পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০০৭
اختبار السنة الأولى للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
القرآن والدراسات الاسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الدراسات البنغلاديشية
[বাংলাদেশ স্টাডিজ]
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০৭
الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة—٨٠ [পূর্ণমান—৮০]
مجموعة (الف) [(ক) অংশ]
أجب عن أربعة من الاسئلة التالية [নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
الدرجات—١٥ × ٤ = ٦٠ [মান—১৫ × ৪ = ৬০]
১- تحدث عن الخلفيات السياسية والاجتماعية والاقتصادية والثقافية لاستقلال بنغلاديش-
[বাংলাদেশের স্বাধীনতার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমি আলোচনা কর।] (মান ১৫)
ভূমিকা:
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলেও শুরু থেকেই পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক নিপীড়ন, সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক লুণ্ঠন ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের নির্মম শিকারে পরিণত হয়। হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে কৃত্রিমভাবে এক রাষ্ট্রে বেঁধে রাখার অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ চব্বিশ বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
১. রাজনৈতিক পটভূমি (الخلفية السياسية):
- গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ: পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৬% বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা, সামরিক বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনে বাঙালির প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের ঐতিহাসিক বিজয়কে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অগণতান্ত্রিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়।
- সামরিক একনায়কতন্ত্র: ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক শাসন জারি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করার অপচেষ্টা চালানো হয়।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (১৯৬৮) ও গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯): বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে চিরতরে স্তব্ধ করতে রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলা দিলে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭ আসন) অর্জন করা সত্ত্বেও সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়ে ২৫ মার্চের কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে গণহত্যা শুরু করে, যার প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।
২. অর্থনৈতিক পটভূমি (الخلفية الاقتصادية):
- দ্বি-অর্থনীতি তত্ত্ব ও চরম বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তান ছিল কার্যত পশ্চিম পাকিস্তানের একটি কাঁচামাল সরবরাহকারী উপনিবেশ। পূর্ব বাংলার পাট ও চা রফতানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও রাজধানী ইসলামাবাদ গড়ে তোলার পেছনে।
- উন্নয়ন বাজেট ও বৈদেশিক সাহায্য বণ্টন: পাকিস্তানের মোট বাজেটের প্রায় ৭০-৭৫ ভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে। বৈদেশিক সাহায্যের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি বিনিয়োগ করা হতো সেখানে, যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়ে।
- পুঁজি পাচার: বাঙালি অর্থনীতিবিদরা (যেমন ড. নুরুল ইসলাম, রেহমান সোবহান) তথ্যপ্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে, প্রতি বছর পূর্ব পাকিস্তান থেকে শত শত কোটি টাকার সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয়ে যেত।
৩. সামাজিক পটভূমি (الخلفية الاجتماعية):
- চাকরি ও প্রশাসনে তীব্র বৈষম্য: পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসে বাঙালির হার ছিল মাত্র ১৫-২০% এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদে বাঙালির উপস্থিতি ছিল ৫%-এরও কম। বাঙালিরা নিজ দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো বঞ্চনার শিকার হতো।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবহেলা: ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারালেও কেন্দ্রীয় পাকিস্তানি জান্তা বিন্দুমাত্র মানবিক সহানুভূতি দেখায়নি; বরং আন্তর্জাতিক ত্রাণ বিতরণেও বাধা সৃষ্টি করে চরম ঔদাসীন্য প্রকাশ করে।
৪. সাংস্কৃতিক পটভূমি (الخلفية الثقافية):
- ভাষা আন্দোলন (১৯৪৮-১৯৫২): পাকিস্তানের কায়েমি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিয়ে বাঙালির হাজার বছরের ভাষা ও আত্মপরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত্তি রচিত হয়।
- সংস্কৃতি ধ্বংসের অপচেষ্টা: ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বাধা, রেডিও-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধকরণ এবং বাংলা বর্ণমালাকে আরবি হরফে রূপান্তরের ষড়যন্ত্র বাঙালি সংস্কৃতিমনস্ক মানুষকে প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।
উপসংহার:
রাজনৈতিক শোষণ, অর্থনৈতিক বঞ্চনা, সামাজিক লাঞ্ছনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা রক্ষার সুতীব্র তাগিদ থেকেই পূর্ব বাংলার মুক্তিকামী জনগণ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একতাবদ্ধ হয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
২- تحدث عن مساهمة المرأة في التنمية الاقتصادية لبنغلاديش-
[বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা কর।] (মান ১৫)
ভূমিকা:
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে পেছনে রেখে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে নারীসমাজ ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করছে। কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্রঋণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রবাসী আয়ে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করতে প্রত্যক্ষ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
১. তৈরি পোশাক শিল্পে (RMG Sector) নারীর ঐতিহাসিক ভূমিকা:
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এ খাতে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগই নারী। গ্রামীণ প্রান্তিক নারীরা তাঁদের অদম্য শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে ‘Made in Bangladesh’ ব্র্যান্ডকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পোশাক খাতের নারীদের অর্জিত আয় কেবল বৈদেশিক রিজার্ভই সমৃদ্ধ করছে না, বরং তা তাঁদের পারিবারিক দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে মৌলিক রূপান্তর এনেছে।
২. কৃষিখাত ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান:
গ্রামীণ বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বীজ সংরক্ষণ, ফসল মাড়াই, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্যানপালন, শাকসবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও দুগ্ধ উৎপাদনে নারীরা নিরবচ্ছিন্ন শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, গ্রামীণ কৃষিশ্রমে নারীর অংশগ্রহণ বিগত এক দশকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান অবলম্বন।
৩. ক্ষুদ্রঋণ (Microfinance) ও প্রান্তিক স্বাবলম্বিতা:
গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও আশা-সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০% গ্রাহকই নারী। নারীরা ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করে কুটিরশিল্প, গবাদিপশু পালন, হস্তশিল্প ও ছোট ব্যবসায়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
৪. নারী উদ্যোক্তা ও কুটিরশিল্পের বিকাশ:
বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতে সফল নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইন, বুটিক, ই-কমার্স, ক্যাটারিং, হস্তশিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে নারীরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় (F-Commerce) নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে বহুগুণ সম্প্রসারিত করেছে।
৫. প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি ও পেশাগত সেবা খাত:
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানে নারীর দক্ষতা আজ সর্বজনস্বীকৃত। প্রাথমিক শিক্ষকতায় নারীর জন্য ৬০% কোটা নিশ্চিত করায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এক বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং ও চিকিৎসাসেবায় নারীস্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা দেশের স্বাস্থ্যসূচকে অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।
৬. রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে নারীর অংশগ্রহণ:
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মী, নার্স ও পেশাজীবী হিসেবে লক্ষাধিক বাংলাদেশি নারী কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের পাঠানো কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে অপরিসীম ভূমিকা রাখছে।
উপসংহার:
নারী কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সহযোগী নন, বরং তিনি সমাজ রূপান্তরের প্রত্যক্ষ রূপকার। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুগুণ গতিশীল হবে।
৩- اكتب مقالة حول “صديق البنغال وخطبته التاريخية في ٧ مارس”-
[“বঙ্গবন্ধু ও তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ” শীর্ষক একটি প্রবন্ধ লিখ।] (মান ১৫)
ভূমিকা:
বাঙালি জাতির হাজার বছরের মুক্তিপিপাসা, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ছিল ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ। মাত্র ১৮-১৯ মিনিটের এই কালজয়ী ভাষণটি ছিল একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করার এক অবিস্মরণীয় রণধ্বনি। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) এই ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (Memory of the World International Register) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্বমঞ্চে এর শাশ্বত মর্যাদাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
১. ভাষণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আকস্মিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ১ মার্চ থেকে পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সমগ্র পূর্ব বাংলা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে একাত্ম হয়ে পাকিস্তানি জান্তার কর্তৃত্ব সম্পূর্ণ অমান্য করতে থাকে। এই চরম উত্তেজনাকর ও বিস্ফোরক পরিস্থিতিতে ৭ মার্চ বাঙালি জাতি তাঁর মুখ থেকে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা শোনার অপেক্ষায় সমবেত হয়।
২. ভাষণের মূল বিষয়বস্তু ও অনন্য বৈশিষ্ট্য:
লাখো মানুষের উত্তাল সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু কোনো লিখিত পাণ্ডুলিপি ছাড়াই সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিকভাবে এই অতুলনীয় ভাষণ প্রদান করেন:
- ইতিহাসের পর্যালোচনা ও নিপীড়নের চিত্র: ভাষণের শুরুতে তিনি পাকিস্তানের দীর্ঘ তেইশ বছরের শোষণ, রক্তক্ষয়ী দমন এবং নির্বাচনের পর বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের সংক্ষিপ্ত কিন্তু মর্মস্পর্শী ইতিহাস তুলে ধরেন— «আমরা রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’
- চার দফা পূর্বশর্ত আরোপ: তিনি সামরিক জান্তার সামনে চারটি সুস্পষ্ট শর্ত পেশ করেন: (১) মার্শাল ল’ বা সামরিক আইন প্রত্যাহার, (২) সমস্ত সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, (৩) হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা, এবং (৪) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
- সর্বাত্মক অসহযোগ ও গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশল: তিনি রাষ্ট্রপরিচালনায় সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত বন্ধ ঘোষণা করেন এবং খাজনা-ট্যাক্স দেওয়া বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি প্রতিটি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার সুস্পষ্ট সামরিক নির্দেশনা প্রদান করেন: «তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব…»
- স্বাধীনতার অমোঘ ঘোষণা: ভাষণের চূড়ান্ত পরিণতিতে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন সেই ঐতিহাসিক মুক্তির সনদ:
«এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!»
৩. ৭ মার্চের ভাষণের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব:
বঙ্গবন্ধু এমন এক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করেছিলেন যে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে বিমান হামলা বা সরাসরি প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি; আবার সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যে অবিচলভাবে ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছিলেন। এটি ছিল একাধারে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সামরিক কৌশল এবং কবিতার ছন্দময় সুরের মিলনমেলা। নিউজউইক (Newsweek) পত্রিকা এজন্যই বঙ্গবন্ধুকে যথার্থই আখ্যায়িত করেছিল ‘Poet of Politics’ বা ‘রাজনীতির কবি’ হিসেবে।
উপসংহার:
৭ মার্চের ভাষণ কেবল বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদায়ী চালিকাশক্তিই নয়, বরং তা বিশ্বের নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য এক সার্বজনীন দিকদর্শন। এই ভাষণ বাঙালির হৃদয়ে চিরদিন অবিনাশী আলোকবর্তিকা হয়ে প্রজ্বলিত থাকবে।
৪- اكتب ما تعرف عن “قضية مؤامرة أغدرتلا” بالاختصار وعن ست نقاط لحركة استقلال بنغلاديش-
[‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ এবং ‘স্বাধীন বাংলার ৬ দফা আন্দোলন’ সম্পর্কে যা জান সংক্ষেপে লেখ।] (মান ১৫)
প্রথম অংশ: ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন (Movement of Six Points):
পটভূমি: ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ সামরিক প্রতিরক্ষাহীন ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দীর্ঘ অর্থনৈতিক বঞ্চনার স্থায়ী নিরসনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বিরোধী রাজনৈতিক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা দাবি’ পেশ করেন। পরবর্তীতে ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হয়। এটি বাঙালির জাতীয় মুক্তির ‘ম্যাগনাকার্টা’ (Charter of Freedom) নামে পরিচিত।
৬ দফার মূল বিষয়সমূহ:
- শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকারের ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আইনসভা সার্বভৌম হবে।
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে মাত্র দুটি বিষয়—‘প্রতিরক্ষা’ (Defense) এবং ‘পররাষ্ট্র বিষয়’ (Foreign Affairs)। অবশিষ্ট সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর (প্রদেশসমূহের) হাতে ন্যস্ত থাকবে।
- মুদ্রা ও অর্থব্যবস্থা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে; অথবা সমগ্র দেশের জন্য একই মুদ্রা থাকবে তবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পুঁজি পাচার রোধে সংবিধানে কার্যকর বিধান এবং দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক দুটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক স্থাপন করতে হবে।
- রাজস্ব ও কর ধার্যের ক্ষমতা: কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রাদেশিক সরকারগুলোর হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়ের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা হবে।
- বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ: প্রদেশগুলো নিজেদের বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পূর্ণ মালিকানা থাকবে স্ব স্ব প্রদেশের হাতে এবং কেন্দ্রের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত একটি অংশ বরাদ্দ থাকবে।
- আঞ্চলিক আধাসামরিক বাহিনী গঠন: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নিজস্ব প্যারামিলিটারি বা আধা-সামরিক বাহিনী (মিলিশিয়া) গঠনের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে দিতে হবে।
দ্বিতীয় অংশ: ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (Agartala Conspiracy Case, 1968):
মামলার প্রেক্ষাপট ও স্বরূপ: ৬ দফা আন্দোলনের অভূতপূর্ব গণজোয়ারে ভীত হয়ে আইয়ুব খানের সামরিক জান্তা বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী এবং বাঙালি সিভিল সার্ভিস অফিসারসহ মোট ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে। মামলার অফিশিয়াল নাম ছিল: «রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য» (State vs. Sheikh Mujibur Rahman and Others)। তবে এটি ইতিহাসে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে কুখ্যাত।
অভিযোগ: অভিযোগ আনা হয় যে, আসামিরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে গোপনে বৈঠক করে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
মামলার পরিণতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব: আইয়ুব সরকার চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দিয়ে বাঙালির কণ্ঠ স্তব্ধ করতে। কিন্তু ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালে এই প্রহসনের বিচার শুরু হলে বাঙালি জাতি ফুঁসে ওঠে। ছাত্রসমাজ ‘১১ দফা’ প্রণয়ন করে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। সার্জেন্ট জহুরুল হককে বন্দি অবস্থায় এবং ড. শামসুজ্জোহাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলে গণআন্দোলন রূপ নেয় উত্তাল ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে। প্রচণ্ড গণদাবিতে বাধ্য হয়ে আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নিঃশর্ত প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে।
৫- اكتب أسباب مشكلة البطالة في بنغلاديش مع بيان طرق حلها-
[বাংলাদেশে বেকার সমস্যার কারণ ও তার সমাধানের উপায়সমূহ লিখ।] (মান ১৫)
ভূমিকা:
বেকারত্ব বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে জটিল, উদ্বেগজনক ও দীর্ঘস্থায়ী আর্থ-সামাজিক সংকটগুলোর অন্যতম। কর্মক্ষম, সুস্থ ও স্বাভাবিক মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও যখন কোনো যোগ্য ব্যক্তি কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে, তখন তাকে বেকারত্ব বলে। বিপুল কর্মক্ষম যুবসমাজকে কর্মহীন রেখে কোনো জাতির পক্ষেই টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়।
১. বাংলাদেশে বেকার সমস্যার প্রধান কারণসমূহ (Causes of Unemployment):
- দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি: দেশের সীমিত ভূমির তুলনায় জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার সাথে অর্থনীতি তাল মেলাতে পারছে না।
- ত্রুটিপূর্ণ ও সনদসর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থা: আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তাত্ত্বিক ও সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রিক। বাস্তবমুখী কারিগরি, ভোকেশনাল ও কর্মমুখী শিক্ষার চরম ঘাটতির কারণে ডিগ্রিধারী লক্ষ লক্ষ তরুণ বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হয়ে উঠতে পারছে না। ফলে দেশে ‘শিক্ষিত বেকারত্ব’ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
- শিল্পায়নের শ্লথগতি ও বিনিয়োগের সংকট: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না, ফলে পর্যাপ্ত নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না।
- কৃষিতে ঋতুভিত্তিক ও ছদ্মবেশী বেকারত্ব: কৃষিখাতে বছরের নির্দিষ্ট মৌসুমে কৃষকদের কোনো কাজ থাকে না। তাছাড়া কৃষিতে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত লোক নিয়োজিত থাকায় তাদের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা প্রায় শূন্য থাকে।
- পুঁজি ও সহজ ঋণের অভাব: শিক্ষিত তরুণরা নিজ উদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থান বা ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলতে চাইলেও জামানতবিহীন সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের তীব্র অভাবে তারা ব্যর্থ হয়।
- তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের প্রভাব: আধুনিক শিল্প ও সেবা খাতে অটোমেশন ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কায়িক শ্রমের চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে।
২. বেকার সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায়সমূহ (Remedial Measures):
- কর্মমুখী ও প্রায়োগিক শিক্ষার রূপান্তর: প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি সংস্কার করে প্রতিটি স্তরে ভোকেশনাল, কারিগরি, আইসিটি, ফ্রিল্যান্সিং ও যুগোপযোগী ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
- কৃষিভিত্তিক ও কুটিরশিল্পের বিকাশ: খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন, পোল্ট্রি খামার এবং গ্রামীণ কুটিরশিল্পে সরকারি প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা।
- সহজ শর্তে যুবঋণ ও স্টার্টআপ ফান্ড: তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন স্বল্প সুদে বা সুদমুক্ত ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা প্রদান করা।
- নতুন শিল্পায়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ: দেশজুড়ে প্রস্তাবিত ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) দ্রুত বাস্তবায়ন করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
- দক্ষ মানবসম্পদ রফতানি: অদক্ষ শ্রমিকের বদলে বিদেশে চাহিদা রয়েছে এমন দক্ষ পেশাজীবী (আইটি বিশেষজ্ঞ, দক্ষ কারিগর, নার্স, টেকনিশিয়ান) তৈরি করে বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ করা।
- ফ্রিল্যান্সিং ও গিগ ইকোনমির বিস্তার: তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং ও সফটওয়্যার উন্নয়নে উপযুক্ত ট্রেনিং ও সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
৬- ما هي الصناعات المشهورة في بنغلاديش؟ تحدث عن ماضي صناعة جوت الذهبي ومستقبلها المأمول-
[বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো কী কী? পাট শিল্পের সোনালী অতীত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা কর।] (মান ১৫)
১. বাংলাদেশের প্রধান প্রসিদ্ধ শিল্পসমূহ (Famous Industries of Bangladesh):
বাংলাদেশ মূলত কৃষিভিত্তিক দেশ হলেও স্বাধীনতার পর থেকে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশের উল্লেখযোগ্য প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো নিম্নরূপ:
- তৈরি পোশাক শিল্প (RMG): দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পখাত, যা জাতীয় রফতানি আয়ের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি জোগান দেয়।
- পাট ও পাটজাত দ্রব্য শিল্প: ঐতিহ্যবাহী অন্যতম প্রধান কৃষিভিত্তিক শিল্প।
- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্প: মানসম্মত জুতো ও চামড়াজাত পণ্য বৈশ্বিক বাজারে সুনাম অর্জন করেছে।
- ওষুধ শিল্প (Pharmaceuticals): স্থানীয় চাহিদার ৯৮% মিটিয়ে বর্তমানে বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে ওষুধ রফতানি হচ্ছে।
- চা শিল্প: সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রফতানিমুখী প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প।
- জাহাজ নির্মাণ শিল্প: ছোট ও মাঝারি আকারের বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ করে রফতানি করা হচ্ছে।
- সিমেন্ট ও সিরামিক শিল্প: আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়ে সিরামিক পণ্য বিশ্ববাজারে সুনাম কুড়িয়েছে।
- ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালি পণ্য শিল্প: রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন ও মোটরসাইকেল উৎপাদনে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো বিপ্লব ঘটিয়েছে।
২. পাট শিল্পের সোনালী অতীত (The Golden Past of Jute Industry):
পাটকে বলা হতো বাংলাদেশের ‘সোনালী আঁশ’ (Golden Fibre)। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দুই দশক পর্যন্ত পাটই ছিল জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ও প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত ‘আদমজী জুট মিলস’ ছিল তৎকালীন সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কাঁচা পাট ও পাটের চট, থলে, বস্তার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। লাখ লাখ কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট এবং লাখ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি পাটকলগুলো।
পতনের কারণ: সত্তরের দশকের পর থেকে বিশ্ববাজারে কৃত্রিম পলিমার ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক সস্তা প্রচলন, অব্যবস্থাপনা, লোকসান ও অদূরদর্শী সরকারি নীতির কারণে ২০০২ সালে আদমজী জুট মিলস বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বহু সরকারি পাটকল বন্ধ হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংকটে পড়ে।
৩. পাট শিল্পের সম্ভাবনাময় ও সোনালী ভবিষ্যৎ (Promising Future):
একবিংশ শতাব্দীতে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সচেতনতার বৈশ্বিক উত্থানের সাথে সাথে পাট শিল্পের সামনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটেছে:
- পরিবেশবান্ধব বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য: প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জৈব-পচনশীল পণ্যের চাহিদা আকাশচুম্বী। পাট সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্ববাজারে পাটপণ্যের নবজন্ম ঘটছে।
- ‘সোনালী ব্যাগ’ আবিষ্কার: ড. মোবারক আহমদ খান কর্তৃক পাটের সেলুলোজ থেকে পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ (সোনালী ব্যাগ) আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ঐতিহাসিক বিপ্লব সূচনা করেছে।
- পাটের বহুমুখী ব্যবহার: বর্তমানে পাট কেবল বস্তা বা দড়িতে সীমাবদ্ধ নয়; জিও-টেক্সটাইল, অটোমোবাইল ড্যাশবোর্ড, ফার্নিচার, জুতো, শৌখিন ব্যাগ, ওয়ালম্যাট, উন্নতমানের কাগজ এবং আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সামগ্রীতে পাট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- পাটের জিনোম আবিষ্কার: ড. মাকসুদুল আলম কর্তৃক পাটের জীবনরহস্য (Genome Sequencing) উন্মোচনের ফলে রোগপ্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে।
উপসংহার: আধুনিকায়ন, প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে পাট শিল্প আবারও বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
مجموعة (ب) [(খ) অংশ]
أجب عن أربعة من الاسئلة التالية باختصار [সংক্ষেপে নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
الدرجات—٥ × ٤ = ٢٠ [মান—৫ × ৪ = ২০]
৭- اكتب الحقوق الأساسية المذكورة في دستور بنغلاديش-
[বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ লিখ।] (মান ৫)
১৯৭২ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য মৌলিক অধিকারসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
- আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
- ধর্মীয়, জাতিগত ইত্যাদির কারণে বৈষম্যহীনতা (অনুচ্ছেদ ২৮): ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- সুযোগের সমতা (অনুচ্ছেদ ২৯): সরকারি নিয়োগ বা কর্মলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
- জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২): আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না।
- গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষা-কবচ (অনুচ্ছেদ ৩৩): বিনা বিচারে আটক না রাখা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা।
- জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধকরণ (অনুচ্ছেদ ৩৪): সকল প্রকার জবরদস্তিমূলক বেগার খাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬): রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে অবাধে চলাচল, বসবাস ও দেশত্যাগের অধিকার।
- সমাবেশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭): শান্তিপূর্ণভাবে এবং নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেশ ও মিছিলে যোগদানের অধিকার।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৮): সমিতি বা রাজনৈতিক-সামাজিক দল গঠনের অধিকার।
- চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার।
- পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪০): যেকোনো বৈধ পেশা, ব্যবসা বা বাণিজ্য পরিচালনার অধিকার।
- ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১): যেকোনো ধর্ম পালন, প্রচার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার।
- সম্পত্তির অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪২): আইনানুযায়ী সম্পত্তি অর্জন, ভোগ ও হস্তান্তরের অধিকার।
- মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ (অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২): মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টে রিট করার মাধ্যমে বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার।
৮- اكتب مقالة على عنوان “جسر باد ما متعدد الأغراض رمز فخر بنغلاديش”-
[“পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের গৌরব” শীর্ষক একটি রচনা লিখ।] (মান ৫)
পদ্মা সেতু: বাঙালির আত্মমর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক
ভূমিকা: খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প। এটি কেবল কংক্রিট আর স্টিলের একটি সংযোগ সেতু নয়; বরং বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর তহবিল বাতিলের পর সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ করে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে স্বাবলম্বিতা, আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সেতুর মূল বৈশিষ্ট্য ও পরিমাপ:
- দৈর্ঘ্য ও কাঠামো: মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার (ভায়াডাক্টসহ মোট দৈর্ঘ্য ৯.৩০ কিলোমিটার) এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। এটি দ্বিতলবিশিষ্ট স্টিল ট্রাস সেতু—উপরের তলায় চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের তলায় সিঙ্গেল ট্র্যাক ব্রডগেজ রেলপথ।
- প্রকৌশলগত অলৌকিকতা: পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম পাইলিং (১২২ মিটার পর্যন্ত) এবং বিশ্বের বৃহত্তম ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং ব্যবহার করে এই সেতু নির্মিত হয়েছে।
- সংযোগ ও উদ্বোধন: সেতুটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের সাথে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তকে সংযুক্ত করেছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করেন।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য:
পদ্মা সেতু রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে সরাসরি সড়ক ও রেলপথে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের অসহনীয় যানজট ও মৃত্যুঝুঁকি দূর হয়েছে। এটি দেশের সামগ্রিক জাতীয় প্রবৃদ্ধি (GDP) ১.২৩% থেকে ১.৫% এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক জিডিপি ২% বৃদ্ধি করতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখছে। এটি মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করেছে। অতএব, পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে আধুনিক বাংলাদেশের এক অনন্য জাতীয় গৌরব ও অহংকারের প্রতীক।
৯- تحدث عن الغاز الطبيعي لبنغلاديش-
[বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা কর।] (মান ৫)
ভূমিকা:
প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধানতম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় বাণিজ্যিক জীবাশ্ম জ্বালানি। দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পায়ন, সার কারখানা এবং গৃহস্থালির জ্বালানি চাহিদা পূরণে প্রাকৃতিক গ্যাস দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
১. গ্যাসক্ষেত্রের অবস্থান ও মজুদ:
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২৯টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্র দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (সুরমা বেসিন—সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) অবস্থিত। তিতাস, কৈলাশটিলা, বাখরাবাদ, রশিদপুর, বিবিয়ানা এবং জালালাবাদ হলো দেশের প্রধান উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র। এর মধ্যে ‘বিবিয়ানা’ গ্যাসক্ষেত্রটি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ গ্যাস জোগানদাতা।
২. ব্যবহারের প্রধান খাতসমূহ:
- বিদ্যুৎ উৎপাদন: দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫৫-৬০ ভাগ গ্যাসচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়।
- শিল্প ও তৈরি পোশাক খাত: বস্ত্র, পোশাক, সিরামিক, রি-রোলিং মিল ও বয়লারের প্রধান জ্বালানি গ্যাস।
- সার কারখানা: কৃষিভিত্তিক এই দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- যানবাহন (CNG) ও গৃহস্থালি: পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে যানবাহনে সিএনজি এবং আবাসিক খাতে রান্নার কাজে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
৩. বর্তমান সংকট ও করণীয়:
অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে সরকারকে চড়া মূল্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানি করতে হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে সমুদ্রবক্ষে (Deep Sea) তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দ্রুত পিএসসি (PSC) চুক্তি সম্পাদন এবং অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।
১০- اكتب الحدود الجغرافية لدولة بنغلاديش-
[বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখা লিখ।] (মান ৫)
ভৌগোলিক অবস্থান:
দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পূর্বাংশে বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে বাংলাদেশ অবস্থিত। দেশটি ২০°৩৪’ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে বিস্তৃত। বাংলাদেশের মোট ভৌগোলিক আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার (বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল)।
চতুর্সীমা বা ভৌগোলিক সীমানা:
- উত্তরে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, আসাম ও মেঘালয় রাজ্য।
- দক্ষিণে: বিশাল জলরাশি সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)।
- পূর্বে: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য (সীমান্ত নদী নাফ নদী)।
- পশ্চিমে: সম্পূর্ণভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
সীমান্ত দৈর্ঘ্য ও জলসীমা:
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,৭১১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত প্রায় ২৭১ কিলোমিটার। উপকূলীয় উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১৬ কিলোমিটার।
- সামুদ্রিক সীমা: আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (ITLOS) ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ মীমাংসিত হওয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি সমুদ্রাঞ্চল, ১২ নটিক্যাল মাইল আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) নিরঙ্কুশ সার্বভৌম অধিকার অর্জন করেছে।
১১- اكتب ما تعرف عن الأقليات في بنغلاديش-
[বাংলাদেশের সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় সম্পর্কে যা জান লিখ।] (মান ৫)
ভূমিকা:
বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতিময় বহুত্ববাদী রাষ্ট্র। জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমান হলেও সংবিধানে ধর্ম, বর্ণ বা ভাষাভিত্তিক সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম-অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশে বৈচিত্র্যপূর্ণ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে।
১. ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়:
- হিন্দু সম্প্রদায়: দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী (জনসংখ্যার প্রায় ৮-৯%)। তাঁরা দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে উদযাপন করেন।
- বৌদ্ধ সম্প্রদায়: মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম (চাকমা, মারমা) এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সমতলে তাঁদের বসবাস। ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ তাঁদের প্রধান উৎসব।
- খ্রিস্টান সম্প্রদায়: ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে তাঁদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর ‘বড়দিন’ জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।
২. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও আদিবাসী সম্প্রদায়:
বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন:
- পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠী: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, মুরং, খিয়াং ইত্যাদি। তাঁদের নিজস্ব ভাষা, রীতিনীতি এবং ‘বৈসাবি’র মতো বৈচিত্র্যময় লোকউৎসব রয়েছে।
- সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: উত্তরবঙ্গে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা; বৃহত্তর ময়মনসিংহে গারো ও হাজং; সিলেটে খাসিয়া ও মণিপুরী সম্প্রদায় অত্যন্ত সুপরিচিত।
আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা:
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮ অনুযায়ী রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করে না। সংসদ ও সরকারি চাকুরিতে কোটা ব্যবস্থা, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি (১৯৯৭) এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাষ্ট্র তাঁদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণে সচেষ্ট রয়েছে।
১২- اكتب الخطوات المتوقعة لتكثير إنتاج الأسماك الطبيعية في بنغلاديش-
[বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপসমূহ লিখ।] (মান ৫)
ভূমিকা:
‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ আমাদের জাতীয় প্রবাদ। প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ ভাগ জোগান দেয় মৎস্য সম্পদ। অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ে বাংলাদেশ মাছ চাষে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থান অর্জন করলেও নদী, খাল, বিল ও হাওরের মতো উন্মুক্ত প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা পরিবেশ ও দেশীয় প্রজাতির সংরক্ষণে অত্যন্ত জরুরি।
প্রাকৃতিক মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য পদক্ষেপসমূহ:
- প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম (Fish Sanctuaries) প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ: নদী ও হাওরের গভীরতম স্থানগুলোকে স্থায়ী বা মৌসুমী মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে সব ধরণের মাছ ধরা চিরতরে নিষিদ্ধ করা, যাতে মা-মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে।
- প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা-মাছ ও জাটকা ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধকরণ: প্রধান প্রজনন মৌসুমে (যেমন ইলিশের প্রধান প্রজনন সময় অক্টোবর মাসে ২২ দিন) সরকারি নিষেধাজ্ঞা শতভাগ কার্যকর করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের পর্যাপ্ত বিকল্প খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ চাল) প্রদান করা।
- ক্ষতিকর জাল ও বিষ প্রয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা: কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল, মশারি জাল এবং নদীতে বিষ ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে জলজ পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।
- নদী ও বিলের নাব্য পুনরুদ্ধার (ড্রেজিং): পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া নদী, সংযোগ খাল ও বিলগুলো ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন করে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ও মাছের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা।
- শিল্পবর্জ্য ও পানি দূষণ রোধ: নদী ও জলাশয়ে অপরিশোধিত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে বন্ধ করতে শিল্পকারখানায় সার্বক্ষণিক ইটিপি (ETP) চালু রাখা নিশ্চিত করা।
- হাওর ও প্লাবনভূমিতে পোনা অবমুক্তকরণ: বর্ষা মৌসুমে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের (যেমন পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুর, চিতল, আইড়) পোনা ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক জলাশয়ে অবমুক্ত করা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বাংলাদেশ স্টাডিজ (الدراسات البنغلاديشية) কোর্সের উদ্দেশ্য কী?
ইসলামিক অ্যারাবিক ইউনিভার্সিটির অধীনে ফাজিল ১ম বর্ষের এই কোর্সের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, সংবিধান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভূরাজনীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া।
২. ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কবে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়?
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
৩. ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনকে কী বলা হয় এবং কেন?
৬ দফা আন্দোলনকে বাঙালির জাতীয় মুক্তির ‘ম্যাগনাকার্টা’ (Charter of Freedom) বলা হয়, কারণ এতে স্বায়ত্তশাসন ও পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক শোষণ থেকে চিরমুক্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল।
৪. পদ্মা বহুমুখী সেতুর দৈর্ঘ্য ও কাঠামো কেমন?
পদ্মা সেতুর মূল দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। এটি দ্বিতলবিশিষ্ট স্টিল ট্রাস সেতু, যার উপরের তলায় চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের তলায় সিঙ্গেল ট্র্যাক ব্রডগেজ রেলপথ রয়েছে।
৫. বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলো কোন ভাগে সন্নিবেশিত?
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত নাগরিকদের সকল মৌলিক অধিকারের বিস্তারিত বিধান ও বিচারিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে।
৬. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা কয়টি?
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ২৯টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে বৃহত্তম ও প্রধান উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র হলো সুরমা বেসিনে অবস্থিত বিবিয়ানা ও তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।