সহীহুল বুখারী ২য় পত্র (Sahih al-Bukhari 2nd Paper) – 611202, হাদীস – কামিল ২য় পর্ব পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৯০ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস দ্বিতীয় পর্ব পরীক্ষা, ২০২৪
দ্বিতীয় পত্র
বিষয়: সহীহুল বুখারী (দ্বিতীয় খণ্ড) [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: 611202 | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

الملاحظة : اجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) – والاعدار بالهامش تدل على الدرجة الكاملة –

مجموعة (أ) : المغازى، التفسير، النكاح والفرائض (الدرجة – ২০ x ৪ = ৮০)

(ترجم الأحاديث التالية مع التوضيح ثم أجب عن ثلاثة من الأسئلة الملحقة بكل حديث)

١- حدثنا ابو نعيم حدثنا اسرائيل عن مخارق عن طارق بن شهاب قال سمعت ابن مسعود رضى الله عنه يقول شهدت من المقداد بن الاسود مشهدا لان اكون صاحبه احب الى مما عدل به اتى النبى صلى الله عليه وسلم وهو يدعو على المشركين فقال لا نقول كما قال قوم موسى اذهب انت وربك فقاتلا ولكنا نقاتل عن يمينك وعن شمالك وبين يديك وخلفك فرأيت النبى صلى الله عليه وسلم اشرق وجهه وسره يعنى قوله –

[১. আবু নুআইম রহ. আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসরাঈল রহ. থেকে, তিনি মুখারিক রহ. থেকে, তিনি তারেক ইবনে শিহাব রহ. থেকে এবং তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: “আমি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রা.-এর কাছ থেকে এমন একটি ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি, যার নায়ক যদি আমি হতে পারতাম তবে তা আমার নিকট পৃথিবীর সমস্ত মূল্যবান সম্পদের চেয়েও অধিক প্রিয় হতো! তিনি এমন মুহূর্তে নবী করীম সা.-এর দরবারে উপস্থিত হলেন যখন নবীজি মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদরের ময়দানে দোয়া করছিলেন। তখন মিকদাদ রা. বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করলেন: ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনাকে মুসা আ.-এর কওমের মতো বলব না যে—আপনি ও আপনার রব যান এবং গিয়ে লড়াই করুন, বরং আমরা আপনার ডানে, আপনার বাঁয়ে, আপনার সামনে এবং আপনার পেছনে সর্বত্র শত্রুর মোকাবেলা করে বীরদর্পে লড়াই করব!’ বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে আমি দেখলাম রাসুলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র চেহারা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং তাঁর বক্তব্য নবীজিকে চরমভাবে প্রফুল্ল করল।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
شَهِدْتُ আমি প্রত্যক্ষ করেছি ش – ه – د মাযী মা’রূফ, ওয়াহেদ মুতাকাল্লিম ফি’লে মাযী, তা যমীর ফা’য়িল
يَدْعُو তিনি দোয়া করছিলেন د – ع – و মুযারে মা’রূফ, ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়েব জুমলায়ে হালিয়া হিসেবে মাহাল্লান মানসূব
أَشْرَقَ উজ্জ্বল ও উদ্ভাসিত হলো ش – ر – ق মাযী মা’রূফ, ওয়াহেদ মুযাক্কার ফি’লে মাযী, বাবে ইফ’আল, ফায়েল ওয়াজহুহু
نُقَاتِلُ আমরা যুদ্ধ করব ق – ت – ل মুযারে মা’রূফ, জমা মুতাকাল্লিম বাবে মুফা’আলাহ, মারফূ’ বিয-যম্মাহ
سَرَّهُ তাঁকে আনন্দিত করল س – ر – ر মাযী মা’রূফ, মুদা’আফে সুলাসী ফি’লে মাযী, হা যমীর মাফ’উলে বিহী

(هـ) اذكر نبذة من حياة سيدنا عبد الله بن مسعود رضى الله عنه –

[(ঙ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা উল্লেখ করুন।]

১. সংজ্ঞা ও পার্থক্য: ‘গাযওয়া’ (الغزوة) হলো এমন সব সশস্ত্র যুদ্ধাভিযান যাতে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সশরীরে সেনাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে ‘সারিয়্যা’ (السرية) হলো এমন সামরিক দল বা অভিযান যেখানে নবীজি সা. নিজে অংশগ্রহণ করেননি, বরং কোনো বিশ্বস্ত সাহাবিকে আমীর বা কমান্ডার নিযুক্ত করে অভিযানে পাঠিয়েছিলেন।
২. সংখ্যা: ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক ও ওয়াকিদীর মতে গাযওয়ার মোট সংখ্যা ২৭টি (যার মধ্যে ৯টিতে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল)। আর সারিয়ার সংখ্যা প্রায় ৪৭ থেকে ৬০টি মতান্তরে তার চেয়েও বেশি।

(ب) متى وقعت غزوة بدر واين؟ اذكر عدد الفريقين مع بيان نتيجة هذه الغزوة –

[(খ) বদর যুদ্ধ কখন এবং কোথায় সংঘটিত হয়েছিল? উভয় দলের সৈন্যসংখ্যা এবং এ যুদ্ধের ফলাফল উল্লেখ করুন।]

১. সময় ও স্থান: বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ই রমজানুল মুবারক শুক্রবার দিবসে, মদিনা মুনাওয়ারা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘বদর’ নামক প্রান্তরের কূপগুলোর নিকটে।
২. সৈন্যসংখ্যা: মুসলিম বাহিনীতে ছিলেন মাত্র ৩১৩ জন নিরস্ত্রপ্রায় জানবায মুজাহিদ (তাঁদের মধ্যে ঘোড়া ছিল মাত্র ২টি এবং উট ছিল ৭০টি)। বিপরীতে কুরাইশ মুশরিকদের সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ১,০০০ জন সুসজ্জিত যোদ্ধা, যাদের সাথে ছিল ১০০ ঘোড়া এবং পর্যাপ্ত সমরাস্ত্র।
৩. ফলাফল: মহান আল্লাহর গায়েবী মদদ ও ফেরেশতাদের অবতরণের মাধ্যমে মুসলিম বাহিনী এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় বিজয় লাভ করে। মুশরিকদের প্রধান সেনাপতি আবু জাহেল, উতবা, শায়বাসহ মোট ৭০ জন শীর্ষ কাফের নেতা নিহত হয় এবং আরও ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে মুসলিমদের মধ্য থেকে মাত্র ১৪ জন সাহাবি (৬ জন মুহাজির ও ৮ জন আনসার) শাহাদাতবরণ করেন।

(ج) اذكر بعض الآيات القرآنية التى تدل على واقعة بدر –

[(গ) বদর যুদ্ধের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিতবাহী কুরআনের কিছু আয়াত উল্লেখ করুন।]

পবিত্র কুরআনের একাধিক সুরায় বদর যুদ্ধের বিবরণ এসেছে। সুরা আল-ইমরানের ১২৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে: “আর আল্লাহ তোমাদের বদরের যুদ্ধে বিজয় দান করেছিলেন যখন তোমরা ছিলে নিতান্ত হীনবল।” সুরা আনফালে একে ‘ইয়াউমুল ফুরকান’ (সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী দিবস) আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে: “স্মরণ করো যখন তোমাদের রব তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করার…” (সুরা আনফাল: ৯)।

(د) اذكر اهمية غزوة بدر فى الاسلام –

[(ঘ) ইসলামে বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব উল্লেখ করুন।]

বদর যুদ্ধ ছিল ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার প্রথম ও চূড়ান্ত মহাসংগ্রাম। এই যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমেই আরবের বুকে ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং ইসলাম একটি অপরাজেয় পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। বদরী সাহাবিদের মর্যাদা এতই উচ্চ যে, হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: “তোমরা বদরবাসী যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছি।”

(هـ) اذكر نبذة من حياة سيدنا عبد الله بن مسعود رضى الله عنه –

[(ঙ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা উল্লেখ করুন।]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ছিলেন ইসলামের ষষ্ঠ ব্যক্তি যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন (সাদিসু মান আসলামা)। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ সা.-এর সার্বক্ষণিক খাদেম ও কুরআনের শ্রেষ্ঠ কারী ও মুফাসসির। তিনি হিজরতকারী ও বদরী সাহাবি ছিলেন। পরবর্তীতে কুফার গভর্নর হিসেবে তিনি ফিকহী ইলমের যে ভিত্তি স্থাপন করেন, তা থেকেই মূলত হানাফী মাযহাবের বিকাশ ঘটে। তিনি ৩২ হিজরীতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

٢- حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن حميد الطويل عن انس رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتى خيبر ليلا وكان اذا اتى قوما بليل لم يغز بهم حتى يصبح فلما اصبح خرجت اليهود بمساحيهم ومكاتلهم فلما راوه قالوا محمد والله محمد والخميس – فقال النبى صلى الله عليه وسلم خربت خيبر انا اذا نزلنا بساحة قوم (فساء صباح المنذرين) –

[২. আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ. আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, তিনি ইমাম মালেক রহ. থেকে, তিনি হুমাইদ আত-তবীল থেকে এবং তিনি হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলা খায়বারে পৌঁছালেন। নবীজি সা.-এর নীতি ছিল, যখন তিনি রাতের বেলা কোনো শত্রু সম্প্রদায়ের এলাকায় পৌঁছাতেন, তখন সকাল না হওয়া পর্যন্ত তিনি আক্রমণ করতেন না। অতঃপর সকাল হলে খায়বারের ইহুদিরা তাদের কোদাল, ঝুড়ি ও কৃষিসামগ্রী নিয়ে ঘর থেকে বের হলো। হঠাৎ তারা মুসলিম বাহিনীকে দেখে চিৎকার করে বলতে লাগল: “আল্লাহর শপথ, এ তো মুহাম্মাদ! আল্লাহর শপথ, মুহাম্মাদ এবং তাঁর পঞ্চমুখী সৈন্যবাহিনী (আল-খামিস) এসে গেছে!” তখন নবী করীম সা. ইরশাদ করলেন: “আল্লাহু আকবার! খায়বার ধ্বংস হয়ে গেছে! আমরা যখন কোনো সতর্কীকৃত জাতির আঙিনায় অবতরণ করি, তখন সেই সতর্কীকৃতদের সকালটি কতই না অশুভ ও ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
مَسَاحِيْهِمْ তাদের কোদালসমূহ م – س – ح ইসমুল আ’লাহ, জমা মুকাসসার হরফে জার বা-এর মাজরূর বিল-কাসরাহ
الْخَمِيْسُ বিশাল পঞ্চমুখী সেনাবাহিনী خ – م – س ইসমু জামা’, সিফাত মুহাম্মাদ শব্দের ওপর মাতূফ হিসেবে মারফূ’
خَرِبَتْ ধ্বংস ও বিরান হয়ে গেল خ – ر – ب মাযী মা’রূফ, ওয়াহেদ মুয়ান্নাস ফি’লে মাযী, খায়বারু এর ফা’য়িল
سَاحَةِ আঙিনা / প্রাঙ্গণ س – و – ح ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস হরফে জার বা-এর মাজরূর বিল-কাসরাহ
الْمُنْذَرِيْنَ সতর্কীকৃত ব্যক্তিবর্গ ن – ذ – ر ইসমে মাফ’উল, জমা মুযাক্কার মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর বিল-ইয়া

(هـ) اذكر نبذة من حياة سيدنا انس بن مالك رضى الله عنه –

[(ঙ) হযরত আনাস ইবনে মালিক রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করুন।]

১. সময়কাল: গাযওয়ায়ে খায়বার সংঘটিত হয়েছিল ৭ম হিজরীর মুহাররম মাসে (হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরের কিছুদিন পর)।
২. কারণসমূহ: মদিনা থেকে বিতাড়িত বনু নাযীর ও বনু কুরাইযার ইহুদিরা মদিনা থেকে প্রায় ১০০ মাইল উত্তরে অবস্থিত সুদৃঢ় দুর্গে ঘেরা খায়বারে একত্রিত হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চরম ষড়যন্ত্রের আঁতুড়ঘর গড়ে তোলে। খন্দকের যুদ্ধে তারা অন্যান্য আরব গোত্রকে বিশাল অর্থ দিয়ে মদিনা আক্রমণের জন্য জোটবদ্ধ করেছিল। মদিনার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খায়বারের এই কুচক্রী দুর্গ জয় করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

(ب) ما هى الآداب التى يراعيها النبى صلى الله عليه وسلم للاغارة فى الغزوة؟ بين –

[(খ) যুদ্ধে আক্রমণের ক্ষেত্রে নবী করিম সা. কোন্ কোন্ শিষ্টাচার ও নীতিমালা রক্ষা করতেন? বর্ণনা করুন।]

রাসুলুল্লাহ সা. যুদ্ধের ক্ষেত্রে এক অনন্য মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ নীতি অনুসরণ করতেন:
১. রাতের বেলা অতর্কিতে ঘুমন্ত মানুষের ওপর আক্রমণ করতেন না; বরং সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন এবং আযানের ধ্বনি শুনলে আক্রমণ স্থগিত রাখতেন।
২. শত্রু বাহিনীকে প্রথমে তিনটি প্রস্তাব দিতেন: ইসলাম গ্রহণ, জিজিয়া প্রদান অথবা যুদ্ধ।
৩. নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অন্ধ, সন্ন্যাসী এবং নিরপরাধ কৃষকদের হত্যা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন।
৪. গাছে আগুন দেওয়া, খাদ্যশস্য ধ্বংস করা, পশুপাখি নিধন এবং মৃতদেহের অঙ্গহানি (মুছলা) করা সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করেছিলেন।

(أ) متى وقعت غزوة خيبر؟ وما كانت اسبابها؟ بين –

[(ক) খায়বার যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়েছিল? এবং এর কারণসমূহ কী ছিল? বর্ণনা করুন।]

আরবদের পরিভাষায় বিশাল সুবিন্যস্ত বাহিনীকে ‘আল-খামিস’ (الخميس) বলা হতো। কারণ তৎকালীন সামরিক কৌশলে সেনাবাহিনীকে পাঁচটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হতো: ১. মুকাদ্দিমাহ (অগ্রবর্তী বাহিনী), ২. কালব (কেন্দ্রীয় বাহিনী), ৩. মাইমানাহ (ডান বাহু), ৪. মাইসারাহ (বাম বাহু), এবং ৫. সাকাহ (পশ্চাৎবর্তী রসদ বাহিনী)। ইহুদিরা মুসলিম বাহিনীর এই বিশাল সামরিক শক্তি ও নিয়মানুবর্তিতা দেখেই আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করেছিল।

(د) هل خيبر فتح عنوة ام صلحا؟ بين –

[(ঘ) খায়বার কি যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল নাকি সন্ধির মাধ্যমে? স্পষ্ট করুন।]

মুহাদ্দিস ও ফুকাহাগণের মতে, খায়বারের অধিকাংশ দুর্গ (যেমন নায়েম, কামূস ইত্যাদি) রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে (عنوة) বিজিত হয়েছিল, যেখানে হযরত আলী রা. খাইবার বিজয়ের বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন। তবে কিছু প্রান্তিক দুর্গের ইহুদিরা অবরুদ্ধ হয়ে আত্মসমর্পণ করে এবং উৎপন্ন ফসলের অর্ধেকের বিনিময়ে সেখানে চাষাবাদের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যা সন্ধি (صلحا)-এর আওতায় পড়েছিল।

(ب) ما هى الآداب التى يراعيها النبى صلى الله عليه وسلم للاغارة فى الغزوة؟ بين –

[(খ) যুদ্ধে আক্রমণের ক্ষেত্রে নবী করিম সা. কোন্ কোন্ শিষ্টাচার ও নীতিমালা রক্ষা করতেন? বর্ণনা করুন।]

হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. ছিলেন বনু নাজ্জার গোত্রের একজন বিশিষ্ট আনসার সাহাবি। হিজরতের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। তাঁর বিদুষী মাতা উম্মে সুলাইম রা. তাঁকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর খেদমতে সোপর্দ করেন। তিনি একটানা ১০ বছর রাসুলুল্লাহ সা.-এর একান্ত খাদেম হিসেবে অতিবাহিত করেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর জন্য ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও দীর্ঘায়ুর দোয়া করেছিলেন। তিনি ৯৩ হিজরীতে বসরায় ১০৩ বছর বয়সে শেষ সাহাবি হিসেবে ইন্তেকাল করেন।

٣- عن ابى سعيد بن المعلى قال كنت اصلى فى المسجد فدعانى رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم اجبه – فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انى كنت اصلى – فقال الم يقل الله تعالى : استجيبوا لله وللرسول اذا دعاكم؟ ثم قال لى لاعلمنك سورة هى اعظم السور فى القران قبل ان تخرج من المسجد ثم اخذ بيدى فلما اراد ان يخرج قلت له الم تقل لاعلمنك سورة هى اعظم سورة من القران؟ قال : “الحمد لله رب العالمين” هى السبع المثانى والقران العظيم الذى اوتيته –

[৩. হযরত আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মসজিদে নামাজ আদায় করছিলাম। এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ডাকলেন। কিন্তু নামাজের কারণে আমি তাঁর ডাকে তৎক্ষণাৎ সাড়া দিতে পারলাম না। নামাজ শেষে আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো নামাজে মগ্ন ছিলাম। তখন তিনি বললেন: “আল্লাহ তাআলা কি পবিত্র কুরআনে বলেননি—’হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের আহ্বান করেন?’ অতঃপর নবীজি বললেন: ‘মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আমি তোমাকে পবিত্র কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদাময় ও শ্রেষ্ঠ সুরাটি শিক্ষা দেব।’ এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন। যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার উপক্রম হলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি আমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেননি? তখন তিনি ইরশাদ করলেন: ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ (সুরা ফাতিহা); এটিই হলো সেই পুনঃপুন পঠিত সাতটি আয়াত (আস-সাব’উল মাছানী) এবং সেই মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
اسْتَجِيْبُوْا তোমরা সাড়া দাও ج – و – ب আমরে হাযির, বাবে ইসতিফ’আল ফি’লে আমর, ওয়াও ফায়েল
أَعْظَمُ সর্বশ্রেষ্ঠ / সর্বাধিক মর্যাদাময় ع – ظ – م ইসমে তাফযীল, মুযাক্কার মুবতাদার খবর হিসেবে মারফূ’ বিয-যম্মাহ
السَّبْعُ সাতটি আয়াত س – ب – ع ইসমুল আদাদ খবরে মুবতাদা ‘হিয়া’-এর মারফূ’
الْمَثَانِيْ পুনঃপুন পঠিত / প্রশংসিত ث – ن – ي ইসমুল মাফ’উল / জামা’ আস-সাব’ শব্দের সিফাত হিসেবে মারফূ’ তাকদীরান
أُوْتِيْتُهُ আমাকে তা প্রদান করা হয়েছে أ – ت – ي মাযী মাজহূল, বাবে ইফ’আল আল্লাযী-এর ছিলা, তা যমীর নায়েবে ফায়েল

(هـ) ما الفرق بين الرحمن والرحيم من اسماء الله تعالى؟ بين –

[(ঙ) আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের মধ্যে আর-রহমান ও আর-রহীমের মধ্যে পার্থক্য কী?]

১. ‘আস-সাব’উল মাছানী’ নামকরণের কারণ: ‘সাব’আ’ অর্থ সাত, আর ‘মাছানী’ শব্দটি এসেছে ‘ছানা’ (প্রশংসা) অথবা ‘তাছনিয়া’ (দ্বৈত বা পুনঃপুন পাঠ) থেকে। সুরা ফাতিহায় সর্বসম্মতভাবে ৭টি আয়াত রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রতিটি নামাজের প্রতি রাকাতে এটি বারবার তিলাওয়াত করা হয় বিধায় একে ‘আস-সাব’উল মাছানী’ বলা হয়। পবিত্র সুরা হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতেও এর উল্লেখ রয়েছে।
২. সুরা ফাতিহার প্রসিদ্ধ নামসমূহ: ফাতিহাতুল কিতাব (কুরআনের ভূমিকা), উম্মুল কুরআন (কুরআনের মূল), উম্মুল কিতাব, সুরাতুস সালাত, সুরাতুশ শিফা (আরোগ্যকারী সুরা), সুরাতুর রুকইয়াহ এবং আল-আসাস (ভিত্তি)।

(ب) كيف قال عليه السلام هى اعظم السور؟ وانها من قصار المفصل –

[(খ) রাসুল সা. কীভাবে একে সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা বললেন অথচ এটি কিসারে মুফাসসালের অন্তর্গত?]

আয়তনের দিক থেকে বড় হওয়া শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড নয়, বরং ভাবগাম্ভীর্য ও মর্মার্থের বিশালতাই শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি। সুরা ফাতিহার মধ্যে তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত, হেদায়াতের প্রার্থনা এবং পথভ্রষ্টদের ইতিহাস—সমগ্র কুরআনের এই মূল আলোচ্য বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। এ কারণেই সুরা বাকারা দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও সুরা ফাতিহাকে ‘আ’যামু সুরাতিন ফিল কুরআন’ (কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা) বলা হয়েছে।

(ج) هل يقطع المصلى صلاته لدعوة الغير؟ ومتى يقطع؟ بين –

[(গ) অন্যের ডাকে সালাতরত ব্যক্তি কি সালাত ভঙ্গ করবে? এবং কখন ভঙ্গ করবে? বর্ণনা করুন।]

১. সাধারণ নিয়ম: কোনো সাধারণ মানুষের ডাকে নামাজরত অবস্থায় নামাজ ভঙ্গ করা হারাম। তবে রাসুলুল্লাহ সা.-এর আহ্বান ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী; তাঁর ডাকে নামাজরত অবস্থায় সাড়া দেওয়া সাহাবিদের ওপর ফরজ ছিল এবং এতে নামাজ ভঙ্গ হতো না।
২. নামাজ ভাঙা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্র: যদি কোনো অন্ধ ব্যক্তি কূপে পড়ার উপক্রম হয়, কোনো শিশুর আগুনে পুড়ে যাওয়ার বা পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, অথবা কোনো আর্তপীড়িত ব্যক্তি জীবন বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে, তবে ফরজ নামাজ ভেঙেও তাকে উদ্ধার করা ওয়াজিব। পিতা-মাতা বিপদে পড়ে ডাকলে নফল নামাজ ভেঙে উত্তর দেওয়া জরুরি।

(ب) كيف قال عليه السلام هى اعظم السور؟ وانها من قصار المفصل –

[(খ) রাসুল সা. কীভাবে একে সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা বললেন অথচ এটি কিসারে মুফাসসালের অন্তর্গত?]

১. ইমাম শাফিয়ী রহ.: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ সুরা ফাতিহার অবিচ্ছেদ্য প্রথম আয়াত। তাই নামাজে সুরা ফাতিহার সাথে বিসমিল্লাহ পড়া ফরজ এবং তিনি সশব্দে পড়ার পক্ষপাতী।
২. ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমাদ রহ.: বিসমিল্লাহ সুরা ফাতিহা বা অন্য সুরার নিজস্ব আয়াত নয়, বরং দুই সুরার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য কুরআনের একটি স্বতন্ত্র বরকতময় আয়াত হিসেবে নাযিল হয়েছে। তাই হানাফী মাযহাবে নামাজে বিসমিল্লাহ নিঃশব্দে পড়া সুন্নাত।
৩. ইমাম মালেক রহ.: ফরজ নামাজে সুরা ফাতিহার পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়া প্রয়োজন নেই।

(ج) هل يقطع المصلى صلاته لدعوة الغير؟ ومتى يقطع؟ بين –

[(গ) অন্যের ডাকে সালাতরত ব্যক্তি কি সালাত ভঙ্গ করবে? এবং কখন ভঙ্গ করবে? বর্ণনা করুন।]

আল্লাহর এই দুটি পবিত্র নামের মধ্যে অর্থের গভীর পার্থক্য রয়েছে:
১. আর-রাহমান (الرحمن): এটি সিফাত মুশাহহাবা ও ওজনে ফা’লান, যা রহমতের পূর্ণতা ও চরম প্রাচুর্য বোঝায়। এর দ্বারা আল্লাহ দুনিয়াতে মুমিন-কাফের নির্বিশেষে সকল সৃষ্টির প্রতি অবারিত দয়া ও জীবিকা বর্ষণ করেন। এটি কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, কোনো সৃষ্টির নাম রাখা যায় না।
২. আর-রাহীম (الرحيم): এটি ওজনে ফাঈল, যা রহমতের ধারাবাহিকতা ও স্থায়ী প্রবাহ নির্দেশ করে। পরকালে কেবল ঈমানদার ও নেককার বান্দাগণই এই বিশেষ চিরস্থায়ী রহমত লাভ করবেন।

٤- عن حميد الطويل قال سمعت انس بن مالك قال : قدم عبد الرحمن بن عوف فاخى النبى صلى الله عليه وسلم بينه وبين سعد بن الربيع الانصارى وعند الانصارى امراتان – فعرض عليه ان يناصفه اهله وماله، فقال : بارك الله لك فى اهلك ومالك، دلونى على السوق فربح شيئا من اقط وشيئا من سمن – فرآه النبى صلى الله عليه وسلم بعد ايام وعليه وضر من صفرة – فقال : مهيم يا عبد الرحمن! فقال : تزوجت انصارية – قال : فما سقت اليها؟ قال : وزن نواة من ذهب – قال : اولم ولو بشاة –

[৪. হুমাইদ আত-তবীল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.-কে বলতে শুনেছি: হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রা. মদিনায় হিজরত করে আগমন করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এবং আনসার সাহাবি সা’দ ইবনে আর-রাবী’র মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন (মুওয়াখাত) স্থাপন করে দিলেন। সা’দ রা.-এর দুজন স্ত্রী ছিলেন। তিনি আব্দুর রহমান রা.-কে প্রস্তাব দিলেন তাঁর পরিবার ও ধন-সম্পদ সমান দুই ভাগে ভাগ করে নিতে। কিন্তু আব্দুর রহমান রা. জবাবে বললেন: “আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন! আমাকে ভাগ দিতে হবে না, বরং আমাকে বাজারের রাস্তা দেখিয়ে দিন।” অতঃপর তিনি বাজারে গিয়ে কেনাবেচা শুরু করলেন এবং পনির ও ঘিয়ের ব্যবসা করে কিছু মুনাফা অর্জন করলেন। কয়েক দিন পর রাসুলুল্লাহ সা. তাঁকে দেখতে পেলেন এবং তাঁর পোশাকে সুগন্ধি হলুদের দাগ দেখে জিজ্ঞেস করলেন: “হে আব্দুর রহমান! কী ব্যাপার?” তিনি আরজ করলেন: “হে আল্লাহর রাসুল! আমি এক আনসারী নারীকে বিবাহ করেছি।” নবীজি জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি তাকে কী পরিমাণ মোহর দিয়েছ?” তিনি বললেন: “খেজুরের আঁটি পরিমাণ ওজনের স্বর্ণ।” তখন রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করলেন: “ওয়ালিমা করো, যদিও একটি মাত্র ছাগল দিয়ে হয়!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
آخَى ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করলেন أ – خ – و মাযী মা’রূফ, বাবে মুফা’আলাহ ফি’লে মাযী, আন-নাবিয়্যু এর ফা’য়িল
يُنَاصِفَهُ তাকে অর্ধেক ভাগ দেবে ن – ص – ف মুযারে মা’রূফ, বাবে মুফা’আলাহ আন নাসিবাহ-এর কারণে মানসূব বিল-ফাতহাহ
وَضَرٌ চিহ্ন / সামান্য দাগ و – ض – ر ইসম মুফরাদ, মুযাক্কার মাজরূর-এর পর মুবতাদা মুয়াখখার
نَوَاةٍ খেজুরের আঁটি ن – و – ي ইসম মুফরাদ, মুয়ান্নাস মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর বিল-কাসরাহ
أَوْلِمْ তুমি ওলিমার ভোজ দাও و – ل – م আমরে হাযির মা’রূফ, বাবে ইফ’আল ফি’লে আমর, আনতা মুস্তার ফায়েল

(أ) عرف النكاح لغة واصطلاحا – ثم بين الفرق بينه وبين البيع –

[(ক) নিকাহ-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দিন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে এর পার্থক্য তুলে ধরুন।]

১. শাব্দিক অর্থ: ‘নিকাহ’ (النكاح) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো الضم والجمع অর্থাৎ একত্রিত করা, মিলিত হওয়া ও শক্ত বাঁধনে আবদ্ধ করা।
২. পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায় যে সুনির্দিষ্ট ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যকার দাম্পত্য সম্পর্ক এবং পারস্পরিক উপভোগ বৈধতা লাভ করে, তাকে নিকাহ বলা হয়।
৩. নিকাহ ও ক্রয়-বিক্রয়ের (বায়) পার্থক্য: ক্রয়-বিক্রয়ে পণ্যের ওপর পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তরিত হয় এবং ক্রেতা তা পুনরায় বিক্রি করতে পারে। কিন্তু বিবাহে নারীর ব্যক্তিত্বের ওপর কোনো মালিকানা অর্জিত হয় না, বরং কেবল নির্দিষ্ট শর্তে সহবাস ও দাম্পত্য অধিকার বৈধ হয়; স্ত্রী কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়।

(ب) بين اركان النكاح وشروطه –

[(খ) বিবাহের রুকন ও শর্তাবলি স্পষ্ট করুন।]

১. রুকন: হানাফী মাযহাব মতে নিকাহর রুকন দুটি—এক পক্ষের প্রস্তাব (الإيجاب) এবং অপর পক্ষের সম্মতি ও গ্রহণ (القبول)। অন্যান্য মাযহাবে বর, কনে, অভিভাবক ও সাক্ষীসহ ৫টি রুকন ধরা হয়।
২. শর্তাবলি: বর ও কনে উভয়ে বিবাহের যোগ্য হওয়া এবং তাদের মধ্যে কোনো হারাম রক্তের বা দুগ্ধ সম্পর্ক না থাকা; প্রস্তাব ও গ্রহণ একই মজলিসে অনুষ্ঠিত হওয়া; এবং কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম পুরুষ সাক্ষী (বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী) উপস্থিত থাকা।

(ج) اكتب تعريف الانصار وايثارهم وفضائلهم فى ضوء القران والسنة –

[(গ) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আনসারদের পরিচয়, তাঁদের আত্মত্যাগ ও মর্যাদার বিবরণ লিখুন।]

মদিনার আনসার সাহাবিগণ মুহাজির ভাইদের জন্য ত্যাগের যে নজির স্থাপন করেছিলেন, মানবজাতির ইতিহাসে তার দ্বিতীয় নজির নেই। তাঁরা নিজেদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সম্পদ নির্দ্বিধায় মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনে তাঁদের প্রশংসা করে ইরশাদ হয়েছে: “তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত ছিল” (সুরা হাশর: ৯)। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন: “ঈমানের আলামত হলো আনসারদের ভালোবাসা আর মুনাফেকির আলামত হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।”

(د) عرف المهر ثم بين اقل مقدار المهر عند الفقهاء –

[(ঘ) মোহরের পরিচয় দিন এবং ফুকাহায়ে কিরামের মতে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ উল্লেখ করুন।]

১. সংজ্ঞা: বিবাহের চুক্তির কারণে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বের নিদর্শনস্বরূপ যে নির্দিষ্ট অর্থ বা সম্পদ প্রদান করা ওয়াজিব হয়, তাকে মোহর বলা হয়।
২. সর্বনিম্ন পরিমাণ: হানাফী মাযহাব মতে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো ১০ দিরহাম (বর্তমান হিসেবে প্রায় ৩০.৬১৮ গ্রাম খাঁটি রূপা বা তার সমমূল্য)। ইমাম মালেক রহ.-এর মতে ৩ দিরহাম। পক্ষান্তরে ইমাম শাফিয়ী ও আহমাদ রহ.-এর মতে মোহরের কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই, সামান্য একটি লোহার আংটি বা কুরআন শিক্ষাদানও মোহর হতে পারে।

(هـ) عرف الوليمة ثم بين حكمها واهميتها –

[(ঙ) ওয়ালীমার পরিচয় দিন এবং এর হুকুম ও গুরুত্ব বর্ণনা করুন।]

১. পরিচয়: বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মিলনের আনন্দে স্বামীর পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের খাবারের আয়োজন করাকে ‘ওয়ালিমা’ বলা হয়।
২. হুকুম: জমহুর ফুকাহাদের মতে বিবাহোত্তর ওয়ালিমা করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। রাসুলুল্লাহ সা. সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়ালিমা করার জোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং এতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলকে আপ্যায়িত করার তাগিদ দিয়েছেন।

٥- عن عبد الرحمن بن ابى بكرة عن ابيه رضى الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الا انبئكم باكبر الكبائر؟ قلنا بلى يا رسول الله! قال : الاشراك بالله، وعقوق الوالدين، وكان متكئا فجلس، فقال : الا وقول الزور وشهادة الزور – الا وقول الزور وشهادة الزور – فما زال يقولها حتى قلت : لا يسكت –

[৫. আব্দুর রহমান ইবনে আবি বাকরাহ রহ. তাঁর পিতা হযরত আবু বাকরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “আমি কি তোমাদের সর্বাপেক্ষা মারাত্মক কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না?” আমরা আরজ করলাম: “অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল!” তিনি বললেন: “আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।” নবীজি সা. হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বললেন: “সাবধান! মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা! সাবধান! মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া!” তিনি বারবার এ কথাটি এত অধিক সময় পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন যে আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম—হায়! তিনি যদি নীরব হতেন (নবীজির কষ্টের আশঙ্কায়)!”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أُنَبِّئُكُمْ আমি তোমাদের সংবাদ দেব ن – ب – أ মুযারে মা’রূফ, বাবে তাফঈল ফি’লে মুযারে, আনা মুস্তার ফায়েল, কুম মাফ’উল
عُقُوْقُ অবাধ্যতা / কষ্ট দেওয়া ع – ق – ق ইসমুল মাসদার, মুযাক্কার আল-ইশরাক শব্দের ওপর মা’তূফ হিসেবে মারফূ’
مُتَّكِئًا হেলান দেওয়া অবস্থায় و – ك – أ ইসমে ফায়িল, বাবে ইফতি’আল কানা ক্রিয়ার খবর হিসেবে মানসূব
الزُّوْرِ মিথ্যা / অসত্য ز – و – ر ইসম মুফরাদ, সিফাত মুদাফ ইলাইহ হিসেবে মাজরূর বিল-কাসরাহ
يَسْكُتُ তিনি নীরব হবেন س – ك – ت মুযারে মা’রূফ, বাবে নাসারা লা নাফী সহ ফি’লে মুযারে মারফূ’

(أ) بين حقوق الوالدين على الاولاد فى ضوء القرآن والسنة –

[(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার অধিকারসমূহ বর্ণনা করুন।]

কুরআন ও হাদিসে মহান আল্লাহর তাওহীদের পরপরই পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা বনী ইসরাঈলে আল্লাহ বলেন: “তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করো। তাদের একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না” (আয়াত: ২৩)। সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা, অসুস্থতায় সেবা করা, সর্বদা সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের ইন্তেকালের পর তাঁদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা ওয়াজিব।

(ب) اكتب جرائم عقوق الوالدين وعواقبها فى الاسلام –

[(খ) পিতা-মাতার অবাধ্যতার অপরাধ ও ইসলামে এর মারাত্মক পরিণতি লিখুন।]

ইসলামে পিতা-মাতার অবাধ্যতা (উকূকুল ওয়ালিদাইন) অন্যতম ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন: “পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর ক্রোধ নিহিত।” পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানের কোনো ফরজ ও নফল ইবাদত কবুল হয় না এবং আখেরাতের পূর্বে দুনিয়াতেই আল্লাহ তাআলা তাকে লাঞ্ছনা ও বিপদের মুখোমুখি করেন।

(ج) ما هى الكبيرة؟ عدد الكبائر من الذنوب بالايجاز –

[(গ) কবিরা গুনাহ কাকে বলে? সংক্ষেপে কবিরা গুনাহগুলো গণনা করুন।]

১. সংজ্ঞা: যে সকল পাপকাজের জন্য শরীয়ত দুনিয়াতে নির্দিষ্ট হদ বা শাস্তির বিধান রেখেছে, অথবা আখেরাতে জাহান্নামের আগুন, লানত ও আল্লাহর ক্রোধের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে, সেগুলোকে ‘কবিরা গুনাহ’ বলা হয়।
২. প্রধান কবিরা গুনাহসমূহ: আল্লাহর সাথে শিরক করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, যাদু করা, এতিমের মাল আত্মসাৎ করা, সুদ খাওয়া, সতী নারীর ওপর অপবাদ দেওয়া এবং জিহাদের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা।

(د) عرف الاشراك بالله مع ذكر عاقبته فى ضوء القرآن والسنة –

[(ঘ) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আল্লাহর সাথে শিরকের পরিচয় ও পরিণাম উল্লেখ করুন।]

আল্লাহর জাত, সিফাত (গুণাবলি), ক্ষমতা বা ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে ‘শিরক’ বলা হয়। এটি সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে জঘন্য জুলুম (সুরা লুকমান: ১৩)। শিরককারী তওবা ছাড়া মারা গেলে আল্লাহ তাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না এবং তার জন্য জান্নাত চিরতরে হারাম করে দেওয়া হয়েছে (সুরা নিসা: ৪৮)।

(هـ) ما معنى الزور؟ وما الفرق بين قول الزور وشهادة الزور؟ بين –

[(ঙ) ‘যূর’ শব্দের অর্থ কী? এবং মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য কী?]

‘যূর’ (الزور) শব্দের অর্থ হলো কোনো বিষয়কে সত্যের বিপরীতে ঘুরিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও অলীক রূপ দেওয়া।
– কাওলুয যূর (মিথ্যা কথা): দৈনন্দিন কথাবার্তায় যেকোনো অসত্য বা প্রতারণামূলক বক্তব্য দেওয়া।
– শাহাদাতুয যূর (মিথ্যা সাক্ষ্য): বিচারকের আদালতে বা কোনো মানুষের হক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে জেনে-শুনে মিথ্যার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা। এটি সাধারণ মিথ্যা কথার চেয়ে বহু গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক, কারণ এর ফলে নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন ও সম্পদ ধ্বংস হয় এবং সমাজে অবিচার কায়েম হয়।

٦- عن ابى هريرة رضى الله عنه قال لما توفى رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخلف ابو بكر بعده، وكفر من كفر من العرب، قال عمر لابى بكر : كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فمن قال : لا اله الا الله عصم منى ماله ونفسه الا بحقه وحسابه على الله – فقال : والله لاقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة فان الزكاة حق المال – والله لو منعونى عقالا كانوا يؤدونه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه – فقال عمر : فوالله ما هو الا ان رايت الله قد شرح صدر ابى بكر للقتال – فعرفت انه الحق –

[৬. হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত হলো এবং তাঁর পর হযরত আবু বকর রা. খলিফা নির্বাচিত হলেন, তখন আরবের কিছু গোত্র মুরতাদ ও ধর্মত্যাগী হয়ে গেল। হযরত উমর রা. খলিফা আবু বকর রা.-কে বললেন: “আপনি কীভাবে এই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন—’আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে। যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সে আমার পক্ষ থেকে তার জান ও মালকে নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের কোনো অধিকার ব্যতিরেকে; আর তার অন্তরের হিসাব আল্লাহর ওপর।’ তখন হযরত আবু বকর রা. দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করলেন: ‘আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি নামাজ ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে লড়াই করব! কেননা যাকাত হলো মালের ওপর আরোপিত আল্লাহ নির্ধারিত হক। আল্লাহর শপথ! তারা রাসুলুল্লাহ সা.-এর যুগে যাকাত হিসেবে উটের যে রশিটি (এক পেঁচ দড়ি) প্রদান করত, আজ যদি তা দিতেও অস্বীকার করে, তবে এই অস্বীকৃতির কারণেও আমি তাদের বিরুদ্ধে তরবারি ধারণ করব!’ হযরত উমর রা. বলেন: ‘আল্লাহর শপথ! আমি প্রত্যক্ষ করলাম যে মহান আল্লাহ স্বয়ং আবু বকর রা.-এর অন্তরকে যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত ও প্রশস্ত করে দিয়েছেন, আর তখনই আমি নিঃসংশয়ে উপলব্ধি করলাম যে এটিই ছিল পরম সত্য!'”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
اسْتُخْلِفَ তিনি খলিফা মনোনীত হলেন خ – ل – ف মাযী মাজহূল, বাবে ইসতিফ’আল ফি’লে মাযী মাজহূল, আবু বকর নায়েবে ফায়েল
عَصَمَ সে রক্ষা করল / নিরাপদ করল ع – ص – م মাযী মা’রূফ, বাবে যারাবা ফি’লে মাযী, হুওয়া মুস্তার ফায়েল
لَأُقَاتِلَنَّ আমি অবশ্যই যুদ্ধ করব ق – ت – ل মুযারে মা’রূফ বিল-লাম ওয়ান-নূন জাওয়াবে কাসাম, বাবে মুফা’আলাহ
عِقَالاً উটের বাধার দড়ি / রশি ع – ق – ل ইসম মুফরাদ, মুযাক্কার মানা’ঊনী ক্রিয়ার মাফ’উলে ছানী হিসেবে মানসূব
شَرَحَ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত করলেন ش – ر – ح মাযী মা’রূফ, ওয়াহেদ মুযাক্কার ফি’লে মাযী, আল্লাহু এর ফা’য়িল

(أ) كيف استخلف ابو بكر رضى الله عنه؟ اذكر القصة فى ضوء تاريخ الاسلام –

[(ক) হযরত আবু বকর রা. কীভাবে খলীফা নির্বাচিত হয়েছিলেন? ইসলামের ইতিহাসের আলোকে ঘটনাটি উল্লেখ করুন।]

রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহ যখন এক চরম সংকটে নিপতিত হয়েছিল, তখন আনসার সাহাবিগণ সাকীফায়ে বনী সায়েদায় সমবেত হন। হযরত আবু বকর, উমর ও আবু উবাইদাহ রা. সেখানে উপস্থিত হয়ে উম্মতের ঐক্যের স্বার্থে কুরাইশদের মর্যাদা ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর অন্তিম ইচ্ছার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। নবীজি সা. অসুস্থাবস্থায় আবু বকর রা.-কে একটানা ১৭ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতির দায়িত্ব দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অতঃপর হযরত উমর রা. স্বতঃস্ফূর্তভাবে আবু বকর রা.-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং সকল মুহাজির ও আনসার সাহাবি পরম আনুগত্যে তাঁর হাতে খেলাফতের বাইয়াত প্রদান করেন।

(ب) اذكر مراد قوله : “وكفر من كفر من العرب” موضحا –

[(খ) “আরবদের মধ্যে যারা মুরতাদ হওয়ার হলো” উক্তিটির তাৎপর্য স্পষ্ট করুন।]

রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের পরপরই আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে তিন ধরনের ফেতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল: ১. মুসায়লামাতুল কাযযাব, আসওয়াদ আনসী ও সাজাহ-এর মতো ভণ্ড নবুওয়তের দাবিদাররা, ২. যারা সম্পূর্ণ ইসলাম ত্যাগ করে প্রাচীন পৌত্তলিকতায় ফিরে গিয়েছিল, এবং ৩. যারা নামাজ পড়ত ঠিকই কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাইতুল মালে যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল। আবু বকর রা. এদের সকলের বিরুদ্ধেই আপসহীন অভিযান পরিচালনা করেন।

(ج) عرف الزكاة ثم بين اهميتها فى ضوء القرآن والسنة –

[(গ) যাকাতের পরিচয় দিন এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর গুরুত্ব তুলে ধরুন।]

যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের তৃতীয় মৌলিক রুকন। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের পাশাপাশি যাকাতের নির্দেশ এসেছে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর বছরান্তে শতকরা আড়াই ভাগ অর্থ আল্লাহর নির্ধারিত আটটি খাতে প্রদান করা ফরজ। যাকাত সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং সম্পদের পুঞ্জীভূতকরণ প্রতিরোধ করে গরিবের মুখে হাসি ফোটায়।

(د) اكتب مناسبة الحديث بترجمة الباب “باب الاقتداء بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم” –

[(ঘ) “রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাতের অনুসরণ অধ্যায়”-এর সাথে এই হাদীসের প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করুন।]

ইমাম বুখারী রহ. এই হাদিসটি এনেছেন “রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহর অনুসরণের অনুচ্ছেদ”-এ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নবীর সুন্নাহ ও দ্বীনের মৌলিক স্তম্ভ রক্ষার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের ঐক্য ও ইজমা এবং হযরত আবু বকর রা.-এর মতো খলিফাদের অটল সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা উম্মতের জন্য অবশ্যকর্তব্য।

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا ابى هريرة رضى الله عنه –

[(ঙ) হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত লিখুন।]

হযরত আবু হুরায়রা রা. ছিলেন আসহাবে সুফফার প্রধান ব্যক্তিত্ব। সার্বক্ষণিক নবীজির সান্নিধ্যে থেকে হাদীস মুখস্থ ও সংরক্ষণ করাই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। তিনি সর্বাধিক ৫,৩৭৪টি হাদীস বর্ণনা করে উম্মাহর ওপর অনন্য অনুগ্রহ রেখে গেছেন। ৫৭ হিজরীতে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

٧- عن يحيى بن محمد بن عبد الله بن صيفى انه سمع ابا معبد مولى ابن عباس يقول : سمعت ابن عباس يقول : لما بعث النبى صلى الله عليه وسلم معاذ بن جبل الى نحو اهل اليمن قال له : انك تقدم على قوم من اهل الكتاب – فليكن اول ما تدعوهم الى ان يوحدوا الله تعالى – فاذا عرفوا ذلك فاخبرهم ان الله قد فرض عليهم خمس صلوات فى يومهم وليلتهم – فاذا صلوا فاخبرهم ان الله افترض عليهم زكاة فى اموالهم، تؤخذ من غنيهم فترد على فقيرهم، فاذا اقروا بذلك فخذ منهم، وتوق كرائم اموال الناس –

[৭. ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর মুক্তদাস আবু মা’বাদ থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে বলতে শুনেছি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হযরত মু’আয ইবনে জাবাল রা.-কে ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে নসীহত করে বললেন: “নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাব (ইহুদি ও নাসারা) সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় এই কথার প্রতি—যেন তারা এক আল্লাহর তাওহীদকে মেনে নেয়। অতঃপর যখন তারা তাওহীদকে চিনে নেবে ও গ্রহণ করবে, তখন তাদের জানিয়ে দেবে যে, মহান আল্লাহ প্রতি দিন ও রাতে তাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যখন তারা নামাজ কায়েম করবে, তখন তাদের জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের সম্পদে যাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। যখন তারা এর স্বীকৃতি দেবে, তখন তুমি তা গ্রহণ করবে; তবে সাবধান! তাদের বাছাইকৃত উৎকৃষ্টতম মাল ছিনিয়ে নেওয়া থেকে বেঁচে থাকবে এবং মাজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে, কেননা তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।”]

হাদীসের নির্বাচিত শব্দের তাহকীক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
تَقْدَمُ তুমি উপস্থিত হচ্ছ / যাচ্ছ ق – د – م মুযারে মা’রূফ, ওয়াহেদ মুযাক্কার ইন্না-এর খবর হিসেবে মারফূ’ মাহাল্লান
يُوَحِّدُوا তারা একত্ববাদ স্বীকার করবে و – ح – د মুযারে মা’রূফ, বাবে তাফঈল আন নাসিবাহ-এর কারণে মানসূব বি-হাযফিননূন
تُرَدُّ তা ফেরত দেওয়া / বণ্টন করা হবে ر – د – د মুযারে মাজহূল, ওয়াহেদ মুয়ান্নাস ফি’লে মুযারে মাজহূল, নায়েবে ফায়েল মুস্তার
تَوَقَّ তুমি বেঁচে থাকো / ভয় করো و – ق – ي আমরে হাযির, বাবে তাফা’উল ফি’লে আমর, হরফে ইল্লাত বিলুপ্তির মাধ্যমে মাবনী
كَرَائِمَ উত্তম ও মূল্যবান সম্পদসমূহ ك – ر – م জমা মুকাসসার, মুয়ান্নাস তাওয়াক্কা ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহী হিসেবে মানসূব

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا عبد الله بن عباس رضى الله عنه –

[(ঙ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখুন।]

১. সময়কাল: রাসুলুল্লাহ সা. ৯ম হিজরীতে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর অথবা ১০ম হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে বিদায় হজের পূর্বে হযরত মু’আয ইবনে জাবাল রা.-কে ইয়েমেনে প্রেরণ করেছিলেন।
২. পদমর্যাদা: তিনি কেবল একজন সাধারণ গভর্নর (ওয়ালী) ছিলেন না, বরং তিনি একই সাথে প্রদেশের গভর্নর, প্রধান বিচারপতি (কাযী), সেনাপতি এবং প্রধান ধর্মপ্রচারক ও শিক্ষক হিসেবে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর বাহনের পাশে হেঁটে হেঁটে তাঁকে বিদায় জানিয়েছিলেন এবং তাঁর বিচক্ষণ বিচারবুদ্ধির প্রশংসা করেছিলেন।

(ب) عرف التوحيد ثم بين اهميته فى حياة الانسان –

[(খ) তাওহীদের পরিচয় দিন এবং মানবজীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরুন।]

তাওহীদ হলো অন্তরের বিশ্বাস ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে তাঁর রুবূবিয়্যাত (সৃষ্টি ও প্রতিপালন), উলূহিয়্যাত (ইবাদত ও দাসত্ব) এবং আসমা ও সিফাতে (নাম ও গুণাবলিতে) একক ও অদ্বিতীয় বলে মেনে নেওয়া। তাওহীদই মানবজীবনের সমস্ত ইবাদত কবুল হওয়ার মূল চাবিকাঠি। এটি মানুষকে সকল প্রকার সৃষ্টিপূজা ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর গোলামির মাধ্যমে প্রকৃত স্বাধীনতা ও আত্মিক মর্যাদা দান করে।

(ج) عرف الزكاة ثم بين مصارف الزكاة مدللا –

[(গ) যাকাতের পরিচয় দিন এবং দলিলের আলোকে যাকাতের খাতসমূহ বর্ণনা করুন।]

যাকাতের অর্থ পবিত্র করা ও বৃদ্ধি পাওয়া। পবিত্র কুরআনের সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাকাতের আটটি সুনির্দিষ্ট খাত নির্ধারিত হয়েছে: ১. ফকীর (যার কোনো সম্পদ নেই), ২. মিসকীন (যার সামান্য সম্পদ আছে কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল), ৩. আমেলীন (যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী), ৪. মুআল্লাফাতুল কুলূব (মন জয় করার জন্য), ৫. দাসমুক্তি (রিক্বাব), ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (গারিমীন), ৭. আল্লাহর রাস্তায় (মুজাহিদ ও তালেবে ইলম), এবং ৮. মুসাফির (ইবনুস সাবীল)।

(د) هل يجوز نقل الزكاة من بلد الى بلد اخر؟ بين المسئلة –

[(ঘ) এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাকাত স্থানান্তর করা কি জায়েজ? মাসআলাটি স্পষ্ট করুন।]

হাদিসে বলা হয়েছে: “তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝেই বণ্টন করা হবে।” তাই ফুকাহাদের মতে যে অঞ্চলের যাকাত আদায় হবে, অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেই এলাকার দরিদ্রদের মাঝেই তা বণ্টন করা সুন্নাত। কোনো যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া অন্য দূরবর্তী অঞ্চলে যাকাত স্থানান্তর করা মাকরূহে তানযীহী। তবে যদি অন্য অঞ্চলে অধিক অভাবগ্রস্ত বা দ্বীনী আলেম থাকে, অথবা রক্তসম্পর্কীয় দরিদ্র আত্মীয় থাকে, তবে সেখানে স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ জায়েজ ও প্রশংসনীয়।

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا عبد الله بن عباس رضى الله عنه –

[(ঙ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখুন।]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ছিলেন রাসুলুল্লাহ সা.-এর আপন চাচাতো ভাই। নবীজি সা. তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন: “হে আল্লাহ! তাঁকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করুন এবং কুরআনের তাফসীর শিখিয়ে দিন।” তিনি ছিলেন উম্মতের শ্রেষ্ঠ মুফাসসির এবং তাঁকে ‘হিবরুল উম্মাহ’ (উম্মতের মহা পণ্ডিত) ও ‘তুরজুমানুল কুরআন’ (কুরআনের মুখপাত্র) বলা হতো। তিনি ৬৮ হিজরীতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন।

مجموعة (ب) : المقالات التاريخية والمناهج العلمية (الدرجة – ২০ x ১ = ২০)

(أجب عن سؤال واحد مما يلى)

٨- اكتب ترجمة الامام محمد بن اسماعيل البخارى مع ذكر خدماته فى علم الحديث مفصلا –

[৮. ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী রহ.-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন ও ইলমে হাদীসে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান বিশদভাবে আলোচনা করুন।]

জন্ম ও বংশপরিচয়:
আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস হযরত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুগীরাহ আল-জু’ফী আল-বুখারী রহ. ১৯৪ হিজরীর ১৩ই শাওয়াল জুমার নামাজের পর মধ্য এশিয়ার ঐতিহাসিক বুখারা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতৃহারা হন এবং তাঁর পরহেযগার মাতার স্নেহছায়ায় লালিত-পালিত হন। বাল্যকালেই তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে তাঁর মাতার অশ্রুসিক্ত ক্রন্দনের দোয়ায় অলৌকিকভাবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে।

জ্ঞানার্জন ও স্মৃতিশক্তি:
মাত্র দশ বছর বয়স থেকেই তিনি হাদীস মুখস্থ করা শুরু করেন এবং কিশোর বয়সেই হাজার হাজার হাদীস সনদসহ মুখস্থ করে ফেলেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি মাতা ও ভাইয়ের সাথে হজে গমন করেন এবং পবিত্র মক্কাতুল মুকাররমায় অবস্থান করে হাদীসের উচ্চতর গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। হাদীস অন্বেষণে তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, বাগদাদ, দামেশক, মিশর, বলখ ও নিশাপুরের প্রখ্যাত মুহাদ্দিসদের দরবারে দীর্ঘ সফর করেন। তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর মতো শীর্ষ মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল এক অলৌকিক বিস্ময়। বাগদাদের উলামায়ে কিরাম তাঁর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষার জন্য একশত হাদীসের সনদ ও মত্ন উলটপালট করে প্রশ্ন করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেকটি হাদীসের সঠিক সনদ ও মত্ন নির্ভুলভাবে শুনিয়ে দেন।

ইলমে হাদীসে ইমাম বুখারীর অমর অবদান:
১. সহীহ হাদীসের প্রথম বিশুদ্ধ সংকলন: ইমাম বুখারীর পূর্বে মুহাদ্দিসগণ সহীহ ও যয়ীফ হাদীস একত্রে সংকলন করতেন। ইমাম বুখারী রহ. সর্বপ্রথম কেবল সহীহ হাদীসের জন্য নিবেদিত কালজয়ী গ্রন্থ ‘আল-জামি’উস সহীহ’ রচনা করেন।
২. রিজাল শাস্ত্রে বিপ্লব: তিনি রাবীদের জীবনী ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ে ‘আত-তারীখুল কাবীর’, ‘আত-তারীখুল আওসাত’ এবং ‘আদ-দু’আফাউস সাগীর’ রচনা করে আসমাউর রিজাল শাস্ত্রকে অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করেন।
৩. অন্যান্য কালজয়ী গ্রন্থ: শিষ্টাচার বিষয়ে ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’, আকিদা বিষয়ে ‘খালকু আফ’আলিল ইবাদ’ এবং ‘কিতাবুল কুনা’ প্রভৃতি তাঁর অমর সৃষ্টি।

ইন্তেকাল:
জীবনের শেষভাগে বুখারার গভর্নরের রাজনৈতিক বিদ্বেষের শিকার হয়ে তিনি সমরকন্দের অদূরে খারতাং নামক গ্রামে চলে যান। সেখানেই ২৫৬ হিজরীর ১লা শাওয়াল ঈদুল ফিতরের রাতে ৬২ বছর বয়সে এই মহান হাদীস সম্রাট মহান রবের সান্নিধ্যে গমন করেন।

٩- بين خصائص الجامع الصحيح للامام البخارى مع ذكر تاريخ تأليفه وعدد احاديثه مفصلا –

[৯. ইমাম বুখারীর ‘আল-জামি’উস সহীহ’-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ, সংকলন ইতিহাস ও হাদীস সংখ্যা বিশদভাবে বর্ণনা করুন।]

সংকলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ইমাম বুখারী রহ. নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর সম্মানিত উস্তায ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ রহ.-এর দরবারে বসা ছিলেন। তখন উস্তায আক্ষেপ করে বললেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রাসুলুল্লাহ সা.-এর বিশুদ্ধ হাদীসগুলোর একটি সারসংক্ষেপ সংকলন করতে তবে কতই না উত্তম হতো!” এই কথাটি ইমাম বুখারীর অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করে। এর সাথে তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সা.-এর সামনে দাঁড়িয়ে একটি পাখা দিয়ে নবীজির দেহ মোবারক থেকে মাছি তাড়াচ্ছেন। স্বপ্ন বিশারদগণ এর ব্যাখ্যা দিলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সা.-এর হাদীস থেকে সমস্ত জাল ও মিথ্যা রেওয়ায়েত দূর করবেন। এই ঐশ্বরিক প্রেরণা নিয়ে তিনি গ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত নেন।

গ্রন্থ সংকলনের মেয়াদ ও তাহকীকী সতর্কতা:
ইমাম বুখারী রহ. দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মক্কা, মদিনা ও বিভিন্ন পবিত্র স্থানে অবস্থান করে তাঁর মুখস্থ ছয় লক্ষ হাদীস থেকে বাছাই করে এই গ্রন্থ সংকলন করেন। তিনি প্রতিটি হাদীস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করার পূর্বে গোসল করে দুই রাকাত ইস্তিখারার নামাজ আদায় করতেন এবং শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তবেই তা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করতেন।

সহীহ বুখারীর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সনদের বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ শর্ত: ইমাম বুখারী রাবীদের ন্যায়পরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির পাশাপাশি রাবী ও শায়খের মধ্যে সরাসরি শারীরিক সাক্ষাতের ঐতিহাসিক প্রমাণকে (সুবূতুল লিক্বা) বাধ্যতামূলক শর্ত করেছিলেন।
২. তারাজিমুল আবওয়াবের গভীরতা: গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায়ের শিরোনাম এক একটি স্বাধীন গবেষণামূলক ফিকহী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।
৩. পুনরাবৃত্তির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি: একটি হাদীসকে বিভিন্ন ফিকহী মাসআলা প্রমাণের স্বার্থে তিনি বিভিন্ন অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন সনদে উপস্থাপন করেছেন।
৪. মুআল্লাকাত ও আসার: সনদের ধারাবাহিকতা ছাড়াও সাহাবা ও তাবেঈদের প্রামাণ্য ফতোয়া সংযুক্ত করে তিনি হাদিসের প্রয়োগ ক্ষেত্রকে সুদৃঢ় করেছেন।

হাদীস সংখ্যা:
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ.-এর তাহকীক অনুযায়ী, পুনরাবৃত্তিসহ সহীহ বুখারীর মোট হাদীস সংখ্যা ৭,৫৬৩টি। আর পুনরাবৃত্তি ছাড়া মৌলিক হাদীসের সংখ্যা প্রায় ২,৬০২টি। এর সাথে মুআল্লাক ও মুতাবা’আত রেওয়ায়েত যুক্ত করলে মোট সংখ্যা ৯,০৮২টিতে পৌঁছায়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: কামিল হাদীস ২য় পত্রের বিষয় ও কোড কী?

উত্তর: কামিল হাদীস দ্বিতীয় পত্রের বিষয় হলো ‘সহীহুল বুখারী (দ্বিতীয় খণ্ড)’ এবং এর বিষয় কোড হলো 611202। পূর্ণমান ১০০ নম্বর।

প্রশ্ন ২: বদর যুদ্ধে মিকদাদ রা.-এর ঐতিহাসিক উক্তিটি কী ছিল?

উত্তর: মিকদাদ রা. বলেছিলেন, “আমরা বনী ইসরাঈলের মতো বলব না যে আপনি ও আপনার রব গিয়ে লড়াই করুন, বরং আমরা আপনার ডানে, বাঁয়ে, সামনে ও পেছনে থেকে বীরদর্পে লড়াই করব।”

প্রশ্ন ৩: আরবের সামরিক পরিভাষায় ‘আল-খামিস’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: তৎকালীন পঞ্চমুখী সুসজ্জিত বাহিনীকে আল-খামিস বলা হতো, যা অগ্রবর্তী, কেন্দ্রীয়, ডান, বাম ও পশ্চাৎবর্তী—এই পাঁচটি ডিভিশনে বিভক্ত থাকত।

প্রশ্ন ৪: হানাফী মাযহাব মতে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ কত?

উত্তর: হানাফী মাযহাব মতে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো ১০ দিরহাম, যা বর্তমান হিসেবে প্রায় ৩০.৬১৮ গ্রাম খাঁটি রূপা বা তার সমপরিমাণ মূল্য।

প্রশ্ন ৫: যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত কী ছিল?

উত্তর: হযরত আবু বকর রা. শপথ করে বলেছিলেন, যারা নামাজ ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদ পরিচালনা করা হবে, এমনকি উটের একটি রশি দিতে অস্বীকার করলেও যুদ্ধ হবে।

প্রশ্ন ৬: পুনরাবৃত্তি ছাড়া সহীহ বুখারীর মৌলিক হাদীস সংখ্যা কত?

উত্তর: হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ.-এর তাহকীক মতে, পুনরাবৃত্তি ছাড়া সহীহ বুখারীতে স্বতন্ত্র হাদীসের সংখ্যা ২,৬০২টি (পুনরাবৃত্তিসহ ৭,৫৬৩টি)।