বাংলাদেশ স্টাডিজ (Bangladesh Studies) – 201107, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৬৯ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الدراسات البنغلاديشية [বাংলাদেশ স্টাডিজ]
পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০০৭ | বিষয় কোড: ২০১১০৭
الزمن — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]

[দ্রষ্টব্য : ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রত্যেক বিভাগ থেকে চারটি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]


مجموعة (أ) [ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন]

الدرجات — ১৫ × ৪ = ৬০ [মান — ১৫ × ৪ = ৬০]

(أجب عن أربعة من الأسئلة التالية) [নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]


১- تحدث عن دور حركة اللغة فى استقلال بنغلاديش-

১। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা কর। (মান: ১৫)

ভূমিকা:
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা, অধিকার সচেতনতা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রথম রক্তস্নাত বহিঃপ্রকাশ। আপাতদৃষ্টিতে এটি মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন মনে হলেও এর অন্তর্নিহিত প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক দ্বি-জাতিতত্ত্বের মোহভঙ্গ ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল, তা ধারাবাহিকভাবে স্বাধিকার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দেয়।

১. দ্বি-জাতিতত্ত্বের অসারতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ:
১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পাকিস্তানের কায়েমি শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি উপলব্ধি করে যে, ভৌগোলিক ব্যবধান ও ভাষা-সংস্কৃতির বৈপরীত্যের কারণে নিছক ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো বাঙালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি দিতে পারে না। এর ফলে ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ‘পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ’-এর বিকল্প হিসেবে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর বিকাশ ঘটে।

২. মধ্যবিত্ত ও ছাত্রসমাজের রাজনৈতিক জাগরণ:
ভাষা আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ বুদ্ধিজীবী এবং বিকাশমান বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে বাঙালি ছাত্রসমাজ প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আন্দোলনের কলাকৌশলে দক্ষ হয়ে ওঠে। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরের রক্তের শপথ বাঙালিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার চিরন্তন প্রেরণা জোগায়।

৩. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রভাব:
ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফসল ছিল ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফার প্রথম দফাতেই ‘বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার’ প্রতিশ্রুতি দেয়। নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী শক্তির অবিস্মরণীয় বিজয় সূচিত হয়। ফলে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার।

৪. সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার পুনরুজ্জীবন:
২১শে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তাজগতে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করে। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’, জহির রায়হানের উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ এবং শহীদ মিনারের প্রতীকী রূপ বাঙালির জাতীয় ঐক্য ও দ্রোহের প্রতীকে পরিণত হয়। বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ স্বাধীনতার সাংস্কৃতিক ভিত্তি মজবুত করে।

৫. স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের যোগসূত্র:
ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সকল গণসংগ্রামের প্রধান আত্মবিশ্বাস হিসেবে কাজ করেছে:
* ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশন আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল ভাষার অধিকার।
* ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফা ছিল ভাষা আন্দোলনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধিকারের যৌক্তিক রূপায়ন।
* ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতি একুশের চেতনাতেই উদ্বুদ্ধ হয়ে রায় দিয়েছিল।
* পরিশেষে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একুশের স্বপ্ন ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’ বাস্তবে রূপ লাভ করে।

উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার মর্যাদার লড়াই ছিল না; এটি ছিল বাঙালির মুক্তির প্রথম মাইলফলক। একুশের রক্তই একাত্তরে লক্ষ প্রাণের আত্মদানে রূপান্তরিত হয়ে লাল-সবুজের স্বাধীন মানচিত্র উপহার দিয়েছে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল সূতিকাগার নিঃসন্দেহে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।


২- اكتب ما تعرف عن الحركة ذات ست نقاط لعام ১৯৬৬ م-

২। ছেষট্টির ছয়দফা আন্দোলন সম্পর্কে যা জান লিখ। (মান: ১৫)

ভূমিকা:
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ‘ছয়দফা কর্মসূচি’ ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধিকারের এক অবিসংবাদিত ম্যাগনাকার্টা (Magna Carta)। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫–৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি পেশ করেন। পরবর্তীতে ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করা হয়।

১. ছয়দফা উত্থাপনের ঐতিহাসিক পটভূমি:
১৯৪৭ সালের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে একটি উপনিবেশ হিসেবে শোষণ করে আসছিল। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণরূপে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও অভিভাবকহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। বাঙালি উপলব্ধি করে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করে বাঙালিদের জীবন ও সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এই চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বায়ত্তশাসনের চূড়ান্ত দাবি হিসেবে ছয়দফার জন্ম হয়।

২. ঐতিহাসিক ছয়দফার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ:

  1. দফা-১ (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি): ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির এবং সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে আইনসভা গঠিত হবে।
  2. দফা-২ (কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা): কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকারের হাতে কেবল দুটি বিষয় থাকবে—(ক) দেশরক্ষা (Defense) এবং (খ) বৈদেশিক বিষয় (Foreign Affairs)। অবশিষ্ট সকল বিষয় অঙ্গরাজ্যগুলোর (প্রদেশের) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  3. দফা-৩ (মুদ্রা ও অর্থব্যবস্থা): মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প প্রস্তাব রাখা হয়:
    (ক) সমগ্র পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে; অথবা
    (খ) সমগ্র দেশের জন্য একটি মাত্র মুদ্রা চালু থাকবে, তবে সংবিধানে এমন সুনির্দিষ্ট বিধান থাকতে হবে যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচার হতে না পারে। এ উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ ও আর্থিক নীতি থাকবে।
  4. দফা-৪ (রাজস্ব, কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা): ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে সকল প্রকার কর, শুল্ক ও খাজনা ধার্য ও আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো কর আদায়ের ক্ষমতা থাকবে না; কেন্দ্র তার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রদেশগুলোর আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাভ করবে।
  5. দফা-৫ (বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা):
    (ক) অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব রাখবে এবং নিজ নিজ ইচ্ছানুযায়ী তা ব্যবহারের অধিকারী হবে।
    (খ) কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা প্রদেশগুলো সংবিধানে নির্ধারিত হারে সমভাবে সরবরাহ করবে।
    (গ) বিদেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি করার পূর্ণ ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকবে।
  6. দফা-৬ (আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা): আঞ্চলিক সংহতি ও নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অঙ্গরাজ্য বা প্রদেশগুলোকে নিজস্ব কর্তৃত্বাধীনে আধা-সামরিক বাহিনী (Para-Military Force) বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।

৩. ছয়দফা আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
* শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন: পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ছয়দফাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে অস্ত্রের ভাষায় দমন করার হুমকি দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কুখ্যাত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করা হয়।
* ৭ই জুনের হরকাল ও গণজাগরণ: ১৯৬৬ সালের ৭ই জুন ছয়দফার সমর্থনে সারা বাংলায় সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। মনু মিয়াসহ বহু আন্দোলনকারী পুলিশের গুলিতে শাহাদাতবরণ করেন।
* স্বাধীনতার রূপরেখা: ছয়দফা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে অধিকার সচেতন করে তোলে এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে স্বাধীনতার একদফায় রূপান্তরের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।

উপসংহার:
ছয়দফা কোনো নিছক আঞ্চলিক দাবিনামা ছিল না; এটি ছিল বাঙালির বেঁচে থাকার একমাত্র জীবনসংগ্রাম। এর সফল নেতৃত্বই শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে অধিষ্ঠিত করে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের অনিবার্য পথ রচনা করে।


৩- اذكر الثروات الطبعية والمعدنية بنغلاديش وأهمية فى الإقتصاد-

৩। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব বর্ণনা কর। (মান: ১৫)

ভূমিকা:
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এক অপার সম্ভাবনাময় দেশ। যদিও ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের কারণে এদেশের অধিকাংশ অঞ্চল পলল সমভূমি, তবুও দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি ও পাদদেশীয় অঞ্চলে এবং বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে মূল্যবান খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার রয়েছে। দেশের জাতীয় অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার সিংহভাগই এই প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল।

১. বাংলাদেশের প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিবরণ:

  1. প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas): প্রাকৃতিক গ্যাস হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান এবং প্রধান দেশীয় বাণিজ্যিক জ্বালানি সম্পদ। ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। এ পর্যন্ত দেশে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে (যেমন: তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা, রশিদপুর, বাখরাবাদ ইত্যাদি)। দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেকের বেশি, সার কারখানার কাঁচামাল এবং শিল্প-কারখানা ও আবাসিকের জ্বালানি এই গ্যাস থেকে মেটানো হয়।
  2. কয়লা (Coal): দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উচ্চমানের বিটুমিনাস ও এনথ্রাসাইট কয়লার বৃহৎ খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রধান কয়লাক্ষেত্রগুলো হলো—দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া, জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ এবং রংপুরের খালাসপীর। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লা দিয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
  3. চুনাপাথর (Limestone): সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল চুনাপাথর। সিলেটের সুনামগঞ্জের বাঘলীবাড়ি ও টেকেরহাট, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে চুনাপাথরের বিশাল মজুত রয়েছে। দেশের সিমেন্ট কারখানাগুলোতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
  4. কঠিন শিলা (Hard Rock): দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় ভূপৃষ্ঠের নিচে উন্নতমানের গ্রানাইট বা কঠিন শিলার খনি রয়েছে। এটি সড়ক, রেললাইন, সেতু, নদীশাসন এবং ভারী অবকাঠামো নির্মাণে পাথর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।
  5. চিনামাটি বা সাদামাটি (White Clay / China Clay): নেত্রকোনার বিজয়পুর, শেরপুর এবং নওগাঁয় উচ্চমানের চিনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সিরামিক সামগ্রী, টাইলস, স্যানিটারি সামগ্রী এবং তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  6. সিলিকা বালু (Silica Sand): সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনায় উন্নতমানের কাচবালি বা সিলিকা বালু পাওয়া যায়। এটি কাচ ও গ্লাস শিল্পে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  7. তেজস্ক্রিয় ভারী খনিজ বালু: কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও চট্টগ্রাম সমুদ্র সৈকতের বালুতে মোনাজাইট, জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট প্রভৃতি বহুমুখী মূল্যবান ও পারমাণবিক শক্তি উপযোগী ভারী খনিজের সন্ধান মিলেছে।
  8. খনিজ তেল (Petroleum): ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে এবং পরবর্তীতে কৈলাশটিলায় সীমিত পরিমাণে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে, তবে চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য।

২. জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের প্রভাব:

  • বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা: প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রেখেছে।
  • কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা: ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়ে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী অবদান রাখছে।
  • ভারী ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ: সিমেন্ট, সিরামিক, গ্লাস, ইস্পাত ও রি-রোলিং মিলের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে দেশীয় চুনাপাথর, গ্যাস ও কঠিন শিলার ওপর ভিত্তি করে।
  • বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও কর্মসংস্থান: দেশীয় খনিজ উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

উপসংহার:
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। সুপরিকল্পিত ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অপচয় রোধের মাধ্যমে এই সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।


৪- اكتب ماذا تعرف عن مشكلة البطالة وحلها في بنغلاديش-

৪। বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কে যা জান লিখ। (মান: ১৫)

ভূমিকা:
বেকারত্ব বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আর্থ-সামাজিক ও জাতীয় সমস্যা। যে সক্ষম ও কর্মক্ষম ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কোনো উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না, তাকে বেকার বলা হয়। বাংলাদেশে বিপুল কর্মক্ষম যুবসমাজ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ বেকারত্বের অভিশাপ বহন করছে, যা জাতীয় সমৃদ্ধির পথে এক বিরাট অন্তরায়।

১. বাংলাদেশে বেকারত্বের বর্তমান রূপ ও প্রকৃতি:

  • শিক্ষিত বেকারত্ব: প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়া যুবকদের একটি বিশাল অংশ চাকরি না পেয়ে শিক্ষিত বেকারে পরিণত হচ্ছে।
  • ছদ্মবেশী বা প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব (Disguised Unemployment): কৃষি খাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মানুষ নিয়োজিত থাকে। আপাতদৃষ্টিতে কাজ করছে মনে হলেও তাদের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্যের কোঠায়।
  • মৌসুমি বেকারত্ব: কৃষি শ্রমিকরা ফসল বোনা ও কাটার মধ্যবর্তী মাসগুলোতে সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়ে।
  • কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত বেকারত্ব: আধুনিক কম্পিউটার ও অটোমেশনের ফলে সনাতন শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছে।

২. বেকার সমস্যার মূল কারণসমূহ:

  1. জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি: কর্মক্ষম জনশক্তির বৃদ্ধির হারের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশে নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হচ্ছে না।
  2. ত্রুটিপূর্ণ ও তাত্ত্বিক শিক্ষাব্যবস্থা: বর্তমান প্রচলিত সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা মূলত সনদমুখী ও কেরানিনির্ভর। কর্মমুখী, প্রায়োগিক, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার অভাবের কারণে ডিগ্রিধারীরা চাকরির বাজারে অদক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
  3. শিল্পায়নের মন্থর গতি: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ভারী ও মাঝারি শিল্প-কারখানার আশানুরূপ বিস্তার ঘটছে না।
  4. কৃষির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা: কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির পর্যাপ্ত ছোঁয়া না লাগায় এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাবে গ্রামীণ জনশক্তি বেকার থাকছে।
  5. পুঁজি ও উদ্যোক্তা সহায়তার অভাব: তরুণরা নতুন ব্যবসা বা উদ্ভাবনী উদ্যোগ (Startup) নিতে চাইলে পর্যাপ্ত জামানতবিহীন ঋণ এবং বিনিয়োগ সহায়তার অভাবে ব্যর্থ হয়।

৩. বেকার সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ:

  1. কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার আমূল সংস্কার: সাধারণ তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে জাতীয় শিক্ষানীতিতে পলিটেকনিক, ভোকেশনাল, আইটি এবং কারিগরি ট্রেড কোর্সকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে ছাত্ররা ডিগ্রি শেষেই আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী হয়।
  2. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) এবং স্টার্টআপে সহজ ঋণ: শিক্ষিত তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহজ শর্তে এবং স্বল্প বা বিনা সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সহায়তা দিতে হবে।
  3. তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিকাশ: ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুললে ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।
  4. কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আধুনিকায়ন: কৃষিভিত্তিক শিল্প, ডেইরি, পোলট্রি, মৎস্যচাষ ও কোল্ড স্টোরেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে গ্রামীণ যুবসমাজকে উৎপাদনে সম্পৃক্ত করতে হবে।
  5. দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে ভাষা, নার্সিং, ওয়েল্ডিং ও আইটিতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও জাপানের শ্রমবাজারে জনশক্তি পাঠাতে হবে।

উপসংহার:
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তরুণ ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’ (Demographic Dividend)। এই তরুণ শক্তিকে অবহেলায় রেখে দেশের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাই আজকের সময়ের সর্বপ্রধান জাতীয় দাবি।


৫- عرف الدستور- ثم بين الحقوق الأساسية المذكورة فى دستور بنغلاديش-

৫। সংবিধানের সংজ্ঞা দাও। বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ বর্ণনা কর। (মান: ১৫)

১. সংবিধানের সংজ্ঞা:
সংবিধান হলো কোনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ, চূড়ান্ত ও মৌলিক আইন, যার দ্বারা সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের (আইনসভা, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতা, এখতিয়ার ও পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয় এবং রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্যসমূহের স্থায়ী রূপরেখা নিশ্চিত করা হয়।
* রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস (Lord Bryce): “Constitution is a frame of political society, organized through and by law, that is to say one in which law has established permanent institutions with recognized functions and definite rights.”
* অধ্যাপক ডাইসি (A. V. Dicey): সংবিধান হলো সেইসব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বিধিমালার সমষ্টি যা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতার বণ্টন ও প্রয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়। সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন।

২. বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ:
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত) নাগরিকদের মোট ১৮টি অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত হয়েছে। প্রধান প্রধান মৌলিক অধিকারসমূহ নিচে বিশদভাবে বর্ণিত হলো:

  1. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ধনী-দরিদ্র, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
  2. ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ (অনুচ্ছেদ ২৮): কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না এবং সর্বজনীন স্থানে প্রবেশের সুযোগ থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।
  3. সরকারি নিয়োগলাভে সুযোগের সমতা (অনুচ্ছেদ ২৯): প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। তবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বিধান রাখা যাবে।
  4. আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩১): আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী আচরণলাভ প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার; কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা বা সম্পত্তির কোনো ক্ষতি আইনসংগত কারণ ছাড়া করা যাবে না।
  5. জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ (অনুচ্ছেদ ৩২): আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন বা ব্যক্তি-স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না। এটি নাগরিকের প্রধানতম মৌলিক মানবিক অধিকার।
  6. গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষণাকবচ (অনুচ্ছেদ ৩৩): কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ দ্রুত না জানিয়ে আটকে রাখা যাবে না এবং আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করতে হবে।
  7. জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ (অনুচ্ছেদ ৩৪): সকল প্রকার বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তিমূলক বেগার খাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বেআইনি।
  8. চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬): জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, বসবাস এবং দেশ ত্যাগের ও প্রত্যাবর্তনের অধিকার থাকবে।
  9. সমাবেশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭): জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আরোপিত বাধা সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে এবং নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেশ করার অধিকার থাকবে।
  10. সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৮): সমিতি বা রাজনৈতিক দল বা ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার থাকবে।
  11. চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকবে এবং যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকবে।
  12. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪০): যেকোনো বৈধ পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা বা কারবার পরিচালনার অধিকার নাগরিকের থাকবে।
  13. ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১): প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
  14. সম্পত্তির অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪২): আইনানুযায়ী সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করার অধিকার থাকবে।
  15. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ (অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২): কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা কার্যকর করার জন্য সংবিধানের ১০২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার:
সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূলভিত্তি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের অনুশাসনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল এই সাংবিধানিক অধিকারগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।


৬- تحدث عن دور بعض العلماء المشهورين في إشاعة الدراسات الإسلامية في بنغلاديش-

৬। বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষার প্রচার প্রসারে কতিপয় প্রসিদ্ধ আলেমের অবদান সম্পর্কে আলোচনা কর। (মান: ১৫)

ভূমিকা:
বাংলার শ্যামল ভূখণ্ডে ইসলাম প্রচার এবং ইসলামি শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ও সংস্কারে এদেশের হক্কানী আলেম ও মনীষীগণের অবদান অবিস্মরণীয়। সুফি-দরবেশদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের প্রাথমিক সূচনা হলেও পরবর্তীকালে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, পাঠ্যক্রম সংস্কার, তাফসির ও হাদিস চর্চা এবং শিরক-বিদআতমুক্ত সমাজ গঠনে একদল যুগান্তকারী আলেম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

১. হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী (রহ.) (১৮০০–১৮৭৩):
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী ও সৈয়দ আহমদ শহীদের শিষ্য মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী বাংলার ইসলামি রেনেসাঁসের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিনি দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে নৌকায় ভেসে বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিশুদ্ধ কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান প্রচার করেন। ইসলামি শিক্ষার বিস্তার এবং শিরক, কুসংস্কার ও স্থানীয় অনৈসলামিক রীতি দূরীকরণে তিনি অসংখ্য পুস্তিকা রচনা করেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় নোয়াখালী, বরিশাল, রংপুরসহ পুরো বাংলায় ইসলামি শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।

২. শামসুল উলামা মাওলানা আবু নসর অহীদ (রহ.) (১৮৭২–১৯৫৩):
সিলেটের কৃতী সন্তান মাওলানা আবু নসর অহীদ আধুনিক ও আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার অন্যতম প্রধান সংস্কারক। তিনি ১৯১৪ সালে মাদ্রাসা শিক্ষায় ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে ‘নিউ স্কিম মাদ্রাসা’ (New Scheme Madrasah) ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম সমর্থক ছিলেন এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই এর ‘ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিভাগ’-এর প্রথম প্রধান নিযুক্ত হয়ে এ অঞ্চলে উচ্চতর ইসলামি গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক দ্বার উন্মোচন করেন।

৩. মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) (১৮৯৬–১৯৬৯):
হযরত ফরিদপুরী (রহ.) বাংলার কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার অন্যতম শীর্ষ অভিভাবক ও সংস্কারক ছিলেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা লালবাগ জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া এবং গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসাসহ শত শত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। আরবি শিক্ষার পাশাপাশি মাতৃভাষা বাংলায় বিশুদ্ধ ইসলামি সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য পথিকৃৎ। ‘ভুল সংশোধন’, ‘তাফসিরে হক্কানী’ এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর তাঁর গ্রন্থাবলি এদেশের ইসলামি শিক্ষার প্রসারে এক বিপ্লবী ভূমিকা রেখেছে।

৪. ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম (রহ.) (১৮৯৬–১৯৬৭):
দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.)-এর অন্যতম শীর্ষ ছাত্র আল্লামা তাজুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস হিসেবে দীর্ঘদিন খেদমত করেন। হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এ অঞ্চলে খাঁটি হাদিস শিক্ষার ব্যাপক প্রচার ঘটায়। কাদিয়ানী মতবাদ খণ্ডন এবং নাস্তিক্যবাদের মোকাবেলায় তিনি যুক্তি ও শাস্ত্রীয় জ্ঞানের সমন্বয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছেন।

৫. মাওলানা আবদুর রহীম (রহ.) (১৯১৮–১৯৮৭):
মাওলানা আবদুর রহীম বাংলাদেশে আধুনিক গবেষণাধর্মী ইসলামি চিন্তাচর্চা ও সাহিত্যের এক অনন্য রূপকার। তিনি ইসলামি আইন ও অর্থনীতির মতো আধুনিক জটিল বিষয়গুলোকে মাতৃভাষা বাংলায় সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর রচিত এবং অনূদিত অর্ধশতাধিক প্রামাণ্য গ্রন্থ (যেমন: ‘হাদিস সংকলনের ইতিহাস’, ‘ইসলামের অর্থনীতি’, ‘ইসলামের বিধান ও সমাজব্যবস্থা’) মাদ্রাসার উচ্চতর শ্রেণি ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইসলামি শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে।

উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, উপরোল্লিখিত বিশিষ্ট আলেমদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ, পাণ্ডিত্য এবং সমাজ সংস্কারমূলক দূরদর্শিতার কারণেই আবহমান বাংলায় বিশুদ্ধ ইসলামি শিক্ষার সুদৃঢ় ভীত রচিত হয়েছিল। তাঁদের অবদান এদেশের জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চিরভাস্বর অধ্যায় হয়ে থাকবে।


مجموعة (ب) [খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]

الدرجات — ৫ × ৪ = ২০ [মান — ৫ × ৪ = ২০]

(أجب عن أربعة من الأسئلة التالية بالإختصار) [সংক্ষেপে নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]


৭- اكتب الحدود الجغرافية لدولة بنغلاديش-

৭। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখা লিখ। (মান: ৫)

১. ভৌগোলিক অবস্থান (Mathematical Location):
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ২০°৩৪´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৩০´ উত্তর) দেশটির প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।

২. ভৌগোলিক সীমারেখা (Surrounding Boundaries):

  • উত্তর সীমানা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, আসাম এবং মেঘালয় রাজ্য।
  • পশ্চিম সীমানা: সম্পূর্ণভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
  • পূর্ব সীমানা: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং দক্ষিণ-পূর্বে মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্য।
  • দক্ষিণ সীমানা: উন্মুক্ত ও বিশাল নীল জলরাশির বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)।

৩. সীমানার দৈর্ঘ্য:
বাংলাদেশের মোট সীমারেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,২৪৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের সাথে স্থল ও নদী সীমান্ত ৪,১৫৬ কিলোমিটার, মায়ানমারের সাথে সীমান্ত ২৭১ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ উপকূলীয় তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।


৮- بين القبائل والشعوب الأصلية بنغلاديش-

৮। বাংলাদেশের উপজাতি ও আদিবাসী সম্পর্কে ধারণা দাও। (মান: ৫)

বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রায় অর্ধশত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা আদিবাসী সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বসবাস করে আসছে। সাংবিধানিকভাবে তারা ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ হিসেবে স্বীকৃত।

প্রধান প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি:

  1. পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠী: বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বাস করে। এদের মধ্যে সংখ্যায় সর্বাধিক চাকমা, এরপর যথাক্রমে মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, পাংখোয়া, লুসাই ও খিয়াং। তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ (বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু)।
  2. সমতল অঞ্চলের নৃগোষ্ঠী:
    • ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: গারো (মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা) এবং হাজং। গারোদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ওয়ানগালা’।
    • সিলেট অঞ্চল: খাসিয়া (মাতৃতান্ত্রিক), মনিপুরি (বিখ্যাত মনিপুরি নৃত্য ও রাস উৎসব) ও পাত্র।
    • উত্তরবঙ্গ (রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর): সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, রাজবংশী ও মালপাহাড়ী।
    • উপকূলীয় অঞ্চল (পটুয়াখালী ও বরগুনা): মগ বা রাখাইন সম্প্রদায়।

এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের নিজস্ব কথ্য ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, সংগীত ও লৌকিক ধর্মীয় আচার রয়েছে, যা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।


৯- عرف بعض الأنهار المشهورة فى بنغلاديش-

৯। বাংলাদেশের কয়েকটি প্রসিদ্ধ নদীর পরিচয় দাও। (মান: ৫)

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান বৃহত্তম নদীমাতৃক ব-দ্বীপ দেশ। দেশের ভূপ্রকৃতি ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রধান প্রধান নদীগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে:

  1. পদ্মা নদী: হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ‘পদ্মা’ নাম ধারণ করেছে। পরবর্তীতে এটি গোয়ালন্দের কাছে যমুনার সাথে এবং চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। পদ্মা দেশের অন্যতম প্রশস্ত ও খরস্রোতা নদী।
  2. মেঘনা নদী: আসামের নাগা-মণিপুর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বরাক নদী নামে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভৈরবের কাছে এ দুটি ধারা মিলিত হয়ে ‘কালনী’ এবং পরবর্তীতে ‘মেঘনা’ নাম ধারণ করে। এটি বাংলাদেশের গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী যা বিশাল মোহনা দিয়ে সাগরে মিশেছে।
  3. যমুনা নদী: তিব্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ১৭৮৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে নতুন খাতে প্রবাহিত হয়ে ‘যমুনা’ নাম ধারণ করে। এটি দেশের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক নদী।
  4. কর্ণফুলী নদী: মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এর মোহনায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ‘চট্টগ্রাম বন্দর’ এবং কাপ্তাইয়ে দেশের একমাত্র পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত।

১০- اكتب ما تعلم عن الانتفاضة الجماهيرية لعام ১৯৬৯ م-

১০। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে যা জান লিখ। (মান: ৫)

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানের আইয়ুবীয় সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আপামর ছাত্র-শ্রমিক-জনতার এক অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী ও যুগান্তকারী গণবিদ্রোহ।

মূল ঘটনাবলি ও তাৎপর্য:

  1. পটভূমি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয়দফা দাবির জনপ্রিয়তা ধ্বংস করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৬৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে ফাঁসি দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে।
  2. ছাত্রসমাজের ১১ দফা: ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে আন্দোলনকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করে।
  3. রক্তদান ও বিস্ফোরণ: ২০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। এরপর ২৪ জানুয়ারি কিশোর মতিউর এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা সেনানিবাসে আটক অবস্থায় আগরতলা মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে পাকিস্তানি সেনারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
  4. ফলাফল: প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। পরিশেষে ২৫ মার্চ ১৯৬৯ স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

১১- تحدث عن الخطوات التي اتخذها حكومة بنغلاديش لتنمية المواصلات البرّية-

১১। স্থলভাগের যোগাযোগ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর। (মান: ৫)

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশের স্থল যোগাযোগ (সড়ক, রেল ও সেতু) ব্যবস্থায় এক অভাবনীয় ও বৈপ্লবিক আধুনিকায়ন ঘটেছে। সরকারের গৃহীত প্রধান প্রধান পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ:

  1. পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ: নিজস্ব অর্থায়নে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা সরাসরি রাজধানী ঢাকার সাথে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে।
  2. মেট্রোরেল (MRT) ও বিআরটি (BRT): রাজধানী ঢাকার তীব্র যানজট নিরসনে পরিবেশবান্ধব আধুনিক বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬: উত্তরা থেকে মতিঝিল) সফলভাবে চালু করা হয়েছে।
  3. ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত যানজটহীন দ্রুততম যোগাযোগের জন্য উড়াল সড়ক বা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
  4. বঙ্গবন্ধু টানেল (কর্ণফুলী টানেল): দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশে নির্মিত প্রথম ৩.৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ডারওয়াটার রোড টানেল, যা চট্টগ্রাম শহরকে আনোয়ারা প্রান্তের সাথে সংযুক্ত করেছে।
  5. জাতীয় মহাসড়ক চার ও ছয় লেনে রূপান্তর: ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।
  6. রেলওয়ের আধুনিকায়ন: যমুনা নদীর ওপর পৃথক বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ, দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেললাইন স্থাপন এবং পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন।

১২- اكتب فقرة وجيزة حول الكثافة السكانية في بنغلاديش-

১২। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ লিখ। (মান: ৫)

বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব (Population Density of Bangladesh)

জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার আয়তনে গড়ে যতজন মানুষ বসবাস করে তাকে বোঝায়। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সর্বশেষ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ এবং ভৌগোলিক আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। সে হিসাবে বর্তমানে এদেশের জনসংখ্যার গড় ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,১১৩ জন (শহরাঞ্চলে বিশেষ করে ঢাকায় এই ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারেরও বেশি)। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষি জমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। তবে আধুনিক অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিপুল জনসংখ্যাকে সঠিক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, নৈতিকতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে এটি সংকটের পরিবর্তে দেশের সমৃদ্ধির জন্য এক অপার সম্ভাবনাময় ‘জনমিতিক শক্তি’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ১ম বর্ষের বাংলাদেশ স্টাডিজ (২০১১০৭) পরীক্ষার মান বণ্টন কেমন?

পরীক্ষার মোট পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং নির্ধারিত সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ক বিভাগ (রচনামূলক – ৪টি উত্তর দিতে হয়, মান ১৫ × ৪ = ৬০) এবং খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত – ৪টি উত্তর দিতে হয়, মান ৫ × ৪ = ২০)।

২. ভাষা আন্দোলনকে কেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি বলা হয়?

ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত অবৈজ্ঞানিক পাকিস্তানি দ্বি-জাতিতত্ত্বের মোহভঙ্গ ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা জোগায়।

৩. ১৯৬৬ সালের ছয়দফাকে বাঙালির ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয় কেন?

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয়দফায় স্বায়ত্তশাসন, নিজস্ব মুদ্রা, রাজস্ব আদায় ও আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের মতো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের রূপরেখা ছিল, যা বাঙালির স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত করেছিল।

৪. বাংলাদেশ সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে?

বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত মোট ১৮টি অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার এবং অনুচ্ছেদ ১০২-এ তা বলবৎকরণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

৫. বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলো কোথায় অবস্থিত?

বাংলাদেশের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলো প্রধানত বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত; যেমন: তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র।

৬. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রধান তাৎপর্য কী ছিল?

এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খান কুখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন এবং আইয়ুবীয় একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *