আল মাদখালু ইলা উলূমিল কুরআন (Ulumul Quran) – 201101, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৮৩ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

اختبار السنة الاولى للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢٣م
ফাযিল (স্নাতক) সম্মান প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩
القرآن والدراسات الإسلامية [আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المدخل إلى علوم القرآن [আল মাদখালু ইলা উলূমিল কুরআন]
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০১
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة : اجب عن اربعة من مجموعة (الف) وعن اربعة من مجموعة (ب) –
[দ্রষ্টব্য : (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) [ক অংশ] – রচনামূলক প্রশ্ন

الدرجات : ١٥ × ٤ = ٦٠ [মান—১৫ × ৪ = ৬০]


১। ما معنى علوم القرآن لغة واصطلاحا؟ تحدث عن نشأتها وتطورها موضحا –
[علوم القرآن-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে আলোচনা কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: মহাগ্রন্থ আল-কুরআন মানবজাতির হেদায়েতের চিরন্তন আলোকবর্তিকা। এই ঐশী গ্রন্থের সঠিক মর্ম অনুধাবন, এর বিধানাবলি নিষ্কাশন এবং এর সার্বিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে যে সুসংহত শাস্ত্র গড়ে উঠেছে, তা-ই ইসলামি বিদ্যায় ‘উলূমুল কুরআন’ নামে সুপরিচিত।

১. উলূমুল কুরআনের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ:

(ক) আভিধানিক অর্থ: ‘উলূমুল কুরআন’ (علوم القرآن) একটি যৌগিক (মুরাক্কাব ইদাফি) শব্দমালা।

  • উলূম (علوم): এটি ‘ইলম’ (علم) শব্দের বহুবচন। যার অর্থ—জ্ঞান, বিদ্যা, তত্ত্ব, উপলব্ধি বা কোনো বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা।
  • কুরআন (القرآن): এটি ‘কার’উন’ (قرء) ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, যার অর্থ পাঠ করা বা একত্রিত করা। পারিভাষিক অর্থে কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যা মুসহাফে লিখিত এবং যা পাঠ করা ইবাদত।
  • সুতরাং আভিধানিক অর্থে ‘উলূমুল কুরআন’ মানে হলো কুরআন সম্পর্কিত যাবতীয় বিদ্যা বা জ্ঞানরাশি।

(খ) পারিভাষিক সংজ্ঞা:

ইসলামি শাস্ত্রবিদগণের মতে, উলূমুল কুরআন হলো এমন একটি সংহত বিজ্ঞান যা আল-কুরআনের অবতরণ (নুযুল), ওহির ক্রমবিকাশ, সংকলন ও বিন্যাস, মাক্কি ও মাদানি সুরার বিন্যাস, শানে নুযুল, আসবাবুন নুযুল, নাসিখ ও মানসুখ, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, ইজাযুল কুরআন এবং কুরআনের পাঠরীতি (কিরাত) ও তাফসিরের নিয়মাবলি নিয়ে বিশদ আলোচনা করে।

  • ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ.)-এর মতে: এটি এমন এক শাস্ত্র যা কুরআনের অর্থ উদ্ঘাটন, এর শব্দাবলীর বিশ্লেষণ এবং এর অন্তর্নিহিত হেকমত অনুধাবনের সহায়ক নীতিমালার সমষ্টি।
  • শায়খ মান্না আল-কাত্তান (রহ.) বলেন: “علم يتناول الأبحاث المتعلقة بالقرآن من حيث نزوله وترتيبه وجمعه وكتابته وقراءته وتفسيره وإعجازه وناسخه ومنسوخه ودفع الشبه عنه” অর্থাৎ এটি এমন এক বিদ্যা যা কুরআনের নুযুল, তারতিব, জম’আ, কিতাবত, কিরাত, তাফসির, ইজায, নাসখ এবং এর বিরুদ্ধে আনীত অপবাদের অকাট্য জবাব নিয়ে আলোচনা করে।

২. উলূমুল কুরআনের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ:

  • রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ: নবুওয়তের যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই ছিলেন কুরআনের একমাত্র ব্যাখ্যাদাতা ও শিক্ষক। সাহাবায়ে কেরাম কুরআনের শব্দার্থ, শানে নুযুল ও প্রয়োগবিধি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে শুনে মুখস্থ রাখতেন। এ যুগে ওহির সাথে হাদিস মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার অনুমতি ছিল না।
  • খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবাদের যুগ: হযরত আবু বকর ও হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে মুসহাফের সংরক্ষণ ও সংকলন উলূমুল কুরআনের বাস্তব সূচনা করে। হযরত আলী (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ও উবাই ইবনে কাব (রা.) তাফসির ও কিরাতের বিশেষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছাত্র তৈরি করেন।
  • তাবেয়ীদের যুগ (মাদরাসা তাফসিরের উন্মেষ): সাহাবাদের পর তিনটি প্রধান তাফসির কেন্দ্র গড়ে ওঠে—(১) মক্কায় ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মাদরাসা (মুজাহিদ, আতা, ইকরিমা), (২) মদিনায় উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর মাদরাসা (যায়েদ বিন আসলাম, আবুল আলিয়াহ), এবং (৩) কুফায় ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মাদরাসা (আলকামা, আসওয়াদ, মুররাহ)।
  • গ্রন্থায়নের যুগ (দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতক): দ্বিতীয় হিজরিতে হাদিসের অংশ হিসেবে তাফসির গ্রন্থায়ন শুরু হয়। ইমাম ইয়াজিদ বিন হারুন, শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ প্রমুখ গ্রন্থ রচনা করেন। পরবর্তীতে ইমাম ইবনে জারির আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.) তাঁর সুবিখ্যাত “জামেউল বায়ান” রচনার মাধ্যমে স্বতন্ত্র তাফসির সাহিত্যের স্বর্ণযুগ শুরু করেন।
  • স্বতন্ত্র শাস্ত্রে রূপান্তর ও শীর্ষ গ্রন্থসমূহ:
    • ইমাম আবু বকর আল-বাকিল্লানি (রহ.) রচনা করেন “ইজাযুল কুরআন”।
    • ইমাম আবুল কাসিম আন-নায়সাবুরী রচনা করেন “আসবাবুন নুযুল”।
    • ৮ম হিজরি শতকে ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ.) (মৃ. ৭৯৪ হি.) সর্বপ্রথম উলূমুল কুরআনের ৪৭টি শাখাকে একত্রিত করে তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ “আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন” রচনা করেন।
    • ৯ম হিজরি শতকে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) (মৃ. ৯১১ হি.) যারকাশীর কাজকে আরও সম্প্রসারিত করে ৮০টি অধ্যায়ে সাজিয়ে তাঁর অবিস্মরণীয় বিশ্বকোষ “আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন” প্রণয়ন করেন।

উপসংহার: ওহির সংরক্ষণ ও সঠিক উপলব্ধির প্রয়োজনে শুরু হয়ে উলূমুল কুরআন আজ একটি সমৃদ্ধ, সার্বজনীন ও চিরভাস্বর ইসলামিক বিদ্যায় রূপ লাভ করেছে।


২। زعم الجاهلون قديما وحديثا “ان محمدا قد تلقى القرآن على يد معلم بشر” فند شبهتهم هذه بالحجة الدامغة –
[প্রাচীন ও আধুনিক যুগের জাহেলিয়াতপন্থিরা ধারণা করে যে, ‘কোনো এক মানবগুরুর কাছ থেকে মুহাম্মাদ কুরআন শিখেছে’- অকাট্য দলিল দ্বারা তাদের এ সন্দেহের অপনোদন কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: আল-কুরআনের অলৌকিক সাহিত্যসৌকর্য, অভ্রান্ত বৈজ্ঞানিক সত্য এবং অনুপম জীবনাদর্শে পরাভূত হয়ে ইসলামবিরোধীরা যুগে যুগে এর ঐশী সত্তাকে অস্বীকার করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের একটি প্রাচীন ও অমূলক দাবি হলো—মুহাম্মাদ (সা.) নিজে এটি তৈরি করেননি বরং কোনো মানুষ বা মানবগুরুর কাছ থেকে শিখে তা প্রচার করেছেন। পবিত্র কুরআন ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকে এটি একটি চরম মিথ্যা ও হাস্যকর দাবি।

১. কাফের ও প্রাচ্যবিদদের আনীত সন্দেহসমূহ:

  • মক্কার মুশরিকদের দাবি: মক্কার কাফেররা বলত, মক্কায় বসবাসকারী এক অনারব খ্রিস্টান দাস (যেমন আদ্দাস, জাবর বা ইয়ায়িশ)-এর নিকট থেকে নবীজি (সা.) তাওরাত ও ইঞ্জিলের গল্প শুনে এসে কুরআন আকারে শোনান।
  • প্রাচ্যবিদদের (Orientalists) দাবি: আধুনিক কালের প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে, কিশোর বয়সে চাচার সাথে সিরিয়া সফরের সময় বুহাইরা নামী খ্রিস্টান সন্ন্যাসীর সাথে সাক্ষাৎ কিংবা ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের সাথে প্রাথমিক আলোচনার ফলে মুহাম্মদ (সা.) বাইবেলের তথ্য জেনে কুরআনে সংকলন করেছেন।

২. অকাট্য যুক্তির আলোকে এই সন্দেহের অপনোদন:

  1. ভাষাগত বাস্তবতা ও কুরআনের জবাব:

    পবিত্র কুরআন তাদের এই দাবির অন্তসারশূন্যতা এমন এক যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছে যার কোনো জবাব কাফেরদের কাছে ছিল না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

    “আমি তো নিশ্চিত জানি যে তারা বলে—তাকে এক মানুষ শিক্ষা দেয়। কিন্তু তারা যার দিকে এ কথা নির্দেশ করে তার ভাষা হলো অনারব (আজমী), অথচ এই কুরআন হলো সুস্পষ্ট প্রাঞ্জল আরবি ভাষা।” (সূরা আন-নাহল: ১০৩)।

    একজন অনারব ব্যক্তি, যার নিজেরই আরবি ভাষায় কথা বলতে জড়তা হয়, সে কীভাবে গোটা আরবের কবি-সাহিত্যিকদের স্তব্ধ করে দেওয়া চরম অলৌকিক আরবি কুরআনের রচয়িতা হতে পারে?

  2. উম্মি নবীর ঐতিহাসিক সত্যতা:

    মুহাম্মাদ (সা.) শৈশব থেকে চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত মক্কাবাসীর সামনে বেড়ে উঠেছেন। তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো শিক্ষকের কাছে যাননি, লিখতে বা পড়তে জানতেন না (উম্মি ছিলেন)। আল্লাহ বলেন: “এর পূর্বে আপনি কোনো কিতাব পড়েননি এবং নিজ হাতে কোনো কিতাব লেখেননি; তা হলে মিথ্যাবাদীরা সন্দেহ পোষণ করতে পারত।” (সূরা আল-আনকাবুত: ৪৮)। চল্লিশ বছর কোনো জ্ঞানচর্চা ছাড়া হঠাৎ কোনো মানুষের কাছ থেকে শুনে এমন বিশ্বজয়ী গ্রন্থ রচনা অসম্ভব।

  3. বুহাইরা ও ওয়ারাকা ইবনে নওফেল সংক্রান্ত দাবির অসারতা:

    বুহাইরা সন্ন্যাসীর সাথে রাসুল (সা.)-এর সাক্ষাৎ হয়েছিল মাত্র ১২ বছর বয়সে কাফেলাসহ সংক্ষিপ্ত বিরতিতে। সেখানে শত শত লোকের উপস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টার সাধারণ খাবারে এমন কোনো ধর্মতত্ত্ব শেখা সম্ভব নয়। আর ওয়ারাকা ইবনে নওফেল ওহী শুরুর কিছুদিন পরই মৃত্যুবরণ করেন। অথচ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মক্কা ও মদিনার বিচিত্র পরিস্থিতিতে।

  4. আরবের সকল কবি-সাহিত্যিকের প্রতি চ্যালেঞ্জ:

    যদি কোনো মানুষের কাছ থেকে কুরআন শেখা সম্ভব হতো, তবে তৎকালীন চরম বাগ্মী আরবি কবিরা কেন কুরআনের মতো একটি সুরাও তৈরি করতে পারল না? আল্লাহ তাআলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন: “তোমরা যদি সন্দেহ করো যা আমি আমার বান্দার ওপর নাজিল করেছি, তবে এর অনুরূপ একটি সুরা রচনা করে আনো…” (সূরা আল-বাকারা: ২৩)। গোটা আরব জাতি সর্বশক্তি দিয়েও এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

  5. পূর্ববর্তী উম্মতের গোপন সত্য ও ভবিষ্যৎবাণী:

    কুরআনে প্রাচীন আদ, সামুদ, লুত জাতি এবং বনি ইসরাইলের এমন বহু গোপন ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক সত্য উদঘাটিত হয়েছে যা তৎকালীন আরব বা খ্রিস্টান বিশ্বের কোনো মানুষের পক্ষেই জানা সম্ভব ছিল না। অধিকন্তু এতে রোমানদের বিজয় (সূরা রুম), মক্কা বিজয়ের মতো ভবিষ্যৎবাণী হুবহু সত্যে পরিণত হয়েছে।

উপসংহার: সুতরাং সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোনো মানবগুরু নয়; বরং আল-কুরআন বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রেরিত নিখাদ ঐশী প্রত্যাদেশ।


৩। هل كان ترتيب سور القرآن توقيفيا ام اجتهاديا؟ وما اراء العلماء فيه؟ بين مفصلا –
[আল কুরআনের সূরাগুলোর বিন্যাস কি ওহীনির্ভর না ইজতেহাদনির্ভর? এ বিষয়ে আলেমগণের দৃষ্টিভঙ্গি কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: পবিত্র কুরআনের ১১৪টি সূরার বর্তমান বিদ্যমান ধারাবাহিকতা (সূরা আল-ফাতিহা থেকে সূরা আন-নাস পর্যন্ত) কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে—তা উলূমুল কুরআনের অন্যতম মৌলিক গবেষণার বিষয়। এটি কি ওহী ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশে তাওকীফী (সুনির্দিষ্ট) ছিল, নাকি সাহাবাদের ইজতিহাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে—এ নিয়ে আলেমদের মাঝে তাৎপর্যপূর্ণ মতামত রয়েছে।

১. মৌলিক পরিভাষার অর্থ:

  • তাওকীফী (توقيفي): যা সরাসরি ওহীর নির্দেশনা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট হুকুমের মাধ্যমে নির্ধারিত এবং যাতে কোনো মানুষের নিজস্ব রায় বা মতামতের সুযোগ নেই।
  • ইজতিহাদী (اجتهادي): যা সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের প্রজ্ঞা, গবেষণা ও সাধারণ সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন।

২. সূরাসমূহের তারতীব বা বিন্যাস নিয়ে ওলামাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতপার্থক্য:

মুফাসসির ও উলূমুল কুরআনের ইমামগণের মধ্যে এ বিষয়ে তিনটি প্রধান মত পরিলক্ষিত হয়:

প্রথম মত: সম্পূর্ণ তাওকীফী (সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য জমহুর মত):

ইমাম আল-বায়হাকী, আল-বাগাবী, আল-কিরমানী এবং ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতীসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতে, কুরআনের সকল সূরার বিন্যাস সম্পূর্ণভাবে তাওকীফী। রাসুলুল্লাহ (সা.) জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ওহীর নির্দেশে সূরার পর সূরা বিন্যাস করে দিয়ে গেছেন।

তাদের দলিলসমূহ:

  • রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানে জিবরাইল (আ.)-কে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করে শোনাতেন এবং জীবনের শেষ রমজানে পরপর দু’বার বর্তমান ধারাবাহিকতায় পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করেছেন (আল-আরদাতুল আখিরাহ)।
  • নামাজে রাসুল (সা.) সূরা আল-বাকারার পর আলে ইমরান ও আন-নিসা তেলাওয়াত করেছেন।
  • হযরত উসমান (রা.) সাহাবাদের ব্যক্তিগত মুসহাফগুলোকে একত্র করে বর্তমান ক্রমেই নকল করিয়েছেন এবং সমগ্র সাহাবায়ে কেরাম এতে সর্বসম্মত ইজমা প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয় মত: সম্পূর্ণ ইজতিহাদী:

ইমাম মালিক (রহ.) থেকে একটি বর্ণনামতে এবং অল্প কিছু আলেমের ধারণা, সূরার এই বিন্যাস সাহাবাদের ইজতিহাদের ফসল।

তাদের দলিল: হযরত উসমান (রা.)-এর সংকলনের পূর্বে সাহাবাদের ব্যক্তিগত মুসহাফের সূরার বিন্যাসে বৈচিত্র্য ছিল। যেমন—হযরত আলী (রা.)-এর মুসহাফে নুযুলের ধারাক্রম অনুসারে (সূরা আলাক, মুদ্দাসসির ইত্যাদি) সাজানো ছিল; ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মুসহাফে আল-বাকারা, নিসা, আলে ইমরান এভাবে ছিল; উবাই ইবনে কাবের মুসহাফেও কিছুটা ভিন্নতা ছিল। অতএব তাঁদের মতে এটি সাহাবাদের ইজতিহাদে চূড়ান্ত হয়েছে।

তৃতীয় মত: অধিকাংশ তাওকীফী এবং কিছু অংশ ইজতিহাদী (সমন্বিত মত):

ইমাম যারকাশী ও ইবনে আতিয়্যাহর মতে, কুরআনের অধিকাংশ সূরার (বিশেষত সাব’উত তুওয়াল বা দীর্ঘ সাতটি সূরা, হাওয়ামিম বা হা-মীম বিশিষ্ট সূরা, এবং মুফাসসাল অংশ) বিন্যাস রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে তাওকীফীভাবে নির্ধারিত ছিল। তবে কতিপয় সূরার পারস্পরিক অবস্থান (যেমন সূরা আল-আনফাল ও আত-তাওবার বিন্যাস) হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে সাহাবাদের পারস্পরিক পরামর্শে নির্ধারিত হয়েছে।

৩. পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

গবেষক আলেমগণের মতে, প্রথম মতটিই সর্বাধিক শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য। সাহাবাদের ব্যক্তিগত মুসহাফগুলো ছিল তাঁদের নিজস্ব অধ্যয়নের জন্য সংরক্ষিত ব্যক্তিগত নোটের মতো। কিন্তু উম্মতের জন্য রাসুল (সা.) যে আনুষ্ঠানিক বিন্যাস শিখিয়ে গেছেন, হযরত উসমান (রা.) হুবহু সেই তাওকীফী ক্রমেই মুসহাফ প্রতিলিপি করিয়েছিলেন। এজন্যই আজ চৌদ্দশত বছর ধরে সমগ্র বিশ্বে সূরার ধারাবাহিকতায় একচুলও কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।


৪। ما المراد بـ”انزل القرآن منجما”؟ وما الحكمة فيه؟ بين مفصلا –
[انزل القرآن منجما দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এতে কী হেকমত রয়েছে? বিস্তারিত বর্ণনা কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: অন্যান্য আসমানি কিতাব (তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর) পূর্ববর্তী নবীদের ওপর এককালীন লিখিত ফলকে অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর আল-কুরআন একবারে অবতীর্ণ না হয়ে সুদীর্ঘ তেইশ বছর ধরে ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হয়। উলূমুল কুরআনের পরিভাষায় একে ‘তানজিমুল কুরআন’ বলা হয়।

১. ‘আনযালা আল-কুরআনা মুনাজ্জামান’ (انزل القرآن منجما)-এর অর্থ:

‘মুনাজ্জামান’ শব্দটি ‘নুজুম’ (نجوم) ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, যার আভিধানিক অর্থ অংশবিশেষ, কিস্তিতে বা টুকরো টুকরো করে দেওয়া। অতএব, ‘ইনযালুল কুরআন মুনাজ্জামান’ অর্থ হলো—সমগ্র কুরআনকে একবারে অবতীর্ণ না করে প্রয়োজনীয়তা ও সময়ানুসারে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কিস্তিতে কিস্তিতে প্রয়োজনমাফিক অবতীর্ণ করা।

কুরআনের দ্বৈত অবতরণ (مراتب النزول):

  • প্রথম অবতরণ: লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের ‘বায়তুল ইজ্জাহ’-তে লাইলাতুল কদরে এককালীন সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়। (সূরা আল-কদর: ১)।
  • দ্বিতীয় অবতরণ: বায়তুল ইজ্জাহ থেকে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অন্তরে ২৩ বছর ধরে বিভিন্ন ঘটনা, প্রশ্ন ও প্রেক্ষাপটের আলোকে কিস্তিতে কিস্তিতে অবতীর্ণ হয়।

২. কুরআন কিস্তিতে অবতীর্ণ হওয়ার অন্তর্নিহিত হেকমতসমূহ (Wisdom behind gradual revelation):

কাফেররা প্রশ্ন তুলেছিল: “তার ওপর সমগ্র কুরআন একবারে কেন নাজিল হলো না?” (সূরা আল-ফুরকান: ৩২)। মহান আল্লাহ নিজেই কুরআনে এর হেকমত স্পষ্ট করেছেন। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

  1. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্তরের দৃঢ়তা অর্জন (تثبيت فؤاد النبي):

    ইসলাম প্রচারের পথে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিনিয়ত কাফেরদের অত্যাচার, উপহাস, যুদ্ধ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হতেন। প্রতিবার নতুন সংকট দেখা দিলে ওহী অবতীর্ণ হয়ে নবীজির অন্তরকে সান্ত্বনা ও গভীর প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিত। আল্লাহ বলেন: “এভাবে (নাজিল করেছি) যাতে এর মাধ্যমে আপনার হৃদয়কে দৃঢ় ও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারি।” (সূরা আল-ফুরকান: ৩২)।

  2. সহজে মুখস্থ ও অনুধাবন নিশ্চিত করা (تيسير حفظه وفهمه):

    তৎকালীন আরব সমাজ ছিল নিরক্ষর (উম্মি)। একবারে সম্পূর্ণ গ্রন্থ অবতীর্ণ হলে তা মুখস্থ ও আত্মস্থ করা তাদের পক্ষে অত্যন্ত দুরূহ হতো। তিন, পাঁচ বা দশ আয়াত করে অবতীর্ণ হওয়ায় সাহাবায়ে কেরাম তা সহজে মুখস্থ করতেন এবং গভীরভাবে হৃদয়ঙ্গম করতেন।

  3. বিধান প্রণয়নে পর্যায়ক্রমিক নীতি অনুসরণ (التدرج في التشريع):

