পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০২২
اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
نصوص من القرآن الكريم
[নুসূস মিনাল কুরআনিল কারীম]
বিষয় কোড: ২০৪১০১
الوقت: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجات — ٤ × ١٥ = ٦٠)
(ترجم الآيات الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
١- تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١﴾ الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ ﴿٢﴾ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَّا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِن تَفَاوُتٍ ۖ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍ ﴿٣﴾
[১. বরকতময় ও পরম কল্যাণময় তিনি, যাঁর হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব এবং তিনি প্রতিটি বস্তুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন—যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, কাজে-কর্মে তোমাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। যিনি স্তরে স্তরে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না; অতএব পুনরায় দৃষ্টি ফেরাও, কোনো ত্রুটি বা ফাটল দেখতে পাও কি?]
(أ) بَيِّنْ فَضْلَ هَذِهِ السُّورَةِ وَمَوْضُوعَاتِهَا الرَّئِيسِيَّةَ-
[(ক) সূরা আল-মুলকের বিশেষ ফজিলত ও এর প্রধান প্রধান আলোচ্য বিষয়বস্তু বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
ভূমিকা: পবিত্র কুরআনের ৬৭তম সূরা ‘সূরা আল-মুলক’ (سورة الملك) মক্কায় অবতীর্ণ একটি অত্যন্ত মহিমান্বিত সূরা। ৩০টি আয়াত বিশিষ্ট এ সূরাটি মানবজাতির অন্তরে তাওহীদ, আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা ও পরকালের জবাবদিহিতার অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। হাদিস শরিফে এ সূরার অসাধারণ মর্যাদা ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
১. সূরা আল-মুলকের বিশেষ ফজিলত:
- কবরের আজাব থেকে মুক্তিদানকারী (المانعة والمنجية): হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «هِيَ المَانِعَةُ، هِيَ المُنْجِيَةُ، تُنْجِيهِ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ» — “এ সূরাটি কবরের আজাব প্রতিরোধকারী এবং তা থেকে মুক্তিদানকারী” (জামে তিরমিযী: ২৮৯০)।
- শাফাআতকারী সূরা: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী করীম (সা.) বলেন: “কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা রয়েছে, যা কোনো ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে থাকবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর তা হলো তাবারাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক” (সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০, তিরমিযী: ২৮৯১)।
- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত আমল: হযরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সূরা আস-সাজদাহ এবং সূরা আল-মুলক তিলাওয়াত না করে কখনো ঘুমাতেন না (তিরমিযী: ২৮৯২)।
২. সূরা আল-মুলকের মূল বিষয়বস্তুসমূহ:
- আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা (الملك والقدرة الإلهية): নিখিল বিশ্বজাহানের একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ তাআলা। জীবন ও মৃত্যুর স্রষ্টা তিনি।
- সৃষ্টির নিখুঁত সুষমতা: সপ্ত আকাশমণ্ডল এবং প্রকৃতির সুশৃঙ্খল বিন্যাস আল্লাহর অনন্য কুদরত ও তাওহীদের জীবন্ত নিদর্শন।
- আমলের পরীক্ষা (ابتلاء العمل): পার্থিব জীবনকে কর্মক্ষেত্র এবং আখিরাতকে প্রতিদান দিবস হিসেবে উপস্থাপন। মানুষকে ‘আহসানু আমালা’ বা সর্বোত্তম আমলকারী হওয়ার আহ্বান।
- জাহান্নামের ভয়াবহতা ও কাফিরদের আক্ষেপ: আখিরাতের শাস্তি এবং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের করুণ পরিণতির চিত্রায়ণ।
- রিযিক ও জীবনের ওপর আল্লাহর একচ্ছত্র অধিকার: আকাশ ও জমিনের নেয়ামতসমূহ মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার স্বীকৃতি।
(ب) بَيِّنْ مَعْنَى قَوْلِهِ تَعَالَى: “الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَّا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِن تَفَاوُتٍ”-
[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “যিনি স্তরে স্তরে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন, দয়াময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না”—উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা করো।]
১. ভাবার্থ ও তাফসিরী বিশ্লেষণ:
- সপ্ত আকাশের স্তরবিন্যাস (سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا): ‘তিবাক্বান’ (طِبَاقًا) শব্দের অর্থ স্তরে স্তরে গঠিত, এক স্তরের ওপর আরেক স্তর সুবিন্যস্ত। আল্লাহ তাআলা সাতটি আসমানকে একটির ওপর অপরটি অত্যন্ত নিখুঁত ও মজবুতভাবে সৃষ্টি করেছেন, যার কোনো স্তর অপরটিকে স্পর্শ বা পতিত করে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না।
- সৃষ্টিতে অসামঞ্জস্যের অভাব (مَّا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِن تَفَاوُتٍ): ‘তাফাউত’ (تَفَاوُتٍ) শব্দের অর্থ বৈসাদৃশ্য, অসংগতি, ত্রুটি বা ভারসাম্যহীনতা। আল্লাহ তাআলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, বিশাল এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ যতই গভীর অনুসন্ধান চালাক না কেন, কোথাও কোনো অনিয়ম বা খুঁত খুঁজে পাবে না। প্রতিটি গ্রহ-নক্ষত্র এক অপরিবর্তনীয় নির্ভুল নিয়মে কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে।
২. শব্দ বিশ্লেষণ ও ব্যাকরণ (التحليل اللغوي والإعراب):
- طِبَاقًا: এর বহুবচন طَبَقَاتٌ। ব্যাকরণিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সিফাত (نعت) অথবা হাল (حال) হিসেবে মানসুব হয়েছে।
- تَفَاوُتٍ: বাবে তাফা’উল (تَفَاعُل)-এর মাসদার। ‘মিন’ (مِنْ) হরফে জর এখানে ‘জাইদাহ’ (زايدة لتأكيد النفي) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা সামগ্রিক নেতিবাচকতাকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে।
٢- فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ ﴿١٩﴾ إِنِّي ظَنَنتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيَهْ ﴿٢٠﴾ فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ ﴿٢١﴾ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ﴿٢٢﴾ قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ ﴿٢٣﴾ كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ ﴿٢٤﴾ وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ ﴿٢٥﴾
[২. অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, সে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলবে: এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখো! আমি নিশ্চিত বিশ্বাস করতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে থাকবে এক পরম সন্তোষজনক বিলাসী জীবনে, সুউচ্চ জান্নাতে; যার ফলসমূহ থাকবে একেবারে হাতের নাগালে। (তাদের বলা হবে:) তোমরা বিগত দিনে যা অগ্রে প্রেরণ করেছিলে তার বিনিময়ে তৃপ্তিভরে পানাহার করো। আর যাকে তার আমলনামা বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বিলাপ করে বলবে: হায় আফসোস! আমাকে যদি আমার আমলনামা না দেওয়া হতো!]
(أ) حَقِّقِ الْكَلِمَاتِ الْآتِيَةَ: (هَاؤُمُ – قُطُوفُهَا – الْقَاضِيَةُ)-
[(ক) নিম্নোক্ত শব্দসমূহের শাব্দিক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (তাহকীক) উপস্থাপন করো: (هَاؤُمُ – قُطُوفُهَا – الْقَاضِيَةُ)।]
| শব্দ (الكلمة) | মূলধাতু ও রূপ | আভিধানিক অর্থ | ব্যাকরণিক অবস্থান (الإعراب) |
|---|---|---|---|
| هَاؤُمُ | اسم فعل أمر (اسم فعل بمعنى خُذُوا) | তোমরা নাও / আসো গ্রহণ করো | বহুবচনের জন্য ব্যবহৃত ইসমে ফে’লে আমর। م ضمير الجمع। শ্রোতাদের সম্বোধন করে বলা হয়। |
| قُطُوفُهَا | ق-ط-ف (قطف ج قطوف) | ফলসমূহ, বৃক্ষের ঝুলন্ত পাকা ফল | مبتدأ مؤخر مرفوع وعلامة رفعه الضمة، و (ها) ضمير متصل في محل جر مضاف إليه। |
| الْقَاضِيَةُ | ق-ض-ي (اسم فاعل مؤنث من قضى) | চূড়ান্ত মীমাংসাকারী, চূড়ান্ত মৃত্যু | خبر كان منصوب (في قوله: يا ليتها كانت القاضية)، অর্থাৎ সেই প্রথম মৃত্যুই যদি আমার অস্তিত্ব চিরতরে শেষ করে দিত! |
(ب) نَاقِشْ أَحْوَالَ الصَّالِحِينَ وَالْفُجَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي ضَوْءِ الْآيَاتِ-
[(খ) সূরা আল-হাক্কাহ-এর আলোচিত আয়াতের আলোকে কিয়ামতের ময়দানে নেককার ও পাপাচারীদের তুলনামূলক অবস্থা আলোচনা করো।]
১. নেককার মুমিনদের অবস্থা (أصحاب اليمين):
- ডান হাতে আমলনামা লাভ ও উল্লাস: মুমিনগণ অত্যন্ত মর্যাদার সাথে ডান হাতে আমলনামা পাবেন এবং আনন্দাতিশয্যে হাশরবাসীদের ডেকে বলবেন—”এই যে, তোমরা সবাই এসে আমার আমলনামা পড়ে দেখ!”
- পরকালে অবিচল বিশ্বাসের সুফল: তারা দুনিয়াতে বিশ্বাস রাখতেন যে একদিন আল্লাহর দরবারে হিসাব দিতে হবে, তাই তারা নেক আমল দিয়ে জীবন সাজিয়েছিলেন।
- জান্নাতের অনন্ত নেয়ামত: তারা সুউচ্চ জান্নাতে থাকবেন, যেখানে সুস্বাদু ফলমূল তাদের হাত বাড়ালেই পাওয়া যাবে (قطوفها دانية) এবং তাদের সম্মানের সাথে পরম তৃপ্তিদায়ক খাদ্য ও পানীয় প্রদান করা হবে।
২. পাপাচারী কাফিরদের করুণ অবস্থা (أصحاب الشمال):
- বাম হাতে আমলনামা গ্রহণ ও চরম লাঞ্ছনা: কাফির-ফাসিকরা পেছনের দিক থেকে বাম হাতে আমলনামা পাবে এবং আত্মধিক্কারে ফেটে পড়ে বলবে—হায়! আমাকে যদি এ আমলনামা না দেওয়া হতো!
- অস্তিত্ব বিলোপের আকাঙ্ক্ষা: তারা আফসোস করে বলবে, হায়! পার্থিব মৃত্যুই যদি আমার জীবনের চূড়ান্ত সমাপ্তি হতো এবং পুনরুত্থান না ঘটত!
- সম্পদ ও ক্ষমতার অসারতা: তাদের অগাধ ধনসম্পদ ও ক্ষমতা সেদিন তাদের কোনো উপকারে আসবে না (ما أغنى عني ماليه، هلك عني سلطانيه)।
٣- وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا ﴿١﴾ فَالْعَاصِفَاتِ عَصْفًا ﴿٢﴾ وَالنَّاشِرَاتِ نَشْرًا ﴿٣﴾ فَالْفَارِقَاتِ فَرْقًا ﴿٤﴾ فَالْمُلْقِيَاتِ ذِكْرًا ﴿٥﴾ عُذْرًا أَوْ نُذْرًا ﴿٦﴾
[৩. শপথ কল্যাণময় রূপে একের পর এক প্রেরিত বায়ুর (বা ফেরেশতাকুলের), অতঃপর তীব্র বেগে বয়ে চলা প্রবল ঝড়ের, এবং মেঘমালা বিস্তারকারী বায়ুর, অতঃপর সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত পার্থক্যকারী ফেরেশতাদের, অতঃপর ওহী বা উপদেশ অবতীর্ণকারী দলের—অজুহাত খণ্ডন কিংবা সতর্ক করার উদ্দেশ্যে।]
(أ) مَا الْمُرَادُ بِـ “الْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا”؟ بَيِّنْهُ بِالتَّفْصِيلِ-
[(ক) “আল-মুরসালাতি উরফা” দ্বারা কী উদ্দেশ্য করা হয়েছে? মুফাসসিরগণের মতামতসহ বিস্তারিত তুলে ধরো।]
১. আভিধানিক বিশ্লেষণ: ‘আল-মুরসালাত’ (المرسلات) শব্দটি ‘মুরসালাহ’-এর বহুবচন, যা বাবে ইফ’আলের ইসমুল মাফ’উল; অর্থ—প্রেরিত দল বা বস্তুসমূহ। আর ‘উরফা’ (عُرْفًا) শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে: (১) একের পর এক ধারাবাহিকভাবে (যেমন ঘোড়ার কেশর পরপর সজ্জিত থাকে), (২) সার্বিক কল্যাণ ও অনুগ্রহ সহকারে।
২. মুফাসসিরগণের অভিমত:
- প্রথম মত (বায়ুপ্রবাহ / الرياح): হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অন্যতম বর্ণনা এবং ইমাম ইবনে জারীর তাবারী (রহ.)-এর মতে, ‘মুরসালাত’ দ্বারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত কল্যাণময় বায়ুপ্রবাহকে বোঝানো হয়েছে, যা মেঘমালা উড়িয়ে নিয়ে বৃষ্টি বর্ষণে সহায়তা করে।
- দ্বিতীয় মত (ফেরেশতাকুল / الملائكة): হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অপর বর্ণনামতে, এটি দ্বারা সম্মানিত ফেরেশতাকুলকে বোঝানো হয়েছে, যাঁদের আল্লাহ তাআলা ওহী, দ্বীনী নির্দেশ ও বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়ে মানবজাতির কল্যাণে একের পর এক দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।
(ب) حَقِّقِ الْكَلِمَاتِ الْآتِيَةَ: (طُمِسَتْ – أُقِّتَتْ – نُسِفَتْ – نُذْرًا)-
[(খ) নিম্নোক্ত শব্দসমূহের ব্যাকরণিক তাহকীক ও অর্থ বিশদভাবে আলোচনা করো: (طُمِسَتْ – أُقِّتَتْ – نُسِفَتْ – نُذْرًا)।]
| শব্দ | মূলধাতু ও বাব | সিগাহ ও বাহাস | আভিধানিক অর্থ ও ব্যাকরণ |
|---|---|---|---|
| طُمِسَتْ | ط-م-س (ضرب يضرب) | واحد مؤنث غائب، ماضي مجهول | নিভিয়ে দেওয়া হলো / আলোহীন ও বিলুপ্ত করা হলো। (نعت للنجوم في الآية) |
| أُقِّتَتْ | و-ق-ت (تفعيل) اصله وُقِّتَتْ | واحد مؤنث غائب، ماضي مجهول | নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হলো (হিসাব ও সাক্ষ্যের জন্য)। |
| نُسِفَتْ | ن-س-ف (ضرب يضرب) | واحد مؤنث غائب، ماضي مجهول | ধূলিকণার ন্যায় চূর্ণ-বিচূর্ণ ও উড়িয়ে দেওয়া হলো (পাহাড়সমূহকে)। |
| نُذْرًا | ن-ذ-ر (مصدر) | مصدر بمعنى الإنذار والتخويف | সতর্কবার্তা বা ভীতি প্রদর্শন হিসেবে। مفعول لأجله منصوب। |
٤- وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا ﴿١﴾ وَالنَّاشِطَاتِ نَشْطًا ﴿٢﴾ وَالسَّابِحَاتِ سَبْحًا ﴿٣﴾ فَالسَّابِقَاتِ سَبْقًا ﴿٤﴾ فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا ﴿٥﴾ يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ ﴿٦﴾ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ ﴿٧﴾
[৪. শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা অত্যন্ত কঠোরভাবে (পাপীদের) রূহ টেনে বের করে; এবং শপথ তাদের, যারা অত্যন্ত কোমলভাবে (মুমিনদের) রূহ নির্গমন করে; এবং যারা দ্রুতগতিতে বিচরণ করে সাঁতার কাটার মতো; অতঃপর যারা দ্রুত অগ্রবর্তী হয় এবং যারা নিখিল জাহানের কাজ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে। যেদিন প্রকম্পিতকারী প্রথম শিংগার ফুঁকে পৃথিবী প্রকম্পিত হবে, এবং তার পশ্চাতে আসবে দ্বিতীয় প্রকম্পন।]
(أ) كَيْفَ تُقْبَضُ أَرْوَاحُ بَنِي آدَمَ؟ بَيِّنْهُ بِالتَّفْصِيلِ-
[(ক) সূরা আন-নাযিআত অনুযায়ী মানবসন্তানের রূহ কীভাবে কবজ করা হয়? মুমিন ও কাফিরের মৃত্যুর পার্থক্যসহ স্পষ্ট করো।]
১. কাফির ও পাপাচারীদের রূহ কবজ (والنازعات غرقا): ‘নাযিআত’ হলেন সেই সমস্ত মালাকুল মাউত, যারা অবাধ্য কাফির ও পাপাচারীদের রূহ দেহ থেকে অত্যন্ত নির্মম ও হিংস্রভাবে টেনেহিঁচড়ে গভীর শিকড় থেকে উপড়ে আনেন (غرقا)। হাদিস শরিফে এসেছে, যেমন ভেজা উলের ওপর কাঁটাযুক্ত ডাল রাখলে তা টেনে বের করতে প্রতিটি লোম ছিঁড়ে আসে, তেমনি কাফিরের শরীর থেকে আত্মাকে তীব্র যন্ত্রণায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
২. মুমিন ও নেককারদের রূহ কবজ (والناشطات نشطا): ‘নাশিতাত’ হলেন সেই রহমতের ফেরেশতাকুল, যারা অত্যন্ত কোমলতা, স্বাচ্ছন্দ্য ও মমতার সাথে মুমিনের পবিত্র রূহ শরীর থেকে মুক্ত করেন (نشطا)। যেমন কোনো পানির মশকের মুখ খুললে মসৃণভাবে পানির ফোঁটা ঝরে পড়ে, তেমনি অনায়াসে মুমিনের রূহ বের হয়ে আসে এবং জান্নাত থেকে আনা সুগন্ধি কাফনে তা পরম ভালোবাসায় তুলে নেওয়া হয়।
(ب) مَا الْمُرَادُ بِـ “الرَّاجِفَةُ” وَ”الرَّادِفَةُ”؟-
[(খ) “আর-রাজিফাহ” এবং “আর-রাদিফাহ” শব্দদ্বয়ের অর্থ ও তাৎপর্য বিশদভাবে ব্যাখ্যা করো।]
১. আর-রাজিফাহ (الرَّاجِفَةُ): এর শাব্দিক অর্থ প্রবল প্রকম্পন সৃষ্টিকারী। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ (রহ.)-এর মতে, এটি হলো হযরত ইস্রাফিল (আ.)-এর প্রথম শিংগার ফুঁক (النفخة الأولى)। এ ফুঁকের ফলে সমগ্র পৃথিবী ও আকাশমণ্ডল প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠবে এবং পৃথিবীর সমস্ত জীবিত সৃষ্টি একযোগে মৃত্যুবরণ করবে ও পর্বতমালা চূর্ণ হয়ে যাবে।
২. আর-রাদিফাহ (الرَّادِفَةُ): এর শাব্দিক অর্থ অনুগমনকারী বা পেছনে পশ্চাৎবর্তী বস্তু। এটি হলো ইস্রাফিল (আ.)-এর দ্বিতীয় শিংগার ফুঁক (النفخة الثانية)। প্রথম ফুঁকের নির্ধারিত বিরতির পর এ ফুঁক দেওয়া হবে, যার ফলে সমস্ত মানবজাতি কবর থেকে জীবিত হয়ে পুনরুত্থিত হবে এবং হাশরের ময়দানে বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াবে। আল্লাহ বলেন: «تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ» — প্রথম মহাপ্রলয় সৃষ্টিকারী ফুঁকের পরপরই দ্বিতীয় ফুঁক এসে পুনরুত্থান সংঘটিত করবে।
٥- وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ ﴿١﴾ وَالْيَوْمِ الْمَوْعُودِ ﴿٢﴾ وَشَاهِدٍ وَمَشْهُودٍ ﴿٣﴾ قُتِلَ أَصْحَابُ الْأُخْدُودِ ﴿٤﴾ النَّارِ ذَاتِ الْوَقُودِ ﴿٥﴾ إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌ ﴿٦﴾ وَهُمْ عَلَىٰ مَا يَفْعَلُونَ بِالْمُؤْمِنِينَ شُهُودٌ ﴿٧﴾
[৫. শপথ বুরুজ বা নক্ষত্ররাজিবিশিষ্ট আকাশের, এবং শপথ সেই প্রতিশ্রুত দিবসের, এবং শপথ প্রত্যক্ষকারীর ও প্রত্যক্ষকৃত বিষয়ের। অভিশপ্ত ও ধ্বংস হয়েছিল পরিখার অধিপতিরা—প্রচুর জ্বালানিবিশিষ্ট প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের মালিকরা; যখন তারা তার কিনারায় বসেছিল এবং মুমিনদের ওপর যা অত্যাচার চালাচ্ছিল তা প্রত্যক্ষ করছিল।]
(أ) تَحَدَّثْ عَنْ وَاقِعَةِ أَصْحَابِ الْأُخْدُودِ-
[(ক) আসহাবুল উখদুদের মর্মান্তিক ঐতিহাসিক ঘটনা ও এর শিক্ষা কুরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করো।]
১. ঐতিহাসিক পটভূমি ও ঘটনা: ইয়ামানের নাজরান অঞ্চলে অত্যাচারী ইহুদি রাজা যু-নুওয়াস (ذو نواس)-এর যুগে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। একজন মুমিন যুবকের আহ্বানে সমগ্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়ন করে। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে জালেম রাজা বিরাট লম্বা গর্ত (খন্দক বা উখদুদ) খনন করে তাতে অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত করে। মুমিনদের সামনে শর্ত দেওয়া হয়: ঈমান ত্যাগ করো, নতুবা এই আগুনে আত্মাহুতি দাও। কিন্তু একজন মুমিনও ঈমান ত্যাগ করেননি। এমনকি এক দুগ্ধপোষ্য শিশুসন্তানসহ মাকে যখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিল, তখন শিশুটি আল্লাহর কুদরতে কথা বলে উঠল: “আম্মাজান! আপনি ধৈর্য ধরুন, নিশ্চয়ই আপনি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন!” ফলে জালেমরা হাজার হাজার মুমিনকে জীবন্ত পুড়িয়ে শহীদ করে।
২. কুরআনের ফয়সালা ও শিক্ষা: আল্লাহ তাআলা জালিমদের ওপর লানত বর্ষণ করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন যে, মুমিনদের অপরাধ শুধু এটুকুই ছিল যে তারা মহা পরাক্রমশালী প্রশংসিত এক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, সত্যের পথে জীবন বিসর্জন দেওয়া চরম আত্মত্যাগ হলেও তা আল্লাহর কাছে সর্বোচ্চ সাফল্যের প্রতীক।
(ب) مَا الْمُرَادُ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: “وَالْيَوْمِ الْمَوْعُودِ وَشَاهِدٍ وَمَشْهُودٍ”؟-
[(খ) “আল-ইয়াওমুল মাওউদ”, “শাহিদ” এবং “মাশহুদ” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? তাফসিরকারকদের বক্তব্যসহ আলোচনা করো।]
- আল-ইয়াওমুল মাওউদ (الْيَوْمِ الْمَوْعُودِ): সকল মুফাসসিরের সর্বসম্মত মতে এটি হলো কিয়ামত দিবস (يوم القيامة), যার আগমন অবশ্যম্ভাবী ও প্রতিশ্রুত।
- শাহিদ (شَاهِدٍ) ও মাশহুদ (مَشْهُودٍ): জামে তিরমিযীর সহীহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
- اليوم الموعود: يوم القيامة (প্রতিশ্রুত দিবস হলো কিয়ামত দিবস)।
- الشاهد: يوم الجمعة (প্রত্যক্ষকারী সাক্ষী দিবস হলো জুমার দিন, যা মানবজাতির আমলের সাক্ষ্য দেবে)।
- المشهود: يوم عرفة (প্রত্যক্ষকৃত মহাসমাবেশের দিন হলো পবিত্র আরাফাত দিবস, যেখানে বিশ্ব মুসলিমের মহামিলন প্রত্যক্ষ করা হয়)।
٦- إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا ﴿٢﴾ إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا ﴿٣﴾
[৬. নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য; অতঃপর আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শন করেছি, এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হবে অথবা অকৃতজ্ঞ হবে।]
(أ) عَرِّفِ “النُّطْفَةَ” وَبَيِّنْ سُبُلَ خَلْقِ الْإِنْسَانِ وَأَطْوَارَهُ-
[(ক) ‘নুৎফাহ’ শব্দের পরিচয় দাও এবং মাতৃগর্ভে মানব সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক স্তরসমূহ কুরআনের আলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
১. নুৎফাহ ও আমশাজের সংজ্ঞা: ‘নুৎফাহ’ (نُطْفَة) হলো জীবদেহের অতি সূক্ষ্ম জলবিন্দু বা বীর্যবিন্দু। আর ‘আমশাজ’ (أَمْشَاجٍ) হলো ‘মাশাজ’-এর বহুবচন; যার অর্থ সংমিশ্রিত বস্তু। এখানে পুরুষ ও নারীর মিলনজাত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর সংমিশ্রণকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা মানব সৃষ্টির প্রাথমিক ভিত্তি।
২. মানব সৃষ্টির বিকাশধারা (أطوار خلق الإنسان): সূরা আল-মুমিনূন ও হাদীসের বিবরণ অনুযায়ী মানব সৃষ্টির স্তরসমূহ:
- নুৎফাহ (النطفة): মাতৃগর্ভে স্থাপিত মিশ্রিত শুক্রবিন্দু যা প্রথম ৪০ দিন অবস্থান করে।
- আলাক্বাহ (العلقة): পরবর্তী ৪০ দিনে তা জমাট রক্তপিণ্ডে রূপান্তরিত হয় এবং জরায়ুর দেয়ালে সংযুক্ত থাকে।
- মুদগাহ (المضغة): পরবর্তী ৪০ দিনে তা এক টুকরো গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়।
- ইযাম ও লাহম (العظام واللحم): গোশতপিণ্ড থেকে সুসংগঠিত কঙ্কাল বা অস্থি কাঠামো তৈরি হয় এবং তার ওপর পেশি ও মাংসের আবরণ পরানো হয়।
- রূহ ফুঁকে দেওয়া (نفخ الروح): ১২০তম দিনে ফেরেশতা এসে তাতে আত্মা সঞ্চার করেন এবং তার আয়ু, রিযিক ও ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।
(ب) اشْرَحْ قَوْلَهُ تَعَالَى: “إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا”-
[(খ) “আমি তাকে পথ দেখিয়েছি, হয়তো সে কৃতজ্ঞ হবে কিংবা অকৃতজ্ঞ হবে”—আয়াতটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।]
ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য: আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি, শ্রবণ ও দর্শনশক্তি দান করেছেন এবং আসমানি কিতাব ও নবী-রাসূল প্রেরণের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার পথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন (إنا هديناه السبيل)। এরপর মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি বা ‘ইখতিয়ার’ দেওয়া হয়েছে। এখন মানুষ যদি ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর শোকরগোযারি করে, তবে সে দুনিয়া ও আখিরাতে পুরস্কৃত হবে (إما شاكرا)। আর যদি অহংকারবশত কুফরি ও নাফরমানির পথ বেছে নেয়, তবে সে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে (وإما كفورا)। এটি মানুষের জবাবদিহিতা ও পরীক্ষার মূল ভিত্তি।
٧- إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ﴿١﴾ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴿٢﴾ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ ﴿٣﴾
[৭. (হে নবী!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার (অনন্ত কল্যাণ ও জান্নাতের প্রস্রবণ) দান করেছি। অতএব আপনার রবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি সম্পন্ন করুন। নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ ও শিকড়হীন।]
(أ) اذْكُرْ أَسْبَابَ نُزُولِ سُورَةِ الْكَوْثَرِ-
[(ক) সূরা আল-কাউসারের শানে নুযূল বা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিত উল্লেখ করো।]
শানে নুযূল: জাহেলিয়াতের যুগে কোনো ব্যক্তির পুত্রসন্তান মারা গেলে আরবরা তাকে ‘আবতার’ (أبتر) বা নির্বংশ বলে তাচ্ছিল্য করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্রসন্তান হযরত কাসিম ও হযরত আবদুল্লাহ (রা.) শৈশবেই ইন্তেকাল করলে কুরাইশ সর্দার আস ইবনে ওয়ায়েল, আবু জাহল ও উকবা ইবনে আবি মুঈত উল্লাস প্রকাশ করে বলতে লাগল—”মুহাম্মদ তো নির্বংশ হয়ে গেছে, তার মৃত্যুর পর তার নাম নেওয়ার মতো কেউ থাকবে না!” কাফিরদের এই হৃদয়বিদারক উপহাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ব্যথিত হন। তখন মহান আল্লাহ স্বীয় হাবীবের সান্ত্বনা ও মর্যাদা সমুন্নত করতে এই সূরা অবতীর্ণ করেন এবং ঘোষণা করেন যে, নবীজির নাম ও দ্বীন কিয়ামত পর্যন্ত অম্লান থাকবে, বরং শত্রুরাই পৃথিবীর ইতিহাস থেকে চিরতরে উৎখাত ও বিস্মৃত হবে।
(ب) رَكِّبِ الْجُمْلَةَ: “فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ” وَبَيِّنْ مَعْنَاهَا وَإِعْرَابَهَا-
[(খ) “ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার”—বাক্যাংশের তাৎপর্য ও ব্যাকরণিক তারকীব বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।]
১. তাৎপর্য: কাফিররা মূর্তির সামনে সিজদা করত এবং প্রতিমার উদ্দেশ্যে পশু জবাই করত। আল্লাহ তাআলা নবীজিকে একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় এবং কেবলমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করার নির্দেশ দেন।
২. ব্যাকরণিক তারকীব (الإعراب والتركيب):
- فَـ (ফা): الفاء الفصيحة رابطة لجواب شرط مقدر (যেহেতু এত বড় নেয়ামত দান করা হয়েছে, অতএব)।
- صَلِّ (সাল্লি): فعل أمر مبني على حذف حرف العلة (الياء)، والفاعل ضمير مستتر وجوبا تقديره (أنت)।
- لِرَبِّكَ (লি-রাব্বিকা): اللام حرف جر، رب: اسم مجرور بالكسرة وهو مضاف، والكاف ضمير متصل مبني في محل جر مضاف إليه. والجار والمجرور متعلق بالفعل (صل)।
- وَانْحَرْ (ওয়ানহার): الواو حرف عطف، انحر: فعل أمر مبني على السكون، والفاعل ضمير مستتر وجوبا تقديره (أنت). والجملة معطوفة على الجملة السابقة.
٨- تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ ﴿١﴾ مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ ﴿٢﴾ سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ ﴿٣﴾ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ ﴿٤﴾ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ ﴿٥﴾
[৮. ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও! তার ধনসম্পদ এবং যা সে অর্জন করেছে তা তার কোনো উপকারে আসেনি। অচিরেই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিশিখায়; এবং তার স্ত্রীও—যে কাষ্ঠ বহনকারিণী (বা চোগলখোর), তার গলায় থাকবে খেজুরের শক্ত আঁশের পাকানো রশি।]
(أ) مَنْ هُوَ أَبُو لَهَبٍ؟ بَيِّنْ وَاقِعَتَهُ مَعَ رَسُولِ اللهِ (ص)-
[(ক) আবু লাহাব কে ছিল? সাফা পাহাড়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তার চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ঘটনা বর্ণনা করো।]
১. আবু লাহাবের পরিচয়: আবু লাহাবের আসল নাম আবদুল উজ্জা ইবনে আবদুল মুত্তালিব। সে ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আপন চাচা। অত্যন্ত রূপবান ও লালচে বর্ণের চেহারার কারণে তাকে আবু লাহাব (অগ্নিস্ফুলিঙ্গের পিতা) ডাকা হতো। আত্মীয়তার নিকটতম সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সে ছিল ইসলামের সূচনালগ্নে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে কট্টর ও হিংস্র শত্রু।
২. সাফা পর্বতের ঘটনা: সূরা আশ-শু’আরার ২১bad নম্বর আয়াত (وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কুরাইশদের গোত্র ধরে ধরে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিলেন। সবাই জমায়েত হলে তিনি বললেন, “আমি যদি তোমাদের বলি যে এই পাহাড়ের পেছনে একদল শত্রুসেনা ওঁত পেতে আছে তোমাদের আক্রমণ করার জন্য, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে?” সবাই সমস্বরে বলল, “হ্যাঁ, আমরা আপনার মুখ থেকে সত্য ছাড়া মিথ্যা শুনিনি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তাহলে আমি তোমাদের এক আসন্ন কঠিন আজাব সম্পর্কে সতর্ক করছি, তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।” এ কথা শোনা মাত্রই পাপিষ্ঠ আবু লাহাব মাটিতে পাথর নিক্ষেপ করে বলল: «تَبًّا لَكَ سَائِرَ اليَوْمِ، أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا؟» — “সারাদিন তোমার ধ্বংস হোক! এ জন্যই কি তুমি আমাদের ডেকেছ?” তার এই চরম ধৃষ্টতার জবাবে মহান আল্লাহ এই সূরাটি অবতীর্ণ করে আবু লাহাবের চিরস্থায়ী ধ্বংসের ফয়সালা ঘোষণা করেন।
(ب) مَا الْمُرَادُ بِـ “وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ”؟-
[(খ) আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামীল এবং তার গলায় শক্ত আঁশের রশির শাস্তি সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য বিশ্লেষণ করো।]
১. উম্মে জামীলের শত্রুতা: আবু লাহাবের স্ত্রীর নাম ছিল আরওয়া বিনতে হারব (আবু সুফিয়ানের বোন), যাকে উম্মে জামীল বলা হতো। সে রাতে নবীজির চলার পথে কাঁটাযুক্ত বিষাক্ত ডালপালা ফেলে রাখত এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে মানুষের কানভারী করে কুৎসা রটাতো (চোগলখোরি করত)।
২. শাস্তির রূপ: আয়াতে তাকে ‘হাম্মালাতাল হাতাব’ (কাষ্ঠ বহনকারিণী) বলা হয়েছে। কারণ সে কাঁটা বহন করে কষ্ট দিত এবং পারস্পরিক শত্রুতার আগুন জ্বালাত। আখিরাতের জাহান্নামে তার গলায় খেজুর গাছের শক্ত আঁশ বা লোহার শিকল পরিয়ে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাকে অগ্নিকুণ্ডে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।
مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجات — ٤ × ٥ = ٢٠)
٩- بَيِّنْ فَضِيلَةَ تَعَلُّمِ الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ وَتَعْلِيمِهِ مُدَلَّلًا-
[৯. কুরআনুল কারীম শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদানের মর্যাদা ও ফজিলত দলীলসহ বিস্তারিত লিখ।]
উত্তর: পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী। এর তিলাওয়াত, শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা প্রদান ইসলামে সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের অন্যতম।
- সর্বোত্তম মানব: হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القُرْآنَ وَعَلَّمَهُ» — “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়” (সহীহ বুখারী: ৫০২৭)।
- প্রতি হরফে দশ নেকি: হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) সূত্রে নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়বে সে একটি নেকি পাবে, যা দশ গুণের সমান (তিরমিযী: ২৯১০)।
- অভিভাবকদের রাজমুকুট: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কুরআন পড়বে ও সে অনুযায়ী আমল করবে, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন উজ্জ্বল নূরের মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের আলোকেও হার মানাবে।
١٠- كَيْفَ تَمَّ حِفْظُ الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ فِي عَهْدِ الرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟
[১০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় কুরআনুল কারীম কীভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল? আলোচনা করো।]
উত্তর: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র যুগে আল-কুরআন দুটি প্রধান মাধ্যমে নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল:
- মুখস্থকরণের মাধ্যমে (الحفظ في الصدور): আরবরা ছিল অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী। ওহী নাজিল হওয়ামাত্র রাসূলুল্লাহ (সা.) তা মুখস্থ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে তিলাওয়াত করে শোনাতেন। শত শত সাহাবী সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে অন্তরে গেঁথে নেন। প্রতি রমযানে জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে নবীজি পুরো কুরআন শোনাতেন ও মিলাতেন (দাওর)।
- লিখিত সংরক্ষণের মাধ্যমে (الكتابة في السطور): রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওহী লেখক সাহাবী (কাতাবাতুল ওহী) ছিলেন ৪০ জনের অধিক। ওহী নাজিল হওয়ামাত্র যায়েদ ইবনে সাবিত, উবাই ইবনে কা’ব, আলী (রা.) প্রমুখ সাহাবী খেজুরের পাতা, পাথরের ফলক, চামড়া ও কাঠে তা লিপিবদ্ধ করতেন এবং নবীজি তার স্থান নির্ধারণ করে দিতেন।
١١- عَرِّفِ السُّوَرَ الْمَكِّيَّةَ مَعَ ذِكْرِ عَدَدِهَا وَخَمْسَةِ أَسْمَاءٍ مِنْهَا-
[১১. মাক্কী সূরার সংজ্ঞা দাও। এর মোট সংখ্যা এবং পাঁচটি মাক্কী সূরার নাম উল্লেখ করো।]
১. মাক্কী সূরার প্রামাণ্য সংজ্ঞা: উলূমুল কুরআনের জমহুর বিদ্বানদের ঐকমত্য অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের পূর্বে মক্কায় বা মক্কার বাইরে যেখানেই অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে ‘মাক্কী সূরা’ বলা হয় (ما نزل قبل الهجرة وإن كان بغير مكة)।
২. মাক্কী সূরার সংখ্যা: পবিত্র কুরআনের ১১৪টি সূরার মধ্যে বিশুদ্ধ গণনামতে মাক্কী সূরার সংখ্যা মোট ৮৬টি।
৩. পাঁচটি মাক্কী সূরার নাম: (১) সূরা আল-ফাতিহা, (২) সূরা আল-মুলক, (৩) সূরা আল-কালাম, (৪) সূরা আল-মুযযাম্মিল, (৫) সূরা আল-ইখলাস।
١٢- بَيِّنْ أَثَرَ الْقُرْآنِ عَلَى تَطَوُّرِ اللُّغَةِ الْعَرَبِيَّةِ بِالاخْتِصَارِ-
[১২. আরবি ভাষার বিকাশ ও আধুনিকায়নে আল-কুরআনের যুগান্তকারী প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরো।]
উত্তর: আল-কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আরবি ভাষা এক ঐতিহাসিক রূপান্তর ও বৈশ্বিক মর্যাদায় উন্নীত হয়:
- ভাষার সার্বজনীন মানদণ্ড ও স্থায়িত্ব: জাহেলি যুগের বিভিন্ন গোত্রীয় উপভাষাকে সমন্বিত করে কুরাইশ উপভাষার ভিত্তিতে কুরআন একটি প্রমিত ও আদর্শ সাহিত্যের রূপ দেয়, যা আরবিকে চিরস্থায়ী অমরত্ব দান করেছে।
- নতুন পরিভাষা ও শব্দের সংযোজন: ঈমান, ইসলাম, সালাত, যাকাত, তাযকিয়াহ, কুফর, ফিসক্ব ইত্যাদি আধ্যাত্মিক ও আইনি পরিভাষা সংযোগ করে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে।
- ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্বের ভিত্তি: কুরআনের বিশুদ্ধতা রক্ষা করতেই নাহু (সিনট্যাক্স), সরফ (মরফোলজি) এবং বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) উদ্ভাবিত ও সংকলিত হয়।
١٣- اكْتُبْ خُلَاصَةَ سُورَةِ النَّصْرِ وَأَسْبَابَ نُزُولِهَا-
[১৩. সূরা আন-নাসরের সারসংক্ষেপ ও শানে নুযূল সংক্ষেপে লিখ।]
১. শানে নুযূল: মক্কা বিজয়ের পর যখন দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছিল, তখন এই সূরা নাজিল হয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, এ সূরাটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পার্থিব দায়িত্বের সমাপ্তি এবং তাঁর ওফাতের নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিতবাহী ছিল।
২. মূল বিষয়বস্তু: আল্লাহর সাহায্য ও চূড়ান্ত বিজয় (মক্কা বিজয়) অর্জিত হওয়ার পর মুমিনদের কর্তব্য হলো আল্লাহর হামদ-প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা (فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا)।
١٤- اكْتُبْ سُورَةَ الْقَدْرِ مَعَ التَّشْكِيلِ مِنْ حِفْظِكَ-
[১৪. সূরা আল-কদর মুখস্থ হরকতসহ (তাশকীল) সম্পূর্ণ লিখ।]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ﴿١﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ﴿٢﴾ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿٣﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ ﴿٤﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿٥﴾
١٥- هَلْ تَرْتِيبُ سُوَرِ الْقُرْآنِ تَوْقِيفِيٌّ؟ بَيِّنْ بِالأَدِلَّةِ-
[১৫. কুরআনের সূরার বর্তমান ধারাবাহিকতা ও ক্রমবিন্যাস কি তাওকীফী (আল্লাহ ও রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত)? দলীলসহ আলোচনা করো।]
উত্তর: জমহুর আহলুস সুন্নাহ ও উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধতম অভিমত হলো, পবিত্র কুরআনের সূরার বর্তমান তারতীব বা ক্রমবিন্যাস সম্পূর্ণ ‘তাওকীফী’ (توقيفي), অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ তাআলার নির্দেশে জিব্রাইল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বারা নির্ধারিত।
- প্রমাণ ১: প্রতি রমযানে জিব্রাইল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে কুরআন যে নিয়মে দাওর করতেন, বর্তমান মুসহাফ অবিকল সেই ক্রমেই বিন্যস্ত।
- প্রমাণ ২: সাহাবায়ে কেরাম হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে এই একই ক্রমধারায় একমত হয়ে সর্বসম্মত ইজমার মাধ্যমে মুসহাফ সংকলন করেছিলেন।
١٦- اذْكُرْ خَصَائِصَ السُّوَرِ الْمَدَنِيَّةِ وَمُمَيَّزَاتِهَا-
[১৬. মাদানী সূরার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য ও আলোচ্য বৈশিষ্ট্যাবলি উল্লেখ করো।]
মাদানী সূরার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- শরিয়তের বিধি-বিধান: সালাত, সিয়াম, হজ্জ, জিহাদ, বিবাহ, উত্তরাধিকার ও ফৌজদারি হুদূদ আইনের বিশদ বিবরণ।
- মুনাফিকদের চরিত্র উন্মোচন: মুনাফিকদের কপটতা, ষড়যন্ত্র ও তাদের মুখোশ উন্মোচন।
- আহলে কিতাবদের সম্বোধন: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ভ্রান্ত বিশ্বাস সংশোধন এবং তাদের সাথে বিতর্ক ও চুক্তির দিকনির্দেশনা।
- সম্বোধনের রূপ: অধিকাংশ মাদানী আয়াতে «يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا» (হে মুমিনগণ!) দিয়ে সম্বোধন করা হয়েছে।
- দীর্ঘায়তন সূরা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বর্ণনা: আয়াত ও সূরাসমূহ সাধারণ তুলনামূলক দীর্ঘ ও বিস্তারিত রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশনায় সমৃদ্ধ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ১ম বর্ষের নুসূস মিনাল কুরআনিল কারীম বিষয়ের পরীক্ষার নম্বর বণ্টন কেমন?
নুসূস মিনাল কুরআনিল কারীম (কোড: ২০৪১০১) বিষয়ের পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রে দুটি বিভাগ থাকে: ক-বিভাগ থেকে ৪টি ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের জন্য ৬০ নম্বর এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে।
২. ক-বিভাগের প্রশ্নোত্তরে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কার্যকর উপায় কী?
ক-বিভাগে প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫ নম্বর। তাই আয়াতের নির্ভুল বাংলা তরজমা, প্রাসঙ্গিক শানে নুযূল, শাব্দিক ও ব্যাকরণিক তাহকীক এবং আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।
৩. মাক্কী ও মাদানী সূরার মাঝে প্রধান পার্থক্য কী?
হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ সূরাগুলোকে মাক্কী বলা হয়, যার মূল বিষয় আকীদা ও তাওহীদ; আর হিজরতের পরে অবতীর্ণ সূরাগুলোকে মাদানী বলা হয়, যার মূল আলোচ্য বিষয় শরিয়তের বিধি-বিধান ও সমাজব্যবস্থা।
৪. সূরা আল-মুলক নিয়মিত তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত কী?
সহীহ হাদিস অনুযায়ী সূরা আল-মুলক তিলাওয়াতকারীর জন্য কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং কিয়ামতের দিন গুনাহ মাফ না হওয়া পর্যন্ত সুপারিশ অব্যাহত রাখে।
৫. আসহাবুল উখদুদের ঘটনা থেকে আমাদের জন্য প্রধান শিক্ষা কী?
আসহাবুল উখদুদের ঘটনা প্রমাণ করে যে, দ্বীন ও ঈমানের ওপর অবিচলতা পার্থিব জীবনের চেয়েও মূল্যবান এবং চরম জুলুমের মুখেও মুমিন কখনো আল্লাহর একত্ববাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয় না।
৬. খ-বিভাগের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে কোন বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন?
খ-বিভাগে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ভূমিকা পরিহার করে সরাসরি টু-দ্য-পয়েন্ট উত্তর, বিশুদ্ধ হাদিসের উদ্ধৃতি এবং প্রামাণ্য আরবি পরিভাষা উল্লেখ করা শ্রেয়।

