উচ্চতর আরবি ৩য় পত্র (Higher Arabic 3rd Paper) – 409, উচ্চতর আরবি – ফাযিল পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
১৩৯ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – 2022
বিষয়: উচ্চতর আরবি (ঐচ্ছিক) তৃতীয় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯)
[আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা (قواعد اللغة العربية والترجمة والمقالة)]
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2022-এর উচ্চতর আরবি ৩য় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯ – আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের শতভাগ পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির উচ্চমান বজায় রেখে ইলমুন নাহু ও সরফের সুসংহত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, প্রামাণ্য ছক, কুরআনী নজির, সাহিত্যরসসমৃদ্ধ প্রাঞ্জল অনুবাদ এবং আন্তর্জাতিক ও ঐতিহ্যবাহী বিষয়ের ওপর উচ্চমানের আরবি প্রবন্ধ সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।

কন্টেন্ট তালিকা / প্রশ্নসূচি

  1. ১. ما معنى النحو لغة واصطلاحا؟ تحدث عن موضوع النحو وغرضه [ইলমুন নাহুর সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয় ও লক্ষ্য]
  2. ২. ما معنى الكلمة لغة واصطلاحا؟ بين أقسامها بالتفصيل [কালিমার শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং প্রকারভেদ]
  3. ৩. ما هي المرفوعات؟ بين أقسامها بالتفصيل [মারফু’আত: সংজ্ঞা ও ৮টি প্রকারের বিশ্লেষণ]
  4. ৪. عرف المنصرف وغير المنصرف، ثم تحدث عن اسباب منع الصرف بالأمثلة [মুনসারিফ ও গাইরে মুনসারিফের ৯টি কারণ]
  5. ৫. عرف الضمير، ثم اكتب أنواعه ممثلا ومفصلا [জমির বা সর্বনাম: সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ]
  6. ৬. ما هي الافعال الناقصة؟ وما عملها؟ بين بالأمثلة [আফ’আলে নাকাসার সংখ্যা, আমল ও উদাহরণ]
  7. ৭. ما هي الصفة المشبهة؟ تحدث عن أوزانها بالأمثلة [সিফাতে মুশাব্বাহাহর সংজ্ঞা ও বহুল প্রচলিত ওজন]
  8. ৮. عرف اسم التفضيل، ثم اذكر طرق استعماله وأوزانه بالأمثلة [ইসমে তাফদিল: সংজ্ঞা, ওজন ও ৪টি ব্যবহারপদ্ধতি]
  9. ৯. عرف اسم الإشارة، وكم نوعا له؟ بين أعداده بالتمثيل [ইসমে ইশারা: দূরত্বভেদে প্রকারভেদ ও সংখ্যা]
  10. ১০. كم أداة لنواصب الفعل المضارع؟ بين بالتمثيل [ফে’লে মুদারের নসবকারী হরফসমূহ ও উদাহরণ]
  11. ১১. ما المجرد والمزيد فيه؟ بين أوزان المجرد مع الأمثلة [মুজাররাদ ও মাযীদ ফীহ: ৬টি বাব]
  12. ১২. ما الفعل؟ تحدث عن أنواعه من حيث الصحة والعلة بالأمثلة [হাফতে আকসাম: ক্রিয়ার ৭টি প্রকার]
  13. ১৩. ما الفعل اللازم والفعل المتعدى؟ اكتب أنواعهما بالإيجاز [ফে’লে লাযিম ও মুতাআদ্দি]
  14. ১৪. بين خصائص باب الإفعال والتفعيل بالأمثلة [বাবু ইফ’আল ও তাফ’ঈলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ]
  15. ১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর: দাওয়াতুল ইসলামিয়ার ময়দান ও সম্মেলন / সততা বা আস-সিদক]
  16. ১৬. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর: কাবা ঘর নির্মাণ / মদিনা মুনাওয়ারা]
  17. ১৭. اكتب مقالة بالعربية على موضوع واحد من الاتية [বিশদ আরবি প্রবন্ধ: ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ / আরবি ভাষার গুরুত্ব / শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব / পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার]

প্রশ্নোত্তর ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. ما معنى النحو لغة واصطلاحا؟ تحدث عن موضوع النحو وغرضه [ইলমুন নাহুর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ, আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য]

ভূমিকা ও ইলমুন নাহুর গুরুত্ব

আরবি ভাষা হলো পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ভাষা। বিশুদ্ধভাবে আরবি ভাষা পড়া, লেখা এবং বোঝার জন্য যে শাস্ত্রটি সর্বাধিক মৌলিক ও অপরিহার্য, তা হলো ‘ইলমুন নাহু’ (علم النحو – আরবি বাক্যতত্ত্ব বা ব্যাকরণ)। ইসলামি বিশ্বে একটি বিখ্যাত প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে: «النَّحْوُ فِي الْكَلَامِ كَالْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ» অর্থাৎ—”খাবারের মধ্যে লবণের যে অপরিহার্য স্থান, ভাষার মধ্যে ব্যাকরণ বা নাহুর ঠিক সেই মর্যাদা।” নাহুর জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের অর্থ বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ

  • আভিধানিক অর্থ: ‘নাহু’ (نحو) শব্দটি আরবি ভাষার একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ শব্দ। আভিধানিক অর্থে এর একাধিক অর্থ রয়েছে—(১) আল-ক্বাসদ (القصد): সংকল্প বা ইচ্ছা করা; (২) আল-মিসল (المثل): সদৃশ বা দৃষ্টান্ত হওয়া; (৩) আল-জিহাহ (الجهة): দিক বা অভিমুখ; (৪) আল-মিকদার (المقدار): পরিমাণ ইত্যাদি।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: প্রখ্যাত বৈয়াকরণদের মতে, ইলমুন নাহুর পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো:

    «عِلْمٌ بِأُصُولٍ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالُ أَوَاخِرِ الْكَلِمِ الثَّلَاثِ (الِاسْمِ وَالْفِعْلِ وَالْحَرْفِ) إِعْرَابًا وَبِنَاءً، وَكَيْفِيَّةُ تَرْكِيبِ بَعْضِهَا مَعَ بَعْضٍ لِإِفَادَةِ مَعْنًى تَامٍّ»

    (অর্থাৎ—নাহু হলো এমন কিছু মৌলিক নীতিমালার সুসংহত জ্ঞান, যার সাহায্যে কালিমার তিনটি প্রকারের—ইসম, ফেল ও হরফ—শেষাক্ষরের অবস্থা অর্থাৎ তা মু’রাব না মাবনী তা জানা যায়; এবং পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশের জন্য একটি শব্দকে অপর শব্দের সাথে কীভাবে সংযুক্ত ও বিন্যস্ত করতে হয় তা নির্ণয় করা যায়)।

ইলমুন নাহুর বিষয়বস্তু (موضوع) ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য (غرض)

  • মাওজু বা আলোচ্য বিষয়: ইলমুন নাহুর মূল বিষয়বস্তু হলো ‘কালিমা’ (الكلمة – একক শব্দ) এবং ‘কালাম’ (الكلام – সুসংহত বাক্য), বিশেষত এদের পারস্পরিক গঠন এবং শেষাক্ষরের পরিবর্তন বা স্থিরতা।
  • গারাজ বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: আরবি বাক্য পাঠ, লিখন ও উচ্চারণে যে কোনো প্রকার মৌখিক ও বাক্যিক ভুল-ত্রুটি (لحن) থেকে নিজেকে রক্ষা করা; এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বাণীকে নির্ভুলভাবে উপলব্ধি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

ইলমুন নাহুর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ঐতিহাসিক পরিক্রমা

ঐতিহাসিক স্তর প্রধান ব্যক্তিত্ব ঐতিহাসিক ঘটনা ও অবদান
১. সূচনা ও নামকরণ হযরত আলী (রা.) ও আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (মৃ. ৬৯ হি.) অনারবদের মাঝে ইসলাম প্রসারের ফলে কুরআনের তিলাওয়াতে মারাত্মক বিকৃতি দেখে হযরত আলী (রা.) একটি কাগজে লেখেন: «الْكَلَامُ كُلُّهُ ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ: اسْمٌ، وَفِعْلٌ، وَحَرْفٌ… انْحُ هَذَا النَّحْوَ يَا أَبَا الْأَسْوَدِ» (অর্থাৎ—হে আবুল আসওয়াদ! এই পথ ও রীতির অনুসরণ করো)। আলী (রা.)-এর এই নির্দেশসূচক শব্দ ‘উনহু’ থেকেই শাস্ত্রটির নাম হয় ‘নাহু’।
২. বসরার বৈয়াকরণ ধারা (مدرسة البصرة) আল-খলীল ইবনে আহমদ ও ইমাম সিবাওয়াইহি (মৃ. ১৮০ হি.) সিবাওয়াইহি রচনা করেন বিশ্ববিখ্যাত ‘আল-কিতাব’ (الكتاب), যা আরবি ব্যাকরণের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংবিধান।
৩. কুফার বৈয়াকরণ ধারা (مدرسة الكوفة) ইমাম আল-কিসাঈ (মৃ. ১৮৯ হি.) ও আল-ফাররা বসরার কঠোর যুক্তিবাদী নিয়মের বিপরীতে তাঁরা আরব্য বেদুইনদের ব্যবহারিক ভাষাকে প্রামাণ্য ধরে দ্বিতীয় প্রভাবশালী ব্যাকরণ ধারা প্রতিষ্ঠা করেন।
৪. পরবর্তী সংকলন ও সংস্কার ইবনে জিন্নি, আল-জামাখশারী (মুফাচ্ছাল প্রণেতা) ও ইবনে মালিক (আলফিয়া প্রণেতা) সহজে ব্যাকরণ আয়ত্ত করার জন্য হাজার লাইনের কাব্য ‘আলফিয়া ইবনে মালিক’ ও ‘কাফিয়া’ রচিত হয়।

উপসংহার

ইলমুন নাহু কোনো স্থবির নিয়মাবলী নয়; এটি আরবি ভাষার আত্মা ও কুরআনের সুরক্ষাকবচ। ফাযিল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নাহুর ব্যুৎপত্তি অর্জন করা এক অপরিহার্য অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব।


২. ما معنى الكلمة لغة واصطلاحا؟ بين أقسامها بالتفصيل [কালিমার সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য]

ভূমিকা ও কালিমার পরিচয়

আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানবমুখ নিঃসৃত প্রতিটি অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা শব্দকে ‘কালিমা’ (الكلمة – একক শব্দ) বলা হয়। বাক্য গঠনের প্রথম ও মৌলিক একক হলো কালিমা। সমস্ত আরবি ভাষার সুবিশাল শব্দভাণ্ডারকে ব্যাকরণবিদগণ অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে তিনটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত করেছেন।

কালিমার সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

  • সংজ্ঞা: কালিমা হলো—«قَوْلٌ مُفْرَدٌ مَوْضُوعٌ لِمَعْنًى مُفْرَدٍ» অর্থাৎ—একটি একক অর্থ প্রকাশের জন্য মানবপ্রস্তুত একক অর্থপূর্ণ পদ।
  • প্রকারভেদ: কালিমা প্রধানত তিন প্রকার—(১) ইসম (الاسم – বিশেষ্য), (২) ফেল (الفعل – ক্রিয়া), এবং (৩) হরফ (الحرف – অব্যয়)।

কালিমার তিন প্রকারের নামকরণ ও তাদের বিশিষ্ট আলামতসমূহ

প্রকার নামকরণের কারণ (وجوه التسمية) প্রধান আলামত বা বৈশিষ্ট্য (العلامات) প্রামাণ্য উদাহরণ
১. ইসম (الاسم) ‘উসলু’ (উচ্চতা) অথবা ‘সিমা’ (চিহ্ন) ধাতু থেকে নির্গত; কেননা ইসম অন্য দুই প্রকারের ওপর মর্যাদা ও ব্যবহারে শীর্ষস্থান অধিকার করে। শুরুতে ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত হওয়া, তানভীন গ্রহণ করা, পূর্বে হরফে জার আসা, মুদাফ হওয়া, এবং মুসনাদ ইলাইহি হওয়া। كِتَابٌ (কিতাবুন), زَيْدٌ (যায়েদুন), الْقَلَمُ (আল-ক্বালামু)।
২. ফেল (الفعل) এর অর্থ কর্ম বা ক্রিয়া; কারণ এটি এমন অর্থ প্রকাশ করে যার সাথে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ তিনটি কালের যে কোনো একটি কাল সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকে। পূর্বে ‘ক্বাদ’ (قد), ‘সীন’ (س), ‘সাওফা’ (سوف) বসা, জযমকারী বা নসবকারী হরফ আসা, এবং সর্বনাম ‘তায়ে তা’নীস সাকিনাহ’ (تْ) গ্রহণ করা। كَتَبَ (সে লিখেছে), يَكْتُبُ (সে লিখছে/লিখবে), اِكْتُبْ (তুমি লেখো)।
৩. হরফ (الحرف) ‘তারফ’ বা প্রান্ত থেকে নির্গত; কারণ এটি বাক্যের মূল অঙ্গ নয়, বরং এক প্রান্ত বা মাধ্যম হিসেবে অন্য শব্দের সংযোগ ঘটায়। ইসম বা ফেলের কোনো আলামত বা চিহ্ন গ্রহণ না করা; এবং অন্য শব্দের সাথে যুক্ত না হলে নিজে নিজে কোনো স্বাধীন পূর্ণ অর্থ প্রকাশে অক্ষম হওয়া। مِنْ (হতে), فِي (মধ্যে), عَلَى (ওপর), إِلَى (দিকে)।

কালাম (الكلام)-এর সংজ্ঞা ও শর্তসমূহ

সাহিত্য ও ব্যাকরণশাস্ত্রে ‘কালাম’ হলো পূর্ণাঙ্গ বাক্য। ইমাম ইবনে মালিক বলেন: «كَلَامُنَا لَفْظٌ مُفِيدٌ كَاسْتَقِمْ»। কালাম হওয়ার জন্য চারটি মৌলিক শর্ত পূরণ হতে হবে:

  1. লাফজ (اللفظ): মানুষের মুখ নিঃসৃত ধ্বনি বা শব্দ হতে হবে।
  2. মুরাক্কাব (المركب): কমপক্ষে দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত যৌগিক রূপ হতে হবে (যেমন: মুবতাদা-খবর বা ফেল-ফায়েল)।
  3. মুফিদ (المفيد): এমন পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করতে হবে যাতে শ্রোতার মনে আর কোনো কিছু জানার ব্যাকুলতা বা অপেক্ষা অবশিষ্ট না থাকে।
  4. মওজু বিল ওয়াজ’য়ি (بالوضع): আরবি ভাষার ব্যাকরণিক রীতি ও শব্দবিন্যাস অনুসারে গঠিত হতে হবে।

উপসংহার

কালিমা ও কালামের এই সুষম বিভাজন প্রমাণ করে যে আরবি ভাষা কত নিখুঁত গাণিতিক ও কাঠামোগত শৃঙ্খলার ওপর প্রতিষ্ঠিত।


৩. ما هي المرفوعات؟ بين أقسامها بالتفصيل [মারফু’আত: সংজ্ঞা ও ৮টি প্রকারের প্রামাণ্য বিশ্লেষণ]

ভূমিকা ও মারফু’আতের পরিচয়

আরবি ব্যাকরণশাস্ত্রে যেসব বিশেষ্য পদের মূল এরাব বা বিভক্তি রফা (الرفع – পেশ বা এর স্থলাভিষিক্ত হরফ) হয়, সেগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘আল-মারফু’আত’ (المرفوعات) বলা হয়। বাক্য গঠনে মারফু’আত হলো সর্বাধিক মৌলিক ও প্রধান উপাদান; কারণ যেকোনো অর্থপূর্ণ বাক্যের কেন্দ্রবিন্দু (মুসনাদ ও মুসনাদ ইলাইহি) এই মারফু’আতের অন্তর্ভুক্ত থাকে।

মারফু’আতের সংজ্ঞা

বৈয়াকরণদের পরিভাষায়: «الْمَرْفُوعَاتُ هِيَ الْأَسْمَاءُ الَّتِي اشْتَمَلَتْ عَلَى عَلَامَةِ الرَّفْعِ لِكَوْنِهَا عُمْدَةً فِي الْكَلَامِ أَوْ تَبَعًا لِعُمْدَةٍ» অর্থাৎ—মারফু’আত হলো এমন সব বিশেষ্য পদ যাতে বাক্যের মূল স্তম্ভ (উমদাহ) হওয়ার কারণে অথবা মূল স্তম্ভের অনুগামী হওয়ার কারণে রফার আলামত প্রকাশ পায়।

মারফু’আতের ৮টি প্রকারের প্রামাণ্য বিশ্লেষণ ছক

প্রকার সংজ্ঞা ও ব্যাকরণিক পরিচয় কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ এরাবের বিশ্লেষণ
১. ফায়েল (الفاعل – কর্তা) যে মারফু বিশেষ্যের পূর্বে এমন কোনো ক্রিয়া থাকে যার মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। «قَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ» (সূরা মায়িদা: ১২)। ‘আল্লাহু’ শব্দটি ফায়েল হওয়ায় যম্মা দ্বারা মারফু।
২. নায়েবে ফায়েল (نائب الفاعل) মাজহুল (কর্মবাচ্য) ক্রিয়ার পর ফায়েল উহ্য রেখে মাফউলকে ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। «وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا» (সূরা নিসা: ২৮)। ‘আল-ইনসানু’ মূলত মাফউল ছিল, পরে নায়েবে ফায়েল হয়ে মারফু হয়েছে।
৩. মুবতাদা (المبتدأ – উদ্দেশ্য) জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর সূচনাকারী মারফু বিশেষ্য যা শাব্দিক আমেল থেকে মুক্ত। «اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ» (সূরা রাদ: ১৬)। ‘আল্লাহু’ মুবতাদা হওয়ায় মারফু।
৪. খবর (الخبر – বিধেয়) মুবতাদার সাথে মিলিত হয়ে যা বাক্যের বক্তব্য ও অর্থ পূর্ণাঙ্গ করে। «مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ» (সূরা ফাতহ: ২৯)। ‘রাসূলু’ মুবতাদার খবর হওয়ায় মারফু।
৫. কানা ও সহযোগী ক্রিয়ার ইসম আফ’আলে নাকাসাহ জুমলায়ে ইসমিয়্যাহয় প্রবেশ করার পর তার প্রথম পদ। «وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا» (সূরা নিসা: ৯৬)। ‘আল্লাহু’ কানার ইসম হিসেবে মারফু।
৬. ইন্না ও সহযোগী হরফের খবর হরূফে মুসাব্বাহা বিল ফেলের দ্বিতীয় পদ যা বাক্যের বিধেয়। «إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ» (সূরা নিসা: ২৬)। ‘আলিমুন’ ইন্নার খবর হিসেবে মারফু।
৭. ‘মা’ ও ‘লা’ মুশাব্বাহা বিলাহিসা-এর ইসম ‘লাইসা’-এর মতো অর্থ দানকারী না-বোধক ‘মা’ ও ‘লা’-এর প্রথম পদ। «مَا هَذَا بَشَرًا» (সূরা ইউসুফ: ৩১)। ‘হাযা’ মা-এর ইসম হিসেবে মারফু (মহল্লান মারফু)।
৮. লা নাফিয়ে জিনসের খবর সমগ্র শ্রেণি বা জাতিবাচক অস্বীকৃতির জন্য ব্যবহৃত ‘লা’-এর দ্বিতীয় পদ। «لَا رَجُلَ قَائِمٌ فِي الدَّارِ»। ‘ক্বাঈমুন’ লা-এর খবর হিসেবে মারফু।

মারফু’আতের অনুগামী পদসমূহ (توابع المرفوع)

উপরে বর্ণিত ৮টি মূল পদের পাশাপাশি তাদের অনুসারী পদগুলোও সর্বদা মারফু হয়। এই তাবে’ মোট ৪ প্রকার:

  1. না’ত বা সিফাত (النعت): যেমন—«جَاءَ رَجُلٌ عَالِمٌ» (একজন জ্ঞানী লোক এল)।
  2. আতফ (العطف): হরফে আতফের মাধ্যমে পূর্ববর্তী শব্দের সাথে যুক্ত হওয়া; যেমন—«جَاءَ زَيْدٌ وَعَمْرٌو»।
  3. তাওকীদ (التوكيد): গুরুত্ব বোঝাতে আসা; যেমন—«فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ»।
  4. বদল (البدل): মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তন বা বিকল্প; যেমন—«قَالَ الْخَلِيفَةُ عُمَرُ»।

উপসংহার

মারফু’আত হলো আরবি ভাষার ব্যাকরণিক সৌধের মূল স্তম্ভ। ফাযিল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মারফু’আতের সঠিক নির্ণয় ও প্রয়োগ বিশুদ্ধ বাক্য গঠনের প্রথম ধাপ।


৪. عرف المنصرف وغير المنصرف، ثم تحدث عن اسباب منع الصرف بالأمثلة [মুনসারিফ ও গাইরে মুনসারিফের ৯টি কারণ]

ভূমিকা ও পরিচিতি

আরবি ভাষায় বাক্যের বিভিন্ন স্থানে আমেল (عامل – প্রভাবক)-এর পরিবর্তনের কারণে শব্দের শেষাক্ষরের যে ব্যাকরণিক রূপান্তর ঘটে, তাকে কেন্দ্র করে শব্দকে ‘মু’রাব’ (المعرب) এবং ‘মাবনী’ (المبني)—এই দুই প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে মু’রাব বিশেষ্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত শাখা হলো ‘গাইরে মুনসারিফ’ (غير المنصرف – অর্ধ-পরিবর্তনশীল শব্দ)।

ইসম মু’রাব ও মাবনীর সংজ্ঞা ও পার্থক্য

  • ইসম মু’রাব: যে বিশেষ্যের শেষাক্ষরের এরাব (যম্মা, ফাতহা, কাসরা ইত্যাদি) বিভিন্ন আমেল প্রবেশের কারণে পরিবর্তিত হয় (যেমন: جَاءَ زَيْدٌ، رَأَيْتُ زَيْدًا، مَرَرْتُ بِزَيْدٍ)। এর হুকুম হলো এটি বিভিন্ন অবস্থায় রফা, নসব ও জার গ্রহণ করে।
  • মাবনী: যে শব্দের শেষাক্ষর আমেলের পরিবর্তনের পরও সর্বদা একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকে (যেমন: ইসমুল ইশারা ‘هَذَا’, জমির ‘هُوَ’ ইত্যাদি)।

গাইরে মুনসারিফ (غير المنصرف)-এর বিশদ আলোচনা

  • সংজ্ঞা: যে মু’রাব বিশেষ্য তার শেষাক্ষরে কখনো ‘তানভীন’ (দু যম্মা, দু ফাতহা, দু কাসরা) গ্রহণ করে না এবং যার মাজরুর (জের) অবস্থায় ‘কাসরা’র পরিবর্তে ‘ফাতহা’ (যবর) হয়, তাকে গাইরে মুনসারিফ বা ‘মামনু’ মিনাস সারফ’ (الممنوع من الصرف) বলা হয়।
  • মান’উস সারফ-এর ৯টি কারণ (أسباب منع الصرف التسعة): কোনো শব্দে এই ৯টি কারণের মধ্যে যেকোনো দুটি কারণ পাওয়া গেলে, অথবা এমন একটি কারণ যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত (কায়েম মাকাম) হয়, তবে শব্দটি গাইরে মুনসারিফ হয়।

আসবাবে মান’উস সরফ-এর ৯টি কারণের প্রামাণ্য ছক

কারণের নাম অর্থ ও শর্তাবলী প্রামাণ্য উদাহরণ
১. আদল (العدل) শব্দটি তার মূল রূপান্তর থেকে পরিবর্তিত হয়ে অন্য ওজনে রূপ নেওয়া। عُمَرُ (উমারু – মূল: عامر), زُفَرُ (যুফারু)।
২. ওয়াসফ (الوصف) শব্দটি জন্মগতভাবে গুণবাচক বিশেষণ হওয়া। أَحْمَرُ (লাল), سَكْرَانُ (মাতাল)।
৩. তা’নীস (التأنيث) স্ত্রীবাচক হওয়া (শব্দগত, অর্থগত বা আলিফে তা’নীস দ্বারা)। فَاطِمَةُ (ফাতিমাতু), زَيْنَبُ (যায়নাবু), حُبْلَى (হুবলা)।
৪. মা’রেফাহ বা আলাম (المعرفة) কোনো ব্যক্তি, শহর বা স্থানের নির্দিষ্ট নাম (Proper Noun) হওয়া। إِبْرَاهِيمُ (ইবরাহিমু), مَكَّةُ (মাক্কাতু)।
৫. উজমা (العجمة) অনারব ভাষা থেকে আরবিতে গৃহীত নাম (তিন অক্ষরের অধিক বিশিষ্ট)। يُوسُفُ (ইউসুফু), فِرْعَوْنُ (ফিরআওনু)।
৬. জামা’ (الجمع) সিগায়ে মুনতাহাল জুমূ’ (مُنْتَهَى الْجُمُوعِ)-এর ওজনে গঠিত হওয়া (একাই দুটি কারণের সমান)। مَسَاجِدُ (মাসাজিদু – مفاعل), مَصَابِيحُ (মাসাবিহু – مفاعيل)।
৭. তারকীব (التركيب) দুটি শব্দ মিলে কোনো হরফ ছাড়া একটি যৌগিক নাম গঠিত হওয়া। بَعْلَبَكُّ (বা’লাবাক্কু), حَضْرَمَوْتُ (হাদরামাউতু)।
৮. যিয়াদাতুল আলিফ ওয়ান নূন শব্দের শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন যুক্ত হওয়া। عُثْمَانُ (উসমানু), رَمَضَانُ (রমাদান)।
৯. ওজনে ফেল (وزن الفعل) শব্দটি এমন ওজনে হওয়া যা ক্রিয়াপদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত। أَحْمَدُ (আহমাদু – افعل), يَزِيدُ (ইয়াযীদু – يفعل)।

উপসংহার

গাইরে মুনসারিফ শব্দ পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত ও বিশুদ্ধ আরবি রচনার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এই নিয়ম সঠিকভাবে আয়ত্ত করলে আরবি ব্যাকরণের সিংহভাগ জটিলতা দূর হয়ে যায়।


৫. عرف الضمير، ثم اكتب أنواعه ممثلا ومفصلا [জমির বা সর্বনাম: সংজ্ঞা ও ৫টি ধারার রূপান্তর]

ভূমিকা ও জমির বা সর্বনামের গুরুত্ব

আরবি ভাষায় বাক্যের লালিত্য রক্ষা, পুনরুক্তি পরিহার এবং ভাবকে সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী করার জন্য ‘জমির’ (الضمير – সর্বনাম) একটি অনন্য ব্যাকরণিক উপাদান। বিশেষ্যের পৌনঃপুনিক উচ্চারণ বাক্যকে শ্রুতিকটু করে তোলে, যার সমাধান দেয় এই জমির।

জমিরের সংজ্ঞা

ব্যাকরণশাস্ত্রের পরিভাষায় জমির হলো: «مَا وُضِعَ لِمُتَكَلِّمٍ أَوْ مُخَاطَبٍ أَوْ غَائِبٍ تَقَدَّمَ ذِكْرُهُ لَفْظًا أَوْ مَعْنًى أَوْ حُكْمًا» অর্থাৎ—যা উত্তম পুরুষ (মুসতাকাল্লিম – আমি/আমরা), মধ্যম পুরুষ (মুখাতাব – তুমি/তোমরা) অথবা পূর্বোল্লিখিত নাম পুরুষ (গায়েব – সে/তারা)-এর জন্য প্রস্তুতকৃত বিশেষ পদ।

জমিরের প্রধান দুটি রূপ: বারিজ ও মুসতাতীর

  • ১. জমিরে বারিজ (الضمير البارز – প্রকাশ্য সর্বনাম): যা উচ্চারণে ও বাক্যের লিখিত রূপান্তরে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। যেমন—«أَنَا كَتَبْتُ»-এর মধ্যে ‘আনা’ ও ‘তু’।
  • ২. জমিরে মুসতাতীর (الضمير المستتر – অপ্রকাশ্য সর্বনাম): যা বাক্যে দৃশ্যমান নয় বরং ক্রিয়াপদের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে। যেমন—«زَيْدٌ كَتَبَ» (যায়েদ লিখেছে)-এর মধ্যে ‘হুওয়া’ (هُوَ) সর্বনামটি মুসতাতীর বা উহ্য রয়েছে।

জমিরে বারিজের বিশদ শ্রেণিবিভাগ

ব্যবহারিক দিক থেকে জমিরে বারিজ প্রধানত দুই প্রকার: মুত্তাসিল (সংযুক্ত) এবং মুনফাসিল (বিযুক্ত)। এরাবভেদে এগুলো মোট পাঁচটি ধারায় বিন্যস্ত:

জমিরের শ্রেণি সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য শব্দ রূপান্তর (আলফায) প্রামাণ্য উদাহরণ
১. মারফু মুত্তাসিল (مرفوع متصل) ক্রিয়াপদের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে এবং বাক্যে ফায়েল বা নায়েবে ফায়েল হয়। تَ، تِ، تُ، تُمَا، تُمْ، تُنَّ، نَا، نَ، وَا، ا (১৪টি সিগা) «ضَرَبْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে প্রহার করলাম)।
২. মারফু মুনফাসিল (مرفوع منفصل) স্বাধীনভাবে পৃথক বসে এবং সাধারণত মুবতাদা বা খবর হয়। هُوَ، هُمَا، هُمْ، هِيَ، هُمَا، هُنَّ، أَنْتَ، أَنْتُمَا، أَنْتُمْ، أَنْتِ، أَنْتُمَا، أَنْتُنَّ، أَنَا، نَحْنُ (১২টি) «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ», «نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ»।
৩. মানসুব মুত্তাসিল (منصوب متصل) ক্রিয়া বা হরফে মুসাব্বাহা বিল ফেলের সাথে যুক্ত হয়ে মাফউল বা ইন্নার ইসম হয়। هُ، هُمَا، هُمْ، هَا، كَ، كُمَا، كُمْ، كِ، ي، نَا «إِنَّهُ عَلِيمٌ», «أَكْرَمَنِي زَيْدٌ»।
৪. মানসুব মুনফাসিল (منصوب منفصل) স্বাধীনভাবে পৃথক বসে এবং কেবল মাফউলে বিহী হয়। إِيَّاهُ، إِيَّاهُمَا، إِيَّاهُمْ، إِيَّاكُمَا، إِيَّاكَ، إِيَّايَ، إِيَّانَا (১২টি) «إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ» (সূরা ফাতিহা: ৫)।
৫. মাজরুর মুত্তাসিল (مجرور متصل) হরফে জার বা মুদাফের সাথে যুক্ত হয়ে মাজরুর বা মুদাফ ইলাইহি হয়। কুরআনে হরফে জারের সাথে: لَهُ، بِهِ، فِيهِ; এবং মুদাফের সাথে: كِتَابُهُ، بَيْتُكُمْ «رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً»।

উপসংহার

জমিরের সঠিক প্রয়োগ ও তার মারজা’ (প্রত্যাবর্তনস্থল) নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারা কুরআনের তাফসির ও আরবি সাহিত্যের মর্মে প্রবেশের চাবিকাঠি।


৬. ما هي الافعال الناقصة؟ وما عملها؟ بين بالأمثلة [আফ’আলে নাকাসার সংখ্যা, আমল ও উদাহরণ]

ভূমিকা ও আফ’আলে নাকাসার পরিচয়

আরবি ব্যাকরণে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর শুরুতে প্রবেশ করে বাক্যের মূল কাঠামোকে রূপান্তরিতকারী বিশেষ একদল ক্রিয়াকে ‘আল-আফ’আলুন নাকাসাহ’ (الأفعال الناقصة – অসম্পূর্ণ ক্রিয়াসমূহ) বা ‘কা-না ও তার সহযোগী ক্রিয়াসমূহ’ (كان وأخواتها) বলা হয়। এগুলো শাব্দিক ও অর্থগত উভয় দিক থেকেই জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।

আফ’আলে নাকাসার সংখ্যা ও তালিকা

সর্বসম্মত বৈয়াকরণদের মতে, আফ’আলে নাকাসাহ মোট ১৩টি। এগুলো প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত:

  1. বিনা শর্তে আমলকারী ক্রিয়া (৮টি):
    • كَانَ (কানা): অতীতকালে সাব্যস্ত হওয়া (যেমন: كَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا)।
    • أَصْبَحَ (আসবাহা): সকালের সময়ে উপনীত হওয়া।
    • أَضْحَى (আদহা): দ্বিপ্রহরের সময়ে উপনীত হওয়া।
    • ظَلَّ (জাল্লা): দিনের বেলা কোনো অবস্থায় অব্যাহত থাকা।
    • أَمْسَى (আমসা): সন্ধ্যার সময়ে উপনীত হওয়া।
    • بَاتَ (বাতা): রাতের বেলা কোনো অবস্থায় থাকা।
    • صَارَ (সারা): এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়া (যেমন: صَارَ الطِّينُ خَزَفًا)।
    • لَيْسَ (লাইসা): বর্তমান কালকে অস্বীকার বা নাবোধক করা (যেমন: لَيْسَ زَيْدٌ قَائِمًا)।
  2. পূর্বে নাফি বা নিষেধের শর্তে আমলকারী (৪টি):
    • مَا زَالَ (মা যা-লা), مَا بَرِحَ (মা বারিহা), مَا فَتِئَ (মা ফাতিআ), مَا انْفَكَّ (মা-নফাক্কা): এই চারটি ক্রিয়ার অর্থই হলো কোনো অবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকা (যেমন: مَا زَالَ زَيْدٌ عَالِمًا – যায়েদ অবিরত আলেম রয়েছে)।
  3. পূর্বে ‘মায়ে মাসদারিয়্যাহ জারফিয়্যাহ’ শর্তে আমলকারী (১টি):
    • مَا دَامَ (মা দা-মা): যতক্ষণ কোনো অবস্থা স্থায়ী থাকে (যেমন: وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا)।

আফ’আলে নাকাসার ব্যাকরণিক আমল (কাজের ধরন)

এই ক্রিয়াসমূহ জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর পূর্বে বসে মুবতাদাকে নিজের ‘ইসম’ (اسمها) বানিয়ে রফা (যম্মা) প্রদান করে এবং খবরকে নিজের ‘খবর’ (خبرها) বানিয়ে নসব (যবর) প্রদান করে। যেমন: «كَانَ زَيْدٌ قَائِمًا» (যায়েদ দণ্ডায়মান ছিল)। এখানে যায়েদ হলো কানার ইসম (মারফু) এবং ক্বাঈমান হলো কানার খবর (মানসুব)।

এদের ‘নাকিস’ বা অসম্পূর্ণ ক্রিয়া বলার ভাষাতাত্ত্বিক কারণ (لم سميت ناقصة؟)

সাধারণ বা পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়াকে ‘ফে’লে তাম’ (فعل تام) বলা হয়, যা কেবল ফায়েল (কর্তা) পেলেই একটি বাক্য সম্পূর্ণ করে ফেলে (যেমন: «قَامَ زَيْدٌ» – যায়েদ দাঁড়াল; এখানে কথা সম্পূর্ণ)। কিন্তু এই ক্রিয়াগুলোকে ‘নাকিস’ বা অসম্পূর্ণ বলার প্রধান দুটি কারণ রয়েছে:

  • ১. কর্তার দ্বারা বাক্য অসম্পূর্ণ থাকা: এই ক্রিয়াসমূহ কেবল নিজের ইসম (ফায়েলের মতো পদ) গ্রহণ করে বাক্য সম্পূর্ণ করতে পারে না; যতক্ষণ না খবর উল্লেখ করা হয় ততক্ষণ কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ পায় না। যদি কেউ বলে—«كَانَ زَيْدٌ…» (যায়েদ ছিল…), তবে শ্রোতা অপূর্ণ থেকে যায়—যায়েদ কী ছিল? তাই পূর্ণতার জন্য খবরের মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে একে নাকিস বলা হয়।
  • ২. ‘হাদাস’ বা মূল কাজের অর্থ শূন্য হওয়া: সাধারণ ক্রিয়ার মধ্যে দুটি উপাদান থাকে—’হাদাস’ (কাজ) এবং ‘জামান’ (কাল)। কিন্তু ‘কানা’ এবং এর সহযোগী ক্রিয়াগুলোর মধ্যে কেবল ‘কাল’ (সময়) থাকে, কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ থাকে না।

উপসংহার

আফ’আলে নাকাসাহ আরবি ভাষায় সময়, কাল ও রূপান্তরের ধারণাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রকাশ করার এক শক্তিশালী ব্যাকরণিক হাতিয়ার।


৭. ما هي الصفة المشبهة؟ تحدث عن أوزانها بالأمثلة [সিফাতে মুশাব্বাহাহর সংজ্ঞা ও বহুল প্রচলিত ওজনসমূহ]

ভূমিকা ও সিফাতে মুশাব্বাহার পরিচিতি

আরবি ব্যাকরণে কোনো সত্তার স্থায়ী, সহজাত বা দীর্ঘস্থায়ী স্বভাবজাত গুণ নির্দেশ করার জন্য যে বিশেষ্য পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে ‘আস-সিফাতুল মুশাব্বাহাহ’ (الصفة المشبهة باسم الفاعل – ইসমে ফায়েলের সদৃশ গুণবাচক পদ) বলা হয়। এটি সাময়িক কোনো কাজ নয় বরং ব্যক্তির স্থায়ী প্রকৃতি প্রকাশ করে।

সিফাতে মুশাব্বাহার সংজ্ঞা

আল্লামা ইবনে মালিক বলেন: «صِفَةٌ اسْتُحْسِنَ جَرُّ فَاعِلِهَا مَعْنًى بِهَا»। বৈয়াকরণদের সাধারণ পরিভাষায়: «هُوَ اسْمٌ مُشْتَقٌّ مِنْ فِعْلٍ ثُلَاثِيٍّ لَازِمٍ لِلدَّلَالَةِ عَلَى ثُبُوتِ الصِّفَةِ لِمَوْصُوفِهَا ثُبُوتًا مُسْتَمِرًّا لَا عَلَى التَّجَدُّدِ وَالْحُدُوثِ» অর্থাৎ—যা সুলাসী লাযিম ধাতু থেকে নির্গত হয়ে মাওসূফের জন্য গুণের চিরন্তন ও স্থায়ী স্থায়িত্ব প্রমাণ করে, সাময়িক নবায়ন বা ঘটনা নয়।

ইসমে ফায়েল ও সিফাতে মুশাব্বাহার মধ্যকার ৩টি মৌলিক পার্থক্য

  • ১. স্থায়িত্ব বনাম সাময়িকতা: ইসমে ফায়েল কোনো কাজের অস্থায়ী বা সাময়িক সম্পাদন বোঝায় (যেমন: ضَارِبٌ – প্রহারকারী, যা যে কোনো সময় শেষ হয়ে যায়); কিন্তু সিফাতে মুশাব্বাহাহ স্থায়ী গুণ বোঝায় (যেমন: حَسَنٌ – সুন্দর, شُجَاعٌ – সাহসী; যা সহজে বিদূরিত হয় না)।
  • ২. ক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা: ইসমে ফায়েল মুতাআদ্দি ও লাযিম উভয় প্রকার ধাতু থেকে গঠিত হয়; কিন্তু সিফাতে মুশাব্বাহাহ কেবল ‘ফে’লে লাযিম’ (অকর্মক ক্রিয়া) থেকেই গঠিত হয়।
  • ৩. কালের সংযোগ: ইসমে ফায়েল বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালের অর্থের সাথে শর্তযুক্ত থাকে; কিন্তু সিফাতে মুশাব্বাহাহ কালমুক্তভাবে গুণটির নিরবচ্ছিন্ন স্থায়িত্ব নির্দেশ করে।

সিফাতে মুশাব্বাহার বহুল প্রচলিত ওজনসমূহ (الأوزان المشهورة)

ওজন (وزن) অর্থ ও ক্ষেত্র প্রামাণ্য উদাহরণ
১. أَفْعَلُ (স্ত্রী: فَعْلَاءُ) রং, রূপ অথবা শারীরিক স্থায়ী খুঁত বা সৌন্দর্য প্রকাশে। أَحْمَرُ (লাল – স্ত্রী: حَمْرَاءُ), أَعْمَى (অন্ধ – স্ত্রী: عَمْيَاءُ), أَكْحَلُ।
২. فَعْلَانُ (স্ত্রী: فَعْلَى) তৃষ্ণা, ক্ষুধা, শূন্যতা বা আবেগময় পরিপূর্ণতা বোঝাতে। عَطْشَانُ (পিপাসার্ত – স্ত্রী: عَطْشَى), غَضْبَانُ (ক্রুদ্ধ), سَكْرَانُ।
৩. فَعِيلٌ স্থায়ী নৈতিক চরিত্র ও গভীর মানবিক মহত্ত্ব প্রকাশে। كَرِيمٌ (মহৎ), شَرِيفٌ (সম্ভ্রান্ত), عَلِيمٌ (মহাজ্ঞানী)।
৪. فَعَلٌ সহজাত প্রকৃতি ও দেহাবয়ব বোঝাতে। حَسَنٌ (সুন্দর), بَطَلٌ (বীরযোদ্ধা)।
৫. فُعَالٌ ও فِعَالٌ বীরত্ব ও স্বভাবের তেজস্বিতা প্রকাশে। شُجَاعٌ (সাহসী), جُبَانٌ (কাপুরুষ)।

সিফাতে মুশাব্বাহার ব্যাকরণিক আমল

সিফাতে মুশাব্বাহাহ তার পরবর্তী শব্দে ৩ ধরনের এরাব দিতে পারে: (১) রফা—ফায়েল হিসেবে (যেমন: «زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهُهُ»); (২) নসব—মুশাব্বাহ বিল মাফউল বা তাময়ীয হিসেবে (যেমন: «زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهًا»); (৩) জার—ইজাফাতের কারণে (যেমন: «زَيْدٌ حَسَنُ الْوَجْهِ»)।

উপসংহার

সিফাতে মুশাব্বাহাহ আরবি ভাষার বর্ণনামূলক প্রকাশভঙ্গিকে অভূতপূর্ব মাধুর্য ও স্থায়ী সৌন্দর্য দান করেছে।


৮. عرف اسم التفضيل، ثم اذكر طرق استعماله وأوزانه بالأمثلة [ইসমে তাফদিল: সংজ্ঞা, ওজন ও ব্যবহারের ৪টি শাস্ত্রীয় পদ্ধতি]

ভূমিকা ও ইসমে তাফদিলের পরিচয়

দুটি ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে কোনো সাধারণ গুণের আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করার জন্য আরবি ব্যাকরণে যে বিশেষ্য পদটি গঠিত হয়, তাকে ‘ইসমুত তাফদীল’ (اسم التفضيل – তুলনামূলক বা অতিশয়ার্থবোধক বিশেষণ) বলা হয়। ইংরেজি ব্যাকরণের Comparative এবং Superlative Degree-এর সমার্থক হলো এই রূপ।

ইসমে তাফদিলের সংজ্ঞা ও ওজনসমূহ

  • সংজ্ঞা: «هُوَ اسْمٌ مُشْتَقٌّ مِنَ الْمَصْدَرِ لِلدَّلَالَةِ عَلَى أَنَّ شَيْئَيْنِ اشْتَرَكَا فِي صِفَةٍ وَزَادَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْآخَرِ فِيهَا» অর্থাৎ—যা এমন এক ধাতুগত নির্গত নামপদ, যা নির্দেশ করে যে দুটি সত্তা একটি গুণে অংশীদার এবং তাদের একজন অপরজনের চেয়ে সেই গুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বা অগ্রগামী।
  • ওজনসমূহ (الأوزان):
    • পুংলিঙ্গ একবচনের জন্য মূল ওজন হলো ‘আফ’আলু’ (أَفْعَلُ); যেমন: أَكْبَرُ (সর্বশ্রেষ্ঠ), أَحْسَنُ (উত্তম), أَفْضَلُ (শ্রেষ্ঠ)। এর দ্বিবচন: أَفْعَلَانِ, বহুবচন: أَفْعَلُونَ বা أَفَاعِلُ (যেমন: أَكَابِرُ)।
    • স্ত্রীলিঙ্গ একবচনের জন্য মূল ওজন হলো ‘ফু’লা’ (فُعْلَى); যেমন: كُبْرَى (মহীয়সী), حُسْنَى (পরম সুন্দরী), فُضْلَى। এর বহুবচন: فُعْلَيَاتٌ বা فُعَلُ (যেমন: كُبَرُ)।

ইসমে তাফদিল গঠনের শর্তাবলী (شروط صياغته)

সরাসরি ‘আফ’আলু’ ওজনে ইসমে তাফদিল গঠনের জন্য মূল ধাতুতে ৭টি শর্ত উপস্থিত থাকতে হয়: (১) সুলাসী (তিন অক্ষরবিশিষ্ট হতে হবে); (২) মুতাসাররিফ (রূপান্তরযোগ্য); (৩) তাম (পূর্ণাঙ্গ, আফ’আলে নাকাসাহ নয়); (৪) মুসবাত (হ্যাঁ-বোধক); (৫) ক্বাবিলুত তাফাউত (তারতম্যযোগ্য গুণ); (৬) যার সিফাত ‘আফ’আলু-ফা’লাউ’ ওজনে হয় না (অর্থাৎ বর্ণ বা শারীরিক ত্রুটি নির্দেশ করে না); (৭) মা’লুম (সক্রিয় বা কর্তৃবাচ্যের ধাতু)।

ইসমে তাফদিল ব্যবহারের ৪টি শাস্ত্রীয় পদ্ধতি (طرق استعماله)

পদ্ধতি ব্যবহারের নিয়ম ও ব্যাকরণিক বিধান প্রামাণ্য উদাহরণ
১. ‘মিন’ (مِنْ) সহযোগে ব্যবহৃত হলে তুলনার ক্ষেত্রে ‘মিন’ আসে। এই অবস্থায় ইসমে তাফদিল সর্বদা একবচন ও পুংলিঙ্গ হিসেবে অপরিবর্তিত থাকে (মুফরাদ ও মুদাক্কার)। «زَيْدٌ أَفْضَلُ مِنْ عَمْرٍو», «هِنْدٌ أَفْضَلُ مِنْ زَيْنَبَ», «الزَّيْدَانِ أَفْضَلُ مِنْ غَيْرِهِمَا»।
২. ‘আলিফ-লাম’ (ال) যুক্ত হলে সুপারলেটিভ অর্থ দেয়। এই অবস্থায় ইসমে তাফদিল তার পূর্ববর্তী বিশেষ্যের (মাওসূফ) সাথে বচন ও লিঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ (মুতাবিক্বা) হওয়া ওয়াজিব। «زَيْدٌ الْأَفْضَلُ», «هِنْدٌ الْفُضْلَى», «الزَّيْدَانِ الْأَفْضَلَانِ», «الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى»।
৩. অনির্দিষ্ট (নাকারাহ) বিশেষ্যের দিকে মুদাফ হলে ইসমে তাফদিল সর্বদা একবচন ও পুংলিঙ্গ থাকে, পরিবর্তন ঘটে না। «مُحَمَّدٌ أَفْضَلُ رَجُلٍ», «عَائِشَةُ أَفْضَلُ امْرَأَةٍ», «الزَّيْدُونَ أَفْضَلُ رِجَالٍ»।
৪. নির্দিষ্ট (মা’রেফাহ) বিশেষ্যের দিকে মুদাফ হলে এখানে দুটি রূপই বৈধ: একবচন পুংলিঙ্গ রাখা যাবে অথবা পূর্ববর্তী পদের সাথে বচন ও লিঙ্গে মিল রেখে রূপান্তর করাও বৈধ। «يُوسُفُ أَحْسَنُ إِخْوَتِهِ» অথবা «هُمْ أَفْضَلُ النَّاسِ» / «أَفَاضِلُ النَّاسِ» (উভয়টি শুদ্ধ)।

উপসংহার

ইসমে তাফদিলের এই নিয়মাবলী আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র ও কুরআন অনুধাবনে অত্যন্ত কার্যকর। যেমন আল্লাহর বাণী: «وَاللَّهُ أَكْبَرُ» বা «وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى»।


৯. عرف اسم الإشارة، وكم نوعا له؟ بين أعداده بالتمثيل [ইসমে ইশারা: সংজ্ঞা, দূরত্বভেদে প্রকারভেদ ও সংখ্যা]

ভূমিকা ও ইসমে ইশারার পরিচিতি

আরবি ব্যাকরণে কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু বা ধারণাকে সরাসরি আঙুল বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে প্রদর্শন করার জন্য যে বিশেষ্য ব্যবহৃত হয়, তাকে ‘ইসমুল ইশারা’ (اسم الإشارة – নির্দেশক সর্বনাম) বলা হয়। এটি মা’রেফাহ বা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শ্রেণি।

ইসমে ইশারার সংজ্ঞা

ইমাম ইবনে হিশামের মতে: «هُوَ مَا وُضِعَ لِمُشَارٍ إِلَيْهِ حِسِّيًّا أَوْ مَعْنَوِيًّا بِوَاسِطَةِ إِشَارَةٍ حِسِّيَّةٍ» অর্থাৎ—যা কোনো প্রত্যক্ষ বাহ্যিক বা ভাবগত নির্দেশিত বস্তুর (মুশারুন ইলাইহি) প্রতি প্রত্যক্ষ ইঙ্গিতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

দূরত্বভেদে ইসমে ইশারার প্রকারভেদ (দূর, নিকট ও মধ্যবর্তী)

দূরত্বের তারতম্য অনুসারে ইসমে ইশারা মূলত তিনটি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত:

  1. আল-ক্বরীব (القريب – নিকটবর্তী): যার শুরুতে সতর্কীকরণ হরফ ‘হা’ (هَا التنبيه) যুক্ত হতে পারে। যেমন: هَذَا (ইহা), هَذِهِ (ইহা – স্ত্রীবাচক)।
  2. আল-মুতাওয়াস্সিত (المتوسط – মধ্যবর্তী দূরত্ব): যার শেষে কেবল সম্বোধনের ‘কাফ’ (ك) যুক্ত হয়। যেমন: ذَاكَ (ঐটি)।
  3. আল-বা’ঈদ (البعيد – দূরবর্তী): যার শেষে দূরত্বের ‘লাম’ (ل) এবং সম্বোধনের ‘কাফ’ (ك) উভয়টি যুক্ত হয়। যেমন: ذَلِكَ (ঐটি), تِلْكَ (ঐটি – স্ত্রীবাচক)।

লিঙ্গ ও বচনভেদে ইসমে ইশারার পরিপূর্ণ তালিকা ও সংখ্যা

স্তর ও লিঙ্গ একবচন (المفرد) দ্বিবচন (المثنى) বহুবচন (الجمع)
১. নিকটবর্তী পুংলিঙ্গ (مذكر قريب) هَذَا (ইনি/ইহা) هَذَانِ (মারফু) / هَذَيْنِ (মানসুব/মাজরুর) هَؤُلَاءِ (এঁরা/এগুলো – উভয় লিঙ্গে সমান)
২. নিকটবর্তী স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث قريب) هَذِهِ / هَاتِهِ / ذِي هَاتَانِ (মারফু) / هَاتَيْنِ (মানসুব/মাজরুর) هَؤُلَاءِ
৩. দূরবর্তী পুংলিঙ্গ (مذكر بعيد) ذَلِكَ (ঐটি/তিনি) ذَانِكَ / ذَيْنِكَ أُولَئِكَ (তাঁরা/ঐগুলো – উভয় লিঙ্গে সমান)
৪. দূরবর্তী স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث بعيد) تِلْكَ (ঐটি/তিনি) تَانِكَ / تَيْنِكَ أُولَئِكَ
৫. স্থানের জন্য নির্দেশক (للمكان) নিকটবর্তী: هُنَا (এখানে) / هَاهُنَا মধ্যবর্তী: هُنَاكَ (সেখানে) দূরবর্তী: هُنَالِكَ বা ثَمَّ (সুদূর ঐ স্থানে)

ইসমে ইশারার এরাবের হুকুম

ইসমে ইশারার সমস্ত রূপ মাবনী (المبني – অপরিবর্তনশীল)। তবে ব্যতিক্রম হলো দ্বিবচনের রূপ দুটি (هذان/هذين এবং هاتان/هاتين)—এগুলো মু’রাবের মতো আলিফ দ্বারা মারফু এবং ইয়া দ্বারা মানসুব ও মাজরুর হয়।

উপসংহার

ইসমে ইশারা আরবি ভাষায় সংক্ষেপণ ও নিখুঁত নির্দেশের অনন্য মাধ্যম। পবিত্র কুরআনের শুরুর বাণী—«ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ» এর শ্রেষ্ঠ আলঙ্কারিক নিদর্শন।


১০. كم أداة لنواصب الفعل المضارع؟ بين بالتمثيل [ফে’লে মুদারের নসবকারী হরফসমূহ ও উদাহরণ]

ভূমিকা ও নওয়াসিবের পরিচিতি

আরবি ব্যাকরণে ফে’লে মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) স্বভাবগতভাবে মারফু বা পেশযুক্ত হয়ে থাকে (যেমন: يَكْتُبُ)। কিন্তু যখন ক্রিয়ার পূর্বে কিছু বিশেষ অব্যয় বা হরফ প্রবেশ করে, তখন তা মুদারের শেষাক্ষরে নসব (যবর) প্রদান করে। এদেরকে সম্মিলিতভাবে ‘নওয়াসিবুল ফে’লিল মুদারে’ (نواصب الفعل المضارع – মুদারে ক্রিয়ায় নসবকারী অব্যয়সমূহ) বলা হয়।

নওয়াসিবের সংখ্যা ও প্রকারভেদ

সর্বসম্মত বৈয়াকরণদের মতে, ফে’লে মুদারেয় নসব দানকারী প্রধান হরফ সর্বমোট ৪টি (যা সরাসরি নসব দেয়), এবং কিছু হরফের পর ‘আন’ (أَنْ) উহ্য বা মুক্বাদ্দার থাকার কারণে নসব হয়। নিম্নে এদের বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

১. সরাসরি নসব দানকারী ৪টি হরফের বিশ্লেষণ

হরফের নাম অর্থ ও ব্যাকরণিক ভূমিকা কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ
১. أَنْ (আন – মাসদারিয়্যাহ) ক্রিয়াপদকে মাসদারের (ভাববাচ্যের) অর্থে রূপান্তরিত করে এবং ভবিষ্যৎ কালের সাথে নির্দিষ্ট করে। «وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ» (সূরা বাকারা: ১৮৪ – অর্থাৎ তোমাদের রোজা রাখা উত্তম)।
২. لَنْ (লান – নাফিয়ে মুস্তাকবাল) ভবিষ্যতের জন্য কঠোর ও নিশ্চিত অস্বীকৃতি (তাকীদুন নাফি) জ্ঞাপন করে। «لَنْ نَبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ» (সূরা ত্বাহা: ৯১), «لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ» (আলে ইমরান: ৯২)।
৩. كَيْ (কাই – তা’লীল) কাজের কারণ, হেতুবাদ বা উদ্দেশ্য (হিকমত) প্রকাশ করে। «كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا» (সূরা ত্বাহা: ৩৩ – যাতে আমরা আপনার অধিক তাসবীহ পাঠ করতে পারি)।
৪. إِذَنْ (ইযান – জাযা ও জাওয়াব) কোনো কথার তাৎক্ষণিক প্রতিদান বা উত্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয় (শর্ত: বাক্যের শুরুতে বসতে হবে)। কেউ বললে ‘আমি আপনার সাথে দেখা করব’, উত্তরে বলা হয়: «إِذَنْ أُكْرِمَكَ» (তাহলে তো আমি তোমাকে আপ্যায়ন করব)।

২. উহ্য ‘আন’ (أَنْ مضمرة) দ্বারা নসব হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ

বসরার বৈয়াকরণদের মতে, নিচের ৬টি হরফের পর ‘আন’ উহ্য থেকে ফে’লে মুদারেয় নসব প্রদান করে:

  1. লামে কাই (لام كي – কারণসূচক লাম): যেমন—«وَأُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ» (যাতে আমরা অনুগত হই)।
  2. লামে জুহুদ (لام الجحود – অস্বীকৃতিজ্ঞাপক লাম): পূর্বে ‘মা কানা’ বা ‘লাম ইয়াকুন’ আসার পর; যেমন—«وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ» (সূরা আনফাল: ৩৩)।
  3. হাত্তা (حَتَّى – পর্যন্ত বা উদ্দেশ্য): যেমন—«حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى»।
  4. ফায়ে সাবাবিয়্যাহ (فاء السببية): নফি বা তলবের (আদেশ, নিষেধ, প্রত্যাশা) পরে আসলে; যেমন—«لَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي»।
  5. ওয়াওয়ে মাইয়াত (واو المعية): যেমন—«لَا تَنْهَ عَنْ خُلُقٍ وَتَأْتِيَ مِثْلَهُ» (এমন চরিত্র নিষেধ করো না যা নিজেই করো)।
  6. আও (أَوْ – ‘ইল্লা আন’ বা ‘ইলা আন’ অর্থে): যেমন—«لَأَسْتَسْهِلَنَّ الصَّعْبَ أَوْ أُدْرِكَ الْمُنَى»।

উপসংহার

নওয়াসিবুল মুদারের এই নিয়মাবলী বাক্যের রূপান্তর এবং কুরআন ও আরবি কবিতার সূক্ষ্ম ভাবার্থ অনুধাবনের অপরিহার্য অঙ্গ।


১১. ما المجرد والمزيد فيه؟ بين أوزان المجرد مع الأمثلة [মুজাররাদ ও মাযীদ ফীহ: সুলাসী মুজাররাদের ৬টি বাব]

ভূমিকা ও ক্রিয়ার কাঠামোগত বিভাজন

আরবি ভাষায় ক্রিয়ার মূল অক্ষরের গঠন অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। মূল অক্ষরের অতিরিক্ত কোনো হরফ বৃদ্ধি পাওয়া বা না পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়াপদকে প্রধানত ‘মুজাররাদ’ (المجرد – বিশুদ্ধ মূল অক্ষরের) এবং ‘মাযীদ ফীহ’ (المزيد فيه – অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত)—এই দুই প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।

মুজাররাদ ও মাযীদের সংজ্ঞা

  • মুজাররাদ: যে ক্রিয়ার অতীতকালের (মাজি) মূল সিগায় কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে না, বরং সবগুলো বর্ণই মূল অক্ষর (حروف أصلية) হয়। যেমন: كَتَبَ (কা-তা-বা), دَحْرَجَ।
  • মাযীদ ফীহ: যে ক্রিয়ার অতীতকালের মূল অক্ষরে এক বা একাধিক অতিরিক্ত বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়। যেমন: أَكْرَمَ (আলিফ অতিরিক্ত), اسْتَخْرَجَ (আলিফ, সীন ও তা অতিরিক্ত)।

সুলাসী মুজাররাদের ৬টি বিখ্যাত বাব (أوزان الثلاثي المجرد الستة)

আরবি ভাষার অধিকাংশ তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়াপদ এই ৬টি বাবের অধীনে পরিচালিত হয়। এদের ওজন ও মাজির আইন বর্ণ এবং মুদারের আইন বর্ণের হরকতের ওপর ভিত্তি করে নামকরণ করা হয়েছে:

বাবের প্রচলিত নাম ওজন (মাযি – মুদারে) আইন বর্ণের রূপান্তর প্রামাণ্য উদাহরণ
১. বাবু নাসারা (باب نَصَرَ) فَعَلَ – يَفْعُلُ (ফা’আলা – ইয়াফ’উলু) মাযিতে ফাতহা, মুদারেতে যম্মা نَصَرَ – يَنْصُرُ (সাহায্য করা), كَتَبَ – يَكْتُبُ।
২. বাবু যারাবা (باب ضَرَبَ) فَعَلَ – يَفْعِلُ (ফা’আলা – ইয়াফ’ইলু) মাযিতে ফাতহা, মুদারেতে কাসরা ضَرَبَ – يَضْرِبُ (প্রহার করা), جَلَسَ – يَجْلِسُ।
৩. বাবু ফাতাহা (باب فَتَحَ) فَعَلَ – يَفْعَلُ (ফা’আলা – ইয়াফ’আলু) উভয়টিতে ফাতহা (হরফে হলকী শর্ত) فَتَحَ – يَفْتَحُ (উন্মুক্ত করা), ذَهَبَ – يَذْهَبُ।
৪. বাবু সামি’আ (باب سَمِعَ) فَعِلَ – يَفْعَلُ (ফা’ইলা – ইয়াফ’আলু) মাযিতে কাসরা, মুদারেতে ফাতহা سَمِعَ – يَسْمَعُ (শ্রবণ করা), عَلِمَ – يَعْلَمُ।
৫. বাবু কারুমা (باب كَرُمَ) فَعُلَ – يَفْعُلُ (ফা’উলা – ইয়াফ’উলু) উভয়টিতে যম্মা (কেবল লাযিম হয়) كَرُمَ – يَكْرُمُ (সম্মানিত হওয়া), حَسُنَ – يَحْسُنُ।
৬. বাবু হাসিবা (باب حَسِبَ) فَعِلَ – يَفْعِلُ (ফা’ইলা – ইয়াফ’ইলু) উভয়টিতে কাসরা (খুব বিরল বাব) حَسِبَ – يَحْسِبُ (ধারণা করা), وَرِثَ – يَرِثُ।

রুবায়ী মুজাররাদের ওজন

চার অক্ষরবিশিষ্ট মূল ক্রিয়ার কেবল একটিমাত্র বাব রয়েছে: ‘ফা’লালা – ইউফা’লিলু’ (فَعْلَلَ – يُفَعْلِلُ); যেমন: دَحْرَجَ – يُدَحْرِجُ (গড়িয়ে দেওয়া), زَلْزَلَ – يُزَلْزِلُ (ভূমিকম্পিত করা)।

উপসংহার

মুজাররাদের এই বাবসমূহ আরবি ভাষার অভিধান (মুজাম) ব্যবহারের মূল চাবিকাঠি।


১২. ما الفعل؟ تحدث عن أنواعه من حيث الصحة والعلة بالأمثلة [সিহহাত ও ইল্লাতের দিক থেকে ক্রিয়ার ৭টি প্রকার (হাফতে আকসাম)]

ভূমিকা ও হাফতে আকসামের পরিচিতি

আরবি ইলমুস সরফ (শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব)-এ ক্রিয়ার মূল অক্ষরের মধ্যে ‘দুর্বল বর্ণ’ বা হরফে ইল্লত (حروف العلة: ওয়াও ‘و’, আলিফ ‘ا’, ইয়া ‘ي’) উপস্থিত থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়াকে ‘সাতটি মৌলিক প্রকারে’ (الأقسام السبعة / هفت اقسام) বিভক্ত করা হয়েছে। বিশুদ্ধ শব্দরূপ ও তালীল (تعلِيل) অনুধাবনের জন্য এটি অপরিহার্য।

১. সহীহ ও মু’তাল-এর মৌলিক বিভাজন

  • আল-ফে’লুস সহীহ (الفعل الصحيح): যে ক্রিয়ার মূল অক্ষরে কোনো হরফে ইল্লত থাকে না। এটি ৩ প্রকার: সহীহ সালেম, মাহমূয ও মুদা’আফ।
  • আল-ফে’লুল মু’তাল (الفعل المعتل): যে ক্রিয়ার মূল অক্ষরের কোনো একটিতে হরফে ইল্লত থাকে। এটি ৪ প্রকার: মিসাল, আজওয়াফ, নাকিছ ও লাফীফ।

হাফতে আকসামের ৭টি প্রকারের বিশদ বিশ্লেষণ ছক

প্রকার সংজ্ঞা ও হরফের অবস্থান প্রামাণ্য উদাহরণ বৈশিষ্ট্য ও রূপান্তর
১. সহীহ সালেম (صحيح سالم) মূল অক্ষরে কোনো হরফে ইল্লত, হামযাহ কিংবা দুটি সমবর্ণ থাকে না। نَصَرَ، ضَرَبَ، فَتَحَ রূপান্তরে কোনো বিশৃঙ্খলা বা জটিলতা ঘটে না।
২. মাহমূয (المهموز) মূল অক্ষরের যেকোনো স্থানে একটি ‘হামযাহ’ থাকে (ফা, আইন বা লাম কলেমায়)। أَخَذَ (মাহমূযুল ফা), سَأَلَ (মাহমূযুল আইন), قَرَأَ (মাহমূযুল লাম)। কখনো কখনো হামযাহ সহজ উচ্চারণে পরিবর্তিত হয় (যেমন: أكل থেকে كُلْ)।
৩. মুদা’আফ (المضاعف) মূল অক্ষরের মধ্যে একই জাতীয় দুটি বর্ণ পাশাপাশি থাকে এবং তা ইদগাম হয়। مَدَّ (মূল: مَدَدَ), فَرَّ, زَلْزَلَ (রুবায়ীতে)। তাসদীদ দ্বারা একীভূত করা হয়।
৪. মিসাল (المثال) ফা কলেমায় (প্রথম অক্ষরে) হরফে ইল্লত থাকে (মু’তাল্লুল ফা)। وَعَدَ (ওয়াবী মিসাল), يَسَرَ (ইয়াঈ মিসাল)। মুদারেতে অনেক সময় ওয়াও বিলুপ্ত হয়; যেমন: وَعَدَ থেকে يَعِدُ।
৫. আজওয়াফ (الأجوف) আইন কলেমায় (মাঝখানের অক্ষরে) হরফে ইল্লত থাকে (মু’তাল্লুল আইন)। قَالَ (মূল: قَوَلَ), بَاعَ (মূল: بَيَعَ)। হরফে ইল্লত আলিফে রূপান্তরিত হয় এবং জযমের সময় বিলুপ্ত হয় (قُلْ)।
৬. নাকিছ (الناقص) লাম কলেমায় (শেষ অক্ষরে) হরফে ইল্লত থাকে (মু’তাল্লুল লাম)। دَعَا (মূল: دَعَوَ), رَمَى (মূল: رَمَيَ)। শেষাক্ষরে জযমের সময় হরফে ইল্লত বিলুপ্ত হয় (لَمْ يَدْعُ)।
৭. লাফীফ (اللفيف) মূল অক্ষরে দুটি হরফে ইল্লত একত্রে বিদ্যমান থাকে। লাফীফে মাকরূন: طَوَى (পাশাপাশি); লাফীফে মাফরূক্ব: وَقَى (মাঝখানে ব্যবধান)। অত্যন্ত জটিল রূপান্তর; যেমন: وَقَى-এর আমরের সিগা হলো কেবল «قِ» (রক্ষা করো)।

উপসংহার

হাফতে আকসামের জ্ঞান ব্যতীত আরবি ভাষার কোনো শব্দের সঠিক ব্যাকরণিক তাহকিক ও অভিধানিক অনুসন্ধান সম্ভব নয়।


১৩. ما الفعل اللازم والفعل المتعدى؟ اكتب أنواعهما بالإيجاز [ফে’লে লাযিম ও মুতাআদ্দি: সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ]

ভূমিকা ও ক্রিয়ার কর্মগ্রাহিতা

আরবি ব্যাকরণে ক্রিয়া তার বক্তব্য পূর্ণ করার জন্য কর্ম বা মাফউলের মুখাপেক্ষী কি না, সে বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়াকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়: ‘ফে’লে লাযিম’ (الفعل اللازم – অকর্মক ক্রিয়া) এবং ‘ফে’লে মুতাআদ্দি’ (الفعل المتعدي – সকর্মক ক্রিয়া)।

সংজ্ঞা ও মৌলিক পার্থক্য

  • ফে’লে লাযিম: যে ক্রিয়া কেবল তার ফায়েলকে (কর্তা) নিয়েই পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে এবং বক্তব্য সমাপ্তির জন্য কোনো মাফউলে বিহীর প্রয়োজন পড়ে না। যেমন: «قَامَ زَيْدٌ» (যায়েদ দাঁড়াল), «حَسُنَ الْوَلَدُ» (ছেলেটি ভালো হলো)।
  • ফে’লে মুতাআদ্দি: যে ক্রিয়া শুধু কর্তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে না, বরং অর্থের পূর্ণতার জন্য মাফউলে বিহীর দিকে অতিক্রম করে। যেমন: «كَتَبَ زَيْدٌ رِسَالَةً» (যায়েদ একটি চিঠি লিখল)।

ফে’লে মুতাআদ্দির শ্রেণিবিভাগ

কর্ম বা মাফউলের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মুতাআদ্দি ক্রিয়া তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:

  1. একটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى مفعول واحد): যেমন—«خَلَقَ اللَّهُ الْأَرْضَ» (আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন)।
  2. দুটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى مفعولين):
    • যে দুটি মাফউল মূলত মুবতাদা ও খবর ছিল (আফ’আলুল কুলূব ও রুজহান): যেমন—ظَنَّ، عَلِمَ، رَأَى; যেমন: «ظَنَنْتُ زَيْدًا عَالِمًا» (আমি যায়েদকে আলেম ধারণা করেছিলাম)।
    • যে দুটি মাফউল মূলত মুবতাদা-খবর ছিল না (আফ’আলুল আতা): যেমন—أَعْطَى، سَأَلَ، كَسَا; যেমন: «أَعْطَيْتُ الْفَقِيرَ دِرْهَمًا» (আমি দরিদ্রকে রৌপ্যমুদ্রা দিলাম)।
  3. তিনটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى ثلاثة مفاعيل): যেমন—أَعْلَمَ، أَرَى، نَبَّأَ، أَخْبَرَ; যেমন: «أَعْلَمَ اللَّهُ النَّاسَ الْعِلْمَ نَافِعًا» (আল্লাহ মানুষকে জানিয়ে দিলেন যে জ্ঞান উপকারী)।

লাযিম ক্রিয়াকে মুতাআদ্দি বানানোর পদ্ধতিসমূহ

একটি লাযিম (অকর্মক) ক্রিয়াকে নিচের তিনটি প্রধান উপায়ে মুতাআদ্দি (সকর্মক) বানানো যায়:

  • ১. বাবে ইফ’আলে স্থানান্তর (হামযায়ে তা’দিয়াহ দ্বারা): যেমন: «خَرَجَ زَيْدٌ» (যায়েদ বের হলো) থেকে «أَخْرَجْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে বের করলাম)।
  • ২. বাবে তাফ’ঈলে স্থানান্তর (আইন বর্ণকে তাশদীদ দিয়ে): যেমন: «فَرِحَ زَيْدٌ» (যায়েদ আনন্দিত হলো) থেকে «فَرَّحْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে আনন্দিত করলাম)।
  • ৩. হরফে জার সহযোগে: যেমন: «ذَهَبَ زَيْدٌ بِالْمَالِ» (যায়েদ সম্পদ নিয়ে গেল)।

উপসংহার

লাযিম ও মুতাআদ্দির সঠিক জ্ঞান বাক্যের কর্মকারক এবং কুরআনের নির্দেশ ও প্রতিশ্রুতির গভীর ভাবার্থ অনুধাবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


১৪. بين خصائص باب الإفعال والتفعيل بالأمثلة [বাবু ইফ’আল ও তাফ’ঈলের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও অর্থসমূহ]

ভূমিকা ও বাবের বৈশিষ্ট্যের পরিচয়

আরবি সুলাসী মাযীদ ফীহের বাবে রূপান্তরের মাধ্যমে মূল ক্রিয়ার অর্থে যেসব নতুন অর্থগত দ্যোতনা ও আলঙ্কারিক বিশিষ্টতা যুক্ত হয়, সেগুলোকে ‘খাসাইসুল আবওয়াব’ (خصائص الأبواب – বাবসমূহের অর্থগত বৈশিষ্ট্য) বলা হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক বহুল ব্যবহৃত দুটি বাব হলো ‘বাবু ইফ’আল’ (باب الإفعال) এবং ‘বাবু তাফ’ঈল’ (باب التفعيل)।

১. বাবু ইফ’আল (أَفْعَلَ – يُفْعِلُ – إِفْعَالًا)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

বৈশিষ্ট্যের নাম অর্থ ও ব্যাখ্যা প্রামাণ্য উদাহরণ
১. তা’দিয়াহ (التعدية) অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মকে রূপান্তর করা (সর্বাধিক প্রধান বৈশিষ্ট্য)। قَامَ (দাঁড়াল) থেকে أَقَامَ الصَّلَاةَ (নামাজ প্রতিষ্ঠা করল)।
২. সাইরূরাহ (الصَّيْرُورَةُ) কর্তা কোনো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া। أَفْلَسَ الرَّجُلُ (লোকটি নিঃস্ব/দেউলিয়া হয়ে গেল)।
৩. দুখূল ফিয জামান ওয়াল মাকান কোনো সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থানে প্রবেশ করা। أَصْبَحَ (সকালে উপনীত হলো), أَمْسَى (সন্ধ্যায় গেল), أَعْرَقَ (ইরাকে প্রবেশ করল)।
৪. সালাব বা ইযালাহ (السَّلْبُ) মাফউল থেকে কোনো বস্তু বা দোষ দূর করে দেওয়া। أَعْذَرْتُ الرَّجُلَ (আমি লোকটির ওজর দূর করে দিলাম)।
৫. ক্বাসদ বা হেদায়াত নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হওয়া। أَحْرَمَ الْحَاجُّ (হাজী ইহরামে প্রবেশ করল)।

২. বাবু তাফ’ঈল (فَعَّلَ – يُفَعِّلُ – تَفْعِيلًا)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

বৈশিষ্ট্যের নাম অর্থ ও ব্যাখ্যা প্রামাণ্য উদাহরণ
১. তাকসীর ও মুবালাগা (التكثير والمبالغة) কাজের পরিমাণ, গভীরতা বা পুনরাবৃত্তি মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। قَطَّعَ اللَّحْمَ (গোশত টুকরো টুকরো করে কাটল), «وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ» (ইউসুফ: ২৩)।
২. তা’দিয়াহ (التعدية) লাযিমকে মুতাআদ্দি এবং এক মাফউলকে দুই মাফউলে রূপান্তর। فَرَّحَ زَيْدًا (আনন্দিত করল), عَلَّمَ مُحَمَّدًا الْقُرْآنَ।
৩. তাদরীজ (التدريج) ধাপে ধাপে ক্রমান্বয়ে কোনো কাজ সম্পাদন করা। «نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ» (কুরআনকে ধাপে ধাপে ২৩ বছরে নাজিল করা)।
৪. তাসমিয়াহ বা নিসবত (التسمية) কাউকে কোনো নামে অভিহিত করা বা বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা। فَسَّقَهُ (তাকে ফাসেক বলল), كَفَّرَهُ (তাকে কাফের আখ্যা দিল)।
৫. সালাব বা ইযালাহ (السلب) দূর করা; যেমন: قَشَّرَ التُّفَّاحَ (আপেলের খোসা ছাড়াল)। جَرَّدَ السَّيْفَ (তরবারি খাপমুক্ত করল)।

উপসংহার

বাবু ইফ’আল এককালীন ও মৌলিক রূপান্তর বোঝায়, আর বাবু তাফ’ঈল ধারাবাহিকতা, গভীরতা ও আধিক্য নির্দেশ করে। এই পার্থক্য কুরআনের বাচনভঙ্গিকে চিরন্তন অলঙ্কার দান করেছে।


১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর: দাওয়াতুল ইসলামিয়ার ময়দান ও সম্মেলন / সততা বা আস-সিদক]

মجموعه (ب) – অনুবাদ ও প্রায়োগিক অনুশীলন

ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের ২০২২ সালের পরীক্ষার ‘খ’ বিভাগে নির্ধারিত আরবি থেকে বাংলায় রূপান্তর এবং বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে অনুবাদের সম্পূর্ণ অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [নির্বাচিত আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর]

«إِنَّ لِلدَّعْوَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ مَجَالَاتٍ مُتَعَدِّدَةً، وَأَسَالِيبَ مُخْتَلِفَةً، وَمِنْ أَسَالِيبِهَا إِقَامَةُ النَّدَوَاتِ وَالْمُؤْتَمَرَاتِ الَّتِي يَلْتَقِي فِيهَا رِجَالُ الْفِكْرِ الْإِسْلَامِيِّ وَفُقَهَاءُ الْمُسْلِمِينَ، لِيُعَالِجُوا فِيهَا مُشْكِلَاتِ الْوَقْتِ وَيَرُدُّوا الشُّبُهَاتِ الَّتِي تُثَارُ حَوْلَ الْإِسْلَامِ وَعَقِيدَةِ الْمُسْلِمِينَ، وَيُبَيِّنُوا لِلنَّاسِ أَحْكَامَ الدِّينِ الْإِسْلَامِيِّ فِي جَمِيعِ مَجَالَاتِ الْحَيَاةِ لِمَنْ يَحْتَاجُونَ إِلَى الْبَيَانِ. وَأَمَّا أَكْثَرُ مَا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ لِيَكُونَ النَّاسُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ أُمُورِ دِينِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ وَيَكُونَ ذَلِكَ عَلَى ضَوْءِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ لِيَخْرُجَ النَّاسُ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ، وَلَا سَبِيلَ لِلْخُرُوجِ مِنْ ظُلُمَاتِ الْجَهْلِ وَالْجَاهِلِيَّةِ إِلَّا بِفِقْهِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
নিশ্চয়ই ইসলামি দাওয়াতের রয়েছে বহুমুখী ক্ষেত্র এবং বৈচিত্র্যময় কার্যপদ্ধতি। এসব পদ্ধতির অন্যতম হলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা; যেখানে ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক এবং মুসলিম ফকীহগণ একত্রিত হন। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাঁরা সমকালীন যুগের জটিল সমস্যাবলী নিরসনে কার্যকর সমাধান অনুসন্ধান করেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে যেসব ভ্রান্ত সংশয় ও অপপ্রচার সৃষ্টি করা হয় তার উপযুক্ত ও প্রামাণ্য জবাব প্রদান করেন। একই সাথে তাঁরা মানবজীবনের সর্বস্তরে যাদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন তাদের নিকট ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। আর মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো—তারা যেন নিজেদের দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়ে পূর্ণ সুস্পষ্টতার ওপর অধিষ্ঠিত থাকতে পারে; আর এটি নিশ্চিত হতে হবে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সুমহান আলোর ভিত্তিতে, যাতে মানুষ সকল অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে আলোর দিশা লাভ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর গভীর ও বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন ব্যতীত অজ্ঞতা ও জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে মুক্তির আর কোনো পথ নেই।

[বিকল্প অনুচ্ছেদ (أو)]:

«الصِّدْقُ أَصْلُ الْفَضَائِلِ وَالْمَكَارِمِ، وَالطَّرِيقُ الْمُوَصِّلُ إِلَى مَحَبَّةِ اللَّهِ تَعَالَى وَرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ. ذَلِكَ لِأَنَّ الصَّادِقَ فِي نِيَّتِهِ وَقَوْلِهِ وَعَمَلِهِ يَحْمِلُهُ صِدْقُهُ عَلَى الْخَيْرِ وَالْحَقِّ، وَيُخْلِصُ فِي عِبَادَتِهِ لِرَبِّهِ، وَيُحْسِنُ مُعَامَلَتَهُ لِلنَّاسِ جَمِيعًا.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
সততা ও সত্যবাদিতা হলো যাবতীয় মানবীয় সদ্গুণ ও মহৎ চরিত্রের মূল ভিত্তি এবং এটি আল্লাহ তাআলা, তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ ও সমগ্র মানবজাতির নিখাদ ভালোবাসা অর্জনের সর্বোত্তম রাজপথ। এর কারণ হলো—যে ব্যক্তি তার অন্তরের নিয়ত, মুখের কথা এবং বাস্তব কর্মে পরিপূর্ণ সত্যবাদী, তার ভেতরের সততাই তাকে সর্বদা কল্যাণ ও সত্যের পথে পরিচালিত করে। সে তার রবের ইবাদতে একনিষ্ঠতা বজায় রাখে এবং পৃথিবীর সমস্ত মানুষের সাথে লেনদেন ও আচরণে অনুপম উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করে।

১৬. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা অনুচ্ছেদের বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর]

মূল বাংলা টেক্সট:
“আল্লাহ তাঁর নবী ইবরাহীম (আ)-কে কা’বাঘর নির্মাণ করতে আদেশ দেন এবং যে জায়গায় ঘর নির্মিত হবে তা দেখিয়ে দেন। ইবরাহীম (আ) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِبِنَاءِ الْكَعْبَةِ الْمُشَرَّفَةِ (بَيْتِ اللَّهِ الْحَرَامِ)، وَأَرَاهُ الْمَكَانَ الَّذِي يُبْنَى فِيهِ الْبَيْتُ الْعَتِيقُ، فَامْتَثَلَ إِبْرَاهِيمُ أَمْرَ رَبِّهِ وَأَتَمَّ عَمَلِيَّةَ الْبِنَاءِ بِإِتْقَانٍ، وَكَانَ ابْنُهُ إِسْمَاعِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُعِينُهُ فِي ذَلِكَ الْعَمَلِ الْمُبَارَكِ وَيَرْفَعُ مَعَهُ الْقَوَاعِدَ.»

[বিকল্প বাংলা অনুচ্ছেদ (অথবা)]:
“মদিনা হলো সেই নিরাপদ জনপদ যেখানে হিজরত করার জন্য আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসূলকে আদেশ দিয়েছিলেন। এখান থেকেই মুসলিম সৈন্যরা বদর, ওহুদ, খন্দক ইত্যাদি যুদ্ধে অগ্রযাত্রা করেছিলেন। এখান থেকেই আল্লাহর দ্বীন দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মদিনা মুনাওয়ারা কয়েকটি নামে পরিচিত হয়েছে। যেমন: ‘ইয়াসরিব’ এ নামটি ছিল ইসলাম পূর্বকালে, ‘তাইবা’ ‘দারুল হিজরা’ ও ‘মদিনাতুন্নবী’। শেষোক্ত নামটি থেকেই বর্তমান নামটি গ্রহণ করা হয়েছে।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«الْمَدِينَةُ الْمُنَوَّرَةُ هِيَ ذَلِكَ الْبَلَدُ الْآمِنُ الَّذِي أَمَرَ اللَّهُ فِيهِ رَسُولَهُ الْكَرِيمَ ﷺ بِالْهِجْرَةِ إِلَيْهِ؛ وَمِنْ هُنَا انْطَلَقَتْ جُيُوشُ الْمُسْلِمِينَ الْبَاسِلَةُ لِخَوْضِ غَزَوَاتِ بَدْرٍ وَأُحُدٍ وَالْخَنْدَقِ وَغَيْرِهَا، وَمِنْ هَذِهِ الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ انْتَشَرَ دِينُ اللَّهِ وَعَمَّ الْخَافِقَيْنِ. وَقَدْ عُرِفَتِ الْمَدِينَةُ الْمُنَوَّرَةُ بِأَسْمَاءٍ عِدَّةٍ: كَانَ يُطْلَقُ عَلَيْهَا “يَثْرِبُ” فِي الْجَاهِلِيَّةِ قَبْلَ الْإِسْلَامِ، ثُمَّ سُمِّيَتْ “طَابَةَ” وَ”طَيْبَةَ” وَ”دَارَ الْهِجْرَةِ” وَ”مَدِينَةَ النَّبِيِّ”، وَمِنْ هَذَا الِاسْمِ الْأَخِيرِ اشْتُقَّ اسْمُهَا الْحَالِيُّ الْمَعْرُوفُ.»


১৬. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর: কাবা ঘর নির্মাণ / মদিনা মুনাওয়ারা]

মجموعه (ب) – অনুবাদ ও প্রায়োগিক অনুশীলন

ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের ২০২২ সালের পরীক্ষার ‘খ’ বিভাগে নির্ধারিত আরবি থেকে বাংলায় রূপান্তর এবং বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে অনুবাদের সম্পূর্ণ অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

১৫. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [নির্বাচিত আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর]

«إِنَّ لِلدَّعْوَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ مَجَالَاتٍ مُتَعَدِّدَةً، وَأَسَالِيبَ مُخْتَلِفَةً، وَمِنْ أَسَالِيبِهَا إِقَامَةُ النَّدَوَاتِ وَالْمُؤْتَمَرَاتِ الَّتِي يَلْتَقِي فِيهَا رِجَالُ الْفِكْرِ الْإِسْلَامِيِّ وَفُقَهَاءُ الْمُسْلِمِينَ، لِيُعَالِجُوا فِيهَا مُشْكِلَاتِ الْوَقْتِ وَيَرُدُّوا الشُّبُهَاتِ الَّتِي تُثَارُ حَوْلَ الْإِسْلَامِ وَعَقِيدَةِ الْمُسْلِمِينَ، وَيُبَيِّنُوا لِلنَّاسِ أَحْكَامَ الدِّينِ الْإِسْلَامِيِّ فِي جَمِيعِ مَجَالَاتِ الْحَيَاةِ لِمَنْ يَحْتَاجُونَ إِلَى الْبَيَانِ. وَأَمَّا أَكْثَرُ مَا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ لِيَكُونَ النَّاسُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ أُمُورِ دِينِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ وَيَكُونَ ذَلِكَ عَلَى ضَوْءِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ لِيَخْرُجَ النَّاسُ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ، وَلَا سَبِيلَ لِلْخُرُوجِ مِنْ ظُلُمَاتِ الْجَهْلِ وَالْجَاهِلِيَّةِ إِلَّا بِفِقْهِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
নিশ্চয়ই ইসলামি দাওয়াতের রয়েছে বহুমুখী ক্ষেত্র এবং বৈচিত্র্যময় কার্যপদ্ধতি। এসব পদ্ধতির অন্যতম হলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা; যেখানে ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক এবং মুসলিম ফকীহগণ একত্রিত হন। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাঁরা সমকালীন যুগের জটিল সমস্যাবলী নিরসনে কার্যকর সমাধান অনুসন্ধান করেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে যেসব ভ্রান্ত সংশয় ও অপপ্রচার সৃষ্টি করা হয় তার উপযুক্ত ও প্রামাণ্য জবাব প্রদান করেন। একই সাথে তাঁরা মানবজীবনের সর্বস্তরে যাদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন তাদের নিকট ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। আর মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো—তারা যেন নিজেদের দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়ে পূর্ণ সুস্পষ্টতার ওপর অধিষ্ঠিত থাকতে পারে; আর এটি নিশ্চিত হতে হবে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সুমহান আলোর ভিত্তিতে, যাতে মানুষ সকল অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে আলোর দিশা লাভ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর গভীর ও বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন ব্যতীত অজ্ঞতা ও জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে মুক্তির আর কোনো পথ নেই।

[বিকল্প অনুচ্ছেদ (أو)]:

«الصِّدْقُ أَصْلُ الْفَضَائِلِ وَالْمَكَارِمِ، وَالطَّرِيقُ الْمُوَصِّلُ إِلَى مَحَبَّةِ اللَّهِ تَعَالَى وَرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ. ذَلِكَ لِأَنَّ الصَّادِقَ فِي نِيَّتِهِ وَقَوْلِهِ وَعَمَلِهِ يَحْمِلُهُ صِدْقُهُ عَلَى الْخَيْرِ وَالْحَقِّ، وَيُخْلِصُ فِي عِبَادَتِهِ لِرَبِّهِ، وَيُحْسِنُ مُعَامَلَتَهُ لِلنَّاسِ جَمِيعًا.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
সততা ও সত্যবাদিতা হলো যাবতীয় মানবীয় সদ্গুণ ও মহৎ চরিত্রের মূল ভিত্তি এবং এটি আল্লাহ তাআলা, তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ ও সমগ্র মানবজাতির নিখাদ ভালোবাসা অর্জনের সর্বোত্তম রাজপথ। এর কারণ হলো—যে ব্যক্তি তার অন্তরের নিয়ত, মুখের কথা এবং বাস্তব কর্মে পরিপূর্ণ সত্যবাদী, তার ভেতরের সততাই তাকে সর্বদা কল্যাণ ও সত্যের পথে পরিচালিত করে। সে তার রবের ইবাদতে একনিষ্ঠতা বজায় রাখে এবং পৃথিবীর সমস্ত মানুষের সাথে লেনদেন ও আচরণে অনুপম উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করে।

১৬. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা অনুচ্ছেদের বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর]

মূল বাংলা টেক্সট:
“আল্লাহ তাঁর নবী ইবরাহীম (আ)-কে কা’বাঘর নির্মাণ করতে আদেশ দেন এবং যে জায়গায় ঘর নির্মিত হবে তা দেখিয়ে দেন। ইবরাহীম (আ) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِبِنَاءِ الْكَعْبَةِ الْمُشَرَّفَةِ (بَيْتِ اللَّهِ الْحَرَامِ)، وَأَرَاهُ الْمَكَانَ الَّذِي يُبْنَى فِيهِ الْبَيْتُ الْعَتِيقُ، فَامْتَثَلَ إِبْرَاهِيمُ أَمْرَ رَبِّهِ وَأَتَمَّ عَمَلِيَّةَ الْبِنَاءِ بِإِتْقَانٍ، وَكَانَ ابْنُهُ إِسْمَاعِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُعِينُهُ فِي ذَلِكَ الْعَمَلِ الْمُبَارَكِ وَيَرْفَعُ مَعَهُ الْقَوَاعِدَ.»

[বিকল্প বাংলা অনুচ্ছেদ (অথবা)]:
“মদিনা হলো সেই নিরাপদ জনপদ যেখানে হিজরত করার জন্য আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসূলকে আদেশ দিয়েছিলেন। এখান থেকেই মুসলিম সৈন্যরা বদর, ওহুদ, খন্দক ইত্যাদি যুদ্ধে অগ্রযাত্রা করেছিলেন। এখান থেকেই আল্লাহর দ্বীন দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মদিনা মুনাওয়ারা কয়েকটি নামে পরিচিত হয়েছে। যেমন: ‘ইয়াসরিব’ এ নামটি ছিল ইসলাম পূর্বকালে, ‘তাইবা’ ‘দারুল হিজরা’ ও ‘মদিনাতুন্নবী’। শেষোক্ত নামটি থেকেই বর্তমান নামটি গ্রহণ করা হয়েছে।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«الْمَدِينَةُ الْمُنَوَّرَةُ هِيَ ذَلِكَ الْبَلَدُ الْآمِنُ الَّذِي أَمَرَ اللَّهُ فِيهِ رَسُولَهُ الْكَرِيمَ ﷺ بِالْهِجْرَةِ إِلَيْهِ؛ وَمِنْ هُنَا انْطَلَقَتْ جُيُوشُ الْمُسْلِمِينَ الْبَاسِلَةُ لِخَوْضِ غَزَوَاتِ بَدْرٍ وَأُحُدٍ وَالْخَنْدَقِ وَغَيْرِهَا، وَمِنْ هَذِهِ الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ انْتَشَرَ دِينُ اللَّهِ وَعَمَّ الْخَافِقَيْنِ. وَقَدْ عُرِفَتِ الْمَدِينَةُ الْمُنَوَّرَةُ بِأَسْمَاءٍ عِدَّةٍ: كَانَ يُطْلَقُ عَلَيْهَا “يَثْرِبُ” فِي الْجَاهِلِيَّةِ قَبْلَ الْإِسْلَامِ، ثُمَّ سُمِّيَتْ “طَابَةَ” وَ”طَيْبَةَ” وَ”دَارَ الْهِجْرَةِ” وَ”مَدِينَةَ النَّبِيِّ”، وَمِنْ هَذَا الِاسْمِ الْأَخِيرِ اشْتُقَّ اسْمُهَا الْحَالِيُّ الْمَعْرُوفُ.»


১৭. اكتب مقالة بالعربية على موضوع واحد من الاتية [বিশদ আরবি প্রবন্ধ: ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ / আরবি ভাষার গুরুত্ব / শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব / পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার]

১৭. اكتب مقالة عربية من إحدى الموضوعات التالية [বিশদ অ্যাকাডেমিক আরবি প্রবন্ধমালা]

ফাযিল ৩য় বর্ষের বিগত বছরসমূহের পরীক্ষায় বারবার পুনরাবৃত্ত প্রধান প্রধান প্রবন্ধগুলো ফাযিল স্নাতক স্তরের পূর্ণমান ১০-এর অ্যাকাডেমিক মানদণ্ডে আরবিতে উপস্থাপন করা হলো:

(أ) مقالة بعنوان : «الْأُخُوَّةُ فِي الْإِسْلَامِ» [ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ]

المقدمة : تُعد الأخوة في الإسلام إحدى أسمى القيم الإنسانية والدينية التي شيدت عليها الشريعة صرح المجتمع المسلم المتماسك. فالإسلام لم يجعل رابطة الأخوة مجرد علاقة دم وقرابة عرقية، بل جعلها قائمة على وحدة العقيدة والإيمان؛ قال الله تعالى: ﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾ [الحجرات: 10].

أسس الأخوة الإيمانية وحقوقها الشرعية :

  • المحبة الخالصة لوجه الله : الأخوة الصادقة هي التي تنبع من الإخلاص لله؛ قال النبي ﷺ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ» [متفق عليه].
  • التعاون والتكافل الاجتماعي : المسلمون في توادهم وتراحمهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى.
  • النصرة ودفع الظلم : قال الرسول ﷺ: «انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا»؛ بنصحه وردعه عن الظلم إن كان ظالماً، والوقوف معه ورفع الأذى عنه إن كان مظلوماً.
  • طهارة القلوب ونبذ الشحناء : حرّم الإسلام الغيبة والنميمة وسوء الظن والحسد بين الإخوة؛ لأنها تهدم جسور الثقة والمحبة.

الخاتمة : إن إحياء روح المؤاخاة النبوية — كتلك التي آخى بها النبي ﷺ بين المهاجرين والأنصار في المدينة — هو السبيل الوحيد لنهضة الأمة الإسلامية واستعادة مجدها وعزتها.

(ب) مقالة بعنوان : «وَاجِبَاتُ الطُّلَّابِ وَمَسْؤُولِيَّاتُهُمْ» [শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য]

المقدمة : الطلاب هم عماد المستقبل، ورجال الغد المشرق، وأمل الأمة في صناعة نهضتها الحضارية. إن مرحلة الطلب هي ربيع العمر وأثمن فترات الحياة، وعليها يتوقف نجاح الفرد وسعادة المجتمع بأكمله.

أهم واجبات الطالب المسلم :

  • الإخلاص والجد في تحصيل العلم : أول واجبات الطالب أن يستشعر عظمة رسالة العلم، وأن يطلب العلم النافع لوجه الله تعالى ولنفع مجتمعه؛ قال تعالى: ﴿وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا﴾.
  • تنظيم الوقت واستثماره : الوقت هو رأس مال الطالب، وتضييعه في اللهو والبطالة انتحار علمي؛ لذا يجب وضع جدول يومي محكم بين المذاكرة والعبادة والرياضة النافعة.
  • احترام المعلمين وبرهم : المعلم هو الأب الروحي وصانع العقول، وبره وتوقيره مفتاح الفهم والتوفيق والبركة في العلم.
  • التحلي بالأخلاق والآداب الإسلامية : ينبغي أن يقرن الطالب علمه بالعمل الصالح، والصدق، والأمانة، والتواضع، ونبذ الغش والكسل.
  • المسؤولية الوطنية والمجتمعية : توظيف المعارف والعلوم لخدمة الوطن، ومكافحة الجهل والفساد، والنهوض بالمجتمع اقتصادياً وأخلاقياً.

الخاتمة : إذا أدرك الطلاب واجباتهم وأدوها بإخلاص وعزيمة، كانت أمتنا رائدة في مصاف الأمم المتقدمة؛ فالعلم يبني بيوتاً لا عماد لها، والجهل يهدم بيوت العز والشرف.

(ج) مقالة بعنوان : «بِرُّ الْوَالِدَيْنِ فِي ضَوْءِ الْإِسْلَامِ» [ইসলামের আলোকে পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার]

المقدمة : قرن الله تبارك وتعالى حقه في التوحيد والعبادة بحق الوالدين في البر والإحسان في مواضع كثيرة من القرآن الكريم، فقال عز وجل: ﴿وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا﴾ [الإسراء: 23]. وهذا يدل على عظم منزلتهما وجلال حقهما.

مظاهر البر والإحسان للوالدين :

  • الطاعة في غير معصية : طاعة الوالدين واجبة شرعاً في كل أمر مباح، وخفض الجناح لهما رحمة وتواضعاً.
  • الأدب في الخطاب والكلام : نهى القرآن الكريم عن أدنى درجات التضجر منهما؛ فقال تعالى: ﴿فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا﴾.
  • الرعاية المادية والخدمة عند الكبر : توفير النفقة والمسكن الملائم وتقديم الرعاية الصحية الكاملة لهما خاصة في مرحلة الشيخوخة والضعف.
  • البر بهما بعد وفاتهما : يستمر بر الوالدين حتى بعد رحيلهما عن الدنيا بالدعاء والاستغفار لهما، وإنفاذ وصيتهما، وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما، وإكرام صديقهما.

الخاتمة : إن بر الوالدين باب من أوسع أبواب الجنة ورضا الرب في رضا الوالد؛ وعقوقهما من أكبر الكبائر المحبطة للأعمال. فلنحرص على رضاهما لننال سعادة الدارين.

(د) مقالة بعنوان : «تَعْلِيمُ الْمَرْأَةِ فِي الْإِسْلَامِ» [ইসলামে নারী শিক্ষা]

المقدمة : كرّم الإسلام المرأة ورفع مكانتها بعد أن كانت مظلومة ومهمشة في الجاهلية الأولى، وجعل طلب العلم فريضة محكمة تشمل الرجل والمرأة على حد سواء دون تمييز أو إقصاء؛ فقال الرسول الأكرم ﷺ: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» [رواه ابن ماجه].

أهمية تعليم المرأة وآثاره الإيجابية :

  • صناعة الأجيال الصالحة : المرأة هي الأم والمربية الأولى؛ وكما قال الشاعر حافظ إبراهيم: الأُمُّ مَدْرَسَةٌ إِذَا أَعْدَدْتَهَا * أَعْدَدْتَ شَعْبًا طَيِّبَ الأَعْرَاقِ. إذا تعلمت الأم أثمرت بيئة واعية تقود الأجيال نحو النور.
  • النماذج التاريخية الرائدة : حفلت الحضارة الإسلامية بعالمات فقيهات وطبيبات ومحدثات؛ وعلى رأسهن أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها التي كانت مرجعاً لكبار الصحابة في الفقه والحديث والطب والأنساب.
  • المشاركة في تنمية المجتمع : يتيح التعليم للمرأة أداء دورها الحيوي في مجالات التعليم والطبابة والتمريض والخدمة الاجتماعية في إطار الحشمة والوقار والضوابط الشرعية.

الخاتمة : إن حرمان المرأة من التعليم مخالف لمقاصد الشريعة السمحة؛ فالأمة التي لا تتعلم نساؤها تبقى أمة عاجزة عن مسايرة ركب الحضارة والتقدم.

(هـ) مقالة بعنوان : «حُقُوقُ الْجِيرَانِ فِي الْإِسْلَامِ» [প্রতিবেশীর অধিকার]

المقدمة : اهتم الإسلام اهتماماً بالغاً برعاية حق الجار والإحسان إليه، لما لذلك من أثر عظيم في إشاعة الأمن والمحبة والسلام في المجتمع؛ حتى ظن النبي ﷺ أن جبريل سينزل بتوريث الجار من شدة وصيته به؛ قال ﷺ: «مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ» [متفق عليه].

أقسام الجيران وحقوقهم : الجيران ثلاثة: (১) جار له حق واحد: وهو الجار غير المسلم (حق الجوار)؛ (২) جار له حقان: وهو الجار المسلم (حق الجوار وحق الإسلام)؛ (৩) جار له ثلاثة حقوق: وهو الجار المسلم القريب (حق الجوار والإسلام والقرابة). ومن واجبات الجار: كف الأذى عنه، ومواساته في مصائبه، وإطعامه عند جوعه، وتهنئته في أفراحه، وحفظ سره وماله وعرضه.

الخاتمة : المجتمع الذي يحترم حقوق الجيران هو مجتمع فاضل تسوده الطمأنينة والأمان؛ والواجب علينا إحياء هذا الخلق النبيل في حياتنا المعاصرة.

(و) مقالة بعنوان : «الزَّكَاةُ تَمْحُو الْفَقْرَ مِنَ الْمُجْتَمَعِ» [সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত]

المقدمة : الزكاة هي الركن الثالث من أركان الإسلام، والنظام المالي الإلهي العادل الذي شرعه الله سبحانه لتحقيق التوازن الاقتصادي، والقضاء على التفاوت الطبقي، وتطهير النفوس والأموال من الشح والأنانية؛ قال تعالى: ﴿خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا﴾ [التوبة: 103].

دور الزكاة في القضاء على الفقر والبطالة :

  • إعادة توزيع الثروة بعدالة : تضمن الزكاة تدفق جزء محدد من أموال الأغنياء إلى الفقراء والمساكين، مما يمنع تكدس الثروات في أيدي فئة قليلة، عملاً بقوله تعالى: ﴿كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ﴾.
  • تنشيط القوة الشرائية والاقتصاد : عند إعطاء الزكاة للمحتاجين، تُوجّه فوراً نحو تلبية الحاجات الأساسية (الغذاء، الكساء، الدواء)، مما ينعش الأسواق ويزيد من حركة الإنتاج والاستهلاك.
  • تحويل الفقير إلى منتج ومستثمر : يجوز في الفقه إعطاء الفقير ما يكفيه لإقامة مشروع تجاري أو حرفي صغير يعينه على الكسب الذاتي والخروج الدائم من دائرة الفقر.
  • الشاهد التاريخي المجيد : حين طُبّق نظام الزكاة بإحكام في عهد الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز رحمه الله، فاض المال حتى كان المنادي يطوف في أرجاء الدولة بالزكاة فلا يجد أحداً يقبلها لعدم وجود فقير واحد.

الخاتمة : إن الزكاة ليست ضريبة بشرية، بل هي عبادة مالية مقدسة؛ وإذا التزم أثرياء العالم الإسلامي بإخراج زكاتهم كاملة فلن يبقى فقير واحد يتكفف الناس في بلادنا.

(ز) مقالة بعنوان : «حُقُوقُ الْإِنْسَانِ فِي الْإِسْلَامِ» [ইসলামে মানবাধিকার]

المقدمة : سبقت الشريعة الإسلامية كافة القوانين والمواثيق الوضعية المعاصرة بأكثر من أربعة عشر قرناً في تقرير حقوق الإنسان وحمايتها، وجعلها منحة ربانية ملزمة غير قابلة للمساومة أو الإلغاء، تقوم على كرامة بني آدم الأصيلة؛ قال تعالى: ﴿وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ﴾ [الإسراء: 70].

أهم الحقوق التي كفلها الإسلام : حق الحياة وحرمة الدماء (قتل النفس كقتل الناس جميعاً)، وحق الحرية الدينية والاعتقاد (﴿لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ﴾)، وحق المساواة التامة أمام القانون والقضاء دون تمييز بعرق أو لون أو نسب، وحق العدالة الاجتماعية وحرمة الأموال والأعراض، وحق التملك والعمل والتعليم.

الخاتمة : إن وثيقة ‘حجة الوداع’ النبوية الخالدة ستبقى أعظم إعلان عالمي لحقوق الإنسان عرفه التاريخ البشري، والتمسك بتعاليمها هو السبيل لتحقيق العدالة والسلام العالمي.

(ح) مقالة بعنوان : «الْإِرْهَابُ مُؤَامَرَةٌ جَدِيدَةٌ ضِدَّ الْإِسْلَامِ» [সন্ত্রাসবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে এক নতুন ষড়যন্ত্র]

المقدمة : الإسلام هو دين السلام والرحمة والعدل، وشريعته جاءت لحفظ الضروريات الخمس: الدين والنفس والعقل والعرض والمال. إلا أن العالم يشهد اليوم ظاهرة الإرهاب المقيتة التي يُراد إلصاقها زوراً وبهتاناً بالإسلام، في مؤامرة إعلامية وفكرية خبيثة تهدف إلى تشويه صورته الناصعة وصرف البشرية عن رسالته الإنسانية السمحة.

موقف الإسلام الحاسم من الإرهاب والعنف : حرّم الإسلام إراقة دم أي إنسان بريء أياً كانت ديانته أو جنسيته، قال تعالى: ﴿مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا﴾. كما نهى الإسلام عن ترويع الآمنين، والغدر، وقتل النساء والأطفال والشيوخ، والاعتداء على دور العبادة في الحروب والسلم. إن الجماعات المتطرفة لا تمثل الإسلام بل هي أدوات مشبوهة تخدم مصالح أعدائه.

الخاتمة : إن مسؤولية العلماء والإعلاميين والدعاة اليوم هي كشف حقيقة هذا التآمر، وتبيان براءة الإسلام من كل صور التطرف والإرهاب، ونشر رسالة الحوار والوسطية والرحمة للعالمين.


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?

পূর্ণমান ১০০ নম্বর এবং সময় ৩ ঘণ্টা। ক বিভাগে ৭০ এবং খ বিভাগে ৩০ নম্বর।

আরবি ব্যাকরণে মারফু’আত (রফা প্রাপ্ত বিশেষ্য) মোট কয়টি?

মারফু’আত প্রধানত ৮ প্রকার: ফায়েল, নায়েবে ফায়েল, মুবতাদা, খবর, কানা ইত্যাদির ইসম, ইন্না ইত্যাদির খবর, মা ও লা-এর ইসম, এবং লায়ে নাফিয়ে জিনসের খবর।

ইসমে তাফদিল ব্যবহারের শাস্ত্রীয় পদ্ধতি কয়টি?

ইসমে তাফদিল ব্যবহারের ৪টি পদ্ধতি রয়েছে: মিন সহযোগে, আলিফ-লাম যুক্ত হয়ে, নাকারার দিকে মুদাফ হয়ে এবং মা’রেফার দিকে মুদাফ হয়ে।

ফে’লে মুদারের সরাসরি নসবকারী হরফ কয়টি?

সরাসরি নসবকারী হরফ ৪টি: আন (أَنْ), লান (لَنْ), কাই (كَيْ), এবং ইযান (إِذَنْ)।

সুলাসী মুজাররাদের মোট কয়টি বাব রয়েছে?

সুলাসী মুজাররাদের মোট ৬টি বিখ্যাত বাব রয়েছে: নাসারা, যারাবা, ফাতাহা, সামি’আ, কারুমা এবং হাসিবা।

হাফতে আকসাম বলতে কী বোঝায়?

ক্রিয়ার মূল অক্ষরে হরফে ইল্লতের উপস্থিতি ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়ার সাতটি প্রকারকে হাফতে আকসাম বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *