বাংলাদেশ স্টাডিজ (Bangladesh Studies) – 201107, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

StudyBoi StudyBoi
2026-09-22
৬৩ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ۲۰۲۲م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الدراسات البنغلاديشية
[বাংলাদেশ স্টাডিজ]
বিষয় কোড: ২০ ১১ ০৭
الوقت – ٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة – ٨٠ [পূর্ণমান—৮০]


مجموعة (الف) [(ক) অংশ]

أجب عن أربعة من الأسئلة التالية [নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
الدرجات: ٦٠ = ٤ × ١٥ [মান—১৫ × ৪ = ৬০]


১- تحدث عن الخلفيات السياسية والاجتماعية والاقتصادية والثقافية لاستقلال بنغلاديش-

[বাংলাদেশের স্বাধীনতার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমি আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও শুরু থেকেই পূর্ব বাংলা (পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান) পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ উপনিবেশে পরিণত হয়। দীর্ঘ চব্বিশ বছরের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিক বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

১. রাজনৈতিক পটভূমি (الخلفية السياسية):
ক. ক্ষমতার একচেটিয়া কেন্দ্রীভবন: পাকিস্তানের জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় রাজধানী, সামরিক হেডকোয়ার্টার ও শীর্ষ প্রশাসনিক পদসমূহ পশ্চিম পাকিস্তানে স্থাপন করা হয়।
খ. গণতন্ত্র হরণ ও সামরিক শাসন: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিজয়কে চক্রান্ত করে বাতিল করা, ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি এবং দীর্ঘ এক দশক মৌলিক গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার চালানো হয়।
গ. আওয়ামী লীগের ছয় দফা (১৯৬৬) ও গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯): বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির বাঁচার দাবি ৬ দফা ঘোষণা করেন। একে দমন করতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেওয়া হয়, যা ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নস্যাৎ হয়।
ঘ. ১৯৭০-এর নির্বাচন ও বিশ্বাসঘাতকতা: ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭ আসন) অর্জন করা সত্ত্বেও ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্র ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালায়।

২. অর্থনৈতিক পটভূমি (الخلفية الاقتصادية):
ক. দুই অর্থনীতি তত্ত্ব (Two-Economy Theory): পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও চা রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হতো।
খ. বাজেট ও উন্নয়ন বৈষম্য: কেন্দ্রীয় সরকারের মোট ব্যয়ের ৭০-৮০ শতাংশ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো। পূর্ব পাকিস্তান থেকে কাঁচামাল সস্তায় কিনে পশ্চিম পাকিস্তানে তৈরি পণ্য চড়া দামে পূর্ব পাকিস্তানে বিক্রি করে একমুখী ঔপনিবেশিক শোষণ চালানো হতো।
গ. রাজস্ব ও বৈদেশিক সাহায্যের অসম বণ্টন: বিদেশি সাহায্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যবহৃত হতো, যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ দিন দিন চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়।

৩. সামাজিক পটভূমি (الخلفية الاجتماعية):
ক. চাকরি ও প্রশাসনে চরম বৈষম্য: সিভিল সার্ভিস, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগে বাঙালিদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। সেনাবাহিনীতে বাঙালিদের অনুপাত ছিল মাত্র ১০-১২ শতাংশ।
খ. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা: বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ এবং বৃহৎ হাসপাতালগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে গড়ে তোলা হয়। ফলে বাঙালিদের মধ্যে সামাজিক অনগ্রসরতা দেখা দেয়।

৪. সাংস্কৃতিক পটভূমি (الخلفية الثقافية):
ক. ভাষার ওপর আঘাত (১৯৪৮–১৯৫২): পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম ভিত্তি গড়ে তোলে।
খ. বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ: রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করা, রোমান ও আরবি হরফে বাংলা লেখার অপচেষ্টা এবং বৈশাখী উৎসব ও লোকজ সংস্কৃতিকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বাঙালির হাজার বছরের আত্মপরিচয়কে মুছে ফেলার চক্রান্ত করা হয়।

উপসংহার:
এসব বহুমুখী বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির সম্মিলিত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৭১ সালে, যার ফলশ্রুতিতে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।


২- تحدث عن دور حركة اللغة فى استقلال بنغلاديش-

[বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সার্থক বহিঃপ্রকাশ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আদি বীজতলা। ভাষার অধিকার রক্ষার দাবি থেকে শুরু হয়ে এ আন্দোলন ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক স্বাধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং অবশেষে ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের রূপ লাভ করে।

স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট নির্মাণে ভাষা আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা:

১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ:
১৯৪৭ সালের পূর্বে বাঙালিরা সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালে ভাষার ওপর আক্রমণের ফলে বাঙালি বুঝতে পারে যে, ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন বাঙালির অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। ফলে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের বদলে সেক্যুলার ও আধুনিক ‘ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ জন্মলাভ করে।

২. রক্তের ঋণ ও প্রতিরোধ চেতনার জন্ম:
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের বুকের তাজা রক্ত রাজপথকে রঞ্জিত করে। এই রক্তদান বাঙালির মনস্তত্ত্বে এক পরম আত্মমর্যাদাবোধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক প্রতিরোধের প্রেরণা সঞ্চার করে।

৩. পরবর্তী সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের উৎস:
ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফসল হিসেবেই—
– ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয় এবং মুসলিম লীগের পতন ঘটে।
– ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র চেতনার বিকাশ ঘটে।
– ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা বা বাঙালির মুক্তিসনদ ঘোষিত হয়।
– ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

৪. অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনীতির ধারা:
ভাষা আন্দোলনের পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতি অসাম্প্রদায়িক ধারায় মোড় নেয়। ১৯৫৫ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়, যা সকল ধর্মের মানুষের ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।

৫. একুশের চেতনা ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ:
একুশের চেতনা ছিল শোষণের শৃঙ্খল ভাঙার গান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বাঙালি যখন পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়, তখন একুশের গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” মুক্তিকামী যোদ্ধাদের প্রাণে অফুরান শক্তি জুগিয়েছে।

উপসংহার:
অতএব নিঃসন্দেহে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালি জাতিকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।


৩- اكتب مقالة “حول صديق البنغال وخطبته التاريخية فى ٧ مارس”-

[“বঙ্গবন্ধু ও তার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ” শীর্ষক একটি প্রবন্ধ লিখ।]

ভূমিকা:
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তির ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লক্ষ লক্ষ জনতার উত্তাল সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যে কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেছিলেন, তা ছিল মূলত একটি জাতির স্বাধীনতার অলিখিত ঘোষণা ও যুদ্ধের রণকৌশল।

ভাষণের ঐতিহাসিক পটভূমি:
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও তৎকালীন সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পূর্বনির্ধারিত জাতীয় পরিষদ অধিবেশন হঠাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে সমগ্র পূর্ব বাংলা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। এমন এক সংকটময় ও বারুদঠাসা মুহূর্তে সমগ্র জাতি অধীর আগ্রহে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিল।

ভাষণের মূল বৈচারিক উপাদান ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সারসংক্ষেপ:
বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত ব্যথাতুর হৃদয়ে চব্বিশ বছরের শোষণের ইতিহাস তুলে ধরেন: “বাংলার ইতিহাস—এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ২৩ বছরের করুণ ইতিহাস—বাংলার নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস।”

২. চার দফা ঐতিহাসিক শর্ত:
তিনি রক্তপাতের অবসান ঘটাতে চারটি শর্ত উপস্থাপন করেন:
– অবিলম্বে সামরিক আইন (Martial Law) প্রত্যাহার করতে হবে।
– সমস্ত সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
– নিরীহ জনতার ওপর গুলিবর্ষণের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
– নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

৩. গেরিলা যুদ্ধের নিখুঁত রণকৌশল:
সামরিক দিক থেকে বাঙালি প্রস্তুত ছিল না। বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান: “তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো… মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।”

৪. চূড়ান্ত স্বাধীনতার ঘোষণা:
ভাষণের সমাপ্তি ঘটে সেই বজ্রকঠিন চিরস্মরণীয় ঐতিহাসিক বাক্যের মাধ্যমে:
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম! জয় বাংলা!”

ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (Memory of the World International Register) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব দরবারে বিরল সম্মাননায় অভিষিক্ত করে।

উপসংহার:
মাত্র ১৯ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণটি একটি জাতিকে পরাধীনতার গ্লানি মুছে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ছিনিয়ে আনতে অবিস্মরণীয় প্রেরণা জুগিয়েছিল।


৪- عرف الدستور- ثم بين الحقوق الأساسية المذكورة في دستور بنغلاديশ-

[সংবিধানের সংজ্ঞা দাও। বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ বর্ণনা কর।]

১. সংবিধানের সংজ্ঞা (تعريف الدستور):
সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন (Supreme Law of the Land), যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার ধরন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নাগরিকগণের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্যের সীমারেখা নির্ধারিত হয়।
– লর্ড ব্রাইস-এর মতে: “Constitution is the aggregate of laws and customs through which the life of state is guided and organized.”
– অধ্যাপক ডাইসি-এর ভাষায়: “যে সকল নিয়ম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার বণ্টন ও প্রয়োগকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের সমষ্টিকেই সংবিধান বলে।”

২. বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ (الحقوق الأساسية):
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত) নাগরিকদের ১৮টি মৌলিক অধিকার সুস্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা অলঙ্ঘনীয় আমানত। প্রধান অধিকারসমূহ নিচে বর্ণিত হলো:
১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
২. ধর্ম ইত্যাদির কারণে বৈষম্য বিলোপ (অনুচ্ছেদ ২৮): কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
৩. সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা (অনুচ্ছেদ ২৯): প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
৪. আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩১): আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার।
৫. জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ (অনুচ্ছেদ ৩২): আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
৬. গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষা-কবচ (অনুচ্ছেদ ৩৩): গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বিলম্ব না করে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করতে হবে।
৭. জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধকরণ (অনুচ্ছেদ ৩৪): সকল প্রকার জবরদস্তিমূলক বা বেগার শ্রম নিষিদ্ধ।
৮. চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬): প্রত্যেক নাগরিকের দেশের অভ্যন্তরে অবাধে চলাফেরা, বসবাস এবং দেশ ত্যাগের ও প্রত্যাবর্তনের অধিকার থাকবে।
৯. সমাবেশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭): শান্তিপূর্ণভাবে এবং অস্ত্র ছাড়া সমবেত হওয়ার ও মিছিল-মিটিং করার অধিকার।
১০. সংগঠন করার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৮): সমিতি বা রাজনৈতিক দল/সংগঠন গঠন করার স্বাধীনতা।
১১. চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতাসহ বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা।
১২. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪০): আইনসঙ্গত যেকোনো পেশা, কারবার বা ব্যবসা পরিচালনার অধিকার।
১৩. ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১): যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচারের পূর্ণ অধিকার।
১৪. সম্পত্তির অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪২): আইনানুযায়ী সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও নিষ্পত্তি করার অধিকার।
১৫. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ (অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২): মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নাগরিক সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ বলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।


৫- تحدث عن دور بعض العلماء المشهورين في إشاعة الدراسات الإسلامية في بنغلاديش-

[বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষার প্রচার প্রসারে কতিপয় প্রসিদ্ধ আলেমের অবদান সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস ও সামাজিক রূপান্তরে ওলামায়ে কিরামের ভূমিকা অপরিসীম। সুফি-দরবেশদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের সূচনা হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ইসলামি শিক্ষা, কুরআন-হাদীসের গবেষণা এবং আধুনিক মাদ্রাসা শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন এদেশের বিশিষ্ট আলেম সমাজ।

প্রসিদ্ধ আলেমগণের ঐতিহাসিক অবদান:

১. মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.):
ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার মুসলিম সমাজে শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার যখন চরম আকার ধারণ করেছিল, তখন মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) নদীপথে বজরা ভাসিয়ে সমগ্র বাংলা ও আসামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর করেন। তিনি হাজার হাজার মানুষকে তাওহীদের দীক্ষা দেন এবং বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াত ও তাজবীদের প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ঘটান।

২. হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (সদর সাহেব রহ.):
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও শিক্ষাবিদ ছিলেন সদর সাহেব ফরিদপুরী (রহ.)। তিনি ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ মাদ্রাসা, ফরিদাবাদের মাদ্রাসা এবং অসংখ্য ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কুরআন ও হাদীসকে মাতৃভাষা বাংলায় অনুবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন এবং ওলামাদের মাঝে রাজনৈতিক ও জাতীয় সচেতনতা সৃষ্টি করেন।

৩. মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান (রহ.):
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতীব হিসেবে তিনি হাদিস, ফিকহ ও ফতোয়া শাস্ত্রে বিশ্বমানের অবদান রাখেন। আরবি ভাষায় তাঁর রচিত ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’, ‘তারিখে ইলমে হাদীস’ এবং ‘কাওয়াইদুল ফিকহ’ আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রেফারেন্স হিসেবে সমাদৃত।

৪. শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.):
তিনিই সর্বপ্রথম ইমাম বুখারীর সংকলিত সহীহ বুখারী শরীফের পূর্ণাঙ্গ বাংলায় তাশরীহ ও প্রামাণ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা ভাষায় হাদীস চর্চার দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া প্রতিষ্ঠা করেন এবং হাজার হাজার মুহাদ্দিস তৈরি করেন।

৫. মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ খান (রহ.):
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে তিনি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথাগত মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন।

উপসংহার:
এসব মহান মনীষীর নিরলস ত্যাগ, প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব এবং জ্ঞানচর্চার ফলেই আজ বাংলাদেশে লক্ষাধিক মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলামের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।


৬- اكتب أسباب مشكلة البطالة فى بنغلاديش مع بيان طرق حلّها-

[বাংলাদেশের বেকার সমস্যার কারণ ও তার সমাধানের উপায়সমূহ লিখ।]

১. বেকার সমস্যার কারণসমূহ (أسباب مشكلة البطالة):
১. জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি: প্রতি বছর শ্রমবাজারে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হলেও সে অনুপাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।
২. কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার অভাব: প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত মুখস্থনির্ভর ও তাত্ত্বিক। আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তির চাহিদা মাফিক বাস্তবমুখী দক্ষতার অভাব রয়েছে।
৩. শিল্পায়নের মন্থর গতি: গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশে আশানুরূপ ভারী ও উৎপাদনশীল শিল্প গড়ে উঠছে না।
৪. কৃষিক্ষেত্রে মৌসুমী ও ছদ্মবেশী বেকারত্ব: কৃষিতে আধুনিকায়নের ফলে কায়িক শ্রমের চাহিদা কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে বিকল্প কাজের অভাব দেখা দিচ্ছে।
৫. পুঁজি ও সহজ শর্তে ঋণের অভাব: তরুণদের মাঝে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবল আগ্রহ থাকলেও চড়া সুদ ও জামানতের জটিলতায় নতুন স্টার্টআপ গড়ে উঠছে না।

২. বেকার সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ (طرق حل المشكلة):
১. শিক্ষাব্যবস্থার কর্মমুখীকরণ: সাধারণ শিক্ষার চেয়ে আইটি, ফ্রিল্যান্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, ভোকেশনাল ও ব্যবহারিক দক্ষতামূলক কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।
২. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (SME) বিকাশ: সহজ শর্তে ও সুদমুক্ত অর্থায়নে তরুণদের নিজস্ব ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণে সহায়তা প্রদান করা।
৩. কৃষিভিত্তিক শিল্পের আধুনিকায়ন: খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য চাষ, ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পে তরুণদের সম্পৃক্ত করা।
৪. দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: বিদেশে কেবল অদক্ষ শ্রমিক না পাঠিয়ে আধুনিক ভাষায় ও কারিগরিতে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ করে রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থান উভয়ই বৃদ্ধি করা।
৫. তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সদ্ব্যবহার: আউটসোর্সিং ও ই-কমার্সের জন্য দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।


৭- بين التعديلات والمراسم لدستور بنغلاديش-

[বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী ও অধ্যাদেশসমূহ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত এবং ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের মূল সংবিধান সময়ের চাহিদা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শাসনতান্ত্রিক বাস্তবতায় এ পর্যন্ত মোট ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সামরিক ও বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা হয়েছে ঐতিহাসিক অধ্যাদেশসমূহ।

সংবিধানের উল্লেখযোগ্য প্রধান সংশোধনীসমূহ:
১. ১ম সংশোধনী (১৯৭৩): যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিতকরণের জন্য এ সংশোধনী আনা হয়।
২. ২য় সংশোধনী (১৯৭৩): জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে নিবর্তনমূলক আটকের বিধান যুক্ত করা হয়।
৩. ৪র্থ সংশোধনী (১৯৭৫): সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং একদলীয় শাসন (বাকশাল) কায়েম করা হয়।
৪. ৫ম সংশোধনী (১৯৭৯): ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী সামরিক সরকারের যাবতীয় আদেশ ও অধ্যাদেশকে বৈধতা দান করা হয় (পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত)।
৫. ৮ম সংশোধনী (১৯৮৮): ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ ঘোষণা করা হয় এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
৬. ১২তম সংশোধনী (১৯৯১): দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে পুনরায় সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
৭. ১৩তম সংশোধনী (১৯৯৬): অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক নির্দলীয় ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৮. ১৫তম সংশোধনী (২০১১): সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি পুনঃস্থাপন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা হয়।

অধ্যাদেশ ও সামরিক ফরমান (Ordinances & Proclamations):
১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দেশে সংসদ না থাকায় সামরিক ফরমান ও অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ৫ম ও ৭ম সংশোধনী বাতিলের ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ সামরিক ফরমানসমূহ বাতিল করে সংবিধানের মূল গণতান্ত্রিক সুরম্য ধারাকে সমুন্নত রাখে।


৮- ما المراد بالكوارث الطبيعية؟ اكتب أسبابها وطرق حلها موضحا-

[প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? তোমার মতে, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ ও উত্তরণের পদ্ধতিসমূহ লিখ।]

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধারণা (مفهوم الكوارث الطبيعية):
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতা বা আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত এমন বিধ্বংসী ও চরম ক্ষতিকর ঘটনা, যার ফলে মানুষের জানমাল, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয় এবং স্থানীয় সামর্থ্য দিয়ে যার মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা ও ভূমিকম্প প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

২. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণসমূহ (الأسباب):
১. ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণ: বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ এবং হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত শত শত নদীর মোহনায় অবস্থিত। ভৌগোলিক এই নিম্নাঞ্চলীয় অবস্থান প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রধান কারণ।
২. জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন: উন্নত বিশ্বের অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বঙ্গোপসাগরে বারবার প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হচ্ছে।
৩. উজানের অভিন্ন নদীর প্রভাব: ভারত থেকে নেমে আসা ৫৪টি অভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে খরা এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়।
৪. নদীভাঙন ও পলি ভরাট: নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্যতা হারানোয় বর্ষার পানি ধারণ করতে পারে না।
৫. নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস: উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট (সুন্দরবন) ও পাহাড় কাটার ফলে প্রকৃতির প্রাকৃতিক ঢাল বিনষ্ট হচ্ছে।

৩. দুর্যোগ মোকাবিলার টেকসই উত্তরণ পদ্ধতি (طرق الحل والوقاية):
১. উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ: উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বনায়ন ও ম্যানগ্রোভ বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যা ঘূর্ণিঝড়ের গতি হ্রাস করে।
২. ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের আধুনিকায়ন: উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যাপ্ত আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার ও বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা।
৩. নদী খনন ও ড্রেজিং: দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর নিয়মিত ড্রেজিং করে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।
৪. পূর্বাভাস ও সচেতনতা বৃদ্ধি: স্যাটেলাইট ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁত আবহাওয়া পূর্বাভাস দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।


مجموعة (ب) [(খ) বিভাগ]

أجب عن أربعة من الأسئلة التالية باختصار [সংক্ষেপে নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
الدرجات: ٢٠ = ٤ × ٥ [মান—৫ × ৪ = ২০]


১- اكتب فقرة وجيزة حول الكثافة السكانية في بنغلاديش-

[বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ লিখ।]

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। দেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার হলেও সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। এর ফলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,১১৫ জনেরও বেশি মানুষ বসবাস করে, যা পৃথিবীর বৃহৎ জনসংখ্যার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঘনত্বের অন্যতম। জনসংখ্যার এই অতিমাত্রার ঘনত্বের কারণে জমি, বাসস্থান, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি, যা যানজট ও পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। সঠিক পরিকল্পনা, জন্মহার নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়ে এই বিশাল জনঘনত্বকে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে রূপান্তর করাই বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


২- بين القبائل والسكان الأصليين فى بنغلاديش-

[বাংলাদেশের উপজাতি ও আদিবাসী সম্পর্কে ধারণা দাও।]

বাংলাদেশের মূল বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রায় ৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতি নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে। এরা প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) এবং সমতল অঞ্চলের সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও দিনাজপুরে বসবাস করে।
প্রধান উপজাতি ও তাদের আবাসস্থল:
১. চাকমা ও মারমা: পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান নৃ-গোষ্ঠী, যাদের নিজস্ব ভাষা ও লিপি রয়েছে।
২. ত্রিপুরা ও বম: পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী।
৩. গারো ও হাজং: ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর অঞ্চলে বসবাসকারী মাতৃতান্ত্রিক ও পিতৃতান্ত্রিক সম্প্রদায়।
৪. সাঁওতাল ও ওরাওঁ: রাজশাহী, নওগাঁ ও দিনাজপুর অঞ্চলের সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও উপজাতিদের অনন্য সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।


৩- تحدث عن الخطوات التي اتخذها حكومة بنغلاديش لتنمية المواصلات البريّة-

[স্থলভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর।]

স্থলভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশ সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুগান্তকারী বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
১. পদ্মা সেতু নির্মাণ: নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে রাজধানী ঢাকার নিরবচ্ছিন্ন স্থল সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।
২. বঙ্গবন্ধু টানেল (কর্ণফুলী টানেল): চট্টগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার নদীর তলদেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার টানেল চালু করা হয়েছে।
৩. ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রো রেল: যানজট নিরসনে রাজধানীতে দ্রুতগতির এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বৈদ্যুতিক মেট্রো রেল (MRT Line-6) চালু হয়েছে।
৪. জাতীয় মহাসড়ক চার ও ছয় লেনে রূপান্তর: ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েসহ দেশের প্রধান ধমনী মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।
৫. রেলপথের আধুনিকায়ন: পদ্মা সেতু দিয়ে যশোর পর্যন্ত এবং দোহাজারী থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে।


৪- اكتب مقالة حول الانتفاضة الجماهيرية لعام ١٩٦٩م-

[১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখ।]

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক গণবিস্ফোরণ। আইয়ুব সরকার কর্তৃক ঘোষিত কুখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সেনাকর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার চক্রান্ত করা হলে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা ও কিশোর নবকুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্র মতিউরের শাহাদাত এ আন্দোলনকে অগ্নিগর্ভ রূপ দেয়। গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং অবশেষে ২৫ মার্চ স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ক্ষমতাচ্যুত হতে বাধ্য হন।


৫- اكتب مقالة على عنوان “جسر بادما متعدد الأغراض فخر بنغلاديش”-

[“পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের গৌরব” শীর্ষক একটি রচনা লিখ।]

পদ্মা বহুমুখী সেতু কেবল স্টিল আর কংক্রিটের একটি দীর্ঘ অবকাঠামো নয়, এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা, সাহস এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাতিলের মতো বৈরী ষড়যন্ত্রের মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল এ সেতুটি প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত হয়েছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ২১টি জেলা রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি স্থলপথে যুক্ত হয়। এই সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন এবং নিচতলা দিয়ে ব্রডগেজ ট্রেন চলাচল করছে। পদ্মা সেতুর ফলে দেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি (GDP) প্রায় ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দক্ষিণবঙ্গের অর্থনীতি, শিল্পায়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন ও পর্যটনে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এ সেতু বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ স্বাবলম্বী এবং সকল প্রতিকূলতা জয়ের সামর্থ্য রাখে।


৬- تحدث عن جبال بنغلاديش-

[বাংলাদেশের পাহাড়সমূহ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

বাংলাদেশ মূলত নদীবিধৌত এক সুবিশাল পলিগঠিত সমভূমি হলেও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টারশিয়ারি যুগের প্রাচীন পর্বতশ্রেণী বিস্তৃত রয়েছে:
১. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় (পার্বত্য চট্টগ্রাম): বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় এ পাহাড়গুলো অবস্থিত। মায়ানমারের আরাকান ইয়োমা পর্বতের সমগোত্রীয় এ পাহাড়গুলো দেশের সর্বোচ্চ চূড়াসমূহ ধারণ করে আছে। বান্দরবান জেলায় অবস্থিত ‘তাজিংডং’ (বিজয় – প্রায় ১,২৮০ মিটার) এবং ‘কেওক্রাডং’ (১,২৩০ মিটার) দেশের অন্যতম প্রধান পর্বতশৃঙ্গ।
২. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় (সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল): সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়গুলো তুলনামূলক কম উঁচু, যা ‘টিলা’ নামে পরিচিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোতে দেশের বিখ্যাত সবুজ চা-বাগান, প্রাকৃতিক বনভূমি এবং গ্যাসক্ষেত্রসমূহ অবস্থিত।
এসব পাহাড় দেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং বনজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে দেশকে সমৃদ্ধ করেছে।


৭- اكتب ما تعرف عن الاقليات فى بنغلاديش-

[বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সম্পর্কে যা জান লিখ।]

বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু হিসেবে যুগ যুগ ধরে সম্পূর্ণ সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে:
১. হিন্দু সম্প্রদায়: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় (প্রায় ৮-৯ শতাংশ)। দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজাসহ তাদের যাবতীয় ধর্মীয় উৎসব রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়।
২. বৌদ্ধ সম্প্রদায়: মূলত চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বসবাসকারী বড়ুয়া ও চাকমা জনগোষ্ঠীর মানুষ। বুদ্ধ পূর্ণিমা এদেশে সরকারি ছুটির দিন।
৩. খ্রিষ্টান সম্প্রদায়: ঢাকা, গাজীপুর ও বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্যাথলিক ও ব্যাপটিস্ট খ্রিষ্টান সম্প্রদায় বসবাস করে। বড়দিন মহাসমারোহে পালিত হয়।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮ ও ৪১ অনুযায়ী বাংলাদেশে সকল ধর্মের নাগরিকের সমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।


৮- اكتب الخطوات المتوقعة لكثرة انتاج الأسماك الطبيعية في بنغلاديش-

[বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপসমূহ লিখ।]

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে নদী, নালা, খাল, বিল, হাওর ও প্লাবনভূমিতে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নিম্নলিখিত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা জরুরি:
১. অভয়াশ্রম স্থাপন ও সংরক্ষণ: দেশের প্রধান নদী ও হাওরগুলোতে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন করা।
২. প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকার কঠোরভাবে বন্ধ রাখা: মা-মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে এবং জাটকা নিধন রোধে নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা এবং বিকল্প সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান।
৩. নদীর নাব্যতা রক্ষা ও ড্রেজিং: নদী ভরাট হয়ে যাওয়া রোধ করতে নিয়মিত ড্রেজিং করে মাছের চলাচলের স্বাভাবিক পথ সুগম রাখা।
৪. ক্ষতিকর জাল ও কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ: কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে মাছ শিকার কঠোর হস্তে দমন করা।
৫. কলকারখানার বর্জ্যদূষণ রোধ: বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলীসহ প্রধান নদীগুলোতে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ করা।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ফাজিল ১ম বর্ষের বাংলাদেশ স্টাডিজ পরীক্ষার বিষয় কোড কত?

বাংলাদেশ স্টাডিজ (الدراسات البنغلاديشية) বিষয়ের নির্ধারিত বিষয় কোড হলো ২০১১০৭। এ বিষয়ে মোট ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন ২: বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল পটভূমি কী ছিল?

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিক বঞ্চনা এবং ভাষার ওপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই ধারাবাহিক সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

প্রশ্ন ৩: বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কী?

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো (UNESCO) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (Memory of the World International Register) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রশ্ন ৪: বাংলাদেশের সংবিধানে কতটি মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত রয়েছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত নাগরিকদের মোট ১৮টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ৫: পদ্মা বহুমুখী সেতুর দৈর্ঘ্য কত এবং এটি কতটি জেলাকে যুক্ত করেছে?

পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। এই ঐতিহাসিক সেতু রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে সরাসরি সড়ক ও রেলপথে সংযুক্ত করেছে।

প্রশ্ন ৬: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?

বাংলাদেশের প্রধান সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলোর মধ্যে বান্দরবান জেলায় অবস্থিত তাজিংডং (বিজয়) এবং কেওক্রাডং অন্যতম প্রধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *