বাংলাদেশ স্টাডিজ (Bangladesh Studies) – 204104, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
৫২ মিনিট পড়ার সময়
৫ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০২৫
ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩
আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বাংলাদেশ স্টাডিজ
বিষয় কোড: ২০৪১০৪
সময়—৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান—৮০
[দ্রষ্টব্য : (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
ক অংশ—রচনামূলক প্রশ্ন (মান—১৫ × ৪ = ৬০) | খ অংশ—সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান—৫ × ৪ = ২০)


ক অংশ—রচনামূলক প্রশ্ন (মান—১৫ × ৪ = ৬০)

১। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা কর।

[Discuss the role of language movement in the independence of Bangladesh.]

ভূমিকা: ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তিপ্রস্তর এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী সূতিকাগার। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি কলোনিয়াল শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের ওপর যে জাতিগত শোষণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়, তার বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রত্যক্ষ সশস্ত্র প্রতিরোধই ছিল বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি।

১. বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ: ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও দ্বিজাতিতত্ত্বের কৃত্রিম বাঁধন যে বাঙালি জাতির স্বতন্ত্র ভাষা ও হাজার বছরের সংস্কৃতিকে গ্রাস করতে পারে না, ভাষা আন্দোলন তা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ধর্মনিরপেক্ষ ও ভাষাভিত্তিক আধুনিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভ্রূণ জন্ম নেয়।

২. রাজনৈতিক সচেতনতা ও ছাত্রসমাজের নেতৃত্ব: একুশের রক্তস্নাত আত্মত্যাগ বাঙালি ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহলকে নির্ভীক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। ১৯৪৮ সালে তমদ্দুন মজলিস ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, ১৯৫২ সালে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিউরদের বুকের তাজা রক্তে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং তৎকালীন স্বৈরশাসক নূরুল আমীন সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করে।

৩. পরবর্তী স্বাধিকার ও মুক্তি সংগ্রামের মূল প্রেরণা:

  • ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: ২১ দফার মূল অঙ্গীকার ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা এবং যুক্তফ্রন্টের ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কবর রচিত হয়।
  • ১৯৫৬ সালের সংবিধানে স্বীকৃতি: রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মুখে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়।
  • ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও ১৯৬৬-এর ৬-দফা: ভাষা আন্দোলনের আত্মবিশ্বাস থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬-দফা বা ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ পেশ করেন।
  • ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন: এই স্বাধিকার চেতনার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে উনসত্তরের গণআন্দোলনে এবং সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক বিজয়ে।

৪. একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ: একুশের ‘রক্তে রাঙানো’ রাজপথের শপথই একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধে শত্রুর বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস জুগিয়েছিল। একুশের অমর গান ও শহীদের রক্ত ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।

উপসংহার: ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বীজতলা। বায়ান্নর রক্তের পথ বেয়েই একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ চালিকাশক্তি ও অনন্ত প্রেরণার উৎস বলা হয়।


২। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানার বিবরণ দাও। অতঃপর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নদীসমূহের ভূমিকা উল্লেখ কর।

[Describe the Geographical location and boundaries of Bangladesh. Then mention the role of Rivers in the economic development of Bangladesh.]

১. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:

  • ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক: বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এটি ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর) বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
  • আন্তর্জাতিক সীমানা:
    • উত্তরে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য।
    • পূর্বে: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্য।
    • পশ্চিমে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
    • দক্ষিণে: বিশাল জলসীমা পরিবেষ্টিত বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)।
  • সীমান্ত দৈর্ঘ্য ও আয়তন: বাংলাদেশের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার (বা ১,৪৮,৪৬০ বর্গকিমি ছিটমহল বিনিময়ের পর)। মোট স্থলসীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,২৪৬ কিমি; যার মধ্যে ভারতের সাথে ৪,১৫৬ কিমি এবং মিয়ানমারের সাথে ২৭১ কিমি। দক্ষিণের সমুদ্র উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১৬ কিমি।

২. অর্থনৈতিক উন্নয়নে নদীসমূহের ভূমিকা: বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় বদ্বীপ। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও কর্ণফুলীসহ প্রায় ৭০০ নদ-নদী জালের মতো বিস্তৃত। এদেশের অর্থনীতিতে নদীসমূহের অবদান অপরিসীম:

  1. কৃষিকাজে পলি সঞ্চয় ও সেচ সুবিধা: নদী বয়ে আনা উর্বর পলিমাটি মাটির উর্বরতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়, যা ধান, পাট, গম ও শাকসবজির বাম্পার ফলনে সহায়ক। এছাড়া নদীর মিঠাপানি শুষ্ক মৌসুমে সেচের প্রধান অবলম্বন।
  2. নৌপথ ও সুলভ যোগাযোগ ব্যবস্থা: সড়ক বা রেল যোগাযোগের তুলনায় নদীপথে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ মালামাল নদীপথে পরিবাহিত হয়।
  3. মৎস্য সম্পদের অফুরন্ত উৎস: নদী-নালা হলো আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশসহ শত শত দেশীয় প্রজাতির মিঠাপানির মাছের প্রধান প্রজননক্ষেত্র ও সরবরাহকারী, যা পুষ্টিচাহিদা মেটায় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
  4. বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পায়ন: কর্ণফুলী নদীর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নদীর ভূমিকা রয়েছে।

৩। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা কর। অতঃপর এ শিল্পের সংকট ও সম্ভাব্য প্রতিকারসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ কর।

[Discuss the importance of garments industry in the national economy of Bangladesh. Then mention in detail the problems of this industry and possible remedies.]

১. জাতীয় অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পের গুরুত্ব:

  • বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সিংহভাগ: বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮২-৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। প্রতি বছর এ খাত থেকে ৪০-৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
  • ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়ন: এ শিল্পে সরাসরি প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত, যার মধ্যে প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশই গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত নারী। এটি নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি করেছে।
  • জিডিপিতে অবদান: বাংলাদেশের জিডিপিতে তৈরি পোশাক খাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান প্রায় ১০-১২ শতাংশ। এটি ব্যাংকিং, বীমা, শিপিং ও প্যাকেজিং খাতের প্রবৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

২. পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকট ও চ্যালেঞ্জসমূহ:

  • কাঁচামাল (তুলা, সুতা, ডাইস) আমদানির ওপর অতিরিক্ত পরনির্ভরশীলতা।
  • গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া।
  • আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের ন্যায্যমূল্যের অভাব এবং ক্রেতাদের অতিরিক্ত কম দর প্রস্তাব।
  • পোশাক উৎপাদনে বৈচিত্র্যের অভাব (মূলত সাধারণ টি-শার্ট ও ট্রাউজারের মতো বেসিক আইটেমে সীমাবদ্ধ থাকা)।
  • শ্রমিক অসন্তোষ, মজুরি কাঠামো নিয়ে বিরোধ এবং কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণের অতিরিক্ত ব্যয়।

৩. সংকট উত্তরণে সম্ভাব্য প্রতিকার ও সুপারিশমালা:

  1. উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি (Value Added Garments): সাধারণ কটন ছেড়ে সিন্থেটিক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং ফ্যাশনেবল ডিজাইনার আইটেম তৈরি করা।
  2. নতুন বাজার অনুসন্ধান: ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনাময় বাজারে শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা বাড়ানো।
  3. নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ: শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সৌরবিদ্যুৎ গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপন জোরদার করা।
  4. শ্রমিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ: অটোমেশন ও ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশনের (4IR) উপযোগী করে শ্রমিক ও টেকনিশিয়ানদের দক্ষতা উন্নয়ন করা।

৪। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ ও এর সম্ভাব্য প্রতিকারসমূহ উল্লেখ কর।

[Mention the reasons and possible remedies for natural Disasters in Bangladesh.]

ভূমিকা: ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমিরূপ এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা ও জলোচ্ছ্বাস এখানকার নিয়মিত দুর্যোগ।

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রধান কারণসমূহ:

  • ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থান: বাংলাদেশের উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে ফানেল আকৃতির বঙ্গোপসাগর। তিনটি প্রধান নদী অববাহিকার মোহনায় অবস্থানের কারণে বর্ষাকালে উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পানির চাপ সামলানো সম্ভব হয় না।
  • অভিন্ন নদীর পানির অসম প্রবাহ: ভারতের সাথে ৫৪টি অভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ ও ফারাক্কা-তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে খরা এবং বর্ষায় আকস্মিক বানের সৃষ্টি হয়।
  • বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন: উন্নত বিশ্বের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বাড়ছে।
  • নদীভরাট ও নির্বিচারে বৃক্ষনিধন: পাহাড়ি পলি পড়ে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে ধারণক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে মাটির ক্ষয়রোধ কমে গেছে।

২. দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্ভাব্য প্রতিকার ও কার্যকর পদক্ষেপ:

  1. নদী ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণ: দেশের প্রধান ও শাখা নদীগুলোর নিয়মিত ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে গভীরতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী সুপার-ডাইক বাঁধ নির্মাণ করা।
  2. ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কবার্তা: উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহুতল সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ এবং রাডার ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচার।
  3. উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী (Coastal Green Belt): সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে ঘন বনায়ন তৈরি করা, যা প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ করে।
  4. জলবায়ু সহনশীল কৃষি: বন্যা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু ধানের জাত (যেমন: ব্রি ধান-৪৭, ব্রি ধান-৬৭) উদ্ভাবন ও কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

৫। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে যা জানো লেখ।

[Write about the Liberation war of Bangladesh in 1971.]

ভূমিকা: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল লাল-সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ।

১. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭টি আসন) অর্জন করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়ে টালবাহানা শুরু করে। এর প্রতিবাদে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

২. অপারেশন সার্চলাইট ও স্বাধীনতার ঘোষণা: ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর বর্বরোচিত সামরিক গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

৩. মুজিবনগর সরকার ও সেক্টর বিন্যাস: মুক্তিযুদ্ধকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করতে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে ‘মুজিবনগর সরকার’। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পরিচালিত হয়।

৪. মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ড ও চূড়ান্ত বিজয়: ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। একযোগে আকাশ, জল ও স্থলপথে আক্রমণ চালিয়ে হানাদারদের কোণঠাসা করে ফেলা হয়। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করে। বাঙালি জাতি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়।


৬। বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী ও অধ্যাদেশসমূহ উল্লেখ কর।

[Mention all the amendments and ordinances of constitution of Bangladesh.]

১. সংবিধানের ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ গণপরিষদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবসে) থেকে তা কার্যকর হয়। এটি একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংবিধান সংশোধন করা যায়।

২. উল্লেখযোগ্য প্রধান প্রধান সংশোধনীসমূহ: এ যাবৎ বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৭টি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে। নিম্নে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসমূহ তুলে ধরা হলো:

  • ১ম সংশোধনী (১৯৭৩): যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়নের বৈধতা প্রদান।
  • ২য় সংশোধনী (১৯৭৩): জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান এবং নিবর্তনমূলক আটকের ক্ষমতা সংবিধানে সংযোজন।
  • ৪র্থ সংশোধনী (১৯৭৫): সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং একদলীয় শাসন (বাকশাল) চালু।
  • ৫ম সংশোধনী (১৯৭৯): ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থান ও তৎপরবর্তী সামরিক শাসনের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রদান (পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত)।
  • ৮ম সংশোধনী (১৯৮৮): রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ‘ইসলাম’ অন্তর্ভুক্তি এবং ঢাকার বাইরে ৬টি অঞ্চলে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন।
  • ১২তম সংশোধনী (১৯৯১): দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পর পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতির গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন।
  • ১৩তম সংশোধনী (১৯৯৬): অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংবিধানে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ প্রবর্তন।
  • ১৫তম সংশোধনী (২০১১): তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সহাবস্থান এবং মৌলিক অধিকার শক্তিশালীকরণ।
  • ১৬তম সংশোধনী (২০১৪): সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্তকরণ (পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক বাতিল)।
  • ১৭তম সংশোধনী (২০১৮): জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি।

৩. সাংবিধানিক অধ্যাদেশ (Ordinance): সংসদ অধিবেশন না থাকলে বা সংসদ ভেঙে গেলে রাষ্ট্রপতি অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, যা সংসদের আইনের সমান কার্যকর হয়।


৭। বাংলাদেশে ইসলামের আবির্ভাব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে লেখ।

[Write about the appearance and development of Islam in Bangladesh.]

১. ইসলামের আবির্ভাব ও প্রাথমিক যুগ: বাংলায় মুসলিম রাজনৈতিক বিজয়ের বহু পূর্বেই সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে আরব মুসলিম বণিক ও ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডে ইসলামের আগমন ঘটে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর হয়ে পারস্য উপসাগরীয় বণিকরা চীন যাওয়ার পথে বাংলায় বাণিজ্য ঘাঁটি স্থাপন করেন। লালমনিরহাটের প্রাচীন ‘হারানো মসজিদ’ (হিজরি ৬৯ সনে নির্মিত বলে দাবিকৃত) এবং কুমিল্লার ময়নামতিতে আব্বাসীয় খলিফাদের মুদ্রাপ্রাপ্তি এর ঐতিহাসিক প্রমাণ বহন করে।

২. সুফি-সাধক ও আউলিয়াগণের অবদান: বাংলায় ইসলামের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল সুফি-দরবেশদের আধ্যাত্মিক পরশ, নিঃস্বার্থ সেবা ও উচ্চ নৈতিকতার কারণে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.): সিলেটে ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে অত্যাচারী রাজা গৌরগোবিন্দের পতন ঘটিয়ে সমগ্র উত্তর-পূর্ব বাংলায় ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে দেন।
  • হযরত খানজাহান আলী (রহ.): দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বাগেরহাটে খাল খনন, রাস্তাঘাট ও ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে সুন্দরবন এলাকায় ইসলাম প্রচার করেন।
  • হযরত শাহ মাখদুম (রহ.) ও বাবা আদম শহীদ (রহ.): রাজশাহী ও বিক্রমপুর অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন।

৩. রাজনৈতিক বিজয় ও মুসলিম শাসন: ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী নদীয়া বিজয়ের মাধ্যমে বাংলায় সাড়ে পাঁচশত বছরের মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। ইলিয়াস শাহী এবং হোসেন শাহী আমলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় এবং বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সামাজিক বৈষম্য ও বর্ণপ্রথা থেকে মুক্তি পেতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের শান্তির ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।


৮। বাংলাদেশে আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক পার্থক্য উল্লেখপূর্বক সমাজ বিনির্মাণে উভয় শিক্ষাব্যবস্থার অবদান আলোচনা কর।

[Mention the comparative differences between Aliya and Qaumi Madrasah education systems in Bangladesh and discuss the contribution of both systems of education to the development of society.]

১. আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক পার্থক্য:

তুলনার বিষয় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা
১. উৎপত্তি ও ইতিহাস ১৭৮০ সালে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু। ১৮৬৬ সালে ভারতে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত গণমুখী ব্যবস্থা।
২. পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) ও আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া দ্বারা বেসরকারিভাবে পরিচালিত।
৩. পাঠ্যক্রম ও বিষয়বস্তু কুরআন-হাদিসের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সমন্বিত আধুনিক সমন্বিত শিক্ষা। ঐতিহ্যবাহী দরসে নেজামী কারিকুলাম অনুযায়ী বিশুদ্ধ কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও আরবি ব্যাকরণকেন্দ্রিক পাঠদান।
৪. অর্থায়ন সরকারি এমপিও ও বাজেট বরাদ্দ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ফি। জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত দান, সাদাকা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও যাকাত ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল।
৫. সনদ ও স্বীকৃতি সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত; ফাজিলকে ডিগ্রি ও কামিলকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়। দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

২. সমাজ বিনির্মাণে উভয় ধারার অবদান:

  • আলিয়া মাদ্রাসার অবদান: ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে আলিয়া মাদ্রাসা হাজার হাজার সৎ, দক্ষ আমলা, শিক্ষক, গবেষক ও প্রশাসক গড়ে তুলছে। তারা শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ব্যাংকিং খাত এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন।
  • কওমী মাদ্রাসার অবদান: কওমী মাদ্রাসাগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুসলিম উম্মাহর ঈমান ও আকিদা সংরক্ষণ, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও খতিব তৈরি এবং লাখ লাখ হাফেজে কুরআন তৈরি করে সমাজে নৈতিক ও আত্মিক ভারসাম্য রক্ষা করছে। এছাড়া লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ এতিম ও দরিদ্র শিশুর খাদ্য ও শিক্ষার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের বিরাট বোঝা লাঘব করছে।

খ অংশ—সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান—৫ × ৪ = ২০)

৯। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বর্ণনা কর।

[Discuss the socio-economic condition of Bangladesh.]

উত্তর: বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দেশ ধীরে ধীরে শিল্প ও সেবানির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মাথাপিছু আয় প্রায় ২,৭০০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যুগান্তকারী গতি এসেছে। তবে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, ধনী-দরিদ্রের আয়বৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এখনও দেশের আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান।


১০। বাংলাদেশের মৎস্য ও খনিজ সম্পদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

[Give a brief description of Fisheries and Mineral resources of Bangladesh.]

উত্তর:

  • মৎস্য সম্পদ: অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় এবং ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে এককভাবে প্রথম। মৎস্য খাত দেশের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয় এবং রফতানি বাণিজ্যে (হিমায়িত চিংড়ি ও সাদা মাছ) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
  • খনিজ সম্পদ: বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (তিতাস, বিবিয়ানা, কৈলাশটিলা ইত্যাদি গ্যাসক্ষেত্র)। এছাড়া দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় উন্নত কয়লাখনি, মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলা, নেত্রকোণায় চিনামাটি এবং কক্সবাজার সৈকতে তেজস্ক্রিয় জিরকন ও মোনাজাইট সমৃদ্ধ ভারি বালু রয়েছে।

১১। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব সম্পর্কে লেখ।

[Write about the importance of agriculture in the economy of Bangladesh.]

উত্তর: কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বস্ত্র, পাট, চিনি ও চামড়া শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আসে কৃষি থেকে। চাল, মাছ, ফলমূল ও সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ফলে জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১২-১৩ শতাংশ হলেও এর প্রভাব সমগ্র অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী।


১২। নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ বলতে কী বোঝায়? সংক্ষেপে লেখ।

[What does the executive department and the judiciary mean? Write in brief.]

উত্তর:

  • নির্বাহী বা শাসন বিভাগ (The Executive): রাষ্ট্রের আইনসমূহ কার্যকর করা, দৈনন্দিন শাসনকাজ পরিচালনা, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় নীতি বাস্তবায়নে নিয়োজিত বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ বলে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী (আমলাতন্ত্র) নিয়ে এ বিভাগ গঠিত।
  • বিচার বিভাগ (The Judiciary): সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান, অপরাধীদের শাস্তি নির্ধারণ এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভাগ হলো বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ) এবং অধস্তন আদালতসমূহ নিয়ে এটি গঠিত, যা শাসন বিভাগ থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়।

১৩। বাংলাদেশের প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনের সম্ভাব্য কয়েকটি পদক্ষেপ আলোচনা কর।

[Discuss some possible measures to curb administrative corruption in Bangladesh.]

উত্তর: প্রশাসনিক দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপসমূহ:

  1. দুদকের স্বায়ত্তশাসন: দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া।
  2. ই-গভর্ন্যান্স ও অটোমেশন: টেন্ডার, লাইসেন্স ও নাগরিক সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা, যাতে কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতার সরাসরি নগদ লেনদেন বন্ধ হয়।
  3. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ: ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের দ্রুত বিচার এবং তাদের অবৈধ অর্জিত সম্পত্তি রাষ্ট্র কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা।
  4. তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ: সরকারি কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হুইসেলব্লোয়ারদের নিরাপত্তা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ উন্মুক্ত রাখা।

১৪। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

[Brief the social and cultural life of the Chakmas of Chattogram Hill Tracts.]

উত্তর: চাকমারা বাংলাদেশের সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। তাদের প্রধান আবাসস্থল রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।

  • সামাজিক কাঠামো: চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। তাদের গ্রামপ্রধানকে ‘কার্বারি’, কতগুলো গ্রাম নিয়ে গঠিত মৌজার প্রধানকে ‘হেডম্যান’ এবং সমগ্র চাকমা সার্কেলের প্রধানকে ‘চাকমা রাজা’ বলা হয়।
  • ধর্ম ও সংস্কৃতি: চাকমারা মূলত থেরবাদ বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব হলো বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু’ (ফুল বিজু, মূল বিজু ও গয্যাপয্যা দিন)। চাকমা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো ‘পিনোন’ ও ‘হাদি’।

১৫। বাংলাদেশের উপজাতির সংখ্যা কয়টি ও কী কী?

[What are the types of Tribes in Bangladesh and what are they?]

উত্তর: সরকারি গেজেট (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০) অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি রয়েছে। ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুযায়ী প্রধান প্রধান উপজাতিসমূহ হলো:

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বোম, পাংখোয়া, খিয়াং, লুসাই, খুমি ও চাক।
  2. ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গ অঞ্চল: গারো, হাজং, কোচ, সাঁওতাল, ওঁরাও, রাজবংশী ও মালপাহাড়ী।
  3. সিলেট অঞ্চল: খাসিয়া, মণিপুরি ও পাত্র।
  4. উপকূলীয় অঞ্চল: রাখাইন।

১৬। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল কয়টি ও কী কী?

[How many notable political parties on Bangladesh and what are they?]

উত্তর: নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

  1. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ: ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী অন্যতম প্রাচীন দল।
  2. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দল।
  3. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: অন্যতম বৃহৎ আদর্শভিত্তিক ইসলামি রাজনৈতিক দল।
  4. জাতীয় পার্টি: ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দল।
  5. অন্যান্য দল: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণফোরাম ও সিপিবি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ১ম বর্ষের বাংলাদেশ স্টাডিজ (২০৪১০৪) বিষয়ের পরীক্ষার মানবণ্টন কেমন?

বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ের পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রটিতে দুটি বিভাগ থাকে: ক-অংশ (রচনামূলক) থেকে ৪টি প্রশ্নের জন্য ৬০ নম্বর এবং খ-অংশ (সংক্ষিপ্ত) থেকে ৪টি প্রশ্নের জন্য ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে।

২. বাংলাদেশ স্টাডিজে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কৌশল কী?

রচনামূলক উত্তরে ঐতিহাসিক তারিখ, ভৌগোলিক মানচিত্রের রূপরেখা, সরকারি পরিসংখ্যান এবং যথাযথ পয়েন্ট ও সাব-হেডিং ব্যবহার করলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।

৩. বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কোন খাতগুলো?

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তি হলো কৃষি খাত, তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প এবং প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স।

৪. আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসার মূল সমন্বিত ভূমিকা কী?

আলিয়া মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষার সাথে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছে, আর কওমী মাদ্রাসা বিশুদ্ধ দ্বীন সংরক্ষণ ও সামাজিক নৈতিকতা বজায় রাখতে অনন্য অবদান রাখছে।

৫. সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল পরিবর্তন কী ছিল?

২০১১ সালে গৃহীত ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে অঙ্গীভূত করা হয়।

৬. চাকমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু কীভাবে উদযাপিত হয়?

বিজু উৎসব টানা তিন দিনব্যাপী পালিত হয়: প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’ (নদীতে ফুল ভাসানো), দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিজু’ (পাচন রান্না ও আতিথেয়তা) এবং তৃতীয় দিন ‘গয্যাপয্যা দিন’ (বিশ্রাম ও আনন্দ উদযাপন)।