আস সহীহু লিমুসলিম ১ম পত্র (Sahih Muslim 1st Paper) – 611203, হাদীস – কামিল ২য় পর্ব পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৭৮ মিনিট পড়ার সময়
৩ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস দ্বিতীয় পর্ব পরীক্ষা, ২০২৪
তৃতীয় পত্র
বিষয়: আস সহীহু লিমুসলিম (প্রথম খণ্ড) [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: 611203 | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة –

مجموعة (أ) : الحديث والتحقيق والشرح (الدرجة – ২০ x ৪ = ৮০)

(ترجم الأحاديث التالية مع التوضيح ثم أجب عن ثلاثة من الأسئلة الملحقة بكل سؤال)

١- عن عمر بن الخطاب (رض) قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم اذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه اثر السفر ولا يعرفه منا احد حتى جلس الى النبى صلى الله عليه وسلم فاسند ركبتيه الى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه وقال يا محمد اخبرنى عن الاسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم الاسلام ان تشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله وتقيم الصلوة وتؤتى الزكوة وتصوم رمضان وتحج البيت ان استطعت اليه سبيلا قال صدقت قال فعجبنا له يسئله ويصدقه قال فاخبرنى عن الايمان قال ان تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره قال صدقت قال فاخبرنى عن الاحسان قال ان تعبد الله كانك تراه فان لم تكن تراه فانه يراك قال فاخبرنى عن الساعة قال ما المسئول عنها باعلم من السائل قال فاخبرنى عن اماراتها قال ان تلد الامة ربتها وان ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون فى البنيان –

[১. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ আমাদের সামনে ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটল। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো ক্লান্তি বা চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউই তাঁকে চিনতে পারছিল না। তিনি এগিয়ে এসে নবী করীম সা.-এর সম্মুখে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু নবীজির দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন ও নিজের উভয় হাত নবীজির উরুর ওপর রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন: “হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন।” রাসুলুল্লাহ সা. বললেন: “ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা. আল্লাহর রাসুল; নামাজ কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করা।” লোকটি বলল: “আপনি সত্য বলেছেন।” বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাঁর আচরণে বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তার সত্যায়ন করছেন! এরপর তিনি বললেন: “আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন।” নবীজি বললেন: “ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, শেষ দিবস এবং তকদীরের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।” তিনি বললেন: “আপনি সত্য বলেছেন।” এরপর বললেন: “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।” নবীজি বললেন: “ইহসান হলো তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে প্রত্যক্ষ দেখতে পাচ্ছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চিত জানবে যে তিনি তোমাকে দেখছেন।” অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন।” নবীজি বললেন: “যাঁকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন।” তিনি বললেন: “তবে আমাকে কিয়ামতের আলামতসমূহ বলে দিন।” নবীজি বললেন: “দাসী তার নিজের মনিবকে প্রসব করবে; এবং তুমি দেখতে পাবে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, নিঃস্ব মেষপালকরা আকাশচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণে পরস্পরে প্রতিযোগিতা করছে।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
طَلَعَ আবির্ভূত হলো / উদিত হলো ط – ل – ع মাযী মা’রূফ, ওয়াহেদ মুযাক্কার ফি’লে মাযী, রাজুলুন এর ফা’য়িল
الْإِحْسَانِ উত্তম আচরণ / চরম নিষ্ঠা ح – س – ن মাসদার, বাবে ইফ’আল হরফে জার ‘আন’-এর কারণে মাজরূর
أَمَارَاتِهَا তার আলামত বা নিদর্শনসমূহ أ – م – ر জমা মুয়ান্নাস সালেম, মুদাফ হরফে জার ‘আন’-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
الْعَالَةَ নিঃস্ব ও অভাবগ্রস্তরা ع – ي – ل ইসমু জামা’, সিফাত উরাতাহ শব্দের ওপর মাতূফ হিসেবে মানসূব
يَتَطَاوَلُونَ তারা প্রতিযোগিতা করছে ط – و – ل মুযারে মা’রূফ, বাবে তাফা’উল জুমলায়ে হালিয়া হিসেবে মাহাল্লান মানসূব

(أ) بين سبب ورود الحديث الشريف –

[(ক) হাদীসটির শানে বুরূদ বা পটভূমি বর্ণনা করুন।]

এই মহিমান্বিত হাদীসটিকে মুহাদ্দিসীনে কিরাম ‘উম্মুস সুন্নাহ’ (সুন্নাহর জননী) আখ্যা দিয়েছেন। নবীজি সা.-এর জীবনের শেষভাগে সাহাবিরা যাতে এক মজলিসেই সমগ্র দ্বীনের রূপরেখা প্রত্যক্ষ করতে পারেন, সেজন্য স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরীল আ.-কে একজন আগন্তুক আরবীর বেশে প্রেরণ করেছিলেন। হাদিসের শেষে রাসুলুল্লাহ সা. উমর রা.-কে বলেছিলেন: “হে উমর! ইনি ছিলেন জিবরীল, যিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখানোর জন্য এসেছিলেন।”

(ب) ما معنى الاحسان لغة وشرعا؟ بين –

[(খ) ইহসানের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? স্পষ্ট করুন।]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘ইহসান’ (الإحسان) শব্দের অর্থ সৌন্দর্যমণ্ডিত করা, নিষ্ঠার সাথে নিখুঁতভাবে সম্পাদন করা এবং আন্তরিক হওয়া।
২. পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদতকে লৌকিকতা মুক্ত করে পূর্ণ মনোযোগ ও একাগ্রতার সাথে এমনভাবে আল্লাহর সামনে নিজেকে উপস্থিত করা যেন বান্দা আল্লাহকে দেখছে, একেই ইহসান বলা হয়। ইহসানের দুটি স্তর রয়েছে: সর্বোচ্চ স্তর হলো মুশাহাদা (আল্লাহকে দেখার অনুভূতি) এবং দ্বিতীয় স্তর হলো মুরাকাবা (আল্লাহ আমাকে সর্বদা পর্যবেক্ষণ করছেন—এই দৃঢ় প্রত্যয়)।

(ج) ما الفرق بين الايمان والاسلام؟ بين –

[(গ) ঈমান ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্য কী? তুলে ধরুন।]

১. ঐক্যগত দিক: যখন ঈমান ও ইসলাম পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন একটি অপরটির অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২. পার্থক্যগত দিক: যখন দুটি শব্দ একত্রে ব্যবহৃত হয় (যেমন এই হাদিসে), তখন ‘ইসলাম’ দ্বারা বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রকাশ্য আমলকে (যেমন নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ) বোঝানো হয়। আর ‘ঈমান’ দ্বারা অন্তরের গূঢ় ও অদৃশ্য বিশ্বাসকে (আল্লাহ, ফেরেশতা, আখিরাত, তকদীর) বোঝানো হয়। প্রতিটি মুমিনই মুসলিম, কিন্তু প্রতিটি মুসলিম প্রকৃত মুমিন নাও হতে পারে (যেমন সুরা হুজুরাতের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে)।

(د) لماذا قال النبى صلى الله عليه وسلم ما المسئول عنها باعلم من السائل؟

[(ঘ) রাসুলুল্লাহ সা. কেন বলেছিলেন “যাঁকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জানেন না”?]

জিবরীল আ. যখন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, তখন রাসুলুল্লাহ সা. এই উত্তর দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কিয়ামতের সুনির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ সৃষ্টির কারও জানা নেই—না প্রধান ফেরেশতা জিবরীল আ.-এর, না সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল সা.-এর। এই জ্ঞান একান্তই মহান আল্লাহর ইলমে গায়েবের অন্তর্ভুক্ত (সুরা লুকমান: ৩৪)। এছাড়া এর দ্বারা শিক্ষকদের এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, অজানা বিষয়ে ‘লা আদরী’ (আমি জানি না) বলা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং তা ইলমের অংশ।

(هـ) اشرح قوله عليه السلام : ان تلد الامة ربتها –

[(ঙ) রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী “দাসী তার নিজের মনিবকে প্রসব করবে”—এর ব্যাখ্যা করুন।]

মুহাদ্দিসীনে কিরাম এর কয়েকটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
১. কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে মুসলিমদের বিজয় বৃদ্ধি পাবে এবং যুদ্ধবন্দিনী দাসীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানরা উত্তরাধিকারসূত্রে স্বাধীন মনিব হবে এবং দাসী মায়ের ওপর কর্তৃত্ব খাটাবে।
২. শেষ জামানায় পিতা-মাতার চরম অবাধ্যতা দেখা দেবে; সন্তানরা পিতা-মাতার সাথে এমন রূঢ় ও উদ্ধত আচরণ করবে যেন মা তাদের দাসী এবং সন্তান তাদের হুকুমদাতা মনিব। এটি পারিবারিক অনুশাসন ভেঙে পড়ার একটি রূপক পূর্বাভাস।

٢- عن ابى هريرة (رض) ان اعرابيا جاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم دلنى على عمل اذا عملته دخلت الجنة قال تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلوة المكتوبة وتؤدى الزكوة المفروضة وتصوم رمضان قال والذى نفسى بيده لا ازيد على هذا شيئا ابدا ولا انقص منه – فلما ولى قال النبى صلى الله عليه وسلم من سره ان ينظر الى رجل من اهل الجنة فلينظر الى هذا –

[২. হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল: “হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি সহজ আমলের পথ প্রদর্শন করুন, যা পালন করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।” রাসুলুল্লাহ সা. বললেন: “তুমি একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না; নির্ধারিত ফরজ নামাজসমূহ কায়েম করবে; ধার্যকৃত ফরজ যাকাত আদায় করবে এবং রমজানের রোজা পালন করবে।” লোকটি বলল: “সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি এর চেয়ে কোনো কিছু বৃদ্ধিও করব না এবং এর চেয়ে কোনো কিছু হ্রাসও করব না।” অতঃপর যখন লোকটি ফিরে চলে গেল, তখন নবী করীম সা. ইরশাদ করলেন: “যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতী মানুষকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই লোকটিকে দেখে নেয়!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أَعْرَابِيًّا একজন পল্লীবাসী বেদুঈন ع – ر – ب ইসমু জিন্স, মুফরাদ ইন্না-এর ইসম হিসেবে মানসূব বিল-ফাতহাহ
الْمَكْتُوبَةَ ফরজ ও নির্ধারিতকৃত ك – ت – ب ইসমে মাফ’উল, মুয়ান্নাস আস-সালাত শব্দের সিফাত হিসেবে মানসূব
أَنْقُصُ আমি কম করব / হ্রাস করব ن – ق – ص মুযারে মা’রূফ, ওয়াহেদ মুতাকাল্লিম লা নাফী সহ ফি’লে মুযারে মারফূ’
وَلَّى সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল / ফিরে গেল و – ل – ي মাযী মা’রূফ, বাবে তাফঈল লাম্মা শর্তিয়ার জাযা, ফি’লে মাযী
سَرَّهُ তাকে আনন্দিত করল س – ر – ر মাযী মা’রূফ, মুদা’আফ মান শর্তিয়ার ফি’লে শর্ত, হা মাফ’উল

(أ) ما معنى الصلوة؟ ومتى فرضت الصلوة؟

[(ক) সালাতের অর্থ কী? এবং সালাত কখন ফরজ হয়েছিল?]

১. অর্থ: সালাতের আভিধানিক অর্থ দোয়া, তাসবীহ ও ক্ষমা প্রার্থনা। পরিভাষায় নির্দিষ্ট আরকান ও শর্তসাপেক্ষে আল্লাহ নির্ধারিত পদ্ধতিতে সম্পাদিত ইবাদত।
২. ফরজ হওয়ার সময়কাল: নবুওয়তের দশম বা একাদশ বর্ষে ঐতিহাসিক মিরাজের রজনীতে আসমানে সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ সা.-কে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ফরজ বিধান প্রদান করা হয়েছিল। হিজরতের পূর্বে মক্কী জীবনের শেষভাগে এটি পরিপূর্ণ রূপ লাভ করে।

(ب) ما المراد بقوله : “لا ازيد على هذا ولا انقص منه”؟

[(খ) “আমি এর চেয়ে বৃদ্ধিও করব না এবং হ্রাসও করব না”—উক্তিটির তাৎপর্য কী?]

বেদুঈন লোকটির এই বক্তব্যের অর্থ হলো, তিনি কোনো প্রকার নফল বা অতিরিক্ত আমল না করলেও শরীয়তের ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ একনিষ্ঠভাবে পরিপূর্ণ পালন করবেন এবং কোনো হারামে লিপ্ত হবেন না। রাসুলুল্লাহ সা. এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, যদি কোনো মুমিন বান্দা কোনো নফল না-ও পড়তে পারে, কিন্তু সে যদি সমস্ত ফরজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে এবং কবিরা গুনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে, তবে সে জান্নাতের নিশ্চিত হকদার হবে।

(ج) من هو الاعرابى؟ وما كان اسمه؟

[(গ) উক্ত বেদুঈন সাহাবি কে ছিলেন? এবং তাঁর নাম কী ছিল?]

মুহাদ্দিসীনে কিরাম ও ঐতিহাসিকগণের গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে যে, এই বেদুঈন সাহাবি ছিলেন বনু নুজায়ের বা বনু আসাদ গোত্রের বিশিষ্ট সাহাবি হযরত দ্বিমাম ইবনে সা’লাবাহ রা. অথবা আবু আইয়্যুব নামীয় জনৈক আনসারী সাহাবি। তবে অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারদের মতে তিনি ছিলেন হযরত দ্বিমাম ইবনে সা’লাবাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু, যিনি অত্যন্ত নির্ভীক ও স্পষ্টভাষী ছিলেন।

(د) عرف الشرك ثم بين اقسامه –

[(ঘ) শিরকের পরিচয় দিন এবং এর প্রকারভেদ বর্ণনা করুন।]

শিরক হলো মহান আল্লাহর রুবূবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত বা সিফাতে অন্য কোনো সৃষ্টিকে অংশীদার সাব্যস্ত করা। শিরক প্রধানত দুই প্রকার:
১. শিরকে আকবার (বড় শিরক): মূর্তিপূজা করা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে সেজদা বা কুরবানি করা, অথবা কাউকে গায়েবের একক মালিক মনে করা। এই শিরক করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে হয়।
২. শিরকে আসগার (ছোট শিরক): লোকদেখানো ইবাদত (রিয়া), আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম খাওয়া ইত্যাদি। এটি চরম কবিরা গুনাহ হলেও ব্যক্তি চিরতরে কাফের হয়ে যায় না।

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا ابى هريرة (رض) –

[(ঙ) হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত লিখুন।]

হযরত আবু হুরায়রা রা. ছিলেন মদিনার মসজিদে নববীর চত্বরে আসহাবে সুফফার শীর্ষ মুয়াল্লিম ও হাদীসের অতন্দ্র প্রহরী। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি পেটে পাথর বেঁধে নবীজির প্রতিটি বাণী মুখস্থ করেছেন। তিনি ৫,৩৭৪টি হাদীস বর্ণনা করে মুসলিম উম্মাহকে চিরঋণী করে গেছেন।

٣- عن ابى سعيد الخدرى (رض) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال ليس فيما دون خمسة اوسق صدقة ولا فيما دون خمسة ذود صدقة ولا فيما دون خمسة اواق صدقة –

[৩. হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “পাঁচ ওসাকের কম খাদ্যশস্যে কোনো যাকাত নেই; পাঁচটির কম উটে কোনো যাকাত নেই; এবং পাঁচ উকিয়ার কম রূপায় কোনো যাকাত নেই।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أَوْسُقٍ ওসাকসমূহ (পরিমাপের পাত্র) و – س – ق জমা মুকাসসার, ওজনে আফ’উল মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর বিল-কাসরাহ
ذَوْدٍ উটের ক্ষুদ্র পাল (৩ থেকে ৯টি) ذ – و – د ইসমু জিন্স, মুদাফ ইলাইহ খামসাহ সংখ্যার তাময়ীয ও মুদাফ ইলাইহ
أَوَاقٍ উকিয়াসমূহ (রৌপ্যের ওজন) و – ق – ي জমা মুকাসসার, মানকূস মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর তাকদীরান
صَدَقَةٌ যাকাত / নির্ধারিত সাদকা ص – د – ق ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস লাইসা ক্রিয়ার ইসম মুয়াখখার হিসেবে মারফূ’
دُونَ কম / নিম্নে د – و – ن যরফ, মুদাফ হরফে জার ‘ফী’-এর কারণে মাজরূর

(أ) ما معنى الزكاة لغة وشرعا؟ ومتى فرضت؟ وما الحكمة فى مشروعيتها؟

[(ক) যাকাতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এটি কখন ফরজ হয়েছিল? এবং এর বিধানের হেকমত কী?]

১. অর্থ: ‘যাকাত’ (الزكاة) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রবৃদ্ধি সাধন। পরিভাষায় নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর থেকে শরীয়ত নির্ধারিত অংশ নির্দিষ্ট আটটি খাতের হকদারদের মালিক বানিয়ে দেওয়াকে যাকাত বলে।
২. ফরজিয়াতের সময়: হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রমজানের রোজা ও সদকাতুল ফিতরের সাথে সাথে যাকাত ফরজ করা হয়।
৩. হিকমত: যাকাতের মূল হিকমত হলো সমাজের দারিদ্র্য বিমোচন, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস, পুঁজিপতিদের লোভ ও কৃপণতা দূর করা এবং অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বজায় রেখে সার্বিক বরকত নিশ্চিত করা।

(ب) على من تجب الزكاة؟ وما الفرق بين نصاب الزكاة وصدقة الفطر؟

[(খ) কার ওপর যাকাত ওয়াজিব? এবং যাকাতের নিসাব ও সদকাতুল ফিতরের নিসাবের মধ্যে পার্থক্য কী?]

১. যাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত: স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম হওয়া; নিসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদের মালিক হওয়া; সম্পদটি ঋণমুক্ত হওয়া ও মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া; এবং সেই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক চন্দ্রবছর অতিক্রান্ত হওয়া।
২. যাকাত ও ফিতরার নিসাবের পার্থক্য: যাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদ বর্ধনশীল (নামী) হওয়া এবং এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত। কিন্তু সদকাতুল ফিতরের জন্য সম্পদ বর্ধনশীল হওয়া বা এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়; ঈদের দিন সকালে কারও নিকট মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা সমমূল্যের যেকোনো সম্পদ থাকলে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হয়।

(ج) بين مصارف الزكاة فى ضوء القرآن الكريم –

[(গ) পবিত্র কুরআনের আলোকে যাকাতের খাতসমূহ বর্ণনা করুন।]

সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাকাতের আটটি খাত নির্দিষ্ট করা হয়েছে: ১. ফকীর, ২. মিসকীন, ৩. যাকাত সংগ্রাহক কর্মচারী, ৪. নওমুসলিমদের মন জয় করা, ৫. ক্রীতদাস মুক্তি, ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ, ৭. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও দ্বীনী ইলম অর্জনকারী, এবং ৮. নিঃস্ব মুসাফির।

(د) ما حكم أداء الزكاة قبل وقتها؟ وما الخلاف فى شرط التمليك لاداء الزكاة؟

[(ঘ) সময়ের পূর্বে অগ্রিম যাকাত আদায়ের বিধান কী? এবং যাকাত আদায়ে ‘তামলীক’ (মালিক বানিয়ে দেওয়া) শর্ত হওয়ার বিষয়ে মতভেদ কী?]

১. আগাম যাকাত: নিসাবের মালিক হওয়ার পর বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যদি কেউ দরিদ্রদের প্রয়োজনে এক বা একাধিক বছরের যাকাত অগ্রিম প্রদান করে দেয়, তবে জমহুর ফুকাহাদের (হানাফী, শাফিয়ী, হাম্বলী) মতে তা জায়েজ ও আদায় হয়ে যাবে।
২. শর্তে তামলীক (মালিকানা প্রদান): হানাফী মাযহাব মতে যাকাত আদায়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অভাবী ব্যক্তিকে সম্পদের পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়া (তামলীক) অপরিহার্য শর্ত। তাই সরাসরি মসজিদ নির্মাণ, কবরস্থান তৈরি বা কোনো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে মালিকানা ছাড়া যাকাতের অর্থ ব্যয় করলে যাকাত আদায় হবে না। তবে আধুনিক কিছু ফকীহ দ্বীনের বৃহত্তর প্রচার ও সুরক্ষায় তামলীকের পরিধি কিছুটা প্রশস্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا ابى سعيد الخدرى (رض) –

[(ঙ) হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লিখুন।]

হযরত আবু সাঈদ সা’দ ইবনে মালিক আল-খুদরী রা. ছিলেন মদিনার বিশিষ্ট আনসারী সাহাবি। উহুদ যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স কম থাকায় নবীজি তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি; পরবর্তীতে খন্দকসহ ১২টি গাযওয়ায় তিনি বীর বিক্রমে অংশ নেন। তিনি ছিলেন উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ সাহাবি এবং ১,১৭০টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৭৪ হিজরীতে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

٤- عن ابن عمر (رض) قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم فرض زكاة الفطر من رمضان على الناس صاعا من تمر او صاعا من شعير على كل حر او عبد ذكر او انثى من المسلمين –

[৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসের সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলিম—স্বাধীন হোক বা দাস, পুরুষ হোক বা নারী, ছোট হোক বা বড়—সকলের ওপর এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব নির্ধারণ করে ওয়াজিব করেছেন।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
فَرَضَ তিনি ধার্য ও ওয়াজিব করলেন ف – ر – ض মাযী মা’রূফ, ওয়াহেদ মুযাক্কার ফি’লে মাযী, রাসুলুল্লাহু এর ফা’য়িল
صَاعًا এক সা’ (নির্দিষ্ট পাত্র) ص – و – ع ইসমুল কায়ল (মাপের পাত্র) ফারাদা ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব
شَعِيْرٍ যব / বার্লি ش – ع – ر ইসমু জিন্স, মুদাফ ইলাইহ হরফে জার ‘মিন’-এর মাজরূর বিল-কাসরাহ
حُرٍّ স্বাধীন ব্যক্তি ح – ر – ر ইসম মুফরাদ, সিফাত কুল্লি শব্দের মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর
الْمُسْلِمِيْنَ মুসলিমগণ س – ل – م ইসমে ফায়িল, জমা মুযাক্কার সালেম হরফে জার ‘মিন’-এর মাজরূর বিল-ইয়া

(أ) عرف الصاع مع بيان الاختلاف فيه – بين قدره فى كيلو غرام –

[(ক) ‘সা’ (الصاع)-এর পরিচয় দিন এবং এ সংক্রান্ত মতভেদ উল্লেখ করুন। কিলোগ্রামে এর পরিমাণ কত তা সুস্পষ্ট করুন।]

১. সা’-এর পরিচয়: সা’ হলো রাসুলুল্লাহ সা.-এর যুগে মদিনায় প্রচলিত শুষ্ক খাদ্যশস্য পরিমাপের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক পাত্র (কায়ল), যা চার মুদ্দের (দুই হাতের অঞ্জলি) সমান।
২. আইম্মায়ে কিরামের মতভেদ:
– ইমাম আবু হানিফা রহ.: বাগদাদী রতলের হিসেবে এক সা’ হলো ৮ রতল (আট কুড়ি ছটাক)। আধুনিক আন্তর্জাতিক মেট্রিক পদ্ধতিতে এক সা’ সমপরিমাণ গমের ওজন প্রায় ৩ কেজি ২৭০ থেকে ৩ কেজি ৩২০ গ্রাম।
– ইমাম শাফিয়ী, মালেক ও আহমাদ রহ.: তাঁদের মতে এক সা’ হলো ৫ রতল ও এক তৃতীয়াংশ রতল। আধুনিক হিসেবে এর ওজন প্রায় ২ কেজি ৪০ থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম।
৩. গম দ্বারা আদায় করলে হানাফী মাযহাবে অর্ধ সা’ (প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং খেজুর, কিসমিস বা যব দ্বারা আদায় করলে পূর্ণ এক সা’ (প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) প্রদান করতে হয়।

(ب) ما الحكمة فى مشروعية صدقة الفطر؟

[(খ) সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করার অন্তর্নিহিত হেকমত কী?]

হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদিসে সদকাতুল ফিতরের দুটি প্রধান হিকমত বর্ণিত হয়েছে: ১. ‘তুহরাতান লিস সায়িম’—রোজাদারের মুখ থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বের হওয়া অনর্থক কথাবার্তা ও ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা ও পবিত্রতা অর্জন, এবং ২. ‘তু’মাতান লিল মাসাকীন’—ঈদের আনন্দের দিনে সমাজের দরিদ্র, এতিম ও নিঃস্ব মানুষদের ঘরে উত্তম খাদ্যের ব্যবস্থা করে তাদের মুখে হাসি ফোটানো।

(ج) على من تجب صدقة الفطر؟ وما هو مصرف صدقة الفطر؟

[(গ) সদকাতুল ফিতর কার ওপর ওয়াজিব? এবং সদকাতুল ফিতরের উপযুক্ত খাতসমূহ কী কী?]

যে মুসলিমের নিকট ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় নিজের ও পরিবারের মৌলিক ভরণপোষণের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার নিজের এবং তার নাবালেগ সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। যাকাতের নির্ধারিত খাতসমূহই সদকাতুল ফিতরের খাত, তবে এর মধ্যে দরিদ্র ও মিসকীনদের হক সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য।

(د) يدل الحديث على ان صدقة الفطر فريضة فما يقول الفقهاء فيه؟ بين –

[(ঘ) হাদিসের বাহ্যিক শব্দ সদকাতুল ফিতর ফরজ হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে, এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কিরাম কী বলেন? স্পষ্ট করুন।]

হাদিসে ‘ফারাদা’ শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় ইমাম শাফিয়ী, মালেক ও আহমাদ রহ. একে পরিভাষাগত ‘ফরজ’ বলেছেন। তবে হানাফী উসূল অনুযায়ী যেহেতু এর নির্দেশ খবরে ওয়াহেদ (একক সূত্রীয় হাদিস) দ্বারা প্রমাণিত এবং কুরআনের অকাট্য আয়াতে এর সুস্পষ্ট পরিমাণ নেই, তাই হানাফী মাযহাবে একে ‘ওয়াজিব’ বলা হয়। আমলের ক্ষেত্রে ফরজ ও ওয়াজিবের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, উভয়ের লঙ্ঘনই গুনাহের কাজ।

(هـ) حقق : قال – فرض – عبد – المسلمين –

[(ঙ) তাহকীক করুন: قال – فرض – عبد – المسلمين -]

– قَالَ (ক্বালা): ফি’লে মাযী মা’রূফ, বাবে নাসারা, মূলধাতু ق-و-ل (আজওয়াফে ওয়াবী)। অর্থ: তিনি বললেন।
– فَرَضَ (ফারাদা): ফি’লে মাযী মা’রূফ, বাবে যারাবা, মূলধাতু ف-ر-ض (সহীহ)। অর্থ: তিনি অবধারিত করলেন।
– عَبْدٍ (আব্দিন): ইসমু জামিদ মুফরাদ, জমা ইবাদ (عباد) ও আবীদ। মূলধাতু ع-ب-د। অর্থ: গোলাম বা দাস।
– الْمُسْلِمِيْنَ (আল-মুসলিমীন): ইসমে ফায়িল জমা মুযাক্কার সালেম, বাবে ইফ’আল, মূলধাতু س-ل-م। অর্থ: আত্মসমর্পণকারী মুসলিমগণ।

٥- عن ابى هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كان رمضان فتحت ابواب الرحمة وغلقت ابواب جهنم وسلسلت الشياطين –

[৫. হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “যখন মাহে রমজান আগমন করে, তখন রহমতের (অন্য বর্ণনায় জান্নাতের) দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ রুদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
فُتِّحَتْ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো ف – ت – ح মাযী মাজহূল, বাবে তাফঈল ফি’লে মাযী মাজহূল, তাকছীর অর্থে ব্যবহৃত
أَبْوَابُ দরজাসমূহ / তোরণসমূহ ب – و – ب জমা মুকাসসার, মুয়ান্নাস নায়েবে ফায়েল হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
غُلِّقَتْ দৃঢ়ভাবে বন্ধ করা হলো غ – ل – ق মাযী মাজহূল, বাবে তাফঈল ফি’লে মাযী মাজহূল, নায়েবে ফায়েল আবওয়াব
سُلْسِلَتْ শৃঙ্খলিত করা হলো س – ل – س – ل মাযী মাজহূল, রূবাঈ মুজাররাদ ফি’লে মাযী মাজহূল, আশ-শায়াতীন নায়েবে ফায়েল
الشَّيَاطِيْنُ শয়তানসমূহ / অবাধ্য জিনরা ش – ط – ن জমা মুকাসসার, ওজনে ফালাতীন নায়েবে ফায়েল হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ

(أ) ما معنى الصوم لغة وشرعا؟ ومتى فرض الصوم؟

[(ক) সাওম-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এবং রোজা কখন ফরজ হয়েছিল?]

সিয়ামের অর্থ নিবৃত থাকা। পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদতের নিয়তে পানাহার ও স্ত্রীসম্ভোগ থেকে বিরত থাকা। ২য় হিজরীর শাবান মাসে এটি ফরজ হয়।

(ب) اشرح قوله عليه السلام : فتحت ابواب الرحمة وغلقت ابواب جهنم –

[(খ) রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী: “রহমতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়”—এর ব্যাখ্যা করুন।]

মুহাদ্দিসীনে কিরামের মতে এর দুটি মর্মার্থ রয়েছে:
১. বাস্তব অর্থ: রমজান মাসে প্রকৃত অর্থেই জান্নাতের আটটি তোরণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় যাতে বান্দার নেক আমল সহজে আরশে পৌঁছে এবং জাহান্নামের প্রবেশপথ বন্ধ থাকে।
২. রূপক অর্থ: রমজানে নেক আমলের পথ সহজ ও অবারিত হয়ে যায়, জান্নাতে যাওয়ার পাথেয় বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহের পথসমূহ সংকুচিত হয়ে যায়।

(ج) اذا سلسلت الشياطين فكيف يذنب الناس فى رمضان؟

[(গ) রমজানে যদি শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়, তবে মানুষ কীভাবে রমজান মাসে গুনাহ করে?]

এটি একটি গভীর চিন্তামূলক প্রশ্ন। উলামায়ে কিরাম এর তিনটি চমৎকার উত্তর দিয়েছেন:
১. মারাদাতুশ শায়াতীন বন্দি হয়: হাদিসের অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে ‘মারাদাতুল জিন’ অর্থাৎ বড় ও হিংস্র অবাধ্য শয়তানদের বন্দি করা হয়, ছোটখাটো প্ররোচনাকারীরা অবশিষ্ট থাকে।
২. নফসে আম্মারাহর কুপ্রভাব: মানুষের নিজের প্রবৃত্তি বা নফস (النفس الأمارة بالسوء) দীর্ঘ এগারো মাসের পাপের অভ্যাসে কলুষিত থাকে। শয়তানের অনুপস্থিতিতেও নফসের কুমন্ত্রণা মানুষকে গুনাহে তাড়িত করে।
৩. গুনাহের মাত্রা ব্যাপক হ্রাস: রমজানে সার্বিকভাবে সমাজ থেকে অপরাধপ্রবণতা ও পাপাচার নাটকীয়ভাবে কমে যায়, যা শয়তান বন্দি থাকার প্রত্যক্ষ বাস্তব প্রমাণ।

(د) اكتب مقاصد مشروعية الصوم –

[(ঘ) রোজা ফরজ হওয়ার মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহ লিখুন।]

সিয়ামের প্রধান মাকসাদ বা উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি অর্জন করা (লা’আল্লাকুম তাত্তাকূন)। এছাড়া প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্তি, সহমর্মিতা শিক্ষা এবং কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই রোযার প্রধান লক্ষ্য।

(هـ) ما هو يوم الشك؟ وما حكم الصوم فيه؟

[(ঙ) ইয়াউমুশ শাক্ক (সন্দেহের দিন) কী? এবং এ দিনে রোজা রাখার হুকুম কী?]

২৯শে শাবান সন্ধ্যায় মেঘ বা কুয়াশার কারণে যদি চাঁদ দেখা না যায় এবং নিশ্চিত হওয়া না যায় যে পরদিন শাবানের ৩০ তারিখ নাকি রমজানের ১ তারিখ, তবে সেই দিনটিকে ‘ইয়াউমুশ শাক্ক’ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ সা. সন্দেহের দিনে রমজানের নিয়তে রোজা রাখতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তবে কারও যদি পূর্ব থেকেই নিয়মিত নফল রোজা রাখার অভ্যাস থাকে, তবে সে নফল হিসেবে রাখতে পারে।

٦- عن ابن عمر (رض) ان النبى صلى الله عليه وسلم كان يعتكف فى العشر الاواخر من رمضان –

[৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসের শেষ দশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ই’তিকাফ করতেন।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
يَعْتَكِفُ তিনি ইতিকাফ করতেন ع – ك – ف মুযারে মা’রূফ, বাবে ইফতি’আল কানা ক্রিয়ার খবর হিসেবে মাহাল্লান মানসূব
الْعَشْرِ দশক (শেষ দশ দিন) ع – ش – ر ইসমুল আদাদ, মুযাক্কার হরফে জার ‘ফী’-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
الأَوَاخِرِ শেষভাগসমূহ / সমাপ্তিকাল أ – خ – ر জমা মুকাসসার, ওজনে ফাওয়া’ইল আল-আশর শব্দের সিফাত হিসেবে মাজরূর
رَمَضَانَ পবিত্র মাহে রমজান ر – م – ض ইসমু শাহর, গায়রে মুনসারিফ মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মানসূব ফাতহাহ দ্বারা
النَّبِيَّ নবী করীম সা. ن – ب – أ ইসম মুফরাদ, সিফাত মুশাহহাবা ইন্না-এর ইসম হিসেবে মানসূব বিল-ফাতহাহ

(أ) ما معنى الاعتكاف لغة وشرعا؟ وكم قسما له؟ بين –

[(ক) ই’তিকাফের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এবং এর কয়টি প্রকার রয়েছে? স্পষ্ট করুন।]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘ই’তিকাফ’ (الاعتكاف) শব্দের অর্থ অবস্থান করা, আবদ্ধ থাকা এবং কোনো স্থানে নিজেকে স্থির রাখা।
২. পারিভাষিক অর্থ: মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদতের নিয়তে কোনো মসজিদে নিজেকে সার্বক্ষণিকভাবে আবদ্ধ রাখাকে ই’তিকাফ বলা হয়।
৩. প্রকারভেদ: ই’তিকাফ প্রধানত তিন প্রকার:
– ওয়াজিব ই’তিকাফ: মান্নতের ই’তিকাফ।
– সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়াহ: রমজানের শেষ দশকের ই’তিকাফ। মহল্লার একজন আদায় করলে সকলে দায়মুক্ত হবে, অন্যথায় সকলে দায়ী থাকবে।
– নফল ই’তিকাফ: যেকোনো সময় যেকোনো মসজিদে স্বল্প সময়ের জন্য নিয়ত করে অবস্থান করা।

(ب) هل الصوم شرط لصحة الاعتكاف؟ بين اراء العلماء فيه –

[(খ) ই’তিকাফের বিশুদ্ধতার জন্য কি রোজা শর্ত? এ বিষয়ে উলামায়ে কিরামের মতামত তুলে ধরুন।]

১. হানাফী ও মালেকী মাযহাব: ওয়াজিব ও সুন্নাত ই’তিকাফের জন্য রোজা রাখা অপরিহার্য শর্ত। রোজা ছাড়া সুন্নাত বা ওয়াজিব ইতিকাফ শুদ্ধ হয় না।
২. শাফিয়ী মাযহাব ও ইমাম আহমাদ রহ.: নফল ই’তিকাফে রোজা শর্ত নয়, এমনকি রোজা ছাড়াও রাতে বা দিনে স্বল্প সময়ের জন্য মসজিদে ই’তিকাফের নিয়ত করা সহীহ।

(ج) لماذا اختار النبى (ص) العشر الاواخر من رمضان للاعتكاف؟

[(গ) রাসুলুল্লাহ সা. ই’তিকাফের জন্য কেন রমজানের শেষ দশককে বেছে নিয়েছিলেন?]

রাসুলুল্লাহ সা. প্রথম জীবনে রমজানের প্রথম দশকে এবং পরবর্তীতে মধ্যম দশকে ই’তিকাফ করেছিলেন। অতঃপর জিবরীল আ. এসে জানালেন যে আপনি যা অনুসন্ধান করছেন তা শেষ দশকে নিহিত রয়েছে। মূলত লাইলাতুল কদর (হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী) অনুসন্ধান ও তা পাওয়ার নিশ্চিত নিশ্চয়তা অর্জনের জন্যই নবীজি শেষ দশককে ই’তিকাফের জন্য বেছে নিয়েছিলেন।

(د) كم مرة اعتكف النبى (ص) فى حياته الطيبة؟

[(ঘ) রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর বরকতময় জীবনে কতবার ই’তিকাফ করেছিলেন?]

রাসুলুল্লাহ সা. মদিনায় হিজরতের পর ২য় হিজরী থেকে শুরু করে প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ই’তিকাফ পালন করেছেন। একবার সফরের কারণে রমজানে ইতিকাফ করতে না পেরে তিনি পরবর্তী শাওয়াল মাসে তা কাজা করেছিলেন। আর ওফাতের বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেছিলেন।

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا عبد الله بن عمر (رض) –

[(ঙ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত লিখুন।]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. ছিলেন আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর রা.-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহর আক্ষরিক ও হুবহু অনুসরণে সাহাবায়ে কিরামের মাঝে শীর্ষস্থানে অবস্থান করতেন। তিনি ২,৬৩০টি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ৭৩ হিজরীতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।

٧- عن عبد الله (رض) قال قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج فانه اغض للبصر واحصن للفرج ومن لم يستطع فعليه بالصوم فانه له وجاء –

[৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যুবকদের লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন: “হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য রাখে, সে যেন অনতিবিলম্বে বিবাহ করে নেয়। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সর্বাধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের সর্বোচ্চ পবিত্রতা রক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন নিয়মিত রোজা পালন করে; কেননা রোজা তার যৌন কামনার উত্তাপকে দমন করার মোক্ষম ঢালস্বরূপ।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
الْبَاءَةَ বিবাহের সামর্থ্য / মোহর ও ভরণপোষণ ب – و – أ ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস ইসতাত্বা’আ ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব
فَلْيَتَزَوَّجْ অতএব সে যেন বিবাহ করে ز – و – ج আমরে গায়েব, বাবে তাফা’উল জাযায়ে শর্ত, লামে আমরের কারণে মাজযূম
أَغَضُّ অধিক অবনতকারী غ – ض – ض ইসমে তাফযীল, মুদা’আফ ইন্না-এর খবর হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
أَحْصَنُ অধিক হেফাজতকারী / সুরক্ষক ح – ص – ن ইসমে তাফযীল, বাবে কারুমা আগাদ্বু শব্দের ওপর মা’তূফ হিসেবে মারফূ’
وِجَاءٌ বীর্যনালী ভোঁতা করা / কামনাশক ঢাল و – ج – أ ইসমুল মাসদার, ওজনে ফি’আল ইন্না-এর খবর হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ

(أ) اذكر مشروعية النكاح وشروطه وحكمه –

[(ক) বিবাহের বিধানের যৌক্তিকতা, এর শর্তাবলি ও শরয়ী হুকুম উল্লেখ করুন।]

১. শর্তাবলি: বর-কনে বৈধ হওয়া, উভয়ের সম্মতি এবং সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতি।
২. হুকুম: ব্যক্তির অবস্থাভেদে নিকাহর হুকুম পরিবর্তিত হয়:
– ফরজ: যে ব্যক্তি শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্যবান এবং বিবাহ না করলে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার নিশ্চিত আশঙ্কা থাকে。
– সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ: সাধারণ অবস্থায় যখন ব্যভিচারের নিশ্চিত আশঙ্কা নেই কিন্তু সামর্থ্য আছে।
– হারাম: যে ব্যক্তি জানে যে সে স্ত্রীর শারীরিক হক আদায়ে অক্ষম বা স্ত্রীর ওপর নিশ্চিত পাশবিক জুলুম করবে।

(ب) اشرح قوله عليه السلام : “فانه له وجاء” –

[(খ) রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী: “নিশ্চয়ই রোজা তার জন্য দমনকারী বা ঢালস্বরূপ”—এর ব্যাখ্যা করুন।]

‘উইজা’ (الوجاء) মূলত প্রাণীর অণ্ডকোষের শিরা থেঁতলে দিয়ে তাকে খোজা করা বা তার যৌনশক্তি নিঃশেষ করাকে বোঝায়। এখানে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ সিয়াম পালনের ফলে ক্ষুধার কারণে মানুষের রক্তের উত্তাপ কমে যায় এবং পাশবিক কামনা অবদমিত হয়ে লজ্জাস্থান পাপ থেকে সুরক্ষিত থাকে।

(ج) بين فوائد النكاح فى ضوء القران والسنة –

[(গ) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিবাহের উপকারিতা ও কল্যাণসমূহ তুলে ধরুন।]

বিবাহ মানবজাতির বংশরক্ষা করে, মানসিক প্রশান্তি (সাকীনাহ) দান করে, চরিত্র ও দৃষ্টির পবিত্রতা রক্ষা করে এবং একটি সুশৃঙ্খল পবিত্র সমাজ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে। পবিত্র কুরআনে একে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বলা হয়েছে (সুরা রূম: ২১)।

(د) الاشتغال بالنكاح افضل ام التخلى فى العبادات؟ بين –

[(ঘ) বিবাহে লিপ্ত হওয়া উত্তম নাকি সংসার ত্যাগ করে কেবল নফল ইবাদতে নিমগ্ন থাকা উত্তম? স্পষ্ট করুন।]

জমহুর আইম্মায়ে কিরাম ও হানাফী মাযহাব মতে, সংসার ত্যাগ করে একাকী সারাজীবন নফল নামাজ-রোজায় মগ্ন থাকার চেয়ে সুন্নাহসম্মত বিবাহ করে পরিবার গঠন করা এবং হালাল উপার্জনে রত থাকা বহুগুণে শ্রেষ্ঠ। রাসুলুল্লাহ সা. সংসারত্যাগী বৈরাগ্যবাদকে (রুহবানিয়্যাত) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন: “বিবাহ আমার সুন্নাত, যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে আমার দলভুক্ত নয়।”

(هـ) ما هى الخرافات والرسومات المروجة فى النكاح فى العصر الراهن؟ بين –

[(ঙ) বর্তমান যুগে বিবাহে প্রচলিত কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতিগুলো কী কী? বর্ণনা করুন।]

বর্তমান যুগে বিবাহকে জটিল ও ব্যয়বহুল করে ফেলা হয়েছে। যৌতুক দাবি করা, গায়ে হলুদ ও সঙ্গীতের নামে বেহায়াপনা, আলোকসজ্জা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বরে লক্ষ লক্ষ টাকা অপচয় করা এবং অহেতুক দেনমোহরের পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া মারাত্মক কুপ্রথা। ইসলাম নির্দেশ দেয়—সর্বাপেক্ষা বরকতময় বিবাহ হলো তাই, যা সবচেয়ে কম খরচে এবং সাদাসিধেভাবে সুন্নাহ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।

مجموعة (ب) : المقالات التاريخية والمناهج العلمية (الدرجة – ২০ x ১ = ২০)

(أجب عن سؤال واحد مما يلى)

٨- اكتب ترجمة الامام مسلم رحمه الله مع بيان مكانته بين المحدثين –

[৮. ইমাম মুসলিম রহ.-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী লিখুন এবং মুহাদ্দিসদের মাঝে তাঁর অনন্য মর্যাদা ও অবস্থান স্পষ্ট করুন।]

নাম ও জন্মপরিচয়:
আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী রহ. ২০৪ বা ২০৬ হিজরীতে খোরাসানের সুবিখ্যাত ইলমী মারকায নিশাপুরে এক সম্ভ্রান্ত আরব কুরাইশী বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল অত্যন্ত আল্লাহভীরু, সম্ভ্রান্ত এবং ইলমে দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠভাবে অনুরক্ত। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত মার্জিত স্বভাব ও প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন।

ইলমী সফর ও উস্তাযবৃন্দের সান্নিধ্য:
ইমাম মুসলিম রহ. মাত্র চৌদ্দ বছর বয়স থেকে ইলমে হাদীসের ব্যাপক অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন। হাদীসের বিশুদ্ধ সনদ ও মারফূ’ রেওয়ায়েত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি তৎকালীন মুসলিম জাহানের প্রধান প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রে দীর্ঘ সফর করেন। তিনি হিজাযের পবিত্র মক্কা ও মদিনা, ইরাকের কুফা ও বসরা, তৎকালীন খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ, সিরিয়ার দামেশক, উত্তর আফ্রিকার মিশর এবং ইরানের রায় ও নিশাপুরের শীর্ষ মুহাদ্দিসদের দরবারে উপস্থিত হন। তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, ইমাম যুহলী এবং বিশেষ করে হাদীস সম্রাট ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী রহ.-এর সান্নিধ্য লাভ করেন। ইমাম বুখারীর প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি ছিল প্রবাদপ্রতিম। তিনি ইমাম বুখারীর কপালে পরম স্নেহে ও ভক্তিতে চুম্বন করে বলেছিলেন: “হে উস্তাযদের উস্তায, মুহাদ্দিসদের সরদার এবং হাদীসের জটিল ত্রুটি ও রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক! আমাকে আপনার চরণদ্বয় চুম্বন করার অনুমতি দিন!”

সহীহ মুসলিমের সংকলন ও মুহাদ্দিসদের মূল্যায়ন:
তিনি তাঁর মুখস্থ তিন লক্ষ হাদীসের সুবিশাল ভাণ্ডার থেকে সুদীর্ঘ পনেরো বছর নিরলস গবেষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর ‘আল-মুসনাদুস সহীহ’ (সহীহ মুসলিম) সংকলন করেন। তিনি কোনো হাদীস স্বীয় গ্রন্থে সন্নিবেশিত করার পর তৎকালীন শীর্ষ রিজালবিদ আবু যুরআ আর-রাযী রহ.-এর সামনে পেশ করতেন; আবু যুরআ যে হাদীসে সামান্যতম ত্রুটি বা কোনো রাবীর ব্যাপারে কোনো আপত্তি নির্দেশ করতেন, ইমাম মুসলিম তা নির্দ্বিধায় গ্রন্থ থেকে বাদ দিতেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ইমাম তিরমিযী, ইবনে খুযাইমা এবং আবু আওয়ানাহর মতো বহু জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিস রয়েছেন।

ইমাম মুসলিমের অমর গ্রন্থাবলি:
ইলমে হাদীসের বিভিন্ন শাখায় ইমাম মুসলিম রহ. অসংখ্য কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেছেন:
১. সহীহ মুসলিম (আল-মুসনাদুস সহীহ আল-মুখতাসার মিনাস সুনান)
২. কিতাবুত তাময়ীয (হাদীসের দোষত্রুটি যাচাইয়ের মূলনীতি)
৩. কিতাবুল কুনা ওয়াল আসমা (রাবীদের উপনাম ও আসল নামের কোষগ্রন্থ)
৪. কিতাবু তাবাকাতিত তাবেঈন (তাবেঈনদের মর্যাদাক্রম)
৫. কিতাবুল ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটির বিশ্লেষণ)
৬. কিতাবু আওহামিল মুহাদ্দিছীন (মুহাদ্দিসদের স্মারকভ্রমের পর্যালোচনা)

ইন্তেকাল:
এই মহান হাদীস সাধক ও যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম ২৬১ হিজরীর ২৫শে রজব রবিবার সন্ধ্যায় মাত্র ৫৭ বছর বয়সে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন এবং নিশাপুরের নাসরাবাদ নামক স্থানে তাঁকে পরম শ্রদ্ধায় দাফন করা হয়।

٩- وازن بين الصحيح لمسلم والصحيح للبخارى –

[৯. ইমাম মুসলিমের সহীহ মুসলিম এবং ইমাম বুখারীর সহীহ বুখারীর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরুন।]

ভূমিকা:
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম—এই দুই গ্রন্থকে যৌথভাবে ‘সহীহাইন’ বলা হয়। কুরআন মাজীদের পর এই দুটি কিতাবই মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও সমাদৃত গ্রন্থ। তবে কোন কিতাবটি অধিকতর শ্রেষ্ঠ, তা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে সূক্ষ্ম তুলনামূলক পর্যালোচনা রয়েছে।

সহীহ বুখারীর অগ্রাধিকারের কারণসমূহ:
জমহুর মুহাদ্দিসীন ও উলামায়ে কিরামের মতে সহীহ বুখারী সামগ্রিক বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহীহ মুসলিমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এর কারণসমূহ হলো:
১. সনদের কঠোর শর্ত: ইমাম বুখারী রাবী ও শায়খের মধ্যে কেবল সমসাময়িক হওয়া নয়, বরং উভয়ের সাক্ষাৎ অকাট্য প্রমাণিত হওয়াকে (সুবূতুল লিক্বা) শর্ত করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিম রহ. উভয়ের সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকাকেই (মু’আসারাহ মা’আ ইমকানিল লিক্বা) যথেষ্ট মনে করেছেন।
২. রাবীদের মানদণ্ড: ইমাম বুখারীর এককভাবে নির্বাচিত রাবী ৪৩৪ জন, যার মধ্যে সামান্য সমালোচিত মাত্র ৮০ জন। কিন্তু ইমাম মুসলিমের একক রাবী ৬২২ জন, যার মধ্যে সমালোচিত প্রায় ১৬০ জন।
৩. ফিকহী গভীরতা: ইমাম বুখারীর প্রতিটি অধ্যায় শিরোনাম ফিকহী ইজতিহাদের অনন্য নিদর্শন।

সহীহ মুসলিমের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিকসমূহ:
মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) ও স্পেনের কোনো কোনো মুহাদ্দিস (যেমন আবু আলী আন-নিশাপুরী ও ইবনে হাযম) সহীহ মুসলিমকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর কারণসমূহ হলো:
১. চমৎকার অধ্যায় বিন্যাস ও সংকলন শৈলী: ইমাম মুসলিম একটি হাদীসের সমস্ত সনদ, বিভিন্ন শব্দরূপ (আলফায) ও মত্নকে এক স্থানে একত্রিত করে উপস্থাপন করেছেন। ফলে গবেষকদের জন্য বিভিন্ন অধ্যায়ে খোঁজাখুঁজি করতে হয় না।
২. মৌলিক ভূমিকা (মুকাদ্দিমা): ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের শুরুতে হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতির ওপর এক অনন্য ও কালজয়ী ভূমিকা রচনা করেছেন, যা হাদীস বিজ্ঞানের এক অমূল্য সম্পদ।
৩. মুআল্লাক রেওয়ায়েত না থাকা: সহীহ বুখারীতে বহু মুআল্লাক (সনদহীন) রেওয়ায়েত থাকলেও সহীহ মুসলিমের মূল পাঠে এমন কোনো বিচ্ছিন্ন রেওয়ায়েত নেই।

উপসংহার:
হাফেয আবুল ফজল আল-মাকদিসী বলেন: “বিশুদ্ধতা ও সনদের প্রামাণিকতায় বুখারী শ্রেষ্ঠ, আর বিন্যাস ও সংকলন সৌন্দর্যে মুসলিম শ্রেষ্ঠ।” উম্মাহর সম্মিলিত ফয়সালা হলো উভয় কিতাবই সত্যের অকাট্য দলিল।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: কামিল হাদীস ৩য় পত্রের বিষয় ও বিষয় কোড কী?

উত্তর: কামিল হাদীস ৩য় পত্রের বিষয় হলো ‘আস সহীহু লিমুসলিম (প্রথম খণ্ড)’ এবং এর বিষয় কোড হলো 611203। পূর্ণমান ১০০ নম্বর।

প্রশ্ন ২: হাদীসে জিবরীলকে ‘উম্মুস সুন্নাহ’ বলা হয় কেন?

উত্তর: কারণ এই একক হাদীসের মধ্যেই ইসলাম, ঈমান, ইহসান এবং কিয়ামতের আলামতসহ সমগ্র দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা সংক্ষিপ্ত অথচ নির্ভুলভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রশ্ন ৩: খাদ্যশস্যে যাকাত ফরজ হওয়ার সর্বনিম্ন নিসাব কত?

উত্তর: খাদ্যশস্যে যাকাত (উশর) ফরজ হওয়ার সর্বনিম্ন নিসাব হলো পাঁচ ওসাক (خمسة أوسق), যা আধুনিক ওজনে প্রায় এক টন বা ২৪ মণ শস্যের সমপরিমাণ।

প্রশ্ন ৪: হানাফী মাযহাব মতে এক সা’-এর বর্তমান কিলোগ্রাম ওজন কত?

উত্তর: হানাফী মাযহাব মতে এক সা’ হলো ৮ রতলের সমপরিমাণ, যার বর্তমান আন্তর্জাতিক ওজন প্রায় ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম থেকে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম।

প্রশ্ন ৫: রোজা রাখার মাধ্যমে কীভাবে যৌনশক্তি অবদমিত হয়?

উত্তর: ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে শরীরে রক্তের উষ্ণতা হ্রাস পায় এবং প্রবৃত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা হাদিসের ভাষায় ‘উইজা’ বা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী ঢাল হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন ৬: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?

উত্তর: সনদের কঠোর শর্ত ও রাবীদের নির্ভরযোগ্যতার বিবেচনায় সহীহ বুখারী অগ্রগণ্য; পক্ষান্তরে হাদীসের সমস্ত সূত্রকে এক স্থানে সন্নিবেশিত করার বিন্যাস সৌন্দর্যে সহীহ মুসলিম অনন্য।