তাজবীদুল কুরআনিল কারীম (Tajweedul Quran) – 201102, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৬০ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٤م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القسم: القرآن والدراسات الإسلامية [বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المادة: تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه [বিষয়: তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহূ ওয়া তারজামাতু মায়ানীহি / Tajweedul Quran]
كود المادة [বিষয় কোড]: ২০১১০২ | كود الامتحان [পরীক্ষা কোড]: ২০১ | كود ورقة الأسئلة [প্রশ্নপত্র কোড]: ০০২
الوقت [সময়]: ৪ ঘণ্টা | الدرجة الكاملة [পূর্ণমান]: ৮০

الملاحظة : الاعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة –

[দ্রষ্টব্য : বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) – [ক অংশ]

الدرجات : ۳۰ | পূর্ণমান : ৩০


১. أجب عن اثنين من الأسئلة التالية : (২০ = ২ × ১০)

[১. নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : মান: ২ × ১০ = ২০]

(أ) عرف علم التجويد – وما حكمه وأنواعه؟ ولم يحتاج الناس إلى هذا العلم؟ بين بالإيضاح-

[(ক) علم التجويد-এর সংজ্ঞা দাও। এর হুকুম ও প্রকারসমূহ কী? কেন মানুষকে এ ইলম শিখতে হয়? বিশদভাবে আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা: কালামুল্লাহকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তিলাওয়াতের অনুরূপ অবিকল ও বিশুদ্ধভাবে পাঠ করার জন্য ইলমুত তাজবীদ অপরিহার্য শাস্ত্র।

১. ইলমুত তাজবীদের সংজ্ঞা (تَعْرِيفُ عِلْمِ التَّجْوِيدِ):

  • আভিধানিক অর্থ: التَّجْوِيدُ শব্দটি جَوَّدَ يُجَوِّدُ বাব-এর মাসদার, যার অর্থ التَّحْسِينُ (সুন্দর করা, নিখুঁত ও উত্তম করা)।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) বলেন:

    «إِعْطَاءُ كُلِّ حَرْفٍ حَقَّهُ مِنْ مَخْرَجٍ وَصِفَةٍ، وَمُسْتَحَقَّهُ مِنَ الْأَحْكَامِ اللَّازِمَةِ وَالْعَارِضَةِ»

    “প্রত্যেকটি হরফকে তার নির্দিষ্ট মাখরাজ ও নিজস্ব স্থায়ী সিফাত (হক) প্রদান করা এবং উচ্চারণকালে উদ্ভূত অস্থায়ী আহকামসমূহ (মুস্তাহাক) যথাযথভাবে আদায় করে কুরআন তিলাওয়াত করাকে তাজবীদ বলে।”

২. তাজবীদের হুকুম (حُكْمُ عِلْمِ التَّجْوِيدِ):

  • তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন (العِلْمُ بِهِ نَظَرِيًّا): তাজবীদের নিয়ম-কানুন ও পারিভাষিক সূত্রগুলো জানা ফরযে কিফায়া।
  • ব্যবহারিক প্রয়োগ বা তিলাওয়াতে তাজবীদ মানা (العَمَلُ بِهِ تَطْبِيقِيًّا): কুরআন পাঠকালে তাজবীদের বিধান মেনে তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরযে আইন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ﴿وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا﴾ (সূরা আল-মুযযাম্মিল: ৪)। ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) বলেন: «وَالأَخْذُ بِالتَّجْوِيدِ حَتْمٌ لَازِمُ ۝ مَنْ لَمْ يُجَوِّدِ القُرْآنَ آثِمُ» (“তাজবীদ অনুযায়ী তিলাওয়াত করা আবশ্যক, যে তাজবীদ ছাড়া কুরআন পড়ে সে গুনাহগার”)।

৩. তাজবীদের প্রকারভেদ (أَنْوَاعُهُ):

  1. তাজবীদে আমালী (التجويد العملي): বিশুদ্ধ উচ্চারণে সহীহভাবে তিলাওয়াত করার বাস্তব অনুশীলন।
  2. তাজবীদে ইলমী (التجويد العلمي): মাখরাজ, সিফাত, তারকীক, তাফখীম, ইদগাম ইত্যাদির তাত্ত্বিক সংজ্ঞা ও বিধান মুখস্থ রাখা।

৪. মানুষকে কেন এ ইলম শিখতে হয় (حَاجَةُ النَّاسِ إِلَى هَذَا العِلْمِ):

ইসলামের বিস্তৃতির সাথে সাথে যখন বহু অনারব জাতি ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তিলাওয়াতে অনিচ্ছাকৃত বিকৃতি ও লাহনে জালী (মারাত্মক ভুল) দেখা দিতে থাকে। যেমন: ‘হা’ (ح) ও ‘হা’ (هـ), ‘তা’ (ت) ও ‘ত্বা’ (ط), ‘জাল’ (ذ) ও ‘যা’ (ز)-এর পার্থক্য বিলুপ্ত হয়ে অর্থের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে শুরু করে। এ কারণে আল্লাহর কালামকে বিকৃতি থেকে রক্ষা করতে এবং নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী তিলাওয়াত সুরক্ষায় তাজবীদ শিক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।


(ب) المد ما هو؟ وما هي أنواعه وأحكامه؟ بين أقسام المد الطبيعي ممثلا-

[(খ) মাদ্দ কী? এর প্রকারভেদ ও হুকুম কী? মাদ্দে তাবি’য়ীর প্রকারগুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:

১. মাদ্দের সংজ্ঞা (تَعْرِيفُ المَدِّ):

  • আভিধানিক অর্থ: الزِّيَادَةُ وَالمَطُّ (দীর্ঘ করা, প্রলম্বিত করা বা বৃদ্ধি করা)। যেমন কুরআনে এসেছে: ﴿وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ﴾।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: মাদ্দের হরফের পর হামযা বা সুকুন পাওয়া গেলে কণ্ঠস্বরকে স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ করে উচ্চারণ করাকে মাদ্দ বলে। মাদ্দের হরফ তিনটি: ওয়াও সাকিন যার পূর্বে পেশ (ـُ وْ), ইয়া সাকিন যার পূর্বে যের (ـِ يْ), এবং আলিফ সাকিন যার পূর্বে যবর (ـَ ا)। সংক্ষেপে: نُوحِيهَا।

২. মাদ্দের মূল প্রকারভেদ (أَنْوَاعُ المَدِّ):

  1. মাদ্দে আসলী বা তাবি’য়ী (المَدُّ الأَصْلِيُّ / الطَّبِيعِيُّ): যে মাদ্দ কোনো হামযা বা সুকুনের ওপর নির্ভর করে না; বরং মাদ্দের হরফ থাকলেই স্বাভাবিকভাবে ১ আলিফ পরিমাণ টানতে হয়।
  2. মাদ্দে ফার’ঈ (المَدُّ الفَرْعِيُّ): মাদ্দের হরফের পর কোনো বাহ্যিক কারণ (যেমন: হামযা বা সুকুন/তাশদীদ) থাকার দরুন যে মাদ্দ ১ আলিফের বেশি টেনে পড়তে হয়।

৩. মাদ্দের হুকুমসমূহ (أَحْكَامُ المَدِّ): মাদ্দে ফার’ঈর তিনটি শারয়ী হুকুম রয়েছে:

  • ১. লুজূম (الوُجُوبُ / اللُّزُومُ): মাদ্দে লাযিমে সকল কারী একমত হয়ে ৬ হরকত টানেন।
  • ২. উজূব (الوُجُوبُ): মাদ্দে মুত্তাসিলে সকল কারী অতিরিক্ত টানতে একমত (৪ বা ৫ হরকত)।
  • ৩. জাওয়ায (الجَوَازُ): মাদ্দে মুনফাসিল ও মাদ্দে আ’রিদ লিসসুকুনে হ্রস্ব বা দীর্ঘ করার অবকাশ রয়েছে (২, ৪ বা ৬ হরকত)।

৪. মাদ্দে তাবি’য়ীর প্রকারভেদ ও উদাহরণ (أَقْسَامُ المَدِّ الطَّبِيعِيِّ):

মাদ্দে তাবি’য়ী মূলত দুই প্রকার:

  1. মাদ্দে তাবি’য়ী কালিমী (ক শব্দগত): শব্দের মধ্যে মাদ্দের হরফ স্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যমান থাকা। যেমন: ﴿قَالَ﴾, ﴿يَقُولُ﴾, ﴿قِيلَ﴾। এটি সর্বদা ১ আলিফ টানা ওয়াজিব।
  2. মাদ্দে তাবি’য়ী হারফী (হরফগত): হুরুফে মুকাত্তা’আতের যেসকল হরফ দ্বি-বর্ণবিশিষ্ট (হাজ্জে সুরত: حَيٌّ طَهُرَ – ح، ي، ط، هـ، ر)। যেমন: طه-এর ‘ত্বা’ ও ‘হা’, يس-এর ‘ইয়া’। প্রতিটি ১ আলিফ পরিমাণ প্রলম্বিত হয়।
  3. মাদ্দে তাবি’য়ীর অন্তর্ভুক্ত শাখাসমূহ:
    • মাদ্দে সিলায়ে সুগরা (مد الصلة الصغرى): গোল ‘হা’ (هاء الضمير)-এর ডানে-বামে হরকত থাকলে। যেমন: ﴿إِنَّهُ كَانَ﴾।
    • মাদ্দে বাদালা (مد البدل): হামযার পর মাদ্দের হরফ আসলে। যেমন: ﴿آمَنُوا﴾, ﴿إِيمَانًا﴾।
    • মাদ্দে ইওয়াদ (مد العوض): দুই যবরের ওপর ওয়াকফ করার সময় এক আলিফ আলিফ টেনে পড়া। যেমন: ﴿عَلِيمًا حَكِيمًا﴾ (পড়তে হয়: হাকীমা)।

(ج) عرف اللحن ثم تحدث عن أقسامه وأحكامه ممثلا-

[(গ) اللحن-এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ এবং হুকুমসমূহ উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

উত্তর:

১. লাহনের পরিচয় (تَعْرِيفُ اللَّحْنِ):

  • আভিধানিক অর্থ: الخطأ والميل عن الصواب (ভুল করা, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া বা বক্রতা অবলম্বন করা)।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাজবীদের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন ও আরবি উচ্চারণের বিশুদ্ধ রীতি পরিহার করে তিলাওয়াতে ভুলত্রুটি করাকে ‘লাহন’ বলে।

২. লাহনের প্রকারভেদ ও হুকুম (أَقْسَامُ اللَّحْنِ وَأَحْكَامُهُ):

লাহন প্রধানত দুই প্রকার:

১. লাহনে জালী বা স্পষ্ট প্রকাশ্য মারাত্মক ভুল (اللَّحْنُ الجَلِيُّ):

  • সংজ্ঞা: এমন মারাত্মক ভুল যা আরবী ভাষার ব্যাকরণ (ই’রাব) অথবা হরফের মূল সত্তাকে পরিবর্তন করে দেয়, যা সাধারণ ও অভিজ্ঞ সকলেই বুঝতে পারে।
  • উদাহরণ:
    1. হরকত পরিবর্তন: যেমন সূরা ফাতিহায় ﴿أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ﴾ (যবর দিয়ে)-এর স্থলে পেশ দিয়ে أَنْعَمْتُ (যার অর্থ ‘আমি অনুগ্রহ করেছি’ হয়ে যায়) বা যের দিয়ে পড়া।
    2. হরফ পরিবর্তন: যেমন ﴿عَسَىٰ﴾ (‘সীন’ দিয়ে)-এর স্থলে ‘সোদ’ দিয়ে عَصَىٰ (অর্থ: অবাধ্য হওয়া) পড়া।
  • হুকুম: এটি সর্বসম্মতভাবে হারাম ও কবিরা গুনাহ। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাযে এই ভুল করলে নামায ফাসিদ বা বাতিল হয়ে যায়।

২. লাহনে খাফী বা সূক্ষ্ম গোপন ভুল (اللَّحْنُ الخَفِيُّ):

  • সংজ্ঞা: এমন সূক্ষ্ম ভুল যা হরফের মূল অর্থ পরিবর্তন করে না, কিন্তু তিলাওয়াতের সৌন্দর্য ও তাজবীদের সূক্ষ্ম নিয়ম লঙ্ঘন করে; যা কেবল দক্ষ কারীগণই ধরতে পারেন।
  • উদাহরণ: গুন্নাহ ছেড়ে দেওয়া, ইখফা বা ইদগাম যথাযথভাবে আদায় না করা, মাদ্দের মাত্রা কম-বেশি করা, মোটা হরফকে পাতলা করা (তারকীক/তাফখীম না মানা)। যেমন: ﴿مِن بَعْدِ﴾-তে ইক্বলাব ছেড়ে দিয়ে স্পষ্ট নূন পড়া।
  • হুকুম: এটি মাকরূহ। ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার তা করা তিলাওয়াতকারীর জন্য অনুচিত ও মর্যাদাহানিকর।

(د) تحدث عن أحكام ‘اللام’ و’الراء’ بالتمثيل-

[(ঘ) ‘ل’ এবং ‘ر’ এর আহকামসমূহ উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

উত্তর:

তাজবীদ শাস্ত্রে লাম (ل) এবং রা (ر) হরফ দুটি কখনো মোটা (তাফখীম বা পুর) এবং কখনো পাতলা (তারকীক বা বারীক) করে পড়তে হয়:

১. লাম (ل)-এর আহকাম:

কুরআনের সাধারণ সকল লাম সর্বদা তারকীক (পাতলা) হয়ে থাকে। তবে কেবল ‘আল্লাহ’ (الله) এবং ‘আল্লাহুম্মা’ (اللهم) শব্দের লামের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য:

  • তাফখীম (মোটা করে পড়া): শব্দটির পূর্বের হরফে যদি যবর (فَتْحَة) বা পেশ (ضَمَّة) থাকে, তবে লাম মোটা করে পড়তে হয়।

    উদাহরণ: যবরের পর: ﴿شَهِدَ اللَّهُ﴾, ﴿قَالَ اللَّهُ﴾; পেশের পর: ﴿نَصْرُ اللَّهِ﴾, ﴿يَدُ اللَّهِ﴾।
  • তারকীক (পাতলা করে পড়া): শব্দটির পূর্বের হরফে যদি যের (كَسْرَة) থাকে, তবে লাম পাতলা করে পড়তে হয়।

    উদাহরণ: ﴿بِسْمِ اللَّهِ﴾, ﴿قُلِ اللَّهُمَّ﴾।

২. রা (ر)-এর আহকাম:

রা হরফের উচ্চারণ তিনটি অবস্থায় আবর্তিত হয়:

  1. তাফখীম (মোটা করে পড়ার ক্ষেত্রসমূহ):
    • রা-এর ওপর যবর বা পেশ থাকলে: ﴿رَبَّنَا﴾, ﴿رُسُلُنَا﴾।
    • রা সাকিন, তার পূর্বের হরফে যবর বা পেশ থাকলে: ﴿وَأَرْسَلَ﴾, ﴿قُرْآنٌ﴾।
    • রা সাকিনের পূর্বে হামযায়ে ওয়াসল থাকলে: ﴿ارْجِعِي﴾, ﴿إِنِ ارْتَبْتُمْ﴾।
    • রা সাকিনের পর একই শব্দে হুরুফে ইস্তিলা (মোটা হরফ) আসলে: ﴿قِرْطَاسٍ﴾, ﴿فِرْقَةٍ﴾, ﴿مِرْصَادًا﴾।
  2. তারকীক (পাতলা করে পড়ার ক্ষেত্রসমূহ):
    • রা-এর নিচে যের থাকলে: ﴿رِزْقًا﴾, ﴿رِحْلَةَ﴾।
    • রা সাকিন এবং তার পূর্বের হরফে আসল যের থাকলে: ﴿فِرْعَوْنَ﴾, ﴿مِرْيَةٍ﴾।
    • ওয়াকফ অবস্থায় রা সাকিন এবং তার পূর্বে ‘ইয়া সাকিন’ থাকলে: ﴿خَبِيرٌ ۜ﴾, ﴿قَدِيرٌ ۜ﴾।
  3. জাওয়াযুল ওয়াজহাইন (উভয়টি জায়েয): ﴿فِرْقٍ﴾ শব্দে ওয়াকফ ও অসলের তারতম্যে মোটা ও পাতলা উভয়ভাবে পড়া যায়।

২. أجب عن اثنين من الأسئلة التالية بالاختصار : (১০ = ২ × ৫)

[২. নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের সংক্ষেপে উত্তর দাও : মান: ২ × ৫ = ১০]

(أ) تحدث عن فضيلة تلاوة القرآن مدللا-

[(ক) দলিল উল্লেখপূর্বক কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত আলোচনা কর।]

উত্তর:

কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম নফল ইবাদত ও মুমিনের অন্তরের খোরাক। এর ফযিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে অসংখ্য দলীল বিদ্যমান:

  1. প্রতিটি হরফে ১০টি নেকী: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: «مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ» (জামে তিরমিযী)—”যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পড়বে সে একটি নেকী পাবে, আর প্রতিটি নেকী দশ গুণ বৃদ্ধি করা হবে।”
  2. কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী: আবু উমামা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «اقْرَءُوا القُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ القِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ» (সহীহ মুসলিম)—”তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো; কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে।”
  3. মর্যাদার উচ্চ শিখরে আরোহণ: হাদীসে এসেছে, হাফেজে কুরআনকে কিয়ামতে বলা হবে: «اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا» (“পড়তে থাকো এবং মর্যাদার সিঁড়িতে উঠতে থাকো, তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই তোমার জান্নাতী স্থান নির্ধারিত হবে”)।

(ب) اكتب أحكام الميم الساكنة ممثلا-

[(খ) মীম সাকিনের হুকুমসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]

উত্তর:

হরকতবিহীন মীমকে ميم ساكنة বলা হয়। মীম সাকিনের পর পরবর্তী হরফ আসার ওপর ভিত্তি করে এর আহকাম ৩ প্রকার:

  1. ১. ইখফায়ে শাফাবী (الإِخْفَاءُ الشَّفَوِيُّ): মীম সাকিনের পর যদি একমাত্র হরফ ‘বা’ (ب) আসে, তবে মীমকে ঠোঁট পূর্ণ বন্ধ না করে গুন্নাহর সাথে অস্পষ্ট করে পড়তে হয়।

    উদাহরণ: ﴿تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ﴾, ﴿يَعْتَصِم بِاللَّهِ﴾।
  2. ২. ইদগামে শাফাবী বা মিসলাইন সাগীর (الإِدْغَامُ الشَّفَوِيُّ): মীম সাকিনের পর যদি আরেকটি ‘মীম’ (م) আসে, তবে প্রথম মীমকে দ্বিতীয় মীমের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।

    উদাহরণ: ﴿لَهُم مَّا يَشَاءُونَ﴾, ﴿فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ﴾।
  3. ৩. ইযহারে শাফাবী (الإِظْهَارُ الشَّفَوِيُّ): মীম সাকিনের পর ‘বা’ (ب) ও ‘মীম’ (م) ছাড়া বাকি ২৬টি হরফের যেকোনো একটি আসলে কোনো গুন্নাহ ছাড়া মীমকে স্পষ্টভাবে পড়তে হয়। বিশেষ করে ‘ওয়াও’ (و) ও ‘ফা’ (ف) আসলে বিশেষ সতর্কতার সাথে স্পষ্ট পড়তে হয়।

    উদাহরণ: ﴿أَلَمْ تَرَ﴾, ﴿عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ﴾, ﴿هُمْ فِيهَا﴾।

(ج) ماهي صفات الحروف وكم قسما لها؟ بين مختصرا-

[(গ) সিফাতুল হুরুফ বলতে কী বুঝায়? তা কত প্রকার সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর:

১. সিফাতের পরিচয় (تَعْرِيفُ الصِّفَاتِ): হরফ মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হওয়ার সময় তার যে বিশেষ অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য (যেমন: বাতাস জারি থাকা, আওয়াজ বন্ধ হওয়া, জিহ্বা উঁচু হওয়া ইত্যাদি) প্রকাশ পায়, তাকে সিফাত (صفات الحروف) বলে। সিফাতের মাধ্যমে সমজাতীয় মাখরাজের হরফসমূহের মাঝে স্বাতন্ত্র্য সূচিত হয়।

২. সিফাতের প্রকারভেদ (أَقْسَامُهَا): ইমাম ইবনুল জাযারীর মতে সিফাত মোট ১৭টি, যা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:

  1. বিপরীতমুখী সিফাত (الصفات ذات الأضداد – মোট ১০টি):
    • ১-২. হামস (বাতাস জারি থাকা: فَحَثَّهُ شَخْصٌ سَكَتَ) ⟷ জাহর (বাতাস বন্ধ থাকা)।
    • ৩-৪. শিদ্দাত (আওয়াজ শক্তভাবে বন্ধ হওয়া: أَجِدُ قَطٍ بَكَتْ) ⟷ রাখাওয়াত (আওয়াজ জারি থাকা) [উভয়ের মাঝে বায়নিয়্যাহ: لِنْ عُمَرْ]।
    • ৫-৬. ইস্তিলা (জিহ্বার গোড়া তালুর দিকে উঠা: خُصَّ ضَغْطٍ قِظْ) ⟷ ইসতিফাল (জিহ্বা নিচে থাকা)।
    • ৭-৮. ইতবাক্ব (জিহ্বা তালুর সাথে চেপে বসা: ص، ض، ط، ظ) ⟷ ইনফিতাহ (উন্মুক্ত থাকা)।
    • ৯-১০. ইযলাক (উচ্চারণ সহজ ও দ্রুত হওয়া: فَرَّ مِنْ لُبٍّ) ⟷ ইসমাাত (কঠিন হওয়া)।
  2. বিপরীতহীন সিফাত (الصفات التي لا ضد لها – মোট ৭টি):

    সাফীর (শীশ ধ্বনি: ص، ز، س), কালকালাহ (প্রতিধ্বনি: قُطْبُ جَدٍّ), লীন (সহজ কোমল: و، ي), ইনহিরাফ (স্থানচ্যুতি: ل، ر), তাকরার (জিহ্বার অগ্রভাগ কম্পন: ر), তাফাশশী (মুখে বাতাস ছড়িয়ে পড়া: ش), এবং ইস্তিত্বালাত (দীর্ঘায়িত হওয়া: ض)।


(د) اكتب مخارج الحروف بالإيضاح-

[(ঘ) হরফের মাখরাজসমূহ সুস্পষ্টভাবে লেখ।]

উত্তর:

১. মাখরাজের সংজ্ঞা: আরবি হরফ উচ্চারণের নির্গমন স্থানকে মাখরাজ (مَخْرَجٌ) বলে। আল্লামা খলীল ইবনে আহমদ ও ইমাম ইবনুল জাযারীর মতে হরফের মৌলিক মাখরাজ ৫টি এবং বিশেষ মাখরাজ ১৭টি।

২. ৫টি সাধারণ মাখরাজ ও ১৭টি বিশেষ মাখরাজের বিন্যাস:

  1. ১. জওফ (الجَوْفُ – মুখের খালি জায়গা): ১টি মাখরাজ। তিনটি মাদ্দের হরফ (ا، و، ي) উচ্চারিত হয়।
  2. ২. হলক (الحَلْقُ – কণ্ঠনালী): ৩টি মাখরাজ (৬টি হরফ):
    • কণ্ঠনালীর শেষভাগ (আক্বসাল হলক): ء (হামযা), هـ (হা)।
    • কণ্ঠনালীর মধ্যভাগ (ওয়াসাতুল হলক): ع (আইন), ح (হা)।
    • কণ্ঠনালীর প্রারম্ভ বা ওপরের ভাগ (আদনাল হলক): غ (গাইন), خ (খা)।
  3. ৩. লিসান (اللِّسَانُ – জিহ্বা): ১০টি মাখরাজ (১৮টি হরফ):
    • জিহ্বার গোড়া ওপরের নরম তালুর সাথে লেগে: ق (ক্বাফ)।
    • তার একটু সামনে শক্ত তালুর সাথে: ك (কাফ)।
    • জিহ্বার মধ্যভাগ ওপরের তালুর সাথে লেগে: ج، ش، ي (জীম, শীন, ইয়া)।
    • জিহ্বার পার্শ্বভাগ ওপরের মাড়ির দাঁতের গোড়ার সাথে লেগে: ض (দ্বদ)।
    • জিহ্বার আগার কিনারা ওপরের মাড়ির সাথে: ل (লাম), ن (নূন), ر (রা)।
    • জিহ্বার আগা ওপরের সামনের দুই দাঁতের গোড়ার সাথে: ط، د، ت (ত্বা, দাল, তা)।
    • জিহ্বার আগা নিচের দুই দাঁতের পেটের সাথে: ص، ز، س (সোদ, যা, সীন)।
    • জিহ্বার আগা ওপরের দুই দাঁতের অগ্রভাগের সাথে: ظ، ذ، ث (য্বা, যাল, ছা)।
  4. ৪. শাফাতান (الشَّفَتَانِ – দুই ঠোঁট): ২টি মাখরাজ (৪টি হরফ):
    • নিচের ঠোঁটের পেট ওপরের দুই দাঁতের আগার সাথে: ف (ফা)।
    • দুই ঠোঁট মিলে: ب (বা – ভিজা অংশ), م (মীম – শুকনা অংশ), ও و (ওয়াও – ঠোঁট গোল করে)।
  5. ৫. খয়শূম (الخَيْشُومُ – নাসারামূল বা নাকের বাঁশি): ১টি মাখরাজ। এখান থেকে কেবল ‘গুন্নাহ’ (الغُنَّةُ) ধ্বনি নির্গত হয়।

مجموعة (ب) – [খ অংশ : হিফযুল কুরআন]

الدرجات : ۲۰ | পূর্ণমান : ২০


৩. اكتب من حفظك اثنين من السور التالية : (২০ = ২ × ১০)

[৩. নিচের যে কোনো দুটি সূরা মুখস্থ লেখ : মান: ২ × ১০ = ২০]

(أ) من بداية سورة النبأ الى اية ‘ان للمتقين مفازا’-

[(ক) সূরা আন-নাবার শুরু থেকে ‘إن للمتقين مفازا’ আয়াত পর্যন্ত মুখস্থ লেখ।]

উত্তর:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ ۝ عَنِ النَّبَإِ الْعَظِيمِ ۝ الَّذِي هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ ۝ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ۝ ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ۝ أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهَادًا ۝ وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا ۝ وَخَلَقْنَاكُمْ أَزْوَاجًا ۝ وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا ۝ وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا ۝ وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا ۝ وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا ۝ وَجَعَلْنَا سِرَاجًا وَهَّاجًا ۝ وَأَنزَلْنَا مِنَ الْمُعْصِرَاتِ مَاءً ثَجَّاجًا ۝ لِّنُخْرِجَ بِهِ حَبًّا وَنَبَاتًا ۝ وَجَنَّاتٍ أَلْفَافًا ۝ إِنَّ يَوْمَ الْفَصْلِ كَانَ مِيقَاتًا ۝ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا ۝ وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبْوَابًا ۝ وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا ۝ إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا ۝ لِّلطَّاغِينَ مَآبًا ۝ لَّابِثِينَ فِيهَا أَحْقَابًا ۝ لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا ۝ إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا ۝ جَزَاءً وِفَاقًا ۝ إِنَّهُمْ كَانُوا لَا يَرْجُونَ حِسَابًا ۝ وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا كِذَّابًا ۝ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ كِتَابًا ۝ فَذُوقُوا فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا ۝ إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ۝


(ب) سورة الشمس-

[(খ) সূরা আশ-শামস মুখস্থ লেখ।]

উত্তর:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا ۝ وَالْقَمَرِ إِذَا تَلَاهَا ۝ وَالنَّهَارِ إِذَا جَلَّاهَا ۝ وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَاهَا ۝ وَالسَّمَاءِ وَمَا بَنَاهَا ۝ وَالْأَرْضِ وَمَا طَحَاهَا ۝ وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا ۝ فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ۝ قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا ۝ وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا ۝ كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَاهَا ۝ إِذِ انبَعَثَ أَشْقَاهَا ۝ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا ۝ فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنبِهِمْ فَسَوَّاهَا ۝ وَلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا ۝


(ج) سورة العلق-

[(গ) সূরা আল-আলাক মুখস্থ লেখ।]

উত্তর:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ۝ خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ ۝ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ۝ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ۝ عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ۝ كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَىٰ ۝ أَن رَّآهُ اسْتَغْنَىٰ ۝ إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ الرُّجْعَىٰ ۝ أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَىٰ ۝ عَبْدًا إِذَا صَلَّىٰ ۝ أَرَأَيْتَ إِن كَانَ عَلَى الْهُدَىٰ ۝ أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَىٰ ۝ أَرَأَيْتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ۝ أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ اللَّهَ يَرَىٰ ۝ كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِ ۝ نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ ۝ فَلْيَدْعُ نَادِيَهُ ۝ سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ ۝ كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِب ۩ ۝


(د) سورة العاديات-

[(ঘ) সূরা আল-আদিয়াত মুখস্থ লেখ।]

উত্তর:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًا ۝ فَالْمُورِيَاتِ قَدْحًا ۝ فَالْمُغِيرَاتِ صُبْحًا ۝ فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعًا ۝ فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا ۝ إِنَّ الْإِنسَانَ لِرَبِّهِ لَكَنُودٌ ۝ وَإِنَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ لَشَهِيدٌ ۝ وَإِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيدٌ ۝ ۞ أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ ۝ وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ ۝ إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّخَبِيرٌ ۝


مجموعة (ج) – [গ অংশ : তরজমা ও তাহকীক]

الدرجات : ۳۰ | পূর্ণমান : ৩০


৪. ترجم اثنين من النصوص القرآنية وأجب عن الأسئلة الملحقة بها : (৩০ = ২ × ১৫)

[৪. নিচের যে কোনো দুটি কুরআনী নসের তরজমা কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : মান: ২ × ১৫ = ৩০]

(أ) النص القرآني :

﴿قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ۝ وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّىٰ ۝ بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ۝ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ ۝ إِنَّ هَٰذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَىٰ ۝ صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ﴾

সরল বঙ্গার্থ:
“নিশ্চয় সে-ই সাফল্য লাভ করেছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে। এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করেছে, অতঃপর সালাত আদায় করেছে। কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখেরাতই সর্বোৎকৃষ্ট ও চিরস্থায়ী। নিশ্চয় এটি পূর্ববর্তী সহীফাসমূহেও বিদ্যমান ছিল—ইব্রাহীম ও মূসার সহীফাসমূহে।”

(১) اشرح قوله تعالى : “قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّىٰ”- (৭)

ব্যাখ্যা: মহান আল্লাহর বাণী ﴿قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ﴾ হলো মানবজীবনের চূড়ান্ত সাফল্যের ঐশী ঘোষণা। এখানে ‘আফলাহা’ (أَفْلَحَ) অর্থ চূড়ান্ত কামিয়াবী ও জান্নাত লাভ করা। আর ‘তাযাক্কা’ (تَزَكَّىٰ)-এর তাফসীরে মুফাসসিরগণ তিনটি প্রধান অর্থ উল্লেখ করেছেন:

১. শিরক ও পাপাচার থেকে পবিত্রতা: কুফর, শিরক, নিফাক ও অন্তরের কলুষতা থেকে তাওহীদের মাধ্যমে কলবকে পবিত্র করা।

২. সাদাকাতুল ফিতর ও যাকাত প্রদান: হযরত ইবনে আব্বাস ও কাতাদা (রা.) বলেন, এর দ্বারা রমযানের পর সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা এবং যাকাত দেওয়ার মাধ্যমে মাল পবিত্র করা বোঝানো হয়েছে।

৩. আমলে সালেহ দ্বারা চরিত্রের উৎকর্ষ: সৎকর্ম ও তাকওয়ার মাধ্যমে নিজের আত্মাকে উন্নত করা। অতএব, যে ব্যক্তি আত্মিক ও শারীরিক উভয় দিক থেকে পবিত্রতা অর্জন করেছে, সে-ই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম হয়েছে।

(২) حقق الكلمات الآتية : فصلى، تؤثرون، خير، أبقى- (৪)

  • فَصَلَّىٰ: صيغة: واحد مذكر غائب، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: تَفْعِيلٌ، مادة: (ص ل و)، جنس: ناقص واوي، অর্থ: অতঃপর সে নামায আদায় করল।
  • تُؤْثِرُونَ: صيغة: جمع مذكر حاضر، بحث: إثبات فعل مضارع معروف، باب: إِفْعَالٌ، مادة: (أ ث ر)، جنس: مهموز الفاء، অর্থ: তোমরা অগ্রাধিকার বা প্রাধান্য দিচ্ছ।
  • خَيْرٌ: صيغة: اسم تفضيل (أصله أَخْيَرُ)، مادة: (خ ي ر)، جنس: أجوف يائي، অর্থ: অধিকতর উত্তম ও কল্যাণময়।
  • أَبْقَىٰ: صيغة: اسم تفضيل، وزن: أَفْعَلُ، مادة: (ب ق ي)، جنس: ناقص يائي، অর্থ: অধিকতর চিরস্থায়ী ও অক্ষয়।

(ب) النص القرآني :

﴿أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ ۝ إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ ۝ الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ ۝ وَثَمُودَ الَّذِينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِ ۝ وَفِرْعَوْنَ ذِي الْأَوْتَادِ ۝ الَّذِينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِ ۝ فَأَكْثَرُوا فِيهَا الْفَسَادَ ۝ فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ﴾

সরল বঙ্গার্থ:
“তুমি কি দেখনি তোমার পালনকর্তা আদ জাতির সাথে কী আচরণ করেছিলেন? সুউচ্চ স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম গোত্রের সাথে? যার সমতুল্য কোনো জাতি দুনিয়ার কোনো দেশে সৃষ্টি করা হয়নি। এবং সামূদ জাতির সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে সুরম্য গৃহ নির্মাণ করেছিল? এবং বহু সেনাবহর ও কীলকের অধিকারী ফেরাউনের সাথে? যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল এবং সেখানে বহু ফাসাদ বিস্তার করেছিল। অতঃপর তোমার পালনকর্তা তাদের ওপর আযাবের চাবুক বর্ষণ করলেন।”

(১) من الرسول الذي بعثه الله الى قوم عاد؟ ولماذا اهلك الله قوم عاد؟ (৭)

উত্তর: কওমে আদের নিকট মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত নবী হযরত হূদ (আ.)-কে প্রেরণ করেছিলেন।

আল্লাহ কেন তাদের ধ্বংস করেছিলেন:

১. তাওহীদ প্রত্যাখ্যান ও শিরক: তারা এক আল্লাহর ইবাদত ত্যাগ করে মূর্তিপূজায় নিমজ্জিত হয়েছিল এবং হূদ (আ.)-এর রিসালাতকে অস্বীকার করেছিল।

২. দৈহিক শক্তির অহংকার: আল্লাহ তাদের সুবিশাল দেহ ও অসাধারণ শক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা দাম্ভিকতার সাথে বলেছিল: ﴿مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً﴾ (“আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে?”)।

৩. যুলুম ও ফাসাদ: তারা দুর্বলদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার চালাত এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

এর শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর টানা সাত রাত ও আট দিন প্রচণ্ড শীতল ও ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় (الرِّيحُ الصَّرْصَرُ العَاتِيَةُ) চাপিয়ে দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দেন।

(২) حقق الكلمات الآتية : جابوا، طغوا، اكثروا، صب- (৪)

  • جَابُوا: صيغة: جمع مذكر غائب، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: نَصَرَ يَنْصُرُ، مادة: (ج و ب)، جنس: أجوف واوي، অর্থ: তারা কেটেছিল বা খোদাই করেছিল।
  • طَغَوْا: صيغة: جمع مذكر غائب، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: فَتَحَ يَفْتَحُ، مادة: (ط غ ي)، جنس: ناقص يائي، অর্থ: তারা সীমালঙ্ঘন ও অবাধ্যতা করেছিল।
  • أَكْثَرُوا: صيغة: جمع مذكر غائب، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: إِفْعَالٌ، مادة: (ك ث ر)، جنس: صحيح، অর্থ: তারা প্রাচুর্য বা বৃদ্ধি করেছিল।
  • صَبَّ: صيغة: واحد مذكر غائب، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: ضَرَبَ يَضْرِبُ، مادة: (ص ب ب)، جنس: مضاعف ثلاثي، অর্থ: তিনি ঢেলে দিলেন বা বর্ষণ করলেন।

(ج) النص القرآني :

﴿أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ۝ وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ ۝ الَّذِي أَنقَضَ ظَهْرَكَ ۝ وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ ۝ فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْ ۝ وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَارْغَب﴾

সরল বঙ্গার্থ:
“আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে প্রশস্ত করে দিইনি? এবং আমি অপসারণ করেছি আপনার ভার, যা আপনার পিঠকে ভেঙে দিচ্ছিল। এবং আমি আপনার মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি; নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। অতএব যখনই আপনি অবসর পান, ইবাদতে নিমগ্ন হোন। এবং আপনার প্রতিপালকের প্রতিই মনোনিবেশ করুন।”

(১) كيف شرح الله صدر النبى صلى الله عليه وسلم؟ بين- (৭)

উত্তর: মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ (সা.)-এর বক্ষদেশ দুইভাবে প্রশস্ত (شَرْحُ الصَّدْرِ) করেছিলেন:

১. আত্মিক ও আধ্যাত্মিক প্রশস্তকরণ (المَعْنَوِيُّ): নবীজি (সা.)-এর অন্তরকে হিকমত, ঈমান, নবুওয়াত ও মারেফাতের নূর দ্বারা উদ্ভাসিত করা। ওহীর গুরুভার বহন করা এবং উম্মতের হেদায়েতের কঠিন দায়িত্ব পালনে অসীম ধৈর্য, সহনশীলতা ও গভীর প্রশান্তি দান করা।

২. শারীরিক বা বাস্তব বক্ষবিদারণ (الحِسِّيُّ – شَقُّ الصَّدْرِ): বাল্যকালে বনু সা’দ গোত্রে থাকাকালীন এবং পরবর্তীতে মি’রাজের রাতে জিবরাঈল (আ.) কর্তৃক নবীজির বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করে যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করা এবং ঈমান ও হিকমত দ্বারা পরিপূর্ণ করে সিলমোহর অঙ্কিত করা।

(২) حقق الكلمات الاتية : نشرح، انقض، رفعنا، فرغت- (৪)

  • نَشْرَحْ: صيغة: جمع متكلم، بحث: نفي جحد بلم فعل مضارع معروف، باب: فَتَحَ يَفْتَحُ، مادة: (ش ر ح)، جنس: صحيح، অর্থ: আমরা কি উন্মুক্ত বা প্রশস্ত করিনি?
  • أَنْقَضَ: صيغة: واحد مذكر غائب، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: إِفْعَالٌ، مادة: (ن ق ض)، جنس: صحيح، অর্থ: তা ভেঙে দিচ্ছিল বা নুইয়ে দিচ্ছিল।
  • رَفَعْنَا: صيغة: جمع متكلم، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: فَتَحَ يَفْتَحُ، مادة: (ر ف ع)، جنس: صحيح، অর্থ: আমরা সমুন্নত ও সুউচ্চ করেছি।
  • فَرَغْتَ: صيغة: واحد مذكر حاضر، بحث: إثبات فعل ماض معروف، باب: فَتَحَ يَفْتَحُ، مادة: (ف ر غ)، جنس: صحيح، অর্থ: আপনি অবসর হলেন।

(د) النص القرآني :

﴿أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ ۝ فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ ۝ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ ۝ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ ۝ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ۝ الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ ۝ وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ﴾

সরল বঙ্গার্থ:
“আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে? সে তো সেই ব্যক্তি, যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। এবং মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করে না। অতএব দুর্ভোগ সেই নামাযীদের জন্য, যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে উদাসীন; যারা লোক-দেখানো কাজ করে এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সামগ্রী দিতেও নিষেধ করে।”

(১) فسر قوله تعالى : “وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ”- (৪)

তাফসীর: ﴿وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ﴾-এর অর্থ হলো সে নিজে তো অভাবগ্রস্ত মিসকীনকে খাদ্য দেয়ই না, উপরন্তু নিজের পরিবারের সদস্যদের বা সমাজের অন্যদেরকেও ক্ষুধার্তদের খাবার দিতে বিন্দুমাত্র উৎসাহ বা তাগিদ দেয় না। ‘ইয়াহুদ্দু’ (يَحُضُّ) অর্থ তাগিদ দেওয়া বা উৎসাহিত করা। আখিরাত অস্বীকারকারীর অন্তরে আল্লাহর ভয় ও সৃষ্টির প্রতি দয়া থাকে না বলেই সে কৃপণতা প্রদর্শন করে এবং অসহায়দের হক থেকে বিমুখ থাকে।

(২) حقق الكلمات الاتية : يدع، اليتيم، ساهون، الماعون- (৪)

  • يَدُعُّ: صيغة: واحد مذكر غائب، بحث: إثبات فعل مضارع معروف، باب: نَصَرَ يَنْصُرُ، مادة: (د ع ع)، جنس: مضاعف ثلاثي، অর্থ: সে রূঢ়ভাবে ধাক্কা দেয় বা তাড়িয়ে দেয়।
  • اليَتِيمُ: صيغة: صفة مشبهة / اسم مفرد، مادة: (ي ت م)، جنس: صحيح، অর্থ: পিতৃহীন নাবালক সন্তান (এতিম)।
  • سَاهُونَ: صيغة: جمع مذكر سالم، اسم فاعل، مادة: (س هـ و)، جنس: ناقص واوي، অর্থ: উদাসীন ও গাফেল ব্যক্তিগণ।
  • المَاعُونُ: صيغة: اسم جامد / مصدر، وزن: فَاعُولٌ، مادة: (م ع ن)، جنس: صحيح، অর্থ: গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ সাহায্য বা পাত্রাদি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: তাজবীদুল কুরআন পরীক্ষার প্রশ্নকাঠামো কেমন হয়?

উত্তর: তাজবীদুল কুরআন (বিষয় কোড: 201102) পরীক্ষায় মোট তিনটি অংশ থাকে: ‘ক’ বিভাগে তাজবীদের মূলনীতি ও আহকাম (৩০ নম্বর), ‘খ’ বিভাগে নির্বাচিত সূরার হিফজ (২০ নম্বর) এবং ‘গ’ বিভাগে কুরআনী নসের তরজমা, ব্যাখ্যা ও তাহকীক (৩০ নম্বর)। সর্বমোট পূর্ণমান ৮০ নম্বর।

প্রশ্ন ২: কুরআন তিলাওয়াতে তাজবীদ মানার শারয়ী হুকুম কী?

উত্তর: তাজবীদের নিয়ম-কানুনের তাত্ত্বিক সংজ্ঞা জানা ফরযে কিফায়া, কিন্তু কুরআন তিলাওয়াতকালে তাজবীদের বিধান বাস্তবায়ন করে সহীহভাবে পাঠ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরযে আইন।

প্রশ্ন ৩: লাহনে জালী ও লাহনে খাফীর পার্থক্য কী?

উত্তর: লাহনে জালী হলো হরকত বা হরফের সুস্পষ্ট পরিবর্তন যা অর্থ বিকৃত করে এবং তা করা হারাম; পক্ষান্তরে লাহনে খাফী হলো গুন্নাহ, মাদ্দ বা ইখফার মতো সৌন্দর্যবর্ধক নিয়মের সূক্ষ্ম ভুল যা মাকরূহ।

প্রশ্ন ৪: মাদ্দের মৌলিক প্রকার কয়টি ও কী কী?

উত্তর: মাদ্দের মৌলিক প্রকার দুটি: মাদ্দে আসলী বা তাবি’য়ী (যা কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়া স্বাভাবিক ১ আলিফ টানা হয়) এবং মাদ্দে ফার’ঈ (যা হামযা বা সুকুনের কারণে ১ আলিফের বেশি টেনে পড়া হয়)।

প্রশ্ন ৫: তাহকীক করার সময় কোন কোন বিষয় উল্লেখ করা জরুরি?

উত্তর: তাহকীকে সিগাহ (صيغة), বাহাস (بحث), বাব (باب), মাদ্দাহ বা মূল হরফ (مادة), জিন্স (جنس) এবং শব্দের সঠিক বাংলা অর্থ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়।

প্রশ্ন ৬: ২০২৪ সালের তাজবীদুল কুরআন প্রশ্নপত্রে কি কোনো ঐচ্ছিক প্রশ্ন বাদ দেওয়া হয়েছে?

উত্তর: না, এই সমাধানে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি বিভাগ (ক, খ, গ)-এর মূল এবং বিকল্পসহ প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *