মৌখিক পরীক্ষা এবং টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি ৮ম পত্র (Viva Voce, Tutorial & Attendance 8th Paper) – 611208, হাদীস – কামিল ২য় পর্ব পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 27, 2026
৩১ মিনিট পড়ার সময়
৪ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস দ্বিতীয় পর্ব পরীক্ষা, ২০২৪
অষ্টম পত্র
বিষয়: মৌখিক পরীক্ষা এবং টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি [নতুন সিলেবাস অনুযায়ী]
বিষয় কোড: 611208 | পূর্ণমান: ১০০ | সময়: নির্ধারিত অনুযায়ী

ক্রমিক পরীক্ষার ক্ষেত্র ও বিষয়বস্তু মূল্যায়ন পদ্ধতি পূর্ণমান
১ মৌখিক পরীক্ষা (Viva-Voce) বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এক্সটার্নাল ও ইন্টার্নাল বোর্ড কর্তৃক সরাসরি মৌখিক মূল্যায়ন ৫০
২ টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট (Tutorials) ১ম পত্র থেকে ৭ম পত্র পর্যন্ত প্রতি পত্র হতে ১টি করে লিখিত গবেষণাধর্মী অ্যাসাইনমেন্ট (৫ x ৭) ৩৫
৩ শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি (Attendance) সেশনভিত্তিক সার্বিক উপস্থিতির শতকরা হারের ওপর গ্রেডিং স্কেল অনুযায়ী নম্বর বণ্টন ১৫
সর্বমোট পূর্ণমান ১০০

[الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة -]

القسم الأول : التوجيهات العامة للاختبار الشفوى (الدرجة – ৫০)

১. কামিল হাদীস ৮ম পত্রের মানবণ্টন, মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নির্দেশিকা ও বোর্ডের আদব

মানবণ্টন ও মৌখিক পরীক্ষার মূল কাঠামো:
বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) হাদীস দ্বিতীয় পর্বের নতুন সিলেবাস অনুযায়ী ৮ম পত্রটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও ব্যবহারিক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত। এর মোট পূর্ণমান ১০০ নম্বর। এই ১০০ নম্বরকে তিনটি সুনির্দিষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশে ভাগ করা হয়েছে: (ক) কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা-ভোসি) ৫০ নম্বর, (খ) শিক্ষাবর্ষব্যাপী লিখিত টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট ৩৫ নম্বর (মোট ৭টি পত্র থেকে প্রতিটিতে ৫ নম্বর করে ৫ x ৭ = ৩৫ নম্বর), এবং (গ) বছরব্যাপী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির ওপর ১৫ নম্বর। কামিল মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য এই পত্রে কৃতকার্য হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক।

মৌখিক পরীক্ষার (Viva-Voce) প্রস্তুতি ও শিষ্টাচার (আদাবুল ইখতিবার):
১. শালীন ও সুন্নাতসম্মত পোশাক পরিধান: মৌখিক পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই মার্জিত, পরিপাটি ও ইসলামসম্মত সুন্নতি পোশাকে (যেমন সাদা জুব্বা বা পায়জামা-পাঞ্জাবি এবং টুপি) উপস্থিত হতে হবে। পোশাকের পবিত্রতা ও রুচিশীলতা পরীক্ষকের অন্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২. বোর্ডে প্রবেশের আদব ও সালাম: পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের পূর্বে মার্জিতভাবে অনুমতি প্রার্থনা করতে হবে এবং স্পষ্ট ও বিনম্র কণ্ঠে সালাম প্রদান করতে হবে। আসন গ্রহণের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা এবং অনুমতি পাওয়ার পর শুকরিয়া প্রকাশ করে বসতে হবে।
৩. উত্তর প্রদানের ভঙ্গি ও ভারসাম্য: পরীক্ষক মহোদয়গণের প্রশ্ন গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক ভাষায় সংক্ষিপ্ত ও তথ্যবহুল উত্তর দিতে হবে; অহেতুক অপ্রাসঙ্গিক কথা বাড়িয়ে সময় নষ্ট করা অনুচিত। কোনো প্রশ্নের উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে স্মরণে না আসলে বিনীতভাবে নিজের অজ্ঞতা বা স্মরণে না থাকার কথা স্বীকার করতে হবে।
৪. আরবি উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি: যেহেতু এটি হাদীস বিভাগের মাস্টার্স পর্যায়ের পরীক্ষা, তাই হাদিসের নস, সনদ, রাবীদের নাম ও পরিভাষাসমূহ শুদ্ধ আরবি নহব ও সরফের তারকীব রক্ষা করে উচ্চারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

القسم الثانى : توجيهات كتابة البحث والواجبات التعليمية (الدرجة – ৩৫)

২. টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট লিখন কাঠামো, রিসার্চ মেথডোলজি ও টাইপোগ্রাফিক স্পেসিফিকেশন

টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্টের নিয়মাবলি ও গবেষণা পদ্ধতি:
কামিল হাদীস দ্বিতীয় পর্বে ১ম পত্র (সহীহ বুখারী ১ম) থেকে ৭ম পত্র (ফিকহুল মাযহাবী ও তাসাউউফ) পর্যন্ত সাতটি তাত্ত্বিক বিষয়ের প্রত্যেকটি থেকে একটি করে মোট সাতটি টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে (৫ x ৭ = ৩৫ নম্বর)। এটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গবেষণা ও রচনাশৈলীর মানদণ্ড।
১. বিষয় নির্বাচন ও পরিধি: বিভাগীয় প্রধান বা সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পাঠ্যসূচির গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, গ্রন্থকারের জীবনী বা কোনো জটিল হাদিস/ফিকহী মাসআলার তাহকীকী পর্যালোচনার ওপর অ্যাসাইনমেন্টের বিষয় নির্ধারিত হবে।
২. গবেষণা পদ্ধতি (Research Methodology): অ্যাসাইনমেন্টে অবশ্যই আধুনিক ইসলামি গবেষণা রীতি অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে ভূমিকা, বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা, উদ্দেশ্য, মূল আলোচনা, পর্যালোচনা ও উপসংহার থাকতে হবে। প্রতিটি তথ্যের জন্য মূল গ্রন্থ থেকে নির্ভরযোগ্য ফুটনোট ও রেফারেন্স প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
৩. অ্যাসাইনমেন্টের খণ্ডের বিন্যাস: প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট ২০ থেকে ৩০ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা বাঞ্ছনীয়। এর সূচনায় একটি প্রমিত কভার পেইজ (Cover Page) থাকতে হবে, যাতে অ্যাসাইনমেন্টের শিরোনাম, কোর্সের নাম ও কোড, তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের নাম-পদবি, শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, সেশন, পরীক্ষার সন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে। এরপর সারসংক্ষেপ (Abstract), সূচিপত্র (Table of Contents), মূল নিবন্ধ (২০-২৫ পৃষ্ঠা) এবং শেষে বিস্তারিত গ্রন্থপঞ্জি (Bibliography) সংযুক্ত করতে হবে।

টাইপোগ্রাফি, ফরম্যাটিং ও প্রিন্টিং নির্দেশিকা:
অ্যাসাইনমেন্ট স্বহস্তে সুন্দর হস্তাক্ষরে অথবা কম্পিউটার কম্পোজের মাধ্যমে প্রস্তুত করা যাবে; তবে কোনোভাবেই ফটোকপি বা হুবহু অন্যের লেখা নকল করা (Plagiarism) গ্রহণযোগ্য হবে না। কম্পিউটার কম্পোজের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রমিত নিয়ম মেনে চলতে হবে:
– ফন্ট সাইজ: মূল পাঠ্য ১২ পয়েন্ট, উপশিরোনাম ১৩ পয়েন্ট, এবং মূল অধ্যায় শিরোনাম ১৪ পয়েন্ট বোল্ড হতে হবে।
– ফন্ট নির্বাচন: বাংলায় SutonnyMJ বা কালপুরুষ/সোলাইমানলিপি, ইংরেজিতে Times New Roman এবং আরবি ইবারতের ক্ষেত্রে Traditional Arabic বা Scheherazade ফন্ট ব্যবহার করতে হবে।
– মার্জিন ও স্পেসিং: চারদিকে এক ইঞ্চি (১/১/১/১ ইঞ্চি) মার্জিন থাকতে হবে; লাইন স্পেসিং হবে ১.১৫ এবং প্যারাগ্রাফ Justify অ্যালাইনমেন্টে রাখতে হবে। প্রিন্টের ক্ষেত্রে A4 সাইজের ৮০ গ্রাম অফসেট কাগজের কেবল এক পাশে প্রিন্ট বা লিখতে হবে।

القسم الثالث : مقياس الحضور والدرجات الصفية (الدرجة – ১৫)

৩. ক্লাসে উপস্থিতি মূল্যায়ন নীতিমালা, শতকরা হারের সারণী ও নিয়মিত ক্লাসের গুরুত্ব

ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর বণ্টন নীতিমালা ও অফিসিয়াল স্কেল:
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী কামিল মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ১৫ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে। বছরব্যাপী পাঠদানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হারের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত গ্রেডিং স্কেল নিম্নে সারণীবদ্ধ করা হলো:

ক্রমিক শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হার (Attendance Range in %) বরাদ্দকৃত নম্বর (Marks out of 15) মন্তব্য
১ ৯০% বা তার বেশি (90% or above) ১৫ সর্বোচ্চ পূর্ণমান
২ ৮৫% থেকে ৮৯% পর্যন্ত (85% to less than 89%) ১৩ চমৎকার
৩ ৮০% থেকে ৮৪% পর্যন্ত (80% to less than 84%) ১১ উত্তম
৪ ৭৫% থেকে ৭৯% পর্যন্ত (75% to less than 79%) ০৯ সন্তোষজনক
৫ ৭০% থেকে ৭৪% পর্যন্ত (70% to less than 74%) ০৭ জরিমানা প্রযোজ্য (নন-কলেজিয়েট)
৬ ৬৫% থেকে ৬৯% পর্যন্ত (65% to less than 69%) ০৫ বিশেষ বিবেচনায় অনুমতিপ্রাপ্ত
৭ ৬৫% এর কম (Less than 65%) ০০ পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অযোগ্য (ডিস-কলেজিয়েট)

উচ্চশিক্ষায় ক্লাসে উপস্থিতির তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গুরুত্ব:
হাদীস ও ফিকহের মতো সংবেদনশীল উচ্চতর ধর্মীয় বিদ্যায় উস্তাযের সামনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আদবের সাথে বসে দরস গ্রহণ করা কেবল কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি আত্মিক বরকত, রুহানিয়াত ও বিশুদ্ধ ইলম অর্জনের একমাত্র সালাফী ঐতিহ্য। সহীহ কিতাবের শুকনো অক্ষর পড়ে কখনো হাদিসের অন্তর্নিহিত মারিফাত, আসমাউর রিজাল, বর্ণনাকারীদের সূক্ষ্ম জারহ-তাদীল এবং ফিকহের জটিল ইস্তিম্বাতী প্রজ্ঞা অর্জন করা সম্ভব নয়। ক্লাসে বিজ্ঞ উস্তাযগণের প্রাজ্ঞ তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বিশ্লেষণধর্মী ইলমী বিতর্ক এবং নিয়মিত একাডেমিক তত্ত্বাবধান একজন ছাত্রকে পরিপূর্ণ মুহাক্কিক, দক্ষ গবেষক ও যোগ্য আলিমে দ্বীন হিসেবে গড়ে তোলে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ৭৫% এর কম উপস্থিতি থাকলে শিক্ষার্থীকে নন-কলেজিয়েট হিসেবে অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা প্রদান করতে হয় এবং কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৬৫% এর নিচে নেমে গেলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অধিকার সম্পূর্ণ বাতিল (ডিস-কলেজিয়েট) হয়ে যায়। ফলে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি একাডেমিক কৃতিত্ব অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনেও অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

القسم الرابع : بنك الأسئلة الشفوية النموذجية للأوراق السبع (الدرجة – ৫০)

৪. বুখারী ও মুসলিম শরীফ বিষয়ক উচ্চতর ভাইভা প্রশ্নব্যাংক ও প্রামাণ্য উত্তর

মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে ১ম পত্র থেকে ৪র্থ পত্র (সহীহ বুখারী ১ম ও ২য় খণ্ড এবং সহীহ মুসলিম ১ম ও ২য় খণ্ড) থেকে সাধারণত যে ধরনের উচ্চতর প্রশ্ন করা হয়, তার প্রামাণ্য তাহকীকী মডেল উত্তর নিম্নে প্রদান করা হলো:
১. ইমাম বুখারী রহ.-এর পূর্ণ নাম, জন্ম-মৃত্যু ও তাঁর কিতাবের পূর্ণ নাম কী?
উত্তর: তাঁর পূর্ণ নাম হলো আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম আল-জু’ফী আল-বুখারী রহ.। তিনি ১৯৪ হিজরীতে বুখারা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরীর ঈদুল ফিতরের রাতে সমরকন্দের খারতাঙ্গে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত কিতাবের পূর্ণ নাম হলো ‘আল-জামি’উস সাহীহুল মুসনাদু মিন উমুরি রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া সুনানিহী ওয়া আইয়্যামিহী’।
২. বুখারী শরীফের প্রথম ও শেষ হাদিস কোনটি? এদের পারস্পরিক চমৎকার সামঞ্জস্য কী?
উত্তর: বুখারী শরীফের প্রথম হাদিস হলো ‘ইন্নামাল আ’মালু বিন-নিয়্যাত’ (নিশ্চয়ই যাবতীয় আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) এবং সর্বশেষ হাদিস হলো ‘কালিমাতানি হাবীবাতানি ইলার রাহমান… সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম’। ইমাম বুখারী রহ. প্রথম হাদিসের মাধ্যমে প্রতিটি তালিবুল ইলমকে নিজের নিয়ত খাঁটি করার শিক্ষা দিয়েছেন এবং শেষ হাদিসের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে মানুষের সমস্ত আমলের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর মীযানে ভারী হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
৩. ইমাম মুসলিম রহ.-এর কিতাবের বৈশিষ্ট্য ও মুকাদ্দিমায়ে মুসলিমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী রহ. (২০৬-২৬১ হি.) রচিত সহীহ মুসলিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একই বিষয়ের সমস্ত হাদিস ও বিভিন্ন সনদকে এক স্থানে সুবিন্যস্তভাবে সংকলন করা। কিতাবের শুরুতে তিনি এক সুবিশাল ঐতিহাসিক মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা রচনা করেছেন, যেখানে তিনি হাদিসের সহীহ-যঈফ নির্ধারণের মানদণ্ড, রাবীদের স্তরভেদ এবং কেবল সমসাময়িক হওয়া (মুআসারাত)-ই সনদের অবিচ্ছিন্নতার জন্য যথেষ্ট কি না—সে বিষয়ে ইমাম বুখারীর সাথে তাত্ত্বিক আলোচনা উপস্থাপন করেছেন।

৫. সুনানুন নাসাঈ, মুওয়াত্তা মালেক ও উলূমুল হাদীস বিষয়ক ভাইভা জিজ্ঞাসা ও তাহকীক

মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে ৫ম ও ৬ষ্ঠ পত্র (সুনানুন নাসাঈ, মুওয়াত্তা মালেক এবং উলূমুল হাদীস) সংক্রান্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির মডেল উত্তরমালা:
১. ইমাম নাসাঈ রহ.-এর কিতাব ‘আস-সুনানুল কুবরা’ ও ‘মুজতানা’-এর পরিচয় কী?
উত্তর: ইমাম আবু আব্দুর রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব আন-নাসাঈ রহ. (২১৫-৩০৩ হি.) প্রথমে ‘আস-সুনানুল কুবরা’ নামক এক সুবিশাল কিতাব রচনা করেন। পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের রামাল্লার আমীরের অনুরোধে সেই বৃহৎ কিতাব থেকে কেবল সহীহ ও শক্তিশালী হাদিসগুলো বাছাই করে সংক্ষেপিত করেন, যার নাম দেওয়া হয় ‘আল-মুজতানা’ বা ‘আস-সুনান আস-সুগরা’। সিহাহ সিত্তার অন্তর্ভুক্ত সুনানুন নাসাঈ মূলত এই আল-মুজতানাই। ইমাম নাসাঈর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি সনদের সামান্যতম সূক্ষ্ম ত্রুটি ও মতভেদকে নিপুণভাবে তুলে ধরেন।
২. মুওয়াত্তা মালেক সংকলনের প্রেক্ষাপট এবং ‘আমালু আহলিল মাদীনা’ কী?
উত্তর: ইমাম দারিল হিজরাহ মালেক ইবনে আনাস রহ. (৯৩-১৭৯ হি.) আব্বাসীয় খলিফা মানসুরের পরামর্শে উম্মাহর ঐক্যের জন্য হাদিস ও ফিকহের সমন্বয় ঘটিয়ে মুওয়াত্তা সংকলন করেন। মুওয়াত্তা অর্থ এমন কিতাব যা সর্বজনগ্রাহ্য ও মসৃণ করা হয়েছে। মালেকী মাযহাবে মদিনাবাসীর নিরবচ্ছিন্ন আমল (আমালু আহলে মদিনা) একক সূত্রীয় খবরের ওয়াহেদের চেয়েও অধিক শক্তিশালী ও মুতাওয়াতির দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
৩. উলূমুল হাদীসের ‘ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীল’ এবং হাদিসের ‘ইল্লাত’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: হাদিসের বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, স্মৃতিশক্তি এবং তাদের মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রামাণ্যভাবে যাচাই করার বিজ্ঞানকে ‘ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীল’ বলে। আর হাদিসের ‘ইল্লাত’ (العلة) হলো সনদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এমন এক অতি সূক্ষ্ম অস্পষ্ট ত্রুটি, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে হাদিসকে সহীহ মনে হলেও গভীর গবেষণার পর হাদিসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে (যেমন মুরসালকে মুত্তাসিল বা মাওকুফকে মারফু বানিয়ে ফেলা)।

৬. আল-ফিকহুল মাযহাবী ও তাসাউউফ শাস্ত্রের মৌখিক জিজ্ঞাসা ও মৌলিক সমাধান

মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে ৭ম পত্র (আল-ফিকহুল মাযহাবী ওয়া ইলমুত তাসাউউফ) সংক্রান্ত মৌলিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক প্রশ্নাবলির সমাধান:
১. ইসলামের চার প্রধান ফিকহী মাযহাব ও তাদের প্রতিষ্ঠাতাদের পরিচিতি কী?
উত্তর: আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সুসংরক্ষিত চারটি মাযহাব হলো: (ক) হানাফী মাযহাব—ইমামুল আ’যম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত রহ. (৮০-১৫০ হি.), (খ) মালেকী মাযহাব—ইমামু দারিল হিজরাহ মালেক ইবনে আনাস রহ. (৯৩-১৭৯ হি.), (গ) শাফিয়ী মাযহাব—ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিয়ী রহ. (১৫০-২০৪ হি.), এবং (ঘ) হাম্বলী মাযহাব—ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী রহ. (১৬৪-২৪১ হি.)। সাধারণ মুসলিমদের দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে এই চার মাযহাবের যে কোনো একটির তাকলীদ করা উম্মতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
২. তাকলীদের শরয়ী বিধান কী এবং এর বাইরে যাওয়ার হুকুম কী?
উত্তর: সাধারণ মানুষের জন্য বিভ্রান্তি ও প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে বাঁচতে একজন বিজ্ঞ মুজতাহিদের তাকলীদ করা ওয়াজিব (সুরা নাহল: ৪৩)। চার মাযহাবের বাইরে গিয়ে অপ্রচলিত বিচ্ছিন্ন মত গ্রহণ করা অথবা একাধিক মাযহাবের সহজ মত একত্র করে মনগড়া ‘তালফীক্বে বাতিল’ তৈরি করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।
৩. মুজাদ্দিদে আলফে সানী কে এবং তাঁর প্রধান সংস্কার আন্দোলন কী ছিল?
উত্তর: তিনি হলেন হযরত শায়খ আহমাদ আল-ফারূকী আস-সিরহিন্দী রহ. (৯৭১-১০৩৪ হি.)। তিনি হিজরী দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে ভারতের মুঘল সম্রাট আকবরের কুফরী ‘দ্বীনে এলাহী’ এবং সাজদায়ে তাযীমীর বিরুদ্ধে সিংহের মতো গর্জে উঠে কারাবরণ করেন। তিনি সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত সর্বেশ্বরবাদ ‘ওয়াহদাতুল উজূদ’-এর বিপরীতে কুরআন-সুন্নাহসম্মত ‘ওয়াহদাতুশ শুহূদ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সুন্নাহভিত্তিক নকশবন্দিয়া তরিকতের সংস্কার সাধন করেন।
৪. তাসাউউফে ‘ইহসান’ ও আত্মশুদ্ধির প্রধান প্রধান তরিকাগুলোর নাম কী?
উত্তর: হাদীসে জিবরীলে বর্ণিত ইহসানই হলো তাসাউউফের আত্মা। মুসলিম বিশ্বের সুপ্রসিদ্ধ চারটি মূল সুফি তরিকা হলো কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া এবং সোহরাওয়ার্দিয়া।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: কামিল হাদীস ৮ম পত্রের মোট নম্বর কত এবং এর বণ্টন কীভাবে হয়েছে?

উত্তর: কামিল হাদীস ৮ম পত্রের মোট পূর্ণমান ১০০ নম্বর। এর মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর, টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্টে ৩৫ নম্বর এবং ক্লাসে উপস্থিতিতে ১৫ নম্বর রয়েছে।

প্রশ্ন ২: ৮ম পত্রে মোট কয়টি টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়?

উত্তর: কামিল হাদীস ২য় পর্বের মোট ৭টি তাত্ত্বিক পত্রের প্রত্যেকটি থেকে ১টি করে মোট ৭টি গবেষণাধর্মী টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয় (৫ x ৭ = ৩৫ নম্বর)।

প্রশ্ন ৩: টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্টের আদর্শ পৃষ্ঠাসংখ্যা কত হওয়া উচিত?

উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাডেমিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি টিউটোরিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট সাধারণত ২০ থেকে ৩০ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা বাঞ্ছনীয়।

প্রশ্ন ৪: ক্লাসে কত শতাংশ উপস্থিত থাকলে সর্বোচ্চ ১৫ নম্বর পাওয়া যাবে?

উত্তর: বছরব্যাপী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হার ৯০% বা তার বেশি (90% or above) থাকলে পূর্ণ ১৫ নম্বর পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন ৫: কত শতাংশের কম উপস্থিতি থাকলে পরীক্ষার্থী ডিস-কলেজিয়েট বলে গণ্য হবে?

উত্তর: ক্লাসে উপস্থিতির হার ৬৫% এর নিচে নেমে গেলে শিক্ষার্থী ডিস-কলেজিয়েট হয়ে যায় এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারায় (উপস্থিতির নম্বর শূন্য)।

প্রশ্ন ৬: মৌখিক পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীর পোশাকের নিয়ম কী?

উত্তর: মৌখিক পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই শালীন, মার্জিত ও ইসলামসম্মত সুন্নতি পোশাক (সাদা জুব্বা বা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও টুপি) পরিধান করে উপস্থিত হতে হবে।