সুনানুত তিরমিযী ওয়া শামায়িলুত তিরমিযী ২য় পত্র (Sunan at-Tirmidhi & Shamail at-Tirmidhi 2nd Paper) – 611102, হাদীস – কামিল ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
১০৪ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস প্রথম পর্ব পরীক্ষা, ২০২৩
হাদীস বিভাগ (দ্বিতীয় পত্র)
বিষয়: সুনানুত তিরমিযী ওয়া শামায়িলুত তিরমিযী [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: ৬১১১০২ | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

[الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والدرجات مذكورة في الهامش-]
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ হতে যেকোনো চারটি এবং (খ) বিভাগ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বাম পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

مجموعة (أ) – ক বিভাগ : হাদীস অংশ (মান: ২০ × ৪ = ৮০)

١- عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا توضأ العبد المسلم او المؤمن فغسل وجهه خرجت من وجهه كل خطيئة نظر اليها بعينيه مع الماء او مع اخر قطر الماء – او نحو هذا – واذا غسل يديه خرجت من يديه كل خطيئة بطشتها يداه مع الماء او مع اخر قطر الماء حتى يخرج نقيا من الذنوب. قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح.

[১. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— “কোনো মুসলিম কিংবা মুমিন বান্দা যখন ওযু করে এবং ওযুর অংশ হিসেবে নিজ মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে কিংবা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার চেহারা হতে সেই সকল সগীরা গুনাহ নির্গত হয়ে যায় যা সে তার দুই চোখ দিয়ে দেখেছিল (অথবা রাসুলুল্লাহ সা. এর অনুরূপ শব্দ বলেছিলেন)। অতঃপর যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন পানির সাথে কিংবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার হাত হতে সেই সমস্ত গুনাহ ঝরে পড়ে যা তার দুই হাত দ্বারা উপার্জিত বা স্পর্শিত হয়েছিল; এমনকি শেষ পর্যন্ত সে যাবতীয় গুনাহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র ও নিষ্কলুষ হয়ে যায়।” ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী (রহ.) বলেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ।]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
تَوَضَّأَ সে ওযু করল و – ض – أ (تَفَعُّل) واحد مذكر غائب (ماض معروف) فعل الشرط بعد “إذا”
غَسَلَ সে ধৌত করল غ – س – ل (ضرب) واحد مذكر غائب (ماض معروف) معطوف على توضأ
بَطَشَتْهَا তার হাত তা আঁকড়ে ধরেছিল ب – ط – ش (ضرب) واحد مؤنث غائب (ماض) صلة الموصول أو نعت لـ “خطيئة”
يَخْرُجُ সে বের হয়ে যায় / উপনীত হয় خ – ر – ج (نصر) واحد مذكر غائب (مضارع) مضارع منصوب بأن مضمرة بعد حتى
نَقِيًّا পবিত্র / নিষ্কলুষ অবস্থায় ن – ق – و صفة مشبهة مفرد مذكر منصوب حال منصوب بالفتحة الظاهرة

(أ) ما معنى الطهارة؟ وكم قسما لها؟

তাহারাত-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং প্রকারভেদ: ‘তাহারাত’ (الطَّهَارَة) শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা, নির্মলতা, পরিচ্ছন্নতা এবং যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় নাপাকী (হাদাস ও নাজাসাত) দূর করে সালাত ইত্যাদি ইবাদতের যোগ্যতা অর্জন করাকে তাহারাত বলে। ওলামায়ে কেরাম তাহারাতকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন: ১. অভ্যন্তরীণ তাহারাত (طهارة باطنة): শিরক, কুফর, রিয়া, হিংসা, অহংকার ইত্যাদি আত্মিক ব্যাধি থেকে অন্তরকে তাওহীদ ও ইখলাসের মাধ্যমে পবিত্র করা। ২. বাহ্যিক তাহারাত (طهارة ظاهرة): যা আবার দুই প্রকার—(ক) তাহারাত মিনাল হাদাস (طهارة من الحدث): ওযু বা গোসলের মাধ্যমে বিধানিক অপবিত্রতা দূরীকরণ; এবং (খ) তাহারাত মিনান নাজাসাত (طهارة من النجاسة): শরীর, পোশাক ও নামাজের স্থান থেকে প্রকৃত নাপাকী ধৌত করা।

(ب) اكتب اداب الوضوء مفصلا.

ওযুর বিশদ শিষ্টাচার ও আদবসমূহ: ওযুর পূর্ণ সাওয়াব লাভের জন্য বেশ কিছু আদব রয়েছে:
১. উঁচু ও পবিত্র স্থানে বসা যাতে ওযুর ব্যবহৃত পানির ছিটা শরীরে না আসে।
২. কিবলামুখী হয়ে বসা।
৩. শুরুতেই ইখলাসের সাথে নিয়ত করা এবং ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করা।
৪. ওযুর শুরুতে মিসওয়াক ব্যবহার করা, যা মুখের পবিত্রতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ।
৫. ডান দিক থেকে অঙ্গসমূহ ধোয়া শুরু করা।
৬. ঘাড় মাসেহ করা (আহনাফের মতে মুস্তাহাব)।
৭. প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করা এবং অঙ্গের সীমানার চেয়ে কিছুটা বেশি অংশ ধৌত করা (তাহজীল)।
৮. ওযুর সময় অহেতুক পার্থিব কথাবার্তা না বলা এবং পানির অপচয় না করা।
৯. ওযু শেষে কিবলামুখী হয়ে শাহাদাতাইন ও দোআ পাঠ করা: “أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ… اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ”।

(ج) بين فضائل الوضوء فى ضوء الاحاديث النبوية.

হাদীসের আলোকে ওযুর সুমহান ফযীলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) ওযুর অসংখ্য আধ্যাত্মিক ও পরকালীন মর্যাদার কথা ঘোষণা করেছেন:
১. সগীরা গুনাহ মোচন: আলোচ্য হাদীস অনুযায়ী ওযুর প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সাথে সাথে বান্দার পাপরাশি পানির বিন্দুর সাথে ঝরে পড়ে এবং বান্দা নিষ্পাপ হয়ে যায়।
২. কিয়ামতের দিন জ্যোতির্ময় অঙ্গ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, ওযুর প্রভাবে তাদের মুখমণ্ডল, হাত ও পা উজ্জ্বল শুভ্র নূরে চমকাতে থাকবে (غرًّا مُحَجَّلِينَ)।”
৩. জান্নাতের আটটি দরজার উন্মোচন: সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে; সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।
৪. ঈমানের পরিচয়: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “একমাত্র খাঁটি মুমিন ব্যতীত অন্য কেউ সর্বদা ওযুর হিফাযত করে না।”

(د) ما المراد بقول الامام الترمذى: “هذا حديث حسن صحيح”؟

ইমাম তিরমিযীর পরিভাষা “হাসান সহীহ”-এর তাৎপর্য: উলুমুল হাদীসের পণ্ডিতগণের নিকট ইমাম তিরমিযী (রহ.)-এর এই যৌগিক পরিভাষাটি অত্যন্ত গবেষণামূলক একটি বিষয়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম নববী (রহ.) এর একাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পেশ করেছেন:
১. যদি কোনো হাদীসের একাধিক সনদ থাকে, তবে একটি সনদের মান ‘সহীহ’ এবং অপর সনদের মান ‘হাসান’। ইমাম তিরমিযী উভয় সনদের প্রতি ইঙ্গিত করে এক সাথে “হাসান সহীহ” বলেছেন।
২. যদি হাদীসটির একটিমাত্র সনদ থাকে, তবে এর অর্থ হলো—উক্ত হাদীসের ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে; এক দলের গবেষকদের মাপকাঠিতে এটি সহীহ এবং অপর দলের মাপকাঠিতে এটি হাসান। ইমাম তিরমিযী দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিরসনে বা উভয় দলের গ্রহণযোগ্যতা বোঝাতে এই পরিভাষা প্রয়োগ করেছেন।
৩. আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘হাসান’ শব্দটি পারিভাষিক অর্থে নয়, বরং আভিধানিক অর্থে (হাদীসের বক্তব্য ও মতন অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয়) এবং ‘সহীহ’ শব্দটি সনদের বিশুদ্ধতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

(هـ) تحقيق الكلمات : توضأ – غسل – بطشت – يخرج

তাহক্বীক্ব:
১. تَوَضَّأَ: বাবে তাফা’উল (التَّفَعُّل) থেকে মাযী মারুফ, ওয়াহিদ মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (و – ض – أ), অর্থ—সে ওযু সম্পন্ন করল।
২. غَسَلَ: বাবে যারাবা (ض – ر – ب) থেকে মাযী মারুফ, ওয়াহিদ মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (غ – س – ل), অর্থ—সে ধৌত করল।
৩. بَطَشَتْ: বাবে যারাবা থেকে মাযী মারুফ, ওয়াহিদ মুয়ান্নাস গায়েব (হাতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত)। মূলধাতু (ب – ط – ش), অর্থ—শক্তি প্রয়োগ করল বা স্পর্শ করল।
৪. يَخْرُجُ: বাবে নাসারা থেকে মুযারে মারুফ, ওয়াহিদ মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (خ – ر – ج), অর্থ—সে বের হয় বা নিষ্ক্রান্ত হয়।

٢- عن ابى سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قيل يا رسول الله انتوضأ من بئر بضاعة وهى بئر يلقى فيها الحيض ولحوم الكلاب والنتن. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الماء طهور لا ينجسه شيء.

[২. হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো—হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি ‘বুযাআহ’ কূপ থেকে ওযু করতে পারি? অথচ এটি এমন এক কূপ যাতে ঋতুবর্তী নারীদের ব্যবহৃত কাপড়, কুকুরের মাংস এবং দুর্গন্ধময় ময়লা ফেলা হয় (বা বৃষ্টির ঢলে ভেসে এসে পড়ে)। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন: “নিশ্চয়ই পানি স্বভাবগতভাবেই পবিত্রকারী, কোনো বস্তুই একে অপবিত্র করতে পারে না (যতক্ষণ না তার স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয়)।”]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ मूल धातु (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أَنَتَوَضَّأُ আমরা কি ওযু করব? و – ض – أ (تَفَعُّل) متكلم مع الغير (مضارع) فعل مضارع مرفوع، همزة للاستفهام
يُلْقَى নিক্ষেপ করা হয় / পতিত হয় ل – ق – ي (إفعال) واحد مذكر غائب (مضارع مجهول) جملة نعتية لكلمة “بئر”
الْحِيَضُ হায়েযের রক্তযুক্ত কাপড় ح – ي – ض اسم جمع / مفرد مجرور أو مرفوع نائب فاعل للفعل يُلْقَى
طَهُورٌ স্বয়ং পবিত্র ও অপরকে পবিত্রকারী ط – ه – ر صيغة مبالغة مفرد مذكر خبر إن مرفوع بالضمة
يُنَجِّسُهُ তাকে অপবিত্র করে ফেলে ن – ج – س (تفعيل) واحد مذكر غائب (مضارع مرفوع) جملة فعلية خبرية منفية بـ لا

(أ) عرف الماء القليل والكثير مع ذكر اقوال العلماء الكرام.

অল্প পানি (মায়ে কালীল) ও অধিক পানি (মায়ে কাসীর)-এর সংজ্ঞা ও ফকীহগণের মাযহাব:
১. আহনাফের অভিমত: হানাফী মাযহাব মতে অধিক পানি (মায়ে কাসীর) হলো এমন জলাশয় যার পরিমাপ কমপক্ষে দশ হাত দৈর্ঘ্য ও দশ হাত প্রস্থ (দাহ দার দাহ বা ১০০ বর্গহাত) এবং যাতে নাড়া দিলে এক প্রান্তের ঢেউ অন্য প্রান্তে পৌঁছায় না। এর চেয়ে কম আয়তনের পানিকে অল্প পানি (মায়ে কালীল) বলে। হানাফী ফিকহে অল্প পানিতে সামান্য নাপাকী পড়লেই তা অপবিত্র হয়ে যায়, চাই তার গুণাগুণ পরিবর্তিত হোক বা না হোক।
২. শাফেয়ী ও হাম্বলী অভিমত: তাঁদের মতে পরিমাপের মানদণ্ড হলো ‘কুল্লাতাইন’ (দুই মটকা পানি, যা প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ লিটার সমপরিমাণ)। পানি যদি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তবে গুণাগুণ পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তা নাপাক হয় না; আর দুই কুল্লার কম হলে নাপাকী পড়ার সাথে সাথে নাপাক হবে।
৩. মালেকী অভিমত: পানির পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক, যতক্ষণ পর্যন্ত নাপাকীর কারণে তার স্বাদ, রঙ বা গন্ধের কোনো একটি পরিবর্তিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা পবিত্র থাকবে।

(ب) كيف تلقى الحيض ولحوم الكلاب والنتن فى البئر وهذا خلاف مقتضى العقل؟ بين.

বুযাআহ কূপে নাপাকী পড়ার ঘটনার যৌক্তিক সমাধান: বাহ্যিক দৃষ্টিতে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সাহাবীগণ বা মদীনাবাসীরা জেনেশুনে পবিত্র কূপে কুকুরের মাংস বা নাপাকী ফেলবেন—এটি বিবেক ও ইসলামী শিষ্টাচারবিরোধী। ইমাম শাফেয়ী, ইমাম খাত্তাবী ও ইবনুল আসীর (রহ.) এই সংশয়ের চমৎকার সমাধান দিয়েছেন:
১. কোনো মুসলমান কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে কূপে নাপাকী নিক্ষেপ করত না। মূল ঘটনা হলো, বুযাআহ কূপটি ছিল একটি নিচু উপত্যকা বা ঢালু ভূমিতে অবস্থিত। এর চারপাশের উন্মুক্ত মাঠে কাফের বা মুনাফিকদের ফেলা আবর্জনা ও পশুর অবশিষ্টাংশ বৃষ্টির প্রবল পানির তোড়ে ভেসে এসে নিচু ভূমির কারণে কূপের প্রান্তে বা পানিতে পতিত হতো।
২. কূপটি অত্যন্ত গভীর ও সুবিশাল ছিল এবং এর তলদেশে ছিল প্রবহমান মিষ্টি পানির অবিরাম ঝর্ণা। ফলে বাইরের আবর্জনা ভেসে এলেও পানির বিশালত্ব ও স্রোতের কারণে পানির স্বচ্ছতা নষ্ট হতো না। সাহাবীগণ সতর্কতাবশত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এই পানির বিধান জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

(ج) اشرح قوله عليه السلام “ان الماء طهور لا ينجسه شيء”.

“পানি স্বভাবগতভাবে পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না”-এর ব্যাখ্যা: এই বাক্যটি ইসলামী শরীয়তের একটি মহান উসূল বা মূলনীতি। পানিকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিগতভাবেই পবিত্র ও অপরকে পবিত্রকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সাধারণ বক্তব্যের ওপর উম্মতের ইজমা রয়েছে যে, এটি নিঃশর্ত নয়; বরং একটি সুনির্দিষ্ট শর্তের অধীন। আর শর্তটি হলো—যদি নাপাকী পড়ার কারণে পানির মূল তিনটি গুণের (স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধ) কোনো একটি পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে সর্বসম্মতভাবে সেই পানি নাপাক হয়ে যাবে। আর যদি পানি এত বিপুল পরিমাণ হয় যে নাপাকী পড়লেও তার মৌলিক স্বাতন্ত্র্য বা গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে, তবে তা পবিত্রই থাকবে।

(د) كيف قال عليه السلام “ان الماء طهور لا ينجسه شيء” والبئر قد يكون نجسا فيطهره بالقاء الدلاء؟ اوضح.

কূপ নাপাক হওয়া ও বালতি দিয়ে পানি সেচে পবিত্র করার বিধানের সাথে সমন্বয়: ফিকহের কিতাবে কূপ নাপাক হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক বালতি পানি তুলে তা পবিত্র করার বিধান বর্ণিত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি হাদীসের সাধারণ বাণীর বিপরীত মনে হতে পারে। তবে ফকীহগণ স্পষ্ট করেছেন যে, যে কূপে নাপাকী পড়ে এবং পানি আবদ্ধ ও স্বল্প পরিমাণের হয়, সেখানে নাপাকীর অস্তিত্বের কারণে পানি দূষিত ও অপবিত্র হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় কূপ থেকে নাপাকী অপসারণ ও নির্ধারিত বালতি পানি উত্তোলন করা আবশ্যক যাতে দূষণ পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। পক্ষান্তরে বুযাআহ কূপের পানি ছিল প্রবহমান ঝর্ণার মতো বিপুল ও বহমান, ফলে সামান্য ভাসমান আবর্জনা তার গুণ পরিবর্তন করতে পারত না। সুতরাং আবদ্ধ অল্প কূপের পানি সেচে পবিত্র করা এবং উন্মুক্ত বিশাল কূপের পানির পবিত্র থাকা দুটি ভিন্ন পরিস্থিতির বাস্তবভিত্তিক বিধান।

(هـ) اكتب نبذة من سيرة ابى سعيد الخدرى رضى الله عنه.

হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী: তাঁর নাম সা’দ ইবনে মালিক ইবনে সিনান আল-খাযরাজী আল-আনসারী (سعد بن مالك بن سنان الخدري)। কুনিয়াত ‘আবু সাঈদ’। তিনি মদীনার প্রখ্যাত আনসারী সাহাবী ছিলেন। তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু বয়সের স্বল্পতার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) অনুমতি দেননি। পরবর্তীতে খন্দকের যুদ্ধ এবং বাইয়াতে রিদওয়ানসহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ১২টি বা ততোধিক গাযওয়ায় বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আসহাবে সুফফার বিশিষ্ট সদস্য এবং সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী (মুকসিরীন) সাতজন সাহাবীর অন্যতম ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১,১cw (১১৭০টি)। তিনি ফিকহ ও ফতোয়ায় অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। ৭৪ হিজরীতে ৮৪ বছর বয়সে মদীনা মুনাওয়ারায় ওফাত লাভ করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত হন।

٣- عن ابى ذر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان فى سفر ومعه بلال فاراد ان يقيم فقال ابرد ثم اراد ان يقيم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابرد فى الظهر قال حتى رأينا فيء التلول ثم اقام فصلى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن شدة الحر من فيح جهنم فابردوا عن الصلاة.

[৩. হযরত আবু যর আল-গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সফরে ছিলেন এবং হযরত বেলাল (রা.) তাঁর সাথে ছিলেন। বেলাল (রা.) জোহরের নামাজের জন্য ইকামত দিতে উদ্যত হলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: “ঠাণ্ডা হতে দাও (গরমের তীব্রতা হ্রাস পেতে দাও)।” কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় ইকামত দিতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: “জোহরকে ঠাণ্ডা হতে দাও।” বর্ণনাকারী বলেন: এমনকি আমরা টিলাসমূহের ছায়া স্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম। অতঃপর বেলাল (রা.) ইকামত দিলেন এবং নবী করীম (সা.) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন: “নিশ্চয়ই উত্তাপের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের উত্তাপ থেকে উদ্ভূত; সুতরাং তোমরা উত্তাপ তীব্র হলে সালাতকে ঠাণ্ডা করে (বিলম্ব করে) আদায় কর।”]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أَبْرِدْ তুমি ঠাণ্ডা হতে দাও ب – ر – د (إفعال) واحد مذكر حاضر (أمر حاضر) فعل أمر مبني على السكون مقول القول
فَيْءَ বিকেলের ছায়া ف – ي – أ اسم مفرد مذكر منصوب مفعول به للفعل “رأينا”
التُّلُولِ টিলা বা ছোট পাহাড়সমূহ ت – ل – ل جمع تكسير (مجرور بالإضافة) مضاف إليه مجرور بالكسرة
فَيْحِ উত্তাপের স্ফুরণ / নিঃশ্বাস ف – ي – ح اسم مفرد مذكر مجرور اسم مجرور بمن متعلق بالخبر
أَقَامَ তিনি ইকামত দিলেন ق – و – م (إفعال) واحد مذكر غائب (ماض معروف) فعل ماض مبني على الفتح

(أ) اوضح قوله عليه السلام “إن شدة الحر من فيح جهنم”.

জাহান্নামের নিঃশ্বাস ও তীব্র উত্তাপের হাকীকত: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই পবিত্র বাণীর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে গিয়ে মুহাদ্দিসগণ দুটি দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন: প্রথমত, এটি রূপক অর্থ নয়; বরং প্রকৃত সত্য। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, জাহান্নাম মহান আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করেছিল—”হে আমার রব! আমার এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করে ফেলছে।” তখন আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে বছরে দুটি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন: একটি নিঃশ্বাস শীতকালে এবং অপরটি গ্রীষ্মকালে। গ্রীষ্মকালে তোমরা যে চরম উত্তাপ অনুভব কর তা মূলত জাহান্নামের নিঃশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। দ্বিতীয়ত, আলংকারিক অর্থে তীব্র গরম মানুষকে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়, যাতে মানুষ সতর্ক হয় এবং রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

(ب) بين الوقت المستحب للظهر.

জোহরের মুস্তাহাব ওয়াক্তের ফিকহী বিবরণ: জোহরের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে ঋতুভেদে ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত রয়েছে:
১. গ্রীষ্মকালে (الصيف): প্রচণ্ড গরমের দিনে জোহরের নামাজ কিছুটা বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব (الإبراد بالظهر), যাতে রোদের তীব্রতা হ্রাস পায় এবং মুসল্লিগণ স্বাচ্ছন্দ্যে জামায়াতে উপস্থিত হতে পারেন। তবে বিলম্ব করার অর্থ আসরের ওয়াক্তের সন্নিকটে নিয়ে যাওয়া নয়; বরং ছায়া কিছুটা বিস্তৃত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
২. শীতকালে (الشتاء): শীতকালে দিনের প্রথম ভাগে আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে জোহরের ওয়াক্ত প্রবেশের সাথে সাথেই আওয়াল ওয়াক্তে দ্রুত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। কারণ শীতকালে উত্তাপের কোনো কষ্ট থাকে না এবং আগেভাগে আদায় করাই উত্তম।

(ج) ما الفيء الاصلى وما مقداره؟

ফাইয়ে আসলী ও তার পরিমাপের নিয়ম: সূর্য যখন ঠিক আকাশের মধ্যভাগে অবস্থান করে (যাওয়াল বা নিসফুন নাহার), তখন প্রতিটি বস্তুর যে ন্যূনতম ছায়া মাটির ওপর অবশিষ্ট থাকে, তাকে ইসলামী ফিকহে ‘ফাইয়ে আসলী’ (الفيء الأصلي বা ছায়ায়ে আসলী) বলা হয়। এর পরিমাণ ঋতু এবং ভৌগোলিক অবস্থানভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্য মাথার ঠিক উপরে থাকায় ফাইয়ে আসলীর পরিমাণ অত্যন্ত ক্ষুদ্র (কখনো মাত্র কয়েক আঙ্গুল) হয়; আবার শীতকালে সূর্য দক্ষিণ দিকে হেলে থাকায় ফাইয়ে আসলীর ছায়া স্বাভাবিকভাবেই বেশ দীর্ঘ হয়। জোহরের ওয়াক্ত গণনার ক্ষেত্রে এই ফাইয়ে আসলী বাদ দিয়ে প্রতিটি বস্তুর ছায়া এক গুণ বা দুই গুণ বৃদ্ধি পাওয়া হিসাব করতে হয়।

(د) اذكر حكمة المنع عن الصلاة عند شدة الحر.

তীব্র গরমে সালাত বিলম্বিত করার হেকমত: ইসলাম একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ দ্বীন, যা মানুষের ওপর অযথা কষ্ট চাপিয়ে দেয় না। তীব্র রোদে হেঁটে মসজিদে আসা এবং তপ্ত মেঝেতে সেজদা করা মুসল্লিদের অন্তরের একাগ্রতা ও খুশু-খুযু নষ্ট করে দেয়। প্রচণ্ড উত্তাপে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে। সালাতকে সামান্য বিলম্ব করে ছায়া শীতল হলে আদায় করলে মানুষ পূর্ণ প্রশান্তি, মনোযোগ ও একাগ্রতার সাথে মহান রবের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারে। তাছাড়া জামায়াতে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং অসুস্থ ও বৃদ্ধ মুসল্লিদের কষ্ট লাঘব হয়।

(هـ) اكتب نبذة من حياة ابى ذر الغفارى رضى الله عنه.

হযরত আবু যর আল-গিফারী (রা.)-এর পবিত্র জীবনচরিত: তাঁর নাম জুনদুব ইবনে জুনাহ আল-গিফারী (جندب بن جنادة الغفاري)। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণকারী পঞ্চম বা ষষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। গিফার গোত্রের দুর্ধর্ষ ডাকাতির পেশা ত্যাগ করে তিনি একত্ববাদের সন্ধানে মক্কায় এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং কা’বা চত্বরে প্রকাশ্যে তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে কুরাইশদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। তিনি ছিলেন চরম দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ), সত্যবাদী ও নির্ভীক সাহাবী। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: “নীল আসমানের নিচে এবং সবুজ জমিনের উপরে আবু যরের চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কাউকে দেখা যায় না।” তিনি তাবুক যুদ্ধে একাকী হেঁটে গিয়ে রাসুলুল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছিলেন। জীবনের শেষ ভাগে তিনি মদীনার উপকণ্ঠে ‘রাবাযাহ’ নামক স্থানে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন এবং ৩২ হিজরীতে সেখানেই মহান রবের সান্নিধ্যে গমন করেন।

٤- عن ابى محذورة رضى الله عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم علمه الاذان تسع عشرة كلمة والاقامة سبع عشرة كلمة. وعن انس بن مالك قال امر بلالا ان يشفع الاذان ويوتر الاقامة.

[৪. হযরত আবু মাহযূরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই নবী করীম (সা.) তাঁকে উনিশটি শব্দবিশিষ্ট আজান এবং সতেরটি শব্দবিশিষ্ট ইকামত শিক্ষা দিয়েছিলেন। অপর বর্ণনায় হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হযরত বেলাল (রা.)-কে আজানের বাক্যসমূহ জোড়ায় জোড়ায় (দুবার করে) এবং ইকামতের বাক্যসমূহ বেজোড় (একবার করে) উচ্চারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।”]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
عَلَّمَهُ তিনি তাকে শিক্ষা দিলেন ع – ل – م (تفعيل) واحد مذكر غائب (ماض) فعل ماض والهاء مفعول به أول
يَشْفَعَ সে জোড়া জোড়া উচ্চারণ করবে ش – ف – ع (فتح) واحد مذكر غائب (مضارع منصوب) مضارع منصوب بأن المصدرية
يُوتِرَ সে বেজোড় উচ্চারণ করবে و – ت – ر (إفعال) واحد مذكر غائب (مضارع منصوب) معطوف على يشفع
كَلِمَةً শব্দ বা বাক্য ك – ل – م اسم مفرد مؤنث منصوب تمييز للعدد تسع عشرة
تِسْعَ عَشْرَةَ উনিশ (সংখ্যাবাচক শব্দ) ت – س – ع عدد مركب مبني على فتح الجزأين نعت বা صفة لكلمة الأذان

(أ) ما معنى الاذان؟ اذكر قصة مشروعيته.

আজানের শাব্দিক অর্থ ও প্রবর্তনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ‘আজান’ (الأذان) শব্দের আভিধানিক অর্থ ঘোষণা করা, আহ্বান জানানো এবং কোনো সংবাদ পৌঁছে দেওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় সালাতের নির্ধারিত ওয়াক্তে সুনির্দিষ্ট আরবি শব্দমালার মাধ্যমে উচ্চকণ্ঠে জামায়াতের দিকে মানুষকে আহ্বান করাকে আজান বলে। মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের প্রথম বর্ষে যখন জামায়াতে সালাত কায়েমের ব্যবস্থা হলো, তখন কীভাবে মানুষকে সালাতে একত্রিত করা যায় তা নিয়ে সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেউ শিঙ্গা বাজানোর, কেউ ঘণ্টার এবং কেউ আগুন জ্বালানোর প্রস্তাব দেন, যা ইহুদী, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রাসুলুল্লাহ (সা.) নাকচ করেন। সে রাতেই সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) স্বপ্নে এক ফেরেশতাকে আজানের সুমধুর বাক্যসমূহ উচ্চারণ করতে দেখেন। সকালে তিনি রাসুলুল্লাহকে এ স্বপ্নের কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) একে সত্য স্বপ্ন হিসেবে অনুমোদন করেন এবং উচ্চকণ্ঠী হযরত বেলাল (রা.)-কে আজান দেওয়ার নির্দেশ দেন।

(ب) ما هو الترجيع فى الاذان؟ اذكر اختلاف العلماء فيه بالادلة.

আজানে তারজী’-এর স্বরূপ ও ফকীহগণের মতপার্থক্য: আজানে ‘তারজী’ (الترجيع) হলো শাহাদাতাইনের বাক্যসমূহ (আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) প্রথমে অনুচ্চ বা নিচু স্বরে পাঠ করা, অতঃপর পুনরায় উচ্চকণ্ঠে তা উচ্চারণ করা। এতে আজানের বাক্য দাঁড়ায় ১৯টি।
১. ইমাম শাফেয়ী ও মালেক (রহ.): তাঁদের মতে আজানে তারজী করা সুন্নাত। তাঁদের দলীল হলো আবু মাহযূরাহ (রা.)-এর আলোচ্য হাদীস, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে তারজীসহ আজান শিখিয়েছিলেন।
২. ইমাম আবু হানীফা ও আহমাদ (রহ.): আহনাফের মতে আজানে তারজী নেই; বরং আজান মোট ১৫টি বাক্যে সমাপ্ত হবে। তাঁদের দলীল হলো আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.)-এর স্বপ্নের সহীহ হাদীস এবং হযরত বেলাল (রা.) আজীবন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে যে আজান দিয়েছেন তাতে কোনো তারজী ছিল না। আবু মাহযূরাহর ঘটনায় তিনি নতুন মুসলমান হওয়ায় তাঁকে বাক্যগুলো শেখানোর জন্য প্রথমে রাসুলুল্লাহ নিচু স্বরে পড়িয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তিনি স্থায়ী ভেবেছিলেন।

(ج) هل يجوز للمؤذن ان يأخذ أجرة على الاذان؟ بين.

মুয়াজ্জিনের পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান: ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক ফিকহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ফতোয়া রয়েছে:
১. মুতাকাদ্দিমীন (পূর্ববর্তী ফকীহগণ): ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মূল অভিমত অনুসারে আজান, সালাতের ইমামতি ও কুরআন শিক্ষার মতো খালেক্বী ইবাদতের ওপর দুনিয়াবী পারিশ্রমিক গ্রহণ করা অনুচিত ও মাকরূহে তাহরীমী।
২. মুতাআখখিরীন (পরবর্তী ফকীহগণের সর্বসম্মত ফতোয়া): পরবর্তী যুগের আলেম ও মুফতীগণ সর্বসম্মতভাবে ফতোয়া দিয়েছেন যে, বর্তমানে বায়তুলমালের নিয়মিত রাষ্ট্রীয় ভাতা না থাকায় যদি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন-ভাতা নির্ধারণ না করা হয়, তবে মসজিদগুলো জনশূন্য হয়ে পড়বে এবং দ্বীনী শিয়ার বিনষ্ট হবে। সুতরাং দ্বীনের হিফাযত ও তাদের সময় বরাদ্দের ক্ষতিপূরণ (حبس النفس) হিসেবে মুয়াজ্জিনের জন্য বেতন বা হাদিয়া গ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে বৈধ ও মুস্তাহাব।

(د) اذكر اختلاف العلماء فى عدد كلمات الاذان والاقامة.

আজান ও ইকামতের বাক্য সংখ্যা নিয়ে ফকীহগণের পর্যালোচনা:
– আজানের বাক্য: হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবে আজানের বাক্য ১৫টি (আল্লাহু আকবার ৪ বার, শাহাদাত ৪ বার, হাইয়া আলা… ৪ বার, তাকবীর ২ বার, তাওহীদ ১ বার)। শাফেয়ী মাযহাবে তারজীসহ ১৯টি। মালেকী মাযহাবে শুরুর তাকবীর ২ বার ধরে মোট ১৭টি।
– ইকামতের বাক্য: হানাফী মাযহাবে ইকামত আজানের মতোই জোড়ায় জোড়ায় মোট ১৭টি বাক্য (কাদ কামাতিস সালাহ ২ বার যুক্ত হয়ে)। শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবে বেলাল (রা.)-এর হাদীস অনুযায়ী ইকামত ১১টি বাক্য (একক উচ্চারণে কেবল কাদ কামাতিস সালাহ ব্যতীত)।

(هـ) هل يجب الاقامة على من اذن؟ بين مدللا.

যে আজান দিয়েছে তারই ইকামত দেওয়া কি ওয়াজিব? ফিকহের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি আজান প্রদান করেছে, তার অধিকার সবচেয়ে বেশি যে সে-ই ইকামত দেবে। হাদীসে এসেছে: “مَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ” (যে আজান দিয়েছে সে-ই ইকামত দেবে)। তবে এটি কোনো ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক শর্ত নয়; বরং এটি একটি সুন্নাত ও শিষ্টাচার। যদি মূল মুয়াজ্জিনের অনুমতি থাকে কিংবা তার কোনো ওজর বা অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়, তবে অন্য যেকোনো যোগ্য মুসলমান ইকামত দিতে পারেন এবং তাতে সালাতের কোনো ক্ষতি হবে না।

٥- عن خارجة بن حذافة انه قال خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ان الله امدكم بصلاة هى خير لكم من حمر النعم الوتر جعله الله لكم فيما بين صلاة العشاء الى ان يطلع الفجر.

[৫. হযরত খারিযাহ ইবনে হুযাফাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এমন একটি অতিরিক্ত সালাত দান করেছেন, যা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও বহুগুণে উত্তম; আর তা হলো বিতরের নামাজ। আল্লাহ তাআলা এ সালাত আদায়ের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন এশার সালাত সম্পন্ন হওয়া থেকে নিয়ে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে।”]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
أَمَدَّكُمْ তোমাদের অতিরিক্ত দান করেছেন م – د – د (إفعال) واحد مذكر غائب (ماض) فعل ماض مبني على الفتح والكاف مفعول
حُمْرِ লাল বর্ণের (বহুবচন) ح – م – ر صفة جمع مجرورة بالإضافة مضاف مجرور بالكسرة
النَّعَمِ উট ও চতুষ্পদ গবাদিপশু ن – ع – م اسم جنس جمعي مجرور مضاف إليه مجرور بالكسرة
الْوِتْرُ বেজোড় নামাজ / বিতর و – ت – ر اسم مفرد مذكر مرفوع بدل من “صلاة” أو خبر لمبتدأ محذوف
يَطْلُعَ উদিত হয় / উদ্ভাসিত হয় ط – ل – ع (نصر) واحد مذكر غائب (مضارع منصوب) مضارع منصوب بأن مضمرة بعد إلى أن

(أ) ما معنى الوتر لغة وشرعا؟

বিতরের আভিধানিক ও শরয়ী তাৎপর্য: আরবি ভাষায় ‘আল-উইতর’ (الوِتْر) বা ‘আল-ওয়াত্র’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বেজোড়, একক বা যা জোড়া নয়। শরীয়তের পরিভাষায় এশার সালাতের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত রাতে আদায়কৃত বিজোড় রাকাতবিশিষ্ট বিশেষ নামাজকে বিতর নামাজ বলা হয়। মহান আল্লাহ স্বয়ং একক ও বেজোড়, তাই তিনি বেজোড় ইবাদতকে ভালোবাসেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ” (নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন)।

(ب) اكتب ما تعرف عن فضائل صلوة الوتر.

বিতর সালাতের অনন্য ফযীলত ও মর্যাদা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বিতর সালাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং সফরে কিংবা আবাসে কখনোই তা বর্জন করতেন না:
১. শ্রেষ্ঠ পার্থিব সম্পদের চেয়েও উত্তম: আলোচ্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিতরকে আরবের তৎকালীন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ‘লাল উট’ (হুমরুন না’আম)-এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেছেন।
২. আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম: বিতর সালাত বান্দার সাথে মহান রবের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে।
৩. নবীজীর বিশেষ অসিয়ত: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: “আমার খলিল রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন—প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা, চাশতের নামাজ পড়া এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর নামাজ আদায় করা।”

(ج) اوضح قوله عليه السلام: “هى خير لكم من حمر النعم”.

“লাল উটের চেয়েও উত্তম”-এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য: প্রাচীন আরবে ‘হুমরুন না’আম’ অর্থাৎ লাল বর্ণের হৃষ্টপুষ্ট উট ছিল সামাজিক প্রতিপত্তি, ধন-সম্পদ ও অহংকারের সর্বোচ্চ প্রতীক। আরবের মানুষ একে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন মনে করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের বস্তুগত মনস্তত্ত্বকে আখেরাতমুখী করার উদ্দেশ্যে এই উপমা ব্যবহার করেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন যে, পার্থিব কোটি কোটি টাকার সম্পদ চিরস্থায়ী নয়, তা ধ্বংস হয়ে যাবে; কিন্তু গভীর রাতে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য আদায়কৃত বিতরের সামান্য কয়েকটি রাকাত পরকালে এমন অনন্ত সাওয়াব ও মর্যাদা এনে দেবে যা দুনিয়ার সমস্ত রাজত্ব ও লাল উটের চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ শ্রেষ্ঠ।

(د) كم ركعة لصلوة الوتر؟ وما الخلاف فيها؟ بين.

বিতরের রাকাত সংখ্যা ও ফকীহগণের মাযহাব:
১. আহনাফের অভিমত (তিন রাকাত এক সালামে): ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে বিতরের সালাত মাগরিবের মতো তিন রাকাত এবং এক সালামে আদায় করা ওয়াজিব। তাঁদের দলীল হলো উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর সহীহ হাদীস—”রাসুলুল্লাহ (সা.) রমযানে ও রমযানের বাইরে রাতে এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না; তিনি চার রাকাত পড়তেন, অতঃপর চার রাকাত, অতঃপর তিন রাকাত বিতর পড়তেন।” এছাড়াও সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপক আমল তিন রাকাতের পক্ষে ছিল।
২. জুমহুর ফকীহগণের অভিমত (শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী): তাঁদের মতে বিতরের সর্বনিম্ন রাকাত হলো এক এবং সর্বোচ্চ এগার। তবে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে পৃথকভাবে এক রাকাত পড়া উত্তম। উভয় মতই সহীহ সনদে বর্ণিত আসারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তবে তিন রাকাতের ওপর উম্মাহর আমল সর্বাধিক ধারাবাহিক।

(هـ) حلل الكلمات تحليلا لغويا: امد – حمر – النعم – يطلع

ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
১. أَمَدَّ: বাবে ইফ’আল (الإفْعَال) থেকে মাযী মারুফ, মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (م – د – د), অর্থ—সাহায্য বা অতিরিক্ত হিসেবে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।
২. حُمْرِ: أَحْمَرُ (লাল)-এর বহুবচন, মূলধাতু (ح – م – ر), অর্থ—রক্তিম বা লাল বর্ণের।
৩. النَّعَمِ: গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু বিশেষত উটকে নির্দেশ করে। মূলধাতু (ن – ع – م)।
৪. يَطْلُعَ: বাবে নাসারা থেকে মুযারে মানসূব। মূলধাতু (ط – ل – ع), অর্থ—সুবহে সাদিক বা ফজর প্রকাশিত হওয়া।

٦- عن عبد الله ابن مسعود رضى الله عنه قال سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله اى الاعمال افضل قال الصلوة لميقاتها قلت ثم ماذا يا رسول الله قال بر الوالدين قال قلت ثم ماذا يا رسول الله قال الجهاد فى سبيل الله ثم سكت عنى رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو استزدته لزادنى. هذا حديث حسن صحيح.

[৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম—হে আল্লাহর রাসুল! কোন আমলটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম? তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন: “তার নির্ধারিত ওয়াক্তে সালাত আদায় করা।” আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন: “পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি পুনরায় আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! অতঃপর কোনটি? তিনি ইরশাদ করলেন: “আল্লাহর পথে জিহাদ পরিচালনা করা।” ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার প্রতি নীরবতা পালন করলেন; আর আমি যদি আরও প্রশ্ন করতাম তবে তিনি অবশ্যই আমাকে আরও উত্তর বাড়িয়ে দিতেন।” ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ।]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
مِيقَاتِهَا তার সুনির্দিষ্ট ওয়াক্তে و – ق – ت اسم مكان / زمان مجرور باللام جار ومجرور متعلق بمحذوف صفة
بِرُّ সদ্ব্যবহার / সেবাযত্ন ب – ر – ر مصدر مفرد مذكر مرفوع مبتدأ مؤخر أو خبر لمبتدأ محذوف
سَكَتَ তিনি নীরব হলেন س – ك – ت (نصر) واحد مذكر غائب (ماض) فعل ماض مبني على الفتح
اسْتَزَدْتُهُ আমি তাঁর নিকট অধিক জানতে চাইতাম ز – ي – د (استفعال) واحد متكلم (ماض معروف) فعل الشرط بعد “لو” الامتناعية
لَزَادَنِي তিনি অবশ্যই আমাকে বাড়িয়ে দিতেন ز – ي – د (ضرب) واحد مذكر غائب (ماض) جواب الشرط مقترن باللام الرابطة

(أ) عرف بر الوالدين ثم بين حكمه.

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের সংজ্ঞা ও শরয়ী বিধান: ‘বিররুল ওয়ালিদাইন’ (بِرُّ الوَالِدَيْنِ) বলতে পিতা-মাতার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন, নম্র ব্যবহার, তাদের বৈধ আনুগত্য, বার্ধক্যে সেবাযত্ন, তাদের আর্থিক ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের অন্তরে কোনো প্রকার কষ্ট না দেওয়াকে বোঝায়। ইসলামী শরীয়তে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা তাওহীদের পরেই অন্যতম সর্বপ্রধান ফরযে আইন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বীয় ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতার হক উল্লেখ করেছেন: “وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا” (তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সুন্দর আচরণ করবে)। পক্ষান্তরে পিতা-মাতার অবাধ্যতা ও তাদের অন্তরে আঘাত দেওয়াকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিরকের পর সবচেয়ে বড় মারাত্মক ‘কবিরা গুনাহ’ ঘোষণা করেছেন।

(ب) ما معنى الجهاد لغة وشرعا؟ بين حكم الجهاد فى الاسلام.

জিহাদের শাব্দিক ও পারিভাষিক স্বরূপ এবং এর হুকুম: জিহাদের শাব্দিক অর্থ সত্যের পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করতে এবং দ্বীনের সুরক্ষায় জান, মাল ও জবান দিয়ে কুফরী ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাকে জিহাদ বলে। সাধারণ অবস্থায় ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে জিহাদ ‘ফরযে কিফায়া’। তবে শত্রু যদি মুসলিম ভূমিতে আক্রমণ করে, তবে তা স্থানীয় প্রত্যেকের ওপর ‘ফরযে আইন’ হয়ে দাঁড়ায়। আলোচ্য হাদীসে জিহাদকে সালাত ও পিতা-মাতার সেবার পরে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া নফল জিহাদে যাওয়া জায়েয নয়।

(ج) اوضح قوله رضى الله عنه: “ولو استزدته لزادنى”.

হযরত ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তির গভীর আদব ও তাৎপর্য: ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এই উক্তিটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অপার স্নেহ এবং সাহাবায়ে কেরামের অনন্য শিষ্টাচারের প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন উম্মতের দরদী শিক্ষক; উম্মতের জিজ্ঞাসায় তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না। ইবনে মাসউদ বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি যদি আরও প্রশ্ন করতেন, তবে নবী করীম (সা.) পরম মমতায় আরও বহু শ্রেষ্ঠ আমলের বিবরণ দিতেন। কিন্তু তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং তাঁর পবিত্র সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে নিজে থেকেই প্রশ্ন করা থামিয়ে দেন। এটি নির্দেশ করে যে ইলম অন্বেষণে উস্তাদের মানসিক অবস্থা ও সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা ছাত্রের অন্যতম প্রধান আদব।

(د) ما معنى الصلوة لغة وشرعا؟ بين حكم الصلوة فى الاسلام.

সালাতের আভিধানিক অর্থ, পারিভাষিক সংজ্ঞা ও হুকুম: ‘সালাত’ (الصلاة) শব্দের আভিধানিক অর্থ দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, রহমত ও তাসবীহ পাঠ। শরীয়তের পরিভাষায় তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে শুরু হয়ে নির্দিষ্ট রুকন ও শর্তাবলীর মাধ্যমে সালাম দ্বারা সমাপ্ত হওয়া বিশেষ ইবাদতকে সালাত বলে। ইসলামে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক জ্ঞানবান প্রতিটি মুসলিমের ওপর ‘ফরযে আইন’। সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং ঈমান ও কুফরের মধ্যকার সুস্পষ্ট সীমারেখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “সালাত হলো দ্বীনের স্তম্ভ; যে ব্যক্তি তা প্রতিষ্ঠা করল সে দ্বীনকে রক্ষা করল, আর যে তা বিনষ্ট করল সে দ্বীনকে ধ্বংস করল।”

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا ابن مسعود رضى الله عنه.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর পবিত্র জীবনী: তাঁর কুনিয়াত ছিল ‘আবু আব্দুর রহমান’। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রাথমিক যুগের ষষ্ঠ ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তিনি মক্কায় কা’বা চত্বরে কুরাইশদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে উচ্চকণ্ঠে সুরা আর-রহমান তেলাওয়াত করে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যক্তিগত খাদেম ছিলেন; নবীজীর মিসওয়াক, জুতা ও বালিশ বহন করতেন। তিনি ছিলেন কুরআন ও ফিকহের সাগর। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছিলেন: “যে ব্যক্তি কুরআনের তাজা তেলাওয়াত শুনতে ভালোবাসে, সে যেন ইবনে মাসউদের তেলাওয়াত শোনে।” খলীফা ওমর (রা.) তাঁকে কুফায় বিচারক ও শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন। কুফার যে সুবিশাল ইলমী ধারা থেকে পরবর্তীকালে ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও ফিকহে হানাফীর ভিত্তি গড়ে উঠেছিল, তার প্রধান উৎস ছিলেন এই মহান সাহাবী। ৩২ হিজরীতে মদীনা মুনাওয়ারায় তিনি ওফাত লাভ করেন।

٧- عن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان فى الجنة لغرفا يرى ظهورها من بطونها وبطونها من ظهورها، فقام اليه اعرابي، فقال لمن هى يا نبى الله! قال هى لمن اطاب الكلام واطعم الطعام وادام الصيام، وصلى لله بالليل والناس نيام. هذا حديث غريب.

[৭. হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— “নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন কিছু অনুপম সুউচ্চ প্রাসাদ ও প্রকোষ্ঠ রয়েছে, যার ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু দৃষ্টিগোচর হয় এবং বাহির থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যায়।” তখন এক বেদুইন দাঁড়িয়ে নিবেদন করল: হে আল্লাহর নবী! এই প্রাসাদসমূহ কাদের জন্য নির্ধারিত? তিনি প্রত্যুত্তরে ইরশাদ করলেন: “এগুলো তাদের জন্য—যারা সুন্দর ও মিষ্টি ভাষায় কথা বলে, ক্ষুধার্তদের খাদ্য দান করে, সর্বদা নফল রোযা পালন করে, এবং গভীর রাতে যখন সমস্ত মানুষ নিদ্রামগ্ন থাকে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সালাতে দাঁড়িয়ে যায়।” ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি গরীব।]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ मूल ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
غُرَفًا সুউচ্চ প্রাসাদ / কক্ষসমূহ غ – ر – ف جمع تكسير (اسم إن مؤخر) اسم إن مؤخر منصوب بالفتحة
أَطَابَ সে সুন্দর ও মধুর করল ط – ي – ب (إفعال) واحد مذكر غائب (ماض) صلة الموصول مبني على الفتح
أَدَامَ সে অব্যাহত রাখল د – و – م (إفعال) واحد مذكر غائب (ماض) معطوف على أطاب
نِيَامٌ নিদ্রামগ্ন ব্যক্তিবর্গ ن – و – م جمع تكسير مفرد نائم خبر المبتدأ “الناس” والجملة حالية
أَعْرَابِيٌّ মরুবাসী বেদুইন ব্যক্তি ع – ر – ب اسم منسوب مفرد مرفوع فاعل للفعل “قام”

(أ) الجنة ما هى؟ اذكر بعض صفاتها موضحا.

জান্নাতের পরিচয় ও জান্নাতী নেয়ামতের অনুপম বিবরণ: ‘জান্নাত’ (الجَنَّة) শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃক্ষরাজি দিয়ে আবৃত সুশোভিত ঘন বাগান। শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহ আখেরাতে তাঁর অনুগত মুমিন বান্দাদের চিরস্থায়ী প্রতিদান ও অনন্ত সুখ-শান্তির জন্য যে মহা আলয় প্রস্তুত করে রেখেছেন তাকে জান্নাত বলে। পবিত্র কুরআনে জান্নাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেখানে প্রবাহিত হবে স্বচ্ছ পানির নদী, সুমিষ্ট দুধের নহর, সুস্বাদু শারাব এবং খাঁটি মধুর ঝর্ণাধারা। জান্নাতীদের কোনো রোগ-শোক, বার্ধক্য, ক্লান্তি বা মলমূত্র ত্যাগের কষ্ট থাকবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) কুদসী হাদীসে বর্ণনা করেন: “আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন নেয়ামত তৈরি করে রেখেছি যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে তার কল্পনাও কখনো জাগেনি।”

(ب) اذكر درجات الجنة والنار موضحا.

জান্নাত ও জাহান্নামের স্তরবিন্যাস:
১. জান্নাতের স্তরসমূহ (درجات الجنة): জান্নাতের রয়েছে একশতটি সুউচ্চ স্তর, যার এক স্তর থেকে অন্য স্তরের দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমতুল্য। জান্নাতের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ স্তর হলো ‘জান্নাতুল ফিরদাউস’ (جنة الفردوس), যার ছাদ হলো মহান আরশ এবং সেখান থেকেই জান্নাতের প্রধান নহরসমূহ প্রবাহিত। অন্যান্য স্তরসমূহের মধ্যে রয়েছে—জান্নাতু আদন, জান্নাতুন নাঈম, জান্নাতুল মা’ওয়া ইত্যাদি।
২. জাহান্নামের স্তরসমূহ (دركات النار): জাহান্নামের রয়েছে নিম্নগামী সাতটি স্তর (দারাকাত)। যথা—জাহান্নাম, লাযা, হুতামাহ, সাঈর, সাকার, জাহীম এবং সর্বনিম্নের সবচেয়ে ভয়াবহ স্তর হলো ‘হাওয়িয়াহ’ (الهاوية), যা কপট মুনাফিকদের জন্য নির্ধারিত।

(ج) هل الجنة والنار موجودتان الان؟ هات بالدلائل.

জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমানে অস্তিত্বশীল থাকার অকাট্য দলীল: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অকাট্য আকিদা হলো জান্নাত ও জাহান্নাম রূপক কোনো বিষয় নয়; বরং তা বর্তমানেই সম্পূর্ণরূপে সৃষ্টি ও অস্তিত্বশীল অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। (মুতাজিলারা একে অস্বীকার করে)। দলীলসমূহ:
১. পবিত্র কুরআনে জান্নাত সম্পর্কে বলা হয়েছে: “أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ” (তা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে) এবং জাহান্নাম সম্পর্কে বলা হয়েছে: “أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ” (তা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে)। অতীতকালীন ক্রিয়া (ماض) প্রমাণ করে তা ইতিপূর্বেই সৃষ্টি সম্পন্ন হয়েছে।
২. মিরাজের রজনীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সশরীরে জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেছেন, জান্নাতের নেয়ামত ও জাহান্নামীদের শাস্তি দর্শন করেছেন।
৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্যগ্রহণের সালাতে সামনে অগ্রসর হয়ে জান্নাতের আঙ্গুরের থোকা ধরতে চেয়েছিলেন এবং পেছনে সরে এসে জাহান্নামের লেলিহান শিখা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

(د) اوضح قوله عليه السلام: “وصلى لله بالليل والناس نيام”.

তাহাজ্জুদ ও রাতের নিভৃত ইবাদতের মাহাত্ম্য: রাসুলুল্লাহ (সা.) জান্নাতের সুউচ্চ স্বচ্ছ প্রকোষ্ঠ লাভের অন্যতম শর্ত হিসেবে রাতের নির্জন সালাতকে নির্ধারণ করেছেন। গভীর রাতে যখন চারপাশের সমস্ত সৃষ্টি আরামদায়ক নিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকে, তখন নিজের প্রিয় বিছানা ত্যাগ করে রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়া চরম ইখলাস ও প্রেমের প্রমাণ। এ নামাজে কোনো লোকদেখানো রিয়া থাকে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের প্রশংসা করে বলেন: “তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।” তাহাজ্জুদ হলো অলীদের বৈশিষ্ট্য এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদার চাবিকাঠি।

(هـ) اكتب نبذة من حياة سيدنا على رضى الله عنه.

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (রা.)-এর পবিত্র জীবনী: হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আপন চাচাতো ভাই এবং তাঁর কলিজার টুকরো কন্যা খাতুনে জান্নাত ফাতিমা (রা.)-এর সম্মানিত স্বামী। শিশুদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অকুতোভয় বীর, যাঁকে খাইবার বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘আসাদুল্লাহ’ (আল্লাহর সিংহ) উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর হাতে ইসলামের বিজয়ী পতাকা তুলে দেন। তিনি ছিলেন খেলাফতে রাশেদার চতুর্থ খলীফা। তাঁর ইলম ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছিলেন: “আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী হলো তার প্রবেশদ্বার (أَنَا مَدِينَةُ الْعِلْمِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا)।” ৪০ হিজরীর ১৭ই রমযান কুফার মসজিদে ফজরের সালাতের সময় আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম নামক খারেজীর বিষাক্ত তরবারির আঘাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

٨- عن انس بن مالك رضى الله عنه انه سمعه يقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل البائن ولا بالقصير ولا بالابيض الامهق ولا بالادم ولا بالجعد القطط ولا بالسبط بعثه الله تعالى على رأس ستين سنة ليس فى رأسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء.

[৮. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন: “রাসুলুল্লাহ (সা.) অতিরিক্ত লম্বাও ছিলেন না এবং খর্বাকৃতিও ছিলেন না। তাঁর গায়ের রঙ অতিরিক্ত ধবধবে ফ্যাকাশে সাদাও ছিল না এবং কৃষ্ণবর্ণ বা শ্যামলাও ছিল না। আর তাঁর মাথার কেশরাশি অতিরিক্ত কোঁকড়ানোও ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না (বরং ছিল ঢেউখেলানো মাঝারি)। মহান আল্লাহ তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেন এবং তিনি মক্কায় দশ বছর ও মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন এবং ষাট বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন। সে সময় তাঁর মস্তক ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও বিদ্যমান ছিল না।”]

তাহক্বীক্বে কালিমাত (শব্দমূল ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ):

শব্দ অর্থ মূল ধাতু (Root/Madda) শব্দরূপ/ছীগাহ (Form/Sighah) ব্যাকরণিক অবস্থান (Grammatical Role)
الْبَائِنِ অতিমাত্রায় স্পষ্ট ও প্রকট ب – ي – ن اسم فاعل مفرد مجرور بالكسرة نعت لكلمة الطويل مجرور بالكسرة
الأَمْهَقِ চুন বা কুষ্ঠ রোগীর মতো সাদা م – ه – ق صفة مشبهة على وزن أفعل نعت لكلمة الأبيض مجرور بالكسرة
الْآدَمِ শ্যামলা বা কালচে বর্ণের أ – د – م صفة مشبهة مجرورة معطوف على الأبيض الأمهق
الْقَطَطِ চরম কোঁকড়ানো চুল ق – ط – ط صفة مشبهة مفرد مجرور نعت لكلمة الجعد مجرور بالكسرة
السَّبْطِ একেবারে সোজা সমতল চুল س – ب – ط صفة مشبهة مفرد مجرور معطوف بالواو مجرور بالكسرة

(أ) اذكر ماذا تعلم عن خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتفصيل.

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম দৈহিক সৌন্দর্যের (শামায়িল) বিবরণ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সৃষ্টির সেরা অনুপম সৌন্দর্যের অধিকারী। সাহাবীগণের বর্ণনায় তাঁর রূপের পূর্ণতা ফুটে উঠেছে: তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ, যাঁর পাশে দীর্ঘকায় ব্যক্তি দাঁড়ালেও নবীজীকে অধিক সমুন্নত দেখাত। তাঁর বুক ও কাঁধ ছিল প্রশস্ত ও শক্তিশালী। তাঁর মুখমণ্ডল ছিল পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়। তাঁর চক্ষুদ্বয় ছিল টানা ও সুরম্য, চোখের মণি ছিল তীব্র কালো এবং চোখের সাদা অংশ ছিল অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন যাতে হালকা লালচে রেখা বিদ্যমান ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল লাল ও সাদার মিশ্রণে এক অপূর্ব দ্যুতিময় রক্তিম শুভ্র। তাঁর শরীর মোবারক থেকে সর্বদা মেশক-আম্বরের চেয়েও সুবাস নির্গত হতো। সাহাবী বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন: “আমি লাল চাদর পরিহিত অবস্থায় রাসুলুল্লাহর চেয়ে সুদর্শন আর কাউকে কোনোদিন দেখিনি।”

(ب) كيف كان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ وكم شعرا له كان ابيض؟ بين مفصلا.

নবীজীর কেশবিন্যাস ও শুভ্র কেশের সংখ্যা: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাথার চুল মোবারক অতিরিক্ত কোঁকড়ানো ছিল না আবার সোজা টানাও ছিল না; বরং তা ছিল মাঝারি ঢেউখেলানো। তাঁর চুল কখনো কানের লতি পর্যন্ত (ওয়াফরা), কখনো ঘাড়ের মাঝামাঝি (লিম্মা) এবং কখনো কাঁধ ছুঁই ছুঁই (জুম্মা) থাকত। ওফাতের সময় তাঁর মস্তক ও দাড়িতে কয়টি চুল পেকেছিল, এ বিষয়ে সাহাবীগণের বর্ণনায় সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য রয়েছে। আনাস (রা.) বলেন, বিশটি চুলও সাদা ছিল না। অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে ১৭ থেকে ২০টি চুল সাদা হয়েছিল, যা কেবল সিঁথি ও থুতনির নিচে অবস্থিত ছিল। তেল লাগালে তা সহজে নজরে আসত না। সুরা হূদ ও তার অনুরূপ সুরাসমূহের কিয়ামতের বর্ণনার গাম্ভীর্যের কারণেই এই চুলগুলো পেকেছিল বলে নবীজী স্বয়ং উল্লেখ করেছেন।

(ج) تحقيق الكلمات : صلى – بعث – اقام – توفى

তাহক্বীক্ব:
১. صَلَّى: বাবে তাফঈল থেকে মাযী মারুফ, ওয়াহিদ মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (ص – ل – و), অর্থ—তিনি সালাত আদায় করলেন বা রহমত বর্ষণ করলেন।
২. بَعَثَ: বাবে ফাতাহ থেকে মাযী মারুফ, ওয়াহিদ মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (ب – ع – ث), অর্থ—তিনি প্রেরণ করলেন।
৩. أَقَامَ: বাবে ইফ’আল থেকে মাযী মারুফ, ওয়াহিদ মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (ق – و – م), অর্থ—তিনি অবস্থান করলেন বা প্রতিষ্ঠা করলেন।
৪. تُوُفِّيَ: বাবে তাফা’উল থেকে মাযী মাজহুল, ওয়াহিদ মুযাক্কার গায়েব। মূলধাতু (و – ف – ي), অর্থ—তিনি ওফাত লাভ করলেন।

(د) كان عمر رسول الله صلى الله عليه وسلم حين توفى ثلثا وستين فكيف التوفيق بهذا الحديث؟

নবী করীম (সা.)-এর বয়স সংক্রান্ত হাদীসসমূহের সমন্বয়: বিশুদ্ধতম ও প্রখ্যাত বর্ণনা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতকালীন বয়স ছিল পূর্ণ তেষট্টি (৬৩) বছর। তবে আলোচ্য হাদীসে আনাস (রা.) ‘ষাট বছর’ উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিসগণ এর সমাধান দিয়ে বলেন: আরবি ভাষার অলঙ্কার ও হিসাবের রীতিতে ভগ্নাংশ বা অতিরিক্ত দুই-তিন বছরকে বাদ দিয়ে প্রধান সংখ্যাটি উল্লেখ করার প্রথা রয়েছে (إلغاء الكسر والاعتماد على العقد)। তাই আনাস (রা.) ৬৩ বছরের ৩ বছর বাদ দিয়ে সাধারণ হিসেবে ৬০ বছর বলেছেন। অথবা তিনি নবুওয়াতের ২০ বছর ধরে ৬০ বছর হিসাব করেছেন, কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য হলো মক্কায় ১৩ বছর ও মদীনায় ১০ বছর—মোট ২৩ বছরের নবুওয়াত এবং ওফাতকালে বয়স ছিল ৬৩ বছর।

(هـ) اذكر نبذة من حياة انس بن مالك رضى الله عنه.

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর জীবনকথা: আনাস ইবনে মালিক আল-আনসারী আল-খাযরাজী (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সার্বক্ষণিক খাদেম। কুনিয়াত ‘আবু হামযাহ’। হিজরতের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। তাঁর মা উম্মে সুলাইম (রা.) তাঁকে নবীজীর খেদমতে সোপর্দ করেন। তিনি একাধারে দশ বছর রাসুলুল্লাহর ব্যক্তিগত খেদমত করেন। তিনি বলেন: “এই দশ বছরে রাসুলুল্লাহ কোনোদিন আমাকে ‘উহ’ শব্দটিও বলেননি এবং কখনো বলেননি—এটা কেন করলে বা ওটা কেন করলে না।” রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন: “হে আল্লাহ! তার ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে বরকত দান করুন এবং দীর্ঘায়ু দান করুন।” এই দোয়ার বরকতে তিনি এক শতাব্দীরও বেশি সময় (১০৩ বছর) জীবিত ছিলেন এবং বসরার সর্বশেষ সাহাবী হিসেবে ৯৩ হিজরীতে ওফাত লাভ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২,২৮৬টি।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ : জীবনী ও গ্রন্থ পর্যালোচনা (মান: ২০ × ১ = ২০)

٩- اكتب نبذة من حياة الامام الترمذى مع بيان منزلته فى الجرح والتعديل.

[৯. ইমাম আত-তিরমিযী (রহ.)-এর জীবনচরিত ও রিজাল শাস্ত্রে (জারহ ও তা’দীল) তাঁর অনন্য মর্যাদার বিশদ বিবরণ:]

১. জন্ম ও বংশপরিচয়: সিহাহ সিত্তাহর অন্যতম অমর সংকলক ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী (রহ.) ২০৯ হিজরীতে বর্তমান উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক তিরমিয শহরের নিকটবর্তী ‘বুগ’ নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম হলো মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মুসা ইবনে আদ-দাহহাক আস-সুলামী আত-তিরমিযী (محمد بن عيسى بن سورة الترمذي)। কুনিয়াত ‘আবু ঈসা’।

২. ইলম অর্জন ও শীর্ষ উস্তাদবৃন্দ: ইমাম তিরমিযী শৈশবেই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ইলমে হাদীস অন্বেষণে খোরাসান, ইরাক, হিজায ও বসরা পরিভ্রমণ করেন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রহ.)-এর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন এবং উলুমুল হাদীস ও ইলালুল হাদীসে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ইমাম বুখারী স্বয়ং তিরমিযীর ইলমী দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন: “আমি তোমার নিকট থেকে যতটুকু উপকৃত হয়েছি, তুমি আমার নিকট থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হওনি।” এছাড়াও ইমাম মুসলিম ও ইমাম আবু দাউদ তাঁর বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন।

৩. তাকওয়া ও প্রখর স্মৃতিশক্তি: ইমাম তিরমিযী ছিলেন তাকওয়া ও খোদাভীতির উজ্জ্বল প্রতীক। মহান আল্লাহর ভয়ে তিনি এত বেশি ক্রন্দন করতেন যে জীবনের শেষ ভাগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে যান। তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তির বহু বিস্ময়কর ঘটনা ইতিহাসে সংরক্ষিত রয়েছে; একবার এক মুহাদ্দিসের পাঠ করা ৭০টি হাদীস তিনি সাথে সাথে কোনো লিখিত কাগজ ছাড়াই নির্ভুলভাবে মুখস্থ শুনিয়ে দিয়েছিলেন।

৪. জারহ ও তা’দীলে তাঁর উচ্চ মর্যাদা: রাবীদের বিশ্বস্ততা ও দুর্বলতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে (জারহ ও তা’দীল) ইমাম তিরমিযী ছিলেন শীর্ষস্থানীয় ইমাম। তিনি কেবল হাদীস সংকলনই করেননি; বরং প্রতিটি হাদীসের নিচে রাবীদের নির্ভরযোগ্যতা, তাদের মধ্যে কে মুতাকান (পরম নির্ভরযোগ্য) আর কার স্মৃতিতে দুর্বলতা ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করেছেন। উলুমুল হাদীসে ‘হাসান’ হাদীসকে একটি স্বতন্ত্র গ্রহণযোগ্য স্তর হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিযীর অবদান অবিস্মরণীয়। হাফেজ যাহাবী ও ইবনে হাজার আসকালানী তাঁকে জারহ ও তা’দীলের ক্ষেত্রে অন্যতম সর্বজনগ্রাহ্য ইমাম হিসেবে ভূষিত করেছেন।

৫. ইন্তেকাল: ২৭৯ হিজরীর ১৩ই রজব ৭০ বছর বয়সে এই মহান হাদীস বিশারদ স্বীয় জন্মভূমি তিরমিযে ওফাত লাভ করেন।

١٠- اكتب مقالة وجيزة حول “الجامع للامام الترمذى” تشتمل على النقاط التالية : (أ) اسم الكتاب وسبب تأليفه؛ (ب) منهج المؤلف فيه؛ (ج) عدد احاديثه؛ (د) منزلته بين كتب السنن الاربعة.

[১০. ‘জামে আত-তিরমিযী’ গ্রন্থের ওপর বিশদ পর্যালোচনা: নামকরণ, রচনার প্রেক্ষাপট, সংকলন পদ্ধতি, হাদীস সংখ্যা ও মর্যাদা:]

(ক) গ্রন্থের নাম ও রচনার প্রেক্ষাপট: ইমাম তিরমিযী (রহ.)-এর এই কালজয়ী গ্রন্থের মূল নাম হলো “আল-জামেউল মুখতাসার মিনাস সুনানি আন রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া মা’রিফাতুস সহীহি ওয়াল মা’লূলি ওয়ামা আলাইহিল আমাল” (الجامع المختصر…)। সাধারণত একে ‘জামে আত-তিরমিযী’ বা ‘সুনানুত তিরমিযী’ বলা হয়। ইমাম তিরমিযী লক্ষ্য করেছিলেন যে, সমকালীন বহু হাদীসগ্রন্থে কেবল সনদসহ হাদীস সংকলন করা হয়েছে, কিন্তু কোন হাদীসের ওপর ফকীহগণের আমল রয়েছে এবং সনদের কী মান তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। তাই তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্ভরযোগ্য এবং ফকীহ ও সাধারণ শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এটি সংকলন করেন।

(খ) সংকলন পদ্ধতি ও মানহাজ (منهج المؤلف): জামে তিরমিযীর সংকলন পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত অভিনব ও বহুমাত্রিক:
১. হাদীসের স্তর নির্ধারণ: তিনি প্রতিটি হাদীসের পর তার মান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (যেমন: সহীহ, হাসান, গরীব, বা হাসান সহীহ)।
২. ইলাল ও সনদের ত্রুটি উন্মোচন: সনদের কোনো অদৃশ্য ত্রুটি থাকলে তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
৩. মাযহাবসমূহের ফিকহী পর্যালোচনা: প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি সাহাবা, তাবেয়ী এবং ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক, সুফিয়ান সাওরী ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর ফতোয়া ও ইজতিহাদ উল্লেখ করে তুলনামূলক ফিকহ আলোচনা করেছেন।
৪. ‘ওয়া ফিল বাবে’ (وفي الباب): কোনো বিষয়ে একটি হাদীস এনে তিনি ওই বিষয়ে আর কোন কোন সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণিত আছে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, যা গবেষকদের জন্য এক অনন্য নিয়ামত।

(গ) হাদীসের সংখ্যা: জামে আত-তিরমিযীতে মোট ৩,৯৫৬টি (প্রায় চার হাজার) হাদীস সংকলিত হয়েছে। এর মধ্যে সহীহ, হাসান এবং কিছু সংখ্যক পর্যালোচনাযুক্ত জয়ীফ হাদীসও স্থান পেয়েছে ফিকহী ব্যাখ্যার সুবিধার্থে।

(ঘ) চার সুনান গ্রন্থের মাঝে জামে তিরমিযীর মর্যাদা: সিহাহ সিত্তাহর চার সুনান গ্রন্থের (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ) মধ্যে জামে তিরমিযীর বৈশিষ্ট্য একক ও অনন্য। এটি কেবল সুনান নয়, বরং এটি একটি ‘জামে’—অর্থাৎ এতে আকাইদ, তাফসীর, সিরাত, শামায়িল, মানাকিব, যুহদ, ফিতান এবং ফিকহ—সব বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে। ইমাম তিরমিযী স্বয়ং গর্ব করে বলেছিলেন: “যার ঘরে এই কিতাবটি সংরক্ষিত রয়েছে, মনে হবে তার ঘরে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) অবস্থান করছেন এবং কথা বলছেন।”

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: সুনানুত তিরমিযী ২য় পত্রের বিষয় কোড কত এবং এর পরীক্ষা পদ্ধতি কী?

উত্তর: সুনানুত তিরমিযী ও শামায়িলুত তিরমিযী ২য় পত্রের বিষয় কোড হলো ৬১১১০২। লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ এবং পরীক্ষার জন্য ৪ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকে।

প্রশ্ন ২: ইমাম তিরমিযীর “হাসান সহীহ” পরিভাষার অর্থ কী?

উত্তর: এর অর্থ হলো হাদীসটির একটি সনদ সহীহ এবং অন্য সনদ হাসান, অথবা রাবীর নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের দুটি মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ইমাম তিরমিযী এই যৌগিক পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।

প্রশ্ন ৩: বুযাআহ কূপের পানি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিদ্ধান্ত কী ছিল?

উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন যে পানি মূলত পবিত্র ও অপরকে পবিত্রকারী; যতক্ষণ পর্যন্ত অপবিত্রতার কারণে পানির স্বাদ, গন্ধ বা বর্ণ পরিবর্তিত না হবে ততক্ষণ তা নাপাক হবে না।

প্রশ্ন ৪: গ্রীষ্মকালে জোহরের সালাত বিলম্বে আদায় করার বিধান কী?

উত্তর: গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড উত্তাপের সময় জোহরের সালাত সামান্য বিলম্বে ঠাণ্ডা করে আদায় করা মুস্তাহাব (ইবরাদ বিয-যুহর), যাতে মুসল্লিদের একাগ্রতা রক্ষা পায় ও কষ্ট লাঘব হয়।

প্রশ্ন ৫: হানাফী মাযহাব অনুযায়ী বিতর সালাতের রাকাত সংখ্যা ও হুকুম কী?

উত্তর: হানাফী মাযহাব মতে বিতর সালাত মাগরিবের মতো এক সালামে তিন রাকাত আদায় করা ওয়াজিব।

প্রশ্ন ৬: ওফাতকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মস্তকে কয়টি সাদা চুল ছিল?

উত্তর: বিশুদ্ধ হাদীসের বর্ণনানুসারে ওফাতের সময় নবীজী (সা.)-এর মস্তক ও দাড়িতে বিশটি চুলও পাকা ছিল না; সংখ্যাটি ছিল প্রায় ১৭ থেকে ২০টি।