তাজবীদুল কুরআনিল কারীম (Tajweedul Quran) – 201102, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৬৯ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ۲۰۲۲م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه
[তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহু ওয়া তারজামাতু মাআ’নিহি]
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০২
الوقت – ٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة – ٨٠ [পূর্ণমান—৮০]

الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (الف) [ক বিভাগ]

الدرجات – ۳۰ [মান: ৩০]


১- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية: [নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ১০ × ২ = ২০)

(الف) عرف علم التجويد- وما حكمه وأنواعه؟ ولم يحتاج الناس إلى هذا العلم؟ بين بالايضاح-

[علم التجويد এর সংজ্ঞা দাও। এর হুকুম ও প্রকারসমূহ কী? কেন মানুষকে এ علم শিখতে হয়? বিশদভাবে আলোচনা কর।]

১. علم التجويد (ইলমুত তাজবীদের) পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: التجويد শব্দটি باب تفعيل থেকে مصدر। এর আভিধানিক অর্থ التحسين والتجويد অর্থাৎ কোনো বস্তুকে সুন্দর, শোভন ও ত্রুটিমুক্ত করা (التحسين والاتقان)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাজবীদ শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায়—
«هُوَ إِعْطَاءُ كُلِّ حَرْفٍ حَقَّهُ مِنْ مَخْرَجِهِ وَمُسْتَحَقَّهُ مِنْ صِفَاتِهِ»
অর্থাৎ: প্রতিটি আরবী বর্ণকে তার নির্দিষ্ট মাখরাজ থেকে সঠিক উচ্চারণভঙ্গিতে বের করা এবং বর্ণের সহজাত হক্ব (লাযিম সিফাতসমূহ) ও মুস্তাহাক্ব (আরিয সিফাতসমূহ) যথাযথভাবে আদায় করে তিলাওয়াত করাকে ইলমুত তাজবীদ বলে।

২. ইলমুত তাজবীদের হুকুম (حكم علم التجويد):
ইসলামী শরিয়তে তাজবীদের হুকুম দুটি দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভক্ত:
ক. তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জন (الجانب النظري): তাজবীদের নিয়ম-কানুন, পরিভাষা ও তাত্ত্বিক মাসআলা মুখস্থ রাখা এবং অনুধাবন করা উম্মতের জন্য ফরযে কিফায়া (فرض كفاية)। সমাজে একদল আলেম ও ক্বারী এ জ্ঞান সংরক্ষণ করলে বাকিরা দায়মুক্ত হবেন।
খ. আমলি বা প্রায়োগিক তিলাওয়াত (الجانب العملي والتطبيقي): কুরআন মাজীদ তিলাওয়াতকালে তাজবীদের মৌলিক নিয়ম মেনে বর্ণসমূহ বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরযে আইন (فرض عين)। ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) তাঁর কালজয়ী মুকাদ্দামাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:
«وَالأَخْذُ بِالتَّجْوِيدِ حَتْمٌ لاَزِمُ * مَنْ لَمْ يُجَوِّدِ الْقُرْآنَ آثِمُ»
«لأَنَّهُ بِهِ الإِلَهُ أَنْزَلاَ * وَهَكَذَا مِنْهُ إِلَيْنَا وَصَلاَ»
অর্থাৎ: তাজবীদসহকারে কুরআন তিলাওয়াত করা অবশ্যকরণীয়। যে ব্যক্তি বিশুদ্ধ তাজবীদ ব্যতীত তিলাওয়াত করে সে গুনাহগার হবে। কারণ মহান আল্লাহ তাজবীদসহই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং এভাবেই রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে তা আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে।

৩. তাজবীদের প্রকারভেদ (أنواع التجويد):
তাজবীদ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
১. তাজবীদে আমলী (التجويد العملي): তিলাওয়াতের সময় মাখরাজ ও সিফাত যথাযথভাবে প্রয়োগ করে শব্দের সহীহ উচ্চারণ করা।
২. তাজবীদে ইলমী বা নাযারী (التجويد العلمي / النظري): তাজবীদের সংজ্ঞা, মাখরাজ, সিফাত, আহকামে নূন সাকিন, তানভীন, মাদ ইত্যাদির তাত্ত্বিক নিয়ম-কানুন ও প্রমাণাদি শাস্ত্রীয়ভাবে জানা।

৪. কেন মানুষকে এ علم শিখতে হয়? (حاجة الناس إلى هذا العلم):
মানবজাতির, বিশেষত অনারব ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের জন্য ইলমুত তাজবীদ শেখার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কারণ:
১. বিকৃতি ও লাহনে জলী থেকে হেফাজত: আরবী ভাষায় অক্ষরের সামান্য উচ্চারণ পরিবর্তনের ফলে শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ উল্টে যায় এবং কুফর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যেমন: عسى (আশা করা) এর স্থলে عصى (নাফরমানি করা), অথবা قلب (অন্তর) এর স্থলে كلب (কুকুর)। তাজবীদ মানুষকে এমন ভয়াবহ বিকৃতি থেকে রক্ষা করে।
২. আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ পালন: আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন— ﴿وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا﴾ (সূরা আল-মুযযাম্মিল: ৪)। হযরত আলী (রা.) তারতীল-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: «التَّرْتِيلُ هُوَ تَجْوِيدُ الْحُرُوفِ وَمَعْرِفَةُ الْوُقُوفِ» অর্থাৎ তারতীল হলো হরফসমূহকে তাজবীদসহ পড়া এবং ওয়াকফের স্থানসমূহ চেনা।
৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কিরামের তিলাওয়াত পদ্ধতির অনুগমন: কুরআন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে ঠিক সেভাবে সংরক্ষণ করা তাজবীদের মাধ্যমেই সম্ভব।


(ب) ما معنى التلاوة؟ وما أهمية تلاوة القرآن؟ اكتب في ضوء القرآن والسنة-

[التلاوة এর অর্থ কী? কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব কী? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে লিপিবদ্ধ কর।]

১. التلاوة (তিলাওয়াতের) অর্থ:
আভিধানিক অর্থ: تلاوة শব্দটি تلا – يتلو ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ: অনুসরণ করা (الاتباع), ক্রমান্বয়ে পাঠ করা (القراءة المتتابعة)।
পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর পবিত্র কালাম কুরআনুল কারীম তাজবীদের বিধিবিধান মেনে ভক্তি, একাগ্রতা ও অর্থ অনুধাবনের সাথে ক্রমান্বয়ে পাঠ করাকে তিলাওয়াত বলে। ইমাম রাগিব ইসফাহানী (রহ.) বলেন, তিলাওয়াত কেবল সাধারণ পাঠ নয়, বরং এটি খোদায়ী নির্দেশনার অনুসরণমূলক এক মহিমান্বিত ইবাদত।

২. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব:
কুরআনুল কারীমের আলোকে গুরুত্ব:
১. রূহের খোরাক ও হেদায়েত: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— ﴿إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَّن تَبُورَ﴾ (সূরা ফাতির: ২৯)। অর্থাৎ যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং দান করে, তারা এমন ব্যবসার আশা রাখে যা কখনো ধ্বংস হবে না।
২. ঈমান বৃদ্ধির মাধ্যম: ﴿وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا﴾ (সূরা আল-আনফাল: ২)। যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।
৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মূল দায়িত্বসমূহের অন্যতম: ﴿يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ﴾ (সূরা আলে ইমরান: ১৬৪)।

সুন্নাহর আলোকে গুরুত্ব:
১. সর্বশ্রেষ্ঠ আমল ও সর্বোত্তম মানুষ: হযরত উসমান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
«خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ» (সহীহ বুখারী: ৫০২৭)
«তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।»
২. প্রতিটি হরফে দশটি করে নেকি: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সূত্রে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
«مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ» (জামে তিরমিযী: ২৯১০)
৩. কিয়ামতের ময়দানে শাফায়াতকারী: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ» (সহীহ মুসলিম: ৮০৪)।


(ج) عرف المد- وكم نوعًا له؟ وما المد اللازم؟ اكتب كل قسم بالامثلة-

[المد এর পরিচয় দাও। المد কত প্রকার? المد اللازم কী? প্রত্যেক প্রকার উদাহরণসহ লেখ।]

১. المد (মাদের) পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: المد শব্দের অর্থ الزيادة والتطويل অর্থাৎ বৃদ্ধি করা বা দীর্ঘ করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাজবীদের পরিভাষায়—
«هُوَ إِطَالَةُ الصَّوْتِ بِحَرْفٍ مِنْ حُرُوفِ الْمَدِّ أَوْ حَرْفَيْ اللِّينِ»
অর্থাৎ: মাদের তিনটি হরফ (আলিফ, ওয়াও, ইয়া) কিংবা লিনের দুটি হরফের কোনো একটি উচ্চারণের সময় স্বরধ্বনিকে দীর্ঘ করে টানাকে মাদ বলে।

২. মাদের মূল প্রকারভেদ (أقسام المد الأساسية):
তাজবীদ শাস্ত্রে মাদ মূলত দুই প্রকার:
১. মাদে আসলী বা ত্ববায়ীয়ী (المد الأصلي / الطبيعي): যে মাদের ক্ষেত্রে হরফে মাদের পর কোনো কারণ (হামযাহ বা সুকূন) থাকে না। সাধারণ অবস্থায় এক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করতে হয়। যেমন: قَالَ، قِيلَ، يَقُولُ।
২. মাদে ফার’ঈ (المد الفرعي): হামযাহ বা সুকূনের কারণে মাদে আসলীয়ের চেয়ে অতিরিক্ত দীর্ঘ করে টানা হয়। এর প্রধান কারণ দুটি: হামযাহ (যেমন: মাদে মুত্তাসিল, মাদে মুনফাসিল, মাদে বাদাল) এবং সুকূন (যেমন: মাদে লাযিম, মাদে আরিয, মাদে লীন)।

৩. المد اللازم (মাদে লাযিমের) সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ:
সংজ্ঞা: হরফে মাদের পর একই শব্দে আসল বা স্থায়ী সুকূন (سكون أصلي) বা তাশদীদ আসলে তাকে মাদে লাযিম বলে। সকল ক্বারীর সর্বসম্মত ঐকমত্যে একে পূর্ণ ৩ আলিফ (৬ হরকত) দীর্ঘ করে টানা ওয়াজিব/লাযিম হওয়ায় একে ‘লাযিম’ বলা হয়।
মাদে লাযিমের শ্রেণিবিভাগ: মাদে লাযিম প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত, এবং প্রতি ভাগ আবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মোট চার প্রকার হয়:
১. মাদে লাযিম কালমী মুসাক্কাল (المد اللازم الكلمي المثقل): কোনো সাধারণ শব্দে হরফে মাদের পর তাশদীদযুক্ত হরফ (যা মূলত সুকূন ও হরকতের সমন্বয়) আসলে। উদাহরণ: ﴿الضَّالِّينَ﴾، ﴿الحَاقَّةُ﴾، ﴿الصَّاخَّةُ﴾।
২. মাদে লাযিম কালমী মুখাফফাফ (المد اللازم الكلمي المخفف): কোনো শব্দে হরফে মাদের পর তাশদীদবিহীন আসল সুকূন আসলে। কুরআনে এর একমাত্র উদাহরণ হলো সূরা ইউনূসের: ﴿آلْآنَ﴾।
৩. মাদে লাযিম হারফী মুসাক্কাল (المد اللازم الحرفي المثقل): হুরুফে মুকাত্তাআতের হরফে মাদের পর পরের হরফের সাথে ইদগাম বা তাশদীদযুক্ত হলে। উদাহরণ: ﴿الم﴾ (আলিফ-লাম-মীম)-এর ‘লাম’ (لَامْ-مِّيمْ)।
৪. মাদে লাযিম হারফী মুখাফফাফ (المد اللازم الحرفي المخفف): হুরুফে মুকাত্তাআতের হরফে মাদের পর সুকূন হয় কিন্তু ইদগাম হয় না। উদাহরণ: ﴿ق﴾ (ক্বাফ), ﴿ن﴾ (নূন), ﴿ص﴾ (সোয়াদ)।


(د) ما المراد بصفات الحروف- وكم نوعًا لها؟ اكتب بالأمثلة-

[صفات الحروف দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এটা কত প্রকার? উদাহরণসহ লেখ।]

১. صفات الحروف (হরফের সিফাত)-এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: الصفة হলো এমন গুণ বা বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা কোনো বস্তুর অবস্থা চিহ্নিত হয় (ما قام بالشيء من المعاني)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: হরফ তার নির্ধারিত মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হওয়ার সময় মুখের মধ্যে যে বিশেষ অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, তাকে صفات الحروف বা হরফের গুণাবলি বলে। যেমন: বাতাস চালু থাকা, আওয়াজ বন্ধ হওয়া, জিহ্বা ওপরে ওঠা ইত্যাদি।

২. সিফাতের প্রকারভেদ (أقسام الصفات):
ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.)-এর সর্বজনগ্রাহ্য মতানুযায়ী সিফাত ১৭টি, যা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম বিভাগ: পরস্পর বিপরীতমুখী সিফাত (الصفات المتضادة): এ বিভাগে ৫ জোড়া (মোট ১০টি) সিফাত রয়েছে:
১ ও ২. হামস ও জাহর (الهمس والجهر): হামস হলো উচ্চারণকালে বাতাস জারি থাকা (হরফ ১০টি: فَحَثَّهُ شَخْصٌ سَكَتَ)। জাহর হলো বাতাস বন্ধ থাকা (বাকি হরফসমূহ)।
৩ ও ৪. শিদ্দাহ ও রাখাওয়াহ (الشدة والرخاوة): শিদ্দাহ হলো আওয়াজ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া (হরফ ৮টি: أَجِدُ قَطٍ بَكَتْ)। এর মধ্যবর্তী অবস্থা হলো তাওয়াসসুত (হরফ ৫টি: لِنْ عُمَرْ)। রাখাওয়াহ হলো বাকি হরফ যাতে আওয়াজ প্রবাহিত হয়।
৫ ও ৬. ইসতি’লা ও ইসতিফাল (الاستعلاء والاستفال): ইসতি’লা হলো জিহ্বার গোড়া তালুর দিকে উঁচু হওয়া (হরফ ৭টি: خُصَّ ضَغْطٍ قِظْ)। ইসতিফাল হলো জিহ্বা নিচু থাকা (বাকি হরফ)।
৭ ও ৮. ইত্ববাক্ব ও ইনফিতাহ (الإطباق والانفتاح): ইত্ববাক্ব হলো জিহ্বা তালুর সাথে এঁটে যাওয়া (হরফ ৪টি: ص، ض، ط، ظ)। ইনফিতাহ হলো জিহ্বা আলগা থাকা (বাকি হরফ)।
৯ ও ১০. ইযলাক্ব ও ইসমাত (الإذلاق والإصمات): ইযলাক্ব হলো ঠোঁট ও জিহ্বার ডগা দিয়ে দ্রুত উচ্চারিত হওয়া (হরফ ৬টি: فَرَّ مِنْ لُبٍّ)। ইসমাত হলো বাকি হরফ।

দ্বিতীয় বিভাগ: বিপরীতহীন একক সিফাত (الصفات التي لا ضد لها): এ বিভাগে ৭টি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. স্বাফীর (الصفير): শিস ধ্বনি (হরফ ৩টি: ص، ز، س)।
২. ক্বলক্বলাহ (القلقلة): প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হওয়া (হরফ ৫টি: قُطْبُ جَدٍّ)।
৩. লীন (اللين): কোমলভাবে উচ্চারণ হওয়া (হরফ ২টি: واو ও ياء সাকিন, যার পূর্বে ফাতহাহ থাকে)।
৪. ইনহিরাফ (الانحراف): মাখরাজ থেকে বিচ্যুত হওয়া (হরফ ২টি: ل، ر)।
৫. তাক্বরীর (التكرير): জিহ্বার অগ্রভাগ কেঁপে ওঠা (হরফ ১টি: ر)।
৬. তাফাশশী (التفشي): মুখের ভিতর বাতাস ছড়িয়ে পড়া (হরফ ১টি: ش)।
৭. ইসতিত্বালাত (الاستطالة): মাখরাজের দৈর্ঘ্য বরাবর টেনে উচ্চারণ করা (হরফ ১টি: ض)।


২- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية بالاختصار: [সংক্ষেপে নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:] (মান: ৫ × ২ = ১০)

(الف) عرف البسملة- هل هي جزء من السور أم لا؟ بين بالإيضاح-

[البسملة এর পরিচয় দাও। তা কি সূরাসমূহের অংশ নাকি অংশ নয়? স্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]

১. البسملة (বাসমালাহ্)-এর পরিচয়:
আরবী ভাষায় «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ» বাক্যটি সংক্ষেপে পাঠ বা উল্লেখ করাকে نحت বা সংক্ষিপ্তকরণ রীতি অনুযায়ী البسملة (বাসমালাহ) বলা হয়।

২. বাসমালাহ কি সূরাসমূহের অংশ নাকি স্বতন্ত্র আয়াত?
এ বিষয়ে মুফাসসির ও ফকীহগণের মধ্যে কয়েকটি অভিমত রয়েছে:
১. সূরা আন-নামল-এর অংশ: সকল ইমামের সর্বসম্মত ঐকমত্যে সূরা আন-নামলের ৩০ নম্বর আয়াতের অংশ হিসেবে বাসমালাহ নিঃসন্দেহে কুরআনের অংশ (﴿إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ﴾)।
২. সূরা আল-ফাতিহার অংশ কিনা: ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মতে বাসমালাহ সূরা ফাতিহার একটি স্বতন্ত্র আয়াত। ইমাম মালেক (রহ.)-এর মতে তা ফাতিহার আয়াত নয়।
৩. অন্যান্য সূরার প্রারম্ভে: ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও মুহাক্কিক ওলামাদের তাহকীক অনুযায়ী— প্রতি সূরার শুরুতে বাসমালাহ অবতীর্ণ হয়েছে দুটি সূরার মধ্যে পৃথকীকরণ (الفصل بين السورتين) এবং বরকত হাসিলের জন্য; তা সূরা তাওবাহ ব্যতীত অন্য কোনো সূরার নিজস্ব অংশ নয়, বরং কুরআনের একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন আয়াত (آية مستقلة)।


(ب) ما معنى اللحن وكم قسما له؟ بين-

[اللحن অর্থ কী? তা কত প্রকার? বর্ণনা কর।]

১. اللحن (লাহনের) অর্থ ও সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থ: الخطأ والميل عن الصواب অর্থাৎ ভুল করা, বিচ্যুত হওয়া বা ত্রুটিযুক্ত পড়া।
পারিভাষিক অর্থ: তাজবীদের নির্ধারিত নিয়মাবলি লঙ্ঘন করে কুরআন তিলাওয়াতে কোনো প্রকারের ত্রুটি বা অশুদ্ধি করাকে লাহন বলে।

২. লাহনের প্রকারভেদ:
লাহন প্রধানত দুই প্রকার:
১. লাহনে জলী বা প্রকাশ্য ভুল (اللحن الجلي): এমন প্রকাশ্য মারাত্মক ভুল যা হরফের সত্তা, মাখরাজ বা এরাবকে পরিবর্তন করে ফেলে। যেমন: فাতহাহ-এর জায়গায় কাসরাহ বা দম্মা পড়া (যেমন: ﴿أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ﴾ এর জায়গায় ‘আনআমতু’ পড়া), অথবা এক হরফের স্থলে অন্য হরফ পড়া (যেমন: ط এর স্থলে ت পড়া)। এর হুকুম হলো এটি হারাম ও কবিরা গুনাহ এবং এর দ্বারা সালাত বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে।
২. লাহনে খফী বা সূক্ষ্ম ভুল (اللحن الخفي): এমন সূক্ষ্ম ভুল যা সাধারণ মানুষ ধরতে পারে না, কেবল বিজ্ঞ ক্বারীগণ বুঝতে পারেন। যেমন: গুন্নাহ কম করা, মাদের পরিমাণের চেয়ে কম-বেশি টানা, ইযহার বা ইখফার মাত্রা পুরোপুরি নিখুঁত না হওয়া। এর হুকুম হলো এটি মাকরূহ এবং তিলাওয়াতের সৌন্দর্য বিনষ্টকারী।


(ج) اكتب أحكام الميم الساكنة ممثلا-

[মীম সাকিনের হুকুমসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]

মীম সাকিনের পরিচয় ও হুকুমসমূহ:
হরকতবিহীন জযমযুক্ত মীমকে (مْ) মীম সাকিন বলে। মীম সাকিনের পর হিজায়ী বর্ণ আগমনের প্রেক্ষিতে এর হুকুম তিনটি:
১. ইখফায়ে শাফাবী (الإخفاء الشفوي): মীম সাকিনের পর একমাত্র বর্ণ ‘বা’ (ب) আসলে মীম সাকিনকে ঠোঁট পুরোপুরি না চেপে গুন্নাহর সাথে গোপন করে পড়তে হয়। উদাহরণ: ﴿تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ﴾، ﴿فَاحْكُم بَيْنَهُم﴾।
২. ইদগামে শাফাবী / ইদগামে মিসলাইন সগীর (الإدغام الشفوي): মীম সাকিনের পর দ্বিতীয় আরেকটি ‘মীম’ (م) আসলে প্রথম মীমকে দ্বিতীয় মীমের সাথে মিলিয়ে গুন্নাহসহ তাশদীদযুক্ত করে পড়তে হয়। উদাহরণ: ﴿لَهُم مَّا يَشَاءُونَ﴾، ﴿كُنتُم مُّؤْمِنِينَ﴾।
৩. ইযহারে শাফাবী (الإظهار الشفوي): ب এবং م ব্যতীত অবশিষ্ট ২৬টি হরফের যেকোনো একটি মীম সাকিনের পরে আসলে মীমকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত গুন্নাহ ব্যতীত স্পষ্ট উচ্চারণে পড়তে হয়। উদাহরণ: ﴿أَلَمْ تَرَ﴾، ﴿هُمْ فِيهَا﴾। বিশেষত ‘ফা’ (ف) ও ‘ওয়াও’ (و)-এর পূর্বে মীম সাকিন আসলে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করে ইযহার স্পষ্ট করতে হয়।


(د) تحدث عن نشأة علم التجويد وتطوره بالإيجاز-

[علم التجويد এর উৎপত্তি ও ক্রম বিকাশ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

ইলমুত তাজবীদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:
১. নবুওয়াত ও রিসালাতের যুগ: ইলমুত তাজবীদের প্রায়োগিক চর্চার সূত্রপাত স্বয়ং ওহী নাযিলের সময় থেকেই। জিবরীল (আ.) যেভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে কুরআন পাঠ করিয়েছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ ঠিক সেভাবেই সাহাবায়ে কিরামকে মুখে মুখে তালীম দিয়েছেন। সাহাবাগণ সহজাত বিশুদ্ধ আরবী (সালিক্বাহ) হওয়ায় তখন শাস্ত্রীয় নিয়মের দরকার হতো না।
২. ইসলামের বিস্তার ও অনারবদের আগমন: খোলাফায়ে রাশেদীন ও উমাইয়া যুগে ইসলামী খেলাফত বিস্তৃতির ফলে পারস্য, রোম, আফ্রিকার বিশাল অনারব জনগোষ্ঠী ইসলাম গ্রহণ করে। ফলে তিলাওয়াতে লাহনের বিস্তার ঘটে। এর সমাধানে হরকত ও নুকতা আবিষ্কার করেন আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী ও খলীল ইবনে আহমদ আল-ফুরাহিদী।
৩. শাস্ত্রীয় রূপদান ও কিতাব প্রণয়ন: হিজরী তৃতীয় শতকে তাজবীদ একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে লিপিবদ্ধ হতে শুরু করে। তাজবীদের ওপর সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন ইমাম আবু উবায়দ কাসিম ইবনে সাল্লাম (রহ.) (ওফাত: ২২৪ হি.)। এরপর ইমাম মুসা ইবনে উবায়দুল্লাহ খাকানী (রহ.) (ওফাত: ৩২৫ হি.) তাঁর বিখ্যাত ক্বাসীদায়ে খাকানিয়্যাহ্ রচনা করেন।
৪. স্বর্ণযুগ ও ইমাম ইবনুল জাযারী: পরবর্তীতে ইমাম দানী (রহ.) তাঁর ‘আত-তাহদীদ ফীত তাজবীদ’ এবং ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) তাঁর ‘মুকাদ্দামাতুল জাযারিয়্যাহ’ ও ‘আন-নাশর ফিল কিরাআতিল আশর’ রচনার মাধ্যমে এ শাস্ত্রকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছান।


مجموعة (ب) [খ বিভাগ] – হিফজুল কুরআন

الدرجات – ۲۰ [মান: ২০]


৩- أكتب من حفظك اثنين من سور التالية: [স্মৃতি থেকে নিচের যে কোনো দুটি সূরা মুখস্থ লেখ:] (মান: ১০ × ২ = ২০)

(الف) سورة الانفطار [সূরা আল-ইনফিতার]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

إِذَا السَّمَاءُ انفَطَرَتْ ﴿١﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انتَثَرَتْ ﴿٢﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿٣﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿٤﴾ عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ﴿٥﴾ يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ ﴿٦﴾ الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ ﴿٧﴾ فِي أَيِّ صُورَةٍ مَّا شَاءَ رَكَّبَكَ ﴿٨﴾ كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِالدِّينِ ﴿٩﴾ وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ﴿١٠﴾ كِرَامًا كَاتِبِينَ ﴿١١﴾ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿١٢﴾ إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ ﴿١٣﴾ وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ ﴿١٤﴾ يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ ﴿١٥﴾ وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَائِبِينَ ﴿١٦﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ﴿١٧﴾ ثُمَّ مَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ﴿١٨﴾ يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِّنَفْسٍ شَيْئًا ۖ وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِّلَّهِ ﴿١٩﴾

সরল অর্থ:
১. যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,
২. যখন তারকারাজি ঝরে পড়বে,
৩. যখন সমুদ্রসমূহকে উথলে দেওয়া হবে,
৪. এবং যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে,
৫. তখন প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে সে কী আগে পাঠিয়েছে এবং কী পেছনে রেখে এসেছে।
৬. হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে বিভ্রান্ত করলো?
৭. যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন,
৮. যে আকৃতিতে চেয়েছেন তিনি তোমাকে গঠন করেছেন।
৯. কখনই নয়, বরং তোমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করো।
১০. অথচ নিশ্চয় তোমাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত রয়েছে,
১১. সম্মানিত লেখকবৃন্দ,
১২. তোমরা যা করো তারা তা অবগত।
১৩. নিশ্চয়ই পুণ্যবানরা থাকবে পরম আনন্দে (জান্নাতে),
১৪. আর পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে;
১৫. তারা প্রতিফল দিবসে তাতে প্রবেশ করবে,
১৬. এবং তারা সেখান থেকে কখনো অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।
১৭. আর কিসে তোমাকে জানাবে প্রতিফল দিবস কী?
১৮. আবার বলি, কিসে তোমাকে জানাবে প্রতিফল দিবস কী?
১৯. সেদিন কেউ কারো জন্য কোনো উপকারে আসবে না, এবং সেদিন সকল কর্তৃত্ব হবে একমাত্র আল্লাহর।


(ب) سورة الطارق [সূরা আত-ত্বারিক্ব]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ ﴿١﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الطَّارِقُ ﴿٢﴾ النَّجْمُ الثَّاقِبُ ﴿٣﴾ إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ ﴿٤﴾ فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ ﴿٥﴾ خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ ﴿٦﴾ يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ ﴿٧﴾ إِنَّهُ عَلَىٰ رَجْعِهِ لَقَادِرٌ ﴿٨﴾ يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ ﴿٩﴾ فَمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ ﴿١٠﴾ وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ ﴿١١﴾ وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ ﴿١٢﴾ إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ ﴿١٣﴾ وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ ﴿١٤﴾ إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا ﴿١٥﴾ وَأَكِيدُ كَيْدًا ﴿١٦﴾ فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا ﴿١٧﴾

সরল অর্থ:
১. শপথ আকাশের এবং রাতে আত্মপ্রকাশকারীর!
২. কিসে তোমাকে জানাবে রাতে আত্মপ্রকাশকারী কী?
৩. তা এক উজ্জ্বল আলোকময় উজ্জ্বল নক্ষত্র!
৪. কোনো প্রাণীই এমন নেই যার ওপর কোনো হিফাযতকারী (ফেরেশতা) নেই।
৫. অতএব মানুষের লক্ষ্য করা উচিত কী বস্তু থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
৬. তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে নির্গত পানি থেকে,
৭. যা মেরুদণ্ড ও পঞ্জরাস্থির মধ্য থেকে নির্গত হয়।
৮. নিশ্চয়ই তিনি তাকে পুনর্জীবিত করতে পূর্ণ সক্ষম।
৯. যেদিন সকল গোপন রহস্য উন্মোচিত হবে,
১০. সেদিন তার কোনো নিজস্ব শক্তি থাকবে না এবং কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না।
১১. শপথ চক্রাবর্তী বৃষ্টিময় আকাশের,
১২. এবং বিদীর্ণ হওয়ার যোগ্য ভূমির!
১৩. নিশ্চয়ই এ কুরআন মীমাংসাকারী চূড়ান্ত বাণী,
১৪. আর এটি কোনো অর্থহীন উপহাস নয়।
১৫. নিশ্চয় তারা কূটকৌশল আঁটছে,
১৬. আর আমিও কৌশল গ্রহণ করছি।
১৭. অতএব আপনি কাফেরদের অবকাশ দিন, তাদেরকে সামান্য সময়ের জন্য ছাড় দিন।


(ج) سورة الزلزال [সূরা আয-যিলযাল]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ﴿١﴾ وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴿٢﴾ وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ﴿٣﴾ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ﴿٤﴾ بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ﴿٥﴾ يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ ﴿٦﴾ فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ﴿٧﴾ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ﴿٨﴾

সরল অর্থ:
১. যখন পৃথিবী তার প্রবল ভূকম্পনে প্রকম্পিত হবে,
২. এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত ভারসমূহ বের করে ফেলবে,
৩. এবং মানুষ বলবে, এর কী হলো?
৪. সেদিন পৃথিবী তার যাবতীয় বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,
৫. কারণ আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।
৬. সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বের হবে যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো যায়।
৭. অতএব কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে,
৮. এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলেও সে তা দেখতে পাবে।


مجموعة (ج) [গ বিভাগ] – তারজামাতু মায়ানীহি ও তাফসির

الدرجات – ۳۰ [মান: ৩০]


৪- ترجم اثنين من النصوص القرآنية وأجب عن الأسئلة الملحقة بها : [নিচের যে কোনো দুটি কুরআনিক পাঠ্যের অর্থ লেখ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহের উত্তর দাও:] (মান: ১৫ × ২ = ৩০)

(الف) النص الأول: سورة التكاثر

أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ﴿١﴾ حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ﴿٢﴾ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٣﴾ ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٤﴾ كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ ﴿٥﴾ لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ ﴿٦﴾ ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ ﴿٧﴾ ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ ﴿٨﴾

সরল অর্থ:
১. প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা ও মোহ তোমাদেরকে গাফেল করে রেখেছে,
২. যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে উপনীত হও।
৩. কখনই না! শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।
৪. পুনরায়, কখনই না! শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।
৫. কখনই না! যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে (তবে এমন মোহাচ্ছন্ন হতে না)!
৬. অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করবে!
৭. অতঃপর তোমরা তা নিশ্চিত চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করবে।
৮. অতঃপর সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে সকল নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

(১) حلل الكلمات الآتية: (শব্দবিশ্লেষণ / তাহকীক):

  1. التكاثر:
    সিগাহ: مفرد مذکر
    বাহাস: مصدر
    বাব: تفاعل (التَّفَاعُلُ)
    মাসদার: التكاثر
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ک – ث – ر (ক্বাফ-ছা-রা)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা, ধন-সম্পদ ও বংশগৌরব নিয়ে পারস্পরিক অহংকার।
  2. لترونَّ:
    সিগাহ: جمع مذكر حاضر
    বাহাস: فعل مضارع معروف مؤكد بلام تأكيد ونون ثقيلة
    বাব: فتح – يفتح (মূলত رأى – يرى)
    মাসদার: الرؤية
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ر – أ – ي (রা-হামযাহ-ইয়া)
    জিনস: مهموز العين وناقص يائي (لفيف مفروق / مهموز)
    অর্থ: তোমরা অবশ্যই অবশ্যই চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করবে।
  3. لتُسئلنَّ:
    সিগাহ: جمع مذكر حاضر
    বাহাস: فعل مضارع مجهول مؤكد بلام تأكيد ونون ثقيلة
    বাব: فتح – يفتح (سأل – يسأل)
    মাসদার: السؤال / المسألة
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): س – أ – ل (সীন-হামযাহ-লাম)
    জিনস: مهموز العين
    অর্থ: অতঃপর তোমাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
  4. تعلمون:
    সিগাহ: جمع مذكر حاضر
    বাহাস: فعل مضارع معروف
    বাব: سمع – يسمع (علم – يعلم)
    মাসদার: العلم
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ع – ل – م (আইন-লাম-মীম)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: তোমরা জানো / তোমরা জানতে পারবে।

(২) اكتب شان نزول هذه السورة: (সূরা আত-তাকাসুরের শানে নুযূল):
মুফাসসিরিনে কিরামের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী সূরা আত-তাকাসুরের শানে নুযূল প্রসঙ্গে দুটি প্রসিদ্ধ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে:
১. কুরাইশদের দুই বংশের প্রতিযোগিতা: ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) বর্ণনা করেন, মক্কার কুরাইশদের দুটি গোত্র— বনু আবদে মানাফ এবং বনু সাহম ইবনে আমর পরস্পর ধন-সম্পদ, ক্ষমতা ও লোকবলের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। একদল বলে, আমাদের অমুক অমুক সরদার ছিল, অন্যদল বলে আমাদের অমুক ছিল। জীবিত ব্যক্তিদের গণনা শেষ হলে তারা কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের কবর দেখিয়ে সংখ্যা গণনা করতে শুরু করে। তখন তাদের এই মূর্খতা ও দুনিয়ামুখী মোহগ্রস্ততাকে ভর্ৎসনা করে আল্লাহ তাআলা এ সূরা অবতীর্ণ করেন।
২. মদীনার আনসারদের দুই গোত্র: হযরত কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, মদীনার বনু হারেসা ও বনু হারিস গোত্র নিজেদের মধ্যকার লোকসংখ্যা ও গোত্রীয় মর্যাদা নিয়ে অহংকার করতে করতে কবরস্থানে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা গণনা করেছিল। তখন এ সূরা অবতীর্ণ হয়।
এ সূরার মূল শিক্ষা হলো, পার্থিব ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে আখেরাতকে ভুলে যাওয়া মানুষের চিরন্তন ধ্বংসের কারণ।


(ب) النص الثاني: سورة الشرح (الانشراح)

أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ﴿١﴾ وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ ﴿٢﴾ الَّذِي أَنقَضَ ظَهْرَكَ ﴿٣﴾ وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ ﴿٤﴾ فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٥﴾ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٦﴾ فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْ ﴿٧﴾ وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَارْغَب ﴿٨﴾

সরল অর্থ:
১. আমি কি আপনার বক্ষকে আপনার জন্য উন্মোচিত (প্রশস্ত) করে দেইনি?
২. এবং আমি আপনার থেকে অপসারিত করেছি আপনার ভারী বোঝা,
৩. যা আপনার পিঠকে ভেঙে দিচ্ছিল,
৪. এবং আমি আপনার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছি।
৫. অতএব নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে,
৬. নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।
৭. অতএব যখনই আপনি অবসর পান, তখনই ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করুন,
৮. এবং একমাত্র আপনার প্রতিপালকের প্রতি গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করুন।

(১) حلل الكلمات الآتية: (শব্দবিশ্লেষণ / তাহকীক):

  1. نشرح:
    সিগাহ: متكلم مع الغير
    বাহাস: فعل مضارع مجزوم بـ (لم)
    বাব: فتح – يفتح (شرح – يشرح)
    মাসদার: الشرح
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ش – ر – ح (শীন-রা-হা)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: আমরা উন্মুক্ত বা প্রশস্ত করেছি।
  2. انقض:
    সিগাহ: واحد مذكر غائب
    বাহাস: فعل ماض معروف
    বাব: إفعال (أنقض – ينقض)
    মাসদার: الإنقاض
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ن – ق – ض (নূন-ক্বাফ-দ্বদ)
    জিনস: مضاعف ثلاثي
    অর্থ: যা ভেঙে দিয়েছিল বা নুইয়ে দিয়েছিল।
  3. رفعنا:
    সিগাহ: متكلم مع الغير
    বাহাস: فعل ماض معروف
    বাব: فتح – يفتح (رفع – يرفع)
    মাসদার: الرفع
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ر – ف – ع (রা-ফা-আইন)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: আমরা সমুন্নত বা সুউচ্চ করেছি।
  4. فانصب:
    সিগাহ: واحد مذكر حاضر
    বাহাস: فعل أمر حاضر معروف مع فاء التعقيب
    বাব: ضرب – يضرب (নাসাবা – ইয়ানসিবু) অথবা سمع – يسمع
    মাসদার: النصب
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ن – ص – ب (নূন-সোয়াদ-বা)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: অতএব আপনি শ্রমে রত হোন / কঠোর সাধনায় নিমগ্ন হোন।

(২) كيف شرح الله صدر النبى صلى الله عليه وسلم؟ بين بالايضاح:
আল্লাহ তাআলা যেভাবে নবী কারীম ﷺ-এর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন:
মুফাসসিরিনে কিরাম উল্লেখ করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বক্ষ উন্মোচন ও প্রশস্তকরণ দুইভাবে সাধিত হয়েছে:
১. আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বক্ষ প্রশস্তকরণ (شرح معنوي وروحي): আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলের অন্তরকে নূরে নবুওয়াত, গভীর হিকমত, ঈমান ও মারিফাত দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিয়েছিলেন। নবুওয়াতের গুরুদায়িত্ব বহন, কাফেরদের চরম অত্যাচার ও অপবাদের মুখে ধৈর্য ধারণ এবং উম্মতের হেদায়েতের গভীর পেরেশানি সামলানোর জন্য তাঁর হৃদয়কে পরম শান্তি ও উদারতা দান করেছিলেন। ফলে কোনো ভয়, লোভ বা নিরাশা তাঁকে বিচলিত করতে পারত না।
২. দৈহিক শাক্কে সদর (شرح حسي وبدني): সহীহ বুখারী ও মুসলিমের নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, জিবরীল (আ.) স্বয়ং এসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বক্ষ مبارك বিদীর্ণ করেছিলেন। জিবরীল (আ.) তাঁর বক্ষ মোবারক খুলে যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে একটি স্বর্ণের তশতরিতে রাখা হিকমত ও ঈমান দ্বারা তা পূর্ণ করে পুনরায় জোড়া লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এটি তাঁর শৈশবে বনু সাদ গোত্রে, নবুওয়াত লাভের সময় এবং মিরাজের রাতে সংঘটিত হয়েছিল।


(ج) النص الثالث: سورة الليل (الآيات الأخيرة)

لَا يَصْلَاهَا إِلَّا الْأَشْقَى ﴿١٥﴾ الَّذِي كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ﴿١٦﴾ وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى ﴿١٧﴾ الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّىٰ ﴿١٨﴾ وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَىٰ ﴿١٩﴾ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلَىٰ ﴿٢٠﴾ وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ ﴿٢١﴾

সরল অর্থ:
১৫. নিতান্ত হতভাগা ছাড়া অন্য কেউ তাতে প্রবেশ করবে না,
১৬. যে সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
১৭. আর তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকী ব্যক্তিকে,
১৮. যে আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজের ধন-সম্পদ দান করে,
১৯. এবং তার কাছে কারো এমন কোনো অনুগ্রহ পাওনা থাকে না যার প্রতিদান তাকে দিতে হবে,
২০. কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতীত,
২১. আর অচিরেই সে পরম সন্তুষ্ট হবে।

(১) حلل الكلمات الآتية: (শব্দবিশ্লেষণ / তাহকীক):

  1. الاشقى:
    সিগাহ: اسم تفضيل مذكّر
    বাব: سمع – يسمع (شقي – يشقى)
    মাসদার: الشقاوة
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ش – ق – و (শীন-ক্বাফ-ওয়াও)
    জিনস: ناقص واوي
    অর্থ: পরম হতভাগা, চরম দুর্ভাগা ব্যক্তি।
  2. كذَّبَ:
    সিগাহ: واحد مذكر غائب
    বাহাস: فعل ماض معروف
    বাব: تفعيل (كذّب – يكذّب)
    মাসদার: التكذيب
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ك – ذ – ب (কাফ-যাল-বা)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: সে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অস্বীকার করেছে।
  3. يؤتى:
    সিগাহ: واحد مذكر غائب
    বাহাস: فعل مضارع معروف
    বাব: إفعال (آتى – يؤتي)
    মাসদার: الإيتاء
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): أ – ت – ي (হামযাহ-তা-ইয়া)
    জিনস: مهموز الفاء وناقص يائي (لفيف مفروق)
    অর্থ: সে প্রদান করে / দান করে।
  4. تجزى:
    সিগাহ: واحد مؤنث غائب
    বাহাস: فعل مضارع مجهول
    বাব: ضرب – يضرب (جزى – يجزي)
    মাসদার: الجزاء
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ج – ز – ي (জীম-যা-ইয়া)
    জিনস: ناقص يائي
    অর্থ: যার প্রতিদান দেওয়া হবে।

(২) من الاشقى؟ اذكر صفاته فى ضوء هذه الآيات الكريمة:
আশকুওয়া (الاشقى) এর পরিচয় ও গুণাবলি:
কুরআনুল কারীমের আলোচ্য আয়াতে ‘আল-আশকুওয়া’ (الأشقى) শব্দটি اسم تفضيل হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ চরম হতভাগা বা চরম পাপিষ্ঠ ব্যক্তি।
১. সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ নির্দেশ: শানে নুযূলের দৃষ্টিকোণ থেকে মুফাসসিরদের মতে এখানে উমাইয়া ইবনে খালাফ বা ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা রাসুলুল্লাহ ﷺ এবং তাওহীদের দাওয়াতকে তীব্র ঘৃণা ও উপহাসের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে হুকুমের দিক থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল চরম অবাধ্য কাফের এর অন্তর্ভুক্ত।
২. আলোচ্য আয়াতের আলোকে তার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
ক. কাদ্ব-যাবা (كَذَّبَ): সে অন্তরে আল্লাহর সত্য বাণী, কুরআনুল কারীম এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রিসালাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।
খ. তাওয়াল্লা (تَوَلَّىٰ): সে আল্লাহর আনুগত্য, ঈমান ও সৎকর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সত্যের পথ ত্যাগ করে উদ্ধত আচরণ করে।
গ. জাহান্নামের চিরস্থায়ী অধিবাসী (لَا يَصْلَاهَا إِلَّا الْأَشْقَى): এমন চরম অবিশ্বাসী ও সত্যবিমুখ ব্যক্তিই উত্তপ্ত জাহান্নামের লেলিহান শিখায় চিরতরে প্রবেশ করবে।


(د) النص الرابع: سورة العصر

وَالْعَصْرِ ﴿١﴾ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ ﴿٢﴾ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴿٣﴾

সরল অর্থ:
১. শপথ সময়ের (মহাকালের)!
২. নিশ্চয় মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত;
৩. তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।

(১) حلل الكلمات الآتية: (শব্দবিশ্লেষণ / তাহকীক):

  1. خسر:
    সিগাহ: مصدر / اسم مصدر
    বাব: ضرب – يضرب বা سمع – يسمع (خسر – يخسر)
    মাসদার: الخُسْر / الخسران
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): خ – س – ر (খা-সীন-রা)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: চরম ক্ষতি, লোকসান, ধ্বংস বা বঞ্চনা।
  2. الصلحت:
    সিগাহ: جمع مؤنث سالم
    বাহাস: اسم فاعل
    বাব: كرم – يكرم বা نصر – ينصر (صلح – يصلح)
    মাসদার: الصلاح
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ص – ل – ح (সোয়াদ-লাম-হা)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: নেক আমলসমূহ, সৎকর্মসমূহ।
  3. تواصوا:
    সিগাহ: جمع مذكر غائب
    বাহাস: فعل ماض معروف
    বাব: تفاعل (تواصى – يتواصى)
    মাসদার: التواصي
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): و – ص – ي (ওয়াও-সোয়াদ-ইয়া)
    জিনস: لفيف مفروق
    অর্থ: তারা একে অপরকে উপদেশ দিয়েছে / পারস্পরিক অসিয়ত করেছে।
  4. الصبر:
    সিগাহ: مصدر
    বাব: ضرب – يضرب (صبر – يصبر)
    মাসদার: الصبر
    মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ص – ب – ر (সোয়াদ-বা-রা)
    জিনস: صحيح
    অর্থ: ধৈর্য, স্থৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকূলতায় অবিচল থাকা।

(২) اكتب شان نزول هذه السورة: (সূরা আল-আসরের শানে নুযূল):
১. জাহেলী যুগের মানুষের বিভ্রান্তি নিরসন: আরবরা আসর বা সন্ধ্যার সময় কাজ শেষ করে একত্র হয়ে গল্পগুজব করত। অনেক সময় তারা পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি কিংবা ব্যক্তিগত বিপদের জন্য ‘সময়’ বা ‘যামানা’ (العصر)-কে গালি দিত এবং অভিশাপ দিত। আল্লাহ তাআলা সেই সময়েরই কসম খেয়ে জানিয়ে দেন যে, সময় কোনো অনর্থ ঘটায় না, বরং মানুষের নিজেদের ঈমানহীনতা ও অসৎ আমলই তাদের মূল ক্ষতির কারণ।
২. মুশরিক নেতাদের ভ্রান্তি খণ্ডন: ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহ, আস ইবনে ওয়ায়েল ও অন্যান্য কুরাইশ নেতারা মুসলমানদের বলত যে মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীরা ক্ষতিগ্রস্ত। এর জবাবে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, ঈমান ও নেক আমল ব্যতীত গোটা মানবজাতিই চরম ক্ষতির মধ্যে নিপতিত।
ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এ সূরার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন: «لَوْ تَدَبَّرَ النَّاسُ هَذِهِ السُّورَةَ لَكَفَتْهُمْ» অর্থাৎ যদি মানুষ কেবল এই সূরাটি গভীরভাবে চিন্তা করত, তবে মানুষের সার্বিক হেদায়েতের জন্য এটাই যথেষ্ট হতো।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ফাজিল ১ম বর্ষের তাজবীদুল কুরআন পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?

ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহু ওয়া তারজামাতু মাআ’নিহি (বিষয় কোড: ২০১১০২) পরীক্ষার পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং পরীক্ষার সময় নির্ধারিত থাকে ৪ ঘণ্টা।

প্রশ্ন ২: তাজবীদ শেখার শরয়ী হুকুম কী?

তাজবীদের তাত্ত্বিক ও শাস্ত্রীয় জ্ঞান অর্জন করা উম্মতের জন্য ফরযে কিফায়া, তবে কুরআন তিলাওয়াতকালে হরফের সঠিক উচ্চারণ ও মৌলিক তাজবীদ মেনে তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরযে আইন।

প্রশ্ন ৩: মাদে লাযিম কত প্রকার ও এর পরিমাপ কতটুকু?

মাদে লাযিম মোট চার প্রকার: কালমী মুসাক্কাল, কালমী মুখাফফাফ, হারফী মুসাক্কাল এবং হারফী মুখাফফাফ। সকল ক্বারীর সর্বসম্মত মতে মাদে লাযিমকে ৩ আলিফ অর্থাৎ ৬ হরকত পরিমাণ দীর্ঘ করে টানা ওয়াজিব।

প্রশ্ন ৪: লাহনে জলী ও লাহনে খফীর মধ্যে পার্থক্য কী?

লাহনে জলী হলো প্রকাশ্য ভুল যাতে হরফ বা হরকত পরিবর্তিত হয়ে অর্থ নষ্ট হয়, যা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। আর লাহনে খফী হলো তাজবীদের সূক্ষ্ম রূপ ও সৌন্দর্যগত বিচ্যুতি (যেমন গুন্নাহ বা মাদের কম-বেশি), যা করা মাকরূহ।

প্রশ্ন ৫: খ বিভাগে কোন কোন সূরার হিফজ এসেছে?

২০২২ সালের পরীক্ষায় খ বিভাগে মুখস্থ লেখার জন্য তিনটি সূরা এসেছিল: সূরা আল-ইনফিতার, সূরা আত-ত্বারিক্ব এবং সূরা আয-যিলযাল। পরীক্ষার্থীদের যেকোনো দুটি সূরা পূর্ণ নির্ভুলভাবে লিখতে বলা হয়েছিল।

প্রশ্ন ৬: গ বিভাগের কুরআনিক পাঠ্যাংশে কোন কোন সূরা অন্তর্ভুক্ত ছিল?

২০২২ সালের গ বিভাগে তারজামাহ ও তাফসিরের জন্য চারটি পাঠ্য এসেছিল: সূরা আত-তাকাসুর, সূরা আল-ইনশিরাহ (আশ-শারহ), সূরা আল-লায়ল (শেষাংশ) এবং সূরা আল-আসর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *