্রজ্ঞাপূর্ণ পর্যায়ক্রম এবং আপসহীন ন্যায়বিচারের এক অনুপম মেলবন্ধন।

দয়া ও অপরাধীর আত্মশুদ্ধির সুযোগ (ইদরউল হুদূদ বিশ-শুবুহাত):
রাসুলুল্লাহ সা. হদ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বদা সন্দেহের সুবিধা দিয়ে অপরাধীকে বাঁচানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: “তোমরা যথাসম্ভব সন্দেহের অবকাশ সৃষ্টি করে মুসলমানদের ওপর থেকে হদকে প্রতিহত করো।” যখন হযরত মায়েয ইবনে মালিক রা. নিজের ব্যভিচারের কথা চারবার স্বীকার করতে আসলেন, তখন নবীজি সা. বারবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং তাঁকে ফিরে যেতে বলেছিলেন। এমনকি তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন: “তুমি কি পাগল? তুমি কি মাতাল অবস্থায় আছো?” তিনি অপরাধীকে তওবা করে আল্লাহর দরবারে গোপন রাখার তাগিদ দিয়েছিলেন।

পর্যায়ক্রম ও শারীরিক বাস্তবতার প্রতি সহানুভূতি:
গামেদিয়া গোত্রের নারী যখন ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি দিয়ে হদ প্রয়োগের আবেদন করল, তখন নবীজি সা. তাকে সাথে সাথে শাস্তি দেননি; বরং তাকে বললেন: “ফিরে যাও, যতক্ষণ না তুমি সন্তান প্রসব করো।” সন্তান প্রসবের পর যখন সে পুনরায় আসলো, তখন তিনি বললেন: “ফিরে যাও, দুধপান করানোর মেয়াদ পূর্ণ করো।” দুই বছর পর যখন শিশুটি হাতে রুটির টুকরো নিয়ে খেতে শিখল, তখন সেই নিরপরাধ শিশুর জীবন রক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পর শাস্তি কার্যকর করা হয়। এমনকি এক সাহাবি শাস্তি কার্যকর করার পর সেই নারীর প্রতি কটূক্তি করলে নবীজি ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন: “থামো! সে এমন খাঁটি তওবা করেছে যা মদিনার সত্তর জন পাপীর মাঝে বণ্টন করে দিলেও তাদের সকলের মুক্তির জন্য যথেষ্ট হতো!”

আইনের চোখে আপসহীন সাম্য ও ন্যায়বিচার:
ইসলামী দণ্ডবিধিতে ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় বা রাজা-প্রজার মধ্যে কোনো প্রকার বৈষম্য নেই। বনু মাখযূম গোত্রের সম্ভ্রান্ত চোর নারীর পক্ষে সুপারিশ এলে নবীজি কঠোর কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর নিজের কন্যা ফাতিমাও যদি অপরাধ করত তবে তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দিতেন না। এই অনুপম সুবিচারই একটি বর্বর জাতিকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদর্শ জাতিতে রূপান্তরিত করেছিল।

٩- بين خصائص الصحيح لمسلم بن الحجاج القشيرى رحمه الله – ومنهج تأليفه –

[৯. ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী রহ.-এর সহীহ মুসলিমের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও সংকলন পদ্ধতি বিশদভাবে আলোচনা করুন।]

ভূমিকা:
হাদীস সংকলন শাস্ত্রের ইতিহাসে ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী রহ. সংকলিত ‘আল-মুসনাদুস সহীহ’ এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। সংকলন পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক বিন্যাস এবং সনদের একত্রীকরণে এই গ্রন্থটি মুহাদ্দিসদের নিকট এক অতুলনীয় গবেষণামূলক আকর গ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত।

সহীহ মুসলিমের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. হাদীসের সমস্ত সনদের কেন্দ্রীভবন (জাম’উ তুরুকিল হাদীস): ইমাম মুসলিম রহ.-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি একটি হাদীসের যতগুলো প্রামাণ্য সনদ ও শব্দবিন্যাস (আলফায) রয়েছে, তা এক স্থানে একত্রিত করে উপস্থাপন করেছেন। ফলে গবেষকদের একটি হাদীসের ভিন্ন পাঠ খোঁজার জন্য পুরো কিতাব তন্ন তন্ন করে খুঁজতে হয় না।
২. শব্দের সামান্যতম পার্থক্যের প্রতি পরম সতর্কতা: রাবীদের বর্ণনার মধ্যে যদি একটি অক্ষরেরও অমিল থাকত (যেমন হাদ্দাসানা বনাম আখবারানা, অথবা ওয়া বনাম আও), ইমাম মুসলিম তা পরম নিষ্ঠার সাথে উল্লেখ করে দিয়েছেন।
৩. কালজয়ী মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা: কিতাবের শুরুতে ইমাম মুসলিম হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি, রাবীদের স্তরভেদ এবং হাদিস গ্রহণের শর্তাবলি নিয়ে যে অনন্য প্রামাণ্য ভূমিকা লিখেছেন, তা উসূলে হাদীসের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ও শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
৪. নিজস্ব তারাজিমুল আবওয়াব না থাকা: ইমাম মুসলিম মূল কিতাবে দীর্ঘ ফিকহী শিরোনাম তৈরি করেননি, বরং হাদীসগুলো সরাসরি সুবিন্যস্তভাবে রেখে গেছেন; পরবর্তীতে ইমাম নববী রহ. এর ফিকহী অধ্যায় শিরোনাম বিন্যস্ত করেন।
৫. মুআল্লাক রেওয়ায়েতমুক্ত বিশুদ্ধতা: সহীহ বুখারীতে বহু বিচ্ছিন্ন বা ঝুলন্ত (মুআল্লাক) সনদ থাকলেও সহীহ মুসলিমের মূল অংশে কোনো মুআল্লাক রেওয়ায়েত নেই, প্রতিটি হাদীস নিরবচ্ছিন্ন ও মুত্তাসিল সনদে সংকলিত।

উপসংহার:
ইমাম মুসলিম দীর্ঘ ১৫ বছর নিরলস সাধনায় তাঁর মুখস্থ ৩ লক্ষ হাদীসের মধ্য থেকে মাত্র ৪,০০০টি (পুনরাবৃত্তিসহ প্রায় ১২,০০০টি) বিশুদ্ধ হাদীস বাছাই করে এই গ্রন্থটি উম্মাহর জন্য উপহার দিয়েছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের দিশারী হয়ে থাকবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: কামিল হাদীস ৪র্থ পত্রের বিষয় কোড ও পূর্ণমান কত?

উত্তর: কামিল হাদীস চতুর্থ পত্রের বিষয় হলো ‘আস সহীহু লিমুসলিম (দ্বিতীয় খণ্ড)’ এবং এর বিষয় কোড হলো 611204। পূর্ণমান ১০০ নম্বর।

প্রশ্ন ২: ‘বায়’উ হাবালিল হাবালাহ’ কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

উত্তর: কারণ এটি একটি সম্পূর্ণ অজানা ও অনিশ্চিত (গারার) কেনাবেচা, যেখানে পেটের বাচ্চার পেটের বাচ্চাকে বিক্রি করা হতো যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন ৩: কসমের কাফফারা কী?

উত্তর: কোনো বৈধ কসম ভঙ্গ করলে কাফফারা হিসেবে দশজন মিসকীনকে দুই বেলা পেটভরে খাবার খাওয়ানো অথবা তাদের বস্ত্র দান করা, কিংবা এতে অসমর্থ হলে একটানা তিন দিন রোজা রাখা ওয়াজিব।

প্রশ্ন ৪: মাখযূমী নারীর ঘটনায় রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রধান বার্তা কী ছিল?

উত্তর: প্রধান বার্তা ছিল আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান; আল্লাহর দণ্ডবিধিতে কারও প্রভাব বা বংশমর্যাদার ভিত্তিতে কোনো সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন ৫: বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচারের শাস্তি কী?

উত্তর: পবিত্র সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরামের সর্বসম্মত ইজমা অনুযায়ী স্বাধীন বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচারের নির্ধারিত শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (রজম)।

প্রশ্ন ৬: সহীহ মুসলিমের অন্যতম প্রধান সংকলন বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: একটি হাদীসের সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন সনদ ও পাঠভেদকে একই অনুচ্ছেদে একত্রিত করে উপস্থাপন করা, যা হাদিস গবেষকদের জন্য অত্যন্ত সহজবোধ্য।