    জাহেলি আরবের মানুষ মদ্যপান, জুয়া, ব্যভিচার ও রক্তক্ষয়ী বংশীয় দ্বন্দ্বে নিমজ্জিত ছিল। এক দিনে সকল অপরাধ হারাম ঘোষণা করলে তারা বিদ্রোহ করত। তাই প্রথমে তাওহিদ ও আখিরাত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সালাত, রোজা, যাকাত ও জিহাদ ফরজ করা হয় এবং মদকে তিন স্তরে ধাপে ধাপে হারাম করা হয়।

  4. ঘটনাবলির প্রেক্ষাপট ও প্রশ্নের তাৎক্ষণিক সমাধান:

    সাহাবী বা অমুসলিমরা নবীজিকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করত (যেমন রুহ, জুলকারনাইন, আসহাবে কাহাফ, এতিমের সম্পদ ইত্যাদি)। ওহী নাজিল হয়ে সেসব জটিল প্রশ্নের তাৎক্ষণিক অলৌকিক সমাধান দিত।

  5. কাফেরদের মিথ্যা অপবাদ ও ষড়যন্ত্র উন্মোচন:

    মুনাফিক ও ইহুদিরা গোপনে যেসকল চক্রান্ত করত, তা বাস্তবায়নের আগেই ওহী নাজিল হয়ে তাদের গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিত (যেমন সূরা আত-তাওবায় মুনাফিকদের স্বরূপ)।

  6. কুরআনের অলৌকিকত্ব ও সাহিত্যিক চ্যালেঞ্জ প্রদর্শন:

    দীর্ঘ ২৩ বছরের বিভিন্ন ঘটনা ও মানসিক অবস্থায় খণ্ড খণ্ডভাবে নাজিল হওয়া সত্ত্বেও সমগ্র কুরআনের ভাষা, শৈলী ও সুরের মধ্যে কোথাও সামান্যতম বিরোধ বা অসঙ্গতি দেখা যায়নি। এটিই কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজিজা।

উপসংহার: তানজিমুল কুরআনের এই নীতি ব্যক্তি ও সমাজ সংস্কারে ক্রমান্বয়িক বাস্তবমুখী পদ্ধতির এক অনুপম ঐশী শিক্ষাদর্শন।


৫। تحدث عن جمع القرآن الكريم فى عهد ابى بكر رضى الله عنه وعثمان رضى الله عنه – وما الفرق بين الجمعين فى العهدين؟ بين –
[হযরত আবু বকর ও ওসমান (রা)-এর যুগে আল কুরআনুল কারীম একত্রীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর। দু’যুগের একত্রীকরণের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: আল-কুরআনের পাঠরীতি ও মূল গ্রন্থের চিরন্তন সুরক্ষায় ইসলামের প্রথম দুই খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও হযরত উসমান গণি (রা.)-এর যুগে গৃহীত ঐতিহাসিক পদক্ষেপ দুটি মুসলিম উম্মাহর ওপর আল্লাহর এক অপার নেয়ামত।

১. হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলন:

  • প্রেক্ষাপট: রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর ইয়ামামার যুদ্ধে ভণ্ড নবী মুসায়লামা কাযযাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় সত্তর জন বিশিষ্ট হাফেজে কুরআন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। এতে কুরআনের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হযরত ওমর (রা.) খলিফা আবু বকর (রা.)-কে সম্পূর্ণ কুরআন একটি গ্রন্থে একত্র করার পরামর্শ দেন।
  • বাস্তবায়ন পদ্ধতি: প্রাথমিক দ্বিধা কাটিয়ে আবু বকর (রা.) প্রখ্যাত ওহী লেখক যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেন। যায়েদ (রা.) কেবল নিজের মুখস্থের ওপর নির্ভর করেননি; বরং তিনি প্রতিটি আয়াতের পক্ষে দুইজন নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শীর লিখিত সনদ যাচাই করে চামড়া, পাথরের টুকরো ও খেজুরের ডাল থেকে সুবিন্যস্তভাবে প্রথম একক পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন।
  • এই পাণ্ডুলিপিটি খলিফা আবু বকর (রা.)-এর নিকট, তাঁর ইন্তেকালের পর হযরত ওমর (রা.)-এর নিকট এবং ওমরের ইন্তেকালের পর উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত ছিল।

২. হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলন ও পুনর্লিখন:

  • প্রেক্ষাপট: মুসলিম সাম্রাজ্যের দ্রুত বিস্তারের ফলে সিরিয়া, ইরাক ও আরমেনিয়ার রণাঙ্গনে বিভিন্ন এলাকার নওমুসলিম সৈনিকরা বিভিন্ন সাহাবীর কিরাতের ধরনে কুরআন তেলাওয়াত করতে গিয়ে পরস্পরের তেলাওয়াতকে ভুল বলতে শুরু করে। রণাঙ্গনের সেনাপতি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) মদিনায় এসে খলিফা উসমান (রা.)-কে সতর্ক করেন—”হে আমিরুল মুমিনিন! ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো কিতাব নিয়ে বিভক্ত হওয়ার আগেই এই উম্মতকে রক্ষা করুন।”
  • পদক্ষেপ: হযরত উসমান (রা.) কালবিলম্ব না করে উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-এর নিকট থেকে মূল পাণ্ডুলিপি আনেন। যায়েদ ইবনে সাবিত, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর, সাঈদ ইবনুল আস এবং আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস (রা.)-এর নেতৃত্বে কোরাইশ উপভাষার ভিত্তিতে একাধিক প্রামাণ্য কপি প্রস্তুত করেন। এরপর প্রতিটি বড় প্রদেশে (মক্কা, কুফা, বসরা, দামেস্ক ও বাহরাইন) এক একটি সরকারি মুসহাফ পাঠিয়ে দেন এবং অবশিষ্ট ব্যক্তিগত কপিগুলো নষ্ট করার নির্দেশ দেন। এজন্য তাঁকে ‘জামেউল কুরআন’ বলা হয়।

৩. দুই যুগের একত্রীকরণের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ:

পার্থক্যসূচক বিষয় আবু বকর (রা.)-এর সংকলন উসমান (রা.)-এর সংকলন
মূল কারণ ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফেজ সাহাবীর শাহাদাতের পর কুরআন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করা। বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানদের মধ্যে কিরাতের ভিন্নতা নিয়ে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব নিরসন করা।
পদ্ধতি ও পরিধি বিক্ষিপ্ত লিখিত উপকরণগুলো একত্র করে একটি একক প্রধান মুসহাফে লিপিবদ্ধ করা। একক মূল মুসহাফ থেকে একাধিক অভিন্ন কপি তৈরি করে সাম্রাজ্যজুড়ে বণ্টন করা।
ভাষারীতি (উপভাষা) কুরআনের অনুমোদিত সাতটি উপভাষার (আহরুফে সাব’আ) অবকাশ রাখা হয়েছিল। কেবলমাত্র প্রমিত কুরাইশ ভাষার রসমুল খত (উসমানি বানানরীতি) নিশ্চিত করা হয়।
সংখ্যার ব্যাপ্তি মাত্র একটি একক মূল মাস্টার কপি প্রস্তুত করা হয়েছিল। অন্তত ৫ থেকে ৭টি প্রামাণ্য কপি তৈরি করে প্রধান কেন্দ্রসমূহে পাঠানো হয়েছিল।

