কামিল (স্নাতকোত্তর) প্রথম পর্ব পরীক্ষা ২০২৪
হাদীস বিভাগ (প্রথম পত্র)
বিষয়: সুনানু আবি দাউদ [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: ৬১১১০১ | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-]
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ হতে যেকোনো চারটি এবং (খ) বিভাগ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বাম পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]
مجموعة (أ) – ক বিভাগ : হাদীস অংশ (মান: ২০ × ৪ = ৮০)
١- عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده : أن امرأة أتت رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعها ابنة لها، وفى يد ابنتها مسكتان غليظتان من ذهب، فقال لها : أتعطين زكاة هذا؟ قالت : لا، قال : أيسرك أن يسورك الله بهما يوم القيامة سوارين من نار؟ قال : فخلعتهما فألقتهما إلى النبى صلى الله عليه وسلم وقالت : هما لله عز وجل ولرسوله.
[১. আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন: এক মহিলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হলো এবং তার সাথে তার এক কন্যা ছিল। তার কন্যার হাতে দুটি মোটা স্বর্ণের বালা পরিহিত ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি এগুলোর যাকাত প্রদান কর? সে বলল: না। তিনি বললেন: তুমি কি পছন্দ কর যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এ দুটি বালার পরিবর্তে তোমাকে আগুনের দুটি বালা পরিয়ে দেন? বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে তৎক্ষণাৎ বালা দুটি হাত থেকে খুলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মুখে নিক্ষেপ করল এবং নিবেদন করল: এগুলো আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুলের জন্য (উৎসর্গীকৃত)।]
শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):
| শব্দরূপ (কালিমা) | মূলধাতু (মাদ্দাহ) | বাব (অধ্যায়) | সিগাহ ও বাহাস | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| مَسَكَتَانِ | م – س – ك | – | تثنية مؤنث | দুটি মোটা বালা / কঙ্কন |
| أَتُعْطِينَ | ع – ط – و | إفعال | واحد مؤنث حاضر | তুমি কি প্রদান করছ? |
| يُسَوِّرَكِ | س – و – ر | تفعيل | واحد مذكر غائب | তোমাকে বালা বা কঙ্কন পরাবেন |
| خَلَعَتْهُمَا | خ – ل – ع | فتح | واحد مؤنث غائب | মহিলাটি সে দুটি খুলে ফেলল |
(أ) ما معنى الزكاة لغة وشرعا؟ ومتى فرضت الزكاة؟ فصل.
[(ক) যাকাত শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? যাকাত কখন ফরজ হয়েছিল? বিস্তারিত লিখ।]
যাকাতের আভিধানিক অর্থ: আরবি ‘যাকাত’ (الزكاة) শব্দটি ‘যাকাউন’ (زكاء) মূলধাতু থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হলো প্রবৃদ্ধি লাভ করা (النماء), পবিত্র হওয়া (الطهارة), বরকত বৃদ্ধি পাওয়া (البركة) এবং প্রশংসা করা (المدح)। শরীয়তের পরিভাষায় নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হকদারদের মালিকানায় প্রদান করাকে যাকাত বলে। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে: خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا (তাদের ধনসম্পদ থেকে সদকাহ গ্রহণ করুন, যা দিয়ে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করবেন)।
যাকাত কখন ফরজ হয়েছিল: ঐতিহাসিক ও ফকীহগণের বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী, যাকাত দ্বিতীয় হিজরী সনে (২য় হিজরীতে রোযা ফরজ হওয়ার পর) মাহে রমযানের পূর্বে অথবা সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার পরপরই সুনির্দিষ্ট নিসাব ও বিধানসহ ফরজ হয়। মক্কী জীবনের কিছু আয়াতে যাকাতের সাধারণ তাগিদ থাকলেও তা ছিল ঐচ্ছিক দান। পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক যাকাত আইন ২য় হিজরীতেই প্রবর্তিত হয়েছিল।
(ب) بين اقوال العلماء فى زكاة الحلى مدللا.
[(খ) স্বর্ণালঙ্কারের যাকাত সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের অভিমত দলিলসহ বর্ণনা কর।]
ব্যবহৃত স্বর্ণালঙ্কারের যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে ফকীহগণের মধ্যে দুটি সুস্পষ্ট মাযহাব পরিলক্ষিত হয়:
১. আহনাফের অভিমত (ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তা): ইমাম আবু হানীফা (রহ.), তাঁর শিষ্যদ্বয় এবং প্রখ্যাত তাবেয়ীগণের মতে, ব্যবহৃত হোক বা সঞ্চিত, স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার যদি নিসাব পরিমাণ (স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি এবং রৌপ্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি) পৌঁছে, তবে তার উপর যাকাত প্রদান করা ফরজ। তাঁদের প্রধান দলিল হলো আলোচ্য আবু দাউদের হাদীস, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বর্ণের দুটি বালার যাকাত না দেওয়ার কারণে আগুনের বালার কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। এছাড়াও হযরত আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত অন্য হাদীসে রৌপ্যের আংটি দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) একই সতর্কবার্তা ব্যক্ত করেছিলেন।
২. জুমহুর ফকীহগণের অভিমত (মুস্তাহাব / ওয়াজিব নয়): ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, নারীদের বৈধ ও স্বাভাবিক ব্যবহারের অলঙ্কারে যাকাত ওয়াজিব নয়; বরং তা সাধারণ পোশাক-পরিচ্ছদের মতো ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। তবে ব্যবসা বা সঞ্চয়ের নিয়তে রক্ষিত হলে সর্বসম্মতভাবে যাকাত দিতে হবে। তবে সতর্কতামূলক আমল হিসেবে এবং হাদীসের সুস্পষ্ট সতর্কবার্তার কারণে আহনাফের মতটি অধিক নিরাপদ ও দরিদ্রদের কল্যাণে কার্যকর।
(ج) اوضح قوله عليه الصلاة والسلام : “أيسرك ان يسورك الله بهما يوم القيامة سوارين من نار”.
[(গ) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “তুমি কি পছন্দ কর যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এ দুটি বালার পরিবর্তে তোমাকে আগুনের দুটি বালা পরিয়ে দেন?”-এর বিশদ ব্যাখ্যা কর।]
হাদীসের এই বাক্যাংশটি শরীয়তের এক ভয়াবহ শাস্তির চিত্র তুলে ধরে। অলঙ্কার যদি যাকাতযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কৃপণতাবশত বা অবহেলায় তার হক আদায় না করা হয়, তবে কিয়ামতের ময়দানে সেই অলঙ্কারকেই জাহান্নামের উত্তপ্ত অগ্নিতে রূপান্তর করে পরিধান করানো হবে। যেমন পবিত্র কুরআনে সুরা আত-তাওবায় ইরশাদ হয়েছে: يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ। এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশ্নবোধক ভঙ্গি ব্যবহার করে অন্তরে ভীতি সঞ্চার করেছেন, যাতে পাপের ভয়াবহতা অনুধাবন করে মানুষ তাৎক্ষণিক তওবা করে এবং সম্পদের সঠিক হক আদায় করে। সাহাবী মহিলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বোঝা যায় তারা পরকালের শাস্তিকে কতটা ভয় পেতেন।
(د) من هو عمرو بن شعيب؟ ومن جده؟ هل هو صحابى؟ وضح.
[(ঘ) আমর ইবনে শুআইব কে? তাঁর দাদা কে? তিনি কি সাহাবী ছিলেন? স্পষ্ট কর।]
আমর ইবনে শুআইব হলেন প্রখ্যাত তাবেয়ী ‘আমর ইবনে শুআইব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনিল আস’ (রহ.)। তিনি তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর পিতা শুআইবও তাবেয়ী ছিলেন। যখন সূত্রে বলা হয় ‘عن أبيه عن جده’ (তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে), তখন মুহাদ্দিসীনদের নির্ভরযোগ্য তাহক্বীক্ব অনুযায়ী দাদা দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনিল আস (রা.)। কারণ শুআইবের লালন-পালন ও হাদীসের বর্ণনা সরাসরি তাঁর পিতামহ প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের কাছেই হয়েছিল। অতএব, সূত্রে বর্ণিত ‘দাদা’ হলেন সম্মানিত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনিল আস (রা.), কিন্তু আমর ইবনে শুআইব নিজে সাহাবী নন, তিনি বিশিষ্ট তাবেয়ী।
٢- حدثنا عبدة بن سليمان المروزى أخبرنا ابن المبارك أخبرنا وهيب قال عبدة – يعنى : ابن الورد – أخبرنى عمر بن محمد المنكدر عن سمى عن أبى صالح عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال : من مات ولم يغز، ولم يحدث نفسه بالغزو مات على شعبة من نفاق.
[২. আবদাহ ইবনে সুলাইমান আল-মারওয়াযী ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি উহাইব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ার্দ থেকে, তিনি উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনিল মুনকাদির থেকে, তিনি সুমায়্যী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল অথচ সে জিহাদে অংশগ্রহণ করেনি এবং অন্তরে জিহাদে অংশগ্রহণের ইচ্ছাও পোষণ করেনি, সে মুনাফিকীর একটি শাখার ওপর মৃত্যুবরণ করল।]
শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):
| শব্দরূপ (কালিমা) | মূলধাতু (মাদ্দাহ) | বাব (অধ্যায়) | সিগাহ ও বাহাস | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| مَاتَ | م – و – ت | نصر | واحد مذكر غائب | সে মারা গেল / মৃত্যুবরণ করল |
| لَمْ يَغْزُ | غ – ز – و | نصر | واحد مذكر غائب، جحد بلم | সে যুদ্ধ বা জিহাদ করেনি |
| يُحَدِّثْ | ح – د – ث | تفعيل | واحد مذكر غائب | সে সংকল্প করেনি / কল্পনা করেনি |
| نِفَاق | ن – ف – ق | مفاعلة | مصدر | কপটতা / মুনাফিকী |
(أ) ما المراد بالغزو فى الحديث؟ وما هى اول غزوة غزاها النبى صلى الله عليه وسلم فى حياته الشريفة ومتى؟
[(ক) হাদীসে ‘গাযওয়াহ’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের প্রথম গাযওয়াহ কোনটি এবং কবে সংঘটিত হয়েছিল?]
হাদীসে ‘গাযওয়াহ’ (الغزو) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে পরিচালিত সশস্ত্র যুদ্ধ বা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ। পরিভাষায় যে সকল সামরিক অভিযানে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেগুলোকে ‘গাযওয়াহ’ বলা হয়, আর যেগুলোতে তিনি কোনো সাহাবীকে সেনাপতি করে প্রেরণ করেছিলেন সেগুলোকে ‘সারিয়্যাহ’ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনের সর্বপ্রথম গাযওয়াহ ছিল ‘গাযওয়ায়ে আবওয়া’ (غزوة الأبواء), যা ‘গাযওয়ায়ে ওয়াদ্দান’ নামেও খ্যাত। এটি দ্বিতীয় হিজরীর সফর মাসে (৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে) সংঘটিত হয়েছিল।
(ب) من هو ابن المبارك؟ اكتب نبذة عن حياته بالإيجاز.
[(খ) ইবনুল মুবারক কে? তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ।]
ইবনুল মুবারক হলেন বিশ্ববিশ্রুত ইমাম ও মুহাদ্দিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী (রহ.)। তিনি ১১৮ হিজরীতে খোরাসানের মার্ভ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস, মুজাহিদ, ফকীহ এবং অনন্য দানশীল ব্যক্তি। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এবং ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.)-এর বিশিষ্ট শিষ্য ছিলেন তিনি। বছরের একভাগ তিনি ব্যবসা ও দান-সদকায়, একভাগ ইলমে হাদীস শিক্ষাদানে এবং অপরভাগ সীমান্তে জিহাদে অতিবাহিত করতেন। ১৮১ হিজরীতে হীত নামক স্থানে জিহাদ থেকে ফেরার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন।
(ج) أوضح قوله عليه الصلاة والسلام : مات على شعبة من نفاق.
[(গ) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “সে মুনাফিকীর একটি শাখার ওপর মৃত্যুবরণ করল”-এর বিশদ ব্যাখ্যা কর।]
মুনাফিকদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যে তারা জিহাদকে ভয় পেত, জিহাদের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করত এবং দ্বীনের বিজয়ের জন্য জান ও মালের কুরবানী দিতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ বোধ করত না। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই হাদীসে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করেছেন যে, প্রকৃত মুমিনের হৃদয়ে সর্বদা দ্বীনের প্রতিষ্ঠা ও জিহাদের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিরাজ করবে। যদি কোনো মুসলিম জীবনে জিহাদে সশরীরে অংশগ্রহণের সুযোগ নাও পায়, তবে তার অন্তরে অবশ্যই সেই তামান্না থাকতে হবে। এই তামান্না না থাকা মুনাফিকদের স্বভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা একজন মুমিনের ঈমানী দুর্বলতার মারাত্মক লক্ষণ।
(د) ما الفرق بين الغزوة والجهاد؟ ثم تحدث عن حكم الجهاد فى الاسلام.
[(ঘ) গাযওয়াহ ও জিহাদের মধ্যে পার্থক্য কী? অতঃপর ইসলামে জিহাদের বিধান আলোচনা কর।]
পার্থক্য: জিহাদ হলো একটি ব্যাপক প্রত্যয়, যার অর্থ সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য জান, মাল, ইলম ও সর্বশক্তি দিয়ে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো। পক্ষান্তরে গাযওয়াহ হলো জিহাদের একটি বিশেষ সশস্ত্র সামরিক রূপ যাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছিলেন।
জিহাদের বিধান: ইসলামে সশস্ত্র জিহাদ মূলত ফরযে কিফায়াহ (فرض كفاية)। মুসলিম রাষ্ট্রের একদল মুজাহিদ যদি সীমান্ত পাহারা ও প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকে, তবে সাধারণ মুসলমানদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু যদি শত্রু কোনো মুসলিম ভূখণ্ড আক্রমণ করে বা রাষ্ট্রপ্রধান সাধারণ জিহাদের ডাক (নাফীরে আম) দেন, তখন জিহাদ ফরযে আইন (فرض عين)-এ পরিণত হয়।
٣- حدثنا محمد بن الصباح البزاز، حدثنا هشيم أخبرنا يونس ومنصور عن الحسن عن عبد الرحمن بن سمرة قال : قال لى النبى صلى الله عليه وسلم : يا عبد الرحمن بن سمرة لا تسأل الإمارة، فانك إذا أعطيتها عن مسئلة وكلت فيها إلى نفسك وإن أعطيتها عن غير مسئلة أعنت عليها.
[৩. মুহাম্মদ ইবনুস সাব্বাহ আল-বাযযায হুশাইম থেকে, তিনি ইউনুস ও মানসুর থেকে, তিনি হাসান বছরী থেকে এবং তিনি হযরত আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন: হে আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ! তুমি নেতৃত্ব বা শাসনভার চেয়ে নিও না। কেননা যদি চাওয়ার প্রেক্ষিতে তোমাকে তা দেওয়া হয়, তবে তোমাকে তোমার নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যদি না চেয়েও তোমাকে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে তাতে সাহায্য করা হবে।]
শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):
| শব্দরূপ (কালিমা) | মূলধাতু (মাদ্দাহ) | বাব (অধ্যায়) | সিগাহ ও বাহাস | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| لَا تَسْأَلْ | س – أ – ل | فتح | واحد مذكر حاضر، نهى حاضر | তুমি চেয়ো না / প্রার্থনা করো না |
| أُعْطِيتَهَا | ع – ط – و | إفعال | واحد مذكر حاضر، ماضى مجهول | তোমাকে তা প্রদান করা হলো |
| وُكِلْتَ | و – ك – ل | ضرب | واحد مذكر حاضر، ماضى مجهول | তোমাকে সোপর্দ করা হলো |
| أُعِنْتَ | ع – و – ن | إفعال | واحد مذكر حاضر، ماضى مجهول | তোমাকে সাহায্য প্রদান করা হলো |
(أ) اكتب نبذة من حياة عبد الرحمن بن سمرة بالإيجاز.
[(ক) আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ।]
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ আল-কুরাশী আল-আবশামী (রা.) মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ব নাম ছিল ‘আব্দুল কা’বা’, রাসুলুল্লাহ (সা.) তা পরিবর্তন করে ‘আব্দুর রহমান’ রাখেন। তিনি মুতা যুদ্ধ এবং তাবুক যুদ্ধে সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে হযরত উসমান (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর খেলাফতকালে তিনি সিজিস্তান (সিস্তান) ও কাবুল বিজয়ে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে ইসলামের আলো প্রজ্বলিত করেন। তিনি ৫০ হিজরীতে বসরায় ইন্তেকাল করেন।
(ب) ما الفرق بين الإمارة والخلافة؟ فصل.
[(খ) ইমারত ও খিলাফতের মধ্যে পার্থক্য বিস্তারিত লিখ।]
খিলাফত (الخلافة): রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিনিধি হিসেবে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর দ্বীন রক্ষা এবং পার্থিব বিষয়াবলি পরিচালনার জন্য গঠিত সার্বজনীন ও সর্বোচ্চ ধর্মীয়-রাজনৈতিক নেতৃত্বকে খিলাফত বলা হয়। খলীফার কর্তৃত্ব সমগ্র মুসলিম জাহানে বিস্তৃত।
ইমারত (الإمارة): খলীফা বা ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীন কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশ, অঞ্চল বা বিশেষ সামরিক অভিযানের প্রাদেশিক বা স্থানীয় শাসনভারকে ইমারত বলা হয়। আমীর হলেন খলীফার অধস্তন প্রতিনিধি। সংক্ষেপে, খিলাফত হলো সার্বিক নেতৃত্ব আর ইমারত হলো আঞ্চলিক বা শাখা নেতৃত্ব।
(ج) اشرح قوله عليه الصلاة والسلام : وإن أعطيتها عن غير مسئلة أعنت عليها.
[(গ) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “আর যদি না চেয়ে তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তোমাকে সাহায্য করা হবে”-এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।]
যে ব্যক্তি পদের লোভ না করে কেবল দ্বীনের খেদমত ও ন্যায়ের তাগিদে সমাজ ও উম্মাহর অনুরোধে অনিচ্ছাসত্ত্বেও নেতৃত্ব গ্রহণ করে, তার নিয়ত বিশুদ্ধ থাকে। ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে বিশেষ গায়েবী মদদ, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রজ্ঞা (হিকমত) এবং ন্যায়বিচার কায়েমের শক্তি দান করেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজে চেয়ে পদ দখল করে, সে আত্মম্ভরিতার শিকার হয় এবং আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে কেবল নিজের দুর্বল মেধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়।
(د) ماذا يستفاد من هذا الحديث؟ وضح.
[(ঘ) এই হাদীস থেকে কী কী শিক্ষা পাওয়া যায়? স্পষ্ট কর।]
১. পদপ্রার্থী হয়ে নেতৃত্ব বা দায়িত্ব চাওয়া ইসলামী শরীয়তে চরমভাবে অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ।
২. জোরপূর্বক বা কূটকৌশলে পদ গ্রহণকারী আল্লাহর মদদ ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।
৩. দায়িত্ব অর্পিত হলে তা একটি আমানত হিসেবে ভয় ও বিনয়ের সাথে গ্রহণ করতে হয়।
৪. প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর আত্মপ্রচার বা আগ্রহ নয়, বরং তার তাকওয়া ও যোগ্যতাই বিবেচ্য।
٤- عن عبد الله عمرو قال : كنت أكتب كل شيئ أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه، فنهتنى قريش وقالوا : أتكتب كل شيئ تسمعه ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر يتكلم فى الغضب والرضا، فأمسكت عن الكتاب فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فأومأ بأصبعه إلى فيه فقال : اكتب فوالذى نفسى بيده ما يخرج منه الا حق.
[৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে যা শুনতাম তা মুখস্থ ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। কিন্তু কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করে বলল: তুমি যা শোন তাই লিখে রাখ? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন মানুষ, তিনি সন্তুষ্টি এবং রাগ উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন। এ কথা শুনে আমি হাদীস লেখা বন্ধ করে দিলাম এবং বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালাম। তখন তিনি তাঁর পবিত্র আঙ্গুল দ্বারা মুখের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: তুমি লিখে রাখ! সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, এই মুখ দিয়ে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না!]
শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):
| শব্দরূপ (কালিমা) | মূলধাতু (মাদ্দাহ) | বাব (অধ্যায়) | সিগাহ ও বাহাস | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| أُرِيدُ | ر – و – د | إفعال | واحد متكلم مضارع | আমি ইচ্ছা করতাম / চাইতাম |
| يَتَكَلَّمُ | ك – ل – م | تفعّل | واحد مذكر غائب | তিনি কথা বলেন |
| فَأَمْسَكْتُ | م – س – ك | إفعال | واحد متكلم ماضى | অতঃপর আমি বিরত থাকলাম |
| فَأَوْمَأَ | و – م – أ | إفعال | واحد مذكر غائب | তিনি ইশারা বা ইঙ্গিত করলেন |
(أ) بين أقوال العلماء فى حكم كتابة الحديث مدللا.
[(ক) হাদীস লিখনের বিধান সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের অভিমত দলিলসহ বর্ণনা কর।]
ইসলামের প্রাথমিক যুগে হাদীস লিপিবদ্ধকরণের ব্যাপারে দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট বিদ্যমান ছিল:
প্রাথমিক যুগ (নিষেধাজ্ঞা): ইসলামের সূচনালগ্নে কুরআনের সাথে হাদীস মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং সাহাবীদের প্রখর মুখস্থশক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করার কারণে সাধারণ মুসলিমদের জন্য হাদীস লেখা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। যেমন আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত হাদীসে নবীজী (সা.) ইরশাদ করেছিলেন: لَا تَكْتُبُوا عَنِّي وَمَنْ كَتَبَ عَنِّي غَيْرَ الْقُرْآنِ فَلْيَمْحُهُ (আমার থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না, আর যে লিখেছে সে যেন তা মুছে ফেলে)।
পরবর্তী যুগ (বৈধতা ও আবশ্যকীয়তা): কুরআন যখন সুসংহতভাবে লিখিত ও সংরক্ষিত হয়ে গেল এবং সাহাবীদের বিভ্রান্ত হওয়ার ভয় দূর হলো, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে হাদীস লেখার অনুমতি দেন। আলোচ্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে লেখার নির্দেশ প্রদান এবং আবু শাহ নামক ইয়ামেনী সাহাবীর জন্য ভাষণ লিখে দেওয়ার নির্দেশ (اكْتُبُوا لِأَبِي شَاهٍ) এর অকাট্য প্রমাণ। ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে হাদীস সংরক্ষণ ও সংকলন করা ফরযে কিফায়াহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
(ب) فى هذا الحديث بيان جواز كتابة الحديث، وفى رواية زيد بن ثابت قال : إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرنا أن لا نكتب شيئا من حديثه فما التوفيق بين الحديثين؟
[(খ) এ হাদীসে হাদীস লেখার বৈধতা রয়েছে, অথচ যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে নবীজী (সা.) হাদীস লিখতে নিষেধ করেছেন। উভয় হাদীসের মাঝে সমন্বয় কীভাবে করবে?]
মুহাদ্দিসীন কেরাম অত্যন্ত চমৎকারভাবে উভয় প্রকার হাদীসের মাঝে সমন্বয় (তাওফীক্ব) সাধন করেছেন:
১. নাসিখ ও মানসূখ (রহিতকরণ): নিষেধাজ্ঞার হাদীসগুলো ছিল ইসলামের সূচনালগ্নের প্রাথমিক নির্দেশ (মানসূখ), আর অনুমতির হাদীসগুলো পরবর্তীকালের যা পূর্বের হুকুমকে রহিত করে দিয়েছে।
২. কুরআনের সাথে সংমিশ্রণ রোধ: একই পাতায় কুরআনের আয়াতের সাথে হাদীস লিখতে নিষেধ করা হয়েছিল যাতে সাধারণ মানুষের কাছে তা কুরআনের অংশ মনে না হয়। পৃথকভাবে হাদীস সংরক্ষণে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
৩. মুখস্থশক্তির ভিন্নতা: যাঁর মুখস্থশক্তি দুর্বল ছিল তাঁকে লেখার অনুমতি দেওয়া হতো (যেমন আবু শাহ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর), আর সাধারণ সাহাবীদের মেধার পূর্ণ বিকাশের জন্য স্মৃতির ওপর নির্ভর করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল।
(ج) اكتب نبذة عن حياة عبد الله بن عمرو باختصار.
[(গ) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ।]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনিল আস (রা.) ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী। তিনি তাঁর পিতা আমর ইবনিল আস (রা.)-এর পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ফকীহ, আবিদ ও হাদীসের অন্যতম প্রধান হাফেয। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তিনি সহস্রাধিক হাদীস লিপিবদ্ধ করে ‘আস-সাহীফাহ আস-সাদিক্বাহ’ (الصحيفة الصادقة) নামে একটি স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি রাতের অধিকাংশ সময় নফল নামাযে এবং দিনে সিয়াম সাধনায় অতিবাহিত করতেন। ৬৫ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
٥- حدثنا مالك بن عبد الواحد أبو غسان، حدثنا معتمر قال : قرأت على الفضيل بن ميسرة عن أبى حريز أن عامرا حدثه أن النعمان بن بشير قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إن الخمر من العصير والزبيب والتمر والحنطة والشعير والذرة، وإنى أنهاكم عن كل مسكر.
[৫. মালিক ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আবু গাসসান মুতামির থেকে, তিনি ফুযাইল ইবনে মায়সারা থেকে, তিনি আবু হারীয থেকে, তিনি আমির থেকে এবং তিনি নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: খামর (মদ) তৈরি হয় আঙ্গুরের রস, কিসমিস, খেজুর, গম, যব এবং ভুট্টা থেকে। আর আমি তোমাদেরকে প্রতিটি নেশাজাতীয় বস্তু থেকে নিষেধ করছি।]
শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):
| শব্দরূপ (কালিমা) | মূলধাতু (মাদ্দাহ) | বাব (অধ্যায়) | সিগাহ ও বাহাস | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| الْخَمْر | خ – م – ر | ضرب | اسم جنس | মদ / যা বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে |
| الْعَصِير | ع – ص – ر | ضرب | فعيل بمعنى مفعول | নিংড়ানো ফলের রস |
| أَنْهَاكُمْ | ن – ه – ي | فتح | واحد متكلم مضارع | আমি তোমাদের নিষেধ করছি |
| مُسْكِر | س – ك – ر | إفعال | اسم فاعل | নেশাদায়ক বস্তু / মাদক |
(أ) ما معنى الخمر لغة وإصطلاحا؟ ولم سمى الخمر به؟ وضح.
[(ক) খামর শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? একে খামর কেন বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।]
আভিধানিক অর্থ: ‘খামর’ (الخمر) শব্দের মূল অর্থ হলো ঢেকে ফেলা, আচ্ছন্ন করা বা গোপন করা (التغطية والستر)। যে বস্তু মানব মস্তিষ্ক বা বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে তাকে খামর বলা হয়। নারীদের ওড়নাকে এ কারণেই ‘খিমার’ (خمار) বলা হয় কারণ তা মাথা ঢেকে রাখে।
পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায় যে কোনো পানীয় বা উপাদান যা গ্রহণের ফলে মানব মস্তিষ্ক বিকৃত হয়, মাদকতা সৃষ্টি হয় এবং বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায় তাকে খামর বা মদ বলে। ইমাম শাফেয়ী ও জুমহুর ফকীহদের মতে, যা কিছুই নেশা সৃষ্টি করে তা-ই খামর।
নামকরণের কারণ: মদ পান করার পর তা মানুষের স্বাভাবিক বুদ্ধি, বিবেক ও সুস্থ চিন্তাশক্তিকে ঢেকে ফেলে এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় বলেই একে ‘খামর’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।
(ب) ما الحكمة من التدرج فى تحريم الخمر فى الإسلام؟ فصل.
[(খ) ইসলামে পর্যায়ক্রমে মদ নিষিদ্ধ করার হিকমত ও তাৎপর্য বিস্তারিত লিখ।]
জাহেলী যুগের আরব সমাজে মদ ছিল তাদের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ এতে গভীরভাবে আসক্ত ছিল। যদি প্রথম দিনেই আকস্মিকভাবে মদ সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হতো, তবে অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই এই কঠোর অনুশাসন পালন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। এজন্য মহান আল্লাহ অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক উপায়ে চার ধাপে মদ নিষিদ্ধ করেন:
১. প্রথম ধাপ (সুরা আন-নাহল: ৬৭): মদের ক্ষতিকর দিক ও ভালো পানীয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য নির্দেশ।
২. দ্বিতীয় ধাপ (সুরা আল-বাক্বারাহ: ২১৯): ঘোষণা করা হয় যে মদে লাভের চেয়ে পাপ ও ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেশি।
৩. তৃতীয় ধাপ (সুরা আন-নিসা: ৪৩): নামাযের সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মসজিদে আসতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
৪. চতুর্থ ধাপ (সুরা আল-মায়িদাহ: ৯০-৯১): চূড়ান্তভাবে মদকে শয়তানের অপবিত্র কাজ (রিজস) আখ্যা দিয়ে চিরতরে সম্পূর্ণ হারাম ও বর্জনীয় ঘোষণা করা হয়। এই পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির ফলে সাহাবায়ে কেরাম নির্দ্বিধায় মদের পাত্র ভেঙে মদীনার অলিগলিতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।
(د) هل يجوز الانتفاع بالخمر فى التداوى؟ اذكر أقوال العلماء فى هذه المسئلة.
[(ঘ) চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মদের ব্যবহার জায়েজ কি না? আলেমদের মতামত উল্লেখ কর।]
চিকিৎসায় মদের ব্যবহারের ব্যাপারে জুমহুর ওলামায়ে কেরাম ও ফকীহগণের অভিমত হলো খাঁটি মদ পান বা ব্যবহার করে চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় ইরশাদ করেছেন: إِنَّهَا لَيْسَتْ بِدَوَاءٍ وَلَكِنَّهَا دَاءٌ (নিশ্চয় তা কোনো ওষুধ নয়, বরং তা নিজেই একটি ব্যাধি)। অপর হাদীসে এসেছে: إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَكُمْ فِيمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ (আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি)। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে যদি কোনো জীবন রক্ষাকারী ওষুধে যৎসামান্য অ্যালকোহল এমনভাবে রাসায়নিক রূপান্তর ঘটে যা নেশা সৃষ্টি করে না এবং তার কোনো বিকল্প হালাল ওষুধ না থাকে, তবে নিতান্ত বাধ্যগত অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে তা ব্যবহারের অবকাশ ফকীহগণ দিয়েছেন।
٦- حدثنا أحمد بن صالح حدثنا ابن وهب أخبرنى معاوية عن عبد الرحمن بن جبير عن أبيه، عن عوف بن مالك قال : كنا نرقى فى الجاهلية فقلنا : يا رسول الله! كيف ترى فى ذلك؟ فقال : اعرضوا على رقاكم، لا بأس بالرقى ما لم تكن شركا.
[৬. আহমাদ ইবনে সালিহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি হযরত আউফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা জাহেলী যুগে ঝাড়ফুঁক (মন্ত্রতন্ত্র) করতাম। আমরা আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি ইরশাদ করলেন: তোমাদের ঝাড়ফুঁকের বাক্যগুলো আমার সামনে উপস্থাপন কর। ঝাড়ফুঁকে কোনো দোষ নেই যতক্ষণ না তাতে শিরক থাকে।]
শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):
| শব্দরূপ (কালিমা) | মূলধাতু (মাদ্দাহ) | বাব (অধ্যায়) | সিগাহ ও বাহাস | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| كُنَّا نَرْقِى | ر – ق – ي | ضرب | جمع متكلم مضارع استمرارى | আমরা ঝাড়ফুঁক করতাম |
| تَرَى | ر – أ – ي | فتح | واحد مذكر حاضر | আপনি বিবেচনা করেন / দেখেন |
| اعْرِضُوا | ع – ر – ض | ضرب | جمع مذكر حاضر، أمر حاضر | তোমরা পেশ কর / উপস্থাপন কর |
| رُقًى | ر – ق – ي | – | اسم جمع (مفرد: رقية) | ঝাড়ফুঁকসমূহ / মন্ত্রসমূহ |
(أ) ما معنى الرقية لغة وإصطلاحا؟ بين.
[(ক) রুকিয়াহ শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ বর্ণনা কর।]
আভিধানিক অর্থ: ‘রুকিয়াহ’ (الرقية) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো আশ্রয় প্রার্থনা করা, রক্ষা পাওয়া, ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্র পড়া। এর বহুবচন হলো ‘রুকা’ (رُقًى)।
পারিভাষিক অর্থ: রোগব্যাধি, বিষাক্ত প্রাণীর দংশন, বদনজর বা জিন-ভূতের আছর থেকে মুক্তি ও আরোগ্যের উদ্দেশ্যে কুরআনুল কারীমের আয়াত, আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ কিংবা রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত মাসনূন দোয়াসমূহ পাঠ করে ফুঁ দেওয়া বা তাবীয আকারে দোয়া ব্যবহার করাকে শরীয়তের পরিভাষায় ‘রুকিয়াহ’ বা ঝাড়ফুঁক বলা হয়।
(ب) ما حكم الرقية فى الشريعة الإسلامية؟ اذكر مدللا.
[(খ) ইসলামী শরীয়তে ঝাড়ফুঁকের বিধান দলিলসহ আলোচনা কর।]
ইসলামী শরীয়তে শর্তসাপেক্ষে ঝাড়ফুঁক করা সম্পূর্ণ জায়েয ও মুস্তাহাব। ইমাম হাফেয ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে তিনটি শর্ত সাপেক্ষে ঝাড়ফুঁক করা সর্বসম্মতভাবে বৈধ:
১. ঝাড়ফুঁকের বাক্যগুলো মহান আল্লাহর কালাম (কুরআন মাজীদ), তাঁর পবিত্র নাম বা গুণাবলী দ্বারা হতে হবে।
২. আরবি ভাষা অথবা সুস্পষ্ট ও অর্থবোধক বোধগম্য ভাষায় হতে হবে, যাতে কোনো কুফরী বা অজ্ঞাত মন্ত্র না থাকে।
৩. এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে ঝাড়ফুঁক স্বয়ং আরোগ্যকারী নয়, বরং আরোগ্য দানকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা; এটি কেবলই একটি বাহ্যিক মাধ্যম মাত্র। যদি এতে কোনো শিরকী শব্দ বা তারকার পূজা থাকে, তবে তা সর্বসম্মতভাবে হারাম ও শিরক।
(د) اكتب نبذة عن حياة الصحابى الجليل عوف بن مالك (رض) بالإيجاز.
[(ঘ) মহান সাহাবী হযরত আউফ ইবনে মালিক (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখ।]
হযরত আউফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ (রা.) ছিলেন একজন বিশিষ্ট আনসারী সাহাবী। তিনি খাইবার যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বীরত্বের সাথে মুতা যুদ্ধ ও মক্কা বিজয়ে অংশগ্রহণ করেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাঁর গোত্র বনু আশজা’র পতাকা বহন করেছিলেন। তিনি শাম (সিরিয়া) বিজয়ে অংশ নেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি অত্যন্ত পরহেযগার ও সুবক্তা সাহাবী ছিলেন। ৭৩ হিজরীতে দামেস্কে খলীফা আব্দুল মালিকের শাসনামলে তিনি ইন্তেকাল করেন।
٧- عن معاوية بن أبى سفيان أنه قام فينا فقال : ألا إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قام فينا فقال ألا إن من قبلكم من أهل الكتاب افترقوا على ثنتين و سبعين ملة، وإن هذه الملة ستفترق على ثلاث وسبعين ثنتان وسبعون فى النار وواحدة فى الجنة وهى الجماعة – زاد يحيى و عمرو فى حديثهما : وإنه سيخرج من أمتى أقوام تجارى بهم تلك الأهواء كما يتجارى الكلب لصاحبه.
[৭. হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: জেনে রাখ! নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবরা (ইহুদী ও নাসারা) বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। যার মধ্যে বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে এবং মাত্র একটি দল জান্নাতে প্রবেশ করবে— আর সেটি হলো ‘আল-জামাআত’। বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ও আমর হাদীসে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন কিছু দলের উদ্ভব ঘটবে যাদের মধ্যে নানাবিধ বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তি এমনভাবে বিস্তার লাভ করবে যেমন জলাতঙ্ক রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ে।]
শব্দার্থ ও তাহক্বীক্ব (তাহক্বীক্বে কালিমা):
| শব্দরূপ (কালিমা) | মূলধাতু (মাদ্দাহ) | বাব (অধ্যায়) | সিগাহ ও বাহাস | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| افْتَرَقُوا | ف – ر – ق | افتعال | جمع مذكر غائب | তারা বিভক্ত হয়েছিল |
| مِلَّة | م – ل – ل | – | اسم مفرد (جمع: ملل) | ধর্ম / সম্প্রদায় / জাতি |
| سَيَخْرُجُ | خ – ر – ج | نصر | واحد مذكر غائب استقبال | অচিরেই আত্মপ্রকাশ করবে |
| تَجَارَى | ج – ر – ي | تفاعل | واحد مؤنث غائب | প্রবাহিত হয় / ছড়িয়ে পড়ে |
(أ) ما الفرقة الناجية؟ تحدث عن هذه الفرقة مدللا.
[(ক) ফিরক্বা নাজিয়াহ (পরিত্রাণপ্রাপ্ত দল) কারা? দলিলসহ আলোচনা কর।]
‘ফিরক্বা নাজিয়াহ’ (الفرقة الناجية) অর্থ হলো সেই সৌভাগ্যবান নাজাতপ্রাপ্ত বা মুক্তিপ্রাপ্ত দল যারা কিয়ামতের ময়দানে জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আলোচ্য হাদীসে তাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন: وَهِيَ الْجَمَاعَةُ (আর তা হলো আল-জামাআত)। তিরমিযী শরীফের অন্য এক বর্ণনায় তাদের পরিচয় আরও সুস্পষ্ট করে ইরশাদ হয়েছে: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي (যে পথের ওপর আমি এবং আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত রয়েছি)। অর্থাৎ যারা আক্বীদা, আমল, নৈতিকতা ও শরীয়তের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনসহ সাহাবায়ে কেরামের আদর্শের ওপর অটল থাকবে, তারাই হলো ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত’ বা ফিরক্বা নাজিয়াহ।
(ب) ما معنى الفرقة؟ وما الفرق بين الفرقة والملة؟ وضح.
[(খ) ফিরক্বাহ শব্দের অর্থ কী? ফিরক্বাহ ও মিল্লাত-এর মধ্যে পার্থক্য কী? স্পষ্ট কর।]
ফিরক্বাহ (الفرقة): ফিরক্বাহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দল, উপদল, বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী। পরিভাষায় কোনো মূল ধর্ম বা জামাআতের অভ্যন্তরে আকিদাগত মতভেদ বা বিভ্রান্তির কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত উপদলকে ফিরক্বাহ বলা হয়। যেমন শিয়া, খারেজী, মুতাজিলা ইত্যাদি।
মিল্লাত (الملة): মিল্লাত হলো কোনো নবী বা আসমানী কিতাবের অনুসারী সামগ্রিক উম্মত বা বৃহত্তর জাতিসত্তা। যেমন মিল্লাতে ইবরাহীম, মিল্লাতে ইসলামিয়া। অতএব, মিল্লাত হলো বৃহত্তর মূল দ্বীন, আর ফিরক্বাহ হলো সেই মিল্লাতের অভ্যন্তরে শাখা মতভেদের ভিত্তিতে গঠিত উপদল।
(ج) اشرح قوله عليه الصلاة والسلام : إنه سيخرج من أمتى أقوام تجارى بهم تلك الأهواء كما يتجارى الكلب لصاحبه.
[(গ) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “আমার উম্মতের মাঝে এমন দলের উদ্ভব ঘটবে যাদের মাঝে প্রবৃত্তি এমনভাবে বিস্তার করবে যেমন জলাতঙ্ক রোগ রোগীর দেহে ছড়িয়ে পড়ে”-এর তাৎপর্য ও রোগতত্ত্বের উপমা ব্যাখ্যা কর।]
এখানে আরবি ‘কালব’ (الكَلَبُ) শব্দটি পেছনের হরফে যবর দিয়ে জলাতঙ্ক (Rabies) ব্যাধিকে নির্দেশ করে। জলাতঙ্ক আক্রান্ত পাগলা কুকুর যদি কাউকে দংশন করে, তবে সেই বিষ দ্রুত রোগীর রক্ত, মাংসপেশী, স্নায়ুতন্ত্র এবং প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াতের অসাধারণ উপমায় ব্যক্ত করেছেন যে, শেষ যামানায় কিছু বিভ্রান্ত দল উদ্ভাবিত হবে যাদের আকিদায় বিদআত, কুপ্রবৃত্তি ও যুক্তিপূজার বিষ এমনভাবে প্রবেশ করবে যে তাদের চিন্তা-চেতনা, রক্ত ও মনন সম্পূর্ণ বিষাক্ত হয়ে যাবে। তারা নিজেদের ভুলকেই সঠিক মনে করবে এবং ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ : তাত্ত্বিক ও ইতিহাস অংশ (মান: ২০ × ১ = ২০)
٨- اكتب نبذة عن حياة الإمام أبى داؤد السجستانى مع بيان مناقبه وأشهر شيوخه وتلاميذه ومكانته العلمية.
[৮. ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (রহ.)-এর জীবনচরিত, তাঁর চারিত্রিক গুণাবলী, বরেণ্য উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দ এবং ইলমে হাদীসে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা: সিহাহ সিত্তাহ বা হাদীসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলক হলেন ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (রহ.)। ফিকহী হাদীস বা ‘আহকাম’ সম্পর্কিত হাদীস সংকলনে তিনি ইসলামী ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর সংকলিত ‘সুনানু আবি দাউদ’ ফিকহুল হাদীস ও শরীয়তের বিধিবিধানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
নাম, বংশ ও জন্ম: তাঁর পূর্ণ নাম সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশীর আল-আযদি আস-সিজিস্তানী। তাঁর উপনাম ‘আবু দাউদ’। তিনি ২০২ হিজরীতে (৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে) পারস্য ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খোরাসানের ‘সিজিস্তান’ (সিস্তান) নামক ঐতিহাসিক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা সফর ও উস্তাদবৃন্দ: ইলমে হাদীসের অন্বেষণে তিনি তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের প্রায় সকল জ্ঞানকেন্দ্রে ভ্রমণ করেন। তিনি খোরাসান, বাগদাদ, বসরা, কুফা, দামেশ্ক, হিজায ও মিশর সফর করেন। তিনি সমকালের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর তিন শতাধিক উস্তাদের মধ্যে প্রধান হলেন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইমাম কুতায়বাহ ইবনে সাঈদ (রহ.), ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.), আলী ইবনুল মাদীনী (রহ.) এবং মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ (রহ.)। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর সাথে তাঁর গভীর ফিকহী সম্পর্ক ছিল।
ছাত্রবৃন্দ: তাঁর বিশাল জ্ঞানসমুদ্র থেকে তৎকালীন বিশ্বের অসংখ্য মনীষী ফায়দা হাসিল করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম তিরমিযী (রহ.), ইমাম নাসাঈ (রহ.), তাঁর সুযোগ্য পুত্র আবু বকর ইবনে আবি দাউদ, আবু আওয়ানাহ আল-ইসফারায়িনী এবং আবু আলী আল-লু’লুয়ী (যিনি সুনান গ্রন্থের প্রধান রাবী)।
চরিত্র ও মর্যাদা: ইমাম আবু দাউদ ছিলেন তাকওয়া, যুহদ (সংসারবিরাগ) এবং আমানতদারীর মূর্ত প্রতীক। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবু হাতিম আর-রাযী (রহ.) বলেন, তিনি ছিলেন হাদীসের বিষয়ে বিশ্বস্ত ও অত্যন্ত সুদৃঢ় ইমাম। ইব্রাহীম আল-হারবী বলেন, দাউদ (আ.)-এর জন্য যেমন লোহাকে নরম করে দেওয়া হয়েছিল, তেমনি আবু দাউদের জন্য ইলমে হাদীসকে নরম ও সহজ করে দেওয়া হয়েছিল।
ওফাত: ইলম ও সুন্নাহর এই মহান খাদেম ২৭৫ হিজরীর ১৬ই শাওয়াল বসরার পুণ্যভূমিতে ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
٩- اكتب مقالة وجيزة حول السنن لأبى داؤد تشتمل على النقاط التالية : (أ) خصائص سننه؛ (ب) منهج المؤلف فيه؛ (ج) عدد أحاديثه ورواته؛ (د) منزلته بين كتب الحديث.
[৯. সুনানু আবি দাউদ গ্রন্থের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রচনা কর, যা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করবে: (ক) সুনানের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ; (খ) সংকলকের পদ্ধতি ও মানহাজ; (গ) হাদীস সংখ্যা ও রাবীগণের বিবরণ; (ঘ) হাদীসের গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা।]
ভূমিকা: ‘সুনানু আবি দাউদ’ হলো ফিকহী ও আহকামের হাদীসসমূহের এক অনন্য বিশ্বকোষ। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) বিশ বছর যাবৎ অক্লান্ত পরিশ্রম ও তাহক্বীক্বের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষাধিক হাদীস থেকে যাচাই-বাছাই করে এই অমর গ্রন্থটি সংকলন করেন।
(ক) সুনানু আবি দাউদের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. আহকাম বা ফিকহী হাদীসের প্রাচুর্য: এটি মূলত শরীয়তের হালাল, হারাম, ওয়াজিব ও সুন্নত সম্পর্কিত বিধিবিধানের হাদীস নিয়ে সাজানো।
২. মুজতাহিদগণের দলিল: ফকীহ ও মুজতাহিদ ইমামগণ যেসব হাদীসের ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন, সেই দলিলগুলোকে এতে নিখুঁতভাবে সংকলন করা হয়েছে।
৩. সনদের বৈচিত্র্য ও ইলাল বিশ্লেষণ: হাদীসের কোনো দোষ বা ইল্লাত থাকলে ইমাম আবু দাউদ তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উল্লেখ করেছেন।
৪. সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট ফিকহী তারাজিম: অধ্যায়ের শিরোনামসমূহ (তারাজিমুল আবওয়াব) সরাসরি ফিকহী মাসআলা নির্দেশক।
(খ) সংকলকের পদ্ধতি ও মানহাজ:
ইমাম আবু দাউদ মক্কাবাসীদের উদ্দেশ্যে লিখিত তাঁর বিখ্যাত চিঠিতে (রিসালাতু আবি দাউদ ইলা আহলি মাক্কাহ) তাঁর সংকলন পদ্ধতি স্পষ্ট করেছেন: তিনি সহীহ ও সহীহের সমপর্যায়ের হাসান হাদীস সংকলন করেছেন। কোনো হাদীসে দুর্বলতা থাকলে তিনি তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন (وَمَا كَانَ فِيهِ وَهْنٌ شَدِيدٌ بَيَّنْتُهُ)। আর যে হাদীসের ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি, তা তাঁর দৃষ্টিতে ‘সালিহ’ (গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য)।
(গ) হাদীস সংখ্যা ও রাবীগণ:
ইমাম আবু দাউদের নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী এই গ্রন্থে মোট ৪,৮০০টি হাদীস রয়েছে। তবে মুরসাল ও পুনরাবৃত্তিসহ কোনো কোনো নুসখায় এর সংখ্যা ৫,২Audit করে ৫,২৭৪টি পর্যন্ত গণনা করা হয়েছে। তাঁর গ্রন্থের প্রধান রাবীদের মধ্যে আবু আলী আল-লু’লুয়ী, আবু বকর ইবনে দাসাহ, এবং আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(ঘ) হাদীস বিশ্বকোষে সুনানু আবি দাউদের মর্যাদা:
হাদীসের কিতাবসমূহের মধ্যে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর পরেই সুনানের কিতাবসমূহের স্থান, আর সুনান চতুষ্টয়ের মধ্যে সুনানু আবি দাউদের স্থান শীর্ষে। খাত্তাবী (রহ.) বলেন, দ্বীনের বিধিবিধান জানার জন্য এই কিতাবের সমকক্ষ কোনো গ্রন্থ আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি। এমনকি ইমাম গাযালী (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে একজন মুজতাহিদের জন্য সুনানু আবি দাউদ অধ্যয়ন করাই আহকামের হাদীস জানার জন্য যথেষ্ট।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. কামিল ১ম বর্ষ হাদীস ১ম পত্রের বিষয় কোড ও নাম কী?
কামিল ১ম বর্ষ হাদীস প্রথম পত্রের বিষয় নাম হলো ‘সুনানু আবি দাউদ’ (Sunan Abi Dawud 1st Paper) এবং এর বিষয় কোড হলো ৬১১১০১ (611101)।
২. সুনানু আবি দাউদ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কাঠামো ও মানবণ্টন কেমন?
পরীক্ষার মোট পূর্ণমান ১০০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রে দুটি বিভাগ থাকে: ‘ক’ বিভাগ হতে ৭টি হাদীসের মধ্য থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (৪ × ২০ = ৮০ নম্বর) এবং ‘খ’ বিভাগ হতে ২টি তাত্ত্বিক ও ইতিহাসমূলক প্রশ্নের মধ্য থেকে ১টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (১ × ২০ = ২০ নম্বর)।
৩. প্রতিটি হাদীস প্রশ্নের উত্তরে তাহক্বীক্বে কালিমা ও তরজমা কীভাবে উপস্থাপন করা উচিত?
হাদীসের মূল পাঠের পর নির্ভুল বাংলা অনুবাদ লিখতে হয়। এরপর প্রশ্নে নির্দেশিত গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর মূলধাতু (মাদাহ), বাব, ছীগাহ ও অর্থ ছক আকারে সাজিয়ে দেওয়া উচিত। এর ফলে উত্তর মানসম্মত হয় এবং পরীক্ষক সন্তুষ্ট হয়ে সর্বোচ্চ নম্বর প্রদান করেন।
৪. ইমাম আবু দাউদের নীরবতা (সুকুত) কোনো হাদীসের ক্ষেত্রে কী প্রমাণ করে?
ইমাম আবু দাউদ (রহ.) তাঁর কিতাবে দুর্বল হাদীস উল্লেখ করলে তার দোষ বর্ণনা করে দেন। যে হাদীসের ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য না করে নীরব থাকেন, মুহাদ্দিসীনদের মূলনীতি অনুযায়ী তা তাঁর দৃষ্টিতে ‘সালিহ’ অর্থাৎ হাসান বা সহীহ পর্যায়ের আমলযোগ্য দলিল।
৫. সুনানু আবি দাউদকে ফকীহদের মূল কিতাব বলা হয় কেন?
কারণ এই গ্রন্থে মূলত শরীয়তের আহকাম ও আমল সম্পর্কিত হাদীসসমূহ ফিকহী তারতীবে সাজানো হয়েছে। চার মাযহাবের ইমাম ও মুজতাহিদগণ মাসআলা উদ্ভাবনে যেসব হাদীস দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সুনানু আবি দাউদে সেগুলোর প্রামাণ্য সন্নিবেশ ঘটেছে।
৬. কামিল ১ম বর্ষ পরীক্ষায় সুনানু আবি দাউদ অংশে ভালো ফলাফলের উপায় কী?
বিগত সালের বোর্ড প্রশ্নসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ সমাধান করা, হাদীসের আরবি পাঠ শুদ্ধভাবে আয়ত্ত করা, রাবীদের জীবনী ও নির্ভরযোগ্যতা জানা, এবং ফিকহী মতভেদগুলো কুরআন ও সুন্নাহর প্রামাণ্য দলিলের আলোকে খাতায় উপস্থাপন করার মাধ্যমে পরীক্ষায় এ-প্লাস অর্জন করা সম্ভব।

