উচ্চতর আরবি ২য় পত্র (Higher Arabic 2nd Paper) – 408, উচ্চতর আরবি – ফাযিল পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০১৮

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – ২০১৮
বিষয়: উচ্চতর আরবি (ঐচ্ছিক) দ্বিতীয় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৮)
[আরবি পদ্য (الشعر العربي)]
সময় : ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান : ১০০
[الملاحظة : الاعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة.]
[দ্রষ্টব্য : পার্শ্বস্থ সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান নির্দেশক। ডান দিক থেকে উত্তর লেখা শুরু করা বাঞ্ছনীয়।]

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০১৮-এর উচ্চতর আরবি ২য় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৮ – আরবি পদ্য) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির রচনামূলক ও কাব্যানুবাদের উচ্চমান বজায় রেখে ভূমিকা, মূল কবিতাংশ, প্রাঞ্জল ছন্দোময় অনুবাদ, কবি পরিচিতি, সাহিত্যিক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং সারবস্তু সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।

১। ترجم ثلاث قطعات باللغة البنغالية

[কাব্যাংশের বাংলা অনুবাদ ও কাব্যতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ]

[মান: ১০ × ৩ = ৩০]

(الف) معلقة لبيد بن ربيعة العامري [লবিদ ইবনে রাবিয়ার কালজয়ী মুয়াল্লাকা: জনহীন প্রান্তর ও স্মৃতিকাতরতা]

عَفَتِ الدِّيَارُ مَحَلُّهَا فَمَقَامُهَا * بِمِنًى تَأَبَّدَ غَوْلُهَا فَرِجَامُهَا
فَمَدَافِعُ الرَّيَّانِ عُرِّيَ رَسْمُهَا * خَلَقًا كَمَا ضَمِنَ الْوُحِيَّ سِلامُهَا
دِمَنٌ تَجَرَّمَ بَعْدَ عَهْدِ أَنِيسِهَا * حِجَجٌ خَلَوْنَ حَلالُهَا وَحَرَامُهَا

[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“মিনায় প্রিয়ার ক্ষণস্থায়ী ও স্থায়ী আবাসের চিহ্নসমূহ আজ বিরান হয়ে বিলীন হয়ে গেছে; গাওল ও রিজাম পাহাড়ের উপত্যকাগুলো মানবহীন হয়ে বন্য পশুদের স্থায়ী আবাসে পরিণত হয়েছে।
রাইয়ান উপত্যকার পর্বত-ঝরনাগুলোর প্লাবনে প্রাচীন বসতির অবশিষ্টাংশ আজ ধুয়েমুছে নগ্ন হয়ে পড়েছে; ঠিক যেভাবে পাথরের বুকে খোদাই করা প্রাচীন শিলালিপি দীর্ঘকাল টিকে থাকে!
প্রিয় মানুষের সাথে বিচ্ছেদের পর বহু সুদীর্ঘ যুগ পার হয়ে গেছে; বছরের পর বছর গত হয়েছে, তাদের হালাল ও পবিত্র মাসসমূহও একে একে অতিক্রান্ত হয়েছে।”

কাব্যতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও শাব্দিক তাহকিক:
সাহাবী কবি লবিদ ইবনে রাবিয়া (রা.) প্রাক-ইসলামি জাহেলী যুগের অন্যতম মুয়াল্লাকা রচয়িতা ছিলেন। এই পঙক্তিগুলো তাঁর বিখ্যাত মুয়াল্লাকার উদ্বোধনী শ্লোক (আতলাহল – প্রাচীন বসতির স্মৃতিচারণ)। কবি এখানে সুদীর্ঘ কালপ্রবাহ ও প্রকৃতির ধ্বংসলীলার বিপরীতে অতীতের স্মৃতিচিহ্নগুলোকে পাথরে খোদাই করা লেখার সাথে রূপক তুলনা করেছেন।

আরবি শব্দ শব্দার্থ তাহকিক ও ব্যাকরণিক রূপ
عَفَتِ বিলীন হয়েছে / মুছে গেছে فعل ماض، صيغة مؤنث غائب، মূলধাতু (ع ف و)
تَأَبَّدَ জনশূন্য হয়ে বন্য পশুর আবাসে পরিণত হয়েছে فعل ماض، باب تفعل، মূলধাতু (أ ب د)
الْوُحِيَّ শিলালিপি / পাথরে খোদাই করা অক্ষর جمع وَحْيٌ، অর্থ খোদাইকৃত লিপি
حِجَجٌ বহু বছর / বর্ষপরিক্রমা جمع حِجَّةٌ، অর্থ বছর বা কালখণ্ড

(ب) حسان بن ثابت الأنصاري [হযরত হাসসান ইবনে সাবিত (রা.): মহানবী (সা.)-এর শানে কুরাইশদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব]

هَجَوْتَ مُحَمَّدًا فَأَجَبْتُ عَنْهُ * وَعِنْدَ اللَّهِ فِي ذَاكَ الْجَزَاءُ
أَتَهْجُوهُ وَلَسْتَ لَهُ بِكُفْءٍ * فَشَرُّكُمَا لِخَيْرِكُمَا الْفِدَاءُ
هَجَوْتَ مُبَارَكًا بَرًّا حَنِيفًا * أَمِينَ اللَّهِ شِيمَتُهُ الْوَفَاءُ

[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“তুমি মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে ব্যঙ্গকবিতা রচনা করে তাঁকে অপমান করতে চেয়েছ, আর আমি তাঁর পক্ষ হয়ে তোমার সমুচিত জবাব দিয়েছি; আর আল্লাহর নিকটই আমার এই ত্যাগের মহৎ প্রতিদান সংরক্ষিত রয়েছে!
তুমি কি এমন এক মহামানবকে ব্যঙ্গ করছ যাঁর সমকক্ষ হওয়া তোমার পক্ষে কোনোদিনই সম্ভব নয়? জেনে রাখো, তোমাদের মধ্যকার যে সর্বনিকৃষ্ট ও চরম অকল্যাণকর (অর্থাৎ তুমি), সে আমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের চরণে উৎসর্গীকৃত হোক!
তুমি এমন এক পবিত্র সত্তার কুৎসা রটিয়েছ যিনি বরকতময়, পুণ্যবান, একত্ববাদী এবং আল্লাহর মনোনীত বিশ্বস্ত দূত, যাঁর চিরন্তন ভূষণ ও বৈশিষ্ট্যই হলো বিশ্বস্ততা ও অঙ্গীকার রক্ষা!”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে মক্কার মুশরিক কবি আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধে চরম অবমাননাকর ব্যঙ্গকবিতা রচনা করেছিল। তখন আল্লাহর রাসূলের নির্দেশে রাসুলের শায়ের হযরত হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) এই কালজয়ী হামাসামূলক কাসিদা রচনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসসানের জন্য দুআ করেছিলেন: «اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ» (হে আল্লাহ! আপনি জিবরাঈলের মাধ্যমে হাসসানকে সাহায্য করুন)।

(ج) الفرزدق الأموي [উমাইয়া যুগের কবি আল-ফারাজদাক: তামিম গোত্রের অহমিকা ও রণহুঙ্কার]

يَا آلَ تَمِيمٍ أَلا لِلَّهِ أُمُّكُمُ * لَقَدْ رُمِيتُمْ بِإِحْدَى الْمُصْمَئِلاتِ
فَاسْتَشْعِرُوا بِثِيَابِ اللُّؤْمِ وَاعْتَرِفُوا * إِنْ لَمْ تَرُوعُوا بَنِي أَقْصَى بِغَارَاتِ
وَتَقْتُلُوا بِفَتَى الْفِتْيَانِ قَاتِلَهُ * أَوْ تُقْتَلُونَ جَمِيعًا غَيْرَ أَشْتَاتِ

[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“হে তামিম বংশের উত্তরসূরিরা! আল্লাহর শপথ, তোমাদের মায়ের সম্মান বিপন্ন হতে চলেছে; তোমরা এক চরম ও অপ্রতিরোধ্য মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছ!
যদি তোমরা শত্রু বনু আকসার ওপর প্রচণ্ড সামরিক আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে না তোলো, তবে অপমানের পোশাক পরিধান করে নিজেদের কাপুরুষতাকে চিরতরে স্বীকার করে নাও!
হয় তোমাদের সেই বীরশ্রেষ্ঠ যুবকের রক্তের বদলে তার হত্যাকারীকে হত্যা করো, নতুবা সম্মিলিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে সকলে একসাথে প্রাণ বিসর্জন দাও; বিচ্ছিন্নভাবে পালিয়ে যেও না!”

কাব্যিক রূপ ও বৈশিষ্ট্য:
উমাইয়া যুগের বিখ্যাত কবি আল-ফারাজদাক ছিলেন বেদুইন আরবদের বীরত্বগাথা ও অহমিকা (ফখর)-এর মূর্ত প্রতীক। তামিম গোত্রের কোনো এক বীর যুবকের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তিনি এই উদাত্ত রণহুঙ্কার দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষার বলিষ্ঠতা, শব্দচয়নের গাম্ভীর্য এবং উপজাতীয় আত্মমর্যাদাবোধের প্রকাশ এই পঙক্তিগুলোতে সুস্পষ্ট।

(د) أبو الطيب المتنبي [আবুদ তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বী: প্রেম ও বিরহের চরম আত্মবিসর্জন]

أَبْلَى الْهَوَى أَسَفًا يَوْمَ النَّوَى بَدَنِي * وَفَرَّقَ الْهَجْرُ بَيْنَ الْجَفْنِ وَالْوَسَنِ
رُوحٌ تَرَدَّدُ فِي مِثْلِ الْخِلالِ إِذَا * أَطَارَتِ الرِّيحُ عَنْهُ الثَّوْبَ لَمْ يَبِنِ
كَفَى بِجِسْمِي نُحُولاً أَنَّنِي رَجُلٌ * لَوْلا مُخَاطَبَتِي إِيَّاكَ لَمْ تَرَنِي

[অনুবাদ ও ভাবার্থ]:
“বিদায়ের করুণ লগ্নে প্রেমের তীব্র দহন ও গভীর বেদনায় আমার শরীর সম্পূর্ণ জীর্ণশীর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গেছে; আর প্রিয়তমার বিচ্ছেদ আমার চোখের পাতা ও ঘুমের মধ্যে চিরবিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে!
আমার আত্মা এখন টুথপিকের মতো একটি কৃশ ও অদৃশ্য কঙ্কালে বন্দি হয়ে ছটফট করছে; বাতাস যদি তার ওপর থেকে পোশাক উড়িয়ে নিয়ে যায় তবে তার অস্তিত্ব পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না!
আমার শারীরিক কৃশতা ও শীর্ণতার জন্য এটাই কি যথেষ্ট প্রমাণ নয় যে, আমি এমন এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছি যে, আমি যদি আপনার সাথে সরাসরি কথা না বলতাম তবে আপনি আমার উপস্থিতিও দেখতে পেতেন না!”

আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ:
আরবি কাব্যসম্রাট আল-মুতানাব্বী এই শ্লোকগুলোতে ‘মুবালাগা’ (المبالغة المقبولة – কাব্যিক অতিরঞ্জন)-এর চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। বিরহের তীব্রতায় প্রেমিকের শরীর এতটাই সূক্ষ্ম ও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে যে, শব্দ বা কণ্ঠস্বর ছাড়া তাকে চোখেই দেখা যায় না—এই কল্পনাশক্তি মুতানাব্বীর কবিতাকে বিশ্বসাহিত্যের অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছে।

২। اشرح بالعربية قطعة من التالية

[আরবিতে ব্যাখ্যা]

[মান: ১০ × ১ = ১০]

(الف) «يُجْزَوْنَ مِنْ ظُلْمِ أَهْلِ الظُّلْمِ مَغْفِرَةً * وَمِنْ إِسَاءَةِ أَهْلِ السُّوءِ إِحْسَانًا»

الشرح والتحليل الأدبي:
هذا البيت الشعري البليغ الرصين من عيون الشعر العربي الإسلامي الذي يفيض بمكارم الأخلاق وسجايا النبلاء الأبرار. يصور الشاعر هنا خلق الصفح الجميل، والحلم، ومقابلة الإساءة بالإحسان، وهي من أرفع المراتب الإيمانية والإنسانية التي دعا إليها القرآن الكريم والرسول الأعظم صلى الله عليه وسلم.

المعنى الإجمالي للبيت هو أن أولئك الكرام وأصحاب النفوس العالية الزكية لا يقابلون العدوان بالعدوان، ولا يعاملون الجاهلين بجهلهم؛ بل إذا تعرضوا للظلم الصارخ من أهل البغي والجفاء قابلوه بالعفو والصفح والمغفرة؛ وإذا أساؤوا إليهم بالقول أو الفعل البذيء كافؤوهم بالإحسان والبر والمعاملة الحسنة. وهذا تطبيق عملي للنهج القرآني الخالد في قوله عز وجل: ﴿ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ﴾ [فصلت: ٣٤]. وفي هذا البيت طباق بديعي جميل بين (الظلم والمغفرة) وبين (الإساءة والإحسان)، مما يبرز التباين الأخلاقي بين أهل الفضل وأهل الشر.

(ب) «النَّاسُ مِنْ جِهَةِ التِّمْثَالِ أَكْفَاءُ * أَبُوهُمُ آدَمُ وَالأُمُّ حَوَّاءُ»

الشرح والتحليل الأدبي:
هذا البيت الحكمي الشهير يُنسب لأمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، ويعد صرخة مدوية في وجه الطبقية، والعنصرية، والتعصب القبلي أو العرقي المقيت الذي كان يسود مجتمعات الجاهلية القديمة والحديثة.

يؤكد الشاعر حقيقة فطرية كبرى وهي أن البشر جميعاً متساوون في أصل الخلقة والكرامة الإنسانية المجردة (التمثال؛ أي الصورة الظاهرة والجسد الطيني). فكل إنسان مخلوق من تراب، ومركب من لحم ودم وعظم، وكلهم يرجعون إلى نسب واحد وأصل مشترك؛ فأبوهم الأول هو نبي الله آدم عليه السلام وأمهم هي حواء. فلا فضل لأبيض على أسود، ولا لأحد على أحد بحسبه أو نسبه أو ثروته؛ بل إن ميزان التفاضل الحقيقي الوحيد هو ما يكتسبه المرء من تقوى الله، والعلم النافع، والأخلاق الفاضلة، كما قال الشاعر في البيت التالي له: «وَإِنَّمَا أَصْلُ الْفَتَى كَرَمُهُ * وَدِينُهُ فِي الْعُلَى لَهُ جَدُّ»، ومصداقاً لقوله تعالى: ﴿إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ﴾ [الحجرات: ١٣].

৩ (الف)। اكتب نبذة من حياة حسان بن ثابت رضى الله عنه مع بيان خدماته للإسلام بالشعر

[হযরত হাসসান ইবনে সাবিত (রা)]

[মান: ১০]

ভূমিকা:
হযরত হাসসান ইবনে সাবিত আল-আনসারী (রা.) হলেন ইসলামের ইতিহাসের সর্বাধিক সম্মানিত ও মর্যাদাবান কবি, যাঁকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘শায়িরুর রাসূল’ (شاعر الرسول – আল্লাহর রাসূলের রাজকবি) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ইসলাম প্রচার, কাফিরদের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব এবং নববী দাওয়াতকে কাব্যকলার মাধ্যমে সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল চিরস্মরণীয়।

জন্ম ও দীর্ঘ জীবন:
তিনি মদিনার খাযরাজ গোত্রের বনু নাজ্জার শাখায় নবুওয়াত লাভের প্রায় ৬০ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাহেলী যুগ ও ইসলামি যুগ উভয় যুগে সমান ৬০ বছর করে সর্বমোট ১২০ বছর দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে আরবি সাহিত্যে ‘মুখাযরাম কবি’ (الشاعر المخضرم) বলা হয়। জাহেলী যুগে তিনি গাসসানী রাজদরবারের সম্মানিত সভাকবি ছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করে নিজের সমগ্র কাব্যপ্রতিভা আল্লাহর দ্বীনের জন্য উৎসর্গ করেন।

ইসলামের জন্য কাব্যিক খেদমত:

  • ১. অপপ্রচারের শৈল্পিক প্রতিরোধ: কুরাইশরা যখন মক্কার শীর্ষ কবিদের (যেমন—আমর ইবনুল আস, আব্দুল্লাহ ইবনুয যিবআরা) দিয়ে ইসলাম ও রাসূলের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গকবিতা রচনা করাত, তখন হাসসান (রা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে তেজস্বী কবিতার মাধ্যমে তাদের বংশীয় কলঙ্ক ও দুর্বলতা উন্মোচন করতেন।
  • ২. মসজিদে নববীতে মিম্বর লাভ: খোদ মসজিদে নববীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য একটি বিশেষ মিম্বর স্থাপন করে দিয়েছিলেন, যেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি কুরাইশদের বিরুদ্ধে কবিতা পাঠ করতেন।
  • ৩. রুহুল কুদুসের আধ্যাত্মিক সমর্থন: রাসূল (সা.) তাঁর প্রশংসা করে বলতেন—“হাসসান যতদিন কবিতা দিয়ে আল্লাহর রাসূলের পক্ষ নেবে, জিবরাঈল (আ.) ততদিন তাকে সাহায্য করবেন।”
  • ৪. যুদ্ধক্ষেত্রে মনোবল বৃদ্ধি ও শোকগাথা: বদর, উহুদ, খন্দক ও মক্কা বিজয়ের মুহূর্তে তিনি মুসলমানদের ঈমানি জযবা জাগ্রত করতেন। রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর রচিত শোকগাথাগুলো (রিসা) আরবি সাহিত্যের সর্বাধিক মর্মস্পর্শী ক্রন্দনধ্বনি হিসেবে স্বীকৃত।

ঐতিহাসিক প্রভাব ও সাহিত্যের মর্যাদা:
সাহাবী কবি হাসসান ইবনে সাবিত (রা.)-এর কবিতা কেবল সমকালীন রণকৌশলের অংশ ছিল না, বরং তা পরবর্তী সকল যুগের ইসলামি কবিদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে সাহিত্য ও কবিতাকে বাতিলের বিরুদ্ধে জিহাদের অন্যতম সেরা হাতিয়ার এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে জনমত গঠনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাঁর শ্লোকগুলো আরবি সাহিত্যের ধ্রুপদী মর্যাদায় সমাসীন এবং নাত-সাহিত্যের চিরন্তন উৎস।

৩ (ب)। من لقب بأمير الشعراء؟ اكتب ترجمة حياته ومساهمته فى الشعر العربي الحديث

[আমিরুশ শুআরা আহমদ শাওকী]

[মান: ১০]

ভূমিকা:
আধুনিক আরবি কবিতার পুনর্জাগরণের পথিকৃৎ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকবি আহমদ শাওকী (১৮৬৮-১৯৩২ খ্রি.)-কে সর্বসম্মতিক্রমে ‘আমীরুশ শুআরা’ (أمير الشعراء – কবিসম্রাট) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯২৭ সালে সমগ্র আরব বিশ্বের শীর্ষ কবি ও সাহিত্যিকদের এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজমুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়।

জন্ম, শিক্ষা ও ইউরোপ ভ্রমণ:
আহমদ শাওকী ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে মিসরের কায়রোতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ধমনীতে তুর্কি, কুর্দি, সার্কাসিয়ান ও গ্রিক রক্তের সংমিশ্রণ ছিল। কায়রোতে আইন ও অনুবাদ শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি তৎকালীন মিসরের শাসক খেদিভ তৌফিকের অর্থায়নে ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। প্যারিস ও মন্টপিলিয়ারে অবস্থানকালে তিনি ফরাসি নাট্যকার মলিয়র, রাসিন এবং লা ফন্তেনের সাহিত্যের সাথে পরিচিত হন।

কাব্যিক অবদান ও সাহিত্যমূল্য:
শাওকী ক্লাসিক্যাল আরবি কাসিদার ঐতিহ্যবাহী ছাঁচ অক্ষুণ্ণ রেখে তাতে আধুনিক জাতীয়তাবাদী চেতনা, ইসলামি ইতিহাস ও বিশ্বরাজনীতির অপূর্ব প্রতিফলন ঘটান। তাঁর সুবিশাল কাব্যগ্রন্থ ‘আশ-শাওকিয়্যাত’ (الشوقيات – ৪ খণ্ড) আরবি সাহিত্যের অমর সম্পদ। তাঁর হাত ধরেই আরবি সাহিত্যে সর্বপ্রথম ‘কাব্যনাট্য’ (المسرحية الشعرية)-এর সূচনা ঘটে; যার মধ্যে ‘মাজনুন লায়লা’, ‘মিসরাউ ক্লিওপেট্রা’, ‘কাম্বীয’ এবং ‘আমীরাতুল আন্দালুস’ অন্যতম। এছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শানে তাঁর রচিত ‘নাহজুল বুরদাহ’ নাত-সাহিত্যের এক অনুপম বিস্ময়।

কাব্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক প্রভাব:
আহমদ শাওকীর কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অসাধারণ শব্দচয়ন, সুরময় ছন্দপ্রবাহ এবং গভীর ভাবগাম্ভীর্য। তিনি একদিকে যেমন ক্লাসিক্যাল আরবি কাসিদার ঐতিহ্যবাহী ছাঁচ ও একক অন্ত্যমিল অক্ষুণ্ণ রেখেছেন, অন্যদিকে তাতে আধুনিক মানবিক অনুভূতি ও বিশ্বরাজনীতির নিখুঁত প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তাঁর কাব্যনাটকগুলো আধুনিক আরবি সাহিত্যের নাট্যধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

নির্বাসন পর্ব ও দেশাত্মবোধ:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁকে স্পেনের আন্দালুসে নির্বাসিত করা হয়। এই নির্বাসনকাল তাঁর কবিমানসে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তিনি আন্দালুসের হারানো মুসলিম গৌরব প্রত্যক্ষ করে মর্মস্পর্শী ইতিহাস-চেতনায় উজ্জীবিত কাসিদা রচনা করেন (যেমন তাঁর বিখ্যাত সিনিয়্যাহ কাসিদা)। স্বদেশপ্রেম, ইসলামি সংস্কৃতির জাগরণ ও মানবতার মুক্তিতে আহমদ শাওকীর অবদান আধুনিক আরবি সাহিত্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

৩ (ج)। اكتب خصائص الشعر العربي الاندلسى مع ذكر أسماء خمسة من الشعراء الاندلسيين

[আন্দালুসী কবিতার বৈশিষ্ট্য]

[মান: ১০]

ভূমিকা:
মুসলিম স্পেনের আটশত বছরের গৌরবময় শাসনকালে (৭১১-১৪৯২ খ্রি.) গড়ে ওঠা আন্দালুসী আরবি সাহিত্য প্রাচ্যের মরুভূমির কঠিন আবহাওয়া থেকে মুক্ত হয়ে ইউরোপের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, নদীনালা ও মনোরম জলবায়ুর স্পর্শে এক অনন্য লাবণ্যময় ও সুরভিত রূপ পরিগ্রহ করেছিল।

আন্দালুসী কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ১. প্রকৃতির জীবন্ত রূপায়ণ (وصف الطبيعة): আন্দালুসী কবিরা স্পেনের ফুলবাগান, নদী, ঝরনা ও পাহাড়ের এমন অপার্থিব চিত্রায়ণ করেছেন যা প্রাচ্যের কাব্যে বিরল। তাঁরা প্রকৃতিকে সজীব সত্তা হিসেবে কল্পনা করতেন।
  • ২. মুওয়াশশাহ ও যাযাল ছন্দের উদ্ভাবন (الموشحات والأزجال): গতানুগতিক আরবি উরূজের কঠোর একক অন্ত্যমিল ভেঙে সঙ্গীতধর্মী স্তবকবিশিষ্ট ‘মুওয়াশশাহ’ ও লোকজ ‘যাযাল’ কবিতার সৃষ্টি এই আন্দালুসীয় সাহিত্যেরই শ্রেষ্ঠ মৌলিক ঐতিহাসিক দান।
  • ৩. বেদনার্ত ক্রন্দন ও রাজ্যের শোকগাথা (رثاء المدن والممالك): খ্রিস্টানদের আগ্রাসনে কর্ডোভা, সেভিল ও গ্রানাডার পতনকালে কবিরা যে মর্মান্তিক শোকগাথা রচনা করেছিলেন (যেমন—আবু আল-বাকা আর-রুন্দীর কবিতা) তা বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্তক সৃষ্টি।
  • ৪. মার্জিত প্রেম ও আত্মিক প্রণয়কাব্য (الغزل العذري والتصوف): ইবনে হাযমের ‘তাওকুল হামামাহ’ এবং মহিউদ্দীন ইবনুল আরাবীর আধ্যাত্মিক সুফি কবিতাগুলো মানবীয় প্রেমের সর্বোচ্চ দার্শনিক শিখর উন্মোচন করেছে।

পাঁচজন বিশিষ্ট আন্দালুসী কবি ও তাঁদের অবদান:
১. ইবনে যায়দুন (ابن زيدون): আন্দালুসের শ্রেষ্ঠ প্রণয়কবি, যাঁর সাথে রাজকুমারী ওয়াল্লাদার অমর প্রেমকাব্য আরবি সাহিত্যের অমূল্য রত্ন।
২. ইবনে খাফাজাহ (ابن خفاجة): ‘শায়িরুত তাবিআহ’ বা প্রকৃতির বরপুত্র কবি হিসেবে সুপরিচিত।
৩. ইবনে আবদে রাব্বিহি (ابن عبد ربه): বিশ্বকোষতুল্য ‘আল-ইকদুল ফারিদ’-এর রচয়িতা ও রাজদরবারের প্রধান কবি।
৪. আবু আল-বাকা আর-রুন্দী (أبو البقاء الرندي): আন্দালুসের পতনে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কান্নার শোককাব্য «لِكُلِّ شَيْءٍ إِذَا مَا تَمَّ نُقْصَانُ» রচয়িতা।
৫. ইবনে হাযম আল-আন্দালুসী (ابن حزم الأندلسي): প্রেমতত্ত্বের অমর বিশ্বকোষ ‘তাওকুল হামামাহ’-এর প্রণেতা ও কালজয়ী আলিম-কবি।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন:
আন্দালুসী কবিতা কেবল আরবি সাহিত্যকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং ইউরোপীয় রেনেসাঁ এবং দক্ষিণ ইউরোপের ট্রুবাডুর (Troubadour) প্রণয়সঙ্গীতের ধারাকে সরাসরি প্রভাবিত করেছিল। প্রাচ্যের আরবি ভাষার আভিজাত্য এবং পাশ্চাত্যের ভৌগোলিক সৌন্দর্যের এই অপার্থিব সংমিশ্রণ সাহিত্যে চিরভাস্বর হয়ে আছে।

৪। সংক্ষিপ্ত ও কাব্য-ঐতিহাসিক প্রশ্নমালা

[সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নাবলি]

[মান: ৫ × ৪ = ২০]

(الف) عرف الشاعر المخضرم ثم اكتب ترجمة احد الشعراء المخضرمين بالايجاز [মুখাযরাম কবির পরিচয় ও জীবনী]:
– সংজ্ঞা: যে সকল কবি নিজেদের জীবদ্দশায় জাহেলী যুগ ও ইসলামি যুগ উভয় যুগ লাভ করেছিলেন এবং উভয় যুগে কাব্যচর্চা করেছিলেন, তাঁদেরকে আরবি সাহিত্যে ‘আল-মুখাযরাম’ (المخضرم) বলা হয়।
– একজন বিখ্যাত মুখাযরাম কবি—খানসা (الخنساء): তূমাদির বিনতে আমর আল-খানসা ছিলেন আরবি সাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ শোকগাথা (রিসা) রচয়িত্রী। জাহেলী যুগে নিজ দুই ভাই সাখর ও মুআবিয়ার মৃত্যুতে তিনি বুকফাটা বিলাপে যে কবিতা লিখেছিলেন তা প্রবাদতুল্য। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি বীর মাতা হিসেবে নিজের চার পুত্রকে কাদিসিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন এবং চার পুত্র শহীদ হলে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেছিলেন: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে চার শহীদের মা হওয়ার গৌরব দান করেছেন।”

(ب) ما معنى الديوان؟ اكتب ما تعرف عن ديوان على رضى الله عنه [দেওয়ান ও হযরত আলীর দেওয়ান]:
– দেওয়ান (الديوان): ফারসি উৎসজাত শব্দ, যার অর্থ দপ্তর, খাতা বা সংকলন। সাহিত্য পরিভাষায় কোনো কবির সামগ্রিক কাব্যকর্মের সংকলনকে ‘দেওয়ান’ বলা হয়।
– দেওয়ানে আলী (রা.): হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ, দুনিয়ার মোহমুক্তি, ত্যাগের আদর্শ ও আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে রচিত কবিতাগুলোর সংকলন হলো ‘দেওয়ানে আলী’। এতে কোনো মিথ্যা স্তাবকতা বা প্রেমকাব্য নেই; বরং প্রতিটি শ্লোক পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর গভীর দার্শনিক প্রতিফলনে সমৃদ্ধ।

(ج) تحدث عن الشاعر المتصوف ابي العتاهية [সুফি কবি আবুল আতাহিয়াহ]:
আবু ইসহাক ইসমাইল ইবনুল কাসিম আবুল আতাহিয়াহ (৭৪৭-৮২৬ খ্রি.) ছিলেন আব্বাসীয় যুগের বিখ্যাত কবি। যৌবনে তিনি প্রেম ও পার্থিব কবিতা লিখে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। কিন্তু মধ্যবয়সে এক চরম আধ্যাত্মিক বিপ্লব তাঁর জীবন বদলে দেয়। তিনি রাজপ্রাসাদ ও বিলাসবহুল জীবন ত্যাগ করে দরবেশের পোশাকে মৃত্যু, কবর, কিয়ামত ও দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী রূপ নিয়ে হাজার হাজার বৈরাগ্যপূর্ণ কবিতা (যুহদিয়াত) রচনা করেন।

(د) ما معنى النقائض؟ تحدث عن النقائض بين الفرزدق وجرير [নাকাইয কাব্য ও ফারাজদাক-জারীরের দ্বন্দ্ব]:
– নাকাইয (النقائض): নাকাইয হলো এমন এক প্রকার ব্যাঙ্গাত্মক ও আত্মগৌরবমূলক কাব্যযুদ্ধ, যেখানে এক কবি নির্দিষ্ট ছন্দ ও অন্ত্যমিলে অপর কবি ও তাঁর গোত্রকে আক্রমণ করে কবিতা রচনা করতেন এবং দ্বিতীয় কবি ঠিক একই ছন্দ ও অন্ত্যমিল বজায় রেখে পূর্ববর্তী কবির কবিতার প্রতিটি বক্তব্য খণ্ডন করে আক্রমণ শানাতেন।
– ফারাজদাক ও জারীর: উমাইয়া যুগের কবি আল-ফারাজদাক (বনু দারেম গোত্র) এবং জারীর (বনু কুলাইব গোত্র)-এর মধ্যে দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে এই কাব্যযুদ্ধ চলেছিল। তাঁদের এই বাহাস প্রাচীন আরবি অভিধান, গোত্রীয় ইতিহাস ও আলঙ্কারিক ভাষার এক সুবিশাল ঐতিহাসিক দলিলের রূপ নিয়েছে।

(هـ) من لقب بشاعر النيل؟ تحدث عن مساهمته فى الادب العربي الحديث باختصار [শায়িরুন নীল হাফিজ ইব্রাহীম]:
আধুনিক মিসরের অমর কবি হাফিজ ইব্রাহীম (১৮৭২-১৯৩২ খ্রি.)-কে ‘শায়িরুন নীল’ (شاعر النيل – নীলনদের কবি) বা জনগণের কবি বলা হয়। তিনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক ও জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের বেদনায় কবিতা লিখেছেন। ভিক্টর হুগোর কালজয়ী ফরাসি উপন্যাস ‘লা মিজারেবলস’ (البؤساء)-কে তিনি অনুপম আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন। আরবি ভাষার অবক্ষয় নিয়ে তাঁর বিখ্যাত কবিতা «رَجَعْتُ لِنَفْسِي فَاتَّهَمْتُ حَصَاتِي» বিশ্বখ্যাত।

(و) اكتب خصائص الشعر العربي فى العصر الاموى [উমাইয়া কবিতার বৈশিষ্ট্য]:
১. রাজনৈতিক কবিতার (الشعر السياسي) চরম বিকাশ ঘটে (খারেজী, শিয়া, উমাইয়া ও যুবাইরী দলগুলোর মধ্যে); ২. গোত্রীয় অহমিকা ও নাকাইয কবিতার পুনরুত্থান; ৩. প্রেমকাব্যের দুটি পৃথক ধারার সৃষ্টি—উযরী প্রেমকাব্য (পবিত্র ও নিষ্কলুষ প্রেম) এবং হিস্সী বা উমর ইবনে আবি রাবিয়ার ইন্দ্রিয়ঘন প্রেমকাব্য।

(ز) ما معنى الحماسة؟ تحدث عن خلفية تأليف “ديوان الحماسة” [হামাসা ও দেওয়ানুল হামাসা]:
– হামাসা (الحماسة): শাব্দিক অর্থ বীরত্ব, অসীম সাহস ও দৃঢ়তা। রণক্ষেত্রের বীরত্বগাথা ও যুদ্ধকাব্যকে হামাসা বলা হয়।
– দেওয়ানুল হামাসা: আব্বাসীয় যুগের মহাকবি আবু তাম্মাম (৮০৩-৮৪৫ খ্রি.) হামাদান শহরে বরফের ঝড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পণ্ডিত আবু আল-ওয়াফার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে অবস্থানকালে প্রাচীন আরবের শ্রেষ্ঠ বীরত্বপূর্ণ কবিতাগুলো সংকলন করে এই গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন। এটি ১০টি অধ্যায়ে বিভক্ত, যার প্রথম ও প্রধান অধ্যায়টি হলো ‘বাবুল হামাসা’।

৫ (الف)। ما معنى المعلقة؟ ولم سميت المعلقات بها؟ وكم عددها؟

[মুয়াল্লাকাত পরিচিতি]

[মান: ১০]

শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
‘মুয়াল্লাকা’ (المعلقة) শব্দটি আরবি ‘আল-ইলাক্ব’ (العِلْقُ – মহামূল্যবান সম্পদ) বা ‘তা’লীক’ (التعليق – ঝুলিয়ে রাখা) থেকে উদ্ভূত। সাহিত্য পরিভাষায় প্রাক-ইসলামি জাহেলী যুগের শীর্ষ সাতজন (মতান্তরে দশজন) মহাকবির সর্বশ্রেষ্ঠ দীর্ঘ গীতি-কবিতাসমূহকে (কাসিদা) সমষ্টিগতভাবে ‘মুয়াল্লাকাত’ বলা হয়।

নামকরণের ঐতিহাসিক কারণ:
১. কাবাগৃহে ঝুলিয়ে রাখা: ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাচীন আরবের ওকাজ মেলায় প্রতি বছর সমগ্র আরবের কবিদের মধ্যে কবিতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। বিচারকদের সর্বসম্মত রায়ে যে কাসিদাটি অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করত, সেটিকে সোনার জলে লিখে সম্মানের প্রতীক হিসেবে পবিত্র কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে (মুয়াল্লাক) রাখা হতো।
২. হৃদয়ে গেঁথে থাকা: অপর এক জোরালো ভাষাতাত্ত্বিক মতানুযায়ী, এই কবিতাগুলো এতটাই সাবলীল, প্রাঞ্জল ও জাদুকরী ছিল যে আরবরা তা একবাক্যে মুখস্থ করে হৃদয়ের মণিকোঠায় সযত্নে ঝুলিয়ে রাখত।
৩. গলার মূল্যবান হার: কোনো কোনো গবেষকের মতে, নারীর গলায় ঝুলানো মুক্তার হারের মতো অনুপম ছন্দের কারণে একে মুয়াল্লাকা বলা হয়।

মুয়াল্লাকাতের সংখ্যা ও কবিগণ:
সংখ্যাধিক্য প্রাচীন পণ্ডিতদের (যেমন—ইবনে আবদে রাব্বিহি ও আয-যাওযানী) মতে মুয়াল্লাকা হলো ৭টি (আস-সাবউল তিওয়াল)। এই সাতজন কবি হলেন:
১. ইমরুল কায়েস (قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل), ২. তারাফা ইবনুল আবদ, ৩. যুহাইর ইবনে আবি সুলমা, ৪. লবিদ ইবনে রাবিয়া, ৫. আমর ইবনে কুলসুম, ৬. আন্তারা ইবনে শাদ্দাদ এবং ৭. আল-হারিস ইবনে হিল্লিজা।
(তবে ইবনুল আনবারী ও তিবরিযীর মতে আল-আ’শা, নাবিগা আয-যুবইয়ানী এবং উবাইদ ইবনুল আবরাসকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট সংখ্যা ১০টি)।

মুয়াল্লাকাতের ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব:
মুয়াল্লাকাত হলো প্রাক-ইসলামি আরবের সামাজিক ইতিহাস, গোত্রীয় যুদ্ধবিগ্রহ, যাযাবর জীবনযাত্রা, ঘোড়া ও উটের বিবরণ এবং বেদুইন সংস্কৃতির জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। পবিত্র কুরআনের ভাষা বুঝতে এবং বিশুদ্ধ আরবি ব্যাকরণ ও অভিধানের প্রমাণ (শাওয়াহিদ) হিসেবে মুয়াল্লাকাতের শ্লোকগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

৫ (ب)। اكتب ترجمة ابى الطيب المتنبى وخصائص شعره بالايضاح

[আবুদ তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বী]

[মান: ১০]

ভূমিকা:
আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-জু’ফী আবুদ তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বী (৯১৫-৯৬৫ খ্রি.) হলেন আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক প্রভাবশালী কবি। আরবি সাহিত্যে প্রবাদ রয়েছে: «مَلأَ الدُّنْيَا وَشَغَلَ النَّاسَ» (তিনি সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর কাব্যের জাদুতে পূর্ণ করেছেন এবং সমগ্র মানবজাতিকে তাঁর কাব্যচর্চায় নিমগ্ন রেখেছেন)।

জন্ম ও বৈচিত্র্যময় জীবন:
তিনি ইরাকের কুফার ‘কিন্দা’ মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালেই তিনি ছিলেন প্রখর ধীশক্তির অধিকারী এবং বেদুইনদের মাঝে থেকে বিশুদ্ধ আরবি ভাষা রপ্ত করেন। জীবনের একপর্যায়ে রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিনি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন; যার কারণে তাঁকে ব্যঙ্গ করে ‘আল-মুতানাব্বী’ (নবুওয়াত দাবিদার) বলা হতো। পরবর্তীতে তিনি আলেপ্পোর হামদানী বীর শাসক সাইফুদ্দৌলার রাজদরবারে আশ্রয় পান এবং সাইফুদ্দৌলার রোমান অভিযানের ওপর রচিত কালজয়ী ‘সাইফিয়্যাত’ কাসিদাসমূহ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে মিশরের শাসক কাফুর আল-ইখশিদির দরবারে যান এবং তাঁর সাথে মনোমালিন্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যঙ্গকাব্য (হিজা) লিখে বাগদাদে ফিরে আসেন। শেষ জীবনে বাগদাদ ও শিরাজ থেকে ফেরার পথে ডাকাতদের হাতে তিনি মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।

মুতানাব্বীর কবিতার অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. তীব্র আত্মমর্যাদাবোধ ও অহমিকা (الفخر والحماسة): তিনি কবিতায় রাজাদের স্তুতি করলেও মূলত নিজের জ্ঞান, তরবারি ও সাহসের গুণগান গাইতেন; যেমন তাঁর বিখ্যাত উক্তি: «الْخَيْلُ وَاللَّيْلُ وَالبَيْدَاءُ تَعْرِفُنِي * وَالسَّيْفُ وَالرُّمْحُ وَالقِرْطَاسُ وَالقَلَمُ»।
২. প্রজ্ঞাপূর্ণ দর্শন ও হিকমত: তাঁর প্রতিটি শ্লোক একেকটি শাশ্বত প্রবাদে পরিণত হয়েছে যা আরবি ভাষী মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।
৩. শব্দবিন্যাস ও কল্পনার অভিনবত্ব: দুরূহ ও অপরিচিত শব্দকে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে কাব্যিক ব্যঞ্জনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন:
মুতানাব্বীর কবিতা কেবল ছন্দ নয়, বরং তা মানবজীবনের উচ্চাশা, সংগ্রাম, বেদনা ও বীরত্বের এক অনন্য দর্শন। শত শত বছর ধরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের গবেষকগণ তাঁর দেওয়ানের ওপর ডজন ডজন বিশদ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন।

৫ (ج)। اكتب خلاصة القصيدة “غادة اليابان”

[কাসিদা গাদাতুল ইয়াবানের সারসংক্ষেপ]

[মান: ১০]

ভূমিকা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
‘গাদাতুল ইয়াবান’ (غادة اليابان – জাপানি তরুণী) হলো আধুনিক মিসরের প্রখ্যাত জাতীয় কবি হাফিজ ইব্রাহীমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক, সংস্কারকামী ও অনুপ্রেরণাদায়ী রূপক কাসিদা। ১৯০৪-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের রুশ-জাপান যুদ্ধে একটি এশীয় ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে জাপান যখন পরাক্রমশালী রাশিয়ার জার বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে, তখন সমগ্র প্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে এক অভূতপূর্ব জাতীয়তাবাদী জাগরণ ও আশার আলো সৃষ্টি হয়। সেই ঐতিহাসিক বিজয়ের পটভূমিতে কবি এই অসাধারণ রূপক কাসিদা রচনা করেন।

কবিতার কাহিনী ও মূলভাব:
কবিতায় কবি একজন জাপানি সেবিকা তরুণীর রূপক চরিত্র অঙ্কন করেছেন, যে যুদ্ধের ময়দানে আহত সৈন্যদের সেবা শুশ্রূষায় আত্মনিয়োগ করেছে। সেই তরুণী কেবল নিজ দেশের যোদ্ধাদের নয়, শত্রুপক্ষের যুদ্ধবন্দিদেরও মানবিক মমতায় সেবা দিচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রের একপর্যায়ে তরুণীর পিতা ও বাগদত্তা রণক্ষেত্রে বীরদর্পে লড়াই করে দেশের স্বাধীনতার জন্য হাসিমুখে প্রাণ বিসর্জন দেন। স্বজন হারানোর গভীর বেদনায় অশ্রুপাত না করে সেই তরুণী গর্বের সাথে ঘোষণা করে যে, আত্মত্যাগ ও মাতৃভূমির সুরক্ষাই হলো জাতির সর্বোচ্চ গৌরব ও পরম ধর্ম।

শিক্ষণীয় বার্তা ও সাহিত্যমূল্য:
এই কাসিদার মাধ্যমে কবি মূলত তৎকালীন ঘুমন্ত আরব ও মুসলিম উম্মাহকে পশ্চিমা উপনিবেশবাদের দাসত্ব ও স্থবিরতার বিরুদ্ধে জাগ্রত হওয়ার এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের শিক্ষায় বলীয়ান হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে জাতীয় উত্থানের জন্য বিলাসিতা ত্যাগ করে চারিত্রিক সততা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও আত্মত্যাগের মানসিকতা অপরিহার্য। প্রাচ্যের সাহিত্যিক নবজাগরণে এটি এক কালজয়ী প্রেরণার উৎস।

কাব্যতাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও আলঙ্কারিক সৌন্দর্য:
‘গাদাতুল ইয়াবান’ কাসিদাটিতে কবি হাফিজ ইব্রাহীম অত্যন্ত সরল, সাবলীল অথচ তীব্র আবেগপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন। এতে কোনো দুর্বোধ্য বা কৃত্রিম অলঙ্কারের আড়ম্বর নেই, বরং প্রতিটি চরণ সরাসরি পাঠকের হৃদয়ে নাড়া দেয়। যুদ্ধের অমানবিক ধ্বংসলীলা এবং বিপরীতভাবে সেবিকার আত্মোৎসর্গ ও মানবিক মমতার এই দ্বান্দ্বিক রূপকে কবি এক অনন্য শিল্পরীতিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। সমকালীন আধুনিক আরবি সমাজসচেতন কবিতার ইতিহাসে এই কাসিদাটি এক কালজয়ী ও অবিস্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ২য় পত্রের (বিষয় কোড ৪০৮) মূল বিষয়বস্তু কী?

৪০৮ কোডের উচ্চতর আরবি ২য় পত্রটি মূলত ‘আরবি পদ্য’ (الشعر العربي)-এর ওপর নির্ধারিত। এতে প্রাক-ইসলামি জাহেলী যুগের মুয়াল্লাকা, ইসলামি যুগের কবিতা, উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগের কাসিদা, আন্দালুসী কবিতা এবং আধুনিক যুগের শাওকী ও হাফিজ ইব্রাহীমের কবিতা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. ২০১৮ সালের পরীক্ষায় কবিতার অনুবাদে কোন কবিদের অংশ এসেছিল?

২০১৮ সালের পরীক্ষায় কবি লবিদ ইবনে রাবিয়ার মুয়াল্লাকা, রাসূলের সাহাবী কবি হাসসান ইবনে সাবিত (রা.), উমাইয়া কবি আল-ফারাজদাক এবং আব্বাসীয় কাব্যসম্রাট আল-মুতানাব্বীর কবিতা থেকে অনুবাদ এসেছিল।

৩. ‘কবিসম্রাট’ বা আমিরুশ শুআরা বলতে কাকে বোঝানো হয়?

আধুনিক আরবি সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রূপকার মিসরের মহাকবি আহমদ শাওকীকে সর্বসম্মতভাবে ‘আমিরুশ শুআরা’ (أمير الشعراء) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

৪. আন্দালুসী কবিতার সর্বপ্রধান মৌলিক উদ্ভাবন কী?

আন্দালুসী কবিতার শ্রেষ্ঠ মৌলিক উদ্ভাবন হলো ‘মুওয়াশশাহ’ (الموشحات) ও ‘যাযাল’ ছন্দ, যা প্রাচ্যের একক অন্ত্যমিলের কঠোর বৃত্ত ভেঙে সঙ্গীতধর্মী স্তবকবিশিষ্ট কবিতার রূপ দান করেছিল।

৫. ‘নাকাইয’ কবিতা বলতে সাহিত্যের কোন ধারাকে বোঝায়?

নাকাইয হলো উমাইয়া যুগের এক বিশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কাব্যধারা, যেখানে এক কবি অন্য কবি ও তাঁর বংশকে ব্যঙ্গ করে কবিতা লিখলে অপর কবি একই ছন্দ ও অন্ত্যমিল বজায় রেখে তার দাঁতভাঙা জবাব দিতেন (যেমন—ফারাজদাক ও জারীরের কাব্যযুদ্ধ)।

৬. পরীক্ষায় আরবি কবিতার ব্যাখ্যার (اشرح بالعربية) ক্ষেত্রে মূল করণীয় কী?

কবিতার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রথমে কবির নাম ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ করতে হয় এবং এরপর শ্লোকের মূল আলঙ্কারিক সৌন্দর্য ও শিক্ষণীয় তাৎপর্য সহজ ও বিশুদ্ধ আরবি গদ্যে ব্যাখ্যা করতে হয়।