৬। عرف النسخ – ثم بين انواعه وحكمته مفصلا –
[‘নাসখ’-এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারসমূহ ও হেকমত বিস্তারিত বর্ণনা কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: ইসলামি শরীয়তের বিধানাবলির ক্রমবিকাশ ও পর্যায়ক্রমিক প্রয়োগ অনুধাবনে ‘ইলমুন নাসখ ওয়াল মানসুখ’ এক অতি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক শাস্ত্র। কোনো বিধানের সাময়িক কার্যকারিতা স্থগিত করে নতুন বিধান জারি করা আল্লাহর সার্বভৌম প্রজ্ঞার অংশ।

১. নাসখ-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয়:

আভিধানিক অর্থ: নাসখ (النسخ) শব্দের অর্থ দূরীভূত করা, বিলোপ সাধন করা (الإزالة), এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তর করা (النقل) কিংবা পরিবর্তন করা (التبديل)।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: উসূলে ফিকাহ ও উলূমুল কুরআনের পরিভাষায়, পরবর্তী কোনো শরীয়াহ দলিলের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কোনো শরীয়াহ বিধানকে রহিত বা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঐশী প্রক্রিয়াকে নাসখ (Naskh) বলা হয়। যে দলিল রহিত করে তাকে ‘নাসিখ’ (الناسخ) এবং যে বিধান রহিত হয় তাকে ‘মানসুখ’ (المنسوخ) বলে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “আমি কোনো আয়াত রহিত করলে কিংবা ভুলিয়ে দিলে তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার অনুরূপ কোনো বিধান নিয়ে আসি।” (সূরা আল-বাকারা: ১০৬)।

২. কুরআনে নাসখ-এর প্রধান প্রকারসমূহ (Types of Naskh):

উলূমুল কুরআনের ইমামগণ কুরআনুল কারীমে নাসখকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:

  1. বিধান রহিত কিন্তু তেলাওয়াত অবশিষ্ট (نسخ الحكم وبقاء التلاوة):

    এক্ষেত্রে আয়াতের তেলাওয়াত কুরআনে বিদ্যমান এবং নামাজে তা পড়া হয়, কিন্তু তার ওপর আমল করার হুকুম বা বিধান রহিত হয়ে গেছে। কুরআনে এ জাতীয় নাসখের সংখ্যাই সর্বাধিক।

    উদাহরণ: স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দত এক বছর পূর্ণ করার বিধান (সূরা বাকারা: ২৪০) অবতীর্ণ ছিল। পরবর্তীতে চার মাস দশ দিন সংক্রান্ত আয়াত (সূরা বাকারা: ২৩৪) দ্বারা পূর্ববর্তী বিধান রহিত হয়, কিন্তু উভয় আয়াতের তেলাওয়াত আজও কুরআনে বহাল রয়েছে।

  2. তেলাওয়াত রহিত কিন্তু বিধান অবশিষ্ট (نسخ التلاوة وبقاء الحكم):

    এক্ষেত্রে আয়াতের শব্দাবলি কুরআনের আনুষ্ঠানিক তেলাওয়াত থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, কিন্তু তার বিধান কেয়ামত পর্যন্ত কার্যকর রাখা হয়েছে।

    উদাহরণ: বিবাহিত ব্যভিচারীর ক্ষেত্রে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) আয়াত। হযরত ওমর (রা.) সাহাবাদের সামনে ঘোষণা করেছিলেন যে, রাসুল (সা.)-এর যুগে আমরা রজম সংক্রান্ত আয়াত তেলাওয়াত করতাম এবং রাসুল (সা.) নিজে রজম কার্যকর করেছেন। পরবর্তীতে শব্দাবলির তেলাওয়াত রহিত হলেও এর বিধান ইসলামি আইনে চিরকাল বহাল আছে।

  3. তেলাওয়াত ও বিধান উভয়ই রহিত (نسخ التلاوة والحكم معا):

    এক্ষেত্রে শব্দ এবং বিধান উভয়টিই আল্লাহ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

    উদাহরণ: উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, পূর্বে দশবার দুধপানে বিবাহ হারাম হওয়ার বিধান ছিল। পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে পাঁচবার বা তৃপ্তিদায়ক দুধপানের সুস্পষ্ট নীতিতে রূপান্তরিত হয়।

৩. নাসখের অন্তর্নিহিত হেকমত ও তাৎপর্য:

  • বান্দার কল্যাণ ও সহজীকরণ (مراعاة مصالح العباد): মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন সহজসাধ্য নয়। মানবজাতির উপযোগী করে কঠিন বিধানকে সহজ করা অথবা নৈতিক উৎকর্ষের সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে উন্নততর বিধান প্রণয়ন করা। যেমন: কেবলা পরিবর্তনের বিধান (বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবা শরীফ)।
  • মুমিনদের আনুগত্য ও ঈমানের পরীক্ষা: কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আল্লাহর যেকোনো হুকুম মাথা পেতে গ্রহণ করার মানসিকতা যাচাই করা।
  • ইসলামি শরীয়তের গতিশীলতা ও উপযোগিতা: সমাজ ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ঐশী বিধান কীভাবে সর্বোত্তম উপায়ে মানবজাতিকে নেতৃত্ব দেয়, নাসখ তারই প্রমাণ।

৭। عرف التفسير والتأويل – ثم اذكر الفرق بينهما –
[التفسير ও التأويل-এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর উভয়ের মাঝে পার্থক্য উল্লেখ কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: আল-কুরআনের অর্থ ও মর্ম অনুধাবনে বহুল ব্যবহৃত দুটি কেন্দ্রীয় পরিভাষা হলো ‘তাফসির’ ও ‘তাওয়ীল’। প্রাচীন যুগে অনেক সময় শব্দ দুটিকে সমার্থক ভাবা হলেও পরবর্তী মুফাসসিরগণের গবেষণায় উভয়ের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

১. তাফসিরের সংজ্ঞা (Definition of Tafsir):

আভিধানিক অর্থ: ‘তাফসির’ (التفسير) শব্দটি ‘ফাসর’ (فسر) বা ‘তাফসিরাহ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হলো স্পষ্ট করা, আবরণ উন্মোচন করা, প্রকাশ করা এবং ব্যাখ্যা করা।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম যারকাশী (রহ.)-এর মতে: “তাফসির হলো এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ কিতাব আল-কুরআনের শব্দাবলী বোঝা যায়, এর অর্থ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এবং এর বিধান ও হেকমতসমূহ নিষ্কাশন করা যায়।”

সংক্ষেপে, কুরআনের বাহ্যিক ও প্রকাশ্য শব্দাবলির বর্ণনা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (শানে নুযুল) ও শাব্দিক ব্যাখ্যা হলো তাফসির।

২. তাওয়ীলের সংজ্ঞা (Definition of Tawil):

আভিধানিক অর্থ: ‘তাওয়ীল’ (التأويل) শব্দটি ‘আওল’ (أول) ধাতু থেকে আগত, যার অর্থ প্রত্যাবর্তন করা, পরিণতির দিকে ফিরে যাওয়া বা মূল উৎসে ফিরিয়ে নেওয়া।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: উসূলে ফিকাহর পণ্ডিতগণের মতে: কোনো শব্দের আপাত ও সুস্পষ্ট অর্থ বাদ দিয়ে সুনির্দিষ্ট যুক্তি ও উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তার গভীরতর, সূক্ষ্ম ও দূরবর্তী কোনো অর্থ গ্রহণ করাকে তাওয়ীল বলা হয়।

৩. তাফসির ও তাওয়ীলের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ:

পার্থক্যসূচক বিষয় তাফসির (التفسير) তাওয়ীল (التأويل)
ব্যাখ্যার ক্ষেত্র শব্দের প্রকাশ্য, বাহ্যিক ও সরাসরি আভিধানিক অর্থ নিয়ে আলোচনা করে। শব্দের অন্তর্নিহিত, সূক্ষ্ম, রূপক ও গভীর অর্থ উদঘাটন করে।
নির্ভরশীলতার উৎস মূলত হাদিস, সাহাবাদের আছার ও ওহীনির্ভর বর্ণনার (রিওয়ায়েত) ওপর প্রতিষ্ঠিত। শরীয়াহসম্মত যুক্তি, আরবির অলঙ্কারশাস্ত্র ও গভীর গবেষণার (দিরায়েত) ওপর নির্ভরশীল।
ব্যবহারের পরিধি সাধারণত কেবল ঐশী গ্রন্থ ও আসমানি কিতাবের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট। ঐশী কিতাব ছাড়াও সাধারণ ভাষা, স্বপ্ন ও সাহিত্যের পরিণাম ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
নিশ্চয়তার মাত্রা সুস্পষ্ট বর্ণনানির্ভর হওয়ায় এর ফলাফল অধিকতর নিশ্চিত ও সুস্পষ্ট। মুফাসসিরের ব্যক্তিগত ইজতিহাদের ভিত্তিতে হওয়ায় এতে সম্ভাব্যতার অবকাশ থাকে।

৮। ما معنى اعجاز القرآن الكريم؟ بين وجوه اعجازه مفصلا –
[اعجاز القرآن الكريم অর্থ কী? এর ইজাযের বিভিন্ন দিক বিস্তারিত বর্ণনা কর।] মান: ১৫

উত্তর:

ভূমিকা: আল-কুরআন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা। এটি এমন এক গ্রন্থ যার অলৌকিকত্ব কেবল কোনো নির্দিষ্ট যুগ বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র সৃষ্টির জ্ঞান ও মেধার ওপর অপরাজেয় সত্য হিসেবে উদ্ভাসিত।

১. ইজাযুল কুরআনের পরিচয় (Meaning of I’jaz al-Quran):

‘ইজায’ (الإعجاز) শব্দটি ‘আজয’ (عجز) ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, যার অর্থ অক্ষম করা, অপারগ করা বা পরাভূত করা। পারিভাষিক অর্থে, নবুওয়তের সত্যতা প্রমাণের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক অলৌকিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা, যা সৃষ্টির সকল মানুষকে তার সমকক্ষ কোনো কিছু রচনা করতে সম্পূর্ণ অক্ষম ও পরাভূত করে দেয়।

২. কুরআনের ইজাযের বহুমুখী দিকসমূহ (Aspects of I’jaz):

  1. অনুপম ভাষাশৈলী ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ইজায (الإعجاز البياني واللغوي):

    তৎকালীন জাহেলি আরবে ইমরুল কায়েস, লাবিদ ও যুহাইরের মতো বিশ্বসেরা কবিদের দাপট ছিল। কুরআন অবতীর্ণ হয়ে তাদের ছন্দ, ব্যাকরণ ও সাহিত্যের শ্রেষ্ঠত্বকে ধূলিসাৎ করে দেয়। শব্দচয়ন, বাক্যের ধ্বনিমাধুর্য এবং গভীর অর্থদ্যোতকতায় কুরআন সমগ্র আরবি সাহিত্যের অনন্য চূড়ায় আসীন।

  2. অতীতের অদৃশ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যের অভ্রান্ত বিবরণ (الإخبار بالغيوب الماضية):

    একটি নিরক্ষর জাতির মাঝে বেড়ে ওঠা উম্মি নবী (সা.) আদ, সামুদ, নুহ (আ.)-এর মহাপ্লাবন, ইউসুফ (আ.)-এর পূর্ণাঙ্গ ইতিবৃত্ত এবং ফেরাউনের ডুবে যাওয়া ও তার লাশ অক্ষত রাখার যে বিবরণ দিয়েছেন, আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও হায়ারোগ্লিফিক লিপির পাঠোদ্ধার তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত করেছে।

  3. ভবিষ্যতের অভ্রান্ত ভবিষ্যৎবাণী (الإخبار بالمستقبل):

    পারস্যের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত রোমানদের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পুনরায় বিজয় লাভ (সূরা রুম: ১-৪), মুসলমানদের মক্কায় বিজয়ীর বেশে প্রবেশ এবং কাফেরদের চিরতরে পরাভূত হওয়ার ভবিষ্যৎবাণী নিখুঁতভাবে সত্যে রূপ নিয়েছিল।

  4. আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের নির্ভুল ঐশী ইঙ্গিত (الإعجاز العلمي):

    বিজ্ঞানের কোনো অগ্রগতি ছাড়াই চৌদ্দশত বছর পূর্বে কুরআনে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ (সূরা যারিয়াত: ৪৭), বিগ ব্যাং বা মহাবিশ্বের আদি সৃষ্টি (সূরা আম্বিয়া: ৩০), ভ্রূণবিজ্ঞানের সূক্ষ্ম বিকাশধারা (সূরা মুমিনুন: ১২-১৪), এবং পর্বতমালার পেরেকসদৃশ ভারসাম্য (সূরা নাবা: ৬-৭) নিখুঁতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  5. চিরন্তন ও কালজয়ী আইন ও জীবনাদর্শ (الإعجاز التشريعي):

    পারিবারিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, উত্তরাধিকারের নিখুঁত বণ্টন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কুরআনের ইনসাফভিত্তিক আইন মানবজাতির জন্য চিরন্তন ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান উপস্থাপন করেছে।

উপসংহার: সংক্ষেপে বলা যায়, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক ও আইনি—প্রতিটি ক্ষেত্রে আল-কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে এটি মানুষের পক্ষে রচনা করা অসম্ভব এবং এটি সরাসরি মহান আল্লাহর বাণী।


مجموعة (ب) [খ অংশ] – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

الدرجات : ٤ × ٥ = ٢٠ [মান— ৫ × ৪ = ২০]


৯। ما الفرق بين القرآن الكريم والحديث القدسى والحديث النبوى؟
[আল কুরআনুল কারীম, আল হাদীসুল কুদসী ও আল হাদীসুন নববীর মধ্যে পার্থক্য কী?] মান: ৫

উত্তর:

পার্থক্যসূচক বিষয় আল-কুরআনুল কারীম আল-হাদীসুল কুদসী আল-হাদীসুন নববী
শব্দ ও অর্থ শব্দ ও অর্থ উভয়টিই সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রেরিত। মূল অর্থ ও মর্ম আল্লাহর পক্ষ থেকে, কিন্তু প্রকাশের ভাষা রাসুল (সা.)-এর নিজস্ব। ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (সা.)-এর নিজস্ব মানবীয় বহিঃপ্রকাশ (ওহী গাইরে মাতলু দ্বারা পরিচালিত)।
নামাজে তেলাওয়াত নামাজে এর তেলাওয়াত ফরজ এবং প্রতিটি অক্ষরে দশটি করে নেকি রয়েছে। নামাজে তেলাওয়াত করা বৈধ নয় এবং এর তেলাওয়াত আলাদা ইবাদত নয়। নামাজে এর শব্দাবলি তেলাওয়াত করা যায় না।
মুজিজা ও চ্যালেঞ্জ এটি চিরন্তন মুজিজা এবং এর অনুরূপ রচনা করার চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। মুজিজা হিসেবে এর কোনো চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করা হয়নি। মুজিজা হিসেবে কোনো সাহিত্যিক চ্যালেঞ্জ নেই।
স্পর্শ করার বিধান পবিত্রতা বা অজু ব্যতীত মুসহাফ স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। অজু ব্যতীত হাদিসের গ্রন্থ স্পর্শ করা সম্পূর্ণ জায়েজ। অজু ব্যতীত হাদিসের গ্রন্থ স্পর্শ করা বৈধ।

১০। تحدث عن ترتيب الايات بالايجاز –
[আল কুরআনের আয়াত বিন্যাস সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।] মান: ৫

উত্তর:

কুরআনের আয়াত বিন্যাস (তারতীবুল আয়াত):

সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) অনুসারে, আল-কুরআনের আয়াতসমূহের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণভাবে তাওকীফী (توقيفي) বা ওহীনির্ভর। এতে সাহাবায়ে কেরাম বা পরবর্তী কারো কোনো নিজস্ব ইজতিহাদ বা মতামতের সামান্যতম ভূমিকা নেই।

  • রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর যখনই কোনো আয়াত অবতীর্ণ হতো, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওহী লেখকদের ডেকে বলতেন: “ضعوا هذه الآيات في السورة التي يذكر فيها كذا وكذا” অর্থাৎ এই আয়াতসমূহকে অমুক অমুক সূরায় অমুক আয়াতের পর স্থাপন কর।
  • হযরত জিবরাইল (আ.) প্রতি রমজানে রাসুল (সা.)-এর সাথে যে ধারাবাহিকতায় কুরআন পাঠ ও পুনরাবৃত্তি করতেন, হুবহু সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি সুরার আয়াত বিন্যস্ত হয়েছে।

১১। بين اخر ما نزل من القرآن الكريم من الاية –
[আল কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা কর।] মান: ৫

উত্তর:

সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত সংক্রান্ত মতভেদ ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত:

কুরআনের সর্বশেষ কোন আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে—এ বিষয়ে সাহাবাদের মধ্যে কয়েকটি বর্ণনা পাওয়া যায়:

  1. ইমাম বুখারী ও মুসলিমের বিশুদ্ধতম মত: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো সূরা আল-বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত:

    “وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ”
    “আর তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেককে তার অর্জিত আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং কারো ওপর কোনো জুলুম করা হবে না।” (সূরা আল-বাকারা: ২৮১)।
    এই আয়াত নাজিল হওয়ার মাত্র নয় দিন বা একুশ দিন পর রাসুলুল্লাহ (সা.) ওফাত লাভ করেন।

  2. অন্যান্য বর্ণনা: বিদায় হজের দিনে আরাফাতের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিল সূরা আল-মায়িদাহর ৩ নম্বর আয়াত (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ), যা মূলত শরীয়তের পূর্ণাঙ্গতার সর্বশেষ আয়াত। আর সুদের শেষ বিধান হিসেবে সূরা বাকারার ২৭৮ নং আয়াত এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সূরা নিসার শেষ আয়াত নাজিল হয়েছিল।

১২। كيف كان القرآن يحفظ على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
[রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে কীভাবে আল কুরআন সংরক্ষণ করা হতো?] মান: ৫

উত্তর:

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কুরআন সংরক্ষণের জোড়া পদ্ধতি:

রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় আল-কুরআন দুটি প্রধান ও অকাট্য উপায়ে যুগপৎ সংরক্ষিত হতো:

  • ১. স্মৃতিতে সংরক্ষণ (الحفظ في الصدور): এটি ছিল মূল ভিত্তি। আরবদের স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর। রাসুল (সা.) নিজে মুখস্থ করতেন এবং সাহাবাদের মুখস্থ করাতেন। চার খলিফাসহ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উবাই ইবনে কাব, যায়েদ ইবনে সাবিত, মুয়াজ ইবনে জাবাল, আবু দারদা ও আয়েশা (রা.)-এর মতো শত শত সাহাবী সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ রেখেছিলেন। নামাজের তেলাওয়াতের মাধ্যমে তা প্রতিদিন চর্চা হতো।
  • ২. লিখিতভাবে সংরক্ষণ (الحفظ في السطور): ওহী নাজিলের সাথে সাথেই রাসুল (সা.) ওহী লেখক সাহাবীদের (যায়েদ বিন সাবিত, আলী, মুয়াবিয়া, উবাই প্রমুখ) ডেকে তা লিখিয়ে নিতেন। তৎকালীন উপকরণ—খেজুরের ছাল, পাতলা মসৃণ পাথরখণ্ড, পশুর চামড়া, উটের কাঁধের হাড় এবং কাঠের তক্তার ওপর সম্পূর্ণ কুরআন নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা হতো।

১৩। تحدث عما يقع فيه النسخ وما لا يقع –
[কোন কোন বিষয়ে ‘নাসখ’ হতে পারে এবং কোন কোন বিষয়ে ‘নাসখ’ হতে পারে না আলোচনা কর।] মান: ৫

উত্তর:

ইসলামি শরীয়তের নীতি অনুসারে নাসখ বা বিধান প্রত্যাহার কেবল নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, সব ক্ষেত্রে নয়:

যেসব বিষয়ে নাসখ হতে পারে (ما يقع فيه النسخ) যেসব বিষয়ে নাসখ অসম্ভব (ما لا يقع فيه النسخ)
আমলি বিধানাবলি (الأحكام العملية): আদেশ ও নিষেধ সংক্রান্ত শরীয়াহ আইন (যেমন: ইবাদত, লেনদেন, বিবাহ, ইদ্দত, যুদ্ধ ও সামাজিক বিধিবিধান)। আকিদা ও ঈমানিয়াত: তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ও ফেরেশতাদের অস্তিত্ব সংক্রান্ত মৌলিক বিশ্বাসে কখনো নাসখ হয় না।
পরিস্থিতিভিত্তিক সাময়িক নির্দেশ: কেবলা পরিবর্তন, মদ্যপানের ক্রমান্বয়িক নিষেধ বা পূর্বেকার কঠিন আইন সহজীকরণ। ঐতিহাসিক সত্য ও সংবাদ (الأخبار): কুরআনে বর্ণিত অতীত জাতিসমূহের সত্য ইতিহাস ও ভবিষ্যৎবাণীতে কোনো নাসখ নেই; কারণ এতে নাসখ হলে তা মিথ্যার শামিল হতো।
শাশ্বত নৈতিক মূল্যবোধ: পিতা-মাতার সেবা, সত্যবাদিতা, ইনসাফ কায়েম, দয়া এবং জুলুম ও ব্যভিচারের মতো চিরন্তন হারাম বিষয়ে নাসখ হয় না।

১৪। اكتب اداب المفسر بالايجاز –
[মুফাসসির-এর আদবসমূহ সংক্ষেপে লেখ।] মান: ৫

উত্তর:

মুফাসসিরের আবশ্যকীয় গুণাবলী ও শিষ্টাচার (Adab of a Mufassir):

পবিত্র কুরআনের তাফসির করা এক অত্যন্ত মহান অথচ ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব। একজন মুফাসসিরের নিম্নোক্ত আদব বজায় রাখা আবশ্যক:

  1. বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস: পার্থিব খ্যাতি বা ধন-সম্পদ নয়, বরং কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের সহিহ খেদমতের উদ্দেশ্যে তাফসির করা।
  2. উত্তম চরিত্র ও খোদাভীতি: তাকওয়া ও সুন্নাতের বাস্তব অনুসারী হওয়া, কারণ গুনাহ অন্তরের হেদায়েতি নূর নষ্ট করে দেয়।
  3. আরবি ভাষা ও সাহিত্যের গভীর পাণ্ডিত্য: নাহু, সরফ, লুগাত, বালাগাত (বায়ান, মা’আনি, বাদী) ও আদবে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করা।
  4. উসূলে তাফসির অনুসরণ: প্রথমে কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসির, এরপর সহিহ হাদিস, তারপর সাহাবা ও তাবেয়ীদের বর্ণনার ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করা।
  5. মনগড়া রায় ও কুপ্রবৃত্তি বর্জন: নিজস্ব সংকীর্ণ মাযহাবি বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে আয়াতের অপব্যাখ্যা না করা। রাসুল (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি নিজের মতামত দিয়ে কুরআনের ব্যাখ্যা করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নিল।” (তিরমিযী)।

১৫। هل الرسم العثمانى توقيفى؟ بين موجزا –
[রসম ওসমানী কি তাওকীফি? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।] মান: ৫

উত্তর:

রসমুল খত বা উসমানি লিপির তাওকীফিয়াত:

হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত ঐকমত্যের ভিত্তিতে কুরআনুল কারীম যে বিশেষ বানান ও লিখনরীতিতে (Orthography) লিপিবদ্ধ হয়েছে, তাকে ‘রসমু উসমানী’ (الرسم العثماني) বলা হয়।

  • জমহুর আলেমগণের মত: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বায়হাকী এবং ইবনে তাইমিয়াহসহ অধিকাংশ শীর্ষ আলেমের মতে রসমু উসমানী সম্পূর্ণ তাওকীফী (توقيفي)। কারণ ওহী লেখকদের রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং নির্দিষ্ট বানানে লিখতে শিখিয়েছিলেন এবং সমগ্র সাহাবায়ে কেরাম এর ওপর একমত হয়েছিলেন।
  • বাধ্যবাধকতা: ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো—আধুনিক সাধারণ আরবি ব্যাকরণের নিয়মে কুরআনের প্রাচীন রসম পরিবর্তন করা হারাম ও বিদআত। শত শত বছর ধরে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এই ঐশী উসমানি লিপির পবিত্রতা অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করে আসছে।

১৬। اكتب اسماء خمسة تفاسير بالمأثور مع اسماء مؤلفيها –
[লেখকের নামসহ ‘তাফসীর বিল মাছুর’-এর ওপর সংকলিত পাঁচটি তাফসীরের নাম লেখ।] মান: ৫

উত্তর:

যে তাফসির মূলত কুরআন, রাসুল (সা.)-এর সহিহ হাদিস এবং সাহাবা ও তাবেয়ীদের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়, তাকে তাফসির বিল-মাছুর (التفسير بالمأثور) বা রেওয়ায়েতভিত্তিক তাফসির বলা হয়।

শীর্ষ পাঁচটি তাফসির বিল-মাছুর ও তাঁদের গ্রন্থকারের নাম:

  1. জামেউল বায়ান আন তাবিলি আয়িল কুরআন (جامع البيان عن تأويل آي القرآن): ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তাবারী (রহ.) [মৃ. ৩১০ হি.]। এটি তাফসির বিল-মাছুরের প্রধানতম বিশ্বকোষ।
  2. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (تفسير القرآن العظيم): হাফেজ ইমাম ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইবনে কাসির আদ-দামেশকী (রহ.) [মৃ. ৭৭৪ হি.]। যা সর্বজনবিদিত ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’ নামে খ্যাত।
  3. মা’আলিমুত তানযীল (معالم التنزيل): ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাবী (রহ.) [মৃ. ৫১৬ হি.]।
  4. আদ-দুররুল মানছুর ফীত তাফসীরি বিল মাছুর (الدر المنثور في التفسير بالمأثور): ইমাম জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী (রহ.) [মৃ. ৯১১ হি.]।
  5. বাহরুল উলূম (بحر العلوم): ইমাম আবুল লাইস নাসর ইবনে মুহাম্মদ আস-সামারকান্দী (রহ.) [মৃ. ৩৭৫ হি.]।

১৭। تحدث عن مكانة “الاتقان في علوم القرآن” بين كتب علوم القرآن –
[উলূমুল কুরআন বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে الاتقان في علوم القرآن কিতাবের অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা কর।] মান: ৫

উত্তর:

‘আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন’-এর অনন্য মর্যাদা:

নবম হিজরি শতকের মুজাদ্দিদ ও কালজয়ী বহুশাস্ত্রবিদ ইমাম জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী (রহ.) [৮৪৯-৯১১ হি.] কর্তৃক রচিত “আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন” (الإتقان في علوم القرآن) গ্রন্থটি উলূমুল কুরআন সাহিত্যের ইতিহাসে এক অবিসংবাদিত ও অতুলনীয় মাইলফলক।

  • গ্রন্থের পরিধি ও অধ্যায় বিন্যাস: ইমাম সুয়ূতী তাঁর পূর্বসূরি ইমাম যারকাশীর ‘আল-বুরহান’কে ভিত্তি ধরে আরও নিখুঁত ও বিস্তৃত পরিসরে মোট ৮০টি মৌলিক অধ্যায়ে উলূমুল কুরআনের যাবতীয় শাখাকে সাজিয়েছেন।
  • বিষয়বস্তুর সমৃদ্ধি: মাক্কি-মাদানি সুরার স্তরভেদ, আসবাবুন নুযুল, আহরুফে সাব’আ, কিরাত শাস্ত্রের প্রকারভেদ, ইজাযুল কুরআন, নাসিখ-মানসুখ, ইরাব, মুফাসসিরদের গুণাবলী ও তাফসিরের পদ্ধতি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও প্রামাণ্যভাবে সংকলিত হয়েছে।
  • শিক্ষায় ও গবেষণায় ভূমিকা: বিশ্বের প্রতিটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় উচ্চতর কুরআন গবেষণার জন্য আল-ইতকান কিতাবটিকে প্রধান ও অবশ্যপাঠ্য মূল সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি উলূমুল কুরআনের এক অতল সমুদ্রসদৃশ বিশ্বকোষ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ফাযিল ১ম বর্ষের আল মাদখালু ইলা উলূমিল কুরআন পরীক্ষার বিষয় কোড কত?

উত্তর: আল মাদখালু ইলা উলূমিল কুরআন বিষয়ের অফিসিয়াল বিষয় কোড হলো ২০১১০১ (201101)।

প্রশ্ন ২: ২০২৩ সালের প্রশ্নপত্রে মোট কয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল?

উত্তর: ২০২৩ সালের পরীক্ষায় ক অংশ (রচনামূলক) থেকে ৪টি এবং খ অংশ (সংক্ষিপ্ত) থেকে ৪টি—সর্বমোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

প্রশ্ন ৩: উলূমুল কুরআন বিষয়ক প্রথম সংকলিত বিশ্বকোষ কোনটি?

উত্তর: উলূমুল কুরআনের বিক্ষিপ্ত শাখাগুলোকে একত্রিত করে প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ প্রণয়ন করেন ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ.), তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম ‘আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন’।

প্রশ্ন ৪: কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত কোনটি?

উত্তর: সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণনানুসারে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের মাত্র কয়েকদিন পূর্বে অবতীর্ণ সূরা আল-বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াতটি কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত।

প্রশ্ন ৫: হযরত উসমান (রা.)-কে কেন ‘জামেউল কুরআন’ বলা হয়?

উত্তর: কিরাতের বৈচিত্র্য নিয়ে উম্মাহর বিভ্রান্তি দূর করার জন্য তিনি কুরাইশ উপভাষার ভিত্তিতে একক প্রামাণ্য মুসহাফ প্রস্তুত করে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে বিতরণ ও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলে তাঁকে জামেউল কুরআন বলা হয়।

প্রশ্ন ৬: ২০২৩ সালের এই প্রশ্ন সমাধানের বিশেষত্ব কী?

উত্তর: এতে ২০২৩ সালের অফিশিয়াল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি আরবি ইবারত ও বাংলা প্রশ্ন হুবহু অক্ষত রেখে প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত একাডেমিক উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *