মৌখিক পরীক্ষা এবং টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি ৯ম পত্র (Viva Voce, Tutorial & Attendance 9th Paper) – 611109, হাদীস – কামিল ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৩৩ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস প্রথম পর্ব পরীক্ষা, ২০২৩
হাদীস বিভাগ — নবম পত্র
বিষয়: মৌখিক পরীক্ষা এবং টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: ৬১১১০৯ | পূর্ণমান: ১০০

মানবণ্টন: (ক) মৌখিক পরীক্ষা: ৫০ | (খ) টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট: ৪০ (৫ × ৮) | (গ) ক্লাসে উপস্থিতি: ১০ | সর্বমোট = ১০০

কামিল (মাস্টার্স) হাদীস প্রথম পর্ব পরীক্ষা ২০২৩-এর ‘মৌখিক পরীক্ষা এবং টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি’ (Viva Voce, Tutorial & Attendance – বিষয় কোড: ৬১১১০৯) বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক রূপরেখা, সরকারি মানবণ্টন নীতি, টিউটোরিয়াল গবেষণাপত্র লেখার বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলী এবং ১ম থেকে ৮ম পত্রের সমন্বয়ে প্রণীত সমৃদ্ধ ভাইভা প্রশ্নব্যাংক নিচে তুলে ধরা হলো। ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় পরীক্ষক মণ্ডলীর সামনে সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী উত্তর প্রদানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করতে এ নির্দেশিকাটি অত্যন্ত সহায়ক হবে।

১. মানবণ্টন ও মূল্যায়নের রূপরেখা (Marks Distribution Structure):
– ক. মৌখিক পরীক্ষা (Viva Voce): ৫০ নম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ এক্সটার্নাল ও ইন্টার্নাল পরীক্ষক মণ্ডলীর উপস্থিতিতে সরাসরি বোর্ড ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে।
– খ. টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট: ৪০ নম্বর। ১ম পত্র হতে ৮ম পত্র পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ের ওপর শিক্ষক কর্তৃক নির্ধারিত বিষয়ের আলোকে স্বহস্তে বা কম্পোজে ২০-২৫ পৃষ্ঠার ১টি করে মোট ৮টি টিউটোরিয়াল জমা দিতে হবে (৫ × ৮ = ৪০ নম্বর)।
– গ. ক্লাসে উপস্থিতি (Attendance): ১০ নম্বর। শিক্ষাবর্ষ জুড়ে ক্লাসে সক্রিয় উপস্থিতির হারের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্রদান করা হবে।
সর্বমোট পূর্ণমান = ১০০ নম্বর।

১. মৌখিক পরীক্ষার (Viva Voce) সাধারণ নিয়মাবলী, প্রস্তুতি ও বোর্ডে উপস্থাপনের কৌশল

[১. কামিল হাদীস ১ম বর্ষের ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আবশ্যকীয় শর্তাবলী, পোশাকের শালীনতা, ইসলামী আদব এবং পরীক্ষকদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর উপস্থাপনের কৌশলসমূহ আলোচনা কর।]

ভূমিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য:
কামিল হাদীস বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা বোর্ড) কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা নয়; বরং এটি তাঁদের দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ইলমী যোগ্যতা, আরবী ভাষার দখল, হাদীসের মতন ও সনদ মুখস্থ রাখার গভীরতা এবং সার্বিক ব্যক্তিত্বরূপ পর্যবেক্ষণের এক সর্বোচ্চ প্ল্যাটফর্ম। মাস্টার্স স্তরের একজন উত্তরসূরী আলেমের আত্মবিশ্বাস ও বিনয় এ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়।

১. মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আবশ্যকীয় প্রাতিষ্ঠানিক শর্তাবলী:
১. কামিল ১ম পর্বের সকল লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা অংশগ্রহণের পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় সশরীরে উপস্থিত হওয়া শতভাগ বাধ্যতামূলক। কোনো শিক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে সে চূড়ান্ত ফলাফলে সরাসরি অকৃতকার্য (Fail) বলে গণ্য হবে।
২. পরীক্ষার দিন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রবেশপত্র (Admit Card), রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং সংশ্লিষ্ট টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্টের প্রত্যয়নকৃত কপি সাথে রাখতে হবে।

২. পোশাক-পরিচ্ছদ ও ইসলামী আদব (Dress Code & Islamic Etiquette):
– পোশাকের শালীনতা: মৌখিক পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই সুন্নাতসম্মত মার্জিত, শালীন ও ধোপদুরস্ত পোশাকে উপস্থিত হতে হবে। শুভ্র জোব্বা/পাঞ্জাবি, পায়জামা এবং টুপি পরিধান করা কামিল স্তরের আলেমের জন্য অপরিহার্য।
– বোর্ডে প্রবেশের শিষ্টাচার: ধীরস্থিরভাবে দরজায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ও বিনীত কণ্ঠে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষকগণ বসতে বলার পর শান্তভাবে চেয়ারে বসবে এবং “জাযাকুমুল্লাহু খাইরান” বলবে। বসার সময় সোজা হয়ে বসবে, টেবিলের ওপর হাত তুলে ঝুঁকবে না।

৩. উত্তর প্রদানের বৈজ্ঞানিক কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তা:
১. ধীরস্থিরভাবে শ্রবণ ও অনুধাবন: পরীক্ষক কোনো প্রশ্ন করার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে শুনবে; মাঝপথে কথা কেটে উত্তর শুরু করা চরম বেয়াদবি। প্রশ্ন স্পষ্ট না হলে বিনীতভাবে পুনরায় শোনার আরজি জানাবে।
২. আরবি ইবারত ও পরিভাষার স্পষ্ট উচ্চারণ: হাদিসের মতন বা উসূলের পরিভাষাগুলো শুদ্ধ আরবী উচ্চারণে উপস্থাপন করবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে মিথ্যা বা মনগড়া আন্দাজে উত্তর না দিয়ে বিনয়ের সাথে বলবে—”আল্লাহু ওয়া রাসূলুহু আ’লাম, হযরত এই বিষয়টি এই মুহূর্তে স্মরণে আসছে না।”
৩. মুখস্ত বিষয়সমূহ রিভিশন: সিহাহ সিত্তাহর গ্রন্থকারদের পূর্ণ নাম, ওফাত সন, সিহাহ সিত্তায় তাঁদের কিতাবের অবস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী পরিভাষাগুলো ভাইভার আগের দিন ভালোভাবে রিভিশন দেওয়া কাম্য।

২. টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট প্রণয়ন, গবেষণা পদ্ধতি (Research Methodology) ও ক্লাসে উপস্থিতির মূল্যায়ন নীতিমালা

[২. টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট রচনার নিয়মাবলী, কভার পেজ, ফন্ট সাইজ, মার্জিন ও গবেষণা পদ্ধতির কাঠামো বর্ণনা কর; এবং ক্লাসে উপস্থিতির ভিত্তিতে নম্বর বণ্টনের সরকারি নীতিমালা তুলে ধর।]

১. টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট প্রণয়নের পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী (৪০ নম্বর):
কামিল ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মোট ৮টি পত্রের (১ম থেকে ৮ম পত্র) প্রতিটির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় শিক্ষক কর্তৃক নির্ধারিত শিরোনামে মোট ৮টি গবেষণাভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে (৫ × ৮ = ৪০ নম্বর)।
– কাঠামো ও উপাদানসমূহ:
১. কভার পেজ (Cover Page): অ্যাসাইনমেন্টের শিরোনাম, কোর্সের নাম ও বিষয় কোড, তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের নাম ও পদবি, শিক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ এবং জমাদানের তারিখ স্পষ্ট থাকতে হবে।
২. অভ্যন্তরীণ অধ্যায় বিন্যাস: কভার পেজের পর ভূমিকা, গবেষণার উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব, মূল গবেষণা ও বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা (২০-২৫ পৃষ্ঠা), ফলাফল/উপসংহার এবং শেষে প্রামাণ্য গ্রন্থপঞ্জি (Bibliography/References) সংযুক্ত থাকবে।
৩. কম্পিউটার কম্পোজ নীতিমালা: বাংলা ফন্ট SutonnyMJ বা Kalpurush (ফন্ট সাইজ: মূল লেখা ১২, উপ-শিরোনাম ১৩, মূল শিরোনাম ১৪); ইংরেজি ফন্ট Times New Roman; আরবী ফন্ট Traditional Arabic বা Scheherazade New। লাইন স্পেস ১.১৫, মার্জিন চারিদিকে ১ ইঞ্চি, প্যারা জাস্টিফাই (Justify) এবং এ৪ সাইজের ৮০ গ্রাম অফসেট কাগজের এক পৃষ্ঠায় প্রিন্ট বা স্বহস্তে সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখতে হবে। অন্যের লেখা হুবহু কপি-পেস্ট করা বা ফটোকপি জমা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২. ক্লাসে উপস্থিতির ভিত্তিতে নম্বর বণ্টন নীতিমালা (১০ নম্বর):
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাবর্ষে ক্লাসের উপস্থিতির হারের ওপর ভিত্তি করে ১০ নম্বর বণ্টিত হয়:

উপস্থিতির শতকরা হার (Attendance Range) প্রাপ্ত নম্বর (Marks) মন্তব্য ও শিক্ষার্থীর ক্যাটাগরি
৯০% বা তার বেশি (90% or above) ১০ সর্বোচ্চ পূর্ণমান (নিয়মিত ও আদর্শ শিক্ষার্থী)
৮৫% থেকে ৮৯% পর্যন্ত ০৯ অত্যন্ত উত্তম উপস্থিতি
৮০% থেকে ৮৪% পর্যন্ত ০৮ উত্তম উপস্থিতি
৭৫% থেকে ৭৯% পর্যন্ত ০৭ সন্তোষজনক উপস্থিতি (নন-কলেজিয়েট জরিমানা মুক্ত)
৭০% থেকে ৭৪% পর্যন্ত ০৬ গ্রহণযোগ্য (বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে)
৬৫% থেকে ৬৯% পর্যন্ত ০৫ নূন্যতম উপস্থিতি (বিশেষ বিবেচনায় অনুমতিপ্রাপ্ত)
৬৫%-এর কম (Less than 65%) ০০ ডিসকলেজিয়েট / পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অযোগ্য

৩. ১ম ও ২য় পত্র (সুনানু আবি দাঊদ ও জামে’উত তিরমিযী) বিষয়ক সম্ভাব্য ভাইভা প্রশ্নব্যাংক ও প্রামাণ্য উত্তর

[৩. ১ম পত্র (সুনানু আবি দাঊদ) এবং ২য় পত্র (জামে’উত তিরমিযী ও শামায়িল)-এর ওপর মৌখিক পরীক্ষায় সচরাচর জিজ্ঞাসিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী ও মডেল উত্তরসমূহ আলোচনা কর।]

১. ১ম পত্র: সুনানু আবি দাঊদ (বিষয় কোড: ৬১১১০১):
– প্রশ্ন ১: ইমাম আবু দাঊদের পূর্ণ নাম, জন্ম ও ওফাত সন কী?
উত্তর: তাঁর পূর্ণ নাম আবু দাঊদ সুলাইমান ইবনুল আশ’আছ আল-আযদী আস-সিজিস্তানী (রহ.)। তিনি ২০২ হিজরীতে সিজিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৫ হিজরীতে বসরায় ওফাত লাভ করেন।
– প্রশ্ন ২: সুনানু আবি দাঊদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী এবং এতে কতটি হাদীস আছে?
উত্তর: এটি আহকাম ও ফিকহী সুন্নাতের শ্রেষ্ঠতম সংকলন। ইমাম আবু দাঊদ প্রায় ৫ লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই-বাছাই করে ৪,৮০০টি (মতান্তরে ৫,২৭৪টি) হাদীস সংকলন করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এ গ্রন্থে সহীহ এবং সহীহের সমতুল্য বা নিকটবর্তী আহকামের হাদীস সংকলন করেছি।” কোনো হাদীসে চরম দুর্বলতা থাকলে তিনি তা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন।
– প্রশ্ন ৩: আযান ও ইকামতের ব্যাপারে আবু দাঊদের হাদীস অনুযায়ী হানাফী মাযহাবের ফায়সালা কী?
উত্তর: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.)-এর স্বপ্নের হাদীস অনুযায়ী আযানের বাক্য ১৫টি এবং ইকামতের বাক্য ১৭টি (দ্বিবার করে قد قامت الصلاة সহ)।

২. ২য় পত্র: জামে’উত তিরমিযী ও শামায়িল (বিষয় কোড: ৬১১১০২):
– প্রশ্ন ৪: ইমাম তিরমিযীর পূর্ণ নাম ও ওফাত কত সনে?
উত্তর: আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ আত-তিরমিযী (রহ.)। তিনি ২০৯ হিজরীতে তিরমিযে জন্ম নেন এবং ২৭৯ হিজরীতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
– প্রশ্ন ৫: জামে’উত তিরমিযীর অনন্য তিনটি বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: ১. প্রতিটি হাদীসের সনদের পর তার মান (সহীহ, হাসান, গারীব) সুস্পষ্ট নির্ধারণ; ২. হাদীসের ওপর কোন কোন সাহাবী ও ফকীহর আমল রয়েছে তা উল্লেখ করা; ৩. “وفِي الْبَابِ عَنْ…” বলে উক্ত বিষয়ে অন্য কোন কোন সাহাবীর রেওয়ায়েত আছে তার রূপরেখা প্রদান।
– প্রশ্ন ৬: ‘শামায়িলুত তিরমিযী’ কিতাবের মূল বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র দৈহিক গঠন, অনুপম চরিত্রমাধুরী, শুভ্র কেশ ও দাঁড়ি, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, চালচলন, নিদ্রা ও জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্বলিত একটি কালজয়ী সীরাত ও শামায়িল সংকলন।

৪. ৩য় ও ৪র্থ পত্র (সুনানু ইবনে মাজাহ ও শরহু মা’য়ানিল আছার) বিষয়ক সম্ভাব্য ভাইভা প্রশ্নব্যাংক ও প্রামাণ্য উত্তর

[৪. ৩য় পত্র (সুনানু ইবনে মাজাহ) এবং ৪র্থ পত্র (শরহু মা’য়ানিল আছার)-এর ওপর মৌখিক পরীক্ষায় সচরাচর জিজ্ঞাসিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী ও মডেল উত্তরসমূহ আলোচনা কর।]

১. ৩য় পত্র: সুনানু ইবনে মাজাহ (বিষয় কোড: ৬১১১০৩):
– প্রশ্ন ১: ইমাম ইবনে মাজাহর পূর্ণ নাম ও কিতাবের হাদীস সংখ্যা কত?
উত্তর: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আল-ক্বাযবিনী (রহ.) (২০৯-২৭৩ হি.)। তাঁর কিতাবে মোট ৪,৩৪১টি হাদীস ৩২টি খণ্ডে এবং ১৫০০টি অধ্যায়ে সংকলিত হয়েছে।
– প্রশ্ন ২: ‘যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সিহাহ সিত্তার অন্য পাঁচটি গ্রন্থে (বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ) নেই অথচ কেবল ইবনে মাজাহতে এককভাবে সংকলিত হয়েছে এমন ১,৩২৯টি অতিরিক্ত হাদীসকে যাওয়াইদে ইবনে মাজাহ বলে।
– প্রশ্ন ৩: ইবনে মাজাহ কিতাবের শুরুতে কোন অধ্যায় এনেছেন এবং কেন?
উত্তর: তিনি সাধারণ সুনানের মতো ত্বহারাত দিয়ে শুরু না করে সুন্নাহর অপরিহার্যতা, ফাযায়েলে সাহাবা এবং বিদআত ও খারেজীদের বর্জনের ওপর চমৎকার ‘মুকাদ্দিমাহ’ দিয়ে কিতাব শুরু করেছেন।

২. ৪র্থ পত্র: শরহু মা’য়ানিল আছার (বিষয় কোড: ৬১১১০৪):
– প্রশ্ন ৪: ইমাম তাহাবীর পরিচয় ও ওফাত সন কী?
উত্তর: ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাহাবী আল-মিসরী (রহ.) (২৩৯-৩২১ হি.)। তিনি প্রথমে শাফেঈ ছিলেন, পরবর্তীতে হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ ও মুজতাহিদ ফিল মাযহাবে পরিণত হন।
– প্রশ্ন ৫: শরহু মা’য়ানিল আছার রচনার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: ফিকহুল হাদীসের ক্ষেত্রে আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী হাদীসসমূহের মাঝে চমৎকার সমন্বয় (তাতবীক্ব) বা নাসখ প্রমাণ করা এবং হানাফী মাযহাবের দলীলসমূহকে সহীহ হাদীস ও অকাট্য কিয়াসের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
– প্রশ্ন ৬: ফজরের সালাতে তাহাবীর মতে কোনটি উত্তম—গালস না ইসফার?
উত্তর: পুরুষদের জন্য ‘ইসফার’ অর্থাৎ প্রভাতের আলো চতুর্দিকে স্পষ্ট করে নামায পড়া উত্তম; কারণ রাসূল (সা.) কাওলী হাদীসে ইরশাদ করেছেন—”আসফিরূ বিল ফাজরি ফাইন্নাহূ আ’যামু লিল আজর” (তোমরা ফজরকে আলো করে পড়, এতে সওয়াব বৃদ্ধি পায়)।

৫. ৫ম ও ৬ষ্ঠ পত্র (মুসত্বালাহুল হাদীস ও তারীখ) বিষয়ক সম্ভাব্য ভাইভা প্রশ্নব্যাংক ও প্রামাণ্য উত্তর

[৫. ৫ম পত্র (মুসত্বালাহ ও মানাহিজ) এবং ৬ষ্ঠ পত্র (ইসলামী ইতিহাস ও হাদীসের ইতিহাস)-এর ওপর মৌখিক পরীক্ষায় সচরাচর জিজ্ঞাসিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী ও মডেল উত্তরসমূহ আলোচনা কর।]

১. ৫ম পত্র: মুসত্বালাহুল হাদীস ও মানাহিজ (বিষয় কোড: ৬১১১০৫):
– প্রশ্ন ১: সহীহ হাদীসের পাঁচটি প্রধান শর্ত কী কী?
উত্তর: ১. সনদের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ (ইত্তিসালুস সনদ); ২. রাবীর নিখুঁত তাকওয়া ও সততা (আদালাত); ৩. প্রখর মুখস্থ ও সংরক্ষণ শক্তি (তাম্মুদ দ্বাবত); ৪. কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনার সাথে অসঙ্গতি না থাকা (শুযূযমুক্ত); ৫. কোনো সূক্ষ্ম গোপন ত্রুটি না থাকা (ইল্লাতমুক্ত)।
– প্রশ্ন ২: মুরসাল, মুদাল ও মুদাল্লাস হাদীসের পার্থক্য কী?
উত্তর: তাবেঈ সরাসরি সাহাবীকে বাদ দিয়ে রাসূল (সা.)-এর দিকে সম্বন্ধ করলে তাকে ‘মুরসাল’ বলে; সনদের মাঝখান হতে পরপর দুই বা ততোধিক রাবী বাদ পড়লে তাকে ‘মুদাল’ বলে; আর উস্তাদের নাম গোপন করে এমনভাবে বর্ণনা করা যাতে সরাসরি শোনা মনে হয় তাকে ‘তাদলীস’ বলে।
– প্রশ্ন ৩: সরকারিভাবে হাদীস সংকলনের ঐতিহাসিক ফরমান কে জারি করেছিলেন?
উত্তর: হিজরী প্রথম শতকের শেষে খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.) মদীনার গভর্ণর আবু বকর ইবনে হাযম ও ইমাম ইবনে শিহাব আয-যুহরী (রহ.)-কে প্রথম রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করেছিলেন।

২. ৬ষ্ঠ পত্র: ইসলামী ইতিহাস ও হাদীসের ইতিহাস (বিষয় কোড: ৬১১১০৬):
– প্রশ্ন ৪: হযরত আবু বকর (রা.)-কে কেন ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়?
উত্তর: রাসূল (সা.)-এর ওফাত পরবর্তী ক্রান্তিলগ্নে ভণ্ড নবী ও মুরতাদদের কঠোর হস্তে দমন, যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং পবিত্র কুরআন প্রথম মুসহাফ আকারে সংকলন করে তিনি ইসলামকে চিরতরে রক্ষা করেছিলেন।
– প্রশ্ন ৫: উমাইয়া আমলে মুদ্রার সংস্কার ও দাপ্তরিক ভাষা আরবীকরণ কে করেন?
উত্তর: পঞ্চম উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ান (৬৫-৮৬ হি.)।
– প্রশ্ন ৬: উপমহাদেশে হাদীস চর্চায় শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর অবদান কী?
উত্তর: তিনি অন্ধ তাকলীদের বিপরীতে সহীহ সুন্নাহ ও ফিকহের সমন্বয় করেন এবং তাঁর মাদরাসায়ে রাহীমিয়া ও সুযোগ্য সন্তানদের মাধ্যমে সমগ্র উপমহাদেশে সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে।

৬. ৭ম ও ৮ম পত্র (তাফসীর ও আল-আক্বীদাহ) বিষয়ক সম্ভাব্য ভাইভা প্রশ্নব্যাংক ও প্রামাণ্য উত্তর

[৬. ৭ম পত্র (দিরাসাতুত তাফসীর ও উসূল) এবং ৮ম পত্র (আল-আক্বীদাহ আল-ইসলামিয়্যাহ)-এর ওপর মৌখিক পরীক্ষায় সচরাচর জিজ্ঞাসিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী ও মডেল উত্তরসমূহ আলোচনা কর।]

১. ৭ম পত্র: দিরাসাতুত তাফসীর ও উসূল (বিষয় কোড: ৬১১১০৭):
– প্রশ্ন ১: তাফসীরে কাশশাফ ও তাফসীরে বায়যাবীর রচয়িতার নাম কী?
উত্তর: কাশশাফের রচয়িতা আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে উমর আয-যামাখশারী (ওফাত ৫৩৮ হি.); এবং বায়যাবীর রচয়িতা কাজী নাসিরুদ্দীন আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-বায়যাবী (ওফাত ৬৮৫ হি.)।
– প্রশ্ন ২: আসবাবুন নুযূল জানার সবচেয়ে বড় উপকারিতা কী?
উত্তর: আয়াতের নাযিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট জানা যায়, ফলে আয়াতের প্রকৃত হাকীকত ও শারঈ আহকামের কারণ নির্ভুলভাবে উপলব্ধি করা যায়।
– প্রশ্ন ৩: মুহকাম ও মুতাশাবিহ আয়াতের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
উত্তর: মুহকাম হলো যার অর্থ সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন এবং তা কিতাবের মূল বুনিয়াদ; আর মুতাশাবিহ হলো যার গভীর রূপক মর্মার্থ মানুষের ইন্দ্রিয়ের সরাসরি উপলব্ধির বাইরে (যেমন আল্লাহর হাত, আরশে সমাসীন হওয়া ইত্যাদি)।

২. ৮ম পত্র: আল-আক্বীদাহ আল-ইসলামিয়্যাহ (বিষয় কোড: ৬১১১০৮):
– প্রশ্ন ৪: আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের দুই প্রধান কালাম শাস্ত্রীয় ইমাম কারা?
উত্তর: হানাফী ধারার ইমাম হলেন ইমাম আবু মানসূর আল-মাতুরীদী (রহ.) এবং শাফেঈ-মালেকী ধারার ইমাম হলেন ইমাম আবুল হাসান আল-আশ’আরী (রহ.)।
– প্রশ্ন ৫: কবিরা গুনাহকারী সম্পর্কে আহলুস সুন্নাতের আকিদা কী?
উত্তর: কবিরা গুনাহ করলেও সে কাফির হয় না; বরং ফাসিক্ব মুমিন থাকে। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন; আর তওবা ছাড়া মারা গেলে আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে—আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারেন বা শাস্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
– প্রশ্ন ৬: কুরআন কি মাখলূক্ব নাকি ক্বাদীম?
উত্তর: আহলুস সুন্নাতের অকাট্য আক্বীদা অনুযায়ী কুরআন মহান আল্লাহর অনাদি কালাম (كلام الله قديم غير مخلوق), তা কোনো সৃষ্টি নয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. কামিল ১ম বর্ষ হাদীস ৯ম পত্রের বিষয় ও কোড কী?

এ পত্রের বিষয় নাম হলো ‘মৌখিক পরীক্ষা এবং টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি’ (Viva Voce, Tutorial & Attendance) এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় কোড হলো ৬১১১০৯।

২. এ পত্রে মোট নম্বর কত এবং কীভাবে বণ্টিত?

এ পত্রে মোট নম্বর ১০০। যার মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর, টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্টে ৪০ নম্বর (৫ × ৮) এবং ক্লাসে উপস্থিতিতে ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকে।

৩. মৌখিক পরীক্ষায় কি আলাদাভাবে পাস করতে হয়?

হ্যাঁ, কামিল মাস্টার্স পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জন করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য চূড়ান্ত ফলাফলের পূর্বশর্ত।

৪. টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট কীভাবে লিখতে হবে?

১ম থেকে ৮ম পত্রের নির্ধারিত বিষয়ের ওপর গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে কভার পেজ, সূচিপত্র ও তথ্যসূত্রসহ স্বহস্তে বা কম্পোজ করে জমা দিতে হবে।

৫. ক্লাসে উপস্থিতির পূর্ণ ১০ নম্বর পাওয়ার শর্ত কী?

শিক্ষাবর্ষের মোট ক্লাস কার্যক্রমে ৯০% বা তার বেশি উপস্থিতি থাকলে শিক্ষার্থী পূর্ণ ১০ নম্বর লাভ করবে।

৬. ভাইভা বোর্ডে ভালো ফলাফলের জন্য প্রধান পরামর্শ কী?

মার্জিত সুন্নাতী পোশাকে উপস্থিতি, ১-৮ পত্রের মৌলিক পরিভাষা ও কিতাবের পরিচিতি মুখস্থ রাখা এবং শান্তভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর প্রদান করা।