اختبار السنة الأولى للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ۲۰۲۱م
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
القرآن والدراسات الاسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه
[তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহু ওয়া তারজামাতু মাআ’নিহি]
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০২
الوقت – ٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة – ٨٠ [পূর্ণমান—৮০]
الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]
مجموعة (الف) [ক বিভাগ]
الدرجات – ۳۰ [মান: ৩০]
১- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية: [নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ১০ × ২ = ২০)
(الف) عرف علم القرآءة ثم تحدث عن القرآءات السبع والعشر-
[علم القرآة এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর القرآءات السبع والعشر সম্পর্কে আলোচনা কর।]
১. ইলমুল কিরাআতের সংজ্ঞা (تعريف علم القراءة):
আভিধানিক অর্থ: القراءة শব্দটি قرأ – يقرأ ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত مصدر, যার অর্থ পাঠ করা, তিলাওয়াত করা বা উচ্চারণ করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.)-এর মতে—
«عِلْمٌ بِكَيْفِيَّةِ أَدَاءِ كَلِمَاتِ الْقُرْآنِ وَاخْتِلَافِهَا مَعْزُوًّا لِنَاقِلِهِ»
অর্থাৎ: কুরআনুল কারীমের শব্দাবলি বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করার নিয়ম-পদ্ধতি এবং বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণিত এর পঠনরীতির বিভিন্নতাকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে জানার শাস্ত্রকে ইলমুল কিরাআত বলে।
২. সাব’আহ ও আশারাহ কিরাআত (القراءات السبع والعشر):
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: «أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ» (কুরআন সাতটি আঞ্চলিক ভাষারীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে)। পরবর্তী যুগে তাবেয়ী ও আইম্মায়ে কিরাআতের বিশুদ্ধ মুতাওয়াতির সনদের ভিত্তিতে প্রসিদ্ধ কিরাআতসমূহ সংকলিত হয়। ইমাম ইবনে মুজাহিদ (রহ.) সর্বপ্রথম হিজরী চতুর্থ শতকে সাতটি কিরাআতকে সংকলিত করেন, যা ‘সাব’আহ কিরাআত’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) আরও তিনটি সহীহ মুতাওয়াতির কিরাআত যুক্ত করে ‘আশারাহ কিরাআত’ বা দশ কিরাআতের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
বিখ্যাত দশজন ইমাম ও তাঁদের রাবীগণ:
১. ইমাম নাফে মাদানী (রহ.): তাঁর দুই প্রধান রাবী হলেন কালূন ও ওয়ারশ।
২. ইমাম ইবনে কাসীর মাক্কী (রহ.): তাঁর দুই রাবী বাযযী ও কুনবুল।
৩. ইমাম আবু আমর বসরী (রহ.): তাঁর দুই রাবী দূরী ও সূসী।
৪. ইমাম ইবনে আমির শামী (রহ.): তাঁর দুই রাবী হিশাম ও ইবনে যাকওয়ান।
৫. ইমাম আসেম কূফী (রহ.): তাঁর দুই প্রধান রাবী শু’বাহ ও হাফস (আমাদের উপমহাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের প্রায় ৯০% অঞ্চলে ইমাম আসেমের সূত্রে হাফসের কিরাআত সর্বাধিক প্রচলিত)।
৬. ইমাম হামযাহ কূফী (রহ.): তাঁর দুই রাবী খালাফ ও খাল্লাদ।
৭. ইমাম কিসায়ী কূফী (রহ.): তাঁর দুই রাবী আবুল হারিস ও দূরী।
[এ সাতটি হলো কিরাআতে সাব’আহ]। এর সাথে পরবর্তী তিনজন যোগ হয়ে কিরাআতে আশারাহ পূর্ণ হয়:
৮. ইমাম আবু জাফর মাদানী (রহ.): রাবী ঈসা ইবনে ওয়ারদান ও ইবনে জাম্মায।
৯. ইমাম ইয়াকূব হাযরামী (রহ.): রাবী রুওয়ায়স ও রাওহ।
১০. ইমাম খালাফ ইবনে হিশাম (রহ.): রাবী ইসহাক্ব ও ইদরীস।
(ب) تحدث عن اهمية تلاوة القرآن بالتجويد مستدلا بنصوص من القرآن والسنة-
[কুরআন ও সুন্নাহর দলিল উল্লেখপূর্বক তাজবীদসহকারে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর।]
১. কুরআনুল কারীমের দলিলের আলোকে তাজবীদের গুরুত্ব:
কুরআন মাজীদ সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুর, লয় ও তাজবীদসহ অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
১. ﴿وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا﴾ (সূরা আল-মুযযাম্মিল: ৪)। অর্থাৎ: “এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন তারতীল তথা স্পষ্ট ও সুন্দর তাজবীদ সহকারে।” হযরত আলী (রা.) তারতীলের তাফসিরে বলেন: «التَّرْتِيلُ هُوَ تَجْوِيدُ الْحُرُوفِ وَمَعْرِفَةُ الْوُقُوفِ» (তারতীল হলো হরফসমূহকে তাজবীদসহ আদায় করা এবং ওয়াকফের স্থানসমূহ চেনা)।
২. ﴿الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ﴾ (সূরা আল-বাক্বারা: ১২১)। অর্থাৎ: “যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে (তাজবীদ ও আনুগত্যের হক্ব আদায় করে); তারাই এর প্রতি প্রকৃত ঈমান রাখে।”
২. সুন্নাহ ও হাদীসের দলিলের আলোকে গুরুত্ব:
১. সুন্দর কণ্ঠে ও সহীহভাবে পাঠের নির্দেশ: রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
«زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ» (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৬৮)
“তোমরা তোমাদের সুমধুর কণ্ঠের মাধ্যমে কুরআনকে সুশোভিত করো।”
২. কুরাইশ ভাষার স্বাভাবিক উচ্চারণে পাঠ: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
«اقْرَءُوا الْقُرْآنَ بِلُحُونِ الْعَرَبِ وَأَصْوَاتِهَا»
“তোমরা আরবদের নিজস্ব বিশুদ্ধ সুর ও উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত করো।”
৩. দক্ষ ক্বারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা: হযরত আয়েশা (রা.) সূত্রে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:
«الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ» (সহীহ বুখারী: ৪৯৩৭)
“যে ব্যক্তি তাজবীদ সহকারে দক্ষতার সাথে কুরআন পাঠ করে, সে সম্মানিত পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কষ্ট করে তোতলামি সত্ত্বেও কুরআন পড়ার চেষ্টা করে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।”
(ج) ما معنى الاستعاذة والبسملة وما صيغهما واحكامهما؟ بين موضحا-
[الاستعاذة এবং البسملة কাকে বলে? এদের শাব্দিক গঠন ও বিধানসমূহ কী কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]
১. আল-ইস্তি’আযাহ (الاستعاذة):
– অর্থ ও সংজ্ঞা: ইস্তি’আযাহ শব্দের অর্থ আশ্রয় প্রার্থনা করা। তিলাওয়াতের শুরুতে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করাকে ইস্তি’আযাহ বা তা’আউউয বলে।
– মাসনূন সীগাহ বা শব্দমালা: সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও প্রচলিত রূপ হলো— «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»।
– শরয়ী হুকুম: জমহুর ফুক্বাহায়ে কিরামের মতে তিলাওয়াতের প্রারম্ভে ইস্তি’আযাহ পাঠ করা মুস্তাহাব/সুন্নাত। তবে কোনো কোনো ইমাম সূরা নাহলের ৯৮ নম্বর আয়াতের (﴿فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ﴾) বাহ্যিক নির্দেশনার আলোকে একে ওয়াজিব বলেছেন।
২. আল-বাসমালাহ (البسملة):
– অর্থ ও সংজ্ঞা: তিলাওয়াতের প্রারম্ভে মহান আল্লাহর বরকতময় নামের স্মরণে «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ» পাঠ করাকে বাসমালাহ বলে।
– শরয়ী হুকুম: সূরা আত-তাওবাহ ব্যতীত কুরআনের অন্য যেকোনো সূরার শুরুতে তিলাওয়াত শুরু করলে বাসমালাহ পাঠ করা সকল ক্বারীর সর্বসম্মত মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তবে সূরা তাওবার শুরুতে বাসমালাহ পাঠ করা নিষিদ্ধ বা মাকরূহ; কারণ এটি কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর যুদ্ধ ও সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা নিয়ে নাযিল হয়েছে।
– তিলাওয়াতকালে চার পদ্ধতি (أوجه الابتداء): ইস্তি’আযাহ ও বাসমালাহ সহ কোনো সূরা শুরু করার ৪টি নিয়ম রয়েছে: (১) ক্বাতউল কুল্ল (সব আলাদা পড়া), (২) ওয়াসলুল কুল্ল (সব মিলিয়ে পড়া), (৩) ফাসলুল আউয়াল ও ওয়াসলুস সানী (ইস্তি’আযাহ আলাদা করে বাসমালাহ ও সূরার শুরু মেলানো), (৪) ওয়াসলুল আউয়াল ও ফাসলুস সানী (ইস্তি’আযাহ ও বাসমালাহ মিলিয়ে সূরার শুরু আলাদা করা)।
(د) عرف اللحن ثم تحدث عن اقسامه واحكامه ممثلا-
[اللحن পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ এবং হুকুমসমূহ উদাহরণসহ আলোচনা কর।]
১. আল-লাহন (اللحن)-এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: বিচ্যুতি, ভুল বা বিকৃতি (الخطأ والميل عن الصواب)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাজবীদের নিয়মাবলি ও আরবী ব্যাকরণের নীতি লঙ্ঘন করে কুরআন তিলাওয়াতে কোনো প্রকারের অশুদ্ধি করাকে লাহন বলে।
২. লাহনের প্রকারভেদ ও হুকুমসমূহ:
লাহন প্রধানত দুই প্রকার:
১. লাহনে জলী (اللحن الجلي – প্রকাশ্য ভুল):
– সংজ্ঞা: এমন মারাত্মক ও প্রকাশ্য ভুল যা হরফের মূল সত্তা, মাখরাজ বা ই’রাবকে (হরকত) বিকৃত করে ফেলে, যার কারণে অর্থ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়।
– উদাহরণ: হরকত পরিবর্তন করা—যেমন সূরা ফাতিহায় ﴿أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ﴾ (তা-তে যবর)-এর স্থানে ‘আনআমতু’ (পেশ) বা ‘আনআমতি’ (যের) পড়া; কিংবা হরফ পরিবর্তন করা—যেমন ﴿عَسَىٰ﴾ (আশা করা)-এর জায়গায় ﴿عَصَىٰ﴾ (নাফরমানি করা) পড়া, অথবা ‘ক্বলব’ (অন্তর)-এর জায়গায় ‘কালব’ (কুকুর) পড়া।
– হুকুম: লাহনে জলী করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পড়লে নামায নিশ্চিতভাবে ফাসেদ বা বাতিল হয়ে যায়।
২. লাহনে খফী (اللحن الخفي – সূক্ষ্ম ভুল):
– সংজ্ঞা: এমন সূক্ষ্ম ভুল যা তিলাওয়াতের শাস্ত্রীয় সৌন্দর্য ও নিখুঁত রূপ নষ্ট করে কিন্তু সাধারণ মানুষের বোধগম্য হয় না, কেবল অভিজ্ঞ ক্বারীগণ বুঝতে পারেন।
– উদাহরণ: গুন্নাহ ছেড়ে দেওয়া বা অতিরিক্ত করা, মাদের পরিমাণের চেয়ে কম-বেশি টানা, ইযহার বা ইখফাকে নিখুঁত না করা, অথবা তারক্বীক্ব ও তাফখীম যথাযথ না হওয়া।
– হুকুম: লাহনে খফী করা মাকরূহ। এটি তিলাওয়াতের পরিপূর্ণ সৌন্দর্য বিনষ্টকারী হলেও এতে সাধারণ অবস্থায় সালাত নষ্ট হয় না।
২- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية: [সংক্ষেপে নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ৫ × ২ = ১০)
(الف) تحدث عن فضيلة تلاوة القرآن مدللا-
[দলিল উল্লেখপূর্বক কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত আলোচনা কর।]
কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠতম যিকির ও নফল ইবাদত। এর ফজিলত সম্পর্কে অকাট্য দলিলসমূহ হলো:
১. প্রতিটি হরফে দশটি নেকি: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ» (জামে তিরমিযী: ২৯১০)।
২. কিয়ামতে সুপারিশকারী: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: «اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ» (সহীহ মুসলিম: ৮০৪)। অর্থাৎ কিয়ামতের কঠিন দিনে কুরআন তার তিলাওয়াতকারীর মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে।
৩. জান্নাতের সুউচ্চ মাক্বাম লাভ: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কুরআনের হাফেজ ও তিলাওয়াতকারীকে কিয়ামতের দিন বলা হবে: “পড়ো এবং মর্যাদার সিঁড়িতে আরোহণ করো, তুমি যেখানে শেষ আয়াত তিলাওয়াত করবে সেখানেই তোমার জান্নাতের স্থায়ী ঠিকানা হবে।”
(ب) تحدث عن أحكام الراء موضحا-
[الراء এর বিধানসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]
আরবী বর্ণ ‘রা’ (ر) উচ্চারণের দিক থেকে তিনটি মূল অবস্থায় বিভক্ত হয়:
১. তাফখীম বা মোটা করে পড়া (تفخيم الراء):
– ‘রা’-এর ওপর ফাতহাহ (যবর) বা দাম্মাহ (পেশ) থাকলে। যেমন: ﴿رَحْمَةٌ﴾، ﴿رُسُلٌ﴾।
– ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্বের হরফে ফাতহাহ বা দাম্মাহ থাকলে। যেমন: ﴿قَرْيَةٌ﴾، ﴿قُرْآنٌ﴾।
– ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্বে আরিজ বা অস্থায়ী কাসরাহ থাকলে। যেমন: ﴿ارْجِعِي﴾।
২. তারক্বীক্ব বা পাতলা/চিকন করে পড়া (ترقيق الراء):
– ‘রা’-এর নিচে আসল কাসরাহ (যের) থাকলে। যেমন: ﴿رِجَالٌ﴾، ﴿كَرِيمٌ﴾।
– ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্বের হরফে আসল স্থায়ী কাসরাহ থাকলে (যদি পরে কোনো ইস্তিলার হরফ না থাকে)। যেমন: ﴿مِرْيَةٍ﴾، ﴿فِرْعَوْنَ﴾।
– ওয়াকফের কারণে ‘রা’ সাকিন হলে এবং তার পূর্বে ইয়া সাকিন (হরফে লীন বা মাদ) থাকলে। যেমন: ﴿خَيْرٌ﴾، ﴿قَدِيرٌ﴾।
৩. উভয় সুরত জায়েজ (جواز الوجهين): যেমন ﴿فِرْقٍ﴾ শব্দে তাফখীম ও তারক্বীক্ব উভয়টি বৈধ।
(ج) عرف الوقف ثم اكتب علاماته-
[الوقف এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর আলামতসমূহ লিপিবদ্ধ কর।]
১. ওয়াকফের পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: বিরত থাকা বা থামা (الحبس والكف)। তাজবীদের পরিভাষায়, তিলাওয়াত অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে নিঃশ্বাস গ্রহণ করার জন্য কোনো শব্দের শেষ প্রান্তে স্বরধ্বনি সাময়িকভাবে বন্ধ করাকে ওয়াকফ বলে।
২. ওয়াকফের প্রধান প্রধান আলামতসমূহ:
১. مـ (ওয়াকফে লাযিম): এখানে থামা বাধ্যতামূলক বা আবশ্যক; না থামলে অর্থের মারাত্মক বিকৃতি ঘটে।
২. ط (ওয়াকফে মুতলাক): এখানে থামা উত্তম ও অগ্রাধিকারযোগ্য।
৩. ج (ওয়াকফে জায়েজ): থামা এবং মিলিয়ে পড়া উভয়টি সমভাবে জায়েজ।
৪. ز (ওয়াকফে মুজাওওয়ায): মিলিয়ে পড়া উত্তম, তবে থামাও বৈধ।
৫. ص (ওয়াকফে মুরাখখাস): নিঃশ্বাস সংকুলান না হলে থামার অবকাশ রয়েছে।
৬. لا (ওয়াকফে মামনূ’): এখানে থামা নিষেধ; মিলিয়ে পড়া ওয়াজিব।
৭. ∴ ∴ (মুআনাক্বাহ): পাশাপাশি দুটি স্থানে তিনটি করে নুকতা থাকে; যেকোনো একটি স্থানে থামতে হবে, উভয় স্থানে থামা যাবে না।
(د) عرف المد ثم بين حروفه ممثلا-
[المد এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর হরফসমূহ উদাহরণসহ উল্লেখ কর।]
১. মাদের সংজ্ঞা:
তাজবীদ শাস্ত্রে মাদের তিনটি হরফ অথবা লিনের দুটি হরফের কোনো একটি উচ্চারণের সময় স্বরধ্বনিকে দীর্ঘ করে টানাকে মাদ বলে।
২. মাদের হরফসমূহ (حروف المد):
মাদের হরফ তিনটি, যা সংক্ষেপে «نُوحِيهَا» শব্দের মাঝে চমৎকারভাবে একত্রিত হয়েছে:
১. আলিফ সাকিন (ا), যার পূর্বের হরফে ফাতহাহ (যবর) থাকে: যেমন— ﴿قَالَ﴾ (ক্বালা)।
২. ওয়াও সাকিন (و), যার পূর্বের হরফে দাম্মাহ (পেশ) থাকে: যেমন— ﴿يَقُولُ﴾ (ইয়াক্বূলু)।
৩. ইয়া সাকিন (ي), যার পূর্বের হরফে কাসরাহ (যের) থাকে: যেমন— ﴿قِيلَ﴾ (ক্বীলা)।
এসব ক্ষেত্রে সাধারণ অবস্থায় এক আলিফ (দুই হরকত) পরিমাণ দীর্ঘ করে টানা ওয়াজিব, যাকে মাদে আসলী বা ত্ববায়ীয়ী বলা হয়।
مجموعة (ب) [খ বিভাগ] – হিফজুল কুরআন
الدرجات – ২০ [মান: ২০]
৩- اكتب من حفظك اثنين من السور التالية: [স্মৃতি থেকে নিচের যে কোনো দুটি সূরা মুখস্থ লেখ:] (মান: ১০ × ২ = ২০)
(الف) سورة الاعلى [সূরা আল-আ’লা]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ﴿١﴾ الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّىٰ ﴿٢﴾ وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ ﴿٣﴾ وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَىٰ ﴿٤﴾ فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَىٰ ﴿٥﴾ سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰ ﴿٦﴾ إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۚ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ ﴿٧﴾ وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٨﴾ فَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ الذِّكْرَىٰ ﴿٩﴾ سَيَذَّكَّرُ مَن يَخْشَىٰ ﴿١٠﴾ وَيَتَجَنَّبُهَا الْأَشْقَى ﴿١١﴾ الَّذِي يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرَىٰ ﴿١٢﴾ ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ ﴿١٣﴾ قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ﴿١٤﴾ وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّىٰ ﴿١٥﴾ بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ﴿١٦﴾ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ ﴿١٧﴾ إِنَّ هَٰذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَىٰ ﴿١٨﴾ صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ ﴿١٩﴾
সরল অর্থ:
১. আপনার সুউচ্চ প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন,
২. যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন,
৩. এবং যিনি ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন অতঃপর পথ প্রদর্শন করেছেন,
৪. এবং যিনি তৃণলতা উৎপন্ন করেছেন,
৫. অতঃপর তাকে কালো আবর্জনায় পরিণত করেছেন।
৬. আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি ভুলবেন না,
৭. তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন; নিশ্চয় তিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবই জানেন।
৮. এবং আমি আপনার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব।
৯. অতএব আপনি উপদেশ দিন, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়।
১০. যে ভয় করে সে উপদেশ গ্রহণ করবে,
১১. আর তা এড়িয়ে চলবে চরম হতভাগা,
১২. যে প্রবেশ করবে মহা অগ্নিতে (জাহান্নামে);
১৩. অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।
১৪. নিশ্চয় সেই সফলকাম হয়েছে যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করেছে,
১৫. এবং স্বীয় রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে।
১৬. বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও,
১৭. অথচ আখেরাতই সর্বোৎকৃষ্ট ও চিরস্থায়ী।
১৮. নিশ্চয় এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও বিদ্যমান ছিল,
১৯. ইবরাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে।
(ب) سورة البينة [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ ﴿١﴾ رَسُولٌ مِّنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفًا مُّطَهَّرَةً ﴿٢﴾ فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ ﴿٣﴾ وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ ﴿٤﴾ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ ﴿٥﴾ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ أُولَٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ ﴿٦﴾ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ ﴿٧﴾ جَزَاؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۖ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ ﴿٨﴾
সরল অর্থ:
১. আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তারা তাদের পথ থেকে নিবৃত্ত হওয়ার মতো ছিল না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ সমাগত হয়—
২. আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল, যিনি পাঠ করেন পবিত্র সহীফা,
৩. যাতে রয়েছে সঠিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিধিমাল।
৪. আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা বিভক্ত হয়েছে কেবল তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই।
৫. অথচ তাদেরকে কেবল এই আদেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা খাঁটি অন্তরে একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে, সালাত কায়েম করবে এবং যাকাত আদায় করবে; আর এটাই হলো সুদৃঢ় ও সঠিক দ্বীন।
৬. নিশ্চয় আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা জাহান্নামের আগুনে চিরকাল থাকবে; তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।
৭. আর নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম।
৮. তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের প্রতিদান হলো স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে; এটি তার জন্য যে তার প্রতিপালককে ভয় করে।
(ج) سورة الزلزال [সূরা আয-যিলযাল]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ﴿١﴾ وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴿٢﴾ وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ﴿٣﴾ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ﴿٤﴾ بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ﴿٥﴾ يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ ﴿٦﴾ فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ﴿٧﴾ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ﴿٨﴾
সরল অর্থ:
১. যখন পৃথিবী তার চূড়ান্ত ভূকম্পনে প্রকম্পিত হবে,
২. এবং পৃথিবী তার পেটের যাবতীয় বোঝা বের করে দেবে,
৩. আর মানুষ বলবে, এর কী হলো?
৪. সেদিন পৃথিবী তার যাবতীয় বৃত্তান্ত প্রকাশ করবে,
৫. কারণ আপনার প্রতিপালক তাকে আদেশ করবেন।
৬. সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বের হবে যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো যায়।
৭. অতএব কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে,
৮. এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলেও সে তা দেখতে পাবে।
(د) سورة القارعة [সূরা আল-ক্বারিয়াহ]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الْقَارِعَةُ ﴿١﴾ مَا الْقَارِعَةُ ﴿٢﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ ﴿٣﴾ يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ ﴿٤﴾ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ ﴿٥﴾ فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ ﴿٦﴾ فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ ﴿٧﴾ وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ﴿٨﴾ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ﴿٩﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ ﴿١٠﴾ نَارٌ حَامِيَةٌ ﴿١١﴾
সরল অর্থ:
১. মহা আঘাতকারী (কিয়ামত)!
২. মহা আঘাতকারী কী?
৩. আর কিসে আপনাকে জানাবে মহা আঘাতকারী কী?
৪. সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো,
৫. এবং পর্বতসমূহ হবে ধুনিত রঙিন তুলার মতো।
৬. অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে,
৭. সে তো থাকবে পরম সন্তোষজনক জীবনে।
৮. পক্ষান্তরে যার পাল্লা হালকা হবে,
৯. তার ঠিকানা হবে অতল হাবিয়া গহ্বর।
১০. আর কিসে আপনাকে জানাবে তা কী?
১১. তা এক লেলিহান উত্তপ্ত অগ্নি!
مجموعة (ج) [গ বিভাগ] – তারজামাতু মায়ানীহি ও তাফসির
الدرجات – ۳۰ [মান: ৩০]
৪- ترجم اثنين من النصوص القرآنية وأجب عن الأسئلة الملحقة: [নিচের যে কোনো দুটি কুরআনিক পাঠ্যের অর্থ লেখ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহের উত্তর দাও:] (মান: ১৫ × ২ = ৩০)
(الف) النص الأول: سورة عبس (الآيات الأخيرة)
فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ ﴿٣٣﴾ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ ﴿٣٤﴾ وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ ﴿٣٥﴾ وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ ﴿٣٦﴾ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ ﴿٣٧﴾ وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ ﴿٣٨﴾ ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ ﴿٣٩﴾ وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ ﴿٤٠﴾
সরল অর্থ:
৩৩. অতঃপর যখন সেই কর্ণবিদারক বজ্রনিনাদ (কিয়ামত) উপস্থিত হবে,
৩৪. সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার আপন ভাই থেকে,
৩৫. এবং তার মা ও তার বাবা থেকে,
৩৬. এবং তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে।
৩৭. সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন অবস্থা হবে যা তাকে সম্পূর্ণ ব্যতিব্যস্ত রাখবে।
৩৮. অনেক মুখমণ্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল ও আলোকোজ্জ্বল,
৩৯. সহাস্য ও আনন্দোৎফুল্ল;
৪০. আর বহু মুখমণ্ডলে সেদিন ধূলি-মলিন কালিমা লেপন করা থাকবে।
(১) ما معنى الصاخة؟ ثم اذكر عشرة أسماء للقيامة:
– الصاخة এর অর্থ: الصاخة শব্দটি صخّ ধাতু থেকে উদ্ভূত اسم فاعل। এর আভিধানিক অর্থ: এমন তীব্র, প্রচণ্ড ও বিকট শব্দ যা মানুষের কানের পর্দাকে বধির বা বিদীর্ণ করে ফেলে (الصيحة العظيمة التي تصخّ الأسماع)। পারিভাষিক অর্থে এটি কিয়ামতের দ্বিতীয় শিংগার ফুৎকারকে বোঝায় যার ভয়াবহ শব্দে সমগ্র সৃষ্টি পুনরুত্থিত হবে।
– কুরআনে বর্ণিত কিয়ামতের ১০টি প্রসিদ্ধ নাম:
১. يوم القيامة (কিয়ামত দিবস)
২. الصاخة (কর্ণবিদারক নিনাদ)
৩. الطامة الكبرى (মহা বিপদ)
৪. القارعة (মহা আঘাতকারী)
৫. الغاشية (আচ্ছন্নকারী মহাসংকট)
৬. يوم الحساب (হিসাব দিবস)
৭. يوم الفصل (চূড়ান্ত ফয়সালার দিন)
৮. يوم البعث (পুনরুত্থান দিবস)
৯. الواقعة (অনিবার্য মহাপ্রলয়)
১০. يوم الدين (প্রতিফল দিবস)।
(২) حلل الكلمات الاتية: (শব্দবিশ্লেষণ / তাহকীক):
- يفر:
সিগাহ: واحد مذكر غائب
বাহাস: فعل مضارع معروف
বাব: ضرب – يضرب (فرّ – يفرّ)
মাসদার: الفرار
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ف – ر – ر (ফা-রা-রা)
জিনস: مضاعف ثلاثي
অর্থ: সে পলায়ন করবে / পালিয়ে যাবে। - يغنيه:
সিগাহ: واحد مذكر غائب مع ضمير مفعول
বাহাস: فعل مضارع معروف
বাব: إفعال (أغنى – يغني)
মাসদার: الإغناء
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): غ – ن – ي (গাইন-নূন-ইয়া)
জিনস: ناقص يائي
অর্থ: যা তাকে ব্যস্ত বা ব্যাপৃত রাখবে। - مسفرة:
সিগাহ: مفرد مؤنث
বাহাস: اسم فاعل
বাব: إفعال (أسفر – يسفر)
মাসদার: الإسفار
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): س – ف – ر (সীন-ফা-রা)
জিনস: صحيح
অর্থ: উজ্জ্বল, প্রদীপ্ত, আলোকোজ্জ্বল। - غبرة:
সিগাহ: اسم مصدر / اسم
বাব: سمع – يسمع (غَبِرَ – يغبر)
মাসদার: الغَبَر
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): غ – ب – ر (গাইন-বা-রা)
জিনস: صحيح
অর্থ: ধূলি, কালিমা, বিষাদের মলিনতা।
(ب) النص الثاني: سورة الفجر
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ ﴿٦﴾ إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ ﴿٧﴾ الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ ﴿٨﴾ وَثَمُودَ الَّذِينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِ ﴿٩﴾ وَفِرْعَوْنَ ذِي الْأَوْتَادِ ﴿١٠﴾ الَّذِينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِ ﴿١١﴾ فَأَكْثَرُوا فِيهَا الْفَسَادَ ﴿١٢﴾ فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ ﴿١٣﴾
সরল অর্থ:
৬. আপনি কি দেখেননি আপনার প্রতিপালক আদ জাতির সাথে কী আচরণ করেছিলেন?
৭. সুউচ্চ স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম গোত্রের সাথে,
৮. যার সমকক্ষ পৃথিবীতে কোনো দেশে সৃষ্টি করা হয়নি?
৯. এবং সামূদ জাতির সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে ঘর তৈরি করেছিল?
১০. এবং বহু সৈন্য-শিবির ও কীলকের অধিকারী ফিরাউনের সাথে?
১১. যারা পৃথিবীতে সীমাহীন অবাধ্যতা ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল,
১২. অতঃপর সেখানে চরম বিপর্যয় ও ফাসাদ বিস্তার করেছিল।
১৩. পরিশেষে আপনার প্রতিপালক তাদের ওপর শাস্তির চাবুক বর্ষণ করলেন।
(১) من الرسول الذى بعثه الله الى قوم عاد؟ ولماذا اهلك الله قوم عاد؟
– রসূলের নাম: মহান আল্লাহ আদ জাতির নিকট স্বীয় নবী হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)-কে প্রেরণ করেছিলেন।
– আদ জাতিকে ধ্বংস করার কারণসমূহ:
১. তারা আল্লাহর একত্ববাদ অস্বীকার করে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছিল।
২. আল্লাহ প্রদত্ত বিশাল দৈহিক শক্তি ও সুউচ্চ সুরম্য ইমারতের অহংকারে উদ্ধত হয়ে বলেছিল: «مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً» (“আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কে আছে?”)।
৩. তারা হযরত হূদ (আ.)-কে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে তাঁর দাওয়াতকে উপহাসের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং আল্লাহর আজাব আনার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিল।
ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর একটানা সাত রাত ও আট দিনব্যাপী তীব্র শীতল সাইক্লোন ও ঘূর্ণিবায়ু (ريح صرصر عاتية) বর্ষণ করে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা খেজুর গাছের কাণ্ডের মতো নিশ্চিহ্ন করে দেন।
(২) حلل الكلمات الاتية: (শব্দবিশ্লেষণ / তাহকীক):
- جابوا:
সিগাহ: جمع مذكر غائب
বাহাস: فعل ماض معروف
বাব: نصر – ينصر (جاب – يجوب)
মাসদার: الجَوْب
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ج – و – ب (জীম-ওয়াও-বা)
জিনস: معتل العين (أجوف واوي)
অর্থ: তারা কেটেছিল বা ছিদ্র করেছিল। - طغوا:
সিগাহ: جمع مذكر غائب
বাহাস: فعل ماض معروف
বাব: فتح – يفتح (طغى – يطغى)
মাসদার: الطغيان
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ط – غ – ي (ত্বোয়া-গাইন-ইয়া)
জিনস: ناقص يائي
অর্থ: তারা সীমালঙ্ঘন করেছিল। - اكثروا:
সিগাহ: جمع مذكر غائب
বাহাস: فعل ماض معروف
বাব: إفعال (أكثر – يكثر)
মাসদার: الإكثار
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ك – ث – ر (কাফ-ছা-রা)
জিনস: صحيح
অর্থ: তারা বিস্তার করেছিল / বৃদ্ধি করেছিল। - صب:
সিগাহ: واحد مذكر غائب
বাহাস: فعل ماض معروف
বাব: نصر – ينصر (صبّ – يصبّ)
মাসদার: الصَبّ
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ص – ب – ب (সোয়াদ-বা-বা)
জিনস: مضاعف ثلاثي
অর্থ: তিনি বর্ষণ করলেন / ঢেলে দিলেন।
(ج) النص الثالث: سورة الانفطار
إِذَا السَّمَاءُ انفَطَرَتْ ﴿١﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انتَثَرَتْ ﴿٢﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿٣﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿٤﴾ عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ﴿٥﴾ يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ ﴿٦﴾ الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ ﴿٧﴾ فِي أَيِّ صُورَةٍ مَّا شَاءَ رَكَّبَكَ ﴿٨﴾
সরল অর্থ:
১. যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,
২. এবং যখন তারকারাজি ঝরে পড়বে,
৩. এবং যখন সমুদ্রসমূহকে উথলে দেওয়া হবে,
৪. এবং যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে,
৫. তখন প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে সে কী আগে পাঠিয়েছে এবং কী পেছনে রেখে এসেছে।
৬. হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে বিভ্রান্ত করলো?
৭. যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন,
৮. যে আকৃতিতে চেয়েছেন তিনি তোমাকে গঠন করেছেন।
(১) فسر قوله تعالى “واذا القبور بعثرت”:
মহান আল্লাহর বাণী ﴿وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ﴾-এর তাফসিরে ইমাম ইবনে কাসীর ও আল্লামা তাবারী (রহ.) উল্লেখ করেন, ‘বু’সিরাত’ (بُعْثِرَتْ) শব্দের অর্থ হলো উলটপালট করা, ভেতর থেকে উপড়ে ফেলা এবং উন্মোচিত করা (قُلِبَ ترابها وأُخرج موتاها)। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন ইসরাফীল (আ.)-এর দ্বিতীয় ফুঁৎকারের পর যমিনের মাটি উলটপালট হয়ে যাবে এবং সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত যত মানুষ কবরে শায়িত ছিল তাদের মৃতদেহ পুনর্জীবিত হয়ে মাটির গভীর থেকে বের হয়ে হাশরের ময়দানের দিকে ধাবিত হবে।
(২) تحدث عن اشراط الساعة: (কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ):
হাদীস শরীফে কিয়ামতের আলামতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. ছোট আলামতসমূহ (أشراط الساعة الصغرى): রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আগমন ও ওফাত, জ্ঞান বিলুপ্ত হওয়া ও অজ্ঞতার বিস্তার, আমানতের খিয়ানত, ব্যভিচার ও বাদ্যযন্ত্রের অবাধ প্রসার, অযোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে বসা, এবং সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে রাখালদের প্রতিযোগিতা।
২. বড় আলামতসমূহ (أشراط الساعة الكبرى): হযরত হুযায়ফা (রা.) বর্ণিত সহীহ মুসলিমের হাদীস অনুযায়ী প্রধান ১০টি বড় আলামত:
– ধোঁয়ার আবির্ভাব (الدخان)
– দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ (خروج الدجال)
– ভূগর্ভস্থ অদ্ভুত জন্তুর আবির্ভাব (دابة الأرض)
– পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় (طلوع الشمس من مغربها)
– হযরত ঈসা (আ.)-এর আসমান থেকে অবতরণ
– ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাদুর্ভাব (خروج يأجوج ومأجوج)
– তিনটি বিশাল ভূ-ধস (পূর্বে, পশ্চিমে ও আরব উপদ্বীপে)
– এবং সর্বশেষে ইয়েমেনের দিক থেকে নির্গত অগ্নি যা মানুষদের হাশরের ময়দানের দিকে হাঁকিয়ে নেবে।
(د) النص الرابع: سورة البروج
إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ ﴿١٢﴾ إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ ﴿١٣﴾ وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ ﴿١٤﴾ ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ ﴿١٥﴾ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ ﴿١٦﴾ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْجُنُودِ ﴿١٧﴾ فِرْعَوْنَ وَثَمُودَ ﴿١٨﴾ بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي تَكْذِيبٍ ﴿١٩﴾ وَاللَّهُ مِن وَرَائِهِم مُّحِيطٌ ﴿٢٠﴾ بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَّجِيدٌ ﴿٢١﴾ فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظٍ ﴿٢٢﴾
সরল অর্থ:
১২. নিশ্চয় আপনার প্রতিপালকের পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন!
১৩. নিশ্চয় তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন।
১৪. আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম প্রেমময়,
১৫. আরশের সম্মানিত অধিপতি,
১৬. তিনি যা ইচ্ছা তা-ই কার্যকরী করেন।
১৭. আপনার কাছে কি পৌঁছেছে সেই সৈন্যবাহিনীর বৃত্তান্ত?
১৮. ফিরাউন ও সামূদের?
১৯. বরং যারা কুফরি করেছে তারা তো সর্বদা সত্যকে অস্বীকার করতেই নিমগ্ন,
২০. অথচ আল্লাহ চতুর্দিক থেকেই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
২১. বরং এটি এক মহিমান্বিত মহাগ্রন্থ কুরআন,
২২. যা সংরক্ষিত রয়েছে সুরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুযে)।
(১) اوضح قوله تعالى “بل هو قرآن مجيد فى لوح محفوظ”:
আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তাআলা কাফেরদের দাবির জবাবে কুরআনের স্বরূপ ঘোষণা করেছেন। ‘কুরআনুন মাজীদ’ (قُرْآنٌ مَّجِيدٌ) অর্থ এটি এক চির মহিমান্বিত, সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক বাণী। আর ‘ফী লাওহিম মাহফূয’ (فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظٍ) অর্থ এটি আসমানের এমন এক সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ রয়েছে যা শয়তানদের স্পর্শ, কোনো প্রকার বিকৃতি, সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তনের হাত থেকে চিরতরে সুরক্ষিত। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, কাফেররা যতই অপপ্রচার করুক না কেন, কুরআনের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং আল্লাহ নিজেই এর হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন।
(২) حلل الكلمات الآتية: (শব্দবিশ্লেষণ / তাহকীক):
- يعيد:
সিগাহ: واحد مذكر غائب
বাহাস: فعل مضارع معروف
বাব: إفعال (أعاد – يعيد)
মাসদার: الإعادة
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ع – و – د (আইন-ওয়াও-দাল)
জিনস: معتل العين (أجوف واوي)
অর্থ: তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন / ফিরিয়ে আনবেন। - فعّال:
সিগাহ: صيغة مبالغة (অতিশয়ার্থক বিশেষ্য)
বাব: فتح – يفتح (فعل – يفعل)
ওজন: فَعَّالٌ
মাসদার: الفعل
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ف – ع – ل (ফা-আইন-লাম)
জিনস: صحيح
অর্থ: চূড়ান্ত সম্পাদনকারী, যিনি যা ইচ্ছা তা-ই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেন। - محيط:
সিগাহ: اسم فاعل مفرد مذكر
বাহাস: اسم فاعل
বাব: إفعال (أحاط – يحيط)
মাসদার: الإحاطة
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ح – و – ط (হা-ওয়াও-ত্বোয়া)
জিনস: معتل العين (أجوف واوي)
অর্থ: বেষ্টনকারী, যাঁর জ্ঞান ও শক্তির বাইরে কেউ যেতে পারে না। - محفوظ:
সিগাহ: اسم مفعول مفرد مذكر
বাহাস: اسم مفعول
বাব: سمع – يسمع (حفظ – يحفظ)
মাসদার: الحفظ
মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ح – ف – ظ (হা-ফা-জোয়া)
জিনস: صحيح
অর্থ: সুরক্ষিত, সংরক্ষিত, হিফাযতকৃত।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ফাজিল ১ম বর্ষের তাজবীদুল কুরআন পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?
তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহু ওয়া তারজামাতু মাআ’নিহি (বিষয় কোড: ২০১১০২) পরীক্ষার পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং পরীক্ষার সময় নির্ধারিত থাকে ৪ ঘণ্টা।
প্রশ্ন ২: কিরাআতে সাব’আহ ও আশারাহর সংকলক কারা?
সর্বপ্রথম সাতটি প্রসিদ্ধ মুতাওয়াতির কিরাআত সংকলন করেন ইমাম ইবনে মুজাহিদ (রহ.), এবং পরবর্তীতে আরও তিনজন ইমামের কিরাআত সমন্বয় করে দশ কিরাআত প্রামাণ্যভাবে সংকলন করেন ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.)।
প্রশ্ন ৩: আরবী হরফ ‘রা’ (ر) কখন মোটা (তাফখীম) করে পড়তে হয়?
‘রা’-এর ওপর ফাতহাহ (যবর) বা দাম্মাহ (পেশ) থাকলে, অথবা ‘রা’ সাকিন এবং তার পূর্ববর্তী হরফে ফাতহাহ বা দাম্মাহ থাকলে ‘রা’-কে তাফখীম বা মোটা করে পড়তে হয়।
প্রশ্ন ৪: কুরআনের সংকেতে ‘মীম’ (مـ) এবং ‘লা’ (لا) কী নির্দেশ করে?
‘মীম’ (مـ) ওয়াকফে লাযিম নির্দেশ করে যেখানে থামা আবশ্যক; আর ‘লা’ (لا) নির্দেশ করে যেখানে থামা অনুচিত এবং মিলিয়ে পড়া বিধিবদ্ধ।
প্রশ্ন ৫: ২০২১ সালের হিফজ অংশে কোন কোন সূরা লিখতে এসেছিল?
২০২১ সালের খ বিভাগে মুখস্থ লেখার জন্য চারটি সূরা এসেছিল: সূরা আল-আ’লা, সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, সূরা আয-যিলযাল এবং সূরা আল-ক্বারিয়াহ।
প্রশ্ন ৬: লাওহে মাহফুয (لوح محفوظ) বলতে কী বোঝায়?
লাওহে মাহফুয হলো আসমানের সেই সুরক্ষিত মূল ফলক যাতে কুরআনুল কারীমসহ মহাবিশ্বের অতীত ও ভবিষ্যতের সকল বিষয় সংরক্ষিত রয়েছে এবং যা শয়তানের স্পর্শ ও বিকৃতি থেকে চিরতরে মুক্ত।