সুনানুন নাসাঈ ও মুওয়াত্তা মালেক ৫ম পত্র (Sunan an-Nasai & Muwatta Malik 5th Paper) – 611205, হাদীস – কামিল ২য় পর্ব পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৮৯ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস দ্বিতীয় পর্ব পরীক্ষা, ২০২৪
পঞ্চম পত্র
বিষয়: সুনানুন নাসাঈ ও মুওয়াত্তা মালেক [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: 611205 | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

[الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة -]

القسم الأول : السنن للامام النسائى (الدرجة – ৫০)

[أجب عن اثنين من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)]

مجموعة (أ) : الحديث والشرح (الدرجة – ২০ x ২ = ৪০)

(ترجم الأحاديث التالية مع التوضيح ثم أجب عن ثلاثة من الأسئلة الملحقة بكل حديث)

١- عن ابى هريرة (رض) عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : لا تشد الرحال الا الى ثلاثة مساجد : مسجد الحرام ومسجدى هذا ومسجد الاقصى –

[১. হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “ইবাদত ও বিশেষ বরকত অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের জন্য সওয়ারী প্রস্তুত করে সফর করা বৈধ নয়—মসজিদুল হারাম (মক্কার কাবা শরীফ), আমার এই মসজিদ (মদিনার মসজিদে নববী) এবং মসজিদুল আকসা (বাইতুল মুকাদ্দাস)।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
تُشَدُّ বাঁধা হয় / প্রস্তুত করা হয় ش – د – د মুযারে মাজহূল, ওয়াহেদ মুয়ান্নাস ফি’লে মুযারে মাজহূল, নাফী লা-এর মাদখূল
الرِّحَالُ উটের জিন / সফরের সামিয়ানা ر – ح – ل জমা মুকাসসার, ওজনে ফি’আল তুশাদ্দু ক্রিয়ার নায়েবে ফায়েল হিসেবে মারফূ’
ثَلاَثَةِ তিনটি সংখ্যা ث – ل – ث ইসমুল আদাদ, মুযাক্কার হরফে জার ‘ইলা’-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
مَسَاجِدَ মসজিদসমূহ س – ج – د ইসমু মাখান, জমা মুকাসসার মুদাফ ইলাইহ, গায়রে মুনসারিফ হওয়ায় ফাতহাহ
الأَقْصَى সুদূরবর্তী / প্রান্তিক ق – ص – و ইসমে তাফযীল, মুযাক্কার মাসজিদ শব্দের সিফাত হিসেবে মাজরূর তাকদীরান

(أ) اذكر قصة بناء الكعبة المشرفة بالإيجاز –

[(ক) সংক্ষেপে সম্মানিত কাবা ঘর নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করুন।]

পবিত্র কাবা হলো পৃথিবীর বুকে মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্মিত সর্বপ্রথম গৃহ (সুরা আল-ইমরান: ৯৬)। মুফাসসিরদের মতে সর্বপ্রথম ফেরেশতাগণ এবং পরবর্তীতে হযরত আদম আ. এর ভিত্তি স্থাপন করেন। নূহ আ.-এর প্লাবনে তা বিলুপ্ত হলে মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম আ. স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল আ.-কে সাথে নিয়ে প্রাচীন ভিত্তির ওপর পুনরায় কাবা গৃহ পুনর্নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়তপূর্ব ৩৫ বছর বয়সে কুরাইশরা এবং ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সংস্কার সাধন করেন।

(ب) ما حكم شد الرحال عند العلماء الى غير المساجد الثلاثة؟

[(খ) তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে ইবাদতের নিয়তে সফর বাঁধার ব্যাপারে উলামাদের বিধান কী?]

আইম্মায়ে কিরামের মতে, পৃথিবীতে বিশেষ সাওয়াব ও ফজিলতের স্থান হিসেবে কেবল এই তিনটি মসজিদকেই আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছেন। তাই এই তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো সাধারণ মসজিদ বা কোনো বিশেষ স্থানে ‘সেখানে নামাজ পড়লে বেশি সাওয়াব হবে’—এই নিয়তে সফর করা জায়েজ নয়। তবে পার্থিব প্রয়োজন, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্ঞানার্জন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা অথবা জিহাদের উদ্দেশ্যে যেকোনো স্থানে সফর করা সম্পূর্ণ বৈধ।

(ج) ما معنى المساجد لغة وشرعا؟ بين فضيلة بناء المسجد –

[(গ) মসজিদের আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ কী? মসজিদ নির্মাণের ফজিলত বর্ণনা করুন।]

১. অর্থ: ‘মসজিদ’ শব্দটি সিজদাহ থেকে নির্গত ইসমে যারফ বা স্থানবাচক বিশেষ্য, যার অর্থ সিজদা করার পবিত্র স্থান। পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওয়াকফকৃত যে ভবনে নিয়মিত জামাতে সালাত আদায় করা হয় তাকে মসজিদ বলে।
২. ফজিলত: রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার জন্য অনুরূপ একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করবেন” (সহীহ বুখারী)।

(د) متى فرضت الصلوة الخمسة؟

[(ঘ) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখন ফরজ হয়েছিল?]

নবুওয়তের দশম বা একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৭তম রজনীতে রাসুলুল্লাহ সা.-এর ঐতিহাসিক ইসরা ও মিরাজের সময়ে সিদরাতুল মুনতাহার ওপরে সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়।

(هـ) تحدث عن حكم السفر لزيارة قبور الصالحين –

[(ঙ) বুজুর্গ ও ওলীদের মাজার বা কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী সফরের শরয়ী হুকুম আলোচনা করুন।]

উলামায়ে কিরামের মাঝে এ বিষয়ে সূক্ষ্ম মতভেদ রয়েছে:
১. ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও হাম্বলী ফকীহগণ: কেবল কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী স্থানে বাহন প্রস্তুত করে সফর করা (শাদ্ দুর রিহাল) আলোচ্য হাদিসের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বিধায় তা জায়েজ নয়।
২. জমহুর উলামায়ে কিরাম (হানাফী, মালেকী, শাফিয়ী): আলোচ্য হাদিসের নিষেধাজ্ঞা কেবল মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নেককার বুজুর্গদের কবর জিয়ারত করা মৃত্যুর কথা স্মরণ ও আখেরাতের প্রেরণা দেয় বিধায় জিয়ারতের নিয়তে সফর করা মুস্তাহাব ও সওয়াবের কাজ; বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ সা.-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা সর্বসম্মতভাবে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আমল।

٢- عن ابن عمر قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قام الى الصلاة رفع يديه حتى تكونا حذو منكبيه ثم يكبر قال وكان يفعل ذلك حين يكبر للركوع ويفعل ذلك حين يرفع رأسه من الركوع ويقول سمع الله لمن حمده ولا يفعل ذلك فى السجود –

[২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করতেন এবং তাকবীর বলতেন। তিনি অনুরূপ করতেন যখন রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন ও বলতেন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’। তবে তিনি সেজদায় যাওয়ার সময় বা সেজদা থেকে ওঠার সময় এরূপ হাত উঠাতেন না।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
مَنْكِبَيْهِ তাঁর উভয় কাঁধদ্বয় ن – ك – ب ইসমুত তাছনিয়াহ (দ্বিবচন), মুদাফ হাযওয়া শব্দের মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর
رَأْسَهُ তাঁর মাথা মোবারক ر – أ – س ইসম মুফরাদ, মুযাক্কার ইয়ারফা’উ ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব
حِيْنَ যখন / যে সময়ে ح – ي – ن যরফুজ যামান, মুদাফ জুমলায়ে ফে’লিয়ার যরফ হিসেবে মানসূব
حَمِدَهُ তাঁর প্রশংসা করল ح – م – د মাযী মা’রূফ, বাবে সামিআ মান মাউসূলার ছিলা, হা মাফ’উল
السُّجُوْدِ সেজদাসমূহ / সিজদা করা س – ج – د ইসমুল মাসদার, মুযাক্কার হরফে জার ‘ফী’-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ

(أ) بين اختلاف العلماء فى رفع اليدين عند الركوع وعند الرفع من الركوع –

[(ক) রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফউল ইয়াদাইন করা নিয়ে আলেমদের মতভেদ বর্ণনা করুন।]

১. ইমাম শাফিয়ী ও ইমাম আহমাদ রহ.: তাকবীরে তাহরীমা ছাড়াও রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে ওঠার সময় উভয় হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত উঠানো (রফউল ইয়াদাইন) সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। দলিল: ইবনে উমর রা.-এর এই সহীহ হাদিস।
২. ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক রহ. (মালেকী মাযহাবের মশহুর রেওয়ায়েত): সালাতে কেবল প্রথম তাকবীরে তাহরীমার সময়েই হাত উঠানো সুন্নাত; রুকুতে যাওয়া ও ওঠার সময় হাত উঠানো সুন্নাত নয়। দলিল: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর সহীহ হাদিস—”আমি কি তোমাদের রাসুলুল্লাহ সা.-এর নামাজ কেমন ছিল তা দেখাব না? অতঃপর তিনি নামাজ পড়লেন এবং কেবল প্রথমবার ছাড়া আর কোনোবার হাত উঠালেন না” (সুনানে তিরমিযী ও নাসাঈ)। হানাফী ফকীহদের মতে প্রাথমিক যুগের রফউল ইয়াদাইন পরবর্তীতে রহিত হয়ে প্রশান্তির নামাজ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

(ب) ما معنى السجدة لغة وشرعا؟

[(খ) সিজদার শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী?]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘সাজদাহ’ (السجدة) শব্দের অর্থ চরম বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করা এবং কপাল মাটিতে অবনত করা।
২. পারিভাষিক অর্থ: মহান আল্লাহর চরম দাসত্ব ও ভক্তির প্রকাশে সাতটি অঙ্গের ওপর (কপাল-নাক, উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙুল) ভর দিয়ে মাটিতে মাথা রাখা।

(ج) بين حكم تحية المسجد التى ينبغى رعايتها لمن يدخل فى المسجد –

[(গ) মসজিদে প্রবেশকারীর জন্য তাহিয়্যাতুল মসজিদের হুকুম ও নিয়মাবলি বর্ণনা করুন।]

মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তির জন্য বসার পূর্বে দুই রাকাত ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন বসার পূর্বে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নেয়।” তবে মাকরূহ ওয়াক্তে (যেমন সূর্যোদয়, ঠিক দ্বিপ্রহর ও সূর্যাস্তের সময়) হানাফী মতে তা পড়া নিষিদ্ধ।

(د) بين اقوال العلماء فى مسئلة قراءة الفاتحة فى الصلاة –

[(ঘ) সালাতে সুরা ফাতিহা পাঠের বিষয়ে ফুকাহায়ে কিরামের অভিমতসমূহ স্পষ্ট করুন।]

১. ইমাম শাফিয়ী রহ.: ইমাম, মুক্তাদী ও একাকী নামাজী—সকলের জন্য প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়া ফরজ।
২. ইমাম আবু হানিফা রহ.: একাকী নামাজীর জন্য সুরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব; কিন্তু জামাতে মুক্তাদীর জন্য সুরা ফাতিহা পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও মাকরূহে তাহরীমী, ইমামের কিরাত মুক্তাদীর কিরাত হিসেবে যথেষ্ট (সুরা আরাফ: ২০৪)।
৩. ইমাম মালেক ও আহমাদ রহ.: সিররী (নীরব) নামাজে মুক্তাদী ফাতিহা পড়বে, তবে জাহরী (সশব্দ) নামাজে ইমামের কিরাত মনোযোগ দিয়ে শুনবে।

(هـ) اشرح قوله “ولا يفعل ذلك فى السجود” –

[(ঙ) “তিনি সিজদার ক্ষেত্রে এমনটি করতেন না”—এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করুন।]

এর দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, রাসুলুল্লাহ সা. সেজদায় যাওয়ার সময় বা সেজদা থেকে ওঠার সময় হাত উঠাতেন না। এটি অধিকাংশ সাহাবি ও মুহাদ্দিসের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা নামাজের মধ্যে অহেতুক অঙ্গ সঞ্চালন রোধের অন্যতম প্রমাণ।

٣- عن سعيد بن ابى سعيد عن ابيه انه سمع ابا سعيد الخدرى يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا وضعت الجنازة فاحتملها الرجال على اعناقهم فان كانت صالحة قالت قدمونى قدمونى وان كانت غير صالحة قالت يا ويلها الى اين تذهبون بها يسمع صوتها كل شيء إلا الانسان ولو سمعها الانسان لصعق –

[৩. সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী রা.-কে বলতে শুনেছেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “যখন জানাজার খাটিয়া রাখা হয় এবং পুরুষরা তা তাদের কাঁধের ওপর বহন করে নিয়ে যায়, তখন সেই মৃতদেহটি যদি নেককার ও পুণ্যবান হয়, তবে সে বলতে থাকে—’আমাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে চলো, আমাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে চলো!’ আর যদি সে পাপাচারী ও বদকার হয়, তবে সে আতঙ্কে চিৎকার করে বলতে থাকে—’হায় আমার ধ্বংস! তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?!’ মানুষ ছাড়া সৃষ্টিজগতের সমস্ত প্রাণী তার এই আর্তনাদ শুনতে পায়; আর যদি কোনো মানুষ তার সেই চিৎকার শুনতে পেত, তবে সে তৎক্ষণাৎ বেহুঁশ ও স্তব্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ত!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
الْجَنَازَةُ মৃতদেহ / জানাজার খাটিয়া ج – ن – ز ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস উদি’আত ক্রিয়ার নায়েবে ফায়েল হিসেবে মারফূ’
قَدِّمُوْنِيْ তোমরা আমাকে এগিয়ে নাও ق – د – م আমরে হাযির, বাবে তাফঈল ফি’লে আমর, নূনে বেকায়াহ ও ইয়া মাফ’উল
أَعْنَاقِهِمْ তাদের ঘাড়সমূহ / কাঁধসমূহ ع – ن – ق জমা মুকাসসার, ওজনে আফ’আল হরফে জার ‘আলা’-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
صَوْتَهَا তার আওয়াজ বা চিৎকার ص – و – ت ইসম মুফরাদ, মুদাফ ইলা যমীর ইয়াসমা’উ ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব
لَصَعِقَ অবশ্যই সে বেহুঁশ হয়ে যেত ص – ع – ق মাযী মা’রূফ, বাবে সামিআ লা জাযায়ে লাউ সহ ফি’লে মাযী

(أ) ما معنى الجنازة لغة وشرعا؟

[(ক) জানাজার আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ কী?]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘জানাযাহ’ (الجنازة) জীম অক্ষরে ফাতহাহ দিলে খাটিয়ার ওপর রক্ষিত মৃতদেহকে বোঝায়, আর জীমে কাসরাহ (জিনাযাহ) দিলে কেবল খাটিয়া বা বহনের সরঞ্জামকে বোঝায়।
২. পারিভাষিক অর্থ: কোনো মুসলিম মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত ও সম্মানের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট তাকবীর ও দোয়ার মাধ্যমে দাঁড়িয়ে যে বিশেষ ইবাদত সম্পন্ন করা হয়, তাকে সালাতুল জানাজা বলা হয়।

(ب) ما حكم صلاة الجنازة على الغائب؟

[(খ) গায়েবানা জানাজার নামাজের শরয়ী হুকুম কী?]

১. ইমাম শাফিয়ী ও ইমাম আহমাদ রহ.: কোনো দূরবর্তী স্থানে মুসলিম মারা গেলে এবং সেখানে তার জানাজা না হলে অথবা কোনো মহান ব্যক্তিত্বের জন্য গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ। দলিল: রাসুলুল্লাহ সা. আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশীর গায়েবানা জানাজা পড়েছিলেন।
২. ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক রহ.: সালাতুল জানাজার জন্য মৃতদেহ সামনে বিদ্যমান থাকা (হুজূরুল মাইয়্যিত) অন্যতম শর্ত। নাজ্জাশীর ঘটনা ছিল রাসুলুল্লাহ সা.-এর জন্য বিশেষ মু’জিযা, কারণ মহান আল্লাহ পর্দা তুলে নাজ্জাশীর খাটিয়া নবীজির চোখের সামনে উপস্থিত করেছিলেন। অতএব সাধারণ অবস্থায় গায়েবানা জানাজা পড়া হানাফী মাযহাবে জায়েজ নয়।

(ج) ما حكم صلاة الجنازة فى المسجد؟

[(গ) মসজিদের অভ্যন্তরে জানাজার নামাজ পড়ার হুকুম কী?]

১. ইমাম শাফিয়ী রহ.: মসজিদে জানাজা পড়া সম্পূর্ণ জায়েজ।
২. ইমাম আবু হানিফা রহ.: মসজিদের ভেতরে মৃতদেহ রেখে জানাজা পড়া মাকরূহে তাহরীমী। কারণ মসজিদ নির্মিত হয়েছে দৈনন্দিন নামাজ ও যিকিরের জন্য, কোনো অপবিত্রতা বা ভিড়ের কারণে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হওয়া অনুচিত। সাহাবায়ে কিরামের যুগে মসজিদের বাইরে নির্দিষ্ট জানাজাগাহে নামাজ আদায় করা হতো।

(د) هل يجوز ان يدفن الرجل والمرأة فى قبر واحد؟

[(ঘ) এক কবরে পুরুষ ও নারীকে একসাথে দাফন করা কি জায়েজ?]

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মৃত ব্যক্তির জন্য পৃথক কবর খনন করা ওয়াজিব। কোনো পুরুষ ও নারীকে একই কবরে একসাথে দাফন করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। তবে চরম যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো মারাত্মক সংকটকালে যদি স্থান বা লোকবলের তীব্র অভাব দেখা দেয়, তবে একই কবরে পুরুষকে সামনের দিকে এবং নারীকে পেছনে মাটি বা আড়াল দিয়ে দাফন করা জায়েজ (যেমন উহুদের যুদ্ধে সাহাবিদের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল)।

(هـ) هل يكون العذاب على الجسم ام على الروح؟ بين –

[(ঙ) কবরের আযাব কি কেবল দেহের ওপর হয় নাকি রুহের ওপরও হয়? স্পষ্ট করুন।]

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অকাট্য আকিদা অনুযায়ী, কবরের শান্তি ও শাস্তি আত্মা (রূহ) এবং দেহ (জাসাদ) উভয়ের ওপরই যৌথভাবে সংঘটিত হয়। মহান আল্লাহ পরকালীন জগতের কুদরতে মৃতদেহের সাথে রূহের এমন এক সূক্ষ্ম সংযোগ স্থাপন করেন, যার ফলে দেহ মাটির নিচে গলে গেলেও সে শাস্তির তীব্র যন্ত্রণা বা শান্তির সুবাস প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করতে পারে।

٤- عن الزهرى عن ابن المسيب عن ابى هريرة (رض) قال سأل رجل النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اى الاعمال أفضل قال الايمان بالله قال ثم ماذا قال الجهاد فى سبيل الله قال ثم ماذا قال ثم الحج المبرور –

[৪. ইমাম যুহরী রহ. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ. থেকে এবং তিনি হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন। এক সাহাবি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরজ করলেন: “হে আল্লাহর রাসুল! কোন আমলটি সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ?” নবীজি সা. বললেন: “আল্লাহর প্রতি অবিচল ঈমান আনয়ন করা।” লোকটি বলল: “অতঃপর কোনটি?” নবীজি বললেন: “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ করা।” লোকটি পুনরায় বলল: “অতঃপর কোনটি?” নবীজি ইরশাদ করলেন: “হজ্বে মাবরূর (আল্লাহর দরবারে কবুল ও নিষ্পাপ হজ) সম্পাদন করা।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أَيُّ কোনটি / কোন প্রকারের أ – ي – ي ইসমুল ইসতিফহাম, মুদাফ মুবতাদা হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
أَفْضَلُ সর্বাধিক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ف – ض – ل ইসমে তাফযীল, মুযাক্কার মুবতাদার খবর হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
الْمَبْرُورُ মাকবুল ও পুণ্যময় ب – ر – ر ইসমে মাফ’উল, মুদা’আফ আল-হাজ্জ শব্দের সিফাত হিসেবে মারফূ’
سَبِيْلِ পথ / রাস্তা س – ب – ل ইসম মুফরাদ, মুদাফ ইলাইহ হরফে জার ‘ফী’-এর কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
الإِيْمَانُ বিশ্বাস স্থাপন করা أ – م – ن মাসদার, বাবে ইফ’আল খবরে মুবতাদা মাহযূফ হিসেবে মারফূ’

(أ) ما معنى الحج لغة واصطلاحا؟

[(ক) হজের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী?]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘হজ’ (الحج) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো القصد বা কোনো সম্মানিত ও মহিমান্বিত স্থানের সংকল্প করা।
২. পারিভাষিক অর্থ: নির্দিষ্ট দিনসমূহে (যিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ) ইহরাম অবস্থায় মক্কার কাবা শরীফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়্যী এবং আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কার্যাবলি সম্পাদন করাকে হজ বলা হয়।

(ب) اكتب فرائض الحج وواجباته –

[(খ) হজের ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ উল্লেখ করুন।]

১. ফরজ ৩টি: ইহরাম পরিধান করা, ৯ই যিলহজ দুপুরের পর থেকে ১০ই যিলহজ সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা (উকূফে আরাফা), এবং তাওয়াফে যিয়ারত সম্পন্ন করা।
২. প্রধান ওয়াজিবসমূহ: মুযদালিফায় রাতযাপন, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সায়্যী করা, জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা, এবং বহিরাগতদের জন্য তাওয়াফে বিদা (বিদায়ী তাওয়াফ) সম্পন্ন করা।

(ج) ما معنى الجهاد لغة وشرعا؟

[(গ) জিহাদের আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ কী?]

জিহাদ অর্থ চরম ত্যাগ ও প্রচেষ্টা। পরিভাষায় আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং জুলুম ও অন্যায়ের প্রতিরোধে জান ও মাল উৎসর্গ করে আত্মসংগ্রাম করাকে জিহাদ বলা হয়।

(د) صف الحج المبرور وصفا واضحا –

[(ঘ) কবুল ও মাবরূর হজের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করুন।]

যে হজে কোনো প্রকার লোকদেখানো ভাব (রিয়া), অশ্লীলতা (রফাস), পাপাচার (ফুসুক) ও বিবাদ-বিসংবাদ থাকে না এবং যা একমাত্র হালাল উপার্জিত অর্থ দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পন্ন করা হয়, তাকে ‘হজ্বে মাবরূর’ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন: “হজ্বে মাবরূরের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত!” হজ্বে মাবরূরের বাস্তব আলামত হলো, হজের পর ব্যক্তির পার্থিব মোহের পরিবর্তে আখেরাতের প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধি পায়।

(هـ) هل يصح الحج عن الغير؟ بين بالادلة –

[(ঙ) বদলি হজ কি সহীহ? দলিলের আলোকে স্পষ্ট করুন।]

যদি কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়ে থাকে কিন্তু সে বার্ধক্য বা এমন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় যার কারণে নিজে মক্কায় যেতে সম্পূর্ণ অক্ষম, তবে সে নিজ খরচে অন্য কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে বদলি হজ করাতে পারে। হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদিসে এসেছে, খাছ’আম গোত্রের এক নারী তার বৃদ্ধ পিতার পক্ষ থেকে বদলি হজের অনুমতি চাইলে নবীজি সা. তাকে অনুমতি প্রদান করেছিলেন। তবে যিনি বদলি হজ করবেন, তাঁর নিজের ওপর ফরজ হজ পূর্বে আদায় করা থাকা উত্তম।

مجموعة (ب) : المقالات التاريخية والمناهج العلمية (الدرجة – ১০ x ১ = ১০)

[أجب عن واحد مما يلى]

٥- اكتب ترجمة الامام النسائى (رح) ثم بين منزلة سننه بين الصحاح الستة –

[৫. ইমাম নাসায়ী রহ.-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী লিখুন এবং সিহাহ সিত্তাহর মাঝে তাঁর সুনানের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরুন।]

নাম ও জন্মপরিচয়:
হাদীস শাস্ত্রের অনন্য ইমাম, হাফেযুল হাদিস হযরত ইমাম আবু আব্দুর রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী ইবনে সিনান আল-খোরাসানী আন-নাসাঈ রহ. ২১৫ হিজরীতে খোরাসানের সুবিখ্যাত জ্ঞানপীঠ ‘নাসা’ নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইলমে হাদীস ও ইলমে রিজালের অন্যতম প্রবাদপুরুষ।

ইলমী সফর ও উস্তাযবৃন্দ:
মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস কুতায়বা ইবনে সাঈদের দরবারে গমন করেন এবং একটানা এক বছর দুই মাস তাঁর সান্নিধ্যে থেকে হাদীস চর্চা করেন। পরবর্তীতে তিনি খোরাসান, ইরাক, হিজায, শাম, জাযিরা এবং মিশরে দীর্ঘ সফর করেন। তিনি ইমাম আবু দাউদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং ইমাম বুখারীর শীর্ষ ছাত্রদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। মিশরে তিনি দীর্ঘদিন ইলমে হাদীসের অধ্যাপনায় নিয়োজিত ছিলেন।

সুনানে নাসাঈর সংকলন ও সিহাহ সিত্তায় মর্যাদা:
তিনি প্রথমে ‘আস-সুনানুল কুবরা’ নামে একটি সুবিশাল হাদীস গ্রন্থ সংকলন করেন। যখন আমীর তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন যে এর সমস্ত হাদীস কি সহীহ? তিনি বললেন, না। তখন আমীর তাঁকে কেবল সহীহ হাদীস বাছাই করে দিতে অনুরোধ করলে তিনি কুবরা থেকে অতীব সতর্কতা ও কঠোর শর্তে যাচাই করে সংক্ষেপিত রূপ ‘আস-সুনানুস সাগীরাহ’ (যা ‘আল-মুজতাবা’ নামে পরিচিত) সংকলন করেন। সিহাহ সিত্তার মধ্যে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের পর সনদের বিশুদ্ধতার বিচারে সুনানে নাসাঈর মর্যাদা তৃতীয় স্থানে বলে বহু মুহাদ্দিস (যেমন ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী ও শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী) অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এতে যয়ীফ ও দুর্বল রাবীর সংখ্যা অন্যান্য সুনান গ্রন্থ অপেক্ষা অত্যন্ত নগণ্য।

শাহাদাত:
জীবনের শেষভাগে দামেশকে প্রবেশ করলে উমাইয়া অনুসারীরা তাঁর রচিত ‘খাসাইসু আলী’ গ্রন্থের কারণে হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর ফজিলত বর্ণনার জন্য তাঁর ওপর জুলুম করে। তাঁদের নির্মম প্রহারে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পবিত্র মক্কায় স্থানান্তরের পর ৩০৩ হিজরীতে এই মহান হাদীস সম্রাট শাহাদাতবরণ করেন।

٦- اكتب مقالة حول الموضوع : “الاعتكاف وفضيلته فى ضوء القران والسنة” –

[৬. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ‘ই’তিকাফ ও তার ফজিলত’ বিষয়ে একটি তথ্যবহুল গবেষণা প্রবন্ধ লিখুন।]

ভূমিকা ও শরয়ী ভিত্তি:
ই’তিকাফ হলো পার্থিব সমস্ত কোলাহল, পারিবারিক ব্যস্ততা ও বৈষয়িক মোহ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে একনিষ্ঠভাবে নিজেকে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য, ইবাদত ও ধ্যানে সঁপে দেওয়ার এক অনন্য আত্মিক সাধনা। এটি এমন এক মহিমান্বিত ইবাদত যা বান্দাকে সরাসরি তার স্রষ্টার সাথে নিবিড় প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম ও ইসমাইল আ.-কে লক্ষ্য করে নির্দেশ দিয়েছেন: “তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই’তিকাফকারী এবং রুকু ও সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো” (সুরা বাকারা: ১২৫)। এছাড়া সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে মসজিদে ই’তিকাফের বৈধতা ও নিয়মনীতি স্পষ্ট করে ইরশাদ হয়েছে: “আর তোমরা যখন মসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় থাকবে, তখন স্ত্রীদের সাথে সংগত হয়ো না।”

সুন্নাহর আলোকে ই’তিকাফের মর্যাদা ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর আমল:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার জীবনে প্রতি বছর মাহে রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ই’তিকাফ পালন করেছেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. বলেন: “রাসুলুল্লাহ সা. ওফাত পর্যন্ত প্রতি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, অতঃপর তাঁর ওফাতের পর তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণও এই আমল অব্যাহত রাখেন” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। হাদিস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে একদিন ই’তিকাফ করে, আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের আগুনের মাঝে তিনটি পরিখার সমপরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন, যার একটি পরিখা থেকে অপর পরিখার দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও অধিক বিশাল! অন্য বর্ণনায় এসেছে, রমজানের শেষ দশকে ই’তিকাফকারী ব্যক্তি দুটি হজ ও দুটি উমরা আদায়ের সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করে।

লাইলাতুল কদর অর্জন ও আত্মশুদ্ধির মোক্ষম মাধ্যম:
ই’তিকাফের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য ও মূল আকর্ষণ হলো ‘লাইলাতুল কদর’ বা মহিমান্বিত কদরের বরকতময় রজনী নিশ্চিতভাবে লাভ করা। রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে ইতিকাফকারী ব্যক্তি দিন-রাত অবিরাম সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও তাওবায় রত থাকার কারণে অত্যন্ত অনায়াসেই হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাতের অফুরন্ত মাগফিরাত ও রহমত লাভে ধন্য হয়। এর ফলে মানুষের অন্তর দুনিয়ার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে খাঁটি তাকওয়া ও ইখলাসের নূরে আলোকিত হয়ে ওঠে।

القسم الثانى : الموطأ للامام مالك (الدرجة – ৫০)

[أجب عن اثنين من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)]

مجموعة (أ) : الحديث والشرح (الدرجة – ২০ x ২ = ৪০)

(ترجم الأحاديث التالية مع التوضيح ثم أجب عن ثلاثة من الأسئلة الملحقة بكل حديث)

٧- حدثنى يحيى عن مالك عن ابى الزناد عن الاعرج عن أبي هريرة (رض) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : إذا استيقظ أحدكم من نومه فليغسل يده قبل أن يدخلها في وضوئه فإن أحدكم لا يدري أين باتت يده –

[৭. ইয়াহইয়া রহ. ইমাম মালেক রহ. থেকে, তিনি আবুয যিনাদ রহ. থেকে, তিনি আ’রাজ রহ. থেকে এবং তিনি হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন ওযুর পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর পূর্বে তা বাইরে উত্তমরূপে ধৌত করে নেয়। কেননা তোমাদের কারও জানা নেই যে ঘুমের মধ্যে তার হাত শরীরের কোথায় রাত কাটিয়েছে!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
اسْتَيْقَظَ সে ঘুম থেকে জাগল ي – ق – ظ মাযী মা’রূফ, বাবে ইসতিফ’আল শর্তীয় জুমলার ফি’লে শর্ত
فَلْيَغْسِلْ অতএব সে যেন ধৌত করে غ – س – ل আমরে গায়েব, লামে আমর সহ জাযায়ে শর্ত, মাজযূম বিস-সুকূন
يَدَهُ তার হাত ي – د – ي ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস সামাঈ ফালয়াগসিল ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব
يَدْرِيْ সে জানে / অবগত হয় د – ر – ي মুযারে মা’রূফ, নাকেসে ইয়াঈ লা নাফী সহ ফি’লে মুযারে মারফূ’ তাকদীরান
بَاتَتْ রাত যাপন করল ب – ي – ت মাযী মা’রূফ, বাবে কানা ফি’লে মাযী নাকেস, ইয়াদুহু এর ইসম

(أ) ما الحكمة فى غسل اليد بعد الاستيقاظ من النوم؟

[(ক) ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর অজুর পাত্রে হাত দেওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করার হেকমত কী?]

ঘুম হলো এক ধরনের অচেতন অবস্থা। মানুষ ঘুমের ঘোরে নিজের অজ্ঞাতসারে শরীরের যেকোনো স্থানে হাত স্পর্শ করতে পারে। বিশেষ করে উষ্ণ মরুপ্রধান অঞ্চলে ইস্তিন্জা বা ঘামের কারণে শরীরের নিম্নাংশে কোনো অপবিত্রতা লেগে থাকা বিচিত্র নয়। সেই হাত পাত্রের পানিতে ডুবালে সম্পূর্ণ পানি নাপাক বা সন্দেহযুক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসম্মত সুরক্ষা ও সন্দেহাতীত পবিত্রতা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশের মূল হিকমত।

(ب) ما هى سنن الوضوء؟

[(খ) অজুর সুন্নাতসমূহ কী কী?]

ওযুর প্রধান প্রধান সুন্নাত হলো: শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, নিয়ত করা, উভয় হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা, মেসওয়াক করা, তিনবার কুলি করা, তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, দাড়ি ও আঙুলসমূহ খিলাল করা, সমস্ত অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করা, সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা, কান ও গর্দান মাসেহ করা এবং ওযুর অঙ্গসমূহ ক্রমানুসারে (তারতীব) একনাগাড়ে ধৌত করা।

(ج) ما هى نواقض الوضوء؟ بين –

[(গ) অজু ভঙ্গের কারণসমূহ কী কী? স্পষ্ট করুন।]

পেশাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু নির্গত হওয়া, বায়ু নির্গত হওয়া, শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া, মুখভরে বমি হওয়া, কাত হয়ে বা হেলান দিয়ে এমনভাবে ঘুমানো যাতে শরীর ঢলে পড়ে, পাগল বা মাতাল হওয়া, এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির রুকু-সেজদাবিশিষ্ট নামাজে উচ্চৈঃস্বরে হাসা।

(د) حقق : استيقظ – لا يدرى – باتت –

[(ঘ) তাহকীক করুন: استيقظ – لا يدرى – باتت -]

– اسْتَيْقَظَ (ইসতাইকাযা): ফি’লে মাযী মা’রূফ, বাবে ইসতিফ’আল, মূলধাতু ي-ق-ظ (সহীহ)। অর্থ: সে জাগ্রত হলো।
– لاَ يَدْرِيْ (লা ইয়াদরী): ফি’লে মুযারে নাফী মা’রূফ, বাবে যারাবা, মূলধাতু د-ر-ي (নাকেসে ইয়াঈ)। অর্থ: সে জানে না।
– بَاتَتْ (বাতাত): ফি’লে মাযী নাকেস (আফ’আলে নাক্বিসাহ), বাবে নাসারা, মূলধাতু ب-ي-ت (আজওয়াফে ইয়াঈ)। অর্থ: সে রাত কাটিয়েছে।

(هـ) اذكر فرائض الوضوء كما ذكر فى الآية القرآنية –

[(ঙ) পবিত্র কুরআনের আয়াতে উল্লেখিত অজুর ফরজসমূহ উল্লেখ করুন।]

সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে ওযুর চারটি ফরজ অকাট্যভাবে নির্ধারিত হয়েছে:
১. সমস্ত মুখমণ্ডল (কপালের উপরিভাগ থেকে থুতনির নিচ এবং এক কানের লতি থেকে অপর কান পর্যন্ত) একবার ধৌত করা,
২. উভয় হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা,
৩. মাথার চারভাগের একভাগ মাসেহ করা, এবং
৪. উভয় পা টাখনু বা গোড়ালিসহ একবার ধৌত করা।

٨- عن عبد الله بن عباس (رض) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الأيم أحق بنفسها من وليها والبكر تستأذن فى نفسها وإذنها صماتها – وعن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : اذا دعى احدكم الى وليمة فلياتها –

[৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারী তার নিজের বিবাহের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার অভিভাবক (ওয়ালী) অপেক্ষা অধিক অধিকারিণী; আর কুমারী নারীর নিকট থেকে তার বিবাহের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে, আর তার নীরবতাই হলো তার সম্মতির লক্ষণ।” অপর বর্ণনায় হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের কাউকে যখন ওলিমার ভোজের দাওয়াত দেওয়া হয়, সে যেন অবশ্যই তাতে উপস্থিত হয়।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
الأَيِّمُ স্বামীহীনা নারী (বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা) أ – ي – م ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস মুবতাদা হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
أَحَقُّ অধিক হকদার / অধিকারিণী ح – ق – ق ইসমে তাফযীল, মুদা’আফ মুবতাদার খবর হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
تُسْتَأْذَنُ অনুমতি প্রার্থনা করা হবে أ – ذ – ن মুযারে মাজহূল, বাবে ইসতিফ’আল ফি’লে মুযারে মাজহূল, আল-বিকরু নায়েবে ফায়েল
صُمَاتُهَا তার নীরবতা বা চুপ থাকা ص – م – ت ইসমুল মাসদার, মুদাফ খবরে মুবতাদা হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
فَلْيَأْتِهَا অতএব সে যেন তাতে উপস্থিত হয় أ – ت – ي আমরে গায়েব, লামে আমর সহ জাযায়ে শর্ত, নাকেস হওয়ায় ইয়া বিলুপ্ত

(أ) ما معنى النكاح لغة وشرعا؟ وما حكمه؟

[(ক) নিকাহ-এর আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ কী? এবং এর হুকুম কী?]

নিকাহ অর্থ একত্রিত হওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় সুনির্দিষ্ট ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর মাঝে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং ব্যভিচারের আশঙ্কা থাকলে ফরজ।

(ب) ما حكم نكاح المرءة بدون إذن وليها؟ بين –

[(খ) ওলীর অনুমতি ব্যতীত প্রাপ্তবয়স্কা নারীর বিবাহের শরয়ী হুকুম কী? স্পষ্ট করুন।]

১. ইমাম শাফিয়ী, মালেক ও আহমাদ রহ.: অভিভাবকের সম্মতি ও এজাযত ছাড়া নারীর কোনো বিবাহ শুদ্ধ হবে না। হাদিস: “যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে তার বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল।”
২. ইমাম আবু হানিফা রহ.: বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্কা নারী নিজের জান ও মালের পূর্ণ স্বাধীন মালিক। তাই সে যদি কুফু (সমমর্যাদা) বজায় রেখে উপযুক্ত মোহরে বিবাহ করে, তবে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াও তার বিবাহ আইনগতভাবে সম্পূর্ণ সহীহ ও কার্যকর হবে। তবে অভিভাবকের সম্মতি গ্রহণ করা আদব ও মুস্তাহাব।

(ج) ما الوليمة وما حكمها؟

[(গ) ওয়ালীমা কাকে বলে এবং এর শরয়ী হুকুম কী?]

বিবাহোত্তর প্রীতিভোজকে ওয়ালিমা বলে। এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। কোনো গুনাহের পরিবেশ না থাকলে ওলিমার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

(د) من هم العبادلة الاربعة؟ بين –

[(ঘ) চার ‘ইবাদিল্লাহ’ (আবাদিলাহ) কারা? স্পষ্ট করুন।]

সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে গভীর ইলম ও ফতোয়াদানে প্রসিদ্ধ চারজন বিশিষ্ট তরুণ সাহাবিকে ‘আবাদিলায়ে আরবাআহ’ বলা হয়: ১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., ২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা., ৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রা., এবং ৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুম। (স্মর্তব্য: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বয়োজ্যেষ্ঠ ও ভিন্ন স্তরের হওয়ায় আবাদিলার অন্তর্ভুক্ত নন)।

(هـ) من هن المحرمات من النساء؟

[(ঙ) যেসব নারীদের সাথে বিবাহ চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম তারা কারা?]

সুরা নিসার ২২-২৪ নম্বর আয়াত অনুযায়ী বংশীয় ও দুধসম্পর্কের কারণে ১৪ শ্রেণির নারী চিরতরে হারাম: ১. মা, ২. দাদী ও নানী, ৩. কন্যা ও নাতনী, ৪. সহোদরা ও সৎ বোন, ৫. ফুফু, ৬. খালা, ৭. ভাইয়ের কন্যা (ভাতিজী), ৮. বোনের কন্যা (ভাগ্নী), ৯. দুধমাতা, ১০. দুধবোন, ১১. শাশুড়ি, ১২. স্ত্রীর পূর্বের ঘরের কন্যা (যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস হয়ে থাকে), ১৩. আপন ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী (পুত্রবধূ), এবং ১৪. দুই সহোদরা বোনকে একসাথে এক বৈবাহিক বন্ধনে একত্রিত করা।

٩- عن عبد الله بن عمر (رض) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الشهر تسع وعشرون فلا تصوموا حتى تروا الهلال ولا تفطروا حتى تروه، فان غم عليكم فاقدروا له –

[৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “চন্দ্র মাস হলো উনত্রিশ দিনেও হয় (আবার ত্রিশ দিনেও হয়); অতএব তোমরা নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা রাখবে না এবং (শাওয়ালের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা ভঙ্গ (ঈদ) করবে না। আর আকাশ যদি মেঘলা থাকে, তবে তোমরা ত্রিশ দিনের হিসাব পূর্ণ করো।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
الشَّهْرُ চন্দ্র মাস ش – ه – ر ইসম মুফরাদ, মুযাক্কার মুবতাদা হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
تِسْعٌ উনত্রিশ সংখ্যা ت – س – ع ইসমুল আদাদ, মুয়ান্নাস মুবতাদার খবর হিসেবে মারফূ’
الْهِلاَلَ নতুন উদিত চাঁদ ه – ل – ل ইসম মুফরাদ, মুযাক্কার তারাও ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব
غُمَّ মেঘে আচ্ছন্ন হলো غ – م – م মাযী মাজহূল, মুদা’আফ শর্তীয় জুমলার ফি’লে শর্ত
فَاقْدُرُوا তোমরা হিসাব পূর্ণ করো ق – د – ر আমরে হাযির মা’রূফ, বাবে যারাবা জাযায়ে শর্ত, ওয়াও ফায়েল

(أ) كيف تثبت رؤية الهلال؟

[(ক) নতুন চাঁদের সাক্ষ্য কীভাবে শরয়ীভাবে প্রমাণিত হয়?]

ইসলামে নতুন চাঁদের হিসাব চাক্ষুষ দর্শনের (রুইয়াত) ওপর প্রতিষ্ঠিত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে রমজানের চাঁদের জন্য বহু সংখ্যক মানুষের সাক্ষ্য প্রয়োজন; তবে আকাশ মেঘলা থাকলে একজন বিশ্বস্ত পরহেযগার মুসলিমের সাক্ষ্যই রমজানের রোজা শুরু করার জন্য যথেষ্ট। তবে ঈদের (শাওয়ালের) চাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতাস্বরূপ কমপক্ষে দুজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ মুসলিম সাক্ষীর চাক্ষুষ দেখা অপরিহার্য।

(ب) متى فرضت الصلاة والصوم؟ بين –

[(খ) নামাজ ও রোজা কখন ফরজ হয়েছিল? স্পষ্ট করুন।]

১. সালাত নবুওয়তের ১০ম/১১শ বর্ষে মিরাজের রজনীতে মক্কায় ফরজ হয়।
২. সিয়াম ২য় হিজরীর শাবান মাসে মদিনায় ফরজ হয়।

(ج) هل يعتبر اختلاف المطالع عند العلماء؟ بين –

[(গ) উদয়স্থলের ভিন্নতা (ইখতিলাফে মাতালি’) কি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য? আলেমদের অভিমত ব্যাখ্যা করুন।]

১. ইমাম শাফিয়ী রহ.: দূরবর্তী অঞ্চলের জন্য উদয়স্থলের ভিন্নতা ধর্তব্য। এক দেশের চাঁদ দেখা অন্য দেশের ওপর কার্যকর নয়।
২. হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব: শরীয়তের দৃষ্টিতে উদয়স্থলের ভিন্নতা ধর্তব্য নয় (লা ইবরাতা বি-ইখতিলাফিল মাতালি’); পৃথিবীর যেকোনো এক প্রান্তে নির্ভরযোগ্যভাবে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে এবং সেই সংবাদ যথাসময়ে পৌঁছালে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের ওপর রোজা ও ঈদ পালন ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে বর্তমান যুগে ভৌগোলিক ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে নিজ নিজ দেশের চাঁদ দেখার ফয়সালা অনুসরণের ওপরও ফতোয়া রয়েছে।

(د) ما المراد بالافطار فى الحديث؟

[(ঘ) হাদীসে ‘ইফতার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?]

হাদিসে “লা তুফতিরূ হাত্তা তারাওহু” দ্বারা মাহে রমজান সমাপ্ত করে শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর উদযাপন ও রোজা শেষ করাকে বোঝানো হয়েছে।

(هـ) اذكر بعضا من فضائل شهر رمضان –

[(ঙ) মাহে রমজানের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত উল্লেখ করুন।]

১. এই মাসে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে,
২. এতে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ‘লাইলাতুল কদর’ রয়েছে,
৩. জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত ও জাহান্নামের দরজা রুদ্ধ করা হয়,
৪. প্রতিদিন অসংখ্য পাপী বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

١٠- حدثنى يحيى عن مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه عن عائشة زوج النبى صلى الله عليه وسلم انها قالت كنت اطيب رسول الله صلى الله عليه وسلم لاحرامه قبل ان يحرم ولحله قبل ان يطوف بالبيت –

[১০. ইয়াহইয়া রহ. ইমাম মালেক রহ. থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা কাসিম থেকে এবং তিনি রাসুলুল্লাহ সা.-এর সহধর্মিণী হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: “আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বহস্তে সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম—তাঁর ইহরাম বাঁধার পূর্বে যখন তিনি ইহরামের প্রস্তুতি নিতেন, এবং তাওয়াফে যিয়ারত করার পূর্বে যখন তিনি ইহরাম মুক্ত (হালাল) হতেন।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أُطَيِّبُ আমি সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম ط – ي – ب মুযারে মা’রূফ, বাবে তাফঈল কুনতু ক্রিয়ার খবর হিসেবে মাহাল্লান মানসূব
إِحْرَامِهِ তাঁর ইহরাম গ্রহণ ح – ر – م মাসদার, বাবে ইফ’আল লাম হরফে জারের কারণে মাজরূর বিল-কাসরাহ
حِلِّهِ তাঁর ইহরাম মুক্তি বা হালাল হওয়া ح – ل – ل ইসমুল মাসদার, মুদাফ লাম হরফে জারের মাজরূর বিল-কাসরাহ
يَطُوفَ তিনি তাওয়াফ করবেন ط – و – ف মুযারে মা’রূফ, বাবে নাসারা আন নাসিবাহ-এর কারণে মানসূব বিল-ফাতহাহ
زَوْجِ সহধর্মিণী / স্ত্রী ز – و – ج ইসম মুফরাদ, মুদাফ আয়িশাহ শব্দের বাদাল হিসেবে মাজরূর

(أ) ما الاحرام؟ وما هى الممنوعات فى حالة الاحرام؟

[(ক) ইহরাম কাকে বলে? এবং ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো কী কী?]

১. ইহরাম: হজের বা উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু হালাল কাজকে নিজের ওপর সাময়িকভাবে হারাম করে নেওয়াকে ইহরাম বলা হয়।
২. নিষিদ্ধ কাজসমূহ: সুগন্ধি ব্যবহার করা, পুরুষের জন্য সেলাইযুক্ত কাপড় ও টুপি পরিধান করা, মাথা বা মুখ আবৃত করা, নখ ও চুল কাটা বা উপড়ানো, বন্য প্রাণী শিকার করা, এবং সহবাস বা যৌন উদ্দীপক আলাপচারিতা করা। তবে ইহরাম বাঁধার পূর্বমুহূর্তে শরীরে সুগন্ধি লাগানো সুন্নাত, যার রেশ ইহরামের পরেও অবশিষ্ট থাকলেও কোনো ক্ষতি নেই।

(ب) كم قسما للحج؟ وما هو الافضل منها؟

[(খ) হজের কয়টি প্রকার এবং এগুলোর মধ্যে কোন্টি সর্বোত্তম?]

হজ প্রধানত তিন প্রকার:
১. হজ্জে ইফরাদ: কেবল হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধা এবং উমরা ব্যতিরেকে কেবল হজ সম্পন্ন করা।
২. হজ্জে ক্বিরান: একই ইহরামে উমরা ও হজ উভয়টির নিয়ত করে একই সাথে সম্পন্ন করা।
৩. হজ্জে তামাত্তু’: হজের মাসসমূহে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা সম্পন্ন করে হালাল হওয়া, অতঃপর মক্কায় অবস্থান করে পুনরায় ৮ই যিলহজ হজের ইহরাম বাঁধা।
– সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকার: হানাফী মাযহাব মতে ‘হজ্জে ক্বিরান’ সর্বশ্রেষ্ঠ। ইমাম শাফিয়ীর মতে হজ্জে ইফরাদ এবং ইমাম আহমাদের মতে হজ্জে তামাত্তু’ শ্রেষ্ঠ।

(ج) ما معنى الميقات؟ بين مواقيت الحج –

[(গ) মীক্বাতের অর্থ কী? এবং হজের ভৌগোলিক মীক্বাতসমূহ উল্লেখ করুন।]

মীকাআত হলো হজ ও উমরার উদ্দেশ্যে গমনকারীদের জন্য ইহরাম বাঁধার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা, যা অতিক্রম করার পূর্বে ইহরাম পরা ওয়াজিব। প্রধান পাঁচটি মীকাত হলো:
১. যুল হুলাইফাহ: মদিনাবাসীদের জন্য,
২. আল-জুহফাহ: সিরিয়া ও মিশরবাসীদের জন্য,
৩. ক্বারনুল মানাযিল: নজদ ও রিয়াদবাসীদের জন্য,
৪. ইয়ালামলাম: ইয়েমেন ও বাংলাদেশ-ভারতসহ দক্ষিণ এশীয়দের জন্য,
৫. যাতু ইরক: ইরাক ও পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর জন্য।

(د) ما الفرق بين القران والتمتع؟

[(ঘ) হজে ক্বেরান ও হজে তামাত্তুর মধ্যে পার্থক্য কী?]

ক্বিরান হজে একটিমাত্র ইহরামে উমরা ও হজ সম্পন্ন হয়, মাঝে হালাল হওয়া যায় না। কিন্তু তামাত্তু’ হজে উমরা করে চুল কেটে স্বাভাবিক কাপড় পরিধান করে হালাল থাকা যায় এবং পরবর্তীতে হজের জন্য নতুন ইহরাম গ্রহণ করা হয়। উভয় হজে শুকরিয়াস্বরূপ দমে শোকর (পশু কুরবানি) করা ওয়াজিব।

(هـ) من لم يحج عن نفسه فهل يجوز له ان يحج عن غيره؟

[(ঙ) যে ব্যক্তি নিজের ফরজ হজ করেনি, সে কি অন্যের পক্ষ থেকে বদলি হজ করতে পারবে?]

১. ইমাম শাফিয়ী ও ইমাম আহমাদ রহ.: যে ব্যক্তি পূর্বে নিজের ফরজ হজ সম্পন্ন করেনি, তার জন্য অপরের বদলি হজ করা বৈধ নয়। দলিল: শুবরুমা সম্পর্কিত হাদিস।
২. ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক রহ.: নিজের হজ না করে থাকলেও অপরের পক্ষ থেকে বদলি হজ করলে তা জায়েজ হয়ে যাবে, তবে নিজের ফরজ বাকি থাকার কারণে এটি মাকরূহে তানযীহী।

مجموعة (ب) : المقالات التاريخية والمناهج العلمية (الدرجة – ১০ x ১ = ১০)

[أجب عن واحد مما يلى]

١١- اكتب نبذا من حياة الامام مالك بن انس (رح) مع بيان خدماته فى علم الحديث –

[১১. ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহ.-এর বর্ণাঢ্য জীবনচরিত এবং ইলমে হাদীসে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান বিশদভাবে আলোচনা করুন।]

জন্ম ও বংশমর্যাদা:
ইমামু দারিল হিজরাহ, উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ ফকীহ হযরত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালেক ইবনে আনাস ইবনে মালেক ইবনে আবি আমির আল-আসবাহী আল-হিময়ারী রহ. ৯৩ হিজরীতে রাসুলুল্লাহ সা.-এর স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারায় এক সম্ভ্রান্ত আরব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রপিতামহ আবু আমির ছিলেন জলিলুল কদর সাহাবি যিনি বদর ব্যতীত রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাথে সমস্ত ঐতিহাসিক গাযওয়ায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতা ও পিতৃব্যগণ সকলেই মদিনার প্রখ্যাত হাদীস বর্ণনাকারী আলেম ছিলেন। ফলে তিনি এক ঐতিহ্যবাহী ইলমী পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।

ইলম অর্জন, সাধনা ও মদিনার ইলমী আসন:
শৈশব থেকেই ইমাম মালেক রহ. মদিনার শ্রেষ্ঠ আলিমদের সাহচর্য লাভ করেন। তিনি বিখ্যাত তাবেঈ আব্দুর রহমান ইবনে হরমুজের দরবারে দীর্ঘ সাত বা আট বছর একনিষ্ঠভাবে অবস্থান করে জ্ঞানার্জন করেন। এছাড়া তিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম নাফে’ (মাওলা ইবনে উমর), ইবনে শিহাব আয-যুহরী, জাফর আস-সাদিক, আইয়্যুব সাখতিয়ানী এবং রাবী’আহ আর-রায়ী রহ.-এর নিকট থেকে তাফসীর, হাদীস ও ফিকহের গভীর জ্ঞান লাভ করেন। তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সতর্ক আলেম ছিলেন। তিনি নিজেই বলেছেন: “মদিনার সত্তর জন বিজ্ঞ ফকীহ ও শীর্ষ মুহাদ্দিস যতক্ষণ পর্যন্ত আমার ইলমী যোগ্যতার স্বীকৃতি ও সাক্ষ্য না দিয়েছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি মসজিদে নববীতে বসে ফতোয়া প্রদান ও হাদীসের দরস শুরু করিনি।”

হাদীসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাকওয়া:
রাসুলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র হাদীসের প্রতি ইমাম মালেক রহ.-এর সম্মান প্রদর্শন ছিল অতুলনীয়। যখনই কেউ তাঁর নিকট হাদীস শোনার আবেদন জানাত, তিনি প্রথমে গোসল করতেন, উত্তম শুভ্র পোশাক পরিধান করতেন, সুগন্ধি আতর ব্যবহার করতেন এবং অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে আসনে বসে হাদীস বর্ণনা করতেন। একবার দরস প্রদানকালে তাঁকে একটি বিষাক্ত বিচ্ছু ষোলবার দংশন করে এবং তাঁর মুখমণ্ডল ব্যথায় নীল হয়ে যায়, কিন্তু রাসুলুল্লাহ সা.-এর হাদীসের সম্মানে তিনি দরস শেষ না হওয়া পর্যন্ত নড়াচড়া করেননি! তিনি জীবনে কখনো পবিত্র মদিনার মাটিতে উট বা ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেননি; তিনি বলতেন: “যে মাটিতে রাসুলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র দেহ মোবারক শায়িত আছে, সে মাটিকে আমি কোনো পশুর খুর দিয়ে পদদলিত করতে চরম লজ্জা অনুভব করি!”

ইলমে হাদীসে অনন্য খিদমত ও ইন্তেকাল:
তিনি হাদীসের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বিষয়ভিত্তিক ফিকহী সংকলন ‘আল-মুওয়াত্তা’ রচনা করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেন। ইমাম বুখারী রহ. তাঁর বর্ণিত ‘মালেক আন নাফে’ আন ইবনে উমর’ সনদটিকে হাদিস শাস্ত্রের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ সনদ বা ‘সিলসিলাতুয যাহাব’ (স্বর্ণালী সনদ) আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম শাফিয়ী ও ইমাম মুহাম্মাদ আশ-শায়বানীর মতো মহান ইমামগণ তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ১৭৯ হিজরীর ১৪ই রবিউল আউয়াল ৮৬ বছর বয়সে এই মহান হাদীস সম্রাট পবিত্র মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাক্বীতে সমাহিত হন।

١٢- تحدث عن خصائص الموطأ للامام مالك رحمه الله ومنزلته من كتب الحديث –

[১২. ইমাম মালিক রহ.-এর কালজয়ী গ্রন্থ মুওয়াত্তার অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং হাদীস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা আলোচনা করুন।]

ভূমিকা ও নামকরণের তাৎপর্য:
‘আল-মুওয়াত্তা’ (الموطأ) ইসলামের ইতিহাসে হাদিস ও ফিকহের সর্বপ্রথম সুবিন্যস্ত, বিজ্ঞানসম্মত ও ঐতিহাসিক প্রামাণ্য সংকলন। ‘মুওয়াত্তা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো যা সহজগম্য, সুগম, সুবিন্যস্ত এবং যার ওপর মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইমাম মালেক রহ. নিজেই এই নামকরণের রহস্য বর্ণনা করে বলেছেন: “আমি এই গ্রন্থটি রচনার পর মদিনার সত্তর জন সর্বজনমান্য বিজ্ঞ ফকীহ ও আলেমের সামনে পেশ করেছিলাম; তাঁরা সকলেই অত্যন্ত আনন্দ ও প্রশংসার সাথে এই কিতাবের প্রতিটি মাসআলা ও রেওয়ায়েতের ওপর পূর্ণ ঐক্য ও সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন। আর ফুকাহাদের এই সম্মিলিত ঐকমত্যের (তাওয়াতু) কারণেই আমি এর নাম রেখেছি আল-মুওয়াত্তা।” তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফা মানসুর ও হারুনুর রশীদ এই গ্রন্থটিকে মুসলিম জাহানের রাষ্ট্রীয় একমাত্র সংবিধান হিসেবে কাবা শরীফে ঝুলিয়ে বাধ্যতামূলক করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইমাম মালেক রহ. সাহাবিদের ইলম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ার যুক্তিতে উম্মতের স্বাধীনতার খাতিরে বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

মুওয়াত্তা ইমাম মালেকের অনন্য সংকলন বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. মারফূ’ হাদীস ও আমালে আহলে মদিনার অপূর্ব সমন্বয়: এই গ্রন্থে কেবল রাসুলুল্লাহ সা.-এর মারফূ’ হাদীসই আনা হয়নি, বরং মদিনার সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া, তাবেঈনদের সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ করে ‘আমালু আহলিল মাদীনা’ (মদিনাবাসীর ধারাবাহিক আমল)-কে অত্যন্ত সুচারুভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। ইমাম মালেকের মতে মদিনাবাসীর নিরবচ্ছিন্ন সম্মিলিত আমল হাজার সনদের চেয়েও অধিক শক্তিশালী ও মুতাওয়াতির।
২. সনদের সর্বোচ্চ বিশুদ্ধতা ও কঠোর মানদণ্ড: ইমাম মালেক রহ. রাবী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তিনি কোনো অসৎ, অপবাদগ্রস্ত, বিদআতী বা স্মৃতিভ্রম ব্যক্তির কাছ থেকে একটি হাদীসও গ্রহণ করেননি। ইমাম শাফিয়ী রহ. যথার্থই বলেছেন: “কিতাবুল্লাহর (কুরআন মাজীদের) পর জমিনের বুকে ইমাম মালেকের মুওয়াত্তার চেয়ে বিশুদ্ধতম কোনো কিতাব পৃথিবীতে অস্তিত্বশীল নেই” (এটি সহীহ বুখারী সংকলনের পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক বাস্তবতা)।
৩. স্বর্ণালী সনদের আধিক্য: হাদীস শাস্ত্রের শীর্ষ স্বর্ণালী সনদ ‘সিলসিলাতুয যাহাব’ (মালেক, তিনি নাফে’ থেকে, আর তিনি ইবনে উমর রা. থেকে)—এই সনদে বর্ণিত অসংখ্য হাদীসের একমাত্র বিশ্বস্ত উৎস হলো আল-মুওয়াত্তা।
৪. আধুনিক আইনের ন্যায় ফিকহী বিন্যাস: গ্রন্থে কিতাবুত তাহারাত, কিতাবু সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ, কিতাবুল বুয়ূ’ (কেনাবেচা), বিবাহ, তালাক, জিহাদ ও বিচারব্যবস্থার অধ্যায়গুলো তৎকালীন যুগে প্রথম সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক সুসংহত রূপ লাভ করে।

উপসংহার:
মুওয়াত্তা ইমাম মালেক কেবল একটি হাদীস গ্রন্থই নয়, বরং তা ইসলামী আইনশাস্ত্র (ফিকহ) এবং হাদীসের সমন্বিত এক অনুপম বিশ্বকোষ, যা পরবর্তী যুগের ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযী রহ.-এর মতো কালজয়ী মুহাদ্দিসদের জন্য হাদীস সংকলনের পথপ্রদর্শক বা আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: কামিল হাদীস ৫ম পত্রের বিষয় ও বিষয় কোড কী?

উত্তর: কামিল হাদীস ৫ম পত্রের বিষয় হলো ‘সুনানুন নাসাঈ ও মুওয়াত্তা মালেক’ এবং এর বিষয় কোড হলো 611205। পূর্ণমান ১০০ নম্বর।

প্রশ্ন ২: কোন তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সাওয়াবের নিয়তে সফর করা জায়েজ?

উত্তর: মসজিদুল হারাম (মক্কা), মসজিদে নববী (মদিনা) এবং মসজিদুল আকসা (জেরুজালেম)।

প্রশ্ন ৩: হানাফী মাযহাবে সালাতে রফউল ইয়াদাইনের বিধান কী?

উত্তর: হানাফী মাযহাব মতে কেবল প্রথম তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত উঠানো সুন্নাত; রুকুতে যাওয়া ও ওঠার সময় হাত উঠানো রহিত ও সুন্নাত নয়।

প্রশ্ন ৪: চার ‘আবাদিলা’ বলতে কোন চারজন সাহাবিকে বোঝানো হয়?

উত্তর: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুম।

প্রশ্ন ৫: ‘সিলসিলাতুয যাহাব’ বা স্বর্ণালী সনদ কোনটি?

উত্তর: ইমাম বুখারী রহ.-এর মতে হাদিস শাস্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বর্ণালী সনদ হলো: ‘মালেক, তিনি নাফে’ থেকে, আর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে’।

প্রশ্ন ৬: সুনানে নাসাঈর সংক্ষিপ্ত সংস্করণের নাম কী?

উত্তর: ইমাম নাসাঈ রহ. তাঁর সুবিশাল ‘আস-সুনানুল কুবরা’ থেকে বিশুদ্ধতম হাদীস বাছাই করে ‘আল-মুজতাবা’ (আস-সুনানুস সাগীরাহ) সংকলন করেন যা সিহাহ সিত্তার অন্তর্ভুক্ত।