তাজবীদুল কুরআনিল কারীম (Tajweedul Quran) – 201102, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৬৫ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣م
ফাযিল (স্নাতক) সম্মান প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩
القرآن والدراسات الإسلامية [আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
تجويد القرآن الكريم وحفظه وترجمة معانيه
[তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহূ ওয়া তারজামাতু মায়ানীহি]
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০২
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

[দ্রষ্টব্য : বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) [ক বিভাগ]

الدرجات : ٣٠ [মান: ৩০]


১- اجب عن اثنين من الاسئلة التالية : [নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও] (মান: ১০ × ২ = ২০)

(أ) عرف علم القراءة – وكم قسما له؟ اكتب نشأة علم القراءة وتطوره مفصلا –
[علم القراءة-এর সংজ্ঞা দাও। এটা কত প্রকার? এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিশদভাবে লেখ।] মান: ১০

উত্তর:

১. ইলমুল কিরাতের সংজ্ঞা (Definition of Ilm al-Qira’at):

আভিধানিক অর্থ: ‘কিরাত’ (قراءة) শব্দটি আরবি ‘কার’উন’ ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ পাঠ করা, তিলাওয়াত করা বা উচ্চারণ করা।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.)-এর মতে: “علم بكيفية أداء كلمات القرآن واختلافها معزوا لناقله” অর্থাৎ “যে শাস্ত্রের মাধ্যমে কুরআনের শব্দাবলীর সহিহ উচ্চারণ পদ্ধতি এবং রাবী ও ইমামদের সূত্রে বর্ণিত শব্দের বিভিন্ন পাঠরীতি ও উচ্চারণ বৈচিত্র্য জানা যায়, তাকে ইলমুল কিরাত বলে।”

২. কিরাতের প্রকারভেদ (Types of Qira’at):

সনদের বিশুদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতার বিচারে কিরাতকে প্রধানত ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়:

  • ১. মুতাওয়াতির (المتواتر): যে কিরাত রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সাহাবা ও তাবেয়ীদের যুগে এমন বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়েছে যাতে মিথ্যার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটিই মূলত ‘সাবআতু আহরুফ’ এবং দশ কিরাতের ভিত্তি।
  • ২. মাশহুর (المشهور): যার সনদ বিশুদ্ধ, আরবি ব্যাকরণসম্মত এবং উসমানি লিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে তা তাওয়াতুরের স্তরে পৌঁছেনি। এটিও গ্রহণযোগ্য কিরাত।
  • ৩. আহাদ (الآحاد): যার সনদ বিশুদ্ধ হলেও উসমানি লিপির সাথে মিল নেই অথবা বহুল প্রচারিত নয়। এটি তেলাওয়াত করা জায়েজ নয়।
  • ৪. শায (الشاذ): যার সনদের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ। এর দ্বারা তেলাওয়াত করা নিষিদ্ধ।
  • ৫. মাওদু (الموضوع): যা মনগড়া ও বানোয়াট।
  • ৬. মুদরাজ (المدرج): যেখানে মুফাসসির সাহাবী নিজস্ব ব্যাখ্যামূলক শব্দ মূল আয়াতের সাথে যুক্ত করে পড়েছেন।

৩. ইলমুল কিরাতের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (Origin and Development):

  • নবুওয়তের যুগ: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف” (নিশ্চয় এই কুরআন সাতটি পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে—বুখারী ও মুসলিম)। আরব গোত্রসমূহের আঞ্চলিক ভাষার সহজতার জন্য বিভিন্ন উপভাষায় পড়ার এই অনুমতি ছিল। সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে সরাসরি কিরাত শিখেছিলেন।
  • সাহাবাদের যুগ: খলিফা উসমান (রা.) কুরাইশ উপভাষার ভিত্তিতে সরকারি মুসহাফ সংকলন করে বিভিন্ন ইসলামিক কেন্দ্রে বিশিষ্ট ক্বারী সাহাবীদের পাঠান। যেমন মক্কায় মুআজ ইবনে জাবাল, মদিনায় যায়েদ বিন সাবিত, কুফায় ইবনে মাসউদ ও বসরার জন্য আবু মুসা আল-আশআরী (রা.)।
  • ইমামদের যুগ ও সংকলন: হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে বিশ্ববিখ্যাত ইমামগণ কিরাতের প্রামাণ্য শাস্ত্র গড়ে তোলেন। হিজরি চতুর্থ শতকে ইমাম ইবনে মুজাহিদ (রহ.) সাতজন প্রসিদ্ধ ইমামের কিরাতকে নির্বাচন করে “কিতাবু সাব’আ” রচনা করেন। পরবর্তীতে আরও তিনজন যুক্ত হয়ে দশ কিরাত (আল-কিরাআত আল-আশারাহ) বিশ্বস্বীকৃত হয়। প্রখ্যাত দশ ক্বারী হলেন: ইমাম নাফে, ইবনে কাসির, আবু আমর, ইবনে আমির, আসিম, হামজাহ, কিসাঈ, আবু জাফর, ইয়াকুব ও খালাফ।

(ب) تحدث عن فضائل تلاوة القرآن واهميتها وادابها في ضوء القرآن والسنة –
[আল কুরআন তেলাওয়াতের ফজিলত, গুরুত্ব ও এর আদবসমূহ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোচনা কর।] মান: ১০

উত্তর:

১. কুরআন তেলাওয়াতের ফজিলত ও গুরুত্ব (Virtues of Reciting the Quran):

  • উত্তম ব্যবসা ও মহা প্রতিদান: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করতে পারে যা কখনো ধ্বংস হবে না।” (সূরা ফাতির: ২৯)।
  • প্রতিটি হরফে দশটি নেকি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে। আর একটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।” (তিরমিযী)।
  • কেয়ামতের দিন সুপারিশকারী: রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন: “اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ” অর্থাৎ “তোমরা কুরআন তেলাওয়াত কর, কেননা কেয়ামতের দিন এটি তার তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আগমন করবে।” (সহিহ মুসলিম)।
  • সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ: রাসুল (সা.) বলেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” (সহিহ বুখারী)।

২. কুরআন তেলাওয়াতের আবশ্যকীয় আদবসমূহ (Etiquette of Recitation):

  1. পবিত্রতা অর্জন: অজু সহকারে শরীর, পোশাক ও স্থান পবিত্র রেখে কেবলামুখী হয়ে বসা।
  2. ইস্তিজা ও তাসমিয়া পাঠ: তেলাওয়াত শুরুর পূর্বে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম’ এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ পাঠ করা।
  3. তারতীল ও তাজবীদের সাথে পাঠ: আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: “وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا” (এবং কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে—সূরা মুয্যাম্মিল: ৪)। প্রতিটি হরফ মাখরাজ ও সিফাত মেনে পড়া।
  4. অর্থ অনুধাবন ও ভাবাবেগ: রহমতের আয়াত এলে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা এবং শাস্তির আয়াত এলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া ও ক্রন্দনরত হৃদয় নিয়ে তিলাওয়াত করা।
  5. সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায়: তিলাওয়াতের সিজদার আয়াত এলে কালবিলম্ব না করে সাথে সাথে সিজদা আদায় করা।

(ج) اكتب احكام النون الساكنة والتنوين ممثلا من القرآن الكريم –
[নূন সাকিন ও তানভীনের বিধানসমূহ আল কুরআনুল কারীমের উদাহরণসহ লেখ।] মান: ১০

উত্তর:

নূন সাকিন ও তানভীনের পরিচয়:

যে নূন (ن)-এর ওপর জযম বা সাকিন থাকে তাকে নূন সাকিন (نْ) বলে। আর দুই যবর (ً), দুই যের (ٍ) এবং দুই পেশ (ٌ)-কে তানভীন বলে। তানভীনের মূলত একটি অদৃশ্য নূন সাকিন উচ্চারিত হয়। তাজবীদের পরিভাষায় নূন সাকিন ও তানভীনের পর আরবি হরফ আসার ভিত্তিতে এর ৪টি প্রধান বিধান রয়েছে:

  1. ১. ইযহার (الإظهار – স্পষ্ট করে পড়া):

    নূন সাকিন বা তানভীনের পর হলক্বী বা কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের (ء, هـ, ع, ح, غ, خ) যেকোনো একটি হরফ আসলে গুন্নাহ ছাড়া নূনকে তার নিজ মাখরাজ থেকে স্পষ্ট করে পড়তে হয়।

    উদাহরণ: مَنْ آمَنَ (মান আমানা), يَنْهَوْنَ (ইয়ানহাওনা), عَلِيمٌ حَكِيمٌ (আলিমুন হাকিম)।

  2. ২. ইদগাম (الإدغام – মিলিয়ে পড়া):

    নূন সাকিন বা তানভীনের পর ‘য়ারমালুন’ (يَرْمَلُون) অর্থাৎ ي, ر, م, ل, و, ن—এই ৬টি হরফের কোনো একটি আসলে নূনকে পরবর্তী হরফে মিলিয়ে পড়তে হয়। এটি দুই প্রকার:

    • ইদগামে বাগুন্নাহ (গুন্নাহসহ): ৪টি হরফ (ي, ن, م, و)। যেমন: مَن يَقُولُ (মাইয়্যাকুলু), مِن وَالٍ (মিঁও-ওয়ালিং)।
    • ইদগামে বেলাগুন্নাহ (গুন্নাহছাড়া): ২টি হরফ (ل, ر)। যেমন: مِن رَّبِّهِمْ (মির-রাব্বিহিম), غَفُورٌ رَّحِيمٌ (গাফুরুর-রাহীম)।
  3. ৩. ইক্বলাব (الإقلاب – পরিবর্তন করে পড়া):

    নূন সাকিন বা তানভীনের পর ‘বা’ (ب) হরফটি আসলে নূন সাকিন বা তানভীনকে ছোট ‘মীম’ (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।

    উদাহরণ: مِن بَعْدِ (মিম বা’দি), كَلَّا لَيُنبَذَنَّ (কাল্লা লাইউমবাযান্না), سَمِيعٌ بَصِيرٌ (সামীউম বাসীর)।

  4. ৪. ইখফা (الإخفاء – গোপন করে গুন্নাহসহ পড়া):

    নূন সাকিন বা তানভীনের পর ইযহার, ইদগাম ও ইক্বলাবের হরফগুলো ব্যতীত অবশিষ্ট ১৫টি হরফ (ت, ث, ج, د, ذ, ز, س, ش, ص, ض, ط, ظ, ف, ق, ك) আসলে নূনের আওয়াজকে নাকের বাঁশিতে গোপন করে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।

    উদাহরণ: مَن كَانَ (মাঙ্-কানা), كُنتُمْ (কুংতুম), عَذَابًا قَرِيبًا (আযাবাং ক্বারীবা)।


(د) عرف مخارج الحروف – وكم عددها؟ بين مفصلا –
[مخارج الحروف-এর সংজ্ঞা দাও। এর সংখ্যা কত? বিস্তারিত বর্ণনা কর।] মান: ১০

উত্তর:

১. মাখরাজের সংজ্ঞা (Definition of Makhraj):

‘মাখরাজ’ (مخرج) শব্দটি আরবি ‘খুরুজ’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ নির্গমন স্থান বা বের হওয়ার জায়গা। তাজবীদ শাস্ত্রে, মুখের যে সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে আরবি হরফ উচ্চারিত বা নিঃসৃত হয়, তাকে মাখরাজ (Makharij al-Huruf) বলা হয়।

২. মাখরাজের সংখ্যা ও ইমামদের মতামত:

  • ইমাম খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদী এবং ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.)-এর মতে মাখরাজের সংখ্যা মোট ১৭টি। এটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও জমহুর অভিমত।
  • ইমাম সিবওয়াইহ ও ইমাম শাতিবী (রহ.)-এর মতে মাখরাজ ১৬টি (তাঁরা জাওফের মাখরাজ বাদ দিয়েছেন)।
  • ইমাম ফাররা ও কুতরুবের মতে মাখরাজ ১৪টি।

৩. ১৭টি মাখরাজের বিস্তারিত বিবরণ (পাঁচটি প্রধান অঙ্গের অধীনে):

১৭টি বিশেষ মাখরাজ মূলত ৫টি প্রধান সাধারণ অঙ্গের (المخارج العامة) আওতাভুক্ত:

  1. আল-জাওফ (الجوف – মুখ ও কণ্ঠনালীর খালি জায়গা): ১টি মাখরাজ।

    এখান থেকে মাদ্দের তিনটি হরফ—যবরের পর খালি আলিফ (ا), পেশের পর জযমযুক্ত ওয়াও (وْ), এবং যেরের পর জযমযুক্ত ইয়া (يْ) বাতাসসহ উচ্চারিত হয়।
  2. আল-হলক্ব (الحلق – কণ্ঠনালী): ৩টি মাখরাজ, ৬টি হরফ।
    • কণ্ঠনালীর নিম্নাংশ (বুকের দিক থেকে): হামযাহ ও হা (ء، هـ)।
    • কণ্ঠনালীর মধ্যাংশ: আইন ও হা (ع، ح)।
    • কণ্ঠনালীর উপরিভাগ (মুখের দিক থেকে): গাইন ও খা (غ، خ)।
  3. আল-লিসান (اللسان – জিহ্বা): ১০টি মাখরাজ, ১৮টি হরফ।
    • জিহ্বার গোড়া তার বরাবর ওপরের নরম তালু: ক্বাফ (ق)।
    • জিহ্বার গোড়া থেকে একটু সামনে ওপরের শক্ত তালু: কাফ (ك)।
    • জিহ্বার মধ্যভাগ তার বরাবর ওপরের তালু: জীম, শীন, ইয়া (ج، ش، ي)।
    • জিহ্বার পার্শ্বদেশ (গোড়ার কিনারা) ওপরের মাড়ির দাঁত: দদ (ض)।
    • জিহ্বার কিনারার সম্মুখভাগ ও ওপরের দাঁতের মাড়ি: লাম (ل)।
    • জিহ্বার আগা তার বরাবর ওপরের তালু: নূন (ن)।
    • জিহ্বার আগার পিঠ ও ওপরের তালু: রা (ر)।
    • জিহ্বার আগা ওপরের সামনের দুই দাঁতের গোড়া: ত্বা, দাল, তা (ط، د، ت)।
    • জিহ্বার আগা ওপর ও নিচের সামনের দুই দাঁতের প্রান্ত: সাদ, যায়, সীন (ص، ز، س)।
    • জিহ্বার আগা ওপরের সামনের দুই দাঁতের আগা: যা, যাল, ছা (ظ، ذ، ث)।
  4. আশ-শাফাতান (الشفتان – দুই ঠোঁট): ২টি মাখরাজ, ৪টি হরফ।
    • নিচের ঠোঁটের পেটের অংশ ওপরের সামনের দুই দাঁতের আগার সাথে: ফা (ف)।
    • উভয় ঠোঁট মিলিত হয়ে ও ফাঁক হয়ে: বা, মীম, ওয়াও (ب، م، و)।
  5. আল-খাইশুম (الخيشوم – নাকের বাঁশি): ১টি মাখরাজ।

    এখান থেকে যাবতীয় গুন্নাহ (নূন ও মীমের ওয়াজিব গুন্নাহ, ইখফা ইত্যাদি) উচ্চারিত হয়।

২- اجب عن اثنين من الاسئلة التالية : [নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও] (মান: ৫ × ২ = ১০)

(أ) اكتب خمسة اسماء المشهورة المكتوبة عن علم التجويد مع مؤلفيها –
[লেখকের নামসহ علم التجويد-এর ওপর লিখিত প্রসিদ্ধ পাঁচটি গ্রন্থের নাম লেখ।] মান: ৫

উত্তর:

তাজবীদ শাস্ত্রে রচিত কালজয়ী পাঁচটি বিশ্বপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ ও তাঁদের সম্মানিত রচয়িতাগণ হলেন:

  1. আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযারিয়্যাহ (المقدمة الجزرية): ইমাম শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনুল জাযারী আশ-শাফিয়ী (রহ.) [মৃ. ৮৩৩ হি.]।
  2. তুহফাতুল আতফাল (تحفة الأطفال): শায়খ সুলাইমান ইবনে হুসাইন আল-জামযুরী (রহ.) [দ্বাদশ হিজরি শতক]।
  3. আল-রিআয়া লি তাজবীদিল কিরাআহ (الرعاية لتجويد القراءة): ইমাম মাক্কী ইবনে আবি তালিব আল-কায়সী (রহ.) [মৃ. ৪৩৭ হি.]।
  4. আত-তাহদীদ ফীত ইতক্বান ওয়াত তাজবীদ (التحديد في الإتقان والتجويد): ইমাম আবু আমর উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দানী (রহ.) [মৃ. ৪৪৪ হি.]।
  5. হিদায়াতুল ক্বারী ইলা তাজবীদি কালামিল বারী (هداية القاري إلى تجويد كلام الباري): শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আস-সায়্যিদ আজমি আল-মারসাফী (রহ.)।

(ب) ما معنى الوقف لغة واصطلاحا؟ وما علاماته في القرآن؟ بين –
[الوقف-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? আল কুরআনে এর আলামতসমূহ কী কী? বর্ণনা কর।] মান: ৫

উত্তর:

১. ওয়াক্বফের সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থ: ‘ওয়াক্বফ’ (الوقف) শব্দের অর্থ থামা, বিরত থাকা বা স্থগিত করা।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাজবীদ শাস্ত্রে, তেলাওয়াত অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে শ্বাস গ্রহণের জন্য কোনো শব্দের শেষ অক্ষরে স্বাভাবিক নিয়মে শব্দ ও শ্বাস থামিয়ে দেওয়াকে ওয়াক্বফ বলে।

২. কুরআনের প্রধান প্রধান ওয়াক্বফের সংকেত বা আলামতসমূহ:

  • (مـ) ওয়াক্বফে লাযিম: এখানে থামা অত্যাবশ্যক; না থেমে মিলিয়ে পড়লে অর্থের মারাত্মক বিকৃতি ঘটতে পারে।
  • (ط) ওয়াক্বফে মুতলাক্ব: থামার সর্বোত্তম স্থান। এখানে পূর্ণ বিরতি দিয়ে পরবর্তী বাক্য শুরু করা উত্তম।
  • (ج) ওয়াক্বফে জায়েজ: থামা এবং মিলিয়ে পড়া উভয়টিই বৈধ, তবে থামা উত্তম।
  • (ز) ওয়াক্বফে মুজাওওয়ায: মিলিয়ে পড়া উত্তম, তবে শ্বাসকষ্টে থামা যায়।
  • (ص) ওয়াক্বফে মুরাখখাস: দীর্ঘ আয়াতের ক্ষেত্রে শ্বাস না কুলালে থামার অনুমতি রয়েছে।
  • (لا) ওয়াক্বফে মামনূ: এখানে থামা নিষেধ। কোনো কারণে থেমে গেলে পূর্বের শব্দ থেকে মিলিয়ে পড়তে হয়।
  • (∴ ∴) মু’আনাক্বাহ: পাশাপাশি দুটি তিন নুক্তাবিশিষ্ট চিহ্ন থাকে; যেকোনো একটিতে থামলে অপরটিতে থামা যাবে না।

(ج) ما معنى الاستعاذة؟ وما احكامها قبل تلاوة القرآن ووسطها؟ بين –
[الاستعاذة কাকে বলে? আল কুরআন তেলাওয়াতের পূর্বে ও মাঝে এটি পাঠের বিধানসমূহ কী কী? বর্ণনা কর।] মান: ৫

উত্তর:

১. ইস্তিজার সংজ্ঞা:

‘ইস্তিজা’ (الاستعاذة) শব্দের অর্থ আশ্রয় প্রার্থনা করা। শরীয়তের পরিভাষায়, কুরআন তেলাওয়াতের পূর্বে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার জন্য “أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ” পাঠ করাকে ইস্তিজা বা তাআউয়ুজ বলে।

২. তেলাওয়াতের পূর্বে ও মাঝে ইস্তিজা পাঠের বিধানাবলি:

  • তেলাওয়াতের শুরুতে: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ” (যখন আপনি কুরআন পাঠ করবেন, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান—সূরা আন-নাহল: ৯৮)। অধিকাংশ আলেমের মতে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং ইমাম ইবনে সীরিন ও আতা (রহ.)-এর মতে এটি ওয়াজিব।
  • তেলাওয়াতের মাঝে বিরতি ঘটলে:
    • যদি তেলাওয়াতকারীর হাঁচি, কাশি বা তিলাওয়াত সংশ্লিষ্ট কোনো প্রয়োজনে সাময়িক বিরতি হয়, তবে নতুন করে ইস্তিজা পড়তে হয় না।
    • কিন্তু যদি তিলাওয়াত বন্ধ করে মানুষের সাথে বৈষয়িক কথাবার্তা বলে বা দীর্ঘ সময় বিরতি দেয়, তবে পুনরায় তেলাওয়াত শুরুর পূর্বে পুনরায় ইস্তিজা পড়া আবশ্যক।

(د) اكتب احكام الراء ممثلا –
[الراء-এর বিধানসমূহ উদাহরণসহ লেখ।] মান: ৫

উত্তর:

তাজবীদ শাস্ত্রে ‘রা’ (ر) হরফটি তার পূর্বাপর হরকত ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তিনটি মৌলিক অবস্থায় পঠিত হয়:

  1. ১. তাফখীম (التفخيم – মোটা বা পুর করে পড়া):
    • ‘রা’-এর ওপর যবর বা পেশ থাকলে: رَحْمَةٌ (রাহমাতুন), رُسُلٌ (রুসুলুন)।
    • ‘রা’ সাকিনের পূর্বে যবর বা পেশ থাকলে: مَرْيَمَ (মারয়াম), قُرْآنٌ (কুরআন)।
    • ‘রা’ সাকিনের পূর্বে আসলি যেরের পর একই শব্দে হরফে মুস্তালিয়া আসলে: فِرْقَةٍ (ফিরক্বাহ), مِرْصَادًا (মিরসাদা)।
  2. ২. তারক্বীক্ব (الترقيق – চিকন বা বারীক করে পড়া):
    • ‘রা’-এর নিচে যের থাকলে: رِزْقًا (রিযক্বা), كَرِيمٌ (কারীম)।
    • ‘রা’ সাকিনের পূর্বে আসলি যের থাকলে (যদি পরে হরফে মুস্তালিয়া না থাকে): فِرْعَوْنَ (ফিরআউন), مِرْيَةٍ (মিরইয়াহ)।
    • ওয়াক্বফের অবস্থায় ‘রা’ সাকিন হলে এবং তার পূর্বে ইয়া সাকিন (يْ) থাকলে: خَبِيرٌ (খাবীর), قَدِيرٌ (ক্বাদীর)।
  3. ৩. জাওয়াযুল ওয়াজহাইন (উভয় সুরত জায়েজ):

    যেখানে মোটা বা চিকন উভয়ভাবে পড়ার সুযোগ রয়েছে। যেমন: فِرْقٍ (ফিরক্ব) এবং مِصْرَ (মিসর)-এ ওয়াক্বফের সময়।

مجموعة (ب) [খ বিভাগ] – হিফজুল কুরআন

الدرجات : ٢٠ [মান: ১০ × ২ = ২০]


৩- اكتب من حفظك اثنين من السور التالية :
[স্মৃতি থেকে নিচের যে কোনো দুটি সূরা লেখ।] মান: ১০ × ২ = ২০

(أ) سورة الاعلى [সূরা আল-আলা]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى (1) الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّى (2) وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى (3) وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى (4) فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى (5) سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنْسَى (6) إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَى (7) وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَى (8) فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَتِ الذِّكْرَى (9) سَيَذَّكَّرُ مَنْ يَخْشَى (10) وَيَتَجَنَّبُهَا الْأَشْقَى (11) الَّذِي يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرَى (12) ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَى (13) قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى (14) وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى (15) بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا (16) وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى (17) إِنَّ هَذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَى (18) صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى (19)

আয়াতসমূহের সরল অর্থ: (১) তোমার মহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর, (২) যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং সুষম করেছেন, (৩) এবং যিনি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন অতঃপর পথ দেখিয়েছেন, (৪) এবং যিনি তৃণলতা উৎপন্ন করেছেন, (৫) অতঃপর তা কালচে আবর্জনায় পরিণত করেছেন। (৬) আমি তোমাকে পাঠ করাব, ফলে তুমি ভুলবে না, (৭) তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত; নিশ্চয় তিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবই জানেন। (৮) আর আমি তোমার জন্য সহজ পথ সুগম করে দেব। (৯) অতএব উপদেশ দাও, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়। (১০) যে ভয় করে সে উপদেশ গ্রহণ করবে, (১১) আর তা উপেক্ষা করবে চরম হতভাগ্য ব্যক্তি, (১২) যে মহা আগুনে প্রবেশ করবে, (১৩) অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না। (১৪) নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে, (১৫) এবং তার রবের নাম স্মরণ করে ও সালাত আদায় করে। (১৬) কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও, (১৭) অথচ আখিরাত সর্বোত্তম ও চিরস্থায়ী। (১৮) নিশ্চয় এটি পূর্ববর্তী সহিফাসমূহে বিদ্যমান ছিল, (১৯) ইব্রাহিম ও মুসার সহিফাসমূহে।


(ب) سورة العلق [সূরা আল-আলাক্ব]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ (5) كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى (6) أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى (7) إِنَّ إِلَى رَبِّكَ الرُّجْعَى (8) أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى (9) عَبْدًا إِذَا صَلَّى (10) أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ عَلَى الْهُدَى (11) أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَى (12) أَرَأَيْتَ إِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى (13) أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى (14) كَلَّا لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِ (15) نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ (16) فَلْيَدْعُ نَادِيَهُ (17) سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ (18) كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ (19)

আয়াতসমূহের সরল অর্থ: (১) পাঠ কর তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, (২) যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। (৩) পাঠ কর, আর তোমার রব পরম সম্মানিত, (৪) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, (৫) মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। (৬) কখনো নয়, মানুষ নিশ্চয় সীমালঙ্ঘন করে, (৭) কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে। (৮) নিশ্চয় তোমার রবের দিকেই সকলের প্রত্যাবর্তন। (৯) তুমি কি তাকে দেখেছ, যে বাধা দেয়— (১০) এক বান্দাকে যখন সে সালাত আদায় করে? (১১) তুমি কি ভেবে দেখেছ, যদি সে হেদায়েতের ওপর থাকে, (১২) অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয়? (১৩) তুমি কি ভেবে দেখেছ, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়? (১৪) সে কি জানে না যে আল্লাহ সবকিছু দেখছেন? (১৫) কখনো নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাকে কপালের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াব, (১৬) মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠ কপালের চুল! (১৭) অতএব সে যেন তার পারিষদবর্গকে ডাকে, (১৮) আমিও ডাকব জাহান্নামের প্রহরীদের। (১৯) কখনো নয়, তুমি তার আনুগত্য করো না; বরং সিজদা কর এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন কর। [সিজদা]


(ج) سورة البينة [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنْفَكِّينَ حَتَّى تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ (1) رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفًا مُطَهَّرَةً (2) فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ (3) وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ (4) وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ (5) إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ (6) إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ (7) جَزَاؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ (8)

আয়াতসমূহের সরল অর্থ: (১) আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তারা তাদের ভ্রষ্টতা থেকে নিবৃত্ত হওয়ার ছিল না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আগমন করে— (২) আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসুল, যিনি পবিত্র সহিফা পাঠ করবেন, (৩) যাতে রয়েছে সুস্পষ্ট ও সঠিক বিধানসমূহ। (৪) আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা বিভক্ত হলো কেবল তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই। (৫) আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে; আর এটিই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। (৬) নিশ্চয় আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তারা জাহান্নামের আগুনে চিরকাল থাকবে; ওরাই সৃষ্টির অধম। (৭) নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, ওরাই সৃষ্টির সেরা। (৮) তাদের রবের নিকট তাদের পুরস্কার হলো স্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট। এটি তার জন্য, যে তার রবকে ভয় করে।


(د) سورة الزلزال [সূরা আয-যিলযাল]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا (1) وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا (2) وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَا (3) يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا (4) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَى لَهَا (5) يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ (6) فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ (7) وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ (8)

আয়াতসমূহের সরল অর্থ: (১) যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কম্পনে প্রকম্পিত হবে, (২) এবং পৃথিবী তার ভেতরের ভারী বোঝা বের করে দেবে, (৩) আর মানুষ বলবে—এর কী হলো? (৪) সেদিন পৃথিবী তার যাবতীয় বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, (৫) কারণ তোমার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। (৬) সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বের হবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো যায়। (৭) অতএব যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। (৮) আর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সে-ও তা দেখতে পাবে।


مجموعة (ج) [গ বিভাগ] – তারজামাতু মায়ানীহি ও তাফসির

الدرجات : ٣٠ [মান: ১৫ × ২ = ৩০]


৪- ترجم اثنين من النصوص القرآنية واجب عن الاسئلة الملحقة بها :
[নিচের যে কোনো দুটি কুরআনিক অংশের অর্থ লেখ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও:] মান: ১৫ × ২ = ৩০

(أ) النص الأول: سورة التين

وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ (1) وَطُورِ سِينِينَ (2) وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ (3) لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ (4) ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ (5) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ (6) فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدِّينِ (7) أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ (8)

আয়াতসমূহের প্রাঞ্জল অর্থ:
(১) শপথ তীন ও যয়তুনের, (২) এবং শপথ তূর পর্বতের, (৩) এবং শপথ এই নিরাপদ নগরীর (মক্কার)। (৪) নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম সুন্দর গঠনে। (৫) অতঃপর আমি তাকে নামিয়ে দিয়েছি সর্বনিম্নের নিম্নতম স্তরে। (৬) তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে; তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন অবিরাম পুরস্কার। (৭) অতএব এর পর কিসে তোমাকে কর্মফল দিবস সম্পর্কে মিথ্যারোপ করতে প্ররোচিত করে? (৮) আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?

১. فسر قوله تعالى : لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ

তাফসির ও ব্যাখ্যা: ‘আহসানি তাকভীম’ অর্থ সৃষ্টির সুষমতম অবয়ব ও পরিপূর্ণ রূপ। আল্লাহ তাআলা চারটি পবিত্র স্থানের শপথ করে মানুষের সৃষ্টিগত শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন। মানুষকে তিনি চতুষ্পদ জন্তুর মতো নুইয়ে না দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা, অনুপম শারীরিক সৌষ্ঠব, বুদ্ধি, বিবেক, প্রজ্ঞা এবং আধ্যাত্মিক গুণাবলী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সে সমগ্র সৃষ্টিজগতের ওপর আল্লাহর প্রতিনিধি (খলিফা) হওয়ার যোগ্যতা রাখে। তবে মানুষ যদি তার এই বিবেককে অবহেলা করে কুফরিতে লিপ্ত হয়, তখন সে সৃষ্টির সর্বনিকৃষ্ট স্তরে পর্যবসিত হয়।

২. তাহকীক বা শব্দবিশ্লেষণ (حلل الكلمات الاتية):

শব্দ সীগাহ ও বাহাস বাব ও আসল অর্থ
رَدَدْنَاهُ মুফরাদ মুতাকাল্লিম নয় বরং জম’আ মুতাকাল্লিম, বাহাস বাসবাত ফেয়েল মাজী মারূফ বাব নাসারা (ن-ص-ر), আসল: رَدَدْنَاهُ আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি / অবনমিত করেছি
أَسْفَلَ ইসমুত তাফদীল (ওয়াহেদ মুযাক্কার) মাদ্দাহ: س-ف-ل সর্বনিম্ন / নিকৃষ্টতম
مَمْنُونٍ ইসমুল মাফউল (ওয়াহেদ মুযাক্কার) বাব নাসারা, মাদ্দাহ: م-ن-ن কর্তনকৃত / শেষ হয়ে যাওয়া (غير ممنون = নিরবচ্ছিন্ন)
أَحْكَمِ ইসমুত তাফদীল বাব কারুমা, মাদ্দাহ: ح-ك-م সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক / প্রজ্ঞাবান

(ب) النص الثاني: سورة الهمزة

وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ (1) الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ (2) يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ (3) كَلَّا لَيُنْبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ (4) وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ (5) نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ (6) الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ (7) إِنَّهَا عَلَيْهِمْ مُؤْصَدَةٌ (8) فِي عَمَدٍ مُمَدَّدَةٍ (9)

আয়াতসমূহের প্রাঞ্জল অর্থ:
(১) দুর্ভোগ প্রত্যেকের জন্য, যে পশ্চাতে নিন্দা করে ও সম্মুখে গীবত করে, (২) যে অর্থ পুঞ্জীভূত করে এবং তা বারবার গণনা করে। (৩) সে ধারণা করে যে, তার অর্থ তাকে চিরজীবী করে রাখবে। (৪) কখনো নয়, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে ‘হুতামাহ’-তে। (৫) আর কিসে তোমাকে জানাবে ‘হুতামাহ’ কী? (৬) তা আল্লাহর প্রজ্বলিত হুতাশন, (৭) যা হৃদয়কে গ্রাস করে ফেলবে। (৮) নিশ্চয় তা তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখবে, (৯) সুউচ্চ স্তম্ভসমূহে।

১. فسر قوله تعالى : كَلَّا لَيُنْبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ

তাফসির ও ব্যাখ্যা: ‘কাল্লা’ একটি ভীতিপ্রদর্শনমূলক অব্যয়, যার অর্থ—কখনো নয়, তার ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ধন-সম্পদ মানুষকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। ‘লায়ুনবাযান্না’ শব্দের মধ্যে লামে তাকীদ ও নূনে তাকীদে সাকীলা রয়েছে, যার অর্থ—তাকে অবশ্যই অত্যন্ত অপমানজনকভাবে আছড়ে নিক্ষেপ করা হবে। আর ‘আল-হুতামাহ’ হলো জাহান্নামের এমন এক ভয়াল স্তর, যা তার ভেতরে নিক্ষিপ্ত সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ভস্মীভূত করে ফেলে। অহংকারী অর্থলোভীদের শাস্তি হিসেবে এই হুতামায় নিক্ষেপ করা হবে।

২. صف نار جهنم موجزا [জাহান্নামের আগুনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]:

জাহান্নামের আগুন পার্থিব আগুনের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি উত্তপ্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক হাজার বছর প্রজ্বলিত করার পর তা লাল, আরও এক হাজার বছর পর সাদা এবং আরও এক হাজার বছর পর ঘুটঘুটে কালো রঙ ধারণ করেছে (তিরমিযী)। এই আগুন মানুষের ত্বক পুড়িয়ে সরাসরি হৃদপিণ্ডকে দগ্ধ করবে এবং এর চারপাশ সুউচ্চ স্তম্ভ দিয়ে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে কেউ কখনোই পালাতে না পারে।


(ج) النص الثالث: سورة البروج (الأواخر)

بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي تَكْذِيبٍ (19) وَاللَّهُ مِنْ وَرَائِهِمْ مُحِيطٌ (20) بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ (21) فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ (22)

আয়াতসমূহের প্রাঞ্জল অর্থ:
(১৯) বরং কাফেররা অবিরাম মিথ্যারোপে লিপ্ত রয়েছে। (২০) আর আল্লাহ তাদেরকে সর্বদিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। (২১) বরং এটি এক মহাসম্মানিত কুরআন, (২২) যা সংরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুজে) সংরক্ষিত।

১. تحدث عن لوح محفوظ [লাওহে মাহফুজ সম্পর্কে আলোচনা]:

‘লাওহ’ অর্থ ফলক এবং ‘মাহফুজ’ অর্থ সংরক্ষিত। লাওহে মাহফুজ হলো আল্লাহর আরশের নিকটবর্তী এক অতীব মর্যাদাশীল নূরানী সংরক্ষিত ফলক। সৃষ্টির সূচনা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে এবং ঘটবে—তার সমুদয় বৃত্তান্ত মহান আল্লাহ এতে নিখুঁতভাবে লিখে রেখেছেন। এখান থেকেই শবে কদরে প্রথম আসমানে সমগ্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। শয়তানের কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা অনুপ্রবেশ থেকে এটি চিরতরে সুরক্ষিত।

২. তাহকীক বা শব্দবিশ্লেষণ (حلل الكلمات الاتية):

শব্দ সীগাহ ও প্রকার বাব ও মাদ্দাহ অর্থ
تَكْذِيبٍ মাসদার (مصدر) বাব তাফঈল, মাদ্দাহ: ك-ذ-ب মিথ্যারোপ করা / অস্বীকার করা
مُحِيطٌ ইসমুল ফায়েল (ওয়াহেদ মুযাক্কার) বাব ইফআল, মাদ্দাহ: ح-و-ط সর্বতোভাবে পরিবেষ্টনকারী
مَجِيدٌ সিফাতে মুশাব্বাহাহ (অতি সম্মানিত) বাব কারুমা, মাদ্দাহ: م-ج-د মহাসম্মানিত / মহিমান্বিত
مَحْفُوظٍ ইসমুল মাফউল বাব সামিআ, মাদ্দাহ: ح-ف-ظ সুরক্ষিত / সংরক্ষিত

(د) النص الرابع: سورة العصر

وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)

আয়াতসমূহের প্রাঞ্জল অর্থ:
(১) শপথ সময়ের, (২) নিশ্চয় সকল মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। (৩) তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।

১. فسر قوله تعالى : وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

তাফসির ও ব্যাখ্যা: ইমাম শাফিয়ী (রহ.) সূরা আল-আসর সম্পর্কে বলেছেন: “যদি আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর এই একটি সূরা ব্যতীত অন্য কিছু নাজিল নাও করতেন, তবে এটিই তাদের হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট হতো।” আয়াতে মানুষের ক্ষতি থেকে মুক্তির জন্য দুটি সামাজিক কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে:

  • তাওয়াসী বিল-হক্ব: সমাজের মানুষকে তাওহিদ, শরীয়তের অনুশাসন এবং সকল প্রকার সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে চলার উপদেশ দেওয়া।
  • তাওয়াসী বিস-সবর: সত্য দ্বীন প্রচার ও পালনের পথে যে বিপদ-আপদ, জুলুম বা প্রলোভন আসে, তাতে অবিচল থাকতে একে অপরকে পরম ধৈর্যের তাগিদ দেওয়া।

২. তাহকীক বা শব্দবিশ্লেষণ (حلل الكلمات الاتية):

শব্দ সীগাহ ও বাহাস বাব ও মাদ্দাহ অর্থ
الْإِنْسَانَ ইসমুল জিনস (একবচন কিন্তু সামগ্রিক মানবজাতি বোঝায়) মাদ্দাহ: أ-ن-س বা ن-س-ي মানুষ / সমগ্র মানবজাতি
عَمِلُوا জম’আ মুযাক্কার গায়েব, বাহাস বাসবাত ফেয়েল মাজী মারূফ বাব সামিআ, মাদ্দাহ: ع-م-ل তারা সৎকাজ করেছে
تَوَاصَوْا জম’আ মুযাক্কার গায়েব, বাহাস বাসবাত ফেয়েল মাজী মারূফ বাব তাফা’উল (تَفَاعُل), মাদ্দাহ: و-ص-ي তারা পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে
الصَّبْرِ মাসদার (مصدر) বাব যারাবা, মাদ্দাহ: ص-ب-ر ধৈর্যধারণ / আত্মনিয়ন্ত্রণ

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ফাযিল ১ম বর্ষের তাজবীদুল কুরআন পরীক্ষার বিষয় কোড কত?

উত্তর: তাজবীদুল কুরআনিল কারীম ওয়া হিফজুহূ ওয়া তারজামাতু মায়ানীহি বিষয়ের অফিসিয়াল বিষয় কোড হলো ২০১১০২ (201102)।

প্রশ্ন ২: ২০২৩ সালের পরীক্ষায় নূন সাকিন ও তানভীনের কোন বিধানগুলো এসেছে?

উত্তর: পরীক্ষায় নূন সাকিন ও তানভীনের চারটি মৌলিক বিধান—ইযহার, ইদগাম, ইক্বলাব ও ইখফার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও উদাহরণ চাওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন ৩: জমহুর আলেমদের মতে মাখরাজের মোট সংখ্যা কতটি?

উত্তর: ইমাম ইবনুল জাযারী (রহ.) এবং ইমাম খলিল ইবনে আহমদের বিশুদ্ধতম মতানুসারে মুখের বিশেষ মাখরাজের সংখ্যা মোট ১৭টি।

প্রশ্ন ৪: খ বিভাগে কোন কোন সূরার হিফজ বা স্মৃতি থেকে লেখার প্রশ্ন ছিল?

উত্তর: খ বিভাগে সূরা আল-আলা, সূরা আল-আলাক্ব, সূরা আল-বাইয়্যিনাহ এবং সূরা আয-যিলযাল মুখস্থ লেখার জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রশ্ন ৫: ওয়াক্বফের আলামত ‘মীম’ (مـ) থাকলে কী করণীয়?

উত্তর: এটি ওয়াক্বফে লাযিমের চিহ্ন; এখানে তেলাওয়াত থামানো অত্যাবশ্যক, কারণ না থামলে অর্থের মারাত্মক বিকৃতি ঘটতে পারে।

প্রশ্ন ৬: এই প্রশ্নোত্তরের শব্দবিশ্লেষণ বা তাহকীক কীভাবে করা হয়েছে?

উত্তর: প্রতিটি নির্বাচিত শব্দের সীগাহ, বাহাস, বাব, আসল মূল হরফ (মাদ্দাহ) এবং সঠিক অর্থ ছক আকারে একাডেমিক মানদণ্ডে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *