তারীখু ইলমিল কালাম ৩য় পত্র (Tarikhu Ilmil Kalam 3rd Paper) – 111019, আল-আক্বীদাতুল ইসলামিয়্যাহ – ফাযিল পাস ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৭৭ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়
ফাযিল (স্নাতক) পাস ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪
বিষয়: আল-আক্বীদাতুল ইসলামিয়্যাহ — ৩য় পত্র (তারীখু ইলমিল কালাম)
বিষয় কোড: ১১১০১৯ | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৩ ঘণ্টা

[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৫টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

ক-বিভাগ (মান: ১৬ × ৫ = ৮০)

১। عرف علم الكلام لغة وشرعا ثم بين موضوعه وغرضه وأهميته وفائدته مفصلا –

[علم الكلام-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। অতঃপর উহার আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও উপকারিতা বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

[মান: ১৬]

ভূমিকা ও আভিধানিক সংজ্ঞা

ইসলামি জ্ঞানরাজ্যে যে শাস্ত্রটি আকিদা ও বিশ্বাসের মৌলিক স্তম্ভগুলোকে যুক্তি, দর্শন ও প্রমাণের সাহায্যে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে, তাকে ‘ইলমুল কালাম’ (علم الكلام) বলা হয়। আরবি ভাষায় ‘কালাম’ (الكلام) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো—বাক্য, বাচনভঙ্গি, আলোচনা, বিতর্ক বা সংলাপ। প্রাচীন মুসলিম সমাজে আকিদা বিষয়ক যেকোনো বিতর্ককে ‘কালাম’ বলা হতো, বিশেষ করে আল্লাহর কালাম (কুরআন কি সৃষ্ট না অসৃষ্ট)—এ নিয়ে সর্বাধিক বিতর্ক হওয়ায় এই শাস্ত্রের নাম ‘ইলমুল কালাম’ হয়ে যায়।

পারিভাষিক সংজ্ঞা

ইসলামি গবেষক ও কালামশাস্ত্রবিদগণের সংজ্ঞানুযায়ী:

  • ইমাম সা’দউদ্দীন তাফতাযানী (রহ.)-এর মতে:

    «هُوَ الْعِلْمُ بِالْعَقَائِدِ الدِّينِيَّةِ عَنِ الأَدِلَّةِ الْيَقِينِيَّةِ»

    “অকাট্য ও নিশ্চিত প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলামি ধর্মীয় আকিদা ও বিশ্বাসসমূহ জানার শাস্ত্রকে ইলমুল কালাম বলা হয়।”

  • ইমাম ইবনে খালদুন (রহ.)-এর মতে: ‘ইলমুল কালাম হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা যুক্তিভিত্তিক প্রমাণের সাহায্যে ঈমানি আকিদাগুলোর পক্ষে বিতর্ক করে এবং সালাফ ও আহলুস সুন্নাহর পথ থেকে বিচ্যুত বিদআতি ও বাতিল সম্প্রদায়গুলোর অপপ্রচার খণ্ডন করে।’

ইলমুল কালামের আলোচ্য বিষয় (الموضوع)

ইলমুল কালামের মূল বিষয়বস্তু হলো—‘আল্লাহ তাআলার পবিত্র সত্তা ও তাঁর গুণাবলি’ (ذات الله تعالى وصفاته)। এছাড়াও নবুওয়ত ও রিসালাতের সত্যতা, ফেরেশতা ও আসমানী কিতাব, আখেরাতের পুনরুত্থান, হাশর-নশর, জান্নাত-জাহান্নাম এবং সৃষ্টিজগতের পরিবর্তনশীলতা নিয়ে এ শাস্ত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়।

উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব (الغرض والأهمية)

  • ১. আকিদার বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা: ইসলামি আকিদাকে অন্ধ বিশ্বাসের স্তর থেকে উন্নীত করে যুক্তি ও প্রমাণের সুদৃঢ় দুর্গে রূপান্তর করা।
  • ২. সংশয়বাদ ও নাস্তিকতা প্রতিহতকরণ: গ্রিক দর্শন, ভারতীয় বস্তুবাদ এবং অভ্যন্তরীণ বাতিল ফেরকাগুলোর (মুতাযিলা, জাহমিয়া) বিভ্রান্তিকর যুক্তির মুখে ইসলামের শাশ্বত সত্যকে বিজয়ী করা।
  • ৩. ফরজে কিফায়ার দায়িত্ব পালন: উম্মতের আলিমদের জন্য কালামশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করা ফরজে কিফায়া, যাতে উম্মাহর ঈমানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

উপকারিতা (الفائدة)

এ শাস্ত্রের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো—বান্দা দুনিয়াতে বিভ্রান্তির বেড়াজাল ছিন্ন করে পরম স্রষ্টার নিখুঁত পরিচয় ও সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে এবং আখেরাতে চিরস্থায়ী মুক্তি ও জান্নাতের অধিকারী হয়।

উপসংহার

ইলমুল কালাম হলো ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যূহ, যা ছাড়া অবিশ্বাসী যুক্তিবাদীদের যুগে তাওহিদের সুরম্য প্রাসাদ রক্ষা করা অসম্ভব।

২। كيف نشأ علم الكلام؟ بين أسباب نشأته وتطوره عبر العصور وتاريخ تدوينه مفصلا –

[علم الكلام কীভাবে উৎপত্তি হলো? যুগে যুগে উহার উৎপত্তির কারণ, যুগে যুগে উহার ক্রমবিকাশ এবং উহা সংকলনের ইতিহাস বর্ণনা কর।]

[মান: ১৬]

ভূমিকা ও উৎপত্তির পটভূমি

রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে মুসলমানদের বিশ্বাস ছিল অতি সহজ, সরল ও দ্বিধাহীন। তখন কোনো তাত্ত্বিক দর্শনের প্রয়োজন পড়ত না; রাসুল (সা.)-এর পবিত্র বাণীই ছিল সমস্ত প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসা। কিন্তু ইসলামের দ্রুত বিস্তার, নতুন নতুন সভ্যতার আগমন এবং খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইলমুল কালামের প্রাথমিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

ইলমুল কালামের উৎপত্তির মৌলিক কারণসমূহ

  • ১. অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ফিতনা: সিফফিনের যুদ্ধে তাহকীমকে কেন্দ্র করে খারেজীদের আবির্ভাব ঘটে, যারা কবিরা গুনাহকারীকে কাফের আখ্যা দেয়। এর বিপরীতে মুরজিয়া, শিয়া ও জাবারিয়াদের মতো ভ্রান্ত মতবাদের উদ্ভব ঘটে।
  • ২. তাকদির নিয়ে বিতর্ক: বসরার মা’বাদ আল-জুহানী ও গায়লান দিমাশক্বী সর্বপ্রথম তাকদির অস্বীকার করে কাদারিয়্যা মতবাদ ছড়ায়।
  • ৩. ভিনদেশি দর্শন ও সংস্কৃতির প্রভাব: আব্বাসীয় যুগে গ্রিক, রোমান ও পারস্য দর্শন আরবিতে অনূদিত হলে নব্য মুসলিমদের অন্তরে ঈশ্বরতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব ও অলৌকিকতা নিয়ে জটিল দার্শনিক সংশয় তৈরি হয়।
  • ৪. ভিন্নধর্মীদের সাথে শাস্ত্রীয় বিতর্ক: ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক ও নাস্তিকদের সাথে ইসলামি দাওয়াতি প্রয়োজনে যুক্তিভিত্তিক শাস্ত্রের অপরিহার্যতা দেখা দেয়।

যুগে যুগে ইলমুল কালামের ক্রমবিকাশ ও সংকলনের ইতিহাস

  • ১. প্রাথমিক যুগ (প্রথম ও দ্বিতীয় হিজরি): সাহাবা ও তাবেঈদের যুগে ইমাম হাসান বসরি ও ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) প্রাথমিক আকিদাগত গ্রন্থ রচনা করেন। ইমাম আবু হানিফা রচনা করেন ‘আল-ফিক্বহুল আকবার’ ও ‘আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম’।
  • ২. মুতাযিলাদের আগ্রাসনের যুগ (দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি): ওয়াসিল ইবনে আতা ও আমর ইবনে উবাইদের মাধ্যমে মুতাযিলা কালাম প্রতিষ্ঠিত হয়। খলিফা মামুন ও মুতাসিমের যুগে তারা রাজকীয় ক্ষমতায় ‘কুরআন সৃষ্টি’ (খালক্বুল কুরআন) মতবাদ চাপিয়ে দেয়। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) অটল পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে নির্যাতন সহ্য করে সুন্নাহকে রক্ষা করেন।
  • ৩. আহলুস সুন্নাহর বিজয়ের যুগ (চতুর্থ হিজরি): এ যুগে ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (রহ.) মুতাযিলা মতবাদ ত্যাগ করে সুন্নি কালামশাস্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদী (রহ.) হানাফী উসূলে কালাম সংকলন করেন।
  • ৪. দর্শন ও কালামের সমন্বয়ের যুগ (পঞ্চম হিজরি ও পরবর্তী): ইমামুল হারামাইন জুওয়াইনী, হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযালী (রহ.) দর্শনকে কালামের কাঠামোয় এনে ‘তাহাফুতুল ফালাসিফাহ’ রচনা করেন। পরবর্তীতে ফখরুদ্দীন রাযী ও সা’দউদ্দীন তাফতাযানী একে চূড়ান্ত পরিপক্বতা দান করেন।

উপসংহার

ইলমুল কালামের ইতিহাস মূলত ইসলামের আকিদাকে রক্ষা করার জন্য যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুসলিম উম্মাহর এক গৌরবোজ্জ্বল বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের ইতিহাস।

৩। من هم الكلابية والأشاعرة والماتريدية والظاهرية؟ اكتب الفروق الكلامية بينهم مختصرا –

[الكلابية, الأشاعرة, الماتريدية এবং الظاهرية কারা? علم الكلام বিষয়ে এদের মধ্যে পার্থক্য সংক্ষেপে লেখ।]

[মান: ১৬]

চারটি কালামী ধারার পরিচয়

  • ১. আল-কুলাবিয়্যাহ (الكلابية):

    হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রখ্যাত মুতাকাল্লিম ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে কুল্লাব আল-বাত্তান আল-বাসরী (মৃত্যু ২৪৩ হি.)-এর অনুসারীদের কুলাবিয়্যা বলা হয়। তিনি মুতাযিলা ও জাহমিয়াদের সিফাত অস্বীকারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সিফাতে কালাম প্রমাণ করতে গিয়ে সর্বপ্রথম ‘কালামে নাফসী’ (অন্তর্নিহিত কালাম) ও ‘কালামে লাফযী’ (শব্দগত কালাম)-এর তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। এটিই পরবর্তী আশআরী ধারার পূর্বসূরি।

  • ২. আল-আশায়িরাহ (الأشاعرة):

    ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশআরী (রহ.) [২৭০–৩২৪ হি.]-এর অনুসারী আহলুস সুন্নাহর বৃহৎ কালামী ধারা। তাঁরা শাফেঈ ও মালেকী মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁরা ওহির অধীনস্থ রেখে যুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করেন।

  • ৩. আল-মাতুরিদিয়্যাহ (الماتريدية):

    ইমাম আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাতুরিদী আস-সামারক্বান্দী (রহ.) [মৃত্যু ৩৩৩ হি.]-এর অনুসারী সুন্নি কালামী ধারা। হানাফী মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকীহ ও উসূলবিদগণ মাতুরিদী আকিদার ধারক। তাঁরা যুক্তিবাদ ও টেক্সটের মাঝে অত্যন্ত নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখেন।

  • ৪. আল-যাহিরিয়্যাহ (الظاهرية):

    দাউদ ইবনে আলী আল-ইস্পাহানী এবং পরবর্তীতে আল্লামা ইবনে হাযম আল-আন্দালুসী (রহ.)-এর অনুসারী সম্প্রদায়। তাঁরা আকিদা ও ফিক্বহের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার যুক্তি, কিয়াস বা তা’বীল সম্পূর্ণ বর্জন করে কেবল শব্দের বাহ্যিক রূপ (যাহের)-কে আঁকড়ে ধরেন।

কালাম বিষয়ে এদের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ

  • ১. আকল বা বিবেকের ভূমিকা:
    • মাতুরিদীগণ: অহি আসার পূর্বেই বিবেক দিয়ে স্রষ্টাকে চেনা ওয়াজিব মনে করেন।
    • আশআরীগণ: অহি আসার পূর্বে বিবেকের মাধ্যমে কোনো কিছু ওয়াজিব হয় না; শরিয়তই সমস্ত ওয়াজিবের একমাত্র মানদণ্ড।
    • যাহিরীগণ: বিবেকের যুক্তি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, কেবল জাহিরী নস মান্য।
  • ২. আল্লাহর সিফাতে তাকভীন (تكوين):
    • মাতুরিদীগণের মতে ‘তাকভীন’ (সৃষ্টি করা, রিজিক দেওয়া) আল্লাহর একটি স্বতন্ত্র সনাতন সিফাত।
    • আশআরীগণের মতে তাকভীন কোনো পৃথক সিফাত নয়; বরং তা কুদরত ও ইরাদা সিফাতেরই তাআল্লুক্ব বা বহিঃপ্রকাশ।
  • ৩. কালামুল্লাহ বা আল্লাহর বাণী:
    • কুলাবিয়া, আশআরী ও মাতুরিদী একমত যে আল্লাহর মূল কালাম হলো ‘কালামে নাফসী’ যা শব্দ ও ধ্বনিহীন এবং অসৃষ্ট।
    • যাহিরীগণের মতে আল্লাহর কালামের বাহ্যিক অক্ষর ও শব্দসমূহও সনাতন ও প্রাচীন।
  • ৪. সিফাতসমূহের তা’বীল (ব্যাখ্যা):
    • আশআরী ও মাতুরিদীগণ বিভ্রান্তি এড়াতে মুতাশাবিহাত সিফাতে রূপক তা’বীল অথবা তাফবীদ উভয়ের অনুমোদন দেন।
    • যাহিরীগণ কোনো রূপক তা’বীল মানেন না, কেবল আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করেন।

উপসংহার

কুলাবিয়্যা, আশআরী ও মাতুরিদী সকলেই আহলুস সুন্নাহর মূল সুরক্ষাকবচ, আর যাহিরিয়্যাহ ছিল এক চরমপন্থী অনমনীয় পাঠভিত্তিক ধারা।

৪। اكتب نبذة من حياة الإمام أبي حنيفة رحمه الله تعالى ثم بين مساهمته في علم الكلام مفصلا –

[ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর علم الكلام-এ তাঁর অবদান বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

[মান: ১৬]

ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত

ইসলামি ফিক্বহ ও কালামের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ইমামুল আযম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত আল-কুফী (রহ.) ৮০ হিজরিতে ইরাকের কূফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সম্মানিত তাবেঈ ছিলেন এবং হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-সহ একাধিক সাহাবীকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান, আতা ইবনে আবি রাবাহ প্রমুখ প্রথিতযশা মণীষীদের সান্নিধ্যে জ্ঞানার্জন করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সুবিশাল মেধার অধিকারী মুজতাহিদ ফক্বীহ এবং সফল সৎ ব্যবসায়ী। জালিম আব্বাসীয় খলিফা মনসুরের প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বন্দিশালায় নিক্ষেপ করা হয় এবং বিষপ্রয়োগে ১৫০ হিজরিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। বাগদাদের খাইজুরান কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

ইলমুল কালামে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ঐতিহাসিক অবদান

অধিকাংশ মানুষ ইমাম আবু হানিফাকে কেবল ফিক্বহের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জানলেও, তিনি তাঁর জীবনের প্রারম্ভিক দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছিলেন ইলমুল কালাম ও আকিদা গবেষণায়। তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন:

«كُنْتُ أَنْظُرُ فِي الْكَلاَمِ حَتَّى بَلَغْتُ فِيهِ مَبْلَغًا يُشَارُ إِلَيَّ فِيهِ بِالأَصَابِعِ»

“আমি ইলমুল কালামে এত গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছিলাম যে, এ বিষয়ে মানুষ আঙুল দিয়ে আমাকে নির্দেশ করত।” তিনি কুফা থেকে প্রায় বিশের অধিকবার বসরায় গিয়েছেন কেবল বাতিল ফেরকাদের সাথে কালামী বিতর্কে লিপ্ত হয়ে সুন্নাহকে বিজয়ী করার জন্য।

কালামশাস্ত্রে তাঁর অমর রচনাবলি

  • ১. ‘আল-ফিক্বহুল আকবার’ (الفقه الأكبر): ইসলামি আকিদার ইতিহাসে রচিত প্রথম প্রণালীবদ্ধ আকর গ্রন্থ। এতে তাওহিদ, সিফাত, তাকদির, ঈমান ও কবিরা গুনাহের শারঈ বিধান অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
  • ২. ‘আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম’ (العالم والمتعلم): শিক্ষক ও ছাত্রের প্রশ্নোত্তর আকারে রচিত আকিদার এক কালজয়ী যুক্তিনির্ভর সংলাপ।
  • ৩. ‘রিসালাতু আবি হানিফা ইলা উসমান আল-বাত্তী’: কুফার বিচারক উসমান বাত্তীর কাছে লিখিত ঈমান ও আমলের সূক্ষ্ম সম্পর্কের ব্যাখ্যা।
  • ৪. ‘আল-ওয়াসিয়্যাহ’ (الوصية): তাঁর অনুসারীদের জন্য প্রদত্ত বিশুদ্ধ আকিদার অসিয়তনামা।

কালামশাস্ত্রে তাঁর মৌলিক তত্ত্ব ও প্রভাব

  • খারেজী ও মুতাযিলাদের খণ্ডন: তিনি অকাট্য যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে কবিরা গুনাহকারী মুমিন, সে কাফের নয়।
  • জাহমিয়া ও মুজাসসিমাদের খণ্ডন: তিনি প্রমাণ করেন আল্লাহ নিরাকার, কোনো সৃষ্টির সদৃশ নন এবং দিক ও স্থানের ঊর্ধ্বে।
  • মাতুরিদী দর্শনের ভিত্তি স্থাপন: ইমাম মাতুরিদী মূলত ইমাম আবু হানিফার কালামী মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করেই সুবিশাল হানাফী-মাতুরিদী আকিদা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।

উপসংহার

ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) ফিক্বহে যেমন উম্মতের পথপ্রদর্শক, আকিদা ও কালামের সুরক্ষাতেও তিনি ছিলেন সমগ্র সালাফের এক অগ্রদূত অভিভাবক।

৫। اكتب نبذة من حياة أبي المنصور الماتريدي (رح) ثم اذكر دوره في الرد على المعتزلة وغيرهم من الفرق الباطلة والزنادقة والملاحدة مفصلا –

[আবুল মানসুর আল-মাতুরিদী (রহ) এর জীবনী লেখ। অতঃপর মুতাজিলাসহ অন্যান্য বাতিল, নাস্তিক ও স্বধর্মত্যাগী ফেরকা প্রতিহত করায় তাঁর ভূমিকা বিস্তারিত লেখ।]

[মান: ১৬]

ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদী (রহ.)-এর জীবনচরিত

আহলুস সুন্নাহর অন্যতম প্রধান কালামী ইমাম, ইমামুল হুদা আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল-মাতুরিদী আস-সামারক্বান্দী (রহ.) বর্তমান উজবেকিস্তানের সমরকন্দের ‘মাতুরিদ’ নামক পল্লীতে আনুমানিক ২৩৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম আজম আবু হানিফার বিশিষ্ট ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম আবু ইউসুফের ইলমী সনদের ধারক ছিলেন। তিনি আবু বকর আল-জুজানী ও মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আর-রাযীর কাছে জ্ঞানার্জন করেন। তিনি আজীবন সমরকন্দে ইলমের খেদমত করে ৩৩৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং সমরকন্দের বিখ্যাত চাকারদিজা কবরস্থানে সমাহিত হন।

বাতিল ফেরকা ও নাস্তিক্যবাদ প্রতিহতকরণে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা

চতুর্থ হিজরিতে মধ্য এশিয়া (মা ওরাউন নহর) অঞ্চলে যখন গ্রিক দর্শন, মুতাযিলা, দ্বৈতবাদী মাজুসি এবং জিন্দিক্ব ও নাস্তিকদের বিস্তার ঘটেছিল, তখন ইমাম মাতুরিদী অটল পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে একাই সমগ্র বিদআতের জোয়ার রুখে দেন:

  • ১. মুতাযিলাদের দাঁতভাঙা জবাব:

    মুতাযিলারা আল্লাহর সিফাত অস্বীকার করত এবং কুরআনকে সৃষ্ট বলত। ইমাম মাতুরিদী তাঁর অমর গ্রন্থ ‘কিতাবুত তাওহিদ’-এ যুক্তির মাধ্যমেই প্রমাণ করেন যে আল্লাহর সিফাত অস্বীকার করা মূলত স্রষ্টার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার নামান্তর। তিনি মুতাযিলা কা’বী ও যুব্বাইর প্রতিটি গ্রন্থের বিরুদ্ধে খণ্ডনমূলক কিতাব রচনা করেন (যেমন: ‘কিতাবু আওহামিল মু’তাযিলাহ’)।

  • ২. জিন্দিক্ব, দাহরিয়্যাহ ও নাস্তিকদের (الملاحدة) খণ্ডন:

    যারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করে বস্তুজগৎকে চিরন্তন বা অনাদি (দাহর) দাবি করত, তাদের বিরুদ্ধে ইমাম মাতুরিদী ‘হুদ্দুসে আলম’ (বিশ্বজগতের নশ্বরতা ও পরিবর্তনশীলতা) তত্ত্ব দিয়ে প্রমাণ করেন যে এই জগৎ নিজে নিজে সৃষ্টি হতে পারে না; একজন পরম বুদ্ধিমান একক স্রষ্টা ছাড়া এই নিখুঁত শৃঙ্খলা অসম্ভব।

  • ৩. মাজুসি দ্বৈতবাদীদের (الثنوية والمانوية) খণ্ডন:

    পারস্যের মানিকাইজম ও মাজুসিরা ভালো ও মন্দের দুই পৃথক ঈশ্বর মানত। ইমাম মাতুরিদী বুরহানুত তামানূ’ (পরস্পর বিরোধের অসম্ভবতা) দিয়ে প্রমাণ করেন দুই ঈশ্বর থাকলে বিশ্বজগতে ধ্বংস ছাড়া কিছুই ঘটত না।

  • ৪. রাফেজী ও বাতেনিয়াদের প্রতিরোধ:

    বাতেনিয়া জিন্দিক্বরা যারা শরিয়তের প্রকাশ্য বিধানকে উড়িয়ে দিত এবং রাফেজী যারা সাহাবীদের গালাগাল করত, তাদের কুফরি চক্রান্ত তিনি ‘রদ্দু উসূলিল কারামিতাহ’ গ্রন্থের মাধ্যমে ধূলিসাৎ করেন।

উপসংহার

ইমাম মাতুরিদীর রচিত ‘তাভীলাতুল কুরআন’ (তাফসিরে মাতুরিদী) এবং ‘কিতাবুত তাওহিদ’ হলো আহলুস সুন্নাহর আকিদা রক্ষার চিরন্তন বাতিঘর। তাঁকে যথার্থই ‘ইমামুল হুদা’ (হেদায়েতের ইমাম) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

৬। هل القرآن مخلوق أم لا ؟ بين مع الاختلاف مدللا ومفصلا –

[কুরআন সৃষ্ট কি না? মতপার্থক্যসহ দলিলভিত্তিক বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

[মান: ১৬]

ভূমিকা ও ফেতনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ইসলামের ইতিহাসে ‘খালক্বুল কুরআন’ (কুরআন কি সৃষ্ট না অসৃষ্ট)—এই বিষয়টি ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও বিতর্কিত কালামী সমস্যা। হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে আব্বাসীয় খলিফা মামুন, মুতাসিম ও ওয়াসিক্ব মুতাযিলাদের প্ররোচনায় কুরআনকে ‘সৃষ্ট’ (মাখলুক্ব) বিশ্বাস করাকে রাষ্ট্রীয় আইন বানিয়ে আলিমদের ওপর নির্মম অত্যাচার (মিহনা) চালায়।

১. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত অকাট্য আকিদা

আহলুস সুন্নাহর সমস্ত সালাফ, ফকীহ ও মুহাদ্দিসীন একমত যে: কুরআনুল কারিম হলো আল্লাহ তাআলার চিরন্তন, সনাতন পবিত্র বাণী (কালামুল্লাহ), এটি কোনো অবস্থাতেই সৃষ্ট (মাখলুক্ব) নয়; যে ব্যক্তি কুরআনকে সৃষ্ট বলে সে কাফের।

«الْقُرْآنُ كَلاَمُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، وَمَنْ قَالَ إِنَّهُ مَخْلُوقٌ فَهُوَ كَافِرٌ»

আহলুস সুন্নাহর অকাট্য দলিলসমূহ

  • কুরআনুল কারিমের দলিল:
    • আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি এবং তাঁর আদেশ/বাণীর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য ঘোষণা করেছেন:

      ﴿أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ﴾

      “জেনে রেখ, সৃষ্টি করা এবং নির্দেশ (আদেশ/কালাম) দেওয়া—উভয়ই কেবল তাঁরই অধিকার।” (সূরা আল-আ’রাফ: ৫৪)। এখানে ‘খালক্ব’ (সৃষ্টি) থেকে ‘আমর’ (কালাম)-কে সম্পূর্ণ আলাদা করা হয়েছে।

    • কুরআনকে সরাসরি ‘কালামুল্লাহ’ বলা হয়েছে:
      ﴿حَتَّى يَسْمَعَ كَلاَمَ اللَّهِ﴾ (যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়—সূরা আত-তাওবাহ: ৬)।
  • হাদিস শরিফের দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:
    «فَضْلُ كَلاَمِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلاَمِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ» (সমস্ত বাণীর ওপর আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব তেমনই, যেমন সমস্ত সৃষ্টির ওপর স্বয়ং আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব)।
  • যুক্তিভিত্তিক দলিল: কুরআন যদি সৃষ্ট হতো, তবে আল্লাহ তাআলার কালাম সিফাত একসময় ছিল না এবং পরে সৃষ্টি হয়েছে—এমনটি মানতে হতো; যার অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ সৃষ্টির পূর্বে বোবা বা কালামহীন ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহর সিফাত সবসময় অনাদি ও অনন্ত।

২. মুতাযিলা ও জাহমিয়াদের ভ্রান্ত দাবি ও তার খণ্ডন

মুতাযিলারা যুক্তি দেয়—কুরআনে হরফ, শব্দ ও আয়াত রয়েছে, যা ক্রমানুসারে আসে এবং যার শুরু ও শেষ আছে; অতএব তা সৃষ্ট।

  • আহলুস সুন্নাহর জবাব (কালামে নাফসী ও কালামে লাফযী): ইমাম আশআরী ও মাতুরিদী বলেন—আল্লাহর মূল কালাম হলো ‘কালামে নাফসী’ (যা আল্লাহর সত্তায় বিরাজমান শব্দ ও ধ্বনিহীন চিরন্তন গুণ)। আর মানবকণ্ঠে উচ্চারিত শব্দাবলি ও কাগজে লিখিত কালি হলো সেই চিরন্তন কালামের বহিঃপ্রকাশক মাধ্যম (দালালাত)। মাধ্যমগুলো সৃষ্ট হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর মূল কালাম সম্পূর্ণরূপে অসৃষ্ট ও সনাতন।

উপসংহার

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) চাবুকের নির্মম আঘাত সহ্য করেও ‘কুরআন অসৃষ্ট’ ঘোষণার ওপর অটল থেকে সুন্নাহর ঝাণ্ডাকে চির সমুন্নত রেখেছিলেন।

৭। ما اختلاف بين أهل السنة والجماعة والمعتزلة عن مسئلة حكم مرتكب الكبيرة؟ بين مدللا ومفصلا –

[কবিরাহ গুনাহকারী ব্যক্তির বিধান বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ও মুতাজিলাদের মধ্যে পার্থক্য কী? দলিলসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

[মান: ১৬]

ভূমিকা ও মাসআলার গুরুত্ব

ইসলামের ইতিহাসে কবিরা গুনাহকারী (মোরতাকিবে কাবিরাহ)—যেমন যেনাকারী, মদ্যপায়ী, চোর বা সুদখোর ব্যক্তির ঈমানী অবস্থান ও আখেরাতের পরিণতি নির্ধারণের বিষয়টি ইলমুল কালামের অন্যতম প্রধান বিতর্কিত অধ্যায়। এ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ও মুতাযিলাদের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।

উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সিদ্ধান্ত মুতাযিলা সম্প্রদায়ের মতবাদ
১. পার্থিব হুকুম (দুনিয়াতে অবস্থান): কবিরা গুনাহকারী ইসলাম থেকে বের হয় না; সে ‘মুমিন ফাসিক্ব’ বা পাপাচারী মুসলিম। তার জানাজা পড়া যাবে, তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ এবং সে মুসলিম হিসেবে দাফন হবে। ১. আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন: মুতাযিলাদের মতে সে মুমিনও নয়, আবার কাফেরও নয়; সে ঈমান ও কুফরের মধ্যবর্তী এক স্বতন্ত্র স্তরে অবস্থান করে। সে ঈমান থেকে খারিজ হয়ে গেছে।
২. আখেরাতের চূড়ান্ত ফয়সালা: যদি সে তওবা ছাড়া মারা যায়, তবে তার ফয়সালা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারেন, অথবা শাস্তির পর জান্নাত দেবেন। সে কখনোই চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। ২. চিরস্থায়ী জাহান্নামী: মুতাযিলাদের মতে তওবা ছাড়া মারা গেলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারবেন না এবং সে কাফেরদের মতো অনন্তকাল জাহান্নামে জ্বলবে (ওয়াইদ নীতি)।
৩. শাফাআত বা সুপারিশ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ও অন্যান্য সৎ ব্যক্তিদের শাফাআতের মাধ্যমে কবিরা গুনাহগাররা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। ৩. শাফাআত অস্বীকার: কবিরা গুনাহগারের জন্য আখেরাতে কোনো শাফাআত বা সুপারিশ কার্যকর হবে না।

আহলুস সুন্নাহর কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক অকাট্য দলিলসমূহ

  • কুরআনী দলিল: আল্লাহ তাআলা কবিরা গুনাহে লিপ্তদেরও ‘মুমিন’ বলে সম্বোধন করেছেন:

    ﴿وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا﴾

    “আর মুমিনদের দুই দল যদি পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।” (সূরা আল-হুজুরাত: ৯)। যুদ্ধ ও হত্যা কবিরা গুনাহ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের উভয় দলকে ‘মুমিন’ হিসেবেই অভিহিত করেছেন।

  • ক্ষমার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা:
    ﴿إِنَّ اللَّهَ لاَ يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ﴾ (শিরক ছাড়া অন্যান্য সমস্ত গুনাহ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন—সূরা আন-নিসা: ৪৮)।
  • হাদিস শরিফ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
    «شَفَاعَتِي لأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي» (আমার শাফাআত আমার উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে—তিরমিযী)।

উপসংহার

আহলুস সুন্নাহর নীতি হলো ইনসাফ ও রহমতের প্রতীক, যা পাপীকে নিরাশ না করে ক্ষমার সুমহান প্রত্যাশায় উজ্জীবিত রাখে; পক্ষান্তরে মুতাযিলাদের মতবাদ মানুষকে হতাশার অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করে।

৮। تحدث عن التأويل والتفويض في صفة الله موضحا –

[আল্লাহর গুণের ক্ষেত্রে التفويض ও التأويل সম্পর্কে আলোচনা কর।]

[মান: ১৬]

ভূমিকা ও সিফাতে মুতাশাবিহাতের পরিচয়

পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফে মহান আল্লাহর এমন কিছু সিফাত বা গুণের বিবরণ এসেছে, যেগুলোর বাহ্যিক শব্দ মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা সৃষ্টির অবস্থার সাথে মিলে যায়; যেমন: ‘ইয়্যাদ’ (হাত), ‘ওয়াজ্হ’ (মুখমণ্ডল), ‘আইন’ (চোখ), ‘ইসতিওয়া আলাল আরশ’ (আরশে আরোহণ), ইত্যাদি। এই সিফাতগুলোকে ‘সিফাতে মুতাশাবিহাত’ (الصفات المتشابهة) বলা হয়। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমামগণ সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য (তাশবীহ) এবং আল্লাহর সিফাত অস্বীকার (তা’তীল) উভয় চরমপন্থা বর্জন করে দুটি প্রধান গ্রহণযোগ্য শাস্ত্রীয় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন: ‘আত-তাফবীদ’ (التفويض) এবং ‘আত-তা’বীল’ (التأويل)।

১. মানহাজুত তাফবীদ (منهج التفويض – সালাফে সালেহীনের পদ্ধতি)

সংজ্ঞা: মুতাশাবিহাত সিফাতগুলোর প্রতি কোনো প্রকার রূপ বা সাদৃশ্য কল্পনা না করে নিঃশর্ত বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এর প্রকৃত অর্থ ও স্বরূপের জ্ঞান সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহর ওপর সমর্পণ করাকে ‘তাফবীদ’ বলা হয়।

  • সালাফদের মূলনীতি: ইমাম মালিক (রহ.)-এর জগদ্বিখ্যাত উক্তি:

    «الاسْتِوَاءُ مَعْلُومٌ، وَالْكَيْفُ مَجْهُولٌ، وَالإِيمَانُ بِهِ وَاجِبٌ، وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ»

    “ইসতিওয়া (আরশে অবস্থান) শব্দটি জানা, কিন্তু এর স্বরূপ (কাইফিয়্যাত) মানববুদ্ধির অজ্ঞাত, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, আর এর গভীর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা বিদআত।”

  • ইমাম আহমদ, সুফিয়ান সাওরী ও সালাফদের সাধারণ নীতি ছিল: «أَمِرُّوهَا كَمَا جَاءَتْ بِلاَ كَيْفٍ» (যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো রূপ ব্যতিরেকে বহাল রাখ)।

২. মানহাজুত তা’বীল (منهج التأويل – খালাফ বা পরবর্তী কালামবিদদের পদ্ধতি)

সংজ্ঞা: আরবি ভাষার ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ও রূপক ব্যবহারের নিয়মানুযায়ী কোনো শব্দের বাহ্যিক দেহধারী অর্থ পরিহার করে আল্লাহর শানের উপযোগী উপযুক্ত অর্থ গ্রহণ করাকে ‘তা’বীল’ বলা হয়।

  • তা’বীলের প্রয়োজনীয়তা: পরবর্তী যুগে যখন সাধারণ মানুষের অন্তরে মুজাসসিমা ও মুশাব্বিহাদের ভ্রান্ত প্রচারণার কারণে আল্লাহকে দেহধারী মনে করার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন ইমাম আশআরী, ইমাম মাতুরিদী ও পরবর্তী ওলামায়ে কেরাম কুরআন ও বিশুদ্ধ ভাষার আলোকে তা’বীল করেন।
  • উদাহরণ:
    • আল্লাহর ‘ইয়্যাদ’ (হাত)-এর তা’বীল করেছেন ‘কুদরত’ (শক্তি) বা ‘নিয়ামত’ দিয়ে; কারণ আরবিতে বলা হয়: ‘فلان له يد عليّ’ (অমুকের আমার ওপর হাত রয়েছে অর্থাৎ অনুগ্রহ রয়েছে)।
    • ‘ওয়াজ্হ’ (মুখমণ্ডল)-এর অর্থ করেছেন ‘আল্লাহর পবিত্র সত্তা’ (যাত) বা সন্তুষ্টি।
    • ‘ইসতিওয়া’-এর অর্থ করেছেন ‘ইসতীলা’ বা সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।

উপসংহার

উভয় পদ্ধতিই আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। তাফবীদ হলো সর্বাধিক নিরাপদ ও সালামতের পথ (আসলাম), আর তা’বীল হলো ফিতনা নিরসনে যুক্তিবাদীদের বিভ্রান্তি দূর করার গভীর প্রজ্ঞাময় পথ (আহকাম)।

খ-বিভাগ (মান: ৫ × ৪ = ২০)

৯। لم مست الحاجة الى علم الكلام؟

[কেন علم الكلام-এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল?]

[মান: ৫]

ভূমিকা ও ঐতিহাসিক পটভূমি

ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের পুণ্যময় শাসনামলে মুসলমানদের ঈমান ও আকিদা ছিল অত্যন্ত নিখাদ, সহজ ও প্রাকৃতিকভাবে সুদৃঢ়। সাহাবায়ে কেরাম কুরআন ও সুন্নাহর বাণীকে কোনো প্রকার দার্শনিক চুলচেরা বিশ্লেষণ ছাড়াই অন্তরে ধারণ করতেন। কিন্তু হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে ইসলামি খেলাফতের ভৌগোলিক পরিধি যখন তৎকালীন বিশ্বের পরাশক্তি রোমান সাম্রাজ্য, পারস্য, সিরিয়া, মিসর ও মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হলো, তখন মুসলিম উম্মাহ এক নতুন বৈশ্বিক বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। এই ঐতিহাসিক সংকটপূর্ণ মুহূর্তে ইসলামি বিশ্বাসের সুরক্ষায় ‘ইলমুল কালাম’-এর আত্মপ্রকাশ ও চর্চার তীব্র ঐতিহাসিক আবশ্যকতা দেখা দেয়।

ইলমুল কালামের তীব্র প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ার প্রধান কারণসমূহ

  • ১. গ্রিক, পারসিক ও ভারতীয় দর্শনের আগ্রাসন: আব্বাসীয় খলিফা মনসুর, হারুনুর রশিদ এবং মামুনের আমলে ‘বাইতুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্লেটো, এরিস্টটল ও নব্য-প্লেটোবাদী দর্শন আরবিতে অনূদিত হয়। এর ফলে সৃষ্টিতত্ত্ব, ঈশ্বরের গুণাবলি, আত্মার অমরত্ব ও মুজিজা নিয়ে মুসলিম যুবসমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের মাঝে তীব্র সংশয় দেখা দেয়। তৎকালীন আলিমগণ উপলব্ধি করেন যে, কেবল হাদিস বর্ণনা করে অন্ধ বিশ্বাস চাপিয়ে এই যুক্তিবাদী দার্শনিকদের নিরস্ত করা সম্ভব নয়; বরং তাদের নিজস্ব যুক্তিবিদ্যার (মানতিক্ব) হাতিয়ার ব্যবহার করেই তাদের বিভ্রান্তি খণ্ডন করতে হবে।
  • ২. অভ্যন্তরীণ চরমপন্থী বাতিল ফেরকাগুলোর উত্থান: রাজনৈতিক সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উম্মাহর ভেতর থেকে খারেজী, শিয়া-রাফেজী, মুতাযিলা, কাদারিয়্যা ও জাহমিয়া সম্প্রদায়ের মতো উগ্রপন্থী দলগুলোর আবির্ভাব ঘটে। তারা কুরআনের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ মুসলমানদের পথভ্রষ্ট করছিল এবং কবিরা গুনাহগারকে কাফের বানিয়ে রক্তপাতকে জায়েজ করছিল। এদের শাস্ত্রীয় ভ্রান্তি রুখতে সুশৃঙ্খল কালামী মূলনীতির বিকল্প ছিল না।
  • ৩. অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে তাত্ত্বিক প্রতিরোধ: মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরে বসবাসকারী ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক (মাজুসি) ও ব্রাহ্মণ্যবাদী পণ্ডিতদের সাথে ইসলামি দাওয়াতি প্রয়োজনে শাস্ত্রীয় সংলাপে লিপ্ত হতে হতো। খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদ (ট্রিনিটি) এবং পারস্যের দ্বৈতবাদের (দুই স্রষ্টা তত্ত্ব) অসারতা প্রমাণ করে তাওহিদের পরম একত্ব প্রতিষ্ঠা করতে কালামশাস্ত্রের বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

উপসংহার

ইলমুল কালাম কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা ছিল না; বরং তা ছিল যুগে যুগে ইসলামি আকিদা ও বিশ্বাসের দুর্গকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তির বিষবাষ্প থেকে রক্ষা করার এক অনিবার্য ঐশী বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর।

১০। بين الفروق بين علم الكلام والفلسفة موضحا –

[علم الكلام ও علم الفلسفة-এর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ বর্ণনা কর।]

[মান: ৫]

ভূমিকা ও উভয় বিদ্যার পরিচিতি

ইসলামি জ্ঞানকাণ্ডের ইতিহাসে ‘ইলমুল কালাম’ (ইসলামি যুক্তিনির্ভর ধর্মতত্ত্ব) এবং ‘আল-ফালসাফাহ’ (গ্রিক ভাবাপন্ন স্বাধীন দর্শন)—উভয় শাস্ত্রই অস্তিত্বের স্বরূপ, সৃষ্টিজগৎ, পরম স্রষ্টা এবং জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে এবং যুক্তির সাহায্য গ্রহণ করে। বাহ্যিক সাদৃশ্যের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ এ দুটিকে গুলিয়ে ফেলে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের মূল উৎস, ভিত্তি, কার্যপদ্ধতি ও চূড়ান্ত লক্ষ্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল মৌলিক ও মৌলিক গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান।

ইলমুল কালাম ও দর্শনের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ

ইলমুল কালাম (علم الكلام) দর্শন বা ফালসাফাহ (علم الفلسفة)
১. মূল ভিত্তি ও উৎস: কালামশাস্ত্রের মূল উৎস হলো ঐশী ওহি (কুরআন ও সুন্নাহ)। এখানে মানুষের বিবেক ও বুদ্ধি হলো ওহির অনুগত ও অধীনস্থ খাদেম। ওহির সিদ্ধান্তের বাইরে যুক্তি যেতে পারে না। ১. মূল ভিত্তি ও উৎস: দর্শনের একমাত্র মানদণ্ড হলো মানবীয় স্বাধীন ও সীমাহীন বুদ্ধি। দার্শনিকরা কোনো আসমানী ওহি বা নবীদের বাণীর অধীন নয়; বরং বুদ্ধিকে চূড়ান্ত বিচারক মনে করে।
২. গবেষণার সূচনা ও পদ্ধতি: মুতাকাল্লিমীনগণ প্রথমে কুরআনের শাশ্বত সত্যকে ধ্রুব ঈমান হিসেবে গ্রহণ করেন; অতঃপর অমুসলিম ও সংশয়বাদীদের বোঝানোর জন্য সেই বিশ্বাসের সমর্থনে যুক্তি ও প্রমাণ সাজান। ২. গবেষণার সূচনা ও পদ্ধতি: দার্শনিকগণ কোনো পূর্ববিশ্বাস ছাড়া চরম সংশয় ও শূন্যতা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন এবং বুদ্ধি তাঁদের যেখানে নিয়ে যায়, সেখানেই তাঁরা নৈতিক ও আত্মিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
৩. মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব (হুদ্দূস বনাম ক্বিদাম): কালামবিদগণ সর্বসম্মতভাবে প্রমাণ করেন যে বিশ্বজগৎ ‘হাদিস’ (অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্ট ও নশ্বর) এবং আল্লাহ তাআলা একে শূন্য থেকে নিজ কুদরতে সৃষ্টি করেছেন। ৩. মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব: এরিস্টটল ও প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকগণ বিশ্বাস করত বিশ্বজগৎ ‘কাদীম’ বা অনাদি ও সনাতন; অর্থাৎ আল্লাহর কোনো নতুন সৃষ্টি নয়, বরং সর্বদা ছিল।
৪. পরকাল ও পুনরুত্থানের রূপ: কালামশাস্ত্রবিদগণ কুরআন অনুযায়ী মানুষের শারীরিক ও আত্মিক উভয় পুনরুত্থানে (আল-বা’সু ওয়াল হাশরু জিসমানী) বিশ্বাস করেন। ৪. পরকাল ও পুনরুত্থানের রূপ: অধিকাংশ দার্শনিক শারীরিক পুনরুত্থান ও জান্নাত-জাহান্নামের শারীরিক নিয়ামতকে অস্বীকার করে কেবল বিমূর্ত আত্মিক অনুভূতিতে বিশ্বাস করে।

উপসংহার

সংক্ষেপে ইমাম গাযালী (রহ.) যথার্থই দেখিয়েছেন যে—ইলমুল কালাম হলো ওহির রজ্জু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সুদৃঢ় বুদ্ধিবৃত্তিক ইবাদত, আর স্বাধীন দর্শন হলো দিশাহীন মানুষের বিভ্রান্তিকর কাল্পনিক বিচরণ।

১১। اكتب نبذة من حياة أبي الحسن الأشعري مختصرا –

[ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]

[মান: ৫]

ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (রহ.)-এর জন্ম ও বংশপরিচয়

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের কালজয়ী কালাম দর্শনের প্রধান স্থপতি ও অভিভাবক ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি বিশর আল-আশআরী (রহ.) ২৬০ হিজরিতে ইরাকের ঐতিহাসিক ইলমী কেন্দ্র বসরা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। বংশগতভাবে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রখ্যাত সাহাবী, বিজ্ঞ বিচারক হযরত আবু মুসা আল-আশআরী (রা.)-এর নবম অধস্তন বংশধর ছিলেন।

মুতাযিলা মতবাদ ত্যাগ ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন

শৈশবে পিতৃবিয়োগের পর তাঁর মাতা বসরার শীর্ষ মুতাযিলা পণ্ডিত আবু আলী আল-জুব্বাইকে বিবাহ করেন। ফলে তরুণ আশআরী জুব্বাইর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন এবং দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে মুতাযিলা দর্শনের অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক ও বিতর্ককারী হিসেবে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেন। কিন্তু চল্লিশ বছর বয়সে মুতাযিলাদের শুষ্ক যুক্তি ও স্ববিরোধী আকিদা (যেমন—আল্লাহ বান্দার আসলাহ করতে বাধ্য, আল্লাহর সিফাত অস্বীকার) তাঁর বিবেককে তীব্রভাবে নাড়া দেয়। তিনি নির্জনবাসে চলে যান এবং সত্য উন্মোচনের জন্য আল্লাহর দরবারে কান্না করেন। রমজান মাসে তিনি স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাক্ষুষ দিদার ও দিকনির্দেশনা লাভ করেন।

অতঃপর তিনি বসরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর সমবেত জনতার সামনে মিম্বরে দাঁড়িয়ে নিজের গায়ের চাদর খুলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন:

«إِنِّي خَرَجْتُ مِنْ سَائِرِ مَا كُنْتُ أَعْتَقِدُهُ كَمَا خَرَجْتُ مِنْ ثَوْبِي هَذَا، وَأَنَا عَلَى مَذْهَبِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ، مُتَّبِعٌ لِلإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ»

“আমি আমার পূর্বের যাবতীয় মুতাযিলা বিশ্বাস থেকে এমনভাবে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে আসলাম যেমন আমি আমার এই পোশাকটি খুলে বের হয়ে আসলাম; আর এখন থেকে আমি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের বিশুদ্ধ পথের অনুসারী।”

তাঁর অমর রচনাবলি ও ওফাত

তিনি তাঁর জীবনের অবশিষ্ট সময় মুতাযিলা ও বাতিল ফেরকাগুলোর খণ্ডনে তিন শতাধিক কালজয়ী কিতাব রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো: ‘মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ওয়াখতিলাফুল মুসাল্লীন’ (ইসলামি ফেরকাগুলোর আদি ঐতিহাসিক বিশ্বকোষ), ‘আল-ইবানা আন উসূলিদ দিয়ানাহ’, ‘আল-লুমআ’, এবং ‘রিসালাতু ইলা আহलिस সাগর’। ৩২৪ হিজরিতে বাগদাদে এই মহান সংস্কারক ইমাম ইন্তেকাল করেন।

উপসংহার

ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (রহ.) মুতাযিলাদের চরম যুক্তিবাদের দুর্গ থেকেই যুক্তি ছিনিয়ে নিয়ে সুন্নাহর বিজয় নিশান উড্ডীন করেছিলেন, যার ফলে কিয়ামত পর্যন্ত উম্মাহর পথ আলোকিত হয়েছে।

১২। اكتب نبذة من حياة الامام احمد بن حنبل (رح) مختصرا –

[ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ।]

[মান: ৫]

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর জন্ম ও শিক্ষা

ইমামুস সুন্নাহ, সাইয়্যিদুল মুহাদ্দিসীন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানী (রহ.) ১৬৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতৃহীন হয়ে মায়ের পরম স্নেহে বড় হন। তিনি ইমাম শাফেঈ, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, আবু ইউসুফ প্রমুখ মহান মণীষীদের কাছে হাদিস ও ফিক্বহ শিক্ষা করেন। তিনি ছিলেন উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাফেজে হাদিস; প্রায় দশ লক্ষ হাদিস তাঁর মুখস্থ ছিল।

মিহনার কঠিন পরীক্ষা ও ঐতিহাসিক প্রতিরোধ (محنة خلق القرآن)

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম অধ্যায় হলো ‘খালক্বুল কুরআন’ ফিতনার প্রতিরোধ। খলিফা মামুন, মুতাসিম ও ওয়াসিক্ব যখন সমস্ত আলিমদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে বাধ্য করেছিল কুরআনকে ‘সৃষ্ট’ বলতে, তখন ইমাম আহমদ একাই পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন:
«الْقُرْآنُ كَلاَمُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ» (কুরআন আল্লাহর বাণী, তা সৃষ্ট নয়)। খলিফা মুতাসিমের নির্দেশে তাঁকে দীর্ঘ আঠাশ মাস অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রাখা হয় এবং জল্লাদ দিয়ে নির্মমভাবে চাবুক মেরে রক্তাক্ত করা হয়। তিনি অজ্ঞান হয়ে যেতেন কিন্তু এক চুল পরিমাণও আপস করেননি। অবশেষে খলিফা মুতাওয়াক্কিলের যুগে এই জুলুমের অবসান ঘটে এবং ইমাম আহমদের সুন্নাহর বিজয় সূচিত হয়।

রচনাবলি ও ওফাত

তাঁর অমর হাদিসগ্রন্থ হলো ‘মুসনাদে আহমদ’, যাতে প্রায় ২৮ হাজার হাদিস সংকলিত হয়েছে। এছাড়া ‘কিতাবুয যুহদ’ ও ‘আর-রাদ্দু আলায যানাদিক্বা ওয়াল জাহমিয়্যাহ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ২৪১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল ৭৭ বছর বয়সে বাগদাদে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজায় প্রায় দশ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছিল।

উপসংহার

মুহাদ্দিসগণ বলেন: ‘ইসলামকে আল্লাহ বিপদের দিনে দুজনের মাধ্যমে রক্ষা করেছেন—রিদ্দার যুদ্ধে আবু বকর (রা.)-এর মাধ্যমে এবং খালক্বুল কুরআনের দিনে আহমদ ইবনে হাম্বলের মাধ্যমে।’

১৩। اكتب خمسة كتب عن علم الكلام –

[علم الكلام বিষয়ের পাঁচটি কিতাবের নাম লেখ।]

[মান: ৫]

ভূমিকা ও কিতাবসমূহের গুরুত্ব

ইসলামি ইলমুল কালামের ইতিহাসে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমামগণ কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভুল আকিদাকে রক্ষা করতে বহু কালজয়ী প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। নিম্নে ইলমুল কালাম শাস্ত্রের সর্বাধিক সমাদৃত ও প্রামাণ্য পাঁচটি মূল কিতাবের বিশদ বিবরণ দেওয়া হলো:

ইলমুল কালামের পাঁচটি প্রখ্যাত মৌলিক কিতাব

  • ১. ‘কিতাবুত তাওহিদ’ (كتاب التوحيد):

    লেখক: ইমামুল হুদা আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাতুরিদী (রহ.) [মৃত্যু ৩৩৩ হি.]।
    গুরুত্ব: হানাফী-মাতুরিদী কালাম দর্শনের প্রধানতম ভিত্তিপ্রস্তর। এতে যুক্তি ও দর্শনের সমন্বয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাওহিদ, সিফাত এবং নাস্তিক, মুতাযিলা ও দ্বৈতবাদীদের যাবতীয় সংশয় অকাট্যভাবে খণ্ডন করা হয়েছে।

  • ২. ‘আল-ইবানা আন উসূলিদ দিয়ানাহ’ (الإبانة عن أصول الديانة):

    লেখক: ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশআরী (রহ.) [মৃত্যু ৩২৪ হি.]।
    গুরুত্ব: মুতাযিলা মতবাদ বর্জন করার পর সালাফে সালেহীন ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের বিশুদ্ধ সুন্নি আকিদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রচিত তাঁর সর্বাধিক প্রামাণ্য কিতাব।

  • ৩. ‘শারহু আক্বাঈদিন নাসাফিয়্যাহ’ (شرح العقائد النسفية):

    লেখক: ইমাম সা’দউদ্দীন মাসউদ ইবনে উমর আত-তাফতাযানী (রহ.) [মৃত্যু ৭৯২ হি.]।
    গুরুত্ব: ইমাম নাজম উদ্দীন নাসাফী রচিত সংক্ষিপ্ত আকিদার ওপর তাফতাযানীর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সারা বিশ্বের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে (যেমন আল-আজহার ও দারুল উলুম) কালামশাস্ত্রের প্রধান পাঠ্যবই।

  • ৪. ‘আল-ফিক্বহুল আকবার’ (الفقه الأكبر):

    লেখক: ইমামুল আযম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত (রহ.) [৮০–১৫০ হি.]।
    গুরুত্ব: ইলমুল কালাম ও আকিদার প্রাচীনতম লিখিত প্রামাণ্য রূপরেখা, যা সালাফদের বিশুদ্ধ বিশ্বাসের মূল নির্যাস বহন করে।

  • ৫. ‘আল-ইক্বতিসাদ ফিল ই’তিক্বাফ’ (الاقتصاد في الاعتقاد):

    লেখক: হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ আল-গাযালী (রহ.) [মৃত্যু ৫০৫ হি.]।
    গুরুত্ব: যুক্তিবিদ্যা ও গভীর কালামের চমৎকার সমন্বয়ে সুন্নি আকিদার এক ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থী মাস্টারপিস।

উপসংহার

এই গ্রন্থাবলি ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও কালামশাস্ত্রের সেই সুউচ্চ বাতিঘর, যা যুগ যুগ ধরে মুসলিম উম্মাহকে ভ্রান্ত দর্শনের অন্ধকার থেকে হেদায়েতের আলোয় পরিচালিত করেছে।

১৪। تحدث عن خلق افعال العباد مدللا –

[বান্দার কাজের সৃজন সম্পর্কে দলিলসহ বর্ণনা কর।]

[মান: ৫]

ভূমিকা ও মাসআলার স্বরূপ

মানুষ প্রতিদিন ভালো ও মন্দ যে সমস্ত কাজ (সালাত, রোজা, দান কিংবা পাপকর্ম) সম্পাদন করে, সেই কর্মগুলোর প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা কে—আল্লাহ নাকি স্বয়ং মানুষ? কালামশাস্ত্রে এই জটিল মাসআলাটিকে ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ (خلق أفعال العباد – বান্দার কাজের সৃজন) বলা হয়। এ নিয়ে তিনটি ঐতিহাসিক মতবাদ রয়েছে।

এ বিষয়ে তিনটি প্রধান মতবাদ ও আহলুস সুন্নাহর অবস্থান

  • ১. জাবারিয়াদের মত: মানুষ সম্পূর্ণ বাধ্য; মানুষ কোনো কাজের স্রষ্টাও নয়, কর্তাও নয়; আল্লাহই জোরপূর্বক মানুষের দ্বারা কাজ করান। (এটি ভ্রান্ত)।
  • ২. মুতাযিলাদের মত: মানুষ নিজেই তার সমস্ত কাজের একক স্বাধীন সৃষ্টিকর্তা (খাল্লিক্ব); মানুষের কাজের সৃষ্টির পেছনে আল্লাহর কোনো কুদরত বা ইচ্ছা নেই। (এটি আল্লাহর কুদরতে শিরকের শামিল)।
  • ৩. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সিদ্ধান্ত (কাসব তত্ত্ব):

    আহলুস সুন্নাহর মতে—বান্দার সমস্ত কাজের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা (খাল্লিক্ব) হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা; আর বান্দা হলো সেই কাজের ইচ্ছাপূর্ণ উপার্জনকারী বা বাস্তবায়নকারী (কাসিব – كاسب)।

আহলুস সুন্নাহর অকাট্য দলিলসমূহ

  • কুরআনুল কারিমের দলিল:

    ﴿وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ﴾

    “অথচ আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা কাজ কর তাও তিনি সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আস-সাফফাত: ৯৬)।

    আরও ইরশাদ হয়েছে: ﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ﴾ (আল্লাহই প্রতিটি বস্তুর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা—সূরা আয-যুমার: ৬২)। বান্দার কাজও একটি সৃষ্টি বা বস্তু, অতএব তার স্রষ্টাও আল্লাহ।

  • হাদিস শরিফের দলিল: ইমাম বুখারি তাঁর ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
    «إِنَّ اللَّهَ صَانِعُ كُلِّ صَانِعٍ وَصَنْعَتِهِ» (নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি কারিগর এবং তার তৈরি কাজের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা)।

উপসংহার

আল্লাহ বান্দাকে ইচ্ছা ও বাছাই করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বান্দা যখন ভালো কাজের ইচ্ছা করে, আল্লাহ সেই ভালো কাজটি সৃষ্টি করেন এবং বান্দাকে সওয়াব দেন; আর বান্দা মন্দের ইচ্ছা করলে আল্লাহ সেই মন্দ কাজটি সৃষ্টি করেন এবং বান্দা তার ইচ্ছার কারণে পাপী হয়। এটিই ইনসাফ ও তাওহিদের পরম ভারসাম্য।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

ফাযিল ১ম বর্ষ আল-আক্বীদাতুল ইসলামিয়্যাহ ৩য় পত্রের বিষয় কোড কত ছিল?

বিষয় কোড ছিল ১১১০১৯ এবং পরীক্ষার পূর্ণমান ছিল ১০০ নম্বর। পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা।

কালামশাস্ত্রের আদি আকর গ্রন্থ ‘আল-ফিক্বহুল আকবার’-এর রচয়িতা কে?

ইমামুল আযম ইমাম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত (রহ.) [৮০–১৫০ হিজরি]।

মুতাযিলা মতবাদ ত্যাগের পর সুন্নি কালামের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

হযরত আবু মুসা আশআরীর বংশধর ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশআরী (রহ.)।

‘কুরআন সৃষ্টি’ (খালক্বুল কুরআন) ফিতনার বিরুদ্ধে অটল ছিলেন কোন মহান ইমাম?

ইমামুস সুন্নাহ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) চাবুকের নির্মম নির্যাতন সহ্য করে অটল ছিলেন।

আহলুস সুন্নাহর মতে বান্দার কাজের প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা কে?

বান্দার কাজের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা হলেন মহান আল্লাহ তাআলা, আর বান্দা হলো তার স্বাধীন উপার্জনকারী (কাসিব)।

আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে সালাফ ও খালাফদের দুটি প্রধান পদ্ধতি কী কী?

সালাফদের পদ্ধতি হলো তাফবীদ (জ্ঞান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা) এবং খালাফদের পদ্ধতি হলো শারঈ তা’বীল